• প্রকাশ : বুধবার ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ১০:১৩ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) লটারির মাধ্যমে রদবদল করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ রদবদল করা হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মো মাহবুবুর রহমান এ প্রজ্ঞাপনে সই করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয় জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় লটারি করে এসপি নির্বাচন করা হয়। লটারির সময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বদলি হওয়া পুলিশ সুপারদের নামের তালিকা বিভাগভিত্তিক দেওয়া হলো:

ঢাকা বিভাগ
দিনাজপুরের এসপি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত মোঃ মিজানুর রহমানকে ঢাকা জেলার এসপি, ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের এসপি মোঃ হাবীবুল্লাহকে গোপালগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের এসপি মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারকে টাঙ্গাইল, নরসিংদীর এসপি মোঃ মেনহাজুল আলমকে মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুরের এসপি মোঃ নজরুল ইসলামকে ফরিদপুর, পঞ্চগড়ের এসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকে নারায়ণগঞ্জ, রাঙ্গামাটির এসপি এস এম ফরহাদ হোসেনকে কিশোরগঞ্জ, নোয়াখালীর এসপি মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফারুককে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি এহতেশামুল হককে মাদারীপুর, ঝিনাইদহের এসপি মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদকে রাজবাড়ী, যশোরের এসপি রওনক জাহানকে শরীয়তপুর, বরিশালের এসপি মোঃ শরিফ উদ্দীনকে গাজীপুর ও গাইবান্ধার এসপি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত মোহাম্মদ সারওয়ার আলমকে মানিকগঞ্জ জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগ
কুমিল্লার এসপি মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁনকে চট্টগ্রাম, চাঁদপুরের এসপি মুহম্মদ আব্দুর রকিবকে রাঙ্গামাটি, ঢাকা জেলার এসপি মোঃ আনিসুজ্জামানকে কুমিল্লা, ডিএমপির ডিসি (পুলিশ অধিদপ্তরে এআইজি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত) মোঃ শফিকুল ইসলামকে ফেনীর এসপি, নেত্রকোনার এসপি মির্জা সায়েম মাহমুদকে খাগড়াছড়ি, গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) উপকমিশনার মোঃ রবিউল হাসানকে চাঁদপুর, ডিএমপির ডিসি শাহ মোঃ আব্দুর রউফকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি, খুলনার এসপি টি, এম, মোশাররফ হোসেনকে নোয়াখালী, পিবিআইয়ের এসপি মোঃ আবদুর রহমানকে বান্দরবান, পাবনার এসপি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত এ, এন, এম, সাজেদুর রহমানকে কক্সবাজার ও সিআইডির এসপি মোঃ আবু তারেককে লক্ষ্মীপুর জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগ
মাদারীপুরের এসপি মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানকে রাজশাহী, নাটোরের এসপি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে নওগাঁ, জয়পুরহাটের এসপি মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে নাটোর, পিবিআইয়ের এসপি মোঃ শাহাদাত হোসেনকে বগুড়া জেলার এসপি, চট্টগ্রামের এসপি মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতুকে সিরাজগঞ্জ, হবিগঞ্জের এসপি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত গৌতম কুমার বিশ্বাসকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাগুরার এসপি মিনা মাহমুদাকে জয়পুরহাট ও পটুয়াখালীর এসপি মোঃ আনোয়ার জাহিদকে পাবনা জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

খুলনা বিভাগ
সিলেটের এসপি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে খুলনা, কিশোরগঞ্জের এসপি মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীকে বাগেরহাট, নারায়ণগঞ্জের এসপি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে কুষ্টিয়া, জামালপুরের এসপি সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে যশোর, খাগড়াছড়ির এসপি মোঃ আরেফিন জুয়েলকে সাতক্ষীরা, ফেনীর এসপি মোঃ হাবিবুর রহমানকে মাগুরা, বগুড়ায় ৪ এপিবিএনের এসপি মোঃ মাহফুজ আফজালকে ঝিনাইদহের এসপি, ঝালকাঠির এসপি উজ্জ্বল কুমার রায়কে মেহেরপুর, সাতক্ষীরার এসপি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে চুয়াডাঙ্গা ও বরগুনার এসপি মোহাম্মদ আল মামুন শিকদারকে নড়াইল জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

বরিশাল বিভাগ

রাজশাহীর এসপি ফারজানা ইসলামকে বরিশাল, পিবিআইয়ের এসপি মোঃ আবু ইউসুফকে পটুয়াখালী, বান্দরবানের এসপি মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছারকে ভোলা, গোপালগঞ্জের এসপি মোঃ মিজানুর রহমানকে ঝালকাঠি, মেহেরপুরের এসপি মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীকে পিরোজপুর ও পিবিআইয়ের এসপি মোঃ কুদরত ই খুদাকে বরগুনা জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

সিলেট বিভাগ

ময়মনসিংহের এসপি কাজী আখতার উল আলমকে সিলেট, মানিকগঞ্জের এসপিকে মোছাঃ ইয়াছমিন খাতুনকে হবিগঞ্জ, পিবিআইয়ের এসপি আবু বসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে সুনামগঞ্জ ও নীলফামারীর এসপি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনকে মৌলভীবাজার জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

রংপুর বিভাগ

ফরিদপুর জেলার এসপি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত মোঃ মারুফাত হুসাইনকে রংপুর, বাগেরহাটের এসপি মোঃ আসাদুজ্জামানকে লালমনিরহাট, নড়াইলের এসপির মোঃ রবিউল ইসলামকে পঞ্চগড়, বগুড়ার ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের এসপি মোঃ বেলাল হোসেনকে ঠাকুরগাঁও, বগুড়ার এসপি মোঃ জেদান আল মুসাকে দিনাজপুর, এসপিবিএনের এসপি মোঃ জসিম উদ্দীনকে গাইবান্ধা, ডিএমপির ডিসি খন্দকার ফজলে রাব্বিকে কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওয়ের এসপি শেখ জাহিদুল ইসলামকে নীলফামারী জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগ

টাঙ্গাইলের এসপি মোঃ মিজানুর রহমানকে ময়মনসিংহ, গাজীপুরের এসপি ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেককে জামালপুর, রাজবাড়ীর এসপি মোঃ কামরুল ইসলামকে শেরপুর ও লালমনিরহাটের এসপি মোঃ তরিকুল ইসলামকে নেত্রকোনা জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার পুলিশ সুপার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথমে অতীতে এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কর্মকর্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর পুলিশ ক্যাডারের ২৫, ২৭ ও ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে একটি ফিট লিস্ট প্রস্তুত করা হয়। সেই তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ম্যানুয়াল লটারির মাধ্যমে ৬৪ জনকে নির্বাচন করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের তালিকা কমিটির হাতে দেওয়া হয় এবং লটারির মাধ্যমে জেলাওয়ারি পদায়ন চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ কারণে সম্প্রতি ৬ জেলায় দেওয়া নতুন এসপি নিয়োগের যোগদান স্থগিত রাখা হয়।

গত শনিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ২ ঘণ্টার বৈঠকে নির্বাচনকালে পুলিশের নিয়োগ ও বদলিসংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়। সে আলোচনার ধারাবাহিকতায় লটারি করে ৬৪ জেলার এসপি নির্বাচন করা হলো।




  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০৪ এএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘নজরুল পদক-২০২৬’ পাচ্ছেন নজরুল-গবেষক আবদুল হাই শিকদার ও নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী।

আগামী সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলজয়ন্তী উদযাপনের বিশেষ আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে এ পদক তুলে দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পদকের জন্য আবদুল হাই শিকদার ও শবনম মুশতারীর নাম চূড়ান্ত করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিবছর নজরুলচর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা বিশিষ্টজনদের ‘নজরুল পদক’ দিয়ে সম্মানিত করে। সাধারণত নজরুলসংগীত ও নজরুল গবেষণা—এই দুই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এবার গবেষণা বিভাগে পদকের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন নজরুল-গবেষক আবদুল হাই শিকদার। নজরুল গবেষণার পাশাপাশি তিনি দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে সংগীত বিভাগে পদক পাচ্ছেন দেশের স্বনামধন্য নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী। দীর্ঘদিন ধরে নজরুলসংগীত চর্চায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নজরুলচর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানানোর ধারাবাহিকতায় এ বছরও দুই গুণীজনকে ‘নজরুল পদক-২০২৬’-এর জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে ভোটাভুটি চলছে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৯ পিএম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রধান নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের ভোটদানের নিয়ম ও প্রক্রিয়া অবহিত করেন।


এরপর সংসদের অধিবেশন কক্ষের নির্ধারিত স্থানে রাখা ব্যালটবাক্সে প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম, জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে একে একে ভোট প্রদান করছেন সংসদ সদস্যরা।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম।


সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট, বাতিল বা নষ্ট ভোটের সংখ্যা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। পরে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নামে গেজেট প্রকাশ করা হবে।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হেয়ার রোডে তাঁর সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৫১ পিএম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি কখনো ভাবিনি যে রাষ্ট্রপতি হবো। এটা দলের এবং মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি। রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, আমি জনগণের পাশে থেকে সেবা করবো।


আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হেয়ার রোডে মির্জা ফখরুলের সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, যতই ব্যস্ত থাকি না কেন, সবসময় জনগণের জন্য এবং এলাকার উন্নয়নে পাশে থাকবো।


সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতারা পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত হন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। এসময় তিনি প্রত্যেকের খোঁজ-খবর নেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেন।


সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সংগঠনের সভাপতি বাংলাদেশ প্রতিদিনের মানিক মুনতাসির, সাধারণ সম্পাদক সমকালের দেলোয়ার হোসেন, বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক মানিকুল আজাদ, সহ-সভাপতি স্টার টিভির মাহবুব আলম রাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কালবেলার শফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক বাসসের জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ৭১ টেলিভিশনের আব্দুল লতিফ, প্রচার সম্পাদক জিটিভির সাজ্জাদ হোসেন ও নারী বিষয়ক সম্পাদক নিউজ টোয়েন্টি ফোর’র মোছা. শিউলী বেগম নাহিদ, কার্যনির্বাহী সদস্য ৭১ টেলিভিশনের নূর তাজমিন নীর, স্টার টিভির ফরহাদ বিন নূর, কালের কণ্ঠের মো. নবাব শরীয়তুল্লাহ (সৌম্য সরকার), সাম্প্রতিক দেশকালের নাসরিন আখতার, যুগান্তরের ইমরান খান, চ্যানেল আইয়ের তাফহিমুল ইসলাম ও নিউজ এজেন্সি এবিপির বিশেষ প্রতিনিধি আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।


এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের উপদেষ্টা সিনিয়র সাংবাদিক মশিউর রহমান, প্রথম আলোর তুহিন সাইফুল্লাহ ও বাসসের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মাহাবুর আলম সোহাগ।


 রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৬ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৬ পিএম


মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৬ পিএম

যাত্রী পরিবহনে নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নারী-বান্ধব ও নারী চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত বিশেষ বাস সার্ভিস আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।


তিনি বলেন, নারীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও যাত্রীবান্ধব পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। এ উদ্যোগ শুধু কয়েকটি রুটে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও গুরুত্বপূর্ণ শহরে এ ধরনের বাসসেবা চালু করা হবে।


আজ মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কার্যালয়ে মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, নারীরা বাসে ওঠার আগে অপেক্ষার সময়, বাসে অবস্থানকালে এবং বাস থেকে নামার সময় বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই নারী-বান্ধব বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকারের এ উদ্যোগ।


তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণে নারীদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দেশের ভোটারদেরও অর্ধেকের বেশি নারী। পরিবারের অর্থনীতি থেকে শুরু করে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই তাদের সক্ষমতা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বাস সার্ভিস চালু করা।


সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই নারী-বান্ধব এবং নারী চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত এই বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।


তিনি জানান, বর্তমানে ১৪টি বাস ১৩টি রুটে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস চলাচল করবে।


ঢাকার জন্য নির্ধারিত বাসগুলোর মধ্যে একটি একতলা এবং বাকি নয়টি দ্বিতল বাস রয়েছে। চট্টগ্রামে একটি রুটে দু’টি দ্বিতল বাস এবং বগুড়ায় দু’টি রুটে দু’টি দ্বিতল বাস চলাচল করবে।


মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এ বাস সার্ভিসের রুট আরও বাড়ানো হবে এবং বাসের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে। বর্তমানে যে সেবা চালু করা হয়েছে, সেটিকে ধীরে ধীরে আরও উন্নত, আধুনিক, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করা হবে।


বিআরটিসির বর্তমান কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি ট্রাকসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ বা তারও বেশি বাস পরিচালনা করছে।


বিআরটিসি বর্তমানে লোকসানে নেই; বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থানে রয়েছে। তবে সংস্থাটির মানসম্মত সেবা ও অপারেশন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে।


শেখ রবিউল আলম বলেন, বিআরটিসিকে আরও যুগোপযোগী, যাত্রীবান্ধব ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ চলছে। একই সঙ্গে রাজধানীর গণপরিবহনের রুট ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হবে।


ঢাকার রুট পারমিটের অসংগতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক রুটের অস্তিত্ব না থাকলেও সেসব রুটের পারমিট রয়েছে।


আবার অনেক রুটে পারমিট না থাকলেও বাস চলাচল করছে। এসব রুট অনেক আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন ঢাকা শহরের যাত্রীদের চাহিদা, যাত্রীর চাপ এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে রুট নির্ধারণ, রুট পারমিট ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা যৌক্তিক করা হবে।


মন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বৈদ্যুতিক বাস বা ইভি বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ২০০টি ইভি বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।


তিনি বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে ইভি বাস সংগ্রহ করতে গেলে প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, দরপত্র এবং আন্তর্জাতিক ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যেতে পারে। ফলে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুত চালুর লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহন থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে পরিবেশবান্ধব ও সবুজ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ইভি বাস সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু ঢাকা নয়, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে পরিবহন খাতে নতুন মাত্রা তৈরি করা হবে।


নারী চালকদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, নারীরা কোনোভাবেই পুরুষের চেয়ে কম সক্ষম নন। তারা দক্ষতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে পারেন এবং দায়িত্ব পালন করতে পারেন। দেশের নারীরা মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাহস ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। তাই পরিবহন খাতেও নারীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে।


তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা আজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে নারীদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।


মন্ত্রী বিআরটিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আজ যে সেবা চালু হলো, দুই মাস পর সেই সেবার মান আরও উন্নত করতে হবে। শুধু উদ্বোধন করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। অনেক উদ্যোগ অতীতে উদ্বোধনের পর কয়েক মাস যেতে না যেতেই কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না।


তিনি বলেন, নারী বাস সার্ভিসকে টেকসই ও কার্যকর রাখতে বিআরটিসির অপারেশন, ব্যবস্থাপনা ও জনবলের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও সময়ানুবর্তিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নারী যাত্রীরা যাতে নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এই বাসে উঠতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।


মন্ত্রী বলেন, এই সেবাকে আরও উন্নত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবে। সাংবাদিকদেরও এই উদ্যোগের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও ভুল-ত্রুটি থাকলে তা জানাতে হবে, যাতে দ্রুত সংশোধন করা যায়।


তিনি আরও বলেন, নারী-বান্ধব বাস সার্ভিস চালু করা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। তবে এটিকে ধরে রাখা, টেকসই করা, সেবার মান বাড়ানো এবং নতুন নতুন রুটে সম্প্রসারণ করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টরা প্রস্তুত রয়েছে।


বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন সচিব বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও বগুড়া থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।


তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩০ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব ও অপব্যবহার রোধে নীতি নির্ধারণ ও সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।


তিনি বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির এই আশীর্বাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে জনকল্যাণমুখী করতে না পারলে তা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবের মতো মানবসভ্যতার জন্যই মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।’


আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ : পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে নরওয়ে সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।


সেমিনারে ইউএনডিপি ও নরওয়ে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি বা তথ্যের সততা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখার বিষয়টি এখন কেবল সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের টেক জায়ান্টদের একার বিষয় নয়। এটি আমাদের সম্পূর্ণ একটি নতুন ইকোসিস্টেমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাঠামোগত জটিলতা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফর্ম মূলত ব্যবসার উদ্দেশে পরিচালিত হয়, জনকল্যাণের জন্য নয়। সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় থাকা ইন্টারনেট এবং সামাজিক মাধ্যমের এই ব্যবসায়িক স্বার্থ একত্রে এক জটিল বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। এই ইকোসিস্টেমের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশীর্বাদকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলার মাধ্যম আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে।


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আজকাল অনেক পেশাজীবী বা তরুণ নিজস্ব উদ্ভাবনী ক্ষমতা ব্যবহারের চেয়ে এআই প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, যা কাজের মৌলিকত্ব ও সততাকে ব্যাহত করছে। প্রযুক্তি আমাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও কাজের দক্ষতাকে বৃদ্ধি করবে ঠিকই, তবে তা যেন আমাদের চোরাবালির দিকে নিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। আইটি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কান্ডজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নীতি নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


সংবাদপত্রের বর্তমান রূপান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রচলিত গণমাধ্যমগুলো এখন তাদের মূল মেকানিজমের পাশাপাশি ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে ভালো আয় করছে। এই রূপান্তরের যুগে গণমাধ্যম, রাষ্ট্র এবং অরাজনৈতিক অংশীদারদের একযোগে সঠিক তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।


বাংলাদেশ থেকে অপতথ্য প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে গণমুখী করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফোরাম ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা আশা করেন তথ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়ায় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে বলেও আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।


সেমিনারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতিসংঘের প্রতিনিধিবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মঙ্গলবার মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৪ পিএম

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, দেশের মৎস্য খাত বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।


আজ মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জে করার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য উৎপাদনে হাওরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের মিঠাপানির মাছের একটি বড় অংশ হাওরাঞ্চল থেকে আসে। তাই প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষি, জেলে ও মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের কাছে কর্মসূচির বার্তা পৌঁছে দিতে ঢাকার বাইরে এ আয়োজন করা হয়েছে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে নদী খনন, খাল সংস্কারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও মৎস্য খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের কাজ করে যাচ্ছেন।


তিনি বলেন, ‘এবার আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বড় আয়োজন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও নির্দেশনায় ঢাকার বাইরে এই কর্মসূচি আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত ও ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে।’


জাতীয় মৎস্য পক্ষের আয়োজন সফল করতে মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হাতের পাঁচটি আঙুলের মতো আমাদের সবার দায়িত্ব আলাদা হতে পারে, কিন্তু সবাই একসঙ্গে কাজ করলেই মুষ্টিবদ্ধ হাতের মতো শক্তি তৈরি হয়। এবারের আয়োজনও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে।’


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কোনো দায়িত্বে অবহেলা বা কাজে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই নীতিতে বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা ও দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা ও সরকারি দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের সঙ্গে থেকে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।


তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একা কারও পক্ষে কোনো বড় কাজ করা সম্ভব নয়। একটি দক্ষ ও আন্তরিক টিম থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। এজন্য কর্মকর্তাদের জনগণের কল্যাণে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান। মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এ খাতের উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক অর্থনীতিতে মৎস্য অধিদপ্তর আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা নিতে এসে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। যার যে দায়িত্ব, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। জনগণের সেবা প্রদানে কোনো ধরনের কার্পণ্য করা যাবে না। তিনি বলেন, সরকারের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।


সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে সর্বশেষ ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর এবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ের মৎস্যচাষি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ায় এবারের আয়োজন মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্তদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।


অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৎস্যচাষি, জেলে ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।