শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী

  • প্রকাশ : সোমবার ২০ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৫:৫০ এএম

সিলেটে মাসব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে নগরের অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। 




উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। টিকাদান কার্যক্রম যেভাবে এগিয়ে চলছে, তাতে আশা করা যায় অচিরেই দেশব্যাপী হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে আসবে।


তিনি আরও বলেন, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সিলেটে শিগগিরই ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালু করা হবে। সিলেটের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে যে অসন্তোষ রয়েছে তা দূর করতে সরকার কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সামাজিক সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার- আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে। 


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে সিসিকের সংশ্লিষ্টরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করা হয়েছে এবং ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ক্যাম্পেইন শতভাগ সফল হবে।


তিনি বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হামের প্রকোপ তুলনামূলক কম হলেও শিশুদের শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা এই ক্যাম্পেইন সফল করতে বদ্ধপরিকর। কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সকল অভিভাবককে তাদের শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম। সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী পরিচালক ডা. নূরে আলম শামীম।


বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা ডা. সুফি মো. খালিদ বিন লুৎফুর, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং ইউনিসেফের সিলেট ফিল্ড অফিসের প্রধান মির্জা ফজলে এলাহী।


অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত, অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদা গুলশান সিদ্দিকা প্রমুখ।


অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সিলেট বিভাগে ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৯ হাজার শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সিলেট জেলায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৪, যার মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনসহ ৬৮ হাজার ৫৮০ জন, মৌলভীবাজারে ২ লাখ ১০ হাজার ১৮৬, হবিগঞ্জে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪১ এবং সুনামগঞ্জে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৮ জনকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 


মাসব্যাপী সিলেট সিটি করপোরেশন ৮৪ টি কেন্দ্রে এই টিক দেওয়া হবে। সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত হাম ও রুবেলার রোগের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সিলেট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৫৪ পিএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি রূপান্তরিত আর্টিসানাল ট্রলিং বোটে মাত্র দুই দিনের মাছ শিকারে প্রায় ৮০ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে। এতে সাধারণ জেলেদের মনে প্রশ্ন জেগেছে—একটি ট্রলিং বোট যদি মাত্র দুই দিনে ৮০ মণ ইলিশ তুলে নিতে পারে, তাহলে সাধারণ জেলেদের জালে মাছ নেই কেন?


বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে এফবি আব্দুল্লাহ ট্রলারটি আলিপুর মৎস্য বন্দরে আসে। পরে সিফাত ফিসে নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো প্রায় ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়।


ট্রলারটির মাঝি বাদশা জানান, চার দিন আগে ১৮ জন জেলে নিয়ে তারা গভীর সমুদ্রে যান। দুই দিন মাছ ধরার পর মঙ্গলবার পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন এলাকায় জালে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। তবে প্রায় ৮০ মণ ইলিশ পাওয়া গেলেও মাছগুলোর আকার তুলনামূলক ছোট।


কুয়াকাটা, মহিপুর, আলিপুর ও আশাখালী উপকূলের সাধারণ জেলেদের অভিযোগ, তারা দিনের পর দিন সাগরে অবস্থান করেও আগের মতো মাছ পাচ্ছেন না। অনেক সময় জ্বালানি, বরফ, খাবার ও শ্রমিকের খরচ তুলতে না পেরে লোকসান নিয়ে তীরে ফিরতে হচ্ছে।


জেলে হানিফ মাঝি বলেন, আগে অল্প সময় সাগরে গেলেই পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যেত। এখন দিনের পর দিন সমুদ্রে থেকেও কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া যায় না। তার অভিযোগ, অবৈধ ট্রলিং বোটগুলো অগভীর সমুদ্র থেকে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাছ তুলে নেওয়ায় সাধারণ জেলেদের মাছ ধরার সুযোগ কমে যাচ্ছে।


জেলেদের অভিযোগ, কিছু ট্রলিং বোটে ফিশ ফাইন্ডার, জিপিএস ও রাডারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ব্যবহার করে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ করা হয়।


তাদের আশঙ্কা, এসব জালে শুধু বড় ইলিশ নয়, ছোট ইলিশ, পোনা ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীও আটকা পড়ে। ফলে নির্বিচারে ছোট মাছ আহরণ করা হলে আগামী দিনে মাছের মজুতই কমে যেতে পারে।


চলতি মাসের শুরুতেও কুয়াকাটা সংলগ্ন সাগরে একটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং ট্রলারের জালে একবারেই ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ে। পরে সেই মাছ প্রায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই উপকূলে ট্রলিং বোটে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আহরণের ঘটনা সামনে আসায় এখন সাধারণ জেলেদের প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে—সাগরে সত্যিই কি ইলিশের প্রাচুর্য ফিরেছে, নাকি আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী জালের কারণে নির্দিষ্ট মাছের ঝাঁক দ্রুত শনাক্ত করে একসঙ্গে বিপুল মাছ তুলে নেওয়া হচ্ছে?


জেলেদের দাবি, বিষয়টি শুধু কত মণ মাছ ধরা পড়েছে—তা দিয়ে বিচার করলে হবে না। কোন বোটে, কী ধরনের জাল ব্যবহার করে, কোথায় এবং কী আকারের মাছ ধরা হচ্ছে—সেসব বিষয়ও নজরদারির আওতায় আনতে হবে।


মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ইলিশ বড় হওয়ার সুযোগ না দিয়ে আহরণ করা হলে ভবিষ্যতে প্রজননক্ষম ইলিশের সংখ্যা কমতে পারে। একই সঙ্গে সূক্ষ্ম ফাঁসের জালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও সামুদ্রিক প্রাণী ধরা পড়ায় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, সামুদ্রিক মৎস্য আইনের তফসিল অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ জাল ব্যবহার করে ট্রলিংয়ের অভিযোগে বোট মালিকদের মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে এবং এর আগে বেশ কয়েকটি বোট জব্দ করে মামলাও করা হয়েছে।


অবৈধ ট্রলিং বোটের হাতে সাগরের সম্পদ কুক্ষিগত না করে সাধারণ জেলেদের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সাধারণ জেলে ও মৎস্য সংশ্লিষ্টদের।


সর্বশেষ সব খবর

সভাপতি হেদায়েত উল্লাহ ও সম্পাদক মজিবুর রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ এএম

গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশন, টঙ্গী পশ্চিম থানার দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ সভাপতি পদে ও মো. মজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পূণরায় নির্বাচিত হয়েছেন। 


আগামী দুই বছর মেয়াদের জন্য নবনির্বাচিত ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন মো. সাইফুল ইসলাম (সহ-সভাপতি)  হুমায়ুন কবির শান্ত (সহ-সভাপতি), মো. লুৎফর রহমান লিটন (সহ-সভাপতি), হানিফ মোল্লা (সহ-সাধারণ সম্পাদক), শামিম শেখ (সহ-সাধারণ সম্পাদক), সাইদুল ইসলাম জনি  (সাংগঠনিক সম্পাদক), হুমায়ুন আহমেদ (অর্থ সম্পাদক),  মো. আব্দুর রশিদ (ক্রীড়া সম্পাদক), মীর তাহমিনা আক্তার (মহিলা বিষযক সম্পাদক), কমলেশ চন্দ্র মন্ডল (শিক্ষা সম্পাদক),  মো. ওসমান গনি (ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক), রিপন চন্দ্র মন্ডল (প্রচার সম্পাদক), লিপি আক্তার (তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক), মো. আরিফ হোসেন (সদস্য-১), উম্মুল ওয়ারা (সদস্য-২)।


বুধবার সকালে হাজী এম. এ. গনি উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশন, টঙ্গী পশ্চিম থানার সভাপতি মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সংগঠনের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর যুবদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি প্রভাষক বশির উদ্দিন। এসময় সংগঠনের সকল কর্মকর্তা ও টঙ্গী পশ্চিম থানার প্রাইভেট স্কুলসমূহের প্রধান শিক্ষক ও তাদের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৪৮ এএম

সিলেট থেকে সুনামগঞ্জের ছাতক পর্যন্ত রেলপথ সংস্কার: মেয়াদ শেষ হলেও মাত্র ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।রোববার (২৩ আগস্ট) ছিল প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদের শেষ দিন। ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে রেলপথটি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। 


সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, সিলেট থেকে সুনামগঞ্জের ছাতক পর্যন্ত রেলপথটি ছিল ঐতিহাসিক যোগাযোগব্যবস্থার অংশ। ১৯৫৪ সালে সিলেট থেকে ছাতক বাজার পর্যন্ত এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এই রেলপথ দিয়ে ছাতক থেকে চুনাপাথরসহ বিভিন্ন পণ্য সারা দেশে পাঠানো হতো। পাশাপাশি সুনামগঞ্জের মানুষ সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। ২০২২ সালের শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যায় রেলপথটির বিভিন্ন অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে সব ধরনের রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেল চলাচল বন্ধ থাকায় রেলপথের মূল্যবান স্লিপার ও লোহার পাত (রেললাইন) চুরি হয়েছে।এরপর ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে রেলপথটি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। রোববার (২৩ আগস্ট) ছিল প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদের শেষ দিন।জানা যায়, দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালে সিলেট থেকে ছাতক বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার রেললাইন পুনর্বাসনে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রকল্পটির নাম ‘২০২২ সালের বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট থেকে ছাতক বাজার অংশের (মিটারগেজ ট্র্যাক) পুনর্বাসন প্রকল্প’।


রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, জিওবি ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত মিটারগেজ রেলপথ সংস্কারের জন্য ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এই রেলপথ সংস্কারের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড (এমএএইচএল)। ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি হয়। ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্প হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৯৯ কোটি টাকার চুক্তি করা হয়।রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। প্রকল্পের আওতাধীন ৯৬টি পাইলিং পয়েন্টের মধ্যে ৮৫টির কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।তবে সিলেট রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজের দাবি, প্রকল্পের ২৫ শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় সিলেট-ছাতক রেলপথের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার, মাটি ভরাট, কালভার্ট ও সেতু মেরামত, নতুন স্লিপার স্থাপন এবং নতুন রেললাইন বসানোর কাজ রয়েছে। ইতোমধ্যে ছাতক থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার পুরোনো রেললাইন অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ, হাসনাবাদ, কালারুকা, মাধবপুর, ছৈলা-আফজলাবাদ, সৎপুর এবং সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার  প্রয়াগমহল,চন্দগ্রাম,পাখিচিরি, পাহাড়পুর,ঘাসিগাঁও,গোমরাগোলসহ খাজাঞ্চী ষ্টেশনের বিভিন্ন এলাকায় সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। নতুন ট্র্যাক স্থাপনসহ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ এখনও বাকি রয়েছে।ফলে প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও পুরো রেলপথে রেল চলাচল কবে নাগাদ শুরু হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প শুরুর পর থেকেই কাজ ধীরগতিতে চলছে। ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথের উচ্চতা নির্ধারণ ও সমন্বয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সড়কের মাটি ভরাটের পর রেলপথের উচ্চতা যথাযথভাবে নির্ধারণ না হওয়ায় কিছু এলাকায় কাজ পিছিয়েছে।


গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা উজ্জীবক সুজন তালুকদার জানান, বন্যায় রেলপথের বিভিন্ন অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নতুন করে রেলপথ সংস্কার ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু হলে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিছুদিন রেলপথের বিভিন্ন স্থানে সংস্কারসহ নানা ধরনের কাজ করতে দেখা গেলেও হঠাৎ করে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কাজ কেন বন্ধ রয়েছে, স্থানীয়দের কাছে কোনো তথ্য নেই। কাজ বন্ধ থাকায় রেলপথ চালু নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।


ছাতক উপজেলার আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ছাতক প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রনি জানান, রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ছাতকের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই রেলপথ শুধু যাত্রী পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, ছাতকের বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনেও এর ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সময়মতো রেললাইন সংস্কারের কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।


ছাতক পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী আবুল হাসান জানান, ছাতকের সিমেন্ট, চুনাপাথর, বালি, পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। পাশাপাশি স্বল্প খরচে সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদে যাতায়াত করা যেত। কারণ সড়কপথে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু ২০২২ সালের বন্যার পর এই রেলপথ বন্ধ রয়েছে। সংস্কারকাজ শুরু হলেও কবে শেষ হবে, তা কেউ জানে না। কারণ মাটি ভরাট ছাড়া আর কোনো কাজ আমাদের নজরে পড়েনি। রেলপথ বন্ধ থাকায় সড়কপথে পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সময় ও অর্থ—দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে। 


বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নর প্রীতিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী তৈমুছ আলী জানান,বর্তমানে সঙস্কার কাজ চলাকালে প্রীতিগঞ্জ বাজারে স্টেশন নির্মান করলে এলাকার মানুষের যাতায়াতে ও মালামাল পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রীতিগঞ্জ বাজারে স্টেশন নির্মানের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে রেওয়ের।যা সৎপুরসহ বিভিন্ন স্টেশনে নেই।তিনি প্রীতিগঞ্জ বাজারে স্টেশন নির্মান করে ঐতিহাসিক  এ রেল লাইনের কাজ সঠিক ভাবে শেষ করার দাবী জানান।


সিলেট থেকে ছাতক বাজার অংশের রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সিলেট রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ জানান, ৯৬টি পাইলিং পয়েন্টের মধ্যে ৮৫টির কাজ শেষ হয়েছে। মাটি ভরাট ও কালভার্টের কাজও দ্রুত চলছে। প্রকল্পের ২৫ শতাংশ কাজ হয়েছে, ৭৫ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) শেষ হচ্ছে। ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্প হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৯৯ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল। এর মধ্যে ৩০ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। এখন প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের প্রকল্প এলাকার প্রকৌশলী সজিবুর রহমান জানান, প্রকল্পের সব কাজ চলমান রয়েছে। ৫১ হাজার স্লিপার তৈরির কাজ চলছে। মাটির কাজও চলমান আছে। আগামী মাসে ১০টি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে যাবে। ছাতকের তিনটি রেলস্টেশন নির্মাণসহ সব কাজই চলমান রয়েছে। কাজ শেষ করা ও প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে প্রকল্প ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। 


নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ অঞ্চলের আবহাওয়া, ঝড়বৃষ্টির কারণে বছরের প্রায় অর্ধেক সময় কাজ করা যায় না। আমার ধারণা, এই অঞ্চলে সময়মতো কাজ শেষ করা কঠিন।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, বৃষ্টির কারণেই সময়মতো কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি ও বর্ষার কারণে মাটির কাজ সঠিক সময়ে করা যায়নি। দেড় বছর মেয়াদি প্রকল্পের মধ্যে দুটি বর্ষাকাল ছিল। সব কাজ চলমান রয়েছে। আমরা ২০ শতাংশ কাজ করেছি। বাকি কাজ সম্পন্ন করার জন্য আরও এক বছর সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছি। বিগত সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক মালামাল আমদানি করা সম্ভব হয়নি। ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। বাকি কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা ও বিদেশ থেকে মালামাল আমদানির চেষ্টা চলছে। আমাদের আশা, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ এএম

মানবতা, উন্নয়ন ও টেকসই পরিবর্তনের জন্য এই স্লোগান নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে সামাজিক সংগঠন সোশ্যাল প্রগ্রেস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট সোসাইটি (এসপিডিএস)-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে এসপিডিএস কার্যালয়ে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।


ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ঠাকুরগাঁওয়ের পরিচিত চিকিৎসক ডা. মো. হাবিব-ই-রসুল (লিটন)। তিনি এমবিবিএস ও এফসিপিএস (মেডিসিন) ডিগ্রিধারী এবং ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত।


এই আয়োজনে প্রায় শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়।


বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রোগীরা। তারা বলেন, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত উপকারী। অর্থের অভাবে অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হয় না। এসপিডিএসের এ উদ্যোগের ফলে তারা সহজেই চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন।


এসপিডিএস এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সারমীন আক্তার  জানায়, সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৮ এএম

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২টি ঝুটের গোডাউন পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কোনাবাড়ী মেট্রো থানাধীন দেওয়ালিয়া বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, দেওয়ালিয়া বাড়ি এলাকার বাচ্চু মিয়ার পলি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পাশের গোডাউনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।


খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পরে আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। বর্তমানে পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।


কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি ইউনিট কাজ করছে। তবে বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় আগুন নেভাতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি।


অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনে গোডাউনগুলোর বিপুল পরিমাণ ঝুট ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মালিকরা।


প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।


 



সর্বশেষ সব খবর

হাবিবুর রহমান।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০১ এএম

গাইবান্ধায় পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনের ব্যারাকের ওয়াশরুম থেকে হাবিবুর রহমান (৩৩) নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।


বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনের ব্যারাক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।


নিহত হাবিবুর রহমান নীলফামারী সদর উপজেলার সরদারপাড়ার মন্টু মিয়ার ছেলে। তার পাঁচ থেকে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট ঢাকা থেকে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাংলোয় গার্ডের দায়িত্বে যোগ দেন নায়েক হাবিবুর রহমান। বুধবার বিকেলে ব্যারাকের ওয়াশরুমের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে গার্ড কমান্ডার সোহেল মিয়া কয়েকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে অন্য সদস্যদের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় হাবিবুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।


পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির হোসেনের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ।


গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল  বলেন, দুপুরে মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে হাবিবুরের কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। একপর্যায়ে তিনি ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন এবং স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টার আগে-পরে ওয়াশরুমে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হাবিবুর আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর