অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের বিরুদ্ধে মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে আরও সোচ্চার ও কার্যকর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সময় ‘আন-এডিটেড’ বা অসম্পাদিত ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
তিনি শনিবার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্যের কোনো জবাবদিহিতা থাকে না।
তাই সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দিতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে। মানুষ যাতে ব্রেকিং নিউজ দেখে মূলধারার পোর্টালে গিয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারে, সেই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হবে।”
ক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে ক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অভিষেক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক) হুমায়ূন কবীর, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন, যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার।
সিলেটের সাথে আত্মিক সম্পর্ক সিলেটে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সিলেট প্রেসক্লাবের দৃঢ়তার প্রশংসা করে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, তখন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) হলগুলোর নামকরণ নিয়ে অনেকটা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। হরতাল-বিক্ষোভের কারণে তিনি অনেকটা হতাশও হয়ে পড়েছিলেন।
সেই অচলাস্থা নিরসনে সিলেট প্রেসক্লাব অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিল। প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি মুকতাবিস উন নূর ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ নূরের নিরলস প্রচেষ্টায়-সেই সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছিল।
তাদের কারণে কালেক্টরেটে বসেই বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সুরাহা করা সম্ভব হয়েছিল। ‘নিজে অন্তর্মুখী মানুষ হওয়া স্বত্বেও’ মূলত সেই কৃতজ্ঞতাবোধের কারণেই তিনি প্রেসক্লাবের অভিষেকে আসতে সম্মত হয়েছেন।
সিলেট প্রেসক্লাব অতীতে যেভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছে; আগামীতেও সেই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন-সাবেক মন্ত্রিপরিষদ ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব। সাংবাদিকতার নীতি ও আদর্শ সাংবাদিকতার মান ও নৈতিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, অন্যান্য খাতের মতো সাংবাদিকতাতেও কিছুটা অধঃপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পেশাদার সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে উঠবেন। তিনি সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ থেকে দেশ ও জনস্বার্থে কাজ করার পরামর্শ দেন।
হুমায়ুন কবিরঃ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেন, সুস্থ সমাজ গঠনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ মাধ্যম খুবই জরুরি। কিন্তু, বর্তমানে ভুয়া ও অপতথ্যের কারণে মানুষজন নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এসব মোকাবেলায় সিলেট প্রেসক্লাবের মতো সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
সিলেট প্রেসক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব এই মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রেসক্লাব মজবুত হলে সুস্থ ও স্বাভাবিক সাংবাদিকতা মজবুত থাকবে, উন্নয়নের দাবিও মজবুত হবে। তিনি সিলেট প্রেসক্লাবের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়েরঃ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে বলেন, সাংবাদিকরা সঠিকভাবে কাজ করলে দেশ এগিয়ে যাবে। ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরে না আসে এজন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, অনেক জীবনের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছি। তাই, নির্বাচনে সঠিকভাবে নেতৃত¦ নির্বাচন করতে হবে। ‘হ্যা’ ভোট দিয়ে দেশের সংস্কার কাজে সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারঃ সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ মহসিন উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকরা অনেকক্ষেত্রে উন্নয়ন কর্মীও। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সহায়তার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব সাংবাদিকের নৈতিকতা নেই, তাদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। তবেই, ভালো-মন্দের পার্থক্য নিরূপন করা সম্ভব হবে।
পাশা খন্দকারঃ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার এনআরবি (নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি)-দের মূল্যায়ণ করার পরামর্শ দেন। বর্তমানে এ দেশের পঞ্চম প্রজন্ম বিলেতে অবস্থান করছে-এই তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রজন্মকে হারাতে বসেছি। এজন্য তাদেরকে দেশমুখী করতে হবে। চায়না যেভাবে তাদের প্রজন্মকে দেশে ফিরিয়ে আনছে-বাংলাদেশেরও অনুরুপ ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য সিলেট প্রেসক্লাবকে ভূমিকা রাখতে হবে।
মুকতাবিন উন নূরঃ সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস উন নূর বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকতায় পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার ঘাটতি রয়েছে। পবিত্র আল কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রণ করো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।’ সিলেট প্রেসক্লাব এই ধরনের সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নিতে চায়-উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এই পেশাকে সম্মানিত করতে চাই। অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় তিনি প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিসহ অন্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বক্তব্য দিলেন যারাঃ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, ইকবাল সিদ্দিকী ও আহমেদ নূর, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যারিস্টার নজির আহমদ, দৈনিক সিলেট সংলাপ সম্পাদক মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর অতিথি সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন, দৈনিক নয়াদিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধাান আব্দুল কাদের তাপাদার, দৈনিক আমার দেশের সিলেট ব্যুরো প্রধান খালেদ আহমদ।
স্বাগত বক্তব্যে রাখেন অভিষেক কমিটির আহব্বায়কও সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির। অনষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলায়ত করেন ক্লাব সদস্য মুন্সী ইকবাল ও গীতা পাঠ করেন ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন-সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ হান্নান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে সিলেট প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সিলেট প্রেসক্লাব, সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন(এসএমইউহজে), বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় পত্রিকা-দৈনিক সিলেটের ডাক, দৈনিক জালালাবাদ, দৈনিক সিলেট মিরর, দৈনিক সিলেট বাণী, দৈনিক কাজিরবাজার, দৈনিক জৈন্তাবার্তা, দৈনিক প্রভাতবেলা ও দৈনিক শুভ প্রতিদিন-এর পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
পরে প্রধান অতিথি সিলেট প্রেসক্লাবের মকবুল হোসেন চৌধুরী পাঠাগার পরিদর্শন করেন।এসময় তাকে ফুল দিয়ে বরন করেন সিলেট প্রেসক্লাবের পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ মুহিবুর রহমান। এসময় তিনি পাঠাগারের উন্নয়নে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন।অভিষেক অনুষ্টানে পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ মুহিবুর রহমানের সম্পাদনায় অভিষেক স্মারক ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও মানবসম্পদ) মো. মাসুদ রানা, সিলেট প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির কর্মককর্তাবৃন্দ ও ক্লাব সদস্যসহ সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশন, টঙ্গী পশ্চিম থানার দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ সভাপতি এবং মো. মজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।
আগামী দুই বছর মেয়াদের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন সহ-সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির শান্ত ও মো. লুৎফর রহমান লিটন সহ-সাধারণ সম্পাদক হানিফ মোল্লা ও শামিম শেখ সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম জনি অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন আহমেদ ক্রীড়া সম্পাদক মো. আব্দুর রশিদ; মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মীর তাহমিনা আক্তার; শিক্ষা সম্পাদক কমলেশ চন্দ্র মন্ডল ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. ওসমান গনি প্রচার সম্পাদক রিপন চন্দ্র মন্ডল তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক লিপি আক্তার; সদস্য-১ মো. আরিফ হোসেন এবং সদস্য-২ উম্মুল ওয়ারা।
বুধবার সকালে হাজী এম. এ. গনি উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় এ দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর যুবদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি প্রভাষক বশির উদ্দিন। এ সময় সংগঠনের কর্মকর্তা এবং টঙ্গী পশ্চিম থানার বিভিন্ন প্রাইভেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও তাঁদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জামান মেমোরিয়াল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোস্তফা হুমায়ুন হিমু। কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হাজী রওশন আলী একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি কবির চৌধুরী, আশা মডেল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আলহাজ্ব সেলিম পারভেজ, খাঁপাড়া বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম এবং ভাকরাল আদর্শ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বিল্লাল হোসেন।
নতুন কমিটির নেতৃত্বে টঙ্গী পশ্চিম থানার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
শরীয়তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশন ও জাগো নিউজের শরীয়তপুর প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের জেলা প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিন-এর জেলা প্রতিনিধি বরকত মোল্লার ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক উন্নয়ন কেন্দ্র।
সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা শুধু নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনকই নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর সরাসরি আঘাত। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক হামলা, হুমকি, বাধা কিংবা হয়রানির শিকার হবেন এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাংবাদিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অলিদুর রহমান অলি, সিনিয়র সহ-সভাপতি মনসুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান শোভন এক বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ হামলার ঘটনার দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আহত সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
সাংবাদিক উন্নয়ন কেন্দ্র মনে করে, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ। তাই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
শরীয়তপুরে তিন সাংবাদিকের ওপর সংঘটিত এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সাংবাদিক উন্নয়ন কেন্দ্র।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি রূপান্তরিত আর্টিসানাল ট্রলিং বোটে মাত্র দুই দিনের মাছ শিকারে প্রায় ৮০ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে। এতে সাধারণ জেলেদের মনে প্রশ্ন জেগেছে—একটি ট্রলিং বোট যদি মাত্র দুই দিনে ৮০ মণ ইলিশ তুলে নিতে পারে, তাহলে সাধারণ জেলেদের জালে মাছ নেই কেন?
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে এফবি আব্দুল্লাহ ট্রলারটি আলিপুর মৎস্য বন্দরে আসে। পরে সিফাত ফিসে নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো প্রায় ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়।
ট্রলারটির মাঝি বাদশা জানান, চার দিন আগে ১৮ জন জেলে নিয়ে তারা গভীর সমুদ্রে যান। দুই দিন মাছ ধরার পর মঙ্গলবার পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন এলাকায় জালে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। তবে প্রায় ৮০ মণ ইলিশ পাওয়া গেলেও মাছগুলোর আকার তুলনামূলক ছোট।
কুয়াকাটা, মহিপুর, আলিপুর ও আশাখালী উপকূলের সাধারণ জেলেদের অভিযোগ, তারা দিনের পর দিন সাগরে অবস্থান করেও আগের মতো মাছ পাচ্ছেন না। অনেক সময় জ্বালানি, বরফ, খাবার ও শ্রমিকের খরচ তুলতে না পেরে লোকসান নিয়ে তীরে ফিরতে হচ্ছে।
জেলে হানিফ মাঝি বলেন, আগে অল্প সময় সাগরে গেলেই পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যেত। এখন দিনের পর দিন সমুদ্রে থেকেও কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া যায় না। তার অভিযোগ, অবৈধ ট্রলিং বোটগুলো অগভীর সমুদ্র থেকে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাছ তুলে নেওয়ায় সাধারণ জেলেদের মাছ ধরার সুযোগ কমে যাচ্ছে।
জেলেদের অভিযোগ, কিছু ট্রলিং বোটে ফিশ ফাইন্ডার, জিপিএস ও রাডারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ব্যবহার করে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ করা হয়।
তাদের আশঙ্কা, এসব জালে শুধু বড় ইলিশ নয়, ছোট ইলিশ, পোনা ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীও আটকা পড়ে। ফলে নির্বিচারে ছোট মাছ আহরণ করা হলে আগামী দিনে মাছের মজুতই কমে যেতে পারে।
চলতি মাসের শুরুতেও কুয়াকাটা সংলগ্ন সাগরে একটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং ট্রলারের জালে একবারেই ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ে। পরে সেই মাছ প্রায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই উপকূলে ট্রলিং বোটে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আহরণের ঘটনা সামনে আসায় এখন সাধারণ জেলেদের প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে—সাগরে সত্যিই কি ইলিশের প্রাচুর্য ফিরেছে, নাকি আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী জালের কারণে নির্দিষ্ট মাছের ঝাঁক দ্রুত শনাক্ত করে একসঙ্গে বিপুল মাছ তুলে নেওয়া হচ্ছে?
জেলেদের দাবি, বিষয়টি শুধু কত মণ মাছ ধরা পড়েছে—তা দিয়ে বিচার করলে হবে না। কোন বোটে, কী ধরনের জাল ব্যবহার করে, কোথায় এবং কী আকারের মাছ ধরা হচ্ছে—সেসব বিষয়ও নজরদারির আওতায় আনতে হবে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ইলিশ বড় হওয়ার সুযোগ না দিয়ে আহরণ করা হলে ভবিষ্যতে প্রজননক্ষম ইলিশের সংখ্যা কমতে পারে। একই সঙ্গে সূক্ষ্ম ফাঁসের জালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও সামুদ্রিক প্রাণী ধরা পড়ায় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, সামুদ্রিক মৎস্য আইনের তফসিল অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ জাল ব্যবহার করে ট্রলিংয়ের অভিযোগে বোট মালিকদের মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে এবং এর আগে বেশ কয়েকটি বোট জব্দ করে মামলাও করা হয়েছে।
অবৈধ ট্রলিং বোটের হাতে সাগরের সম্পদ কুক্ষিগত না করে সাধারণ জেলেদের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সাধারণ জেলে ও মৎস্য সংশ্লিষ্টদের।
সভাপতি হেদায়েত উল্লাহ ও সম্পাদক মজিবুর রহমান
গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশন, টঙ্গী পশ্চিম থানার দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ সভাপতি পদে ও মো. মজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পূণরায় নির্বাচিত হয়েছেন।
আগামী দুই বছর মেয়াদের জন্য নবনির্বাচিত ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন মো. সাইফুল ইসলাম (সহ-সভাপতি) হুমায়ুন কবির শান্ত (সহ-সভাপতি), মো. লুৎফর রহমান লিটন (সহ-সভাপতি), হানিফ মোল্লা (সহ-সাধারণ সম্পাদক), শামিম শেখ (সহ-সাধারণ সম্পাদক), সাইদুল ইসলাম জনি (সাংগঠনিক সম্পাদক), হুমায়ুন আহমেদ (অর্থ সম্পাদক), মো. আব্দুর রশিদ (ক্রীড়া সম্পাদক), মীর তাহমিনা আক্তার (মহিলা বিষযক সম্পাদক), কমলেশ চন্দ্র মন্ডল (শিক্ষা সম্পাদক), মো. ওসমান গনি (ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক), রিপন চন্দ্র মন্ডল (প্রচার সম্পাদক), লিপি আক্তার (তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক), মো. আরিফ হোসেন (সদস্য-১), উম্মুল ওয়ারা (সদস্য-২)।
বুধবার সকালে হাজী এম. এ. গনি উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশন, টঙ্গী পশ্চিম থানার সভাপতি মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সংগঠনের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর যুবদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি প্রভাষক বশির উদ্দিন। এসময় সংগঠনের সকল কর্মকর্তা ও টঙ্গী পশ্চিম থানার প্রাইভেট স্কুলসমূহের প্রধান শিক্ষক ও তাদের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট থেকে সুনামগঞ্জের ছাতক পর্যন্ত রেলপথ সংস্কার: মেয়াদ শেষ হলেও মাত্র ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।রোববার (২৩ আগস্ট) ছিল প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদের শেষ দিন। ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে রেলপথটি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, সিলেট থেকে সুনামগঞ্জের ছাতক পর্যন্ত রেলপথটি ছিল ঐতিহাসিক যোগাযোগব্যবস্থার অংশ। ১৯৫৪ সালে সিলেট থেকে ছাতক বাজার পর্যন্ত এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এই রেলপথ দিয়ে ছাতক থেকে চুনাপাথরসহ বিভিন্ন পণ্য সারা দেশে পাঠানো হতো। পাশাপাশি সুনামগঞ্জের মানুষ সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। ২০২২ সালের শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যায় রেলপথটির বিভিন্ন অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে সব ধরনের রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেল চলাচল বন্ধ থাকায় রেলপথের মূল্যবান স্লিপার ও লোহার পাত (রেললাইন) চুরি হয়েছে।এরপর ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে রেলপথটি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। রোববার (২৩ আগস্ট) ছিল প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদের শেষ দিন।জানা যায়, দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালে সিলেট থেকে ছাতক বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার রেললাইন পুনর্বাসনে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রকল্পটির নাম ‘২০২২ সালের বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট থেকে ছাতক বাজার অংশের (মিটারগেজ ট্র্যাক) পুনর্বাসন প্রকল্প’।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, জিওবি ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত মিটারগেজ রেলপথ সংস্কারের জন্য ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এই রেলপথ সংস্কারের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড (এমএএইচএল)। ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি হয়। ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্প হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৯৯ কোটি টাকার চুক্তি করা হয়।রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। প্রকল্পের আওতাধীন ৯৬টি পাইলিং পয়েন্টের মধ্যে ৮৫টির কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।তবে সিলেট রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজের দাবি, প্রকল্পের ২৫ শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় সিলেট-ছাতক রেলপথের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার, মাটি ভরাট, কালভার্ট ও সেতু মেরামত, নতুন স্লিপার স্থাপন এবং নতুন রেললাইন বসানোর কাজ রয়েছে। ইতোমধ্যে ছাতক থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার পুরোনো রেললাইন অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ, হাসনাবাদ, কালারুকা, মাধবপুর, ছৈলা-আফজলাবাদ, সৎপুর এবং সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার প্রয়াগমহল,চন্দগ্রাম,পাখিচিরি, পাহাড়পুর,ঘাসিগাঁও,গোমরাগোলসহ খাজাঞ্চী ষ্টেশনের বিভিন্ন এলাকায় সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। নতুন ট্র্যাক স্থাপনসহ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ এখনও বাকি রয়েছে।ফলে প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও পুরো রেলপথে রেল চলাচল কবে নাগাদ শুরু হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প শুরুর পর থেকেই কাজ ধীরগতিতে চলছে। ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথের উচ্চতা নির্ধারণ ও সমন্বয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সড়কের মাটি ভরাটের পর রেলপথের উচ্চতা যথাযথভাবে নির্ধারণ না হওয়ায় কিছু এলাকায় কাজ পিছিয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা উজ্জীবক সুজন তালুকদার জানান, বন্যায় রেলপথের বিভিন্ন অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নতুন করে রেলপথ সংস্কার ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু হলে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিছুদিন রেলপথের বিভিন্ন স্থানে সংস্কারসহ নানা ধরনের কাজ করতে দেখা গেলেও হঠাৎ করে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কাজ কেন বন্ধ রয়েছে, স্থানীয়দের কাছে কোনো তথ্য নেই। কাজ বন্ধ থাকায় রেলপথ চালু নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
ছাতক উপজেলার আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ছাতক প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রনি জানান, রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ছাতকের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই রেলপথ শুধু যাত্রী পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, ছাতকের বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনেও এর ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সময়মতো রেললাইন সংস্কারের কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
ছাতক পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী আবুল হাসান জানান, ছাতকের সিমেন্ট, চুনাপাথর, বালি, পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। পাশাপাশি স্বল্প খরচে সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদে যাতায়াত করা যেত। কারণ সড়কপথে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু ২০২২ সালের বন্যার পর এই রেলপথ বন্ধ রয়েছে। সংস্কারকাজ শুরু হলেও কবে শেষ হবে, তা কেউ জানে না। কারণ মাটি ভরাট ছাড়া আর কোনো কাজ আমাদের নজরে পড়েনি। রেলপথ বন্ধ থাকায় সড়কপথে পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সময় ও অর্থ—দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নর প্রীতিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী তৈমুছ আলী জানান,বর্তমানে সঙস্কার কাজ চলাকালে প্রীতিগঞ্জ বাজারে স্টেশন নির্মান করলে এলাকার মানুষের যাতায়াতে ও মালামাল পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রীতিগঞ্জ বাজারে স্টেশন নির্মানের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে রেওয়ের।যা সৎপুরসহ বিভিন্ন স্টেশনে নেই।তিনি প্রীতিগঞ্জ বাজারে স্টেশন নির্মান করে ঐতিহাসিক এ রেল লাইনের কাজ সঠিক ভাবে শেষ করার দাবী জানান।
সিলেট থেকে ছাতক বাজার অংশের রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সিলেট রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ জানান, ৯৬টি পাইলিং পয়েন্টের মধ্যে ৮৫টির কাজ শেষ হয়েছে। মাটি ভরাট ও কালভার্টের কাজও দ্রুত চলছে। প্রকল্পের ২৫ শতাংশ কাজ হয়েছে, ৭৫ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) শেষ হচ্ছে। ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্প হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৯৯ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল। এর মধ্যে ৩০ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। এখন প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের প্রকল্প এলাকার প্রকৌশলী সজিবুর রহমান জানান, প্রকল্পের সব কাজ চলমান রয়েছে। ৫১ হাজার স্লিপার তৈরির কাজ চলছে। মাটির কাজও চলমান আছে। আগামী মাসে ১০টি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে যাবে। ছাতকের তিনটি রেলস্টেশন নির্মাণসহ সব কাজই চলমান রয়েছে। কাজ শেষ করা ও প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে প্রকল্প ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ অঞ্চলের আবহাওয়া, ঝড়বৃষ্টির কারণে বছরের প্রায় অর্ধেক সময় কাজ করা যায় না। আমার ধারণা, এই অঞ্চলে সময়মতো কাজ শেষ করা কঠিন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, বৃষ্টির কারণেই সময়মতো কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি ও বর্ষার কারণে মাটির কাজ সঠিক সময়ে করা যায়নি। দেড় বছর মেয়াদি প্রকল্পের মধ্যে দুটি বর্ষাকাল ছিল। সব কাজ চলমান রয়েছে। আমরা ২০ শতাংশ কাজ করেছি। বাকি কাজ সম্পন্ন করার জন্য আরও এক বছর সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছি। বিগত সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক মালামাল আমদানি করা সম্ভব হয়নি। ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। বাকি কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা ও বিদেশ থেকে মালামাল আমদানির চেষ্টা চলছে। আমাদের আশা, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
মানবতা, উন্নয়ন ও টেকসই পরিবর্তনের জন্য এই স্লোগান নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে সামাজিক সংগঠন সোশ্যাল প্রগ্রেস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট সোসাইটি (এসপিডিএস)-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে এসপিডিএস কার্যালয়ে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ঠাকুরগাঁওয়ের পরিচিত চিকিৎসক ডা. মো. হাবিব-ই-রসুল (লিটন)। তিনি এমবিবিএস ও এফসিপিএস (মেডিসিন) ডিগ্রিধারী এবং ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত।
এই আয়োজনে প্রায় শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়।
বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রোগীরা। তারা বলেন, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত উপকারী। অর্থের অভাবে অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হয় না। এসপিডিএসের এ উদ্যোগের ফলে তারা সহজেই চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন।
এসপিডিএস এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সারমীন আক্তার জানায়, সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।