ছবি : সংগৃহীত
পৃথিবী থেকে রেকর্ড ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে, চাঁদের রহস্যময় অন্ধকার অংশ ঘুরে এসে পৃথিবীর পথ ধরেছেন নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস টু মিশরেন চার নভোচারী। এই যাত্রাপথে পৃথিবী থেকে মানুষের মহাকাশে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তারা। চাঁদের ‘ফার সাইড’ বা অন্ধকার অংশ প্রদক্ষিণ করার সময় সেই দৃশ্য দেখেছেন, যা আগে কখনো কোনো মানুষ দেখেনি।
নাসা জানিয়েছে, চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসতে মিশনের ওরিয়ন ক্যাপসুলের সময় লেগেছে সাত ঘণ্টার মত। এ সময় চাঁদের দূরবর্তী অংশের ছবিও ধারণ করা হয়েছে।
১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর মানবজাতির প্রথম চাঁদে প্রত্যাবর্তনের মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে এবারের অভিযান।
নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যানের নেতৃত্বে এই মিশনে আছেন ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।
তাদের ক্যাপসুল চাঁদের উল্টো পাশে গেলে পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় চাঁদ। এ সময় রেডিও সিগনাল যাতায়াত করতে না পারায় প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবী থেকে নভোচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকে।
সেই সময়টা পেরিয়ে আসার পর নভোচারীরা তাদের অভিজ্ঞতার গল্প নাসার মিশন কন্ট্রোল রুমে অপেক্ষায় থাকা বিজ্ঞানীদের শোনান।
মিশন পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, তারা যা দেখছেন তা বর্ণনা করা সত্যিই কঠিন।
“জানি, আমাদের এই পর্যবেক্ষণ হয়ত বৈজ্ঞানিকভাবে তেমন মূল্যবান নয়, কিন্তু আমি খুশি, ভাগ্যিস আমরা ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করেছিলাম! আমরা আজ যা দেখেছি, মানুষ সম্ভবত এমন দৃশ্য দেখার জন্য এখনও বিবর্তিত হয়নি।”
মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান তার সঙ্গে যোগ করেন, “এ অভিজ্ঞতা বর্ণনাতীত। যতক্ষণই আমরা তাকিয়ে থাকি না কেন, আমাদের মস্তিষ্ক ওই দৃশ্য পুরোপুরি তৈরি করতে পারছে না। এটা অসাধারণ, পরাবাস্তব... এটা বোঝাতে কোনো বিশেষণই যথেষ্ট নয়—আমাকে নতুন শব্দ বানাতে হবে, জানালার বাইরে আমরা যা দেখছি, তা বোঝানোর মতো শব্দ নেই।”
চাঁদের দূরতম অংশ পর্যবেক্ষণের পর্ব শেষ হওয়ার পর মিশনের লাইভ সম্প্রচারে যোগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি আর্টেমিস টুর নভোচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আপনারা যা করছেন, এর মত কিছু মানুষ আগে কখনও দেখেনি। এটা সত্যিই অতুলনীয়।”
ট্রাম্প জিজ্ঞেস করেন, “হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?”
জবাবে ভিক্টর গ্লোভার বলেন, তিনি একটু প্রার্থনা করেছিলেন, এরপর চাঁদের দূরবর্তী অংশের বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহে মন দেন।
“আমরা এখানে খুব ব্যস্ত ছিলাম, বেশ চাপ গেছে। তবে বলতে হয়, অভিজ্ঞতাটা আসলে বেশ ভালোই ছিল।”
পৃথিবীতে ফেরার পর মিশনের চার নভোচারীকে হোয়াইট হাউজে যাওয়ার দাওয়াত দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ঐতিহাসিক ‘ফ্লাইবাই’
গত সপ্তাহে ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের পর থেকে আর্টেমিস টু নভোচারীরা নিজেদের ওরিয়ন ক্যাপসুলে অবস্থান করছেন।
বহু বিলিয়ন ডলারের এ সিরিজ মিশনের লক্ষ্য চীনকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারীদের পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং আগামী দশকে সেখানে দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
এছাড়া চাঁদে একটি ঘাঁটি তৈরি করতে চায় নাসা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে সম্ভাব্য মিশনের প্রস্তুতির জায়গা হিসেবে কাজ করবে।
অভিযানের ষষ্ঠ দিনে যুক্তরাষ্ট্র সময় সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ঘুম থেকে ওঠার পর তাদের শোনানো হয় অ্যাপোলো ৮ ও ১৩ মিশনের প্রয়াত নভোচারী জিম লোভেলের রেকর্ড করা এক বার্তা।
গত বছর ৯৭ বছর বয়সে মারা যাওয়া লোভেল জানতেন, মহাকাশে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে ভ্রমণের তাদের রেকর্ডটি এবার ভাঙতে যাচ্ছে আর্টেমিস টু মিশন।
এই মিশনের নভোচারীদের উদ্দেশে তিনি সেই বার্তায় বলে গেছেন, “আমার পুরানো এলাকায় তোমাদের স্বাগতম!
“ফ্র্যাঙ্ক বোরম্যান, বিল অ্যান্ডার্স আর আমি যখন অ্যাপোলো ৮-এ করে চাঁদ প্রদক্ষিণ করেছিলাম, তখন মানবজাতি প্রথমবার কাছ থেকে চাঁদকে দেখেছিল। পুরো পৃথিবীর এমন এক দৃশ্য পেয়েছিল, যা বিশ্ববাসীকে অনুপ্রাণিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিল।
“আজ আমি গর্বের সঙ্গে সেই মশাল তোমাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। তোমরা চাঁদের পাশ দিয়ে ঘুরে মঙ্গলে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করছ। এ ঐতিহাসিক দিন, তোমরা অনেক ব্যস্ত থাকবে জানি। তবে ওই দৃশ্য উপভোগ করতে ভুলো না। তোমাদের সবার জন্য শুভকামনা।”
বার্তাটি শোনার পর আর্টেমিস টু’র কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান মিশন কন্ট্রোলে রেডিওর মাধ্যমে বলেন, “জিম লোভেলের বার্তাটি অসাধারণ ছিল। তার কণ্ঠে আমাদের স্বাগত জানানো শুনতে খুব ভালো লেগেছে।”
এরপর যুক্তরাষ্ট্র সময় দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে পৃথিবী থেকে মানুষের সর্বোচ্চ দূরত্বে ভ্রমণের রেকর্ড গড়েন আর্টেমিস টু মিশনের নভোচারীরা।
এর আগে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো–১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরত্ব পেরিয়েছিলেন।
সেই দূরত্ব পেরিয়ে আরো প্রায় ৪ হাজার ১০২ মাইল এগিয়ে গিয়ে পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরত্বে পৌঁছানোর নতুন রেকর্ড গড়েন এবারের অভিযানের চার নভোচারী।
অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ড ভাঙার পর কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, “আমরা পৃথিবী থেকে মানুষের এ যাবৎকালের সবচেয়ে দূরবর্তী পথ পেরিয়েছি। মহাকাশ গবেষণায় আমাদের পূর্বসূরীদের অসাধারণ পরিশ্রম ও সাফল্যকে সম্মান জানিয়েই আমরা এ কৃতিত্ব পেলাম।
“আমাদের এই প্রিয় পৃথিবী তার টানে আমাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা মহাকাশের আরও গভীরে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখব।”
সবশেষে তিনি বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “তোমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন এই রেকর্ডটি খুব বেশিদিন টিকে না থাকে। তোমরা যেন শিগগিরই রেকর্ডটি ভেঙে আরও দূরে যেতে পার।”
এরপর চাঁদের দুটি নতুন গহ্বরের নামকরণ করেন নভোচারীরা, যা তারা মহাকাশযান থেকে খালি চোখে দেখতে পাচ্ছিলেন।
চাঁদের ‘ওম’ গর্তের কাছে অবস্থিত একটি গহ্বরেন নাম রাখা হয় তাদের ওরিয়ন মহাকাশযানের সম্মানে ‘ইন্টেগ্রিটি’।
আর ‘গ্লুশকো’ নামের এক উজ্জ্বল গর্তের পাশে অন্য গহ্বরের নাম তারা রাখেন ‘ক্যারল’। আর্টেমিস টু মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের প্রয়াত স্ত্রী ক্যারল টেলর ওয়াইজম্যানের স্মরণে এই নাম।
জেরেমি হ্যানসেন যখন এই নামগুলো প্রস্তাব করছিলেন, তখন আবেগে তার গলা কেঁপে উঠছিল। তার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চার নভোচারী একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। এ দৃশ্য দেখে হিউস্টনে নাসার কন্ট্রোল রুমেও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়
মহাকাশযানের জানালা দিয়ে দেখা দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে ওয়াইজম্যান বলেন, “এখান থেকে পৃথিবীকে ছোট এক বাঁকা চাঁদের মতো দেখাচ্ছে, চমৎকার! আমি একটি ছবিও তুলেছি... এখান থেকে দৃশ্যটা সত্যিই রাজকীয়।”
নাসা জানায়, ওরিয়ন মহাকাশযান চাঁদের আড়ালে চলে যায় যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে। এরপর নভোচারীরা মহাকাশের অন্ধকারে ডুবে যান এবং পৃথিবীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, কারণ চাঁদ তখন তাদের ও নাসার ‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’-এর মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’ হচ্ছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বড় রেডিও অ্যান্টেনা ব্যবস্থা, যা দিয়ে পৃথিবী থেকে নভোচারীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ওই সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা ৭টায় মহাকাশযানটি চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায়। চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশযানের উচ্চতা ছিল প্রায় ৪ হাজার ৬৭ মাইল।
এর দুই মিনিট পর ক্রুরা পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্বে পৌঁছে মানব মহাকাশযাত্রার নতুন রেকর্ড গড়েন।
চাঁদের দূরবর্তী অংশের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় ক্রুরা পৃথিবীর এই উপগ্রহের পিঠে আঘাতজনিত গর্ত, প্রাচীন লাভা প্রবাহ, এবং সময়ের সঙ্গে বিবর্তনে তৈরি হওয়া ফাটল ও উঁচু-নিচু গঠনের মত ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের ছবি তোলেন এবং সেসব বর্ণনা রেকর্ড করেন।
তারা রং, উজ্জ্বলতা ও গঠনের পার্থক্যও লক্ষ্য করেন, যা চাঁদের পৃষ্ঠের গঠন ও ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেবে।
চাঁদের চারপাশ দিয়ে ঘোরার সময় নভোচারীদের চোখে পড়ে পৃথিবীর অস্ত যাওয়ার এবং ‘উদয়’ হওয়ার বিরল মুহূর্ত, যা পৃথিবী থেকে দেখা চন্দ্রোদয়ের মহাজাগতিক দৃশ্যের উল্টো রূপ।
চন্দ্র পর্যবেক্ষণ পর্ব শেষ হওয়ার সময় মহাকাশযান, চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করায় প্রায় এক ঘণ্টা একটি সূর্যগ্রহণও তারা দেখেন।
অন্ধকারে ঢাকা চাঁদের প্রেক্ষাপটে তারা সূর্যের বহিঃস্তর বা করোনা বিশ্লেষণ করেন, যা চাঁদের প্রান্ত ঘিরে দেখা যাচ্ছিল।
ওই গ্রহণের সময় ক্রুরা এমন কিছু বিরল দৃশ্য দেখার সুযোগ পান, যা সাধারণত চাঁদের অন্ধকার অংশে ছাড়া দেখা যায় না।
তারা জানান, প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার মাইল গতিতে ছুটে আসা উল্কাপিণ্ড চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার ছয়টি আলোর ঝলক তারা দেখতে পেয়েছেন।
হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নাসার ‘সায়েন্স ইভালুয়েশন’ রুমে বিজ্ঞানীরা ওরিয়ন থেকে নভোচারীদের তোলা সেইসব ছবির জন্য অপেক্ষা করছেন। পাশাপাশি ফ্লাইবাই বা চাঁদ ঘিরে ঘোরার সময় তোলা অন্যান্য ডেটাও বিশ্লেষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মহাকাশযান থেকে রাতভর তথ্য ডাউনলিংক হওয়ার পর, বিজ্ঞানীরা ছবি, অডিও ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে আলোক ঝলকের সময় ও অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা করবেন। একই সময়ে চাঁদ পর্যবেক্ষণ করা অপেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছ থেকেও তথ্য নেবেন।
মঙ্গলবার নাসার লাইভ সম্প্রচারের অংশ হিসেবে ক্রুরা তাদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে চন্দ্রবিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৃথিবীর সঙ্গে মহাকাশযানের রেডিও যোগাযোগ পুনস্থাপিত হয়।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ওই ৪০ মিনিট নভোচারীরারই তাদের মহাকাশযানের দেখভাল করেন। ইঞ্জিন ও গতিপথের নিয়ন্ত্রণ ছিল ওরিয়নের কম্পিউটারের হাতে।
রেডিও যোগাযোগ ফেরার পর ওরিয়ন থেকে মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, “এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়ার মানুষদের উদ্দেশে, আমরা আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছি, আপনারাও এখন আকাশের দিকে তাকালে চাঁদ দেখতে পাবেন। আমরাও আপনাদের দেখতে পাচ্ছি।”
আর্টেমিস টুর যাত্রা শুরুর সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যখন আমরা এই মহাকাশযানে করে চাঁদের দিকে রওনা হলাম, তখন বলেছিলাম, আমরা পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছি না, বরং পৃথিবীকেই বেছে নিচ্ছি—এটাই সত্যি।
“আমরা অনুসন্ধান করব, আমরা গড়ে তুলব, আমরা মহাকাশযান তৈরি করব, আমরা আবার চাঁদে আসব। আমরা বৈজ্ঞানিক ঘাঁটি গড়ে তুলব, রোভার চালাব, কোম্পানি গড়ে তুলব, শিল্পকে শক্তিশালী করব।
“আমরা অনুপ্রেরণা দেব, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সবসময় পৃথিবীকেই বেছে নেব।”
পরে নাসার লাইভ সম্প্রচারে যুক্ত হন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রশ্নে কমান্ডার ওয়াইজম্যান বলেন, “আমরা এমন দৃশ্য দেখেছি, যা কোনো মানুষ আগে কখনও দেখেনি, এমনকি অ্যাপোলো মিশনও না। এটা আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য।”
তিনি সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের মধ্য দিয়ে মানুষ হয়ে উঠবে দুই-গ্রহের বাসিন্দা, সেটা ভেবে তারা রোমাঞ্চিত।
চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে শুরু হয় আর্টেমিস টু মিশনের ফিরতি যাত্রা। পৃথিবীতে ফিরে আসতে তাদের প্রায় চার দিন সময় লাগবে।
১০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়নের অবতরণ (স্প্ল্যাশডাউন) করার কথা রয়েছে। উদ্ধারকারী দল পানিতে ভাসমান ক্যাপসুল থেকে নভোচারীদের তুলে নেবে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে, তারপর তাদের মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজে নিয়ে যাওয়া হবে।
নাসা জানিয়েছে, স্থলভাগে ফেরার পথে ওই জাহাজেই নভোচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
সূর্যগ্রহণ দেখে বিপদে শত শত ব্রিটিশ নাগরিক
মহাবিশ্বের এক অপরূপ বিস্ময় সূর্যগ্রহণ। চাঁদ যখন সূর্যকে সম্পূর্ণ বা আংশিক ঢেকে ফেলে, তখন পৃথিবীতে এক অদ্ভুত অন্ধকার নেমে আসে। সেই সময় মানুষ কৌতূহলী হয়ে আকাশের দিকে তাকান।
কিন্তু সূর্যগ্রহণের সময় সরাসরি সূর্যের দিকে তাকালে চোখে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ যুক্তরাজ্যে ১২ আগস্ট এক বিরল সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে। এই গ্রহণ দেখতে দেশটির হাজার হাজার মানুষ বাইরে আসেন। অনেকেই কোনো সুরক্ষা চশমা ব্যবহার না করে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। এখন তাঁরা চোখে চরম ব্যথার অভিযোগ করছেন।
অনেক ব্রিটিশ নাগরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের শারীরিক কষ্টের কথা জানিয়েছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, আমি অন্ধ হয়ে যাচ্ছি।’
সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানোর ফলে অনেকের চোখে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। বিশেষ চশমা ছাড়া সূর্যগ্রহণ দেখার কারণে এই শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সূর্যগ্রহণের মতো মহাজাগতিক ঘটনা দেখতে মানুষ ব্যাকুল থাকেন। কিন্তু খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকালে চোখের রেটিনা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একে বলা হয় সোলার রেটিনোপ্যাথি। সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি চোখের টিস্যু পুড়িয়ে দেয়। ঘটনার পর থেকে যুক্তরাজ্যের অনেকেই চোখের নানা সমস্যা অনুভব করছেন।
সরাসরি সূর্য দেখার পর বেশ কিছু লক্ষণ দেখা যায়। তখন চোখের ভেতরে তীব্র জ্বালা ও যন্ত্রণা হয়। স্বাভাবিক দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে দেখা যায়। চোখের সামনে কালো দাগ বা অন্ধকার দেখেন অনেকেই। সাময়িক বা স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে দেখা যাচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই ভাবেন, গ্রহণের সময় সূর্যের তেজ কম থাকে। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। গ্রহণের সময় সূর্য থেকে আসা অদৃশ্য অতিবেগুনি ও অবলোহিত রশ্মি চোখের গভীর ক্ষতি করে। এই ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। কয়েক ঘণ্টা পর লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা সব সময় সোলার ফিল্টার বা বিশেষ গ্রহণ চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
সাধারণ রোদচশমা বা সানগ্লাস চোখের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছে। যাঁরা খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখে চোখের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের দ্রুত চক্ষুবিশেষজ্ঞ দেখানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল
ছবি : সংগৃহীত
বর্ষাকালে বাইরে ঝুম বৃষ্টি নামলেই অনেক সময় হঠাৎ ধীর হয়ে যায় ওয়াই-ফাই। ভিডিও বাফারিং, ওয়েবসাইট খুলতে দেরি কিংবা অনলাইন মিটিংয়ে বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সবসময় বৃষ্টিই যে সরাসরি ওয়াই-ফাইয়ের গতি কমিয়ে দেয়, তা নয়। দুর্বল সিগন্যাল, রাউটারের অবস্থান, বিদ্যুতের ওঠানামা কিংবা ইন্টারনেট সেবাদাতার নেটওয়ার্কে সমস্যা থেকেও এমনটা হতে পারে। বৃষ্টির দিনে ওয়াই-ফাই ধীর হলে কয়েকটি সহজ উপায়ে সমস্যা কিছুটা কমানো সম্ভব।
রাউটার রিস্টার্ট করুন
ইন্টারনেট ধীর মনে হলে প্রথমেই রাউটারটি বন্ধ করে ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট অপেক্ষা করে আবার চালু করুন। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ চালু থাকার কারণে রাউটারের ক্যাশ বা সংযোগে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়। রিস্টার্ট করলে নতুন করে নেটওয়ার্ক সংযোগ তৈরি হতে পারে।
রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন করুন
রাউটার যদি দেয়ালের আড়ালে, আলমারির ভেতরে বা মেঝেতে রাখা থাকে, তাহলে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে। রাউটারটি ঘরের তুলনামূলক মাঝামাঝি এবং খোলা জায়গায় রাখুন। রাউটারের আশপাশে ধাতব জিনিস, বড় ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা মোটা দেয়াল থাকলেও সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
৫ গিগাহার্টজ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন
আধুনিক রাউটারে সাধারণত ২.৪ গিগাহার্টজ ও ৫ গিগাহার্টজ দুই ধরনের ব্যান্ড থাকে। রাউটারের কাছাকাছি থাকলে ৫ গিগাহার্টজ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন। এতে তুলনামূলক দ্রুত গতি পাওয়া যায় এবং আশপাশের অনেক ডিভাইসের হস্তক্ষেপও কম হতে পারে। তবে দূরত্ব বেশি হলে ২.৪ গিগাহার্টজ নেটওয়ার্ক অনেক ক্ষেত্রে ভালো কভারেজ দিতে পারে।
অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস বিচ্ছিন্ন করুন
একই সময়ে অনেক ফোন, স্মার্ট টিভি, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ডিভাইস ওয়াই-ফাইয়ে যুক্ত থাকলে ব্যান্ডউইথ ভাগ হয়ে যায়। তাই বৃষ্টির দিনে জরুরি কাজ করার সময় অপ্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিন। ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা বড় ডাউনলোড বা সফটওয়্যার আপডেটও বন্ধ রাখতে পারেন।
রাউটারের পাওয়ার সংযোগ পরীক্ষা করুন
বৃষ্টির সময় বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামা করলে রাউটারেও সমস্যা হতে পারে। রাউটার বারবার রিস্টার্ট হলে বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পাওয়ার অ্যাডাপ্টার ও সকেট পরীক্ষা করুন। সম্ভব হলে ভালো মানের সার্জ প্রটেক্টর ব্যবহার করা যেতে পারে।
ইন্টারনেট সেবাদাতার সমস্যা কি না দেখুন
সবকিছু ঠিক থাকার পরও গতি কম থাকলে সমস্যাটি আপনার রাউটারে নাও হতে পারে। ভারী বৃষ্টি বা ঝড়ের কারণে ইন্টারনেট সেবাদাতার লাইন, ফাইবার নেটওয়ার্ক বা স্থানীয় অবকাঠামোয় সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সংযোগ ব্যবহার করা অন্যদেরও যদি একই সমস্যা হয়, তাহলে আইএসপির কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করাই ভালো।
তবে মনে রাখবেন, সাধারণ বৃষ্টি সরাসরি ওয়াই-ফাই সিগন্যালকে সবসময় দুর্বল করে না। বরং বৃষ্টির সঙ্গে বিদ্যুৎ সমস্যা, নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর ক্ষতি বা আইএসপির সংযোগে বিঘ্ন যুক্ত হলে ইন্টারনেট ধীর হতে পারে। তাই কারণটি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিলেই বৃষ্টির দিনেও ইন্টারনেটের গতি অনেকটা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।
ছবি : সংগৃহীত
লোডশেডিং এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের বড় ভোগান্তির কারণ। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় অনেকের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ ছাড়া শুধু ঘরের আলো, ফ্যান বা ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যা হয় তা নয়, সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা তৈরি হয় স্মার্টফোনের চার্জ নিয়ে।
জরুরি যোগাযোগ, মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ফোন সচল রাখা প্রয়োজন। তাই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের সময় কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে স্মার্টফোনের ব্যাটারি অনেকটা সময় ধরে রাখা সম্ভব।
স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখুন
স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ডিসপ্লে। লোডশেডিংয়ের সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উজ্জ্বলতা ব্যবহার না করাই ভালো। ফোনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখুন এবং সম্ভব হলে ‘অটো ব্রাইটনেস’ চালু করুন। একই সঙ্গে স্ক্রিনের ‘স্ক্রিন টাইমআউট’ কমিয়ে দিলে ফোন অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় জ্বলে থাকবে না।
ব্যাটারি সেভিং মোড চালু করুন
চার্জ দ্রুত কমে আসতে থাকলে ফোনের ‘ব্যাটারি সেভার’ বা ‘পাওয়ার সেভিং মোড’ চালু করুন। এই ফিচার ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা কিছু অ্যাপের কার্যক্রম, প্রসেসরের গতি ও অন্যান্য ব্যাটারি খরচ কমিয়ে দেয়। ফলে কম চার্জে ফোন তুলনামূলক বেশি সময় ব্যবহার করা যায়।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ রাখুন
ফোনের অনেক অ্যাপ ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে ডাটা সিঙ্ক, লোকেশন বা নোটিফিকেশনের কাজ চালিয়ে যেতে পারে। লোডশেডিংয়ের সময় যেসব অ্যাপ প্রয়োজন নেই, সেগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম সীমিত করুন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও স্ট্রিমিং ও গেমিং অ্যাপ বেশি ব্যাটারি খরচ করতে পারে।
মোবাইল ডাটা ও ৫জি ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় স্মার্টফোনকে বারবার নেটওয়ার্ক খুঁজতে হয়। এতে ব্যাটারি দ্রুত কমে যেতে পারে। প্রয়োজন না থাকলে মোবাইল ডাটা, ৫জি, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ও লোকেশন বন্ধ রাখুন। তবে জরুরি যোগাযোগের প্রয়োজন থাকলে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু রাখাই স্বাভাবিক।
ভিডিও দেখা ও গেম খেলা এড়িয়ে চলুন
লোডশেডিংয়ের সময় বিনোদনের জন্য ফোনে ভিডিও দেখা বা গেম খেলার প্রবণতা বাড়ে। কিন্তু এসব কাজ ডিসপ্লে, প্রসেসর ও ইন্টারনেট তিনটিই বেশি ব্যবহার করে। ফলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। চার্জ কম থাকলে বিনোদনের বদলে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের জন্য ফোন সংরক্ষণ করাই ভালো।
অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করুন
বারবার নোটিফিকেশন এলে ফোনের স্ক্রিন জ্বলে ওঠে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে বিভিন্ন কাজ সক্রিয় হয়। তাই যেসব অ্যাপের নোটিফিকেশন জরুরি নয়, সেগুলো বন্ধ করে দিতে পারেন। এতে সামান্য হলেও ব্যাটারি সাশ্রয় হবে।
চার্জ দেওয়ার সুযোগ পেলেই কিছুটা চার্জ করে নিন
লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ আসার পর ফোনের চার্জ একেবারে শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে সুযোগমতো চার্জ করে নিন। সম্ভব হলে পাওয়ার ব্যাংকও প্রস্তুত রাখুন। তবে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারের আগে সেটিতেও পর্যাপ্ত চার্জ আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ফোন অতিরিক্ত গরম হতে দেবেন না
অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে এবং চার্জ দ্রুত কমতে পারে। লোডশেডিংয়ের সময় ফোন চার্জে দিয়ে ভারী গেম খেলা, দীর্ঘক্ষণ ভিডিও দেখা বা রোদে ফোন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন গরম হয়ে গেলে সেটিকে ঠান্ডা জায়গায় রাখুন।
মহাকাশে ধান চাষে সফল
কল্পবিজ্ঞানের গল্পকে বাস্তবে রূপ দিয়ে মহাকাশের কক্ষপথে ধান চাষ করে সফল হয়েছেন চীনের নভোচারীরা। দেশটির নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগংয়ে এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হয়।
দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে পৃথিবীর ওপর খাদ্যের নির্ভরতা কমিয়ে চাঁদ, মঙ্গল গ্রহ বা গভীর মহাকাশে মানববসতি স্থাপনের গবেষণায় এই অর্জনকে বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত ২৪ মে উৎক্ষেপণ করা শেনঝৌ-২৩ মিশনের মাধ্যমে ধানের বীজ তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছিল। দুই মাসের বেশি সময় ধরে নিবিড় পরিচর্যার পর নভোচারী জু ইয়াংঝু, ঝাং ঝিয়ুয়ান এবং লাই কা-ইং প্রথম ধাপের ধানের নমুনা সংগ্রহ বা ধান কাটার কাজ সম্পন্ন করেছেন। প্রকাশ করা ভিডিওতে নভোচারীদের ধান সংগ্রহ করে গবেষণার জন্য তা নিরাপদে সংরক্ষণ করতে দেখা গেছে।
এর আগে ২০২২ সালে তিয়ানগং স্টেশনে ১২০ দিনে সম্পূর্ণ জীবনচক্র সম্পন্ন করে ধান উৎপাদনে সফল হয়েছিল চীন। সে সময় উৎপাদিত ৫৯টি স্পেস সিড পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
তবে নতুন এই গবেষণায় মহাকাশে পরপর দুই প্রজন্মের ধান চাষ করার উপায় খুঁজছেন নভোচারীরা। মহাকাশের পরিবেশে ধানের একাধিক প্রজন্ম বড় হলে সেগুলো প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে কি না, তা জানতে বিভিন্ন ধরনের গবেষণাও করছেন তাঁরা।
ছবি : সংগৃহীত
মহাজাগতিক বিরল এক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবী। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের মুখোমুখি হবে পৃথিবী। প্রায় দুই বছর পর আবারও সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় আসায় চাঁদের ছায়ায় ঢেকে যাবে সূর্যের পুরো ডিস্ক। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দিনের আলো মুহূর্তের জন্য বদলে যাবে গাঢ় অন্ধকারে। মহাজাগতিক এ দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, স্পেন এবং পর্তুগালের ছোট একটি অংশ থেকে। এ ছাড়া ইউরোপের বিস্তীর্ণ এলাকা ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন স্থান থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের মূল পথ উত্তর আটলান্টিক পেরিয়ে ইউরোপের দিকে বিস্তৃত হয়েছে।
স্পেনের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিম পর্তুগালের কিছু এলাকায় সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে পূর্ণগ্রাসের দৃশ্য দেখা যাবে। ফলে সেখানে সূর্যগ্রহণের সঙ্গে সূর্যাস্তের এক বিরল দৃশ্যও উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের মানুষের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণের কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতোমধ্যে অনেকে গ্রহণের পথের কাছাকাছি এলাকায় জড়ো হয়েছেন। তবে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে মেঘলা আকাশ বা বৃষ্টি হলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও পূর্ণগ্রাসের মুহূর্তটি সরাসরি দেখার সুযোগ নষ্ট হতে পারে।
তবে বাংলাদেশ থেকে এ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে সূর্যগ্রহণটি শুরু হবে। স্থায়ীত্বকাল হবে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।
নাসার তথ্যমতে, পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব স্থানভেদে ভিন্ন হবে। গ্রহণের কেন্দ্রীয় পথের কাছাকাছি এলাকায় এটি দুই মিনিটের কিছু বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। সবচেয়ে দীর্ঘ পূর্ণগ্রাসও আড়াই মিনিটের কম থাকবে।
সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আড়াল করে। চাঁদের ছায়ার যে অংশে সূর্যের পুরো মুখ ঢেকে যায়, সেখান থেকেই দেখা যায় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল উত্তর আমেরিকায় দেখা গিয়েছিল সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এবার দুই বছর পর আবারও পৃথিবীর মানুষ এমন বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
ইউটিউব
অনলাইনে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম এখন ইউটিউব। ভিডিও দেখার পাশাপাশি ইউটিউবে নিজস্ব চ্যানেল খুলে আয়ত্ত করছেন অনেকে। কিন্তু ইউটিউব চ্যানেল জনপ্রিয়তা না পাওয়ার কারণে নিয়মিত ভালো মানের ভিডিও প্রকাশ করলেও অনেকের দর্শকসংখ্যা (ভিউ) বেশি হয় না।
তবে বেশ কিছু বিষয় মেনে চললে ইউটিউব চ্যানেল দ্রুত জনপ্রিয় করা যায়। ইউটিউব চ্যানেল দ্রুত জনপ্রিয় করার আট কৌশল জেনে নেওয়া যাক।
১. আকর্ষণীয় থাম্বনেইল তৈরি
ভিডিওর থাম্বনেইল দর্শকের কাছে প্রথম আকর্ষণ তৈরি করে। তাই স্পষ্ট ও রঙিন ছবি ব্যবহার করে সঙ্গে গাঢ় অক্ষরে লেখা টেক্সট যুক্ত করতে হবে। এতে ভিডিওর প্রতি দর্শকের কৌতূহল বাড়বে।
২. শুরুর ১০ সেকেন্ডে দর্শক ধরে রাখা
ভিডিও শুরুর প্রথম কয়েক সেকেন্ডই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই আকর্ষণীয় বা চমকপ্রদ কোনো বিষয় তুলে ধরতে পারলে দর্শক ভিডিও দেখতে আগ্রহী হন। একটি ভিডিওর দৈর্ঘ্যের ওপর হুক নির্ভর করে। এ ছাড়া দর্শক ভিডিও দেখে চলে যাওয়ার আগে যেন চ্যানেলটির গ্রাহক (সাবস্ক্রাইবার) হন, সে জন্য ভিডিওর শুরুতে, মাঝখানে ও শেষে গ্রাহক হওয়ার আহ্বান জানাতে হবে।
৩. দর্শকের মতামত চাওয়া
ভিডিওর মধ্যে প্রশ্ন রেখে বা মতামত জানতে চেয়ে দর্শককে কমেন্ট সেকশনে যুক্ত হতে উৎসাহিত করতে হবে। এতে ভিডিওর কনটেন্ট নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও বাড়বে।
৪. পোল বা কার্ডের মতো ইন্টারঅ্যাকটিভ কৌশল ব্যবহার
ভিডিওর বিষয়ে পোল ও কার্ড যুক্ত করলে দর্শক সরাসরি অংশ নিতে পারেন। এ ধরনের উদ্যোগ চ্যানেলের এনগেজমেন্ট বাড়াতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৫. নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ
ইউটিউব চ্যানেলের গ্রাহকসংখ্যা বাড়াতে অবশ্যই নিয়মিতভাবে ভিডিও প্রকাশ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে ভিডিও প্রকাশ করলে দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়। ধারাবাহিকভাবে ভিডিও প্রকাশের ফলে নিয়মিত দর্শক বৃদ্ধির পাশাপাশি চ্যানেলের গ্রাহকসংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।
৬. প্রতিক্রিয়ার উত্তর দেওয়া
দর্শকের মন্তব্য ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া চ্যানেলের প্রতি আস্থা তৈরি করে। এতে নির্মাতা ও দর্শকের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এর ফলে অনিয়মিত দর্শকেরাও চ্যানেলে গ্রাহক হয়ে থাকেন।
৭. ভিডিও প্লেলিস্টে সাজানো
ভিডিওগুলো প্লেলিস্টে সাজিয়ে রাখলে দর্শক একটির পর একটি ভিডিও দেখতে আগ্রহী হন। এর ফলে ভিডিও দেখার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ইউটিউবও সার্চ ফলাফলে আপনার চ্যানেলকে দ্রুত সামনে নিয়ে যাবে।
৮. ভিডিওর শেষে ‘কল টু অ্যাকশন’ রাখা
প্রতিটি ভিডিওর শেষে দর্শককে লাইক, সাবস্ক্রিপশন ও শেয়ার করার আহ্বান জানাতে হবে। এতে দ্রুত দর্শকসংখ্যা ও এনগেজমেন্ট বাড়বে। এ ছাড়া চ্যানেলকে এগিয়ে রাখতে ভিডিওর শিরোনাম ও বর্ণনায় দর্শকদের বেশি খোঁজ করা শব্দ বা কিওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করতে হবে।
সূত্র: টেকলুসিভ