ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৫:৩৮ এএম

পৃথিবী থেকে রেকর্ড ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে, চাঁদের রহস্যময় অন্ধকার অংশ ঘুরে এসে পৃথিবীর পথ ধরেছেন নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস টু মিশরেন চার নভোচারী। এই যাত্রাপথে পৃথিবী থেকে মানুষের মহাকাশে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তারা। চাঁদের ‘ফার সাইড’ বা অন্ধকার অংশ প্রদক্ষিণ করার সময় সেই দৃশ্য দেখেছেন, যা আগে কখনো কোনো মানুষ দেখেনি।


নাসা জানিয়েছে, চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসতে মিশনের ওরিয়ন ক্যাপসুলের সময় লেগেছে সাত ঘণ্টার মত। এ সময় চাঁদের দূরবর্তী অংশের ছবিও ধারণ করা হয়েছে।


১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর মানবজাতির প্রথম চাঁদে প্রত্যাবর্তনের মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে এবারের অভিযান।


নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যানের নেতৃত্বে এই মিশনে আছেন ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।


তাদের ক্যাপসুল চাঁদের উল্টো পাশে গেলে পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় চাঁদ। এ সময় রেডিও সিগনাল যাতায়াত করতে না পারায় প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবী থেকে নভোচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকে।


সেই সময়টা পেরিয়ে আসার পর নভোচারীরা তাদের অভিজ্ঞতার গল্প নাসার মিশন কন্ট্রোল রুমে অপেক্ষায় থাকা বিজ্ঞানীদের শোনান।


মিশন পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, তারা যা দেখছেন তা বর্ণনা করা সত্যিই কঠিন।


“জানি, আমাদের এই পর্যবেক্ষণ হয়ত বৈজ্ঞানিকভাবে তেমন মূল্যবান নয়, কিন্তু আমি খুশি, ভাগ্যিস আমরা ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করেছিলাম! আমরা আজ যা দেখেছি, মানুষ সম্ভবত এমন দৃশ্য দেখার জন্য এখনও বিবর্তিত হয়নি।”


মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান তার সঙ্গে যোগ করেন, “এ অভিজ্ঞতা বর্ণনাতীত। যতক্ষণই আমরা তাকিয়ে থাকি না কেন, আমাদের মস্তিষ্ক ওই দৃশ্য পুরোপুরি তৈরি করতে পারছে না। এটা অসাধারণ, পরাবাস্তব... এটা বোঝাতে কোনো বিশেষণই যথেষ্ট নয়—আমাকে নতুন শব্দ বানাতে হবে, জানালার বাইরে আমরা যা দেখছি, তা বোঝানোর মতো শব্দ নেই।”


চাঁদের দূরতম অংশ পর্যবেক্ষণের পর্ব শেষ হওয়ার পর মিশনের লাইভ সম্প্রচারে যোগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।


তিনি আর্টেমিস টুর নভোচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আপনারা যা করছেন, এর মত কিছু মানুষ আগে কখনও দেখেনি। এটা সত্যিই অতুলনীয়।”


ট্রাম্প জিজ্ঞেস করেন, “হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?”


জবাবে ভিক্টর গ্লোভার বলেন, তিনি একটু প্রার্থনা করেছিলেন, এরপর চাঁদের দূরবর্তী অংশের বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহে মন দেন।


“আমরা এখানে খুব ব্যস্ত ছিলাম, বেশ চাপ গেছে। তবে বলতে হয়, অভিজ্ঞতাটা আসলে বেশ ভালোই ছিল।”


পৃথিবীতে ফেরার পর মিশনের চার নভোচারীকে হোয়াইট হাউজে যাওয়ার দাওয়াত দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।


ঐতিহাসিক ‘ফ্লাইবাই’


গত সপ্তাহে ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের পর থেকে আর্টেমিস টু নভোচারীরা নিজেদের ওরিয়ন ক্যাপসুলে অবস্থান করছেন।


বহু বিলিয়ন ডলারের এ সিরিজ মিশনের লক্ষ্য চীনকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারীদের পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং আগামী দশকে সেখানে দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন উপস্থিতি নিশ্চিত করা।


এছাড়া চাঁদে একটি ঘাঁটি তৈরি করতে চায় নাসা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে সম্ভাব্য মিশনের প্রস্তুতির জায়গা হিসেবে কাজ করবে।


অভিযানের ষষ্ঠ দিনে যুক্তরাষ্ট্র সময় সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ঘুম থেকে ওঠার পর তাদের শোনানো হয় অ্যাপোলো ৮ ও ১৩ মিশনের প্রয়াত নভোচারী জিম লোভেলের রেকর্ড করা এক বার্তা।


গত বছর ৯৭ বছর বয়সে মারা যাওয়া লোভেল জানতেন, মহাকাশে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে ভ্রমণের তাদের রেকর্ডটি এবার ভাঙতে যাচ্ছে আর্টেমিস টু মিশন।


এই মিশনের নভোচারীদের উদ্দেশে তিনি সেই বার্তায় বলে গেছেন, “আমার পুরানো এলাকায় তোমাদের স্বাগতম!


“ফ্র্যাঙ্ক বোরম্যান, বিল অ্যান্ডার্স আর আমি যখন অ্যাপোলো ৮-এ করে চাঁদ প্রদক্ষিণ করেছিলাম, তখন মানবজাতি প্রথমবার কাছ থেকে চাঁদকে দেখেছিল। পুরো পৃথিবীর এমন এক দৃশ্য পেয়েছিল, যা বিশ্ববাসীকে অনুপ্রাণিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিল।


“আজ আমি গর্বের সঙ্গে সেই মশাল তোমাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। তোমরা চাঁদের পাশ দিয়ে ঘুরে মঙ্গলে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করছ। এ ঐতিহাসিক দিন, তোমরা অনেক ব্যস্ত থাকবে জানি। তবে ওই দৃশ্য উপভোগ করতে ভুলো না। তোমাদের সবার জন্য শুভকামনা।”


বার্তাটি শোনার পর আর্টেমিস টু’র কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান মিশন কন্ট্রোলে রেডিওর মাধ্যমে বলেন, “জিম লোভেলের বার্তাটি অসাধারণ ছিল। তার কণ্ঠে আমাদের স্বাগত জানানো শুনতে খুব ভালো লেগেছে।”


এরপর যুক্তরাষ্ট্র সময় দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে পৃথিবী থেকে মানুষের সর্বোচ্চ দূরত্বে ভ্রমণের রেকর্ড গড়েন আর্টেমিস টু মিশনের নভোচারীরা।


এর আগে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো–১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরত্ব পেরিয়েছিলেন।


সেই দূরত্ব পেরিয়ে আরো প্রায় ৪ হাজার ১০২ মাইল এগিয়ে গিয়ে পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরত্বে পৌঁছানোর নতুন রেকর্ড গড়েন এবারের অভিযানের চার নভোচারী।


অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ড ভাঙার পর কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, “আমরা পৃথিবী থেকে মানুষের এ যাবৎকালের সবচেয়ে দূরবর্তী পথ পেরিয়েছি। মহাকাশ গবেষণায় আমাদের পূর্বসূরীদের অসাধারণ পরিশ্রম ও সাফল্যকে সম্মান জানিয়েই আমরা এ কৃতিত্ব পেলাম।


“আমাদের এই প্রিয় পৃথিবী তার টানে আমাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা মহাকাশের আরও গভীরে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখব।”


সবশেষে তিনি বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “তোমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন এই রেকর্ডটি খুব বেশিদিন টিকে না থাকে। তোমরা যেন শিগগিরই রেকর্ডটি ভেঙে আরও দূরে যেতে পার।”


এরপর চাঁদের দুটি নতুন গহ্বরের নামকরণ করেন নভোচারীরা, যা তারা মহাকাশযান থেকে খালি চোখে দেখতে পাচ্ছিলেন।


চাঁদের ‘ওম’ গর্তের কাছে অবস্থিত একটি গহ্বরেন নাম রাখা হয় তাদের ওরিয়ন মহাকাশযানের সম্মানে ‘ইন্টেগ্রিটি’।


আর ‘গ্লুশকো’ নামের এক উজ্জ্বল গর্তের পাশে অন্য গহ্বরের নাম তারা রাখেন ‘ক্যারল’। আর্টেমিস টু মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের প্রয়াত স্ত্রী ক্যারল টেলর ওয়াইজম্যানের স্মরণে এই নাম।


জেরেমি হ্যানসেন যখন এই নামগুলো প্রস্তাব করছিলেন, তখন আবেগে তার গলা কেঁপে উঠছিল। তার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চার নভোচারী একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। এ দৃশ্য দেখে হিউস্টনে নাসার কন্ট্রোল রুমেও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়


মহাকাশযানের জানালা দিয়ে দেখা দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে ওয়াইজম্যান বলেন, “এখান থেকে পৃথিবীকে ছোট এক বাঁকা চাঁদের মতো দেখাচ্ছে, চমৎকার! আমি একটি ছবিও তুলেছি... এখান থেকে দৃশ্যটা সত্যিই রাজকীয়।”


নাসা জানায়, ওরিয়ন মহাকাশযান চাঁদের আড়ালে চলে যায় যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে। এরপর নভোচারীরা মহাকাশের অন্ধকারে ডুবে যান এবং পৃথিবীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, কারণ চাঁদ তখন তাদের ও নাসার ‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’-এর মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।


‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’ হচ্ছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বড় রেডিও অ্যান্টেনা ব্যবস্থা, যা দিয়ে পৃথিবী থেকে নভোচারীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।


যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ওই সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা ৭টায় মহাকাশযানটি চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায়। চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশযানের উচ্চতা ছিল প্রায় ৪ হাজার ৬৭ মাইল।


এর দুই মিনিট পর ক্রুরা পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্বে পৌঁছে মানব মহাকাশযাত্রার নতুন রেকর্ড গড়েন।


চাঁদের দূরবর্তী অংশের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় ক্রুরা পৃথিবীর এই উপগ্রহের পিঠে আঘাতজনিত গর্ত, প্রাচীন লাভা প্রবাহ, এবং সময়ের সঙ্গে বিবর্তনে তৈরি হওয়া ফাটল ও উঁচু-নিচু গঠনের মত ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের ছবি তোলেন এবং সেসব বর্ণনা রেকর্ড করেন।


তারা রং, উজ্জ্বলতা ও গঠনের পার্থক্যও লক্ষ্য করেন, যা চাঁদের পৃষ্ঠের গঠন ও ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেবে।


চাঁদের চারপাশ দিয়ে ঘোরার সময় নভোচারীদের চোখে পড়ে পৃথিবীর অস্ত যাওয়ার এবং ‘উদয়’ হওয়ার বিরল মুহূর্ত, যা পৃথিবী থেকে দেখা চন্দ্রোদয়ের মহাজাগতিক দৃশ্যের উল্টো রূপ।


চন্দ্র পর্যবেক্ষণ পর্ব শেষ হওয়ার সময় মহাকাশযান, চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করায় প্রায় এক ঘণ্টা একটি সূর্যগ্রহণও তারা দেখেন।


অন্ধকারে ঢাকা চাঁদের প্রেক্ষাপটে তারা সূর্যের বহিঃস্তর বা করোনা বিশ্লেষণ করেন, যা চাঁদের প্রান্ত ঘিরে দেখা যাচ্ছিল।


ওই গ্রহণের সময় ক্রুরা এমন কিছু বিরল দৃশ্য দেখার সুযোগ পান, যা সাধারণত চাঁদের অন্ধকার অংশে ছাড়া দেখা যায় না।


তারা জানান, প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার মাইল গতিতে ছুটে আসা উল্কাপিণ্ড চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার ছয়টি আলোর ঝলক তারা দেখতে পেয়েছেন।


হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নাসার ‘সায়েন্স ইভালুয়েশন’ রুমে বিজ্ঞানীরা ওরিয়ন থেকে নভোচারীদের তোলা সেইসব ছবির জন্য অপেক্ষা করছেন। পাশাপাশি ফ্লাইবাই বা চাঁদ ঘিরে ঘোরার সময় তোলা অন্যান্য ডেটাও বিশ্লেষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


মহাকাশযান থেকে রাতভর তথ্য ডাউনলিংক হওয়ার পর, বিজ্ঞানীরা ছবি, অডিও ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে আলোক ঝলকের সময় ও অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা করবেন। একই সময়ে চাঁদ পর্যবেক্ষণ করা অপেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছ থেকেও তথ্য নেবেন।


মঙ্গলবার নাসার লাইভ সম্প্রচারের অংশ হিসেবে ক্রুরা তাদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে চন্দ্রবিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।


যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৃথিবীর সঙ্গে মহাকাশযানের রেডিও যোগাযোগ পুনস্থাপিত হয়।


যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ওই ৪০ মিনিট নভোচারীরারই তাদের মহাকাশযানের দেখভাল করেন। ইঞ্জিন ও গতিপথের নিয়ন্ত্রণ ছিল ওরিয়নের কম্পিউটারের হাতে।


রেডিও যোগাযোগ ফেরার পর ওরিয়ন থেকে মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, “এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়ার মানুষদের উদ্দেশে, আমরা আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছি, আপনারাও এখন আকাশের দিকে তাকালে চাঁদ দেখতে পাবেন। আমরাও আপনাদের দেখতে পাচ্ছি।”


আর্টেমিস টুর যাত্রা শুরুর সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যখন আমরা এই মহাকাশযানে করে চাঁদের দিকে রওনা হলাম, তখন বলেছিলাম, আমরা পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছি না, বরং পৃথিবীকেই বেছে নিচ্ছি—এটাই সত্যি।


“আমরা অনুসন্ধান করব, আমরা গড়ে তুলব, আমরা মহাকাশযান তৈরি করব, আমরা আবার চাঁদে আসব। আমরা বৈজ্ঞানিক ঘাঁটি গড়ে তুলব, রোভার চালাব, কোম্পানি গড়ে তুলব, শিল্পকে শক্তিশালী করব।


“আমরা অনুপ্রেরণা দেব, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সবসময় পৃথিবীকেই বেছে নেব।”


পরে নাসার লাইভ সম্প্রচারে যুক্ত হন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রশ্নে কমান্ডার ওয়াইজম্যান বলেন, “আমরা এমন দৃশ্য দেখেছি, যা কোনো মানুষ আগে কখনও দেখেনি, এমনকি অ্যাপোলো মিশনও না। এটা আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য।”


তিনি সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের মধ্য দিয়ে মানুষ হয়ে উঠবে দুই-গ্রহের বাসিন্দা, সেটা ভেবে তারা রোমাঞ্চিত।


চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে শুরু হয় আর্টেমিস টু মিশনের ফিরতি যাত্রা। পৃথিবীতে ফিরে আসতে তাদের প্রায় চার দিন সময় লাগবে।


১০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়নের অবতরণ (স্প্ল্যাশডাউন) করার কথা রয়েছে। উদ্ধারকারী দল পানিতে ভাসমান ক্যাপসুল থেকে নভোচারীদের তুলে নেবে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে, তারপর তাদের মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজে নিয়ে যাওয়া হবে।


নাসা জানিয়েছে, স্থলভাগে ফেরার পথে ওই জাহাজেই নভোচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৪ এএম

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে মেটা। সুবিধাটি চালু হলে হোয়াটসঅ্যাপে অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্ট ব্যবহার করা যাবে। এসব এআই এজেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার পাশাপাশি কাজের তালিকা, বার্তার খসড়া এবং প্রতিদিনের কাজের পরিকল্পনাও তৈরি করা সম্ভব হবে।       


হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস থেকেই তৃতীয় পক্ষের তৈরি এআই এজেন্ট ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যাবে। প্রতিটি এজেন্টের জন্য আলাদা নাম ও প্রোফাইল ছবি নির্ধারণ করা যাবে। এ জন্য এআই এজেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে হোয়াটসঅ্যাপ একটি এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) ‘কি’ দেবে। ওই কি ব্যবহার করে এজেন্টকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত সেবার সঙ্গে যুক্ত করা যাবে।


তবে এসব এআই এজেন্টের সঙ্গে হওয়া কথোপকথন সাধারণ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের মতো এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের আওতায় থাকবে না। কারণ, এজেন্টগুলো পরিচালনা করবে তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান। হোয়াটসঅ্যাপ মূলত বার্তা প্রক্রিয়াকরণের কাজ করবে। ফলে এআই এজেন্টের সঙ্গে শেয়ার করা তথ্য সাধারণ ব্যক্তিগত চ্যাটের মতো একই মাত্রার নিরাপত্তা পাবে না।


নতুন সুবিধা চালু হলে একজন ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ পাঁচটি এআই এজেন্ট ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এজেন্টগুলো ব্যবহারকারীর পুরো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ পাবে না। ব্যবহারকারী যেসব বার্তা বা কনটেন্ট সরাসরি এআই এজেন্টের সঙ্গে শেয়ার করবেন, শুধু সেগুলোই এজেন্ট পড়তে পারবে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত চ্যাট, পরিচিত ব্যক্তিদের ফোন নম্বর কিংবা ফোনে থাকা ছবি, ভিডিওসহ অন্যান্য মিডিয়া ফাইল দেখার সুযোগ থাকবে না এআই এজেন্টগুলোর। 

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৪ পিএম

মোবাইল নম্বরটি আপনি নিয়মিত ব্যবহার করছেন, অথচ কাগজে-কলমে সেটি অন্য কারো নামে, কিংবা আপনার নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম অন্য কেউ ব্যবহার করছে এমন ঘটনা একেবারে বিরল নয়। দীর্ঘদিন নিজের নামে ব্যবহার করার পরও সিমের প্রকৃত মালিকানা অন্যের থাকলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই সিমটি নিজের নামে নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশে অপারেটরের নির্ধারিত নিয়ম মেনে সিমের মালিকানা পরিবর্তন বা ওনারশিপ ট্রান্সফার করা যায়।


কেন নিজের নামে সিম নেওয়া জরুরি?


মোবাইল নম্বর এখন শুধু ফোন করা বা ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যম নয়। ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে নম্বরটি যুক্ত থাকতে পারে। ফলে সিমের নিবন্ধিত মালিক এবং প্রকৃত ব্যবহারকারী আলাদা হলে ভবিষ্যতে পরিচয় যাচাই বা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।


মালিকানা পরিবর্তনে কী করতে হবে?


প্রথমে যে অপারেটরের সিম ব্যবহার করছেন, সেই অপারেটরের নির্ধারিত কাস্টমার কেয়ার বা সার্ভিস সেন্টারে যেতে হবে। সাধারণ নিয়মে বর্তমান নিবন্ধিত মালিক এবং নতুন মালিক দুজনকেই উপস্থিত থাকতে হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করতে হয় এবং বায়োমেট্রিক যাচাই সম্পন্ন করতে হয়।


যেমন-গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে বর্তমান মালিক ও নতুন মালিককে একসঙ্গে গ্রামীণফোন সেন্টার বা এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে উপস্থিত হতে হয়। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এনআইডি/এসএনআইডিসহ অনুমোদিত পরিচয়পত্র প্রয়োজন। নতুন মালিকের ক্ষেত্রে এনআইডি/এসএনআইডি গ্রহণযোগ্য বলে অপারেটরটি জানিয়েছে।


কত টাকা লাগবে?


মালিকানা পরিবর্তনের খরচ অপারেটরভেদে আলাদা হতে পারে। বর্তমানে গ্রামীণফোনের ওয়েবসাইটে সাধারণ ওনারশিপ ট্রান্সফারের মূল্য ১১৫ টাকা, ভ্যাটসহ উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে ঘরের বসেই এই সেবাটি নেওয়া যায়। সেক্ষেত্রে হোম ডেলিভারি চার্জ: মূল ফি-এর সাথে এলাকাভেদে ডেলিভারি চার্জ যুক্ত হতে পারে (যেমন: ঢাকা সিটির ভেতরে সাধারণত ৮০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১৬০ টাকা)। অন্যদিকে রবির সিম সার্ভিস পেজে ওনারশিপ ট্রান্সফার ফ্রি দেখানো হচ্ছে। তাই আপনার সিম যে অপারেটরের, তাদের বর্তমান নির্ধারিত ফি আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো।


মৃত ব্যক্তির নামে থাকা সিম উত্তরাধিকারীর নামে নেওয়ার নিয়ম আবার আলাদা। যেমন, গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে এ ধরনের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য মৃত্যুসনদ, উত্তরাধিকার/ওয়ারিশ সনদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে। এই প্রক্রিয়ার ফিও সাধারণ ওনারশিপ ট্রান্সফারের চেয়ে আলাদা।


বর্তমান মালিককে পাওয়া না গেলে যা করবেন


এখানে বিষয়টি কিছুটা জটিল। সাধারণ মালিকানা পরিবর্তনে আগের নিবন্ধিত মালিকের উপস্থিতি ও বায়োমেট্রিক যাচাই প্রয়োজন হতে পারে। তাই আপনি যদি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের নামে থাকা কোনো সিম ব্যবহার করেন এবং প্রকৃত মালিককে খুঁজে না পান, সরাসরি নিজের নামে নেওয়া সব ক্ষেত্রে সম্ভব নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে আপনার পরিস্থিতি জানানোই নিরাপদ। কোনোভাবেই অন্যের এনআইডি বা পরিচয় ব্যবহার করে সিম নিজের নামে নিবন্ধনের চেষ্টা করা উচিত নয়।


অনলাইনে ঘরে বসে করা যায়?


কিছু অপারেটর এখন নির্দিষ্ট এলাকায় বাড়িতে বসেও সিমের মালিকানা পরিবর্তনের সুবিধা দিচ্ছে। গ্রামীণফোন তাদের অনলাইন শপের মাধ্যমে সিম রিপ্লেসমেন্ট ও ওনারশিপ ট্রান্সফারের হোম সার্ভিস বর্তমানে ৬৪ জেলার মহানগর/জেলা শহরগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে অনলাইন বা হোম সার্ভিসের ক্ষেত্রে কী কী কাগজপত্র লাগবে এবং মোট খরচ কত হবে, তা আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের বর্তমান নির্দেশনা দেখে নেওয়া ভালো।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনি নিয়মিত যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেন, সেটি নিজের এনআইডি-তে নিবন্ধিত কি না আগে যাচাই করুন। অন্যের নামে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব বৈধ প্রক্রিয়ায় মালিকানা নিজের নামে নেওয়া নিরাপদ।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৮ পিএম

দেশের বাজারে প্রথমবারের মতো রোবট ফোন প্রদর্শন করেছে মোবাইল প্রতিষ্ঠান অনার বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হয় অনার-এর নতুন ব্র্যান্ড লোগো। গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠানে প্রথমবারে মতো ওই রোবট ফোন প্রদর্শন করা হয়।


অনুষ্ঠানে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও কানেক্টেড টেকনোলজি নিয়ে নিজেদের নতুন পরিকল্পনা ও কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেছে অনার বাংলাদেশ। স্মার্টফোনের পাশাপাশি বড় পরিসরে একটি কানেক্টেড ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


অনুষ্ঠানে অনারের নতুন স্লোগান ‘ডেয়ার টু বি’র পেছনের গল্প তুলে ধরা হয়। প্রযুক্তিকে আরও মানুষের চাহিদা উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহারকে আরও সহজ করা এ স্লোগানের মূলকথা।


অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, দেশের বাজারে অনার ম্যাজিক৯ প্রো পাওয়া যাবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই। চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাজারে উন্মোচিত এই ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনটি প্রসিদ্ধ সিনেমা ক্যামেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যারির সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে প্রথমবারে মতো রোবট ফোন প্রদর্শন করা হয়


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের আলোচিত চলচ্চিত্র নির্মাতা রায়হান রাফি ও সিনেমাটোগ্রাফার সুমন সরকার। অনুষ্ঠানে তারা অ্যারি প্রযুক্তি নিয়ে একটি সেশন পরিচালনা করেন।


অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অনার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জিটিএম পরিচালক লিও পেই বলেন, ‘বাংলাদেশে অনার স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল, তবে ফোন এখন আমাদের বিস্তৃত স্মার্ট ডিভাইস ইকোসিস্টেমের একটি অংশমাত্র। আমাদের ফোন, ট্যাবলেট, পরিধানযোগ্য ডিভাইস, ল্যাপটপ ও টিভিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে এগুলো একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে কাজ করতে পারে।’


অনার বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ল্যাং গুও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ এমন ধরনের প্রযুক্তি চায়, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে যায়। ধীরে ধীরে অভ্যস্থ হতে হয় এমন প্রযুক্তি নয়। রোবট ফোন অনারের বৃহৎ ইকোসিস্টেমের একটি অংশমাত্র। সামনে আরও বেশ কিছু সামনে আনা হবে।’


স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘অনার বর্তমানে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে ডিভাইস উৎপাদন করছে এবং আমাদের উৎপাদন মান বিশ্বের সেরা কারখানাগুলোর সমমানের। আমরা ধাপে ধাপে অনারের অন্যান্য ডিভাইসও বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে আসবো।’


‘১৯৯৮ সাল থেকে আমরা পার্টনারদের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে আসছি এবং এ পর্যন্ত লাখ লাখ ডিভাইস গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আমরা গ্রাহকদের পরামর্শ ও সমালোচনাকে গুরুত্ব দিই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের পরিবর্তন করে এগিয়ে যেতে চাই,’ তিনি যোগ করেন।


অনারের রোবট ফোন হাতে নিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক রায়হান রাফি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা দিয়ে আমি একটা এক্সপেরিমেন্টাল শর্টফিল্ম বানাতে পারবো। ফিল্ম ক্যামেরা অনেক বড় হওয়ায় অনেক শট আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী নিতে পারি না। গাড়ির ভেতরে শট নেওয়া থেকে শুরু করে আরও অনেক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ক্যামেরার একটা সুবিধা আমার কাছে মনে হয়েছে, যে কোনো জায়গায় এটি রেখে আমরা শুট করতে পারবো। ক্যামেরার মুভমেন্টও বেশ ইন্টারেস্টিং। কেউ দৌড়ালে, সিনেমাটোগ্রাফারকে আর তার সঙ্গে দৌড়াতে হবে না, ক্যামেরা নিজে থেকেই তা ক্যাপচার করে নেবে।’


অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অনার বাংলাদেশের হেড অব বিজনেস আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ডিরেক্টর ও হেড অব প্রোডাক্ট অ্যান্ড মার্কেটিং সৈয়দ মো. বদরুল আরেফিন।


বিশ্ব বাজারে ফোনটি এসেছে। বাংলাদেশে এখনো উন্মুক্ত হয়নি। প্রথমবারের মতো দেশে এটি প্রদর্শন করা হয়েছে। ফোনটির দাম কত হতে পারে তাও জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১২ পিএম

প্রতি বছরই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নতুন নতুন স্মার্টফোন বাজারে আনে। নতুন মডেলে থাকে আকর্ষণীয় ডিজাইন, আগের চেয়ে ভালো ক্যামেরা, প্রসেসর বা অন্য কিছু ফিচার। এসব দেখে অনেকেরই মনে হয়, পুরোনো ফোনটি বদলে নতুন একটি ফোন কেনা দরকার। কিন্তু আপনার বর্তমান ফোনটি যদি ঠিকঠাক কাজ করে, তাহলে প্রতি বছর, এমনকি দুই বছর পরপরও ফোন বদলানোর প্রয়োজন নেই।


সঠিকভাবে যত্ন নিলে একটি স্মার্টফোন অনেক বছর ব্যবহার করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে কমবে ইলেকট্রনিক বর্জ্যও। তাই বারবার নতুন ফোন কেনার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে নিচের ছয়টি বিষয়ে গুরুত্ব দিন।


১. ব্যাটারির স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিন


ফোনের আয়ু বাড়ানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ব্যাটারির যত্ন নেয়া। এর জন্য মূলত দুটি বিষয়ে নজর দিতে হবে; অতিরিক্ত তাপমাত্রা এড়িয়ে চলা এবং সঠিকভাবে ফোন চার্জ করা।


অ্যাপল, গুগল ও স্যামসাংয়ের পরামর্শ অনুযায়ী, ফোন ব্যবহারের জন্য প্রায় ৬২ থেকে ৭২ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা উপযোগী। ৩২ ডিগ্রির নিচে বা ৯৫ ডিগ্রির ওপরে তাপমাত্রা ব্যাটারির ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় থাকলে ব্যাটারির স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি।


শুধু তাপমাত্রাই নয়, চার্জ দেয়ার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ফোনের ব্যাটারি ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ না করাই ভালো। ব্যাটারির আয়ু অনেকটাই নির্ভর করে এটি কতবার চার্জিং সাইকেলের মধ্য দিয়ে যায় তার ওপর।


বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভব হলে ব্যাটারির চার্জ প্রায় ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখা ভালো। তবে প্রতিবার নিজে হাতে চার্জার খুলে নেয়ার প্রয়োজন নেই। আধুনিক অনেক ফোনেই এমন ফিচার রয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ নিয়ন্ত্রণ করে।


তবে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করলে স্বাভাবিকভাবেই ফোনের ব্যাটারি তুলনামূলক দ্রুত শেষ হবে। ব্যাটারি দীর্ঘক্ষণ চালাতে ডার্ক মোড, অটো বা অ্যাডাপটিভ ব্রাইটনেস এবং কম স্ক্রিন টাইমআউট ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজন না থাকলে জিপিএস-নির্ভর অ্যাপও কম ব্যবহার করা ভালো। ব্যাটারি দ্রুত শেষ হলে লো পাওয়ার মোড ব্যবহার করাও কার্যকর।


২. ফোনকে বাহ্যিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত রাখুন


আধুনিক বেশিরভাগ স্মার্টফোনই আগের তুলনায় পানি ও ধুলার বিরুদ্ধে বেশি সুরক্ষিত। স্ক্রিনও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। তারপরও দুর্ঘটনা এড়াতে একটি ভালো কভার ও স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করা উচিত।


এগুলো ফোনকে পড়ে গিয়ে স্ক্রিন ভেঙে যাওয়া, আঁচড় পড়া কিংবা ফাটল তৈরি হওয়া থেকে অনেকটাই রক্ষা করতে পারে। আর ফোনটি ভালো অবস্থায় থাকলে ভবিষ্যতে সেটি বিক্রি বা ট্রেড-ইন করার সময়ও তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


৩. ফোন নিয়মিত পরিষ্কার করুন


শুধু স্ক্রিন পরিষ্কার রাখলেই হবে না। ফোনের চার্জিং পোর্ট এবং স্পিকার গ্রিলেও ধুলা ও ময়লা জমতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এসব জায়গায় ময়লা জমে থাকলে চার্জিংয়ে সমস্যা হতে পারে। ফোন পরিষ্কার করার সময় একটি মাইক্রোফাইবার কাপড়, অল্প ডিশ সোপ, কাঠের টুথপিক এবং ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল বা উপযুক্ত জীবাণুনাশক ওয়াইপ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পরিষ্কার করার সময় ফোনের পোর্টে অতিরিক্ত তরল ঢোকানো বা ধাতব কোনো বস্তু দিয়ে খোঁচানো উচিত নয়।


৪. সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করুন


পুরোনো ফোনকে নতুনের মতো অনুভব করানোর অন্যতম সহজ উপায় হলো সফটওয়্যার আপডেট রাখা। নতুন অপারেটিং সিস্টেমে অনেক সময় নতুন ফিচার যুক্ত হয়, ফলে পুরোনো ফোনেও নতুন মডেলের কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরাপত্তা।


নতুন সফটওয়্যার ও প্রাইভেসি আপডেট সাধারণত কমন প্রাইভেসি দুর্বলতা দূর করে। কোনো ফোন আর প্রাইভেসি আপডেট না পেলে সেটি নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই কারণে পুরোনো ফোনে অনেক অ্যাপের নতুন ও নিরাপদ সংস্করণও পাওয়া যায় না। তাই ফোনে নতুন সফটওয়্যার বা সিকিউরিটি আপডেট এলে সম্ভব হলে দ্রুত ইনস্টল করা উচিত।


৫. ফোনের স্টোরেজ খালি রাখুন


ফোনের স্টোরেজ পুরোপুরি ভর্তি হয়ে গেলে এর কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ছবি, ভিডিও, গান, গেম এবং মেসেজে থাকা বিভিন্ন ফাইল ধীরে ধীরে স্টোরেজ দখল করে। বিশেষ করে বড় গেমগুলো বিপুল পরিমাণ জায়গা নিতে পারে। যেমন, কল অব ডিউটি’র মতো একটি গেমের ফাইলের আকার ১২ জিবি পর্যন্ত হতে পারে এবং অতিরিক্ত ম্যাপ ও রিসোর্স যোগ করলে সেটি আরও বড় হতে পারে।


তাই নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলুন; পুরোনো ডাউনলোড সরিয়ে ফেলুন; ব্যবহার করেন না এমন অ্যাপ ও গেম আনইনস্টল করুন; বড় ফাইল ক্লাউড স্টোরেজে সরিয়ে রাখুন এবং মেসেজে থাকা অপ্রয়োজনীয় ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলুন।


ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের জন্য আইক্লাউড বা গুগল ড্রাইভের মতো ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করা যেতে পারে। স্পটিফাই বা অ্যাপল মিউজিকের মতো স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করলে ফোনে বিপুল পরিমাণ গানও জমিয়ে রাখতে হয় না। মাঝেমধ্যে ক্যামেরা রোলও গুছিয়ে নেয়া ভালো। একই ছবির একাধিক কপি, ঝাপসা ছবি বা অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিনশট মুছে ফেললে অনেক স্টোরেজ খালি করা যায়।


৬. নতুন ফোন কেনার আগে পুরোনো ফোনটি মেরামত করুন


ফোনের কোনো একটি অংশ নষ্ট হলেই পুরো ফোন বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। অনেক ক্ষেত্রে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামত বা প্রতিস্থাপন করলেই ফোন আরও কয়েক বছর ব্যবহার করা সম্ভব। পুরোনো ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে গেলে নতুন ফোন কেনার পরিবর্তে ব্যাটারি পরিবর্তন করাও একটি বিকল্প।


বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৪ পিএম

স্মার্টফোন এখন দিনের বড় একটা সময় আমাদের সঙ্গেই থাকে। ফোন ব্যবহার না করার সময় কখনো টেবিলে, কখনো বিছানায়, আবার কখনো ডেস্কের ওপর রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু ফোনটি কোন দিক করে রাখা হচ্ছে, সেদিকে খুব কম মানুষই নজর দেন। বিশেষ করে ক্যামেরা মডিউল বাইরে বেরিয়ে থাকা ফোনের ক্ষেত্রে ভুলভাবে রাখার কারণে ক্যামেরার গ্লাসে আঁচড় পড়তে পারে। তাই ফোন ব্যবহারের পাশাপাশি সেটি রাখার অভ্যাসের দিকেও একটু নজর দেওয়া প্রয়োজন।


ক্যামেরা নিচে রেখে ফোন রাখলে কী সমস্যা?


বর্তমান সময়ের অনেক স্মার্টফোনে একাধিক ক্যামেরা ও সেন্সর নিয়ে তৈরি মডিউল ফোনের পেছনের অংশ থেকে কিছুটা উঁচু হয়ে থাকে। ফলে ফোনটি ক্যামেরার দিক নিচে রেখে কোনো শক্ত জায়গায় রাখলে মডিউলের একটি অংশ সরাসরি সেই পৃষ্ঠের সংস্পর্শে আসতে পারে।


টেবিল বা ডেস্ক দেখতে পরিষ্কার হলেও সেখানে থাকা অতিক্ষুদ্র ধুলোকণা কিংবা বালুকণার মতো কণা ক্যামেরা গ্লাসের সঙ্গে ঘষা খেতে পারে। বারবার এমন হলে সূক্ষ্ম দাগ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অবশ্য একবার ক্যামেরা নিচে করে ফোন রাখলেই সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা নষ্ট হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়। তবে দীর্ঘদিন একইভাবে রাখলে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি বাড়তে পারে।


স্ক্রিন উপরে রাখাই তুলনামূলক নিরাপদ


ফোন কিছুক্ষণের জন্য টেবিল বা অন্য কোনো সমতল জায়গায় রাখার ক্ষেত্রে স্ক্রিন উপরের দিকে রাখলে ক্যামেরা মডিউল সরাসরি পৃষ্ঠের সঙ্গে ঘষা খায় না। ফলে ক্যামেরা গ্লাসে আঁচড় পড়ার আশঙ্কাও তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তবে ফোনের স্ক্রিন নিয়ে যাদের দুশ্চিন্তা রয়েছে, তারা ভালো মানের স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করতে পারেন। একই সঙ্গে ফোন রাখার জায়গাটিও পরিষ্কার রাখা জরুরি। কারণ ধুলো বা শক্ত কোনো কণা ফোনের যে অংশই হোক, তার সঙ্গে বারবার ঘর্ষণ তৈরি করলে ক্ষতি হতে পারে।


নোটিফিকেশন এড়াতে অনেকে স্ক্রিন নিচে রাখেন


অনেক ব্যবহারকারী ফোনের স্ক্রিন উল্টে রাখেন যাতে বারবার নোটিফিকেশন দেখে মনোযোগ নষ্ট না হয়। এই অভ্যাসের সুবিধা থাকলেও ক্যামেরা মডিউল যদি ফোনের পেছন থেকে বেশি উঁচু হয়ে থাকে, তাহলে সরাসরি শক্ত পৃষ্ঠের ওপর রাখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো। এক্ষেত্রে এমন ফোন কভার ব্যবহার করা যেতে পারে, যার ক্যামেরা অংশের চারপাশে সামান্য উঁচু বর্ডার রয়েছে। এতে ফোনটি স্ক্রিন নিচে করে রাখলেও ক্যামেরা গ্লাস সরাসরি টেবিলের সঙ্গে ঠেকে থাকার সম্ভাবনা কমে।


শুধু ফোনের দিক নয়, জায়গাটাও গুরুত্বপূর্ণ


ফোন কীভাবে রাখা হচ্ছে, তার পাশাপাশি কোথায় রাখা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ধুলোময়, বালিযুক্ত বা খসখসে জায়গায় ফোন রাখার অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো। বিশেষ করে ক্যামেরা মডিউল পরিষ্কার করার সময় শক্ত কাপড় বা কোনো ধারালো বস্তু ব্যবহার না করে নরম মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করা উচিত।


সব মিলিয়ে, ফোন টেবিলে রাখার ক্ষেত্রে স্ক্রিন ওপরে রাখা ক্যামেরা মডিউলের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ অভ্যাস। আর স্ক্রিন নিচে রাখার প্রয়োজন হলে ক্যামেরা সুরক্ষিত রাখে এমন কভার ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৮ এএম

সৌরজগতের অন্য কোনো গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। জার্মানির ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনের বিজ্ঞানীরা নতুন এক গবেষণায় শনি গ্রহের বরফাবৃত উপগ্রহ এনসেলাডাসের ভূগর্ভস্থ মহাসাগরে অতি ক্ষুদ্র জীবাণু বেঁচে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং ভবিষ্যতে ভিনগ্রহের অনুসন্ধানকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নতুন এ গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে শনি গ্রহের বরফাবৃত উপগ্রহ এনসেলাডাসের ভূগর্ভস্থ মহাসাগরের কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করেন। এরপর সমুদ্রের তলদেশের হাইড্রোথার্মাল ভেন্টে বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া নিয়ে পরীক্ষা করেন তারা। 


গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়াগুলো অক্সিজেন ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে এবং হাইড্রোজেন ও কার্বন ডাই–অক্সাইড ব্যবহার করে তাদের বিপাক ক্রিয়া পরিচালনা করে। ফলে ব্যাকটেরিয়াগুলো শনি গ্রহের অত্যন্ত কঠিন পরিবেশেও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ভালোভাবে টিকে রয়েছে।


ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনের বিজ্ঞানী নোজাইর খাওয়াজা জানান, এই ফলাফল অবাক করার মতো। ৫০০ কিলোমিটার ব্যাসবিশিষ্ট এনসেলাডাসের উপরিভাগের তাপমাত্রা মাইনাস ২০১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়। তা সত্ত্বেও এর পাথুরে কেন্দ্রের ভূতাপীয় প্রক্রিয়ার কারণে বরফের নিচে বিশাল তরল জলের মহাসাগর রয়েছে।


শনি গ্রহের বরফাবৃত উপগ্রহ এনসেলাডাসের দক্ষিণ মেরুতে ফাটল রয়েছে। সেই ফাটল দিয়ে ভূগর্ভস্থ মহাসাগরের পানি এবং বরফের কণা শত শত মাইল উঁচুতে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসে। নাসার ক্যাসিনি মহাকাশযান অতীতে এই বরফের কণাগুলোর মধ্য দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহ করেছিল। 


এ বিষয়ে বিজ্ঞানী ফ্রাংক পোস্টবার্গ জানিয়েছেন, প্রাচীন পৃথিবীতেও কোনো অক্সিজেন ছিল না এবং এই জীবাণুগুলো সেই পরিবেশেই বিবর্তিত হয়েছে। যদিও এনসেলাডাসে আসলেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না, এখনো তা নিশ্চিত নয়। তবে এই গবেষণা প্রমাণ করে সেখানে প্রাণের টিকে থাকার উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর