জরুরি যোগাযোগের অন্যতম ভরসা। পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নেওয়া, জরুরি সেবা ডাকা, আবহাওয়ার আপডেট জানা কিংবা প্রয়োজনে আর্থিক লেনদেন সবকিছুর জন্যই ফোন সচল থাকা জরুরি। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে চার্জ শেষ হয়ে গেলে বিপদ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই জরুরি পরিস্থিতিতে ফোনের চার্জ যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে কিছু কৌশল জানা থাকা দরকার। নিচে এমন ১০ কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো।
১. ব্যাটারি সেভার মোড চালু করুন
প্রায় সব অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনেই ব্যাটারি সেভার বা লো পাওয়ার মোড রয়েছে। এটি চালু করলে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অপ্রয়োজনীয় কাজ কমে যায়, প্রসেসরের ব্যবহার সীমিত হয় এবং ব্যাটারি অনেক ধীরে শেষ হয়।
২. স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখুন
স্মার্টফোনে সবচেয়ে বেশি চার্জ খরচ করে ডিসপ্লে। তাই স্ক্রিনের ব্রাইটনেস যতটা সম্ভব কমিয়ে ব্যবহার করুন। অটো-ব্রাইটনেস বন্ধ রাখলে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে উজ্জ্বলতা বেড়ে যায় না।
৩. মোবাইল ডাটা, ব্লুটুথ ও জিপিএস বন্ধ রাখুন
যখন এগুলোর প্রয়োজন নেই, তখন মোবাইল ডাটা, ব্লুটুথ, জিপিএস (লোকেশন) এবং এনএফসি বন্ধ রাখুন। এসব ফিচার সব সময় সক্রিয় থাকলে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
৪. দুর্বল নেটওয়ার্কে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে ফোন বারবার সিগন্যাল খুঁজতে থাকে। এতে দ্রুত চার্জ শেষ হয়। যদি কিছু সময় ফোন ব্যবহার করার প্রয়োজন না থাকে, তাহলে এয়ারপ্লেন মোড চালু রাখতে পারেন।
৫. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করুন
অনেক অ্যাপ ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেম বা ভিডিও অ্যাপ বন্ধ রাখুন। ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ বা ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটিও সীমিত করতে পারেন।
৬. ভিডিও দেখা ও গেম খেলা কমিয়ে দিন
জরুরি পরিস্থিতিতে ফোনের চার্জ বিনোদনের জন্য নয়, যোগাযোগের জন্য সংরক্ষণ করাই ভালো। ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেম এবং দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
৭. ভাইব্রেশন ও অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করুন
প্রতিটি নোটিফিকেশন স্ক্রিন জ্বালায় এবং অনেক ক্ষেত্রে ভাইব্রেশন চালু হয়। প্রয়োজন ছাড়া নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন এবং রিংটোন ব্যবহার করুন। এতে কিছুটা হলেও চার্জ সাশ্রয় হবে।
৮. ডার্ক মোড ব্যবহার করুন
যেসব ফোনে ওএলইডি বা অ্যামোলেড ডিসপ্লে রয়েছে, সেখানে ডার্ক মোড ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। পাশাপাশি কালো রঙের ওয়ালপেপার ব্যবহার করলেও সামান্য ব্যাটারি সাশ্রয় হতে পারে।
৯. জরুরি যোগাযোগের জন্য ফোন ব্যবহার করুন
চার্জ কম থাকলে অপ্রয়োজনীয় কল, ভিডিও কল বা দীর্ঘ আলাপ এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজন হলে ভিডিও কলের বদলে সাধারণ কল বা টেক্সট মেসেজ ব্যবহার করুন, কারণ এতে তুলনামূলক কম ব্যাটারি খরচ হয়।
১০. পাওয়ার ব্যাংক থাকলে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার করুন
পাওয়ার ব্যাংক থাকলেই বারবার ফোন চার্জে দেবেন না। বরং ব্যাটারি ২০-৩০ শতাংশের নিচে নেমে এলে চার্জ দিন। একই সঙ্গে পাওয়ার ব্যাংকের চার্জও অপ্রয়োজনীয়ভাবে নষ্ট করবেন না, কারণ বিদ্যুৎ কবে আসবে তা আগে থেকে জানা নাও থাকতে পারে।
অতিরিক্ত কিছু পরামর্শ
> আগে থেকেই ফোন সম্পূর্ণ চার্জ করে রাখুন, যদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ঝড় বা বন্যার আশঙ্কা থাকে।
> সম্ভব হলে একটি চার্জ করা পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখুন।
> সৌরশক্তিচালিত চার্জার থাকলে সেটিও জরুরি সময়ে কাজে লাগতে পারে।
> জরুরি ফোন নম্বরগুলো কাগজে লিখে রাখুন, যাতে ফোন বন্ধ হয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা যায়।
> ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম বা ভেজা অবস্থায় ফোন চার্জ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।
কেন চার্জ সংরক্ষণ এত গুরুত্বপূর্ণ?
দুর্যোগের সময় অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনো কয়েক দিনও বিদ্যুৎ থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে একটি সচল স্মার্টফোন জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ, পরিবারের সদস্যদের অবস্থান জানা, সরকারি নির্দেশনা পাওয়া কিংবা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার জন্য ফোন সচল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই একই চার্জে স্মার্টফোন অনেক বেশি সময় ব্যবহার করা সম্ভব। তাই দুর্যোগের সময় অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে ফোনের ব্যাটারি সংরক্ষণ করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটর ব্র্যান্ড এয়ারটেলের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নামে ‘সার্কেল’ হিসেবে ব্র্যান্ডটির পরবর্তী যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে এয়ারটেলকে একীভূতকারী মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা।
নতুন ব্র্যান্ডিং কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের পরিচিত‘এয়ারটেল’নামেরপরিবর্তে গ্রাহকদের কাছে‘সার্কেল’নামে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এয়ারটেলের দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে।
২০১৬ইং সালে Airtel Bangladesh Limited,Robi Axiata Limited-এর সঙ্গে একীভূত হয়।এরপর এয়ারটেল ব্র্যান্ডটি রবির অধীনে একটি স্বতন্ত্র পণ্য ব্র্যান্ড হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
এয়ারটেলের নাম পরিবর্তনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের মোবাইল টেলিযোগাযোগ বাজারে এটি হবে উল্লেখযোগ্য একটি ব্র্যান্ড পরিবর্তন।
বিশেষ করে দীর্ঘদিনের গ্রাহকদের কাছে’এয়ারটেল’নামটির জায়গায় ‘সার্কেল’নামটি নতুন পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে রবিকে বড় ধরনের ব্র্যান্ডিং ও প্রচারণার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।তবে নতুন নাম চালুর সময়,ব্র্যান্ড পরিবর্তনের বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং বিদ্যমান গ্রাহকদের সেবা ব্যবহারে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—এসব বিষয়ে রবির পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
সূর্যগ্রহণ দেখে বিপদে শত শত ব্রিটিশ নাগরিক
মহাবিশ্বের এক অপরূপ বিস্ময় সূর্যগ্রহণ। চাঁদ যখন সূর্যকে সম্পূর্ণ বা আংশিক ঢেকে ফেলে, তখন পৃথিবীতে এক অদ্ভুত অন্ধকার নেমে আসে। সেই সময় মানুষ কৌতূহলী হয়ে আকাশের দিকে তাকান।
কিন্তু সূর্যগ্রহণের সময় সরাসরি সূর্যের দিকে তাকালে চোখে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ যুক্তরাজ্যে ১২ আগস্ট এক বিরল সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে। এই গ্রহণ দেখতে দেশটির হাজার হাজার মানুষ বাইরে আসেন। অনেকেই কোনো সুরক্ষা চশমা ব্যবহার না করে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। এখন তাঁরা চোখে চরম ব্যথার অভিযোগ করছেন।
অনেক ব্রিটিশ নাগরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের শারীরিক কষ্টের কথা জানিয়েছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, আমি অন্ধ হয়ে যাচ্ছি।’
সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানোর ফলে অনেকের চোখে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। বিশেষ চশমা ছাড়া সূর্যগ্রহণ দেখার কারণে এই শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সূর্যগ্রহণের মতো মহাজাগতিক ঘটনা দেখতে মানুষ ব্যাকুল থাকেন। কিন্তু খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকালে চোখের রেটিনা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একে বলা হয় সোলার রেটিনোপ্যাথি। সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি চোখের টিস্যু পুড়িয়ে দেয়। ঘটনার পর থেকে যুক্তরাজ্যের অনেকেই চোখের নানা সমস্যা অনুভব করছেন।
সরাসরি সূর্য দেখার পর বেশ কিছু লক্ষণ দেখা যায়। তখন চোখের ভেতরে তীব্র জ্বালা ও যন্ত্রণা হয়। স্বাভাবিক দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে দেখা যায়। চোখের সামনে কালো দাগ বা অন্ধকার দেখেন অনেকেই। সাময়িক বা স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে দেখা যাচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই ভাবেন, গ্রহণের সময় সূর্যের তেজ কম থাকে। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। গ্রহণের সময় সূর্য থেকে আসা অদৃশ্য অতিবেগুনি ও অবলোহিত রশ্মি চোখের গভীর ক্ষতি করে। এই ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। কয়েক ঘণ্টা পর লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা সব সময় সোলার ফিল্টার বা বিশেষ গ্রহণ চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
সাধারণ রোদচশমা বা সানগ্লাস চোখের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছে। যাঁরা খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখে চোখের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের দ্রুত চক্ষুবিশেষজ্ঞ দেখানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল
ছবি : সংগৃহীত
বর্ষাকালে বাইরে ঝুম বৃষ্টি নামলেই অনেক সময় হঠাৎ ধীর হয়ে যায় ওয়াই-ফাই। ভিডিও বাফারিং, ওয়েবসাইট খুলতে দেরি কিংবা অনলাইন মিটিংয়ে বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সবসময় বৃষ্টিই যে সরাসরি ওয়াই-ফাইয়ের গতি কমিয়ে দেয়, তা নয়। দুর্বল সিগন্যাল, রাউটারের অবস্থান, বিদ্যুতের ওঠানামা কিংবা ইন্টারনেট সেবাদাতার নেটওয়ার্কে সমস্যা থেকেও এমনটা হতে পারে। বৃষ্টির দিনে ওয়াই-ফাই ধীর হলে কয়েকটি সহজ উপায়ে সমস্যা কিছুটা কমানো সম্ভব।
রাউটার রিস্টার্ট করুন
ইন্টারনেট ধীর মনে হলে প্রথমেই রাউটারটি বন্ধ করে ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট অপেক্ষা করে আবার চালু করুন। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ চালু থাকার কারণে রাউটারের ক্যাশ বা সংযোগে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়। রিস্টার্ট করলে নতুন করে নেটওয়ার্ক সংযোগ তৈরি হতে পারে।
রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন করুন
রাউটার যদি দেয়ালের আড়ালে, আলমারির ভেতরে বা মেঝেতে রাখা থাকে, তাহলে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে। রাউটারটি ঘরের তুলনামূলক মাঝামাঝি এবং খোলা জায়গায় রাখুন। রাউটারের আশপাশে ধাতব জিনিস, বড় ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা মোটা দেয়াল থাকলেও সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
৫ গিগাহার্টজ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন
আধুনিক রাউটারে সাধারণত ২.৪ গিগাহার্টজ ও ৫ গিগাহার্টজ দুই ধরনের ব্যান্ড থাকে। রাউটারের কাছাকাছি থাকলে ৫ গিগাহার্টজ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন। এতে তুলনামূলক দ্রুত গতি পাওয়া যায় এবং আশপাশের অনেক ডিভাইসের হস্তক্ষেপও কম হতে পারে। তবে দূরত্ব বেশি হলে ২.৪ গিগাহার্টজ নেটওয়ার্ক অনেক ক্ষেত্রে ভালো কভারেজ দিতে পারে।
অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস বিচ্ছিন্ন করুন
একই সময়ে অনেক ফোন, স্মার্ট টিভি, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ডিভাইস ওয়াই-ফাইয়ে যুক্ত থাকলে ব্যান্ডউইথ ভাগ হয়ে যায়। তাই বৃষ্টির দিনে জরুরি কাজ করার সময় অপ্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিন। ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা বড় ডাউনলোড বা সফটওয়্যার আপডেটও বন্ধ রাখতে পারেন।
রাউটারের পাওয়ার সংযোগ পরীক্ষা করুন
বৃষ্টির সময় বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামা করলে রাউটারেও সমস্যা হতে পারে। রাউটার বারবার রিস্টার্ট হলে বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পাওয়ার অ্যাডাপ্টার ও সকেট পরীক্ষা করুন। সম্ভব হলে ভালো মানের সার্জ প্রটেক্টর ব্যবহার করা যেতে পারে।
ইন্টারনেট সেবাদাতার সমস্যা কি না দেখুন
সবকিছু ঠিক থাকার পরও গতি কম থাকলে সমস্যাটি আপনার রাউটারে নাও হতে পারে। ভারী বৃষ্টি বা ঝড়ের কারণে ইন্টারনেট সেবাদাতার লাইন, ফাইবার নেটওয়ার্ক বা স্থানীয় অবকাঠামোয় সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সংযোগ ব্যবহার করা অন্যদেরও যদি একই সমস্যা হয়, তাহলে আইএসপির কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করাই ভালো।
তবে মনে রাখবেন, সাধারণ বৃষ্টি সরাসরি ওয়াই-ফাই সিগন্যালকে সবসময় দুর্বল করে না। বরং বৃষ্টির সঙ্গে বিদ্যুৎ সমস্যা, নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর ক্ষতি বা আইএসপির সংযোগে বিঘ্ন যুক্ত হলে ইন্টারনেট ধীর হতে পারে। তাই কারণটি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিলেই বৃষ্টির দিনেও ইন্টারনেটের গতি অনেকটা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।
ছবি : সংগৃহীত
লোডশেডিং এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের বড় ভোগান্তির কারণ। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় অনেকের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ ছাড়া শুধু ঘরের আলো, ফ্যান বা ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যা হয় তা নয়, সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা তৈরি হয় স্মার্টফোনের চার্জ নিয়ে।
জরুরি যোগাযোগ, মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ফোন সচল রাখা প্রয়োজন। তাই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের সময় কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে স্মার্টফোনের ব্যাটারি অনেকটা সময় ধরে রাখা সম্ভব।
স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখুন
স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ডিসপ্লে। লোডশেডিংয়ের সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উজ্জ্বলতা ব্যবহার না করাই ভালো। ফোনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখুন এবং সম্ভব হলে ‘অটো ব্রাইটনেস’ চালু করুন। একই সঙ্গে স্ক্রিনের ‘স্ক্রিন টাইমআউট’ কমিয়ে দিলে ফোন অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় জ্বলে থাকবে না।
ব্যাটারি সেভিং মোড চালু করুন
চার্জ দ্রুত কমে আসতে থাকলে ফোনের ‘ব্যাটারি সেভার’ বা ‘পাওয়ার সেভিং মোড’ চালু করুন। এই ফিচার ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা কিছু অ্যাপের কার্যক্রম, প্রসেসরের গতি ও অন্যান্য ব্যাটারি খরচ কমিয়ে দেয়। ফলে কম চার্জে ফোন তুলনামূলক বেশি সময় ব্যবহার করা যায়।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ রাখুন
ফোনের অনেক অ্যাপ ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে ডাটা সিঙ্ক, লোকেশন বা নোটিফিকেশনের কাজ চালিয়ে যেতে পারে। লোডশেডিংয়ের সময় যেসব অ্যাপ প্রয়োজন নেই, সেগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম সীমিত করুন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও স্ট্রিমিং ও গেমিং অ্যাপ বেশি ব্যাটারি খরচ করতে পারে।
মোবাইল ডাটা ও ৫জি ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় স্মার্টফোনকে বারবার নেটওয়ার্ক খুঁজতে হয়। এতে ব্যাটারি দ্রুত কমে যেতে পারে। প্রয়োজন না থাকলে মোবাইল ডাটা, ৫জি, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ও লোকেশন বন্ধ রাখুন। তবে জরুরি যোগাযোগের প্রয়োজন থাকলে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু রাখাই স্বাভাবিক।
ভিডিও দেখা ও গেম খেলা এড়িয়ে চলুন
লোডশেডিংয়ের সময় বিনোদনের জন্য ফোনে ভিডিও দেখা বা গেম খেলার প্রবণতা বাড়ে। কিন্তু এসব কাজ ডিসপ্লে, প্রসেসর ও ইন্টারনেট তিনটিই বেশি ব্যবহার করে। ফলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। চার্জ কম থাকলে বিনোদনের বদলে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের জন্য ফোন সংরক্ষণ করাই ভালো।
অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করুন
বারবার নোটিফিকেশন এলে ফোনের স্ক্রিন জ্বলে ওঠে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে বিভিন্ন কাজ সক্রিয় হয়। তাই যেসব অ্যাপের নোটিফিকেশন জরুরি নয়, সেগুলো বন্ধ করে দিতে পারেন। এতে সামান্য হলেও ব্যাটারি সাশ্রয় হবে।
চার্জ দেওয়ার সুযোগ পেলেই কিছুটা চার্জ করে নিন
লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ আসার পর ফোনের চার্জ একেবারে শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে সুযোগমতো চার্জ করে নিন। সম্ভব হলে পাওয়ার ব্যাংকও প্রস্তুত রাখুন। তবে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারের আগে সেটিতেও পর্যাপ্ত চার্জ আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ফোন অতিরিক্ত গরম হতে দেবেন না
অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে এবং চার্জ দ্রুত কমতে পারে। লোডশেডিংয়ের সময় ফোন চার্জে দিয়ে ভারী গেম খেলা, দীর্ঘক্ষণ ভিডিও দেখা বা রোদে ফোন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন গরম হয়ে গেলে সেটিকে ঠান্ডা জায়গায় রাখুন।
মহাকাশে ধান চাষে সফল
কল্পবিজ্ঞানের গল্পকে বাস্তবে রূপ দিয়ে মহাকাশের কক্ষপথে ধান চাষ করে সফল হয়েছেন চীনের নভোচারীরা। দেশটির নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগংয়ে এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হয়।
দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে পৃথিবীর ওপর খাদ্যের নির্ভরতা কমিয়ে চাঁদ, মঙ্গল গ্রহ বা গভীর মহাকাশে মানববসতি স্থাপনের গবেষণায় এই অর্জনকে বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত ২৪ মে উৎক্ষেপণ করা শেনঝৌ-২৩ মিশনের মাধ্যমে ধানের বীজ তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছিল। দুই মাসের বেশি সময় ধরে নিবিড় পরিচর্যার পর নভোচারী জু ইয়াংঝু, ঝাং ঝিয়ুয়ান এবং লাই কা-ইং প্রথম ধাপের ধানের নমুনা সংগ্রহ বা ধান কাটার কাজ সম্পন্ন করেছেন। প্রকাশ করা ভিডিওতে নভোচারীদের ধান সংগ্রহ করে গবেষণার জন্য তা নিরাপদে সংরক্ষণ করতে দেখা গেছে।
এর আগে ২০২২ সালে তিয়ানগং স্টেশনে ১২০ দিনে সম্পূর্ণ জীবনচক্র সম্পন্ন করে ধান উৎপাদনে সফল হয়েছিল চীন। সে সময় উৎপাদিত ৫৯টি স্পেস সিড পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
তবে নতুন এই গবেষণায় মহাকাশে পরপর দুই প্রজন্মের ধান চাষ করার উপায় খুঁজছেন নভোচারীরা। মহাকাশের পরিবেশে ধানের একাধিক প্রজন্ম বড় হলে সেগুলো প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে কি না, তা জানতে বিভিন্ন ধরনের গবেষণাও করছেন তাঁরা।
ছবি : সংগৃহীত
মহাজাগতিক বিরল এক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবী। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের মুখোমুখি হবে পৃথিবী। প্রায় দুই বছর পর আবারও সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় আসায় চাঁদের ছায়ায় ঢেকে যাবে সূর্যের পুরো ডিস্ক। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দিনের আলো মুহূর্তের জন্য বদলে যাবে গাঢ় অন্ধকারে। মহাজাগতিক এ দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, স্পেন এবং পর্তুগালের ছোট একটি অংশ থেকে। এ ছাড়া ইউরোপের বিস্তীর্ণ এলাকা ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন স্থান থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের মূল পথ উত্তর আটলান্টিক পেরিয়ে ইউরোপের দিকে বিস্তৃত হয়েছে।
স্পেনের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিম পর্তুগালের কিছু এলাকায় সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে পূর্ণগ্রাসের দৃশ্য দেখা যাবে। ফলে সেখানে সূর্যগ্রহণের সঙ্গে সূর্যাস্তের এক বিরল দৃশ্যও উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের মানুষের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণের কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতোমধ্যে অনেকে গ্রহণের পথের কাছাকাছি এলাকায় জড়ো হয়েছেন। তবে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে মেঘলা আকাশ বা বৃষ্টি হলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও পূর্ণগ্রাসের মুহূর্তটি সরাসরি দেখার সুযোগ নষ্ট হতে পারে।
তবে বাংলাদেশ থেকে এ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে সূর্যগ্রহণটি শুরু হবে। স্থায়ীত্বকাল হবে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।
নাসার তথ্যমতে, পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব স্থানভেদে ভিন্ন হবে। গ্রহণের কেন্দ্রীয় পথের কাছাকাছি এলাকায় এটি দুই মিনিটের কিছু বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। সবচেয়ে দীর্ঘ পূর্ণগ্রাসও আড়াই মিনিটের কম থাকবে।
সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আড়াল করে। চাঁদের ছায়ার যে অংশে সূর্যের পুরো মুখ ঢেকে যায়, সেখান থেকেই দেখা যায় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল উত্তর আমেরিকায় দেখা গিয়েছিল সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এবার দুই বছর পর আবারও পৃথিবীর মানুষ এমন বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।