তাসনিম জারা
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। জাতীয় সংসদ ভবনে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রীদের শপথ পাঠের মাধ্যমে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হবে। এদিকে প্রস্তুতি চলছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতারা এ প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আর এ বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
এরমধ্যেই আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছায়া মন্ত্রিসভা কী, সেটি নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করা ডা. তাসনিম জারা।
তাসনিম জারার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো -
‘ছায়া মন্ত্রিসভা (shadow cabinet) আসলে কী? ছায়া মন্ত্রীরা কি সরকারি বেতন পান? তাদের কাজ কী?
আমাদের দেশে রাজনীতি মানেই মিছিল-মিটিং, অবরোধ আর আর নির্বাচন। নির্বাচনের পর বিজয়ী দল ক্ষমতায় যায়, আর পরাজিত দল চলে যায় রাজপথে। কিন্তু ছায়া মন্ত্রিসভা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তবে এই 'রাস্তা অচল করার' রাজনীতি বদলে দেওয়া সম্ভব।
ছায়া মন্ত্রিসভা আসলে কী?
সরকারে যেমন প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন করে মন্ত্রী থাকবেন (যেমন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী), বিরোধী দলও ঠিক তেমনি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ছায়া মন্ত্রী নিয়োগ দিবেন। সরকার যদি কোনো ভুল করে বা ব্যর্থ হয়, ছায়া মন্ত্রী তার প্রতিবাদ করবেন এবং বিকল্প সমাধান পেশ করবেন।
ছায়া মন্ত্রীরা কি সরকারি বেতন বা সুবিধা পান?
না। ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যরা সরকার থেকে কোনো বেতন, গাড়ি বা সরকারি সুবিধা পান না। এটি সম্পূর্ণ একটি স্বেচ্ছাসেবী রোল। তবে এটি জনগণকে দেখানোর একটা বিশাল সুযোগ যে, তারা দেশ চালানোর জন্য কতটা যোগ্য।
ছায়া মন্ত্রিসভা কেন প্রয়োজন?
যখন কোনো মন্ত্রী জানেন যে তার প্রতিটি সিদ্ধান্তের চুলচেরা বিশ্লেষণ করার জন্য ওপাশে একজন দক্ষ ছায়া মন্ত্রী এবং একঝাঁক গবেষক বসে আছেন, তখন তিনি চাইলেই খেয়ালখুশি মতো কাজ করতে পারেন না। এটি রাজপথের পেশিশক্তির রাজনীতি কমিয়ে পলিসির রাজনীতি চালু করতে সাহায্য করে। কারণ ভালো একজন ছায়া মন্ত্রি হতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গভীর জ্ঞান ও গবেষণা থাকা প্রয়োজন।
এভাবে রাজনীতিতে মারামারির বদলে শুরু হতে পারে মেধা ও আইডিয়ার লড়াই। কে কত ভালোভাবে জনগণের টাকার সদব্যবহার করতে পারে, সেই প্রতিযোগিতা।
এটি কীভাবে পেশিশক্তির বদলে পলিসির রাজনীতি আনতে পারে?
বর্তমানে আমাদের রাজনীতিতে একজন নেতা কত বড়, তা মাপা হয় তার কত বড় মিছিল আছে বা তিনি কত জোরে স্লোগান দিতে পারেন তার ওপর। কিন্তু ছায়া মন্ত্রিসভা এলে মাপকাঠি হবে যোগ্যতা। উদাহরণস্বরূপ : একজন ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অবশ্যই চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতে হবে। একজন ছায়া অর্থমন্ত্রীকে বাজেটের চুলচেরা বিশ্লেষণ জানতে হবে। এসব করলে জনগণ দেখবে প্রকৃতপক্ষে কার কাছে উন্নততর সমাধান আছে।
ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর করার শর্ত কী কী?
এটি তখনই কার্যকর হবে যখন তারা কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে গঠনমূলক সমাধান দিতে পারবে। যদি ছায়া মন্ত্রিসভা কেবল নামেই থাকে কিন্তু কোনো গবেষণা বা তথ্যনির্ভর কাজ না করে, তবে এটি কোনো কাজে আসবে না। ছায়া মন্ত্রীরা যদি কেবল টিভিতে টকশো করার জন্য পদটি ব্যবহার করেন কিন্তু মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ না করেন, তবে এই মডেলটি ব্যর্থ হবে।
এটা আমাদের বাস্তবতায় সফলভাবে কাজ করবে?
বাস্তবে এটা কেবল পদবী সর্বস্ব হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। অনেকেই হয়তো ছায়া মন্ত্রীর মর্যাদা নিতে চাইবেন, কিন্তু কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকবে না ও গবেষণায় শ্রম দিতে চাইবেন না। তবে আমরা যদি দু-একটি মন্ত্রণালয়েও এটি সফলভাবে করতে পারি এবং যারা ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না তাদের চাপের মুখে রাখতে পারি, তবে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।’
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফুটবল প্রতীকে অংশ নিয়ে তাসনিম জারা বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান। একা লড়াই করে তিনি পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। যত ভোট পড়েছে, তার প্রায় ২১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি। ঢাকা-৯ আসনে প্রাপ্ত ভোটের দিক দিয়ে তার অবস্থান তৃতীয়।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠন হলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তাসনিম জারা। বিভিন্ন সময় দলের নানা কর্মসূচিতেও অংশ নেন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোটে এনসিপি যুক্ত হওয়ায় তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন এবং ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে মাঝআকাশে একটি বিমানে দুই বাংলাদেশি যাত্রীর তুমুল মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফ্লাইট চলাকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই যাত্রী হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চরম বাকবিতণ্ডার পর দুই ব্যক্তি একে অপরকে কিল-ঘুষি ও চড় মারতে থাকেন। একপর্যায়ে মারামারির ধাক্কায় একজনের পরনের টি-শার্ট ছিঁড়ে যায়। মাঝআকাশে হঠাৎ এমন হাতাহাতির ঘটনায় বিমানে থাকা সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেবিন ক্রু ও পাশে থাকা অন্য যাত্রীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তারা দুজনকে থামানোর চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে তাদের টেনে আলাদা করে শান্ত করেন।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মহিউদ্দীন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানি নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এর মধ্যে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগই ১১ হাজার কোটি টাকার। বাকি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিভিন্ন পদে নিয়োগ, প্রকল্প, টেন্ডার এবং ঘুষ লেনদেন ঘিরে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে এখন অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।
আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে এমন খবর সামনে আসতেই নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে এক পোস্টে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এনসিপির এই মুখপাত্র ফেসবুকের ওই পোস্টে লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’
একইদিন বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এক সংবাদ সম্মেলনেও দুদকের অভিযোগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। আসিফ মাহমুদ সেখানে বলেন, দুদকের সংস্কার না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখনও আগের মতোই ব্যবহৃত হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নাম্বারটা একটু আগে ঠিকমতো উনারা নিজেরা বসে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হয়। একবার শুনি, ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, যেটা আমার দুই মন্ত্রণালয়ের বাজেটও ছিল না।
এরপর একবার শুনি ১১ হাজার কোটি টাকা। কয়েকদিন আগে শুনলাম ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ২ কোটি ৭৬ লাখ থেকে ১১ হাজার কোটিতে উঠে যায়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে সরকারের নিজেদের মধ্যে আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, এখন সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে কাউকে তারা পাকড়াও করবে, তাহলে এর অনেক পদ্ধতি আছে। আমরা দেখেছি, আগে দুদক কী কী করেছে। বিএনপির ওপরেই করেছে। আওয়ামী লীগের সময়ের দুর্নীতি নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আওয়ামী লীগের কয়জন লোকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে?
নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রথম রাজনীতির যে ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে মামলাটা করা হলো, সেটা আমার বিরুদ্ধে করা হলো। আমি আমার জায়গা থেকে অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমি দুই দিন আগে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে আপনাদের দেখিয়েছি যে, বিএনপির সময় হওয়া একটি পদোন্নতির জন্য আমার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যখন তারা দেখল যে, ওইটাতে তো কাজ হলো না, এখন আরেকটা দাও। তারপর কালকে আরেকটা দেবে। এটা দিতে থাকুক, আমরা এটার জন্য প্রস্তুত আছি।
দুদকের সংস্কার প্রসঙ্গে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, আমরা যখন দেখছি যে, দুদকের সংস্কারটা করা হয়নি, অধ্যাদেশটা যখন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে, তখনই আমরা বুঝতে পেরেছি যে এই দুদক কীসের জন্য ব্যবহৃত হবে। পূর্বে যে কারণে ব্যবহৃত হয়েছিল, ভবিষ্যতে সে কারণেই ব্যবহৃত হবে।
ইসলামি বক্তা হাবিবুর রহমান মিছবাহের ‘দশম স্ত্রী’ হতে চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাথিনা তাবাসসুম মীম। গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্টটি দেন তিনি। এরপরই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পোস্টে মীম লেখেন, ‘আমি কি ১০ নম্বর বউ হতে পারি? জীবনে বহুত টিকটক করেছি, এখন আপনাকে বিয়ে করে যদি জান্নাতে যেতে পারি। জান্নাতে যাওয়ার সুযোগটা করে দেন প্লিজ।’
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মন্তব্য এসেছে ৪০৯টি এবং পোস্টটি শেয়ার হয়েছে ২২ বার। মন্তব্যের ঘরে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়।
এইচ এম আনাস আব্দুল্লাহ নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘টিকটক করলে কি জাহান্নামি নাকি?’ রাব্বি হাসান লেখেন, ‘আপনি এত দুষ্টু কেন?’ এ ছাড়া অন্য মন্তব্যকারীরাও বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
মীমের এই পোস্টের পর মিছবাহের ব্যক্তিগত জীবন ও একাধিক বিয়ের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আলোচিত ইসলামি বক্তা ও ৩১৩ প্রোপার্টিজের চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান মিছবাহের বিরুদ্ধে সম্প্রতি যৌতুক দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট মিছবাহের পঞ্চম স্ত্রী মোসা. হুমায়রা জান্নাত ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলাটি করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০২০ সালের ৪ মে মিছবাহের সঙ্গে হুমায়রা জান্নাতের বিয়ে হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ‘আফরাদ মিছবাহ’ নামে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের সময় মিছবাহ তার আগের চারটি বিয়ের তথ্য গোপন করেছিলেন। পরে হুমায়রা জানতে পারেন, তাকে ছাড়াও মিছবাহ মোট নয়টি বিয়ে করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব বিয়ের কোনোটি কাবিননামা বা বিবাহ নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়নি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ বি এম ইবরাহিম খলিল বলেন, হুমায়রা জান্নাত মিছবাহের পঞ্চম স্ত্রী। এরপর তিনি আরও চারটি বিয়ে করেছেন- এ হিসেবে মোট নয়টি বিয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মেঘনা আলম
আলোচিত মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম বলেছেন, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘প্রথম মুখ খারাপ প্রধানমন্ত্রী’ হবেন। একই সঙ্গে নরমের প্রতি সদয় এবং শক্তের বিরুদ্ধে কঠোর থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার (২৩ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন মেঘনা আলম।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আপনারা যারা আমাকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান, মাথায় রেখেন যে আমি বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম মুখ খারাপ প্রধানমন্ত্রী হব। আমি নরমের ভক্ত, শক্তের যম!’
তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে মেধাবী তরুণ-তরুণীর কোনো অভাব নেই। কিন্তু তাদের অনেকের অল্প বয়সেই বড় বড় বাধার মুখোমুখি হতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ফেসবুক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে জাইমা লিখেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর সঙ্গে আমার পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। স্কাউটিং, বিজ্ঞানমেলা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে খেলাধুলা, পরিবেশ রক্ষা, সঙ্গীত এবং শিল্পকলা, ভাষা শিক্ষা এবং কোডিং পর্যন্ত নানা বিষয়ে তাদের অসাধারণ অর্জন রয়েছে। তাদের মেধা, জানার আগ্রহ, শৃঙ্খলা এবং দৃঢ় মনোবল সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজেদের পছন্দের বিষয়ে আরও দক্ষ হয়ে ওঠার জন্য তারা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে মেধাবী তরুণ-তরুণীর কোনো অভাব নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে বলেন, কিন্তু তাদের অনেকের অল্প বয়সেই বড় বড় বাধার মুখোমুখি হতে হয়। কারো রয়েছে আর্থিক সংকট, কারো ওপর পরিবারের দায়িত্ব। ভিন্নভাবে সক্ষম অনেককেই কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়তে হয়। আবার অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পায় না।
জাইমা লিখেন, কখনো কখনো মনে হয়, সফল হওয়া ছাড়া তাদের সামনে যেন আর কোনো পথ নেই। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য কিংবা নিজের সমাজের জন্য তাদের সফল হতেই হবে। এত অল্প বয়সে এমন দায়িত্ব পালন সহজ নয়।
তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আমি আমাদের রোল মডেলদের কথা ভাবছিলাম জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা লিখেন, আমাদের শিশুরা কাদের দেখে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে? কারা তাদের দেখায় যে জীবনে কত কিছু অর্জন করা সম্ভব? পথ কঠিন হয়ে গেলে কারা তাদের সাহস দেয়?
পোস্টে রোল মডেল হতে হলে কাউকে বিখ্যাত কিংবা নিখুঁত হতে হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি হতে পারেন এমন একজন বাবা বা মা, যিনি কখনো হাল ছাড়েন না। এমন একজন শিক্ষক, যিনি কোনো শিক্ষার্থীর ভেতরের সম্ভাবনা দেখেন। এমন একজন প্রশিক্ষক, যিনি শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মূল্য শেখান। কিংবা দূর থেকে দেখা এমন কেউ, যাকে দেখে কোনো তরুণ মনে সাহস পাবে এবং ভাববে, "আমিও এটা করতে পারব।"
তিনি বলেন, অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য আমাদের তরুণদের সব সময় বাংলাদেশের বাইরেই তাকাতে হবে না। বাংলাদেশে কাটানো এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমি এমন অনেক অনুপ্রেরণীয় মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি, যাদের সাহস, মেধা এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা সত্যিই গর্ব করার মতো। তারা এমন মানুষ, যাদের গল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা সহজেই নিজেদের মিল খুজে পেতে পারে। আমি আশা করি, সামনে এমন আরও অনেক মানুষের সাথে আমার পরিচয় হবে।
সবশেষে জাইমা লিখেন, প্রশ্নটি এই নয় যে বাংলাদেশে যোগ্য ও মেধাবী তরুণ-তরুণী রয়েছে কি না। এর প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়তই আমাদের চারপাশে দেখতে পাই। আসল প্রশ্ন হলো যে, যখন তাদের আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট করছি কি?
তবে শুধু অনুপ্রেরণা দেওয়াই যথেষ্ট নয় জানিয়ে জাইমা বলেন, আমাদের এমন সুযোগও তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু তার মেধা ও দক্ষতা বিকাশ করতে পারবে। শিক্ষা গ্রহণ, খেলাধুলায় এগিয়ে যাওয়া কিংবা কোনো নতুন দক্ষতা শেখার জন্য একজন শিক্ষার্থীর যেন ভাগ্য, পরিচিত মানুষ বা পরিবারের ত্যাগের ওপর নির্ভর করতে না হয়। পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখাতে, পরামর্শ দিতে এবং তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে আমাদের মধ্যে থেকে আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
আমরা অনেকেই হয়তো বুঝতে পারি না, একজন তরুণের জীবনে আমাদের প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বস্ত কোনো প্রবীণ মানুষের সামান্য উৎসাহও তার মনে দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে। সামান্য একটু সহানুভূতি বা বিশ্বাসও একটি তরুণ জীবনকে অনুভব করাতে পারে যে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তার স্বপ্নেরও মূল্য রয়েছে।
সংগৃহীত ছবি
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কথিত এক বক্তব্যের জেরে তার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে জন্ম নিয়েছে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’।
এখন পর্যন্ত এটি একটি ফেইসবুক পেইজ। আনুষ্ঠানিক কোনো সাংগঠনিক আকার এই ‘পার্টি’ পায়নি। তবে অনেকেই এ পেইজের সঙ্গে ভারতের শাসকদের ভীত কাঁপিয়ে দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মিল দেখছেন। টানা ভারি বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ পেইজ থেকে দিনভর সেই আন্দোলনের ‘আপডেট’ দেওয়া হয়েছে এবং ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে।
সোমবার মধ্যরাতে ব্যাক্তিগত ব্লগের ক্যাটাগরিতে খোলা এই পেইজে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দেড় হাজারের মতো ফলোয়ার ছিল। সন্ধ্যা ৬টায় তা ১৮ শ ছাড়িয়ে যেতে দেখা যায়।
দিনভর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের স্লোগানেও ‘ফার্মের মুরগি’ শব্দবন্ধটি ঘুরে ফিরে এসেছে। ‘তুমি কে, আমি কে/ ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে/ শিক্ষামন্ত্রী’–শিক্ষার্থীদের মুখের এমন স্লোগান শোনা গেছে উত্তরা থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পর্যন্ত।
কোত্থেকে এল এই স্লোগান? ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামটিইবা কোথা থেকে এল?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অডিও টেপ ছড়িয়েছে, যেখানে একজন নারীর সঙ্গে একজন পুরুষকে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে পুরুষটি কথা বলে যাচ্ছিলেন এবং নারীটি তাকে বার বার ‘স্যার’ ‘স্যার’ বলছিলেন।
এক পর্যায়ে পুরুষকণ্ঠে বলতে শোনা যায়, “আমি এভাবে মিটিংয়ে বলতেছিলাম যে, এরা (এইচএসসি পরীক্ষার্থী) তো ফার্মের মুরগি, কিন্তু মাথায় বৃষ্টি পড়লেই জ্বর আসে, আমার মেয়ের তাই হয়। তো আমি বললাম যে, দৌড়-লাফ ঝাঁপ দিয়ে পরীক্ষা দিতে যাবে, বৃষ্টির মধ্যে মাথায় পানি পড়বে, পরের দিন ঠিকঠাক পরীক্ষা দিতে পারবে না। তারপরে আবার ওয়েদার ব্রডকাস্টিং সেন্টারে ডিজিকে কল করল। তারা বলল যে কালকে বৃষ্টি হবে না, আজকে রাতেই শেষ।”
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই পুরুষ কণ্ঠটি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের। তবে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখতে পারেনি। এ বিষয়ে কথা বলতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।
তবে সারা দিনের পরিস্থিতি থেকে এটা স্পষ্ট, শিক্ষামন্ত্রীর ওই কথিত মন্তব্যের প্রতিবাদেই ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ পেইজটির জন্ম। পেইজের বায়োতে লেখা হয়েছে, “আমরা অপমানিত হইনি, জাগ্রত হয়েছি।”
এর আগে গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণদের 'তেলাপোকা' ও 'পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করার পর এর প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ সূচনা হয়।
ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নামকে ট্রল করে গড়ে ওঠা ওই প্ল্যাটফরম কয়েকদিনের মধ্যে লাখো অনুসারী জুটিয়ে নেয়।
বাংলাদেশে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’র পেছনে কারা আছে তা এখনো স্পষ্ট না হলেও ফলোয়ারের তালিকায় এনসিপির কয়েকটি আঞ্চলিক শাখা এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তির ভেরিফায়েড পেইজের নাম দেখা গেছে।
পেইজের একটি পোস্টে শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, “জনাব মিলন সাহেব, এই ‘ফার্মের মুরগীরা’ রাস্তায় না নামলে আপনার মতো ওয়াটারমিলনের আজ মন্ত্রী হওয়া হতো না। আপনি আপনার ওই চেয়ারের সম্মানটুকু ধরে রাখতে টোটালি ব্যর্থ। তাই হাঙ্কিপাঙ্কি বাদ দিয়ে সসম্মানে গদি থেকে নেমে যান।”
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও শিক্ষামন্ত্রী মিলনের পদত্যাগ দাবি করছেন।
সায়েন্সল্যাবরেটরি এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মহসিন শেখ বলেন, “সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে কেন্দ্রে যেতে পারেনি। তাই আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছি।”
বিএএফ শাহীন কলেজের এক পরীক্ষার্থী বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হবে। উনি অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা বন্ধ। উনি কথা দিয়ে কথা রাখেননি।
“পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে যখন গতকাল সমালোচনা চলছে, তখন একটা ভিডিওতে দেখলাম উনি টেলিফোনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগি বলে সম্বোধন করছেন। উনি কেন আমাদের ফার্মের মুরগি বলবেন? উনার এ বক্তব্যের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।”