আইনশৃঙ্খলা ও জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে উপজেলার বৈরাগীরচর বাজারে আইনশৃঙ্খলা ও জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল চারটার দিকে দৌলতপুর থানা-পুলিশের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, কিশোর অপরাধ, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপত্তা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং গুজব প্রতিরোধসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন, দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃত্ব, অভিভাবক, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানানো এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব।
সভায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আলোচনা শেষে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সভায় বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে—মাদক নয়, খেলাধুলা; সন্ত্রাস নয়, শান্তি; অপরাধ নয়, সামাজিক সম্প্রীতি। পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ দৌলতপুর গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা
সন্তান না হওয়ার স্ত্রীকে ডিভোর্স। ছবি: সংগৃহীত
আটক যুবদল নেতা মো. মাসুদক। ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ৫০ পিস ইয়াবাসহ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে আটক যুবদল নেতা মো. মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা যুবদল। তিনি উপজেলার ৮ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদা। তিনি বলেন, মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনার পর দিন শনিবার রাতে মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে শাহেদা বেগম (৩৫), দেলোয়ার হোসেন (৩০) ও মো. মাসুদকে (৩১) গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. জাফর (৪৫) নামে আরও একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।
সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন সৈকত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাসুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন ও সদস্য সচিব নুরুল হুদা এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
খাইরুল ইসলাম
কলাপাড়ায় মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেয়ে বাবার সঙ্গে অভিমান করে এক সন্তানের জনক খাইরুল ইসলাম (২৬) আত্মহত্যা করেছেন।
রবিবার (৮ নভেম্বর) শেষ বিকেলে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাইনতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খাইরুল ইসলাম ওই গ্রামের আলমগীর হাওলাদারের ছেলে। নিহতের বাবা আলমগীর হাওলাদার জানান, খাইরুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন।
মাদক সেবনের কারণে তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং তাঁদের মারধর করতেন। তাঁর দেড় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে তাঁর স্ত্রী বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
তিনি আরও জানান, স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য খাইরুল প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের চাপ দিতেন এবং বিভিন্ন সময় তাঁদের গালিগালাজ করতেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় মাদক সেবনের জন্য তিনি বাবার কাছে টাকা চান। কিন্তু বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। ওই রাতে খাবার না খেয়ে ঘুমাতে যান। একপর্যায়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।পরে পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ কাজে বাইরে গেলে খাইরুল ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। বাড়িতে ফিরে দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। পরে ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়ালঘর থেকে দড়ি এনে তিনি আত্মহত্যা করেন এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইলিয়াস তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
পাটের গুদামে লাগা আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা । ছবি: সংগৃহীত
বাবার সঙ্গে ব্যবসার টাকার হিসাব নিয়ে মনোমালিন্যের জেরে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাবার পাটের গুদামে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। আগুনে গুদামঘরসহ সেখানে থাকা প্রায় ৩২০ মণ পাটের বড় অংশ পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন গুদাম মালিক।
রোববার (৮ নভেম্বর ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামশা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাসেল মোল্লা ওই এলাকার সামেজুদ্দিন মোল্লার ছেলে। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার আগে সকালে রাসেল মোল্লাকে গুদামের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এসময় উত্তেজিত অবস্থায় তাকে গুদামের টিন ও দরজা ভাঙচুর করতে দেখা যায় বলে দাবি তাদের। এরই এক পর্যায়ে গুদামে আগুন লাগিয়ে তিনি চলে যান বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আগুন ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তা নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে সিংগাইর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুদাম মালিক সামেজুদ্দিন মোল্লা বলেন, ব্যবসার টাকার সঠিক হিসাব নিয়ে আমার ছেলের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। এতে সে উত্তেজিত হয়ে গুদামে আগুন লাগিয়ে দেয়। গুদামে আমার প্রায় ৩২০ মণ পাট ছিল। যার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
তিনি আরও বলেন, আগুনে গুদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং সেখানে থাকা পাটের বড় অংশ পুড়ে গেছে।
সিংগাইর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তিনি আরও বলেন, আগুনে গুদামঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। গুদামে থাকা পাটের প্রায় ৮০ শতাংশও পুড়ে গেছে।
শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। ওই শিক্ষক আগেও শিক্ষার্থীদের মারধরসহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের ভাষ্য—চুল বড় হয়ে যাওয়ায় দেখতে খারাপ লাগছিল। এ জন্য তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিয়েছেন। এদিকে ঘটনাটি জানার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান। সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করতে শোনা যায়।
মিলন নামের এক অভিভাবক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে এসে দেখি, আমার ছেলের মাথার চুল খোপ খোপ করে কেটে দিয়েছে; অথচ তার মাথায় চুল স্বাভাবিকই ছিল। এ নিয়ে আজ বিদ্যালয়ে ঝামেলা হয়েছে।’
আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন বলেন, প্রায় ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ আছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের চুল অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল; চোখের ওপর এসে পড়ায়, দেখতে খারাপ লাগছিল। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি।’ তবে আগে মারধরের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা অস্বীকার করেন তিনি।
জানতে চাইলে বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তিনি এখন একটি প্রশিক্ষণে আছেন। কী কারণে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল এভাবে কেটে দেওয়া হলো, তা তদন্ত করতে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।