বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের দুই তারকা মেসি-ইয়ামালের লড়াই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব

  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫৫ পিএম

বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ক্রীড়া আসর বিশ্বকাপ ফুটবলের আরো একটি আয়োজন শেষ হতে চলেছে। আগামী চার বছরের জন্য কে হতে যাচ্ছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন- তা জানতে এখন কেবল ঘণ্টা গুনে অপেক্ষার পালা। রোববার দিন শেষে রাত একটায় নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন।



দক্ষিণ আমেরিকার দল আর্জেন্টিনা জিতলে ১৯৭৮, ১৯৮৬, ২০২২ সালের পর চতুর্থবারের মতো শিরোপা জিতে নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ীদের তালিকায় জার্মানি ও ইতালির সাথে স্থান করে নেবে। ইতালি ও পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মতো টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতার গৌরবও অর্জন করবে তারা। অন্যদিকে ২০১০ সালে শিরোপাজয়ী স্পেন জিতলে তা হবে তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয় এবং ফাইনাল গেলে জয়ী হওয়ার তাদের রেকর্ড শতভাগ অক্ষুণ্ন রাখবে।দুই দলই এই টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছে।



আর্জেন্টিনা এই টুর্নামেন্টের নক আউট ম্যাচগুলোর প্রায় প্রতিটিতে ফিরে আসার দারুণ গল্প লিখে চলেছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও মেসির অসাধারণ নেতৃত্বে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে আনে, এর আগে শেষ ষোলোতেও মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে ফিরে আসার মতো নাটকীয়তা দেখায়।



বিশেষত শেষ ১৫ মিনিটে প্রায় প্রতি ম্যাচেই একাধিক গোল দিয়ে আর্জেন্টিনা নিজেদের দৃঢ় মানসিকতা ও জয়ের তীব্র ইচ্ছার প্রতিফল ঘটিয়েই চলছে। এখনো পর্যন্ত সাত ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১৯টি গোল দিয়েছে যা দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং এই পরিসংখ্যান দলটির দারুণ আক্রমণভাগের প্রমাণ দেয়। টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ খেলতে থাকা সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হারিয়ে মাটিতে নামিয়েছে ফ্রান্সকে। সেইদিনও স্পেন পুরো খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর আগের ম্যাচগুলোতে পর্তুগালকে শেষ মুহূর্তের একমাত্র গোলে এবং বেলজিয়ামকে শেষমুহূর্তের দেওয়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হারায় তারা এবং দুটি ম্যাচেই স্পেনের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো।



এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে। এই বিশ্বকাপের সাত ম্যাচসহ টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকা স্পেন দলের এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, দলটির রক্ষণভাগ সন্দেহাতীতভাবে এই টুর্নামেন্টের সেরা। সেই হিসেবে বলা যেতে পারে যে, বিশ্বকাপের ফাইনালটি হতে যাচ্ছে সেরা আক্রমণ বনাম সেরা রক্ষণভাগের মধ্যে।



তবে, দুই দলেরই প্রধান শক্তি মাঝমাঠ দখল করে খেলা। এখন পর্যন্ত খেলাগুলোতে উভয় দলই গড়ে ৬০ ভাগ করে বলের দখল রেখেছে, আর নিজেদের মধ্যে সর্বাধিক পাস দিয়েছে (আর্জেন্টিনা ৪৭৭২, আর স্পেন ৪৫৯২) । লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনাও ৪-৩-৩ ছকে খেলছে, যেখানে সামনে মেসি কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। স্কালোনি লেয়ান্দ্রো পারেদেসকে মধ্য মাঝমাঠে খেলাচ্ছেন, তার পাশে আছেন আলেক্সিস মাক এলিস্টার, এনজো ফের্নান্দেজ ও রদ্রিগো দে পাউল, যারা মাঝমাঠ দিয়ে খেলা গড়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে উইংয়েও সরে যেতে পারেন।



আক্রমণভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। হুলিয়ান আলভারেজের তীব্র রক্ষণাত্মক প্রেসিং ক্ষমতার কারণে তিনি লাউতারো মার্তিনেজের চেয়ে এগিয়ে থেকে শুরুর একাদশে জায়গা ধরে রাখতে পারেন, কারণ স্পেনের গভীর থেকে বল বাড়ানোর ধরন ভাঙতে এই প্রেসিং জরুরি। তবে, কৌশল ছাপিয়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি গত টুর্নামেন্টের মতো একজোট হয়ে খেলা। এই দলটি মেসিকে কেন্দ্র করে নিজেদের উজাড় করে খেলে। খেলার অবস্থা যতোই প্রতিকূলে থাক, এই দলটি প্রয়োজনীয় গোল বের করে ফেলে। বক্সের ভেতর প্রতিপক্ষের একগাদা খেলোয়াড় থাকলে বক্সের বাইরে থেকেই দৃষ্টিনন্দন শটে অথবা এমনকি অপেক্ষাকৃত লম্বা খেলোয়াড়দের বিপক্ষেও দারুণ হেডে কিংবা অবিশ্বাস্য রক্ষণ চেরা পাসে।



দলটির খেলা দেখে মনে হয় মেসিকে বিশ্বকাপ পাইয়ে দিতে প্রতিটি সদস্য নিজেদের সর্বশেষটুকু দিতেও প্রস্তুত। যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা ফুটবল মাঠ যেখানেই হোক, জয়ের জন্য যারা এইরকম মনোভাব ধরে রাখতে পারে সাধারণত জয়টা তাদেরই হয়। আর, ৩৯ বছর বয়সী মেসি যেন দিন দিন নিজেকে ছাপিয়েই যাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ আট গোল দিয়েছেন মেসি, করেছেন চারটি গোলে সহায়তা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মোট ২১টি গোল করেও তিনি শীর্ষে। মেসির নেতৃত্ব এবং মেসিকে ঘিরে থাকা আর্জেন্টিনা দলটি যেন আবেগ ও সংহতির এক চূড়ান্ত মাত্রা প্রদর্শন করছে।



অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন ৪-৩-৩ ছকে খেলছে। আক্রমণে মিকেল ওইয়ারসাবাল, দুই উইংয়ে লামিন ইয়ামাল ও আলেক্স বেইনা এবং মাঝমাঠে রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমো। রক্ষণভাগে আইমেরিক লাপোর্তে ও পাউ কুবারসির নেতৃত্বাধীন স্পেনের প্রতিষ্ঠিত কাঠামো যেন একটি দুর্দান্ত দক্ষ যন্ত্র। দলের মূল কৌশলগত দর্শন হলো বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে ধৈর্য হারাতে বাধ্য করা। রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজ মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করছেন। আর দানি ওলমো, আলেক্স বেইনা ও লামিন ইয়ামাল আক্রমণ গড়া ও রক্ষণাত্মক কাজ দুটোতেই সাহায্য করছেন।



স্পেন দলটির প্রতিটি খেলোয়াড় অপরের খেলা সমন্ধে ওয়াকবিহাল। বল যখন নিয়ন্ত্রণে থাকে তখন তারা এমন জায়গায় পাস দেয় যেখানে একজন খেলোয়াড় থাকবেন বলে আশা করা যায়। এবং বেশিরভাগ সময়ে কেউ না কেউ সেইখানে পৌঁছে যান। স্পেনের গোলগুলোর বেশিরভাগই দলীয় আক্রমণের ফল। দেখে মনে হয় দলটি মাঠে নিখুঁত ফুটবল বিজ্ঞানের চর্চা করে সাফল্য অর্জন করে। এই দলের প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের স্ব-স্ব ভূমিকা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন।



সেই হিসেবে বলা যেতে পারে যে, ফাইনালটি হতে যাচ্ছে একদল তীব্র আবেগী, একজোট শৈল্পিক দলের বিপক্ষে নিখুঁত বৈজ্ঞানিক ও শৃঙ্খলা মেনে চলা একটি দলের।

আর্জেন্টিনা-স্পেন দ্বৈরথের ইতিহাস সমানে সমান। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচসহ সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দুই দল ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে উভয় দলই ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে এবং বাকি ২টি ড্র হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের সাক্ষাৎ অত্যন্ত বিরল। দুই দল বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল, আর সেটা এতটাই পুরনো যে বর্তমান কোনো খেলোয়াড়ই তখনো জন্মাননি — এমনকি আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনিরও জন্ম হয়নি, আর দে লা ফুয়েন্তের বয়স তখন মাত্র পাঁচ। সেই ম্যাচটি ছিল ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব, যেখানে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতেছিল। অর্থাৎ, রোববারের ফাইনালই হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের প্রথম নকআউট পর্বের সাক্ষাৎ এবং স্বাভাবিকভাবেই তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মঞ্চের লড়াই।



বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বর্তমান ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন দল ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। এছাড়াও, আরেকটি আকর্ষণীয় ঘটনা ঘটছে ৯৬ বছর পর। সেই প্রথম বিশ্বকাপে ১৯৩০ সালে ফাইনালে উঠেছিলো একই ভাষাভাষী দেশ উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। এরপর এবারই প্রথম একই ভাষাভাষী দুইটি দেশ ফাইনালে খেলছে। কাকতালীয়ভাবে, এবারও দুইটি দেশের ভাষা স্প্যানিশ। উপনিবেশিক আমলের কথা বিবেচনা করলে এই ফাইনালটা ভীষণ আবেগী হয়ে উঠতে পারে।



এই ফাইনালের আরেকটি বড় আবেগীয় দিকটি হলো মেসি-ইয়ামাল মুখোমুখি হওয়া। লামিন ইয়ামালের পরিবার একটি দাতব্য র‍্যাফেলে জিতে ছোটবেলায় লিওনেল মেসির সঙ্গে প্রচারণামূলক ফটোশুটে অংশ নিয়েছিল এবং সেই ছবিটি ২০২৪ ইউরোর পর ইয়ামালের বাবার শেয়ার করার পর ভাইরাল হয়েছিল। ২০০৭ সালে তোলা সেই ছবির প্রায় ১৯ বছর পর সেইদিনের শিশু থেকে জাতীয় দলের তারকা হয়ে উঠা ইয়ামাল এবং সেইদিনের তরুণ থেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি হয়ে উঠা মেসি আন্তর্জাতিক মঞ্চে একে অপরের প্রতিপক্ষ।



মেসি এবং ইয়ামাল যেন একই সাথে দুই দলের প্রতীকও। আর্জেন্টিনা গত আসরের বেশিরভাগ খেলোয়াড় নিয়ে এসেছে এবারও। দলটির সদস্যদের গড় বয়স ২৮.৬২ যা নিয়ে ৪৮টি দলের মধ্যে আর্জেন্টিনার অবস্থান ৪০। স্পেনের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৬.১৯ এবং ৪৮ দলের মধ্যে দেশটির অবস্থান ষষ্ঠ। সেই হিসেবে বলা যেতে পারে, এই ফাইনালটি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম বয়স্ক বনাম অন্যতম তরুণ দলের মধ্যে। লড়াইটা তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার।



এই যাবতকালে সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের (৪৮ দল, ১০৪টি ম্যাচ) ফাইনাল ঘিরেও থাকছে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। ফাইনালের ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে সমাপনী অনুষ্ঠান, যেখানে হেডলাইনার হিসেবে থাকছেন পোস্ট ম্যালোন। পাশাপাশি টম ক্রুজ, লরা পাউসিনি, নিকোল শেরজিঙ্গার, রবি উইলিয়ামস ও ইউটিউবার আইশোস্পিডও থাকবেন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে। প্রাক-ম্যাচ মার্কিন জাতীয় সংগীত গাইবেন জেনিফার হাডসন।



সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো হাফটাইম শো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিনের কিউরেট করা এই শো-তে হেডলাইনার থাকছেন ম্যাডোনা, শাকিরা, বিটিএস ও জাস্টিন বিবার, সঙ্গে থাকছে দ্য মাপেটসের চরিত্রও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মাঠে না গেলেও ফাইনালে তার উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সব ছাপিয়ে অতি অবশ্যই মূল আকর্ষণ হবে মাঠের খেলা। সারা দুনিয়ার চোখ থাকবে রক্ষণ বনাম আক্রমণ, আবেগ বনাম শৃঙ্খলা, তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার লড়াইয়ে; দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আসরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।



আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে, কে হতে যাচ্ছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন?




ছবি: ক্রিকইনফো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩২ এএম

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের গ্রুপিং এবং সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের ২ অক্টোবর শুরু হবে ক্রিকেটের বিশ্বআসর। ২১ নভেম্বর মাঠে গড়াবে ফাইনাল ম্যাচ।


২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচেই ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আগামী ৮ অক্টোবর নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোকে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।




বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের ১৪তম আসরের গ্রুপিং ও সূচি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।


বাংলাদেশ জায়গা পেয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। এই গ্রুপে ইংল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা একটি দলও যুক্ত হবে গ্রুপটিতে, যাদের আপাতত ‘কোয়ালিফায়ার বি’ হিসেবে রাখা হয়েছে।


অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। বাছাইপর্ব থেকে আসবে আরও একটি দল, ‘কোয়ালিফায়ার এ’।


ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ অক্টোবরের ম্যাচের পর ১২ অক্টোবর কুয়াগোম্পো সিটিতে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ১৬ অক্টোবর ডারবানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে লিটন-মিরাজরা।


সহ-আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচও হবে ডারবানে। ১৯ অক্টোবরের ওই ম্যাচের পর গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ২৩ অক্টোবর ছুয়ানে ‘কোয়ালিফায়ার বি’র মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।


বিশ্বকাপের মূল পর্বের লড়াই শুরু হবে ৭ অক্টোবর। কেপ টাউনে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও রানার্সআপ ভারতের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে গ্রুপ পর্ব। ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হবে ভারত-পাকিস্তানের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ। গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই লড়াইকে।


এর আগে ২ অক্টোবর পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। বাছাইপর্বে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা তিন দলের মধ্যে হবে নতুন কাঠামোর ‘সুপার সিরিজ’। সেখান থেকে একটি দল মূল পর্বে জায়গা করে নেবে।


দ্বিতীয় ধাপে ১২টি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। প্রতিটি দল নিজেদের গ্রুপের অন্য দলগুলোর বিপক্ষে খেলবে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ ৩টি দল এবং দুই গ্রুপের চতুর্থ স্থানে থাকা দলের মধ্যে সেরা দলটি নিয়ে গঠিত হবে ‘সুপার ৭’। সুপার ৭ পর্বে হবে ২১টি রাউন্ড-রবিন ম্যাচ। সেখান থেকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে উঠবে।


 কেন ভারতে বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ- ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল


সেমিফাইনালে প্রথম স্থানে থাকা দল খেলবে চতুর্থ স্থানে থাকা দলের বিপক্ষে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল মুখোমুখি হবে তৃতীয় স্থানে থাকা দলের। সেমিফাইনালের জয়ী দুই দল খেলবে বিশ্বকাপের ফাইনালে। সেখানেই নির্ধারিত হবে ২০২৭ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৫ পিএম

হাসি-আনন্দে শুরু হয়েছিল সকালটা। বাংলাদেশ দলের নাশতার টেবিলে কেক কেটে উদযাপন করা হয়েছিল হামজা চৌধুরীর জন্মদিন। সতীর্থদের শুভেচ্ছা, হাসি আর কেক কাটার মুহূর্তে হয়তো কেউ ভাবেননি, কয়েক ঘণ্টা পরই একই দলের ডিনারের টেবিল ভারী হয়ে উঠবে ৯ গোলের বেদনায়।


১ অক্টোবর, হামজার জন্মদিন। অথচ এই বিশেষ দিনটিই তার জীবনের সবচেয়ে দুঃসহ জন্মদিনগুলোর একটি হয়ে রইলো। আসিয়ান কাপের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে বাংলাদেশ হেরেছে ৯-২ গোলে। একের পর এক গোল হজম করে যখন বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ছিল, তখন জন্মদিনের আনন্দও যেন ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছিল।


প্রথমার্ধে যেন খেলাই ভুলে গেল বাংলাদেশ! আক্রমণ হলেই বল জড়াচ্ছিল জালে। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা লড়াই করলেও, কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে আসিয়ান কাপের প্রিমিয়ার ডিভিশনে ফাইনালে জায়গা করে নিল ইন্দোনেশিয়া।


ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় সোমবার ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৯-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই সফরকারীরা পিছিয়ে পড়ে ৬-১ গোলে!


ইন্দোনেশিয়ার হয়ে একাই পাঁচটি গোল করেছেন মিচেল বেকার! একটি করে গোল করেছেন রিজকি রিধো, জাস্টিন হাবনার, লুক ভিক‍্যারি ও কেভিন ডিকস।


বাংলাদেশের গোল দুটি করেছেন শাহরিয়ার ইমন ও ফারহান আলি ওয়াহিদ। একাদশ মিনিটে বেকারের গোলে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। ৯ মিনিট পর তিনিই দ্বিগুণ করেন ব‍্যবধান। ৩২তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন রিধো। চার মিনিট পর ব‍্যবধান কমান ইমন।


৩৭তম মিনিটে হ‍্যাটট্রিক পূরণ করেন বেকার। পাঁচ মিনিট পর ফের জালের দেখা পান তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে হাবনারের গোলে আরও পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।


দ্বিতীয়ার্ধের অনেকটা সময় রক্ষণ জমাট রাখে বাংলাদেশ। গোলরক্ষকও বেশ দৃঢ়তা দেখান। তাতে বাড়তে থাকে ইন্দোনেশিয়ার অপেক্ষা। একই সময়ে হওয়া অন‍্য ম‍্যাচে মালয়েশিয়া গোল পার্থক‍্যে এগিয়ে থেকে ফাইনালে যাওয়ার আশা জাগায়। ৯০তম মিনিটে জাল খুঁজে নেন ভিক‍্যারি। পরের মিনিটে ফারহানের গোলে স্কোরলাইন হয়ে যায় ৭-২। ফাইনালে যেতে তখন স্বাগতিকদের প্রয়োজন পড়ে আরও দুই গোল।


ফ্রি কিক থেকে সতীর্থর হেডে খুব কাছ থেকে হেডেই যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গোল করেন ডিকস। দুই মিনিট পর নিজের পঞ্চম ও দলের নবম গোলে ইন্দোনেশিয়াকে ফাইনালে নিয়ে যান বেকার। মাঠে তখন হতাশায় নুইয়ে পড়েন হামজারা। ডাগআউটে ডুলিকে দেখে মনে হচ্ছিল ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশ কোচ। এতো বাজে ফুটবল কোনো দল খেলতে পারে, যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না তার।


মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে আসর শুরুর পর, দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াই করে ১-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে সবচেয়ে বিব্রতকর হারের স্বাদ পেল তারা।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৪ পিএম

তাওহিদ হৃদয়ের একাকী লড়াই সত্ত্বেও এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে ওঠা হলো না বাংলাদেশের। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাপানের নিশিন শহরের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তান। এর ফলে স্বর্ণ ও রৌপ্যের দৌড় থেকে ছিটকে গেল লিটন দাসের দল।


বৃষ্টিভেজা আউটফিল্ডের কারণে ম্যাচ দেরিতে শুরু হওয়ায় আম্পায়াররা দৈর্ঘ্য কমিয়ে ১৩ ওভারে নামিয়ে আনেন। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৯ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই অনায়াসে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।


কার্টেল ওভারের এই ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল চরম বিপর্যয়ের। পাকিস্তানি বোলারদের স্পিন আক্রমণে মাত্র ২১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুর পাওয়ারপ্লেতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে দল। তানজিদ হাসান তামিম (১৭), পারভেজ হোসেন ইমন ও অধিনায়ক লিটন কুমার দাস (২) দ্রুত বিদায় নেন। চতুর্থ উইকেটে লড়াইয়ের চেষ্টা চালান সাইফ হাসান, তবে ১৯ রানে তিনি এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লে মাত্র ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারায় লাল-সবুজরা।


এমন নাজুক পরিস্থিতি থেকে দলের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন। পঞ্চম উইকেটে দুজন মিলে মাত্র ৩০ বলে ৫৩ রানের ঝোড়ো জুটি গড়ে দলকে শত রানের কোটা পার করান। হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস উপহার দেন। তবে ইনিংসের শেষ দিকে সুফিয়ান মুকিমের ঘূর্ণিতে টানা দুই বলে হৃদয় ও মোসাদ্দেক বিদায় নিলে রানের গতি কিছুটা থমকে যায়। শেষ দিকে শেখ মাহেদীর চারে ভর করে নির্ধারিত ওভারে ১১১ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। পাকিস্তানের হয়ে সুফিয়ান মুকিম ২৬ রানে নেন ৩ উইকেট।


১১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৫৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে শুরুতে বিপাকে পড়েছিল পাকিস্তানও। সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব ও উসমান খানকে ফিরিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা।


তবে পঞ্চম উইকেটে আবদুল সামাদ ও হাসান নওয়াজ অবিচ্ছিন্ন ৫৯ রানের ম্যাচজয়ী জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন। বিশেষ করে সামাদ মাত্র ১৫ বলে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ২২ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন হাসান নওয়াজ। শেষ পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে নেয় পাকিস্তান।


ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হলেও এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক জয়ের আশা এখনই শেষ হচ্ছে না। আগামী শনিবার (৩ অক্টোবর) ব্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী (তৃতীয় স্থান) ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:


বাংলাদেশ: ১৩ ওভারে ১১১/৭ (হৃদয় ৪২, সাইফ ১৯, তানজিদ ১৭; সুফিয়ান ৩/২৬)।


পাকিস্তান: ১১.৩ ওভারে ১১২/৪ (সামাদ ৩০*, হাসান ২৭*, উসমান ১৪; মাহেদী ১/১৭, মুস্তাফিজ ১/৪১)।


ফল: পাকিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৫ পিএম

‘নতুন যুগ।’


ক্যাপশনটি আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের একটি ফেসবুক পোস্টের। মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর পর করা সেই পোস্টের ছবিতে নিকো পাজ। লিওনেল মেসির কি তা দেখে একটু খারাপ লেগেছে? এত দিন এসব পোস্টে দেখা যেত মেসিকে। কিংবদন্তি আকাশি-সাদায় শেষ টেনে দেওয়ায় বলিভিয়ার বিপক্ষে এই প্রীতি ম্যাচ দিয়ে নতুন যুগের দ্বার খুলল আর্জেন্টিনা। অন্যভাবে বললে, সেই দ্বার খুলেছেন এমন কেউ, যাঁকে আর্জেন্টাইনরা ভেবে রেখেছেন মেসির উত্তরসূরি হিসেবে। নিকো পাজ!


চোখধাঁধানো একটি গোল, তারপর সেট পিস থেকে গোল করানো। আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি গায়ে মেসি যা করে এসেছেন আরকি! পাজ সেই দায়িত্বই পালন করলেন আর্জেন্টিনার ৪-০ গোলে জয়ের এই ম্যাচে। ১০ নম্বর জার্সি তাঁর গায়ে ছিল না। তবে ২৮ মিনিটে গোলটি দেখে মেসির ইচ্ছা হতে পারে ওই জার্সিটা এখনই তাঁর গায়ে তুলে দিতে!


এজেকুয়েল পালাসিওসের রক্ষণচেরা পাসটাও ছিল মেসির মতোই। খুবই সরু ফাঁকা জায়গা ধরে থ্রু পাস। পাজ দৌড়ে সেই পাস ধরে বলিভিয়া গোলকিপার গিয়ের্মো ভিসকারার মাথার পাশ দিয়ে যে চিপটি করলেন, সেটা অবিকল মেসির মতোই। যেন মেসির অনুপস্থিতিতে নতুন যুগেরই হাতবদল হলো একই সুরে, একই ছন্দে!


লাওতারো মার্তিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও ফ্লাকো লোপেজ সেই সুর-ছন্দকে আরও সুন্দর করে তুলেছেন গোল করে। কোচ লিওনেল স্কালোনির যুগে আর্জেন্টিনা কখনো টানা দুই ম্যাচ হারেনি। গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিার এই প্রথম ম্যাচে জয়টা তাই অবধারিতই ছিল। মেসি জাতীয় দলকে বিদায় বলার পর আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে সেটাই এল খানিকটা বিরহ-মধুর সুরে, স্বাদে।


প্রশ্ন উঠেছিল, মেসির অনুপস্থিতিতে স্কালোনির খেলানোর কৌশল কী হবে? ৪-৪-২ ফর্মেশনে আক্রমণে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্তিনেজকে রেখে উত্তরটা ভালোই দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ। ১৮ মিনিটে মার্তিনেজের গোলটিও স্কালোনির এই আস্থার প্রতিদান। আর এই গোলের উৎসেও কারও কারও হয়তো মেসিকে মনে পড়েছে, মন পুড়েছে। কিংবদন্তির চিরচেনা সেই থ্রু পাসের মতোই অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টারের পাসটি ধরেন মার্তিনেজ। লাতিন ছন্দে একবার ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে তাঁর নেওয়া শটটি জাত স্ট্রাইকারদের গোল।


ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেছিলেন, মেসির অনুপস্থিতে আর্জেন্টিনার খেলার মৌলিক ধারাগুলো পাল্টাবে না। সেই ছোট ছোট পাস এবং ছদ্ধবদ্ধভাবে সদলবলে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঢুকতে দেখা গেল আর্জেন্টিনাকে। কন্ডাক্টরের ভূমিকায় ছিলেন পাজ। সেট পিস নেওয়ার দায়িত্বও ছিল তাঁর। বোঝা গেল, এখন ১৮ নম্বর জার্সি পরলে কী হবে, সামনে ১০ আসছে! ৫৩ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে সেট পিসে বল একদম রোমেরোর মাথার ওপর ফেলে সেই দাবিও আরও জোরালো করলেন কোমো প্লে-মেকার। রোমেরোকে শুধু দূরের পোস্টে হেডে গোলের আনুষ্ঠানিকতাটুকু মারতে হলো।


ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৭তম লাতিন দলটির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বাকি ছিল শুধু বেঞ্চের গোল পাওয়া। কাছ থেকে করা শটে ৮৬ মিনিটে সেটাও এনে দেন মাথায় আঘাত পাওয়া মার্তিনেজের বদলি নামা ফ্লাকো লোপেজ। বলিভিয়া ততক্ষণেও আর্জেন্টিনার পোস্টে একটি শটও রাখতে পারেনি। পারেনি পুরো ম্যাচেও। উল্টো ১৮টি শটের মধ্যে মাত্র ৬টি কীভাবে বলিভিয়ার পোস্টে থাকল, খেলোয়াড়দের কাছে সেই ব্যাখ্যা চাইতে পারেন স্কালোনি। বল দখলে রাখার হারও (৬৯%) নিশ্চয়ই আরেকটু বেশি প্রত্যাশিত ছিল?


কর্দোবা থেকে দূরে কোথাও বসে মেসি হয়তো ভাবতে পারেন, তিনি থাকলে কী আকাশি-সাদা রংটা আরেকটু বেশি উজ্জ্বল লাগত? সে সুযোগ আর একবারই পাবেন কিংবদন্তি।


এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার ভোরে তাদের প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো, এরপর আগামী বুধবার শেষ প্রতিপক্ষ বেনিন। এই শেষ ম্যাচ হবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসিরও শেষ ম্যাচ। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ঘরের ছেলেকে বিদায় জানাবেন আর্জেন্টাইনরা। আর আজ কর্দোবায় যে স্টেডিয়ামে খেলা হলো, সেখানে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ঘরের দর্শকদের সামনে অভিষেক হয়েছিল স্কালোনির। এমন লগ্নে কোচও কি মিস করেছেন তাঁর প্রিয় শিষ্যকে? সে তো বটেই।


স্কালোনি হয়তো থাকবেন নতুন মেয়াদে। তাই মেসিকে মিস করাটা সইয়ে নিতে হবে। অবশ্য এখন মানিয়ে নিতে হবে অনেক কিছুতেই। যেমন ধরুন, রদ্রিগো দি পল ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের মধ্যে কেউ না থাকায় এই ম্যাচে একটি বিষয় দেখা যায়নি। ২০২১ কোপা আমেরিকা থেকে দুজনই আর্জেন্টিনার ম্যাচ শুরুর আগে মাঠে ক্যান্ডি চিবোনাটা ‘রিচুয়াল’-এ পরিণত করেছিলেন। তাঁদের কেউ ছিলেন না।


হ্যাঁ, নতুন বিশ্বকাপচক্র সামনে রেখে রুপান্তর শুরু হয়েছে আর্জেন্টিনা দলে। যেখানে থাকবেন না মেসি, জায়গাটা নেবেন হয়তো তিনজন মিলে, পাজ-আলভারেজ-মার্তিনেজ!


আর্জেন্টিনা

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪২ পিএম

বিশ্বকাপের পর এই প্রথম মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। তবে এরই মধ্যে অনেক কিছু বদলে গেছে লাতিন জায়ান্টদের। দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি অবসর নিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে নেই লিসান্দ্রো পারেদেস, অবসর নিয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি। 


তাদের জায়গায় কাদের খেলাবেন, সে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে মেসি থাকলেও আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষেই কেবল খেলবেন তিনি। সেটি তাঁর বিদায়ী ম্যাচও। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় শুরু হতে যাওয়া বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তরুণদের সুযোগ দিতে পারেন কোচ স্কালোনি। 


দুদিনের বিরতি শেষে গত সোমবার বিকেল থেকে আবার অনুশীলন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা দল। এজিজায় ট্রেনিং সেন্টারে অনুশীলন শুরুর আগে স্কালোনি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রেসিডেন্ট ক্লদিও তাপিয়া মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়েই লম্বা আলোচনা সারেন। বলিভিয়ার বিপক্ষে একাদশ কেমন হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো ধারণা দেননি আর্জেন্টিনার কোচ। তবে অনুশীলন দেখে কিছুটা আঁচ পাওয়া গেছে একাদশ কেমন হবে। 


গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ নিশ্চিত; রক্ষণে কুতি রোমেরা ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সঙ্গে দেখা যেতে পারে অগাস্তিন গিয়াই ও ফাকুন্দো মেদিনাকে। চার মিডফিল্ডার এজিকুয়েল প্যালাসিওস, ম্যাক এলিস্টার, ভ্যালেন্তিনো বারকো ও নিকোলাস পাজ। দুই স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ। 


জোড়া গোল করেছেন লামিনে ইয়ামাল

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১৬ পিএম

আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জয়ের দিন দ্বিতীয় মিনিটেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে এগিয়ে দিয়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল। এবার ক্রোয়েশিয়াকে পেয়েও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করলেন। এই ম্যাচে অবশ্য আরও প্রাণবন্ত ইয়ামাল। তার জোড়া গোল ও এক অ্যাসিস্টে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়াট বাহিনী ৪-১ গোলে উড়ে গেছে।


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সেভিয়ার রামন সানচেজ পিসহুয়ান স্টেডিয়ামে লিগ ‘এ’-এর গ্রুপ ‘সি’র ম্যাচে জয় তুলে নেয় স্প্যানিশরা।


ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্পেন। আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারানো স্পেন মঙ্গলবার শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিক অফ বাঁশির পর মাত্র ৭০ সেকেন্ডেই দলকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। এতে অবশ্য অন্যদের কৃতিত্বও কম নয়। মার্ক কুকুরেয়া ও আলেক্স বায়েনার সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণে বল যায় বক্সের কাছাকাছি থাকা ফেরমিন লোপেসের দিকে। তবে নিজে বল না নিয়ে ছেড়ে দেন ইয়ামালের জন্য। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে নিচু শটে বল জালে পাঠান ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।


ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরায় ২৮ মিনিটে। বাঁ প্রান্ত থেকে ইভান পেরিসিচের নিখুঁত ক্রসে স্পেনের দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে উঠে হেডে গোল করেন ডিওন দ্রেনা বেল্লো।


তবে সমতা বেশিক্ষণ থাকেনি।  মাত্র ৩ মিনিট পরেই ইয়ামালের ক্রস থেকে হেডে গোল করে স্পেনকে আবার ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মার্ক পিউবিল।


দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। ৬৩ মিনিটে পেদ্রির বাড়ানো দুর্দান্ত থ্রু পাস ধরে বেশ কঠিন কোণ থেকে বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল। আন্তর্জাতিক বিরতিতে স্পেনের হয়ে দুই ম্যাচে তার গোল-অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অবদান দাঁড়াল চারটি। ৬৮ মিনিটে তাকে তুলে নেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারির দর্শকদের দাঁড়িয়ে দেওয়া সংবর্ধনা পান এই তরুণ বার্সা তারকা। 


ম্যাচের ৮১ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে মাঠে নামেন ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তি লুকা মদরিচ। তবে তিনি নেমেও ব্যবধান কমাতে পারেননি। উল্টো ৮৯ মিনিটে স্কোরলাইন ৪-১ করে ফেলেন উইলিয়ামস। রদ্রি, পেদ্রি ও মিকেল মেরিনোর সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ক্রোয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। গোলরক্ষকের সামনে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান উইলিয়ামস। মজার বিষয়, এই গোলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা চার স্প্যানিশই মাঠে নেমেছেন বদলি হিসেবে।


টানা দুই জয়ে নেশনস লিগের দারুণ সূচনা করা স্পেন তাদের পরবর্তী ম্যাচে আগামী ৩ অক্টোবর চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হবে। একই দিনে ক্রোয়েশিয়ার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।


এর আগে, ১৯ জুলাই স্পেন তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফিটা জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে, এরপর দেশে ফিরে ট্রফি নিয়ে উদ্‌যাপন হয়েছিল বটে, তবে সেটি ছিল রাজপথে, গ্যালারির সামনে নয়।


২০২৬ বিশ্বকাপ জেতার পর চ্যাম্পিয়ন স্পেন ঘরের মাঠে প্রথম খেলতে নেমেছে আজ। সেভিয়ায় ম্যাচ শুরুর আগে তাই ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরে দর্শকদের দেখিয়েছেন অধিনায়ক রদ্রি।


এরপর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের যে ম্যাচটি রদ্রিরা খেললেন, তাতেও মিশে থাকল বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বার্তাই।