বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের দুই তারকা মেসি-ইয়ামালের লড়াই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব
বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ক্রীড়া আসর বিশ্বকাপ ফুটবলের আরো একটি আয়োজন শেষ হতে চলেছে। আগামী চার বছরের জন্য কে হতে যাচ্ছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন- তা জানতে এখন কেবল ঘণ্টা গুনে অপেক্ষার পালা। রোববার দিন শেষে রাত একটায় নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
দক্ষিণ আমেরিকার দল আর্জেন্টিনা জিতলে ১৯৭৮, ১৯৮৬, ২০২২ সালের পর চতুর্থবারের মতো শিরোপা জিতে নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ীদের তালিকায় জার্মানি ও ইতালির সাথে স্থান করে নেবে। ইতালি ও পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মতো টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতার গৌরবও অর্জন করবে তারা। অন্যদিকে ২০১০ সালে শিরোপাজয়ী স্পেন জিতলে তা হবে তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয় এবং ফাইনাল গেলে জয়ী হওয়ার তাদের রেকর্ড শতভাগ অক্ষুণ্ন রাখবে।দুই দলই এই টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছে।
আর্জেন্টিনা এই টুর্নামেন্টের নক আউট ম্যাচগুলোর প্রায় প্রতিটিতে ফিরে আসার দারুণ গল্প লিখে চলেছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও মেসির অসাধারণ নেতৃত্বে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে আনে, এর আগে শেষ ষোলোতেও মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে ফিরে আসার মতো নাটকীয়তা দেখায়।
বিশেষত শেষ ১৫ মিনিটে প্রায় প্রতি ম্যাচেই একাধিক গোল দিয়ে আর্জেন্টিনা নিজেদের দৃঢ় মানসিকতা ও জয়ের তীব্র ইচ্ছার প্রতিফল ঘটিয়েই চলছে। এখনো পর্যন্ত সাত ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১৯টি গোল দিয়েছে যা দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং এই পরিসংখ্যান দলটির দারুণ আক্রমণভাগের প্রমাণ দেয়। টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ খেলতে থাকা সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হারিয়ে মাটিতে নামিয়েছে ফ্রান্সকে। সেইদিনও স্পেন পুরো খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর আগের ম্যাচগুলোতে পর্তুগালকে শেষ মুহূর্তের একমাত্র গোলে এবং বেলজিয়ামকে শেষমুহূর্তের দেওয়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হারায় তারা এবং দুটি ম্যাচেই স্পেনের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে। এই বিশ্বকাপের সাত ম্যাচসহ টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকা স্পেন দলের এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, দলটির রক্ষণভাগ সন্দেহাতীতভাবে এই টুর্নামেন্টের সেরা। সেই হিসেবে বলা যেতে পারে যে, বিশ্বকাপের ফাইনালটি হতে যাচ্ছে সেরা আক্রমণ বনাম সেরা রক্ষণভাগের মধ্যে।
তবে, দুই দলেরই প্রধান শক্তি মাঝমাঠ দখল করে খেলা। এখন পর্যন্ত খেলাগুলোতে উভয় দলই গড়ে ৬০ ভাগ করে বলের দখল রেখেছে, আর নিজেদের মধ্যে সর্বাধিক পাস দিয়েছে (আর্জেন্টিনা ৪৭৭২, আর স্পেন ৪৫৯২) । লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনাও ৪-৩-৩ ছকে খেলছে, যেখানে সামনে মেসি কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। স্কালোনি লেয়ান্দ্রো পারেদেসকে মধ্য মাঝমাঠে খেলাচ্ছেন, তার পাশে আছেন আলেক্সিস মাক এলিস্টার, এনজো ফের্নান্দেজ ও রদ্রিগো দে পাউল, যারা মাঝমাঠ দিয়ে খেলা গড়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে উইংয়েও সরে যেতে পারেন।
আক্রমণভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। হুলিয়ান আলভারেজের তীব্র রক্ষণাত্মক প্রেসিং ক্ষমতার কারণে তিনি লাউতারো মার্তিনেজের চেয়ে এগিয়ে থেকে শুরুর একাদশে জায়গা ধরে রাখতে পারেন, কারণ স্পেনের গভীর থেকে বল বাড়ানোর ধরন ভাঙতে এই প্রেসিং জরুরি। তবে, কৌশল ছাপিয়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি গত টুর্নামেন্টের মতো একজোট হয়ে খেলা। এই দলটি মেসিকে কেন্দ্র করে নিজেদের উজাড় করে খেলে। খেলার অবস্থা যতোই প্রতিকূলে থাক, এই দলটি প্রয়োজনীয় গোল বের করে ফেলে। বক্সের ভেতর প্রতিপক্ষের একগাদা খেলোয়াড় থাকলে বক্সের বাইরে থেকেই দৃষ্টিনন্দন শটে অথবা এমনকি অপেক্ষাকৃত লম্বা খেলোয়াড়দের বিপক্ষেও দারুণ হেডে কিংবা অবিশ্বাস্য রক্ষণ চেরা পাসে।
দলটির খেলা দেখে মনে হয় মেসিকে বিশ্বকাপ পাইয়ে দিতে প্রতিটি সদস্য নিজেদের সর্বশেষটুকু দিতেও প্রস্তুত। যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা ফুটবল মাঠ যেখানেই হোক, জয়ের জন্য যারা এইরকম মনোভাব ধরে রাখতে পারে সাধারণত জয়টা তাদেরই হয়। আর, ৩৯ বছর বয়সী মেসি যেন দিন দিন নিজেকে ছাপিয়েই যাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ আট গোল দিয়েছেন মেসি, করেছেন চারটি গোলে সহায়তা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মোট ২১টি গোল করেও তিনি শীর্ষে। মেসির নেতৃত্ব এবং মেসিকে ঘিরে থাকা আর্জেন্টিনা দলটি যেন আবেগ ও সংহতির এক চূড়ান্ত মাত্রা প্রদর্শন করছে।
অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন ৪-৩-৩ ছকে খেলছে। আক্রমণে মিকেল ওইয়ারসাবাল, দুই উইংয়ে লামিন ইয়ামাল ও আলেক্স বেইনা এবং মাঝমাঠে রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমো। রক্ষণভাগে আইমেরিক লাপোর্তে ও পাউ কুবারসির নেতৃত্বাধীন স্পেনের প্রতিষ্ঠিত কাঠামো যেন একটি দুর্দান্ত দক্ষ যন্ত্র। দলের মূল কৌশলগত দর্শন হলো বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে ধৈর্য হারাতে বাধ্য করা। রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজ মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করছেন। আর দানি ওলমো, আলেক্স বেইনা ও লামিন ইয়ামাল আক্রমণ গড়া ও রক্ষণাত্মক কাজ দুটোতেই সাহায্য করছেন।
স্পেন দলটির প্রতিটি খেলোয়াড় অপরের খেলা সমন্ধে ওয়াকবিহাল। বল যখন নিয়ন্ত্রণে থাকে তখন তারা এমন জায়গায় পাস দেয় যেখানে একজন খেলোয়াড় থাকবেন বলে আশা করা যায়। এবং বেশিরভাগ সময়ে কেউ না কেউ সেইখানে পৌঁছে যান। স্পেনের গোলগুলোর বেশিরভাগই দলীয় আক্রমণের ফল। দেখে মনে হয় দলটি মাঠে নিখুঁত ফুটবল বিজ্ঞানের চর্চা করে সাফল্য অর্জন করে। এই দলের প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের স্ব-স্ব ভূমিকা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন।
সেই হিসেবে বলা যেতে পারে যে, ফাইনালটি হতে যাচ্ছে একদল তীব্র আবেগী, একজোট শৈল্পিক দলের বিপক্ষে নিখুঁত বৈজ্ঞানিক ও শৃঙ্খলা মেনে চলা একটি দলের।
আর্জেন্টিনা-স্পেন দ্বৈরথের ইতিহাস সমানে সমান। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচসহ সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দুই দল ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে উভয় দলই ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে এবং বাকি ২টি ড্র হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের সাক্ষাৎ অত্যন্ত বিরল। দুই দল বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল, আর সেটা এতটাই পুরনো যে বর্তমান কোনো খেলোয়াড়ই তখনো জন্মাননি — এমনকি আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনিরও জন্ম হয়নি, আর দে লা ফুয়েন্তের বয়স তখন মাত্র পাঁচ। সেই ম্যাচটি ছিল ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব, যেখানে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতেছিল। অর্থাৎ, রোববারের ফাইনালই হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের প্রথম নকআউট পর্বের সাক্ষাৎ এবং স্বাভাবিকভাবেই তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মঞ্চের লড়াই।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বর্তমান ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন দল ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। এছাড়াও, আরেকটি আকর্ষণীয় ঘটনা ঘটছে ৯৬ বছর পর। সেই প্রথম বিশ্বকাপে ১৯৩০ সালে ফাইনালে উঠেছিলো একই ভাষাভাষী দেশ উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। এরপর এবারই প্রথম একই ভাষাভাষী দুইটি দেশ ফাইনালে খেলছে। কাকতালীয়ভাবে, এবারও দুইটি দেশের ভাষা স্প্যানিশ। উপনিবেশিক আমলের কথা বিবেচনা করলে এই ফাইনালটা ভীষণ আবেগী হয়ে উঠতে পারে।
এই ফাইনালের আরেকটি বড় আবেগীয় দিকটি হলো মেসি-ইয়ামাল মুখোমুখি হওয়া। লামিন ইয়ামালের পরিবার একটি দাতব্য র্যাফেলে জিতে ছোটবেলায় লিওনেল মেসির সঙ্গে প্রচারণামূলক ফটোশুটে অংশ নিয়েছিল এবং সেই ছবিটি ২০২৪ ইউরোর পর ইয়ামালের বাবার শেয়ার করার পর ভাইরাল হয়েছিল। ২০০৭ সালে তোলা সেই ছবির প্রায় ১৯ বছর পর সেইদিনের শিশু থেকে জাতীয় দলের তারকা হয়ে উঠা ইয়ামাল এবং সেইদিনের তরুণ থেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি হয়ে উঠা মেসি আন্তর্জাতিক মঞ্চে একে অপরের প্রতিপক্ষ।
মেসি এবং ইয়ামাল যেন একই সাথে দুই দলের প্রতীকও। আর্জেন্টিনা গত আসরের বেশিরভাগ খেলোয়াড় নিয়ে এসেছে এবারও। দলটির সদস্যদের গড় বয়স ২৮.৬২ যা নিয়ে ৪৮টি দলের মধ্যে আর্জেন্টিনার অবস্থান ৪০। স্পেনের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৬.১৯ এবং ৪৮ দলের মধ্যে দেশটির অবস্থান ষষ্ঠ। সেই হিসেবে বলা যেতে পারে, এই ফাইনালটি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম বয়স্ক বনাম অন্যতম তরুণ দলের মধ্যে। লড়াইটা তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার।
এই যাবতকালে সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের (৪৮ দল, ১০৪টি ম্যাচ) ফাইনাল ঘিরেও থাকছে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। ফাইনালের ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে সমাপনী অনুষ্ঠান, যেখানে হেডলাইনার হিসেবে থাকছেন পোস্ট ম্যালোন। পাশাপাশি টম ক্রুজ, লরা পাউসিনি, নিকোল শেরজিঙ্গার, রবি উইলিয়ামস ও ইউটিউবার আইশোস্পিডও থাকবেন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে। প্রাক-ম্যাচ মার্কিন জাতীয় সংগীত গাইবেন জেনিফার হাডসন।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো হাফটাইম শো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিনের কিউরেট করা এই শো-তে হেডলাইনার থাকছেন ম্যাডোনা, শাকিরা, বিটিএস ও জাস্টিন বিবার, সঙ্গে থাকছে দ্য মাপেটসের চরিত্রও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মাঠে না গেলেও ফাইনালে তার উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সব ছাপিয়ে অতি অবশ্যই মূল আকর্ষণ হবে মাঠের খেলা। সারা দুনিয়ার চোখ থাকবে রক্ষণ বনাম আক্রমণ, আবেগ বনাম শৃঙ্খলা, তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার লড়াইয়ে; দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আসরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে, কে হতে যাচ্ছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন?
জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়
জাতীয় অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল আগেই। দুজনই নারী হিসেবেই খেলে আসছিলেন জাতীয় প্রতিযোগিতায়। কিন্তু আদতে তাঁরা পুরুষ, এমন অভিযোগও ওঠে। ১৯ বছর বয়সী কবিতা স্প্রিন্টার। ২৮ বছরের জান্নাত থ্রোয়ার।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি দুজনকেই পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করে তাঁদের সব পদক বাতিল ও আজীবন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আজ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জান্নাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট, কবিতা নৌবাহিনীর। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে লিঙ্গ নির্ধারণে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ জানায় অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের আগের কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। গত ১১ মে শেষ হয় তাঁদের কার্যক্রম। ১৬ মে মেডিক্যাল বোর্ড তাঁদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেয়।
মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী জান্নাত ও কবিতার শরীরে নারীর স্বাভাবিক হরমোনের চেয়ে বেশি হরমোন ধরা পড়েছে।
রক্তে জান্নাত বেগমের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯ দশমিক ৬৬ এনমোল/লিটার, যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার (২ দশমিক ৫ এনমোল/ লিটার) প্রায় ৮ গুণ বেশি, কবিতা রায়ের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৬ দশমিক ৫০ এনমোল/লিটার, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে (২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার) সাড়ে ৬ গুণের বেশি।
ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, ‘চিকিৎসক বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত, ওরা দুজন নারী নয়, পুরুষ। তাই দুই খেলোয়াড়ের জাতীয় প্রতিযোগিতায় সব পদক বাতিল করা হয়েছে। জান্নাতের কয়েকটি সোনাসহ ৯টি পদক রয়েছে। কবিতার পদক গোটা চারেক। পদকগুলো বডিলি শিফট হয়ে যাবে এখন।’
আলী ইমাম বলেন, ‘তাদের দুজনকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী হিসেবে তারা আর খেলতে পারবে না।’
ছবি : সংগৃহীত
একদিকে ২২৮ রানের বিশাল লিড, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেটের পতন। ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে হিসাবটা বেশ পরিষ্কার; জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ, আর ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা ঘিরে ধরেছে অস্ট্রেলিয়াকে। দিন শেষে স্বাগতিকরা এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে।
সিরিজের প্রথম টেস্টের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে দারুণ জবাব দেয় টাইগাররা। শান্ত, মিরাজ ও তানজিদদের ব্যাটে বাংলাদেশ থামে ৪২৬ রানে। তাতেই প্রথম ইনিংসে লিড দাঁড়ায় ২২৮ রান।
বড় সেই লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখার কাজটাও ভালোভাবেই করেছে বাংলাদেশের বোলাররা। তৃতীয় দিনের শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৬১/৪ অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লড়াইটা ধরে রেখেছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। গ্রিন ৮৬ বলে ৪৩ এবং ক্যারি ৫০ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছেন। শেষ বিকেলে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিই আপাতত অস্ট্রেলিয়াকে টিকিয়ে রেখেছে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা স্টিভ স্মিথ দ্বিতীয় ইনিংসে থামেন ৪৪ রানে। দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
বল হাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। দুই ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শুরুতেই ধাক্কা দেন তিনি। বাকি দুটি উইকেট গেছে মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ঝুলিতে।
এখন অস্ট্রেলিয়ার সামনে প্রথম লক্ষ্য; বাংলাদেশের লিড পেরোনো। আর বাংলাদেশের লক্ষ্য তারও আগে স্বাগতিকদের বাকি ছয় উইকেট তুলে নেওয়া। ডারউইনে তাই চতুর্থ দিনটা হতে পারে ইতিহাস লেখার দিন বাংলাদেশের।
জেফ বেজোস
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলের সংখ্যালঘু অংশীদারত্ব কিনতে যাচ্ছে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগকারী জোট। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ক্লাবটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ (এফএসজি) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন আনাদোলুর।
এফএসজি জানিয়েছে, ‘১৮৯২ হোল্ডিংস’ নামের একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে লিভারপুলের কিছু মালিকানা বিক্রির জন্য চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে। ১৮৯২ হোল্ডিংসের জোটে রয়েছেন অমিত ভাটিয়া, মিত্তল ফ্যামিলি ট্রাস্টস, কে৫ স্পোর্টস এবং ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো স্যাভেরিন ও তার স্ত্রী এলেইন স্যাভেরিনের পারিবারিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইই ক্যাপিটাল।
বেজোস এই বিনিয়োগে কে৫ স্পোর্টসের প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। চুক্তি সম্পন্ন হলে কোনো পেশাদার ক্রীড়া ক্লাবে এটিই হবে তার প্রথম বিনিয়োগ। তবে তিনি লিভারপুলের পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এফএসজি চুক্তির আর্থিক বিবরণ প্রকাশ করেনি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটটি লিভারপুলের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনতে ১.৬৫ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করবে। এতে ক্লাবটির মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন ডলার)।
চুক্তি সম্পন্ন হলে অমিত ভাটিয়া লিভারপুলের সহসভাপতি হবেন। পাশাপাশি সম্প্রসারিত পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেবেন কে৫ স্পোর্টসের প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান বম এবং এলেইন স্যাভেরিন।
১৮৯২ হোল্ডিংসের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভাটিয়া বলেন, লিভারপুলে বিনিয়োগ করতে পেরে তারা অত্যন্ত গর্বিত। এফএসজির সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করার সুযোগকে তিনি বড় সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা লিভারপুল ও এর নেতৃত্বের ওপর গভীরভাবে বিশ্বাস করি। আগামী বছরগুলোতে ক্লাবটির সাফল্য ধরে রাখতে আমরা সহযোগিতা করার অপেক্ষায় আছি।’
এর আগে অমিত ভাটিয়া কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের (কিউপিআর) শেয়ারহোল্ডার ও চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ভারতীয় ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তলের জামাতা।
২০১০ সালে মাত্র ৩০ কোটি পাউন্ডে লিভারপুল কিনেছিল ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ। নতুন বিনিয়োগের পরও এফএসজিই ক্লাবটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা ও পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।
লাঞ্চের পর ফিরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। জশ হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন তিনি। ১৫৪ বলে ৬৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মিরাজ। মিরাজকে ফিরিয়ে টেস্টে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হ্যাজলউড। একই সঙ্গে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকেছেন তিনি।
এরপর শেষ উইকেট হিসেবে এবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসও গুটিয়ে দেন হ্যাজলউড। ১৩৭.৬ ওভারে শর্ট অব লেংথের বলে ব্যাট চালিয়ে অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন এবাদত। ১৮ বলে ৭ রান করেন তিনি।
বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে অলআউট হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে সফরকারীদের লিড দাঁড়িয়েছে ২২৮ রান। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিমের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ ও মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংস ছিল উল্লেখযোগ্য। এখন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামবে অস্ট্রেলিয়া।
২১৯ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরাজের অপরাজিত ফিফটির সঙ্গে তাসকিনের ব্যাটিংয়ে লাঞ্চে যাওয়ার সময় ৮ উইকেটে ৪১৭ রান করেছে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ২১৯ রানে।
দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনেই ২ উইকেট হারালেও মিরাজের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে বড় লিডের পথে এগিয়ে যায় দল। হাসান মাহমুদকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়ার পর ৯২ বলে ১৪ রান করে ফেরেন হাসান। জশ হ্যাজলউডের ফুল ও সোজা বল তার প্যাডে আঘাত করলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। এরপর তাইজুল ইসলাম ২৩ বলে ১৭ রান করে আউট হন। হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
এরপরও এক প্রান্ত আগলে রাখেন মিরাজ। ১১৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। এর আগে দিনের শুরুতেই হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আউট দেওয়া হলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান এই অলরাউন্ডার। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল।
তৃতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টা পেরিয়ে বাংলাদেশের লিড দুইশ ছাড়ায়। এরপর প্যাট কামিন্সের বলে চার মেরে দলকে ৪০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছে দেন তাসকিন। পরের বলেই অবশ্য জীবন পান তিনি। স্কয়ার লেগে তার ক্যাচ নিতে পারেননি স্টিভ স্মিথ।
সেশনের শেষ দিকে ক্যামেরন গ্রিনের বাউন্সারে দারুণ এক শটে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকান মিরাজ। লাঞ্চে যাওয়ার সময় ১১৭ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত তিনি। তার সঙ্গে ১২ রানে ব্যাট করছেন তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে ২৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান করেছে বাংলাদেশ।
ছবি : সংগৃহীত
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ যখন চালকের আসনে, তখনই মাঠে উত্তাপ ছড়াল মেহেদী হাসান মিরাজ ও মিচেল স্টার্ক। মিরাজের একটি সিঙ্গেল নেওয়ার সময় উইকেটের মাঝের অংশ দিয়ে দৌড়ানোকে কেন্দ্র করে স্টার্কের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি বেশি দূর গড়ানোর আগেই আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা হস্তক্ষেপ করে দুজনকে শান্ত করেন।
ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশের ইনিংসের ১০৩তম ওভারে, স্টার্কের ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে। স্টার্কের শর্ট অব লেংথের বল পয়েন্টের দিকে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিতে দৌড়ান মিরাজ। বলের দিকে তাকিয়ে দৌড়াতে গিয়ে তিনি স্টার্কের সামনে চলে আসেন। এরপর স্টার্ককে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় উইকেটের মাঝের সুরক্ষিত অংশ দিয়েই দৌড়ান বাংলাদেশের ব্যাটার।
ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, বোলারের রানআপ ও ফলো-থ্রুর মতো ব্যাটারদেরও পিচের মাঝের সুরক্ষিত অংশ এড়িয়ে উইকেটের মধ্যে দৌড়ানোর কথা। বিষয়টি নজরে আসে আম্পায়ার ধর্মসেনার। রানটি সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি মিরাজের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে সতর্ক করেন। তখন মিরাজ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। বল দেখতে গিয়ে সামনে কী ছিল, তা খেয়াল করতে পারেননি বলে জানান তিনি। মিরাজ বলেন, ‘আমি দেখতে পারিনি।’
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন স্টার্ক। স্টাম্প মাইক্রোফোনে অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসারের কণ্ঠও শোনা যায়। মিরাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এটা আমার ফলো-থ্রু, এখন তোমার ফলো-থ্রু। উইকেট থেকে সরে যাও।’ এরপর নিজের বোলিং মার্কে ফিরে যাওয়ার সময়ও স্টার্ককে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি এখন আর বাংলাদেশে নেই।’
তবে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং মনে করেন, মিরাজ ইচ্ছা করে পিচের মাঝ দিয়ে দৌড়াননি। চ্যানেল সেভেনে ম্যাচ বিশ্লেষণের সময় তিনি মিরাজের পক্ষেই অবস্থান নেন। পন্টিং বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার মনে হয় না এটা ইচ্ছাকৃত ছিল।’ তার ব্যাখ্যা, মিরাজ যখন সামনে তাকান, তখন স্টার্ক তার পথে ছিলেন। ফলে দ্রুত দৌড়ানোর সময় অস্ট্রেলিয়ান পেসারকে পাশ কাটাতে গিয়ে তিনি পিচের মাঝের দিকটিই বেছে নেন। ধারাভাষ্যকার অ্যালিস্টার নিকোলসন অবশ্য মনে করেন, স্টার্কের এমন উত্তেজিত হওয়া দলের হতাশারই বহিঃপ্রকাশ।
দিনের খেলার চিত্রও অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার হতাশারই। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করেছে। তানজিদের সেঞ্চুরি এবং শান্তর ৮৪ রানের পর শেষ দিকে মিরাজ ও হাসানের প্রতিরোধে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে।
মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ এবং হাসান ৭৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। ফলে তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের লিড আরও বড় করার সুযোগ রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ডারউইনে রীতিমতো আগুন ঝরালেন বাংলাদেশি পেসাররা। হাসান মাহমুদ-এবাদত হোসেনদের তোপের মুখে দাঁড়াতেই পারেনি অজিরা। হাসান একাই শিকার করেছেন ৬ উইকেট। টাইগার পেসারদের এমন পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে দুইশ রানও করতে পারল না অস্ট্রেলিয়া। ডারউইন টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেছেন স্টিভেন স্মিথ। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ৫৫ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছেন হাসান।
ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে নতুন বলের বাড়তি সুবিধা কাজে লাগান তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। বিশেষ করে হাসান দুর্দান্ত ছিলেন। দুই দিকেই সুইংয়ের সঙ্গে বাড়তি বাউন্সও আদায় করে নেন এই পেসার। তার করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ তুলেছিলেন ট্রাভিস হেড। তবে বল পড়ে নিরাপদ জায়গায়। ফলে সেই যাত্রায় বেঁচে যান এই ওপেনার।
নিয়মিত ভালো লাইন-লেংথে বোলিং করার পুরস্কার পেতে কিছুটা সময় লেগেছে বাংলাদেশের। প্রথম ব্রেকথ্রু পেতে অপেক্ষা করতে হয় ১২তম ওভার পর্যন্ত। চতুর্থ বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে করেন হাসান। সেখানে ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটকিপার লিটনের গ্লাভসে জমা পড়ে বল। ২৩ রান করে এই ওপেনার ফিরলে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
নিজের ফিরতি ওভারে আবারো আঘাত হানেন হাসান। এবার তার শিকার আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। ১৪ তম ওভারে চতুর্থ বলে গুড লেংথ থেকে ইন সুইং করা বল ব্যাটের ভেতরের দিকের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ফেরার আগে হেড করেন ২২ রান।
১৭তম ওভারে এবাদত হোসেনের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ তামিম সেটা রাখতে পারেননি। জায়গায় দাঁড়িয়েও বল হাতে জমাতে না পারায় মাথায় হাত দেয় পুরো বাংলাদেশ! তবে নিজের প্রথম শিকার ধরতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি এবাদতকে। ফিরতি ওভারেই মার্নাস ল্যাবুশেনকে ফেরান এই পেসার।
১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে গুড লেংথে করেছিলেন এবাদত। সেখানে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে আউট সাইড এজে বল যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত আর কোনো ভুল করেননি। ২০ বল খেলে মাত্র এক রান করতে পেরেছেন ল্যাবুশেন।
দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অজিদের উদ্ধার করতে কাউন্টার অ্যাটাক বেছে নেন ক্যামেরুন গ্রিন। তাসকিনের করা ২২তম ওভারের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে গ্রিনের সেই আক্রমণাত্মক মনোভাবের সুযোগ নিতে ফাঁদ পাতে বাংলাদেশ। আর তাতেই পা দেন এই অজি ব্যাটার। ওভারের শেষ বলটি গুড লেংথে করেছিলেন তাসকিন। সেখানে অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকের হাতে ধরা পড়েন গ্রিন। সাজঘরে ফেরার আগে ১৩ বলে ১৩ রান করেন তিনি। তাতে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে যায় অজিরা।
লাঞ্চের পর বাংলাদেশি পেসারদের সাবলীল ভাবেই খেলছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। এই সময়ে দ্রুত রানও তুলছিলেন এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাতে বড় জুটি গড়ার পথে হাঁটছিল অজিরা। ভয়ঙ্কর হতে যাওয়া সেই জুটি ভেঙেছেন এবাদত হোসেন।
৩৭তম ওভারের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে কিছুটা ভেতরে ঢুকেছিল। সেখানে পাঞ্চ করতে চেয়েছিলেন ক্যারি। কিন্তু ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল চলে যায় স্টাম্পে। ১৯ রান করে ক্যারি ফেরায় ভাঙে ৫৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি।
ক্যারি ফেরার পর উইকেটে আসা বো ওয়েবস্টারকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ১০ বলে ১২ রান করা ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করেন এই পেসার। এরপর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককেও দ্রুত ফেরায় বাংলাদেশ। দুজনের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। ফলে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারায় অজিরা।
চা বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন স্মিথ। তাতে হিতে বিপরীত হয়। হাসানের খাটো লেংথের বল এগিয়ে এসে পুল করার চেষ্টা করলে টপ এজ হয়ে বল সোজা উপরে উঠে যায়। ৭১ রান করা স্মিথকে ফিরিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন হাসান। এরপর নাথান লায়নকেও ফেরান এই পেসার। তাতে ইনিংসে ৬ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তিনি।