খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:৩৪ এএম

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশিত একটি পোস্টে নারীদের বিষয়ে করা মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 


তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের একজন নেতা পরিষ্কারভাবে দু’দিন আগে বলেছেন, যে সকল মহিলা, যে সকল মা-বোনেরা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যান, তাদেরকে এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন- যা কলঙ্কস্বরূপ। এই কথা বলার পরে যখন তীব্র সমালোচনা শুরু হলো, তখন তারা বলছে আমাদের আইডি নাকি হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। এই বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তারা পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, আইডি এভাবে হ্যাক হতে পারে না।’ সোমবার খুলনার প্রভাতী স্কুল মাঠে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এ কথা বলেন। 


তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের একজন সিনিয়র নেতা জনগণের সামনে নির্বাচনের আগে এইভাবে মিথ্যা কথা বলছে। দলটি পর্যন্ত মিথ্যা কথা বলছে। আইডি হ্যাক হয়নি। এরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষের কাছে মিথ্যা কথা তুলে ধরছে। এদের পরিচয় এরা মিথ্যাবাদী।’ 


প্রায় ২৭ মিনিটের বক্তব্যে জামায়াতের কড়া সমালোচনা করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের অর্ধেক নারী গোষ্ঠীকে কীভাবে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রাখতে চায়। একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কার ভাষায় বলে দিয়েছেন-তারা নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। ওই রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কারভাবে নারীদেরকে কীভাবে অসম্মানিত করেছে। তাদের খারাপ ভাষায় অসম্মানিত করেছে।’


বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের নবী করিম হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন কর্মমুখী মহিলা। তিনি ছিলেন একজন মহিলা ব্যবসায়ী। আজকে যাদের নেতা বাংলাদেশের নারীদের একটি খারাপ কিছুর সঙ্গে তুলনা করেছেন, তারা বলে তারা ইসলাম কায়েম করবে।’


তিনি প্রশ্ন করেন, ‘যে দলটি নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরের মধ্যে বন্দী করতে চায়, যে দলটি নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অসম্মানজনকভাবে কথা বলে, আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন- নির্বাচনে যদি তারা কোনোভাবে সুযোগ পায়, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তাহলে তাদের আচরণ কি হতে পারে? কাজেই এরা শুধু নিজের স্বার্থের কথা বোঝে। এরা ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। যেখানে প্রয়োজন সেখানে তারা তাদের মতন করে ধর্মকে ব্যবহার করে।’


একাত্তরেও নারীদের অসম্মানিত করেছে


তারেক রহমান বলেন, ‘তাদের দলেও নারী কর্মী আছে। তাদের দলের নারী কর্মীদের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনারা যে ঘর থেকে বের হয়ে দলের কাজে যাচ্ছেন, ঘর থেকে বের হয়ে যে নারী কাজে যায়, তাদেরকে আপনাদের নেতা কিসের সঙ্গে তুলনা করেছে? আপনারা চিন্তা করে দেখুন।’ 


তিনি বলেন, যে দলের নেতা নিজ দলের নারী কর্মীদের এভাবে অপদস্থ, অপমানিত করতে পারে’ সেই দলের নেতা যদি সুযোগ পায়, তাহলে বাংলাদেশের সাধারণ নারীদের, মা বোনদের কীভাবে অপদস্ত অবমানিত করবে। এর উদাহরণ আমরা ১৯৭১ সালে দেখেছিলাম। এ দেশের লাখ লাখ মা-বোনদের অসম্মানিত করেছিল এই দলটির পূর্বসূরী নেতৃবৃন্দ। যাদের কাছে মানুষের কোনো মূল্যায়ন নেই, মানুষের কাছে সম্মানবোধ নেই, তাদের কাছে দেশ নিরাপদ হতে পারে না।


বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আজকের বাংলাদেশের মা-বোনদের বলব, যারা আপনাদেরকে এভাবে অপমানিত করে তাদের আপনারা কীভাবে জবাব দেবেন আজ সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। 


খুলনার বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা


তারেক রহমান বলেন, খুলনা সাতক্ষীরা ছিল একসময় শিল্প নগরী কিন্তু আমরা দেখছি গ্যাস ও বিভিন্ন কারণে আজ শিল্পনগরী মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই শিল্পনগরীকে আবার জীবিত শিল্পনগরীতে পরিণত করতে চাই, যাতে সেসব শিল্পে শুধু পুরুষরা না, নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। সেভাবেই আমরা এই অঞ্চলের শিল্পনগরীকে গড়ে তুলতে চাই।


তিনি বলেন, বেকার তরুণ যুব সমাজ বিশেষ করে যারা আইটিতে কাজ করে তাদের জন্য আইটি পার্কসহ আরও সুবিধা গড়ে তুলতে চাই যার মাধ্যমে তারা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।


নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড


ফ্যামিলি কার্ডের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যেহেতু বিশ্বাস করি এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনোভাবেই দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব না, সেজন্যই আমরা বলেছি বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গৃহিণী মায়েদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা দেশের নারী সমাজকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই।’ 


তিনি বলেন, ‘আমরা একইভাবে কৃষকদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই কার্ডের মাধ্যমে ঋণ পেতে সুবিধা হবে, প্রয়োজনে কীটনাশক বীজ সার পৌঁছে দেব। একইসঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেসব কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে, আমরা সুদসহ তা মওকুফ করব। 


নির্বাচন নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে


একটি মহল বলার চেষ্টা করছে, ভোট গণনা করতে এবার অনেক সময় লাগবে। ষড়যন্ত্র কিন্তু শুরু হয়েছে। যারা সকাল-বিকাল মিথ্যা বলছে, নারীদের হেয় করছে, তারা বিভিন্ন ছলছাতুরির চেষ্টা করছে। ভোট নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন তিনি।


খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সংসদ সদস্য প্রার্থী আলী আজগর লবী, আমীর এজাজ খান, মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনি, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু প্রমুখ।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০২ পিএম

দেশের অনেক জেলার মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও দেখা দিয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) তীব্র সংকট। এর ফলে তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে জেলার সবকটি ফিলিং স্টেশন। যার প্রভাব পড়েছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের মাঝে। জেলায় সীমিত হয়ে গেছে যান চলাচল।


ফিলিং স্টেশনগুলোর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বুধবার বেলা ১১টার পর থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুরোপুরিভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ চালু হবে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এরপর গ্যাস সংকটে সবকটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যানবাহন চালকরা। বাধ্য হয়ে অনেক সিএনজি অটোরিকশা চালক এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন তারা।


মূলত গ্যাস সরবরাহ বন্ধের আগে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করতো বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। যদিও চাহিদা রয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তবে সংকটের কারণে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ ছিল কম। সাধারণত ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও ৩-৪ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হতো। সর্বশেষ গত বুধবার থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমিয়ে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ। এতে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়িকে আটকা পড়ে। গ্যাস না পেয়ে অনেক চালকই গাড়ি পার্কিং করে রেখে গেছেন।


এ দিকে, গ্যাসের অভাবে সড়ক-মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার চলাচলও কমে গেছে। এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে স্বল্প সংখ্যক অটোরিকশা চললেও ভাড়া নিচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরাও।


মো. মেহেদী নামে এক যাত্রী জানান, শহরের কুমারশীল মোড় থেকে নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীতে যাওয়ার জন্য এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর একটি সিএনজি অটোরিকশা পান। তিনি বলেন, ‘তবে ভাড়া চাওয়া হয় ৮০ টাকা। যদিও নিয়মিত ভাড়া ৪০ টাকা। পরে দরকষাকষি করে ৭০ টাকায় রাজি করাই অটোরিকশা চালককে।’


জনি মিয়া নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক জানান, শহরের কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় রুটে অটোরিকশা চালান তিনি। এ রুটে নিয়মিত শেয়ারে যাত্রাী ভাড়া ৫০ টাকা। তবে গ্যাস সংকটের কারণে গত বুধবার থেকে ৭০ টাকা ভাড়া নিচ্ছিলেন যাত্রীদের কাছে। তিনি বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এলপিজি সিলিন্ডারে অটোরিকশা চালাতে হচ্ছে। এ কারণে ৯০ টাকা ভাড়া নিচ্ছি।’


ফাহাত ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম জানান, গত বুধবারর থেকে ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তাই যানবাহনে গ্যাস না দিতে পারায় ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছেন। বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) অথবা সোমবার গ্যাস সরবরাহ করার কথা জানিয়েছে বলে জানান তিনি।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পনি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, ‘এলএনজি সংকটের কারণে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দেয়া যাচ্ছে না। কবে নাগাদ এই সংকট কাটবে সে সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও আমাদের কিছু জানাতে পারছে না। তবে কিছুদিন সময় লাগবে- এটা বুঝা যাচ্ছে।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ পিএম

টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র লোডশেডিং। জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৩৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২২৩ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতির কারণে দিন-রাত জুড়ে দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে। 


সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট- এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১০ মেগাওয়াট। অপরদিকে, গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ২০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১১৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কাছাকাছি সরবরাহ পাওয়ায় জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১ বা ২ ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। 


প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। বাসাবাড়িতে ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাতে না পারায় গরমে দিনভর চরম অস্বস্তিতে থাকতে হচ্ছে সব বয়সী মানুষকে। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ঘুমাতে পারছেন না- যার প্রভাব পড়ছে তাদের কর্মক্ষমতা ও স্বাস্থ্যে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।


বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে মিল-ইন্ডাস্ট্রিজ ও বড় বড় কলকারখানাগুলোতে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালু রাখতে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে। এতে জ্বালানি খরচ জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই বাড়তি জেনারেটর খরচ বহন করতে না পেরে সরাসরি লোকসানের মুখে পড়ছে। বিদ্যুৎ সংকটে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানের ব্যবসা-বাণিজ্যও।


টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পেও লোডশেডিংয়ের কালো ছায়া পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দিনের বড় অংশজুড়ে তাঁত চালানো বন্ধ রাখতে হচ্ছে শ্রমিকদের। এতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, কর্মহীন হয়ে পড়ছেন সাধারণ তাঁতশ্রমিকরা। একই অবস্থা জেলার পোলট্রি খামারগুলোতেও। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো যাচ্ছে না। তীব্র গরমে দম আটকে প্রতিদিন খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়ে ক্ষুদ্র খামারিরা বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 


এটিএম লুঙ্গি ফেব্রিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীলিপ কুমার সাহা জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন বন্ধ আর উৎপাদন বন্ধ মানে লোকসান। দিনে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। দ্রুত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।


টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, পল্লী বিদুতের আওতায় জেলায় বিদ্যুৎ চাহিদা ২০০ মেগাওয়াটের স্থলে সরবরাহ পাচ্ছেন ১১৩ মেগাওয়াট। ঘাটতির কারনে ঘন ঘন লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।


এ বিষয়ে টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের(বিউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবাইদুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় সাময়িক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২১ পিএম

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের উত্তর শৌলা এলাকায় শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী বিধবা নারী সালমা বেগম।


লিখিত অভিযোগে সালমা বেগম উল্লেখ করেন, উত্তর শৌলা এলাকায় তাঁর বসতবাড়ির পাশের জমিতে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে তাঁর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গর্ত বা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন।


সরেজমিন গিয়ে ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের

উত্তর শৌলা গ্রামের মৃত শুকুর মুন্সীর স্ত্রী বিধবা সালমা বেগমের জমির পাশে প্রতিবেশী মালেক মুন্সী, হালেম মুন্সী, সোলেমান মুন্সী, সবুজ মুন্সী ও মজিদ মুন্সীর বিরুদ্ধে ড্রেজার বসিয়ে মাটির উপরিভাগসহ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পার্শ্ববর্তী চন্দ্রপুর ইউনিয়নের মুজাহিদের মাধ্যমে ড্রেজার এনে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।


ভুক্তভোগী সালমা বেগম বলেন, “আমার স্বামী মারা গেছেন। আমার কোনো ছেলে নেই। এই সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে পাশের জমির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ড্রেজার বসিয়ে আমার জমির আশপাশ থেকে মাটির উপরিভাগসহ বালু উত্তোলন করছেন। প্রতিবাদ করলে আমাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এর ন্যায্য বিচার চাই।”


সালমা বেগমের মেয়ে নাজনীন বলেন, “আমার বাবা নেই। আমার কোনো ভাইও নেই। মানুষ দিয়ে এই জমিতে চাষাবাদ করাই। এই জমিটুকু নিয়ে নিলে আমরা কীভাবে বাঁচব? আমাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।”


আরেক ভুক্তভোগী আনসার হাওলাদার বলেন, “এখানে আমার ২৪ শতক জমি আছে। আমার জমিও মালেক মুন্সী, হালেম মুন্সী, সোলেমান মুন্সী, সবুজ মুন্সী ও মজিদ মুন্সীর নেতৃত্বে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। আমার ফসলি জমি এখন ঝুঁকিতে। আমরা দ্রুত এর প্রতিকার চাই।”


এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।


শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, “আমরা বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে তহসিলদারকে পাঠিয়েছি। অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৬ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় অগ্নিকাণ্ডে ‘মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান পুড়ে গেছে। শুক্রবার (১৩ আগস্ট) সকালে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ফুটওভার ব্রিজসংলগ্ন স্থানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দোকান মালিকের দাবি, আগুনে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে হঠাৎ ওই দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি ভালুকা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।


খবর পেয়ে ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে এর আগেই দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক সামগ্রী পুড়ে যায়।


দোকান মালিক খালেদ হাসান বলেন, ‘আমার দোকানে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল ছিল। আগুনে সবই পুড়ে গেছে। আমার ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নাই।’


প্রাথমিকভাবে দোকানের সাইনবোর্ডের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন দোকান মালিক খালেদ হাসান।


ভালুকা ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে দোকানের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।


অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোকানটির মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী খালেদ হাসান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও আগুনের সূত্রপাতের কারণ খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৮ পিএম

ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের একই পরিবারের তিন বাংলাদেশির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে ঘটনার ১ মাস ১৯ দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।


শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাদ মাগরিব উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।


নিহতরা হলেন, চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়ন। তিনি শুক্রবার বিকেলে দেশে পৌঁছে জানাজা ও দাফনে অংশ নেন। এর আগে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহত তিনজনের মরদেহ পৌঁছায়। পরে স্বজনরা মরদেহগুলো গ্রামের বাড়ি কোম্পানীগঞ্জে নিয়ে যান।


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে নিহত হন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১১ আগস্ট ইতালির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়ায় নিহত তিনজনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।


অভিযুক্ত মো.শাহাদাত হোসেন (৪০) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল আহাদের ছেলে।


চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন উল্লেখ করে গত ২৭ জুন তার ছবি প্রকাশ করে ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, ছবিতে থাকা ব্যক্তি রোমে ট্রিপল মার্ডারের মূল হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। শাহাদাত হোসেনের বয়স ও জাতীয় পরিচয় উল্লেখ করে তার বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে রোম কোয়েস্টের মোবাইল টিমে (৩৩৪৬৯০৩২৯৫) জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।


নিহত বাবুলের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস বলেন, ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। পাঁচ বোনের মধ্যে বাবুল এক ভাই। দেশে এলে সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। এমন নির্মম ঘটনায় তারা বাকরুদ্ধ। ঘটনায় অভিযুক্ত শাহাদাতকে এখনো আইনের আওতায় না আনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।


এদিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে ইতালিয়ান পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।


উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ জুলাই চরকাঁকড়া ইউনিয়নে তাদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের নামে একটি উড়ো চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে পরিবারের কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করলে ছেলে-নাতিকে হত্যাসহ পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা। পরে নিরাপত্তাশঙ্কার কথা জানিয়ে নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম কোম্পানীগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।


নিহত বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ফেলেছে। সেখানেই তাকে স্ত্রী-সন্তানসহ দাফন দেওয়া হলো। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি বিচার চাই।”

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৫৪ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০১ এএম


দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৫৪ পিএম

পাম্পে ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউনিটটি চালু করতে একদিন সময় লাগতে পারে। আজ শুক্রবার সকালে এই ইউনিট বন্ধ করা হয়। বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


তিনি জানান, এই ইউনিট চালু করতে প্রয়োজনীয় মেরামত কার্যক্রম চলছে। আগামীকালের মধ্যে চালু করা হবে। ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ করেই শুক্রবার সকালে ১ নম্বর ইউনিটের পাম্পে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে ওই ইউনিট বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হওয়ার আগে এই ইউনিট থেকে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছিল।  


তবে এই কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিট চালু রয়েছে। এই ইউনিট থেকে ১৭০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। আর এই কেন্দ্রের ২ নন্বর ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর