আজ পাসপোর্ট অফিসের সামনে বাব্বি নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে, নিহত বাব্বির ছবি ব্যবহার না করে একই বা কাছাকাছি নামের অন্য একজন রাব্বির ছবি দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ধরনের ভুল শুধু সংবাদে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না, বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার পরিবারের জন্যও বিব্রতকর ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় ছবি ও পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের আরও সতর্কতা ও তথ্য যাচাই করা জরুরি।
ভুল তথ্য ও ছবি দ্রুত সংশোধন করে সঠিক ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেটের ওসমানীনগরে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোঃ আফজাল হোসেন (৩০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার ছয় দিন পর বৃহস্পতিবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দুর্ঘটনা কবলিত ইউনিক বাসের হেলপার মোঃ আফজাল হোসেন (৩০)। নিহতের মোঃ আফজাল হোসেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার শরীফপুর গ্রামের মোঃ সামছু মিয়ার চেলে।
এ নিয়ে ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।
এর আগে গত ৭ আগস্ট শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মারা গেলেন দুর্ঘটনায় আহত বাসের হেলপার।এদিকে, দুর্ঘটনার পর দুর্ঘটনা কবলিত ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল স্লিপারের রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একই সঙ্গে দুই বাসের মালিক ও চালককে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিআরটিএ কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন সিলেট বিআরটিএর সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
গত ১১ আগস্ট তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। তদন্ত শেষে শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্যসচিব।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত সাদমান জাহাঙ্গীর সৌরভের বড় ভাই মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৮ আগস্ট রাতে দুই বাসের চালককে অভিযুক্ত করে ওসমানীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলা দায়েরের ৬ দিন পরও এখনও কোনো গ্রেফতার নেই।
দুর্ঘটনার ছয় দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন বাসের হেলপার। তার মৃত্যুতে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। এ ছাড়া দুই বাসের আরও কয়েকজন যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় একসঙ্গে এত প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খুন হওয়া সিলেটের প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বাদ আসর সিলেট নগরের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে এই দম্পতির জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।জানাজায় যুক্তরাজ্য থেকে এসে অংশ নেন এই দম্পতির একমাত্র ছেলে আরিফ ইফতেখার। শুক্রবারই তিনি দেশে আসেন।
জানাজার পূর্বে মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার বাবা যদি কোন ভুল করেন আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। আর কেউ তার কাছে টাকা পয়সা পেয়ে থাকলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। এরপর পাশাপাশি খাটিয়ায় মরদেহ রেখে একসাথে এই দম্পতির জানাজা সম্পন্ন হয়। তার আগে বিকেলে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের মরদেহ রায়নগরের বাসা থেকে ঈদগাহ ময়দানে আনা হয়।
জানাজার আগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, শান্তির নগরী হিসেবে পরিচিত সিলেটে অতীতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা খুব কমই ঘটেছে।সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। ঘটনার নেপথ্যে কেউ থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা চাই, দ্রুতবিচার আদালতের মাধ্যমে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি করে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।”
সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমের পরিচালনায় জানাজায় মেক্সিকোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা ফখরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক নগরবাসী অংশ নেন।
জানাজা শেষে নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের মরদেহ মানিকপীর (রহ.) কবরস্থানে দাফন করা হয়। দাফন ও জানাজায় অংশ নিতে যুক্তরাজ্য থেকে এই দম্পতির একমাত্র ছেলে ও এক মেয়ে আজ দেশে ফিরেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দেশ ফিরেন দুই মেয়ে। দাফনর পর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত দম্পতির ছেলে থানায় মামলা করবেন বলে জানা গেছে। এর আগে বুধবার সকালে রায়নগরে নিজেদের বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাদের কাজের মেয়ে তাহমিনার (১৮) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গৃহকর্মী তাহমিনার জানাজা ও বৃহস্পতিবারই সুনামগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে সম্পন্ন হয়। আর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির মেয়েরা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে বাবা-মায়ের মরদেহ গ্রহণ করেন।নিহত আব্দুস সাত্তারের চার সন্তানের সবাই প্রবাসে বসবাস করেন। তাদের মধ্যে দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে এবং এক মেয়ে ও একমাত্র ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী এলাকার একটি বাসায় ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনার চার ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ রহস্য উদঘাটনের দাবি করে।জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের প্রেমিক বাবুল মিয়া একাই তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে তাহমিনার সম্মতিতে বাবুল বাসায় প্রবেশ করে। পরে অনৈতিক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে হত্যা করে। তাহমিনার চিৎকারে এগিয়ে আসা গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং পরে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায় এবং কাছের একটি ঝোপে ছুরিটি ফেলে দেয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয় এবং ঝোপঝাড় থেকে ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।
বুধবার সন্ধ্যায় বাবুল মিয়াকে আটকের পর সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেছিলেন, বাবুল মিয়া ওই বাসার রংমিস্ত্রির কাজ করত, মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করত। ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাবুল ওই বাসায় গিয়ে গৃহকর্মীকে নিয়ে একটি কক্ষে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে মেয়েটিকে আঘাত করে।
তিনি বলেন, শব্দ পেয়ে আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে আসেন। তখন তাকেও ছুরি মেরে হত্যা করে বাবুল। পরে সে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়।
হাসানুর রহমান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কিশোরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্যপথ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (১৪ আপষ্ট) দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত ১২ মার্চ ২০২৬ দলের সব পদ থেকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক(১) হাসানুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরোও বলা হয় ভবিষ্যতে দলীয় নীতি শৃঙ্খলা মেনে দলকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের অনেক জেলার মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও দেখা দিয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) তীব্র সংকট। এর ফলে তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে জেলার সবকটি ফিলিং স্টেশন। যার প্রভাব পড়েছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের মাঝে। জেলায় সীমিত হয়ে গেছে যান চলাচল।
ফিলিং স্টেশনগুলোর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বুধবার বেলা ১১টার পর থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুরোপুরিভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ চালু হবে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এরপর গ্যাস সংকটে সবকটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যানবাহন চালকরা। বাধ্য হয়ে অনেক সিএনজি অটোরিকশা চালক এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন তারা।
মূলত গ্যাস সরবরাহ বন্ধের আগে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করতো বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। যদিও চাহিদা রয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তবে সংকটের কারণে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ ছিল কম। সাধারণত ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও ৩-৪ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হতো। সর্বশেষ গত বুধবার থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমিয়ে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ। এতে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়িকে আটকা পড়ে। গ্যাস না পেয়ে অনেক চালকই গাড়ি পার্কিং করে রেখে গেছেন।
এ দিকে, গ্যাসের অভাবে সড়ক-মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার চলাচলও কমে গেছে। এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে স্বল্প সংখ্যক অটোরিকশা চললেও ভাড়া নিচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরাও।
মো. মেহেদী নামে এক যাত্রী জানান, শহরের কুমারশীল মোড় থেকে নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীতে যাওয়ার জন্য এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর একটি সিএনজি অটোরিকশা পান। তিনি বলেন, ‘তবে ভাড়া চাওয়া হয় ৮০ টাকা। যদিও নিয়মিত ভাড়া ৪০ টাকা। পরে দরকষাকষি করে ৭০ টাকায় রাজি করাই অটোরিকশা চালককে।’
জনি মিয়া নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক জানান, শহরের কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় রুটে অটোরিকশা চালান তিনি। এ রুটে নিয়মিত শেয়ারে যাত্রাী ভাড়া ৫০ টাকা। তবে গ্যাস সংকটের কারণে গত বুধবার থেকে ৭০ টাকা ভাড়া নিচ্ছিলেন যাত্রীদের কাছে। তিনি বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এলপিজি সিলিন্ডারে অটোরিকশা চালাতে হচ্ছে। এ কারণে ৯০ টাকা ভাড়া নিচ্ছি।’
ফাহাত ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম জানান, গত বুধবারর থেকে ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তাই যানবাহনে গ্যাস না দিতে পারায় ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছেন। বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) অথবা সোমবার গ্যাস সরবরাহ করার কথা জানিয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পনি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, ‘এলএনজি সংকটের কারণে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দেয়া যাচ্ছে না। কবে নাগাদ এই সংকট কাটবে সে সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও আমাদের কিছু জানাতে পারছে না। তবে কিছুদিন সময় লাগবে- এটা বুঝা যাচ্ছে।’
টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র লোডশেডিং। জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৩৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২২৩ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতির কারণে দিন-রাত জুড়ে দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট- এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১০ মেগাওয়াট। অপরদিকে, গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ২০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১১৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কাছাকাছি সরবরাহ পাওয়ায় জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১ বা ২ ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। বাসাবাড়িতে ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাতে না পারায় গরমে দিনভর চরম অস্বস্তিতে থাকতে হচ্ছে সব বয়সী মানুষকে। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ঘুমাতে পারছেন না- যার প্রভাব পড়ছে তাদের কর্মক্ষমতা ও স্বাস্থ্যে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে মিল-ইন্ডাস্ট্রিজ ও বড় বড় কলকারখানাগুলোতে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালু রাখতে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে। এতে জ্বালানি খরচ জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই বাড়তি জেনারেটর খরচ বহন করতে না পেরে সরাসরি লোকসানের মুখে পড়ছে। বিদ্যুৎ সংকটে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানের ব্যবসা-বাণিজ্যও।
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পেও লোডশেডিংয়ের কালো ছায়া পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দিনের বড় অংশজুড়ে তাঁত চালানো বন্ধ রাখতে হচ্ছে শ্রমিকদের। এতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, কর্মহীন হয়ে পড়ছেন সাধারণ তাঁতশ্রমিকরা। একই অবস্থা জেলার পোলট্রি খামারগুলোতেও। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো যাচ্ছে না। তীব্র গরমে দম আটকে প্রতিদিন খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়ে ক্ষুদ্র খামারিরা বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এটিএম লুঙ্গি ফেব্রিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীলিপ কুমার সাহা জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন বন্ধ আর উৎপাদন বন্ধ মানে লোকসান। দিনে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। দ্রুত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, পল্লী বিদুতের আওতায় জেলায় বিদ্যুৎ চাহিদা ২০০ মেগাওয়াটের স্থলে সরবরাহ পাচ্ছেন ১১৩ মেগাওয়াট। ঘাটতির কারনে ঘন ঘন লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের(বিউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবাইদুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় সাময়িক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের উত্তর শৌলা এলাকায় শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী বিধবা নারী সালমা বেগম।
লিখিত অভিযোগে সালমা বেগম উল্লেখ করেন, উত্তর শৌলা এলাকায় তাঁর বসতবাড়ির পাশের জমিতে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে তাঁর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গর্ত বা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন।
সরেজমিন গিয়ে ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের
উত্তর শৌলা গ্রামের মৃত শুকুর মুন্সীর স্ত্রী বিধবা সালমা বেগমের জমির পাশে প্রতিবেশী মালেক মুন্সী, হালেম মুন্সী, সোলেমান মুন্সী, সবুজ মুন্সী ও মজিদ মুন্সীর বিরুদ্ধে ড্রেজার বসিয়ে মাটির উপরিভাগসহ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পার্শ্ববর্তী চন্দ্রপুর ইউনিয়নের মুজাহিদের মাধ্যমে ড্রেজার এনে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সালমা বেগম বলেন, “আমার স্বামী মারা গেছেন। আমার কোনো ছেলে নেই। এই সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে পাশের জমির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ড্রেজার বসিয়ে আমার জমির আশপাশ থেকে মাটির উপরিভাগসহ বালু উত্তোলন করছেন। প্রতিবাদ করলে আমাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এর ন্যায্য বিচার চাই।”
সালমা বেগমের মেয়ে নাজনীন বলেন, “আমার বাবা নেই। আমার কোনো ভাইও নেই। মানুষ দিয়ে এই জমিতে চাষাবাদ করাই। এই জমিটুকু নিয়ে নিলে আমরা কীভাবে বাঁচব? আমাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।”
আরেক ভুক্তভোগী আনসার হাওলাদার বলেন, “এখানে আমার ২৪ শতক জমি আছে। আমার জমিও মালেক মুন্সী, হালেম মুন্সী, সোলেমান মুন্সী, সবুজ মুন্সী ও মজিদ মুন্সীর নেতৃত্বে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। আমার ফসলি জমি এখন ঝুঁকিতে। আমরা দ্রুত এর প্রতিকার চাই।”
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, “আমরা বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে তহসিলদারকে পাঠিয়েছি। অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”