ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে প্রান্তিক ও দুস্থ পরিবারের জন্য সরকারের বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সেবামূলক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব মো. খালেদ হোসেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান এবং পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আব্দুর রউফ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেক এম এ (পিএসসি), অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ এবং সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুসা (ভিপি) সহ বিএনপি ও গণসংহতি আন্দোলনের সকল নেতৃত্ব বৃন্দ।
সরকারের এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারকে একটি করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে ৮৬ জন উপকারভোগীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কিউআর কোড সম্বলিত আধুনিক প্রযুক্তির এই কার্ড ভবিষ্যতে ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই কার্ড বিতরণের মাধ্যমে উপজেলার কয়েক হাজার নারী-প্রধান ও অসচ্ছল পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ছাড়াই সরকারি সহায়তা সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন বরগুনার পাথরঘাটা আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কয়েকজন সদস্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও বিপন্ন মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করে কয়েক প্রজাতির ৬৯০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করে মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। যা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বণ্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) ২০২৬ এর ধারা ৩৬ (২), (৪) ও ৪৭ (২), সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩ এর ২৬ (৩) এবং দ্যা কোড অফ ক্রিমিনাল প্রোসিডিউর, ১৯৮৯ ধারা ১০৩, ৫১৬ ক ও ৫২৫ এর বিধানর ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডার লেঃ এ এইচ এন সারতাজ বিন সোহরাব এর বিরুদ্ধে কেনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ প্রদান করা হবে না; সে মর্মে আদেশ প্রাপ্তির ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।
জব্দকৃত অবৈধ মাছের মধ্যে ছিলো শাপলাপাতা মাছ ৪৪০ কেজি ও গিটার মাছ ২৫০ কেজি। এর আনুমানিক বাজার মূল্য ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা।
কোস্টগার্ডের সূত্রানুযায়ী- স্থানীয় বিএফডিসি মৎস্য ঘাটের একটি আড়তে সামুদ্রিক মাছ মজুদ রেখে বিক্রয়ের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হননি বলে জানান কোস্টগার্ড।
একই সূত্রে আরও জানা গেছে- পাথরঘাটা উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত মাছগুলো মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। কিন্তু পাথরঘাটার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন না বলে আদালতকে অবহিত করেন।
সুশিলা রাণী
জীবন সায়াহ্নের শেষ দশকে এসেও একটু শান্তির মুখ দেখতে পারছেন না আশি পেরোনো রুহিয়ার বয়োবৃদ্ধা সুশিলা রাণী। স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেমাটিতে শান্তিতে দিন কাটানো তো দূরের কথা, নিজের সম্পত্তি ভোগদখল করতে না পেরে উল্টো পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও ভুক্তভোগী এই বৃদ্ধার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং বদলেছে কেবল অত্যাচারীর পেছনের রাজনৈতিক অভিভাবক।
ভুক্তভোগীর দাবি, ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রুহিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা পার্থ সারথি সেনের প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সুশিলা রাণীর দূর সম্পর্কের ভাসতে বিকাশ চন্দ্র সরকার জমি জবর দখলের এসব অন্যায় কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। সে সময় একাধিকবার স্থানীয়ভাবে জানানোর পরও কোনো বিচার পাননি অসহায় সুশিলা রাণী।
২৪ এর অভ্যূত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও বদলায়নি সুশিলা রাণীর জীবনের চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে বিকাশ চন্দ্র সরকারের এই অপকর্মের নতুন আগের রাজনৈতিক আশ্রয়ের চেইন ধরে রেখে বর্তমানে নতুন স্থানীয় নেতৃত্বকে ব্যবহার করে জমি দখলের পাঁয়তারা ও নির্যাতন অব্যাহত রেখেছেন বিকাশ।
আজ শনিবার (১৫ আগষ্ট) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, সুশিলা রাণী তার জরাজীর্ণ ঘরের দাওয়ায় বসে স্বামীর ভিটের দিকে ফেল ফেল তাকিয়ে রয়েছেন আর নিজ মনে কি যেন বিরবির করে বলছেন।
ভিটেমাটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলে উঠেন, যে পতাকাই উড়ুক না কেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন,তার মতো নিঃস্ব মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নিতে কেনো সবাই এক হয়ে যায়? রাজনৈতিক রঙ বদলালেও ক্ষমতার আশ্রয়পুষ্ট বিকাশের মতো মানুষদের চাবুকের আঘাত তো একই রকম রয়ে গেল। ভেবেছিলাম আ’লীগ পালাইছে, এখন হয়তো শান্তিতে থাকতে পারবো। কিন্তু আমার সেই আশা আর পুরণ হলো না, বিএনপি ক্ষমতায় এসে আবার বিকাশ তাদের দলে ভিরে ওই একই রকম আচরণ করছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই, এর শেষ দেখতে চাই।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, দল বদলালেও তাদের ওপর নির্যাতনের রূপ বদলায়নি। বিগত সরকারের সময় শুরু হওয়া অসম্পূর্ণ অন্যায়গুলোর দায় যেন এখন নতুন করে কে বা কারা গ্রহণ করেছে।
সুশিলা রাণীর মেয়ে শোভা রাণী সরকার বলেন, আমি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করি। আমার মা আমাদের বোনদেরকে সহ অনেক কষ্টে জীবন যাপন করেছেন। আমাদের কোন অভিভাবক না থাকায় আমাদের ভিটে মাটি নিয়ে যখন যে ইচ্ছে তাই করেছে, আমাদের সাথে ক্রমাগতভাবে অন্যায় করে চলেছে। আমার মাকে মেরে রক্তাক্ত করেছে। অনেকবার বিচার সালিশ হয়েছে, কিন্তু ফল পায়নি আমার মা। আমার কাকাতো ভাই বিকাশ বা তার মত যারা আছে তারা তো অন্যায় করেছেই। ভাবতে আশ্চর্য লাগে এই ভেবে যে এ শ্রেণির মানুষ গুলোই সব রাজনৈতিক দলেই আশ্রয় পায়।
এ বিষয়ে সুশিলার ভাসতে বিকাশ চন্দ্র সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে পালিয়ে যান।
নিজের ভিটেমাটিতে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাসটুকু ফেলার আকুতি জানিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অসহায় সুশিলা রাণী। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
জামায়াত ও গণধিকার পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষ
কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজার সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এছাড়া হামলা চালানো হয় গণঅধিকার পরিষদের অফিস এবং ওই সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতির নিজস্ব কার্যালয়ে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।শনিবার সাড়ে ৬টার দিকে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমির হামজা সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতাকর্মীরা শনিবার বিকেলে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন।
এই সমাবেশস্থলের অদূরেই আমির হামজার বাসভবন। সমাবেশের শেষের দিকে আমির হামজা পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সমাবেশস্থলে এলে সেখানে থাকা তার কয়েকজন সমর্থক বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর প্রথমে তাদের মধ্যে হাতাহাতি, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আমির হামজার সমর্থকরা পরে সেখান থেকে মিছিল করে ছয় রাস্তার মোড়ে হরিপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে দাবি করেছে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা। এ সময় সংবাদকর্মীরা এর ছবি সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর আমির হামজার সমর্থকরা চড়াও হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ জানান, তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় হামজার সমর্থকরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তবে এ ব্যাপারে আমির হামজার দুই কর্মী তাৎক্ষণিক জানান, গণঅধিকার পরিষদের লোকজন প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা কেবল প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন। তাদের দাবি, প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
জেলা জামায়াতের আমির আলী মহসিন জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য আমির হামজা সুস্থ আছেন। তাদের ওপর হামলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। আমাদের লোকজন আগে হামলা করেনি। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে তারা কেবল প্রতিরোধ করে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, তারা উত্তেজনা প্রশমন করার জন্য দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কোন ভিত্তি নাই তাদের অল্প কয়েকজন কর্মী রয়েছে, তারা বিভিন্ন দলের লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের হামলা চালায়।
তিনি বলেন ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের উপস্থিতিতে এমপি সাহেবের গাড়িতে হামলা চালায়, পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. ইকবাল হাসান বলেন, সংঘর্ষে আহত তিনজন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
প্রতিপক্ষের ভেঙ্গে দেয়া ইটের পাকা দেয়াল
নওগাঁর মহাদেবপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) পূর্বরাত দেড়টার দিকে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন ঈদগাঁহপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
উপজেলার রনাইল নিচপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এলাহী বক্সের ছেলে বুলবুল আহমেদ থানায় লিখিত এজাহারে উল্লেখ করেন যে, তার পিতা কুঞ্জবন মৌজায় পাঁচ শতক জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে এক যুগের বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি বাড়ির চারদিকে টিন দিয়ে বেড়া দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা চাঁদা দাবি করে। এরই জের ধরে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে প্রতিপক্ষরা হাসুয়া, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, শাবল, এসএস পাইপ, ও অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের বাড়িতে এসে কুপিয়ে টিনের বেড়া কেটে ও টিনের ছাউনি কেটে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে। তারা অস্ত্রের মুখে বাড়ির লোকজনদের জিম্মি করে ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করে। তারা বাড়ির স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়, বাড়ির পাকা ওয়াল ভেঙ্গে ফেলে এবং চারদিকের টিনের বেড়া কেটে ও ছাউনির টিন খুলে নিয়ে যায়। প্রতিপক্ষরা তাদের বাড়ি ও আশেপাশের সব বাড়ির দরজা বাহির থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে বন্ধ করে দেয়। তারা বাড়ি থেকে নগদ ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও পাঁচ ভরি ওজনের স্বর্ণলংকার লুট করে নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এব্যাপারে খাজুর নিচপাড়া গ্রামের ইউসুফ মোল্লার ছেলে ওয়াজেদ আলী, তার ছেলে মো: রাসেল, বিলমোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত হামিদ সরকারের ছেলে বিপ্লব সরকার, জয়পুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে এমদাদুল হক ও মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে আফজাল হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫/৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।
জানতে চাইলে মোবাইলফোনে প্রতিপক্ষ ওয়াজেদ আলী বাড়িতে হামলার কথা অস্বীকার করে জানান, ওই জমি নিয়ে কয়েকবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মিমাংশার কথাবার্তা চলছিল।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক লিখিত এজাহার পাবার কথা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিষ প্রয়োগের ফলে মাছ মরে ভেঁসে ওঠে
নওগাঁর মহাদেবপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে এব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডাইরি এন্ট্রি করা হয়েছে।
উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের তাছের উদ্দিনের ছেলে সামসুল হক অভিযোগ করেন যে, জয়পুর স্কুলপাড়া গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে কামরুল হোসেনের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সামসুলের খনন করা পুকুরের একপাশে কামরুল দখলের পাঁয়তারা করছিল। এ বিষয়ে নওগাঁর মহাদেবপুর সহকারি জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা চলমান রয়েছে। (মামলা নং ১৮৫/২০২৩)। ওই মামলায় বিবাদীর প্রতি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। কিন্তু কামরুল আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সামসুলের পুকুরের ক্ষতি সাধন ও দখলের হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১১ আগস্ট দুপুরে কামরুল ওই পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। ফলে পরদিন থেকে পুকুরের সব ধরণের মাছ মরে ভেঁসে উঠতে থাকে।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওই পুকুরে মাঝারি আকারের অসংখ্য মাছ, সাপ, ব্যাঙ প্রভৃতি মরে ভেঁসে আছে। জানতে চাইলে কামরুল বলেন, পুকুরের পাশে তার বাড়ির চারপাশের জঙ্গল পরিস্কার করার জন্য তিনি বিন্যামারা বিষ প্রয়োগ করেছেন।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, সাধারণ ডাইরিটি এনজিআর মামলায় রুপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
ছবি : সংগৃহীত
তৃতীয়বারের মত প্রকাশ্য গণনায় সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্স খুলে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। গণনা শেষে নগদ টাকার পাশাপাশি ২ ভরি ১ আনা স্বর্ণ ও ১ ভরি ২ আনা রুপা মিলেছে।
আজ শনিবার সন্ধ্যার দিকে গণনা শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দানবাক্স থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৩১ পাউন্ড, ভারতীয় রুপি ৩ হাজার ২৪৮, পাকিস্তানি রুপি ৬০, সৌদি রিয়াল ৭০, মালয়েশীয় রিঙ্গিত ৮৩, আমেরিকান ডলার ৪, নেপালি রুপি ১০০, ওমানি মুদ্রা ১ হাজার পায়সা ও ১ রিয়াল, আরব আমিরাতের ৬৪ দিরহাম ২২ সেন, ইরাকি দিনার ২৫০, তুর্কি লিরা ৯০, ভিয়েতনামের ডলার ১ হাজার, জাপানি ইয়েন ১ হাজার, কাতারি রিয়াল ১১২ রিয়াল ৫০ পয়সা, লেবাননের পাউন্ড ১০, মিসরীয় পাউন্ড ১০, ইউরো ৪০ পয়সা, বাহরাইনি মুদ্রা ১ পয়সা এবং কানাডীয় ডলার ১।
মাজারে নজরানা হিসেবে পাওয়া গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগির হিসাবও আলাদাভাবে করা হয়েছে।
এদিন সকালের দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ ও স্থাপন করা পাঁচটি দানবাক্স তৃতীয়বারের মত খোলা হয়। এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, সর্বশেষ ১১ জুলাই দানবাক্স খোলা হয়েছিল। এরপর প্রায় এক মাসের ব্যবধান হয়েছে। এবারও সবার উপস্থিতিতে প্রকাশ্যেই টাকা গণনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় রাজনীতিক, গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাজারের মুয়াল্লি এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে টাকা গণনা করা হচ্ছে। সাংবাদিকেরাও বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন। অর্থ গণনা নিয়ে যাতে কোনো ধরনের সন্দেহ বা অবিশ্বাস তৈরি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের বহু বছরের পুরানো প্রথা ভেঙে প্রকাশ্যে টাকা গণনা করা হয় ২২ জুন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স স্থাপনের মাত্র চার দিনের মাথায় এ গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে ১১ জুলাই দ্বিতীয়বার দানবাক্স খোলা হয়; সেসময় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশি মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণসহ অন্যান্য সামগ্রীও ছিল।
দ্বিতীয় দফায় গণনার প্রায় ৩৪ দিন পর শনিবার তৃতীয়বারের মত প্রকাশ্যে টাকা গণনা করা হয়েছে।