চট্টগ্রামে ‘অবৈধ’ সিএনজি অটোরিকশা আটকানোকে কেন্দ্র করে চালকদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রোববার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে শাহ আমানত সেতুর পাশে মইজ্জ্যার টেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার পর থেকে মইজ্জ্যার টেক ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।
আহত দুজন হলেন- সার্জেন্ট মো. ইমতিয়াজ ও কনস্টেবল মো. কাউসার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, একটি সিএনজি অটোরিকশা ধরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চালকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় পুলিশ সদস্যদের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ট্রাফিক সদস্য চালকের পাশে বসে অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় লাঠিসোটা নিয়ে কিছু মানুষ তাদের ধাওয়া করে। শাহ আমানত সেতু সড়কে অটোরিকশাটি আটকে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে টানাহ্যাঁচড়া করতে দেখা যায়।
নগর পুলিশের ট্রাফিক বন্দর বিভাগের উপকমিশনার কবির আহমেদ বলেন, নম্বর ও কাগজপত্রবিহীন যেসব সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে, সেগুলো আটক করতে গেলে চালকরা ঝামেলা সৃষ্টি করেন। সকালে ট্রাফিক সদস্যরা মইজ্জ্যার টেক এলাকায় নম্বরবিহীন অবৈধ একটি সিএনজি অটোরিকশা আটক করলে চালকরা মিলে তাদের ওপর হামলা করে।
সার্জেন্ট ইমতিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, নিয়মিত অভিযানের সময় উল্টো পথে আসা একটি নম্বরহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটক করি। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশে থাকা অটোরিকশার চালকরা আমাদের ওপর হামলা করেন। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী) জামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, অবৈধ অটোরিকশা আটকানোকে কেন্দ্র করে চালকরা মিলে পুলিশকে নাজেহাল করে। এ সময় দুজন আহত হন। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে কেশবা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ শিক্ষা ও বিদ্যালয়ের মান উন্নয়ের লক্ষ্যে তদন্ত পূর্বক একটি দায়িত্বশীল ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে।
বুধবার(১৯ আগষ্ট) দুপুরে অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে জানা যায়, কেশবা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ ছাত্র ছাত্রী খুব বেশি ঝড়ে পরছে, বাচ্চারা স্কুল গামী হচ্ছে না, বর্তমানে অল্প কিছু ছাত্র ছাত্রী স্কুলে থাকলেও তারা অনিয়মিত এবং এখানে যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক শিক্ষিকা থাকলেও মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করে আসতেছে না। ম্যানেজিং কমিটির নামে একটি পকেট কমিটি পারিবারিক ভাবে গঠন করা হয়েছে এবং প্রধান শিক্ষক নিজেই এ কমিটিকে পরিচালনা করেন। যারা ব্যাক্তিগতভাবে এই প্রতিষ্টানের শিক্ষক শিক্ষিকাগণকে সুবিধা দিয়ে থাকে যার ফলে বর্তমান প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান খুব বেপারোয়া ভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে ফলে শিক্ষার্থীরা এর শিক্ষা জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং ঝড়ে পড়ে দিন দিন স্কুলের শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। স্কুলের অবোকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে না বাচ্চাদের পড়াশুনার পরিবেশ নাই।
অভিযোগকারীর পক্ষে আশরাফুল ইসলাম শিপু বলেন, প্রধান শিক্ষক রাতের আঁধারে ম্যানেজিং কমিটি তৈরি করে এনেছেন। এলাকার অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এ কারণে গ্ৰামবাসীরা ওই কমিটি মেনে নিচ্ছেন না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ড. মোছা. মাহমুদা খাতুন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড়ে বর্ণাঢ্য শুভেচ্ছা র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পঞ্চগড় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জনাব জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এর সভাপতিত্বে করে আনোয়ার হোসেন তাপস অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা র্যালি ও আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ মনিরুজ্জামান মানিক এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জনাব মোঃ সাহেব আলীসহ পঞ্চগড় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের অধীনস্থ পাঁচটি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা দলীয় আদর্শ ও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরে দেশ ও দলের কল্যাণ কামনা করে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।
এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে সম্প্রতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য ও প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ভালুকা প্রেস ক্লাবে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সাংসদ ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন অভিযোগ এবং সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত বক্তব্যকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তারা এসব বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তাদের দাবি অনুযায়ী প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেন।
এ সময় বক্তব্য দেন পরিবারের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, আব্দুল হান্নান ঢালীর ছেলে রিমেল, জাকির হোসেনের স্ত্রী হালিমা আক্তার, তোফাজ্জল হোসেন মাস্টারের স্ত্রী আসমাউল হোসনা, আলম ও মাহফুজসহ অন্যরা।
এ সময় ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত লোকজনের স্ত্রী সন্তান ও তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্ল্যাকমেইল করে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিয়ে গিয়ে সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করানো হয়েছে।
মোফাজ্জল হোসেন মাস্টারের দাবি, ভালুকা উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মোর্শেদ আলম ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মামুন তাদের ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন করান। এর প্রতিবাদেই পরিবারের সদস্যরা ভালুকা প্রেস ক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বক্তারা আরও দাবি করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে এমপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রকাশিত সংবাদ ও উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মধ্যে একই পরিবারের রয়েছেন চারজন। এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার দেবাশিস দত্ত (৩৯), তার আড়াই বছর বয়সী শিশু শর্ণশিষ দত্ত, স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৭) ও শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪)।
দেবাশিস দত্ত পেশায় একজন সাংবাদিক। তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি। তাদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে এই আগুন লাগে।
দেবাশিস দত্তের বাড়ি কুষ্টিয়া মডেল থানার মোহিনী মিল এলাকার আরুয়াপাড়ায়। তার বাবার নাম দিলীপ কুমার দত্ত। আকরাম আলীর বাড়ি কুষ্টিয়া হেড পোস্ট অফিস এলাকার বদরুদ্দোজা রোডে।
নিহত আহামেদ বাবুর বাড়ি ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়িতে। তার বাবার নাম আদম আলী।
এছাড়া ১৯ বছর বয়সী সন্দীপ পাসওয়ান নামে আরেকজনের পরিচয় মিলেছে। তিনি ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা।
অপর তিনজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনের সময় ওই হোটেলে ২৫ জন বাংলাদেশি ছিলেন।
কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিহতরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলের তিন তলায় রাত ২টা ৭ মিনিটে আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্তত চারটি ঘরে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভেঙে যায় হোটেলের বাসিন্দাদের। আগুন দ্রুত আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে হোটেলের কক্ষগুলো ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। এতে হোটেলের বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন। জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। তবে ধোঁয়ার কারণে হোটেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না তারা। অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
রাত ২টা ৭ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি জানানো হয়। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর পাশাপাশি একটি বিপর্যয় মোকাবিলা দলও (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম) উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। দমকলকর্মীরা ভবনের ভেতরে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে হোটেলের একাংশ পুড়ে যায়।
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, হোটেলটিতে ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ একটি মামলা করেছে। হোটেলের মালিক ও কর্মীরা পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাদের খুঁজছে।
উদ্ধার অভিযানে গিয়ে ভবনটি থেকে প্রায় ৬০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোটেলের তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের কারণে এই আগুন লেগে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের সকলকেই মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় আহত কয়েকজনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। গুরুতর আহত ৬ জনের চিকিৎসা চলছে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।
"দুর্ঘটনা দুর্যোগে, সবার পাশে-সবার আগে" স্লোগানে টাঙ্গাইলে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে অগ্নিকান্ড, উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অনসাইড পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৯ আগষ্ট বুধবার সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের বাস্তবায়নে এবং জেলা প্রশাসক শরীফা হক এর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে উক্ত মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, ফয়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মোঃ এনায়েত হোসেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আক্তারুজ্জামান প্রমুখ।
জোনায়েদ মিয়া ও তার স্ত্রী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের খাবারে আস্ত খাসি না পেয়ে বিয়ে না করেই চলে যাওয়া সেই আলোচিত জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া বিয়ে করেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জুনায়েদ মিয়া। এর আগে রাত ১১টার দিকে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
নতুন কনে জান্নাত আক্তার আখাউড়ার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি মহিলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। কনের মামা তাজু সরকারের নেয়ামতপুর গ্রামের বাড়িতে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। একই গ্রামের বাসিন্দা জুনায়েদ মিয়ার বাড়িও সেখানে।
বিয়ের পর নিজের ফেসবুক পোস্টে জুনায়েদ মিয়া লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।’
জুনায়েদের ছোট ভাই পারভেজ বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নতুন বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা।
এর আগে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে খদরে (বড় থালায় বিশেষ আয়োজন) খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করেই চলে যান জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া। উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
এরপর মঙ্গলবার সকালে জুনায়েদ নিজের ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে প্রথম বিয়ের কনেপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি লিখেন, সোমবার থেকে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ চালানো হচ্ছে। বিয়ের আসরে বসে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ আমার কাছে পূর্ব নির্ধারিত অ্যামাউন্টের চেয়ে ১০ গুণ অতিরিক্ত কাবিন দাবি করে। আমি এবং আমার পরিবার তা দিতে অস্বীকার করলে এবং বাগবিতণ্ডা শুরু হলে তারা আমাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেয়। পরে আমাদের সব লাগেজ, যা আমরা কনের জন্য নিয়েছিলাম সেটা ফেরত পাঠায়।
তিনি আরও বলেন, কনের সঙ্গে আমাকে কোনো রকম যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি এবং সে যাতে যোগাযোগ করতে না পারে, সেভাবেই তার বাবা তাকে শাসিয়েছে। রাতে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ে করতে বললেও আমি তাতে রাজি হইনি। ফলে আমাকে হুমকি দেয়া হয়েছে যে, জবাই করে ফেলার। তারপর তারা রাত থেকে ভুয়া পোস্ট করিয়ে আমার সম্মানহানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আপনারা এগুলাতে বিচলিত হবেন না, সেই আশা করছি।
তবে বরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কাবিনের টাকা চাওয়ার দাবিকে মিথ্যা বানোয়াট উল্লেখ করে কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, ‘আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। কোনো বাবা-মাই চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। খাসির বিষয়টি আসার পর তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি। পরে ওই বর অশালীন আচরণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করলে কনের বাবা বিয়ে দেননি। অবশেষে বরকে বিয়ে না করেই ফিরতে হয়েছে।