বাঁশখালীতে ঘুষের টাকাসহ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী কাম অফিস সহকারী শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক। ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ঘুষের টাকাসহ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী কাম অফিস সহকারী শাহ আলমকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে বাঁশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে নিজ রুম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাবেক অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তা প্রহরী মুদ্দাছেরুল হক মাসুদ দীর্ঘদিনের বকেয়া ভাতা ও পেনশনসংক্রান্ত সরকারি পাওনা আদায়ে শাহ আলমের বিরুদ্ধে দুদকের কাছে হয়রানি ও ঘুষ দাবির লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের কমিশনের অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ থেকে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় অভিযোগকারী মাসুদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় শাহ আলমকে হাতেনাতে ধরা হয়। এ সময় সকলের উপস্থিতিতে ঘুষের টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে শাহ আলমের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
অভিযানকালীন তদারকি কর্মকর্তা ছিলেন- চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন, সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ, জসীম উদ্দীন, উপসহকারী পরিচালক সুরাইয়া সুলতানা, আবুল হাসান, বাঁশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার, দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা।
দুদকের সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ বলেন, চাকরি থেকে অবসরকালীন সময়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মোহাম্মদ মোদ্দাছের মাসুদের (নিরাপত্তা প্রহরী) কাছ থেকে অফিসের কাগজপত্র ঠিক করতে ৯০ হাজার টাকা দাবি করেন শাহ আলম। প্রথম দফায় ব্যাংক চেকের মাধ্যমে কিছু টাকা দেওয়া হয়। বারবার চাপের মুখে আবারও ২০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সমন্বিত দুদকের টিম অভিযান চালিয়ে ড্রয়ার থেকে টাকাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় অফিসের বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। শাহ আলমের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বামুনী পাড়ায় প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনালশিপ এন্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গাইবান্ধা সদর এর আয়োজনে কৃষাণীদের নিয়ে বামুনীপাড়া পার্টনার ফিল্ড স্কুল (পুষ্টি) বিষয়ক সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ঐ স্কুলে ২৫ জন কৃষাণীদের মাঝে ১০ টি সেশনে পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আঃ রহমান, ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, প্রশিক্ষণের ট্রেইনার এটিএম মশিউর রহমান, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সাদেকুল ইসলাম মন্ডলসহ আরও অনেকে।
কৃষাণীরা জানান, কৃষি অফিসের এই প্রশিক্ষণ পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। পাশাপাশি পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতায় অনেক উপকারী তথ্য পেয়েছি। কোন পদ্ধতিতে রান্না করলে বেশি পুষ্টি পাওয়া যাবে সেটাও জেনেছি।
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার ১১ মাইল নাককাটি এলাকায় ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচ শিক্ষার্থীসহ অটোরিকশার চালক আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে প্রশাসন ও পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভূল্লী থানাধীন ১১ মাইল নাককাটি এলাকায় কৃষ্ণ চন্দ্রের চাতাল সংলগ্ন পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়গামী একটি ট্রাকের সঙ্গে বোদা থেকে আসা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার চালক মো. আজিজার রহমান (৪৫) এবং অটোরিকশায় থাকা পাঁচ শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন (১৫), স্নেহা রায় (১৪), তাসনিম আক্তার (১৪), সুমাইয়া আক্তার সাথী (১৩) ও আরও একজন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সড়কে অবস্থান নিয়ে দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
খবর পেয়ে ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন, ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী এবং বোদা হাইওয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. সেলিম রেজা মুক্তা (৫৫)কে ভূল্লী থানা পুলিশ আটক করেছে। তিনি পাবনা জেলার বেড়া থানার শম্ভুপুর এলাকার বাসিন্দা।
ভূল্লী থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে বেদেপল্লীকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মান্নান নগর বাজার এলাকার লালঘর সংলগ্ন মুকবুল আহমেদ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো। এ সময় অন্যান্যের বক্তব্য রাখেন- এওজবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকব হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা মাজহারুল হক চৌধুরী শিবলু, সাবেক ছাত্রনেতা মামুনুর রশীদ বাবর, সামছদ্দিন ড্রাইভার ও সেলিম চৌধুরীসহ স্থানীয়রা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এওজবালিয়া এলাকায় ২০১০ সালের দিকে নৌকা ও যাযাবর জীবন ছেড়ে বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলেন। বর্তমানে ওই এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ পরিবারের বসবাস রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে সামাজিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করলেও বেদেপল্লীর বৃহৎ একটি অংশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তারের কারণে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, বেদেপল্লীতে বসতি গড়ে ওঠার আগে এলাকায় মাদকের এমন বিস্তার ছিল না। বেদেরা বসবাস শুরুর পর থেকে এখানে মাদকের ডিলারদের তৎপরতা বেড়েছে। বেদের সঙ্গে সরাসরি মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মাদক প্রচারকারীদের যোগাযোগ রয়েছে। তারা সেখান থেকে মাদক এনে এখানে বিক্রি করছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদক যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকেও ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে স্থানীয়দের এমন উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান এবং মাদক নির্মূলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
নোয়াখালীর সেনবাগে মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে আটচল্লিশ বছর বয়সী এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী চারজনকে আসামি করে সেনবাগ থানায় মামলা করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো.লিংকন (২৭) নামে মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নে পূর্ব শ্যামেরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি প্রায় ২০ সেকেন্ডের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়দের মুঠোফোনে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। একপর্যায়ে ওই নারীর হাতে কয়েকটি মুরগি ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
গ্রেপ্তার লিংকন উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের কাজিরখীল গ্রামের ফরাজি বাড়ির মো.মোস্তফার ছেলে।
এ ঘটনার বিচার চেয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেন নির্যাতনের শিকার নারী। তিনি অভিযোগ করেন, মুরগি চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর, নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, ভুক্তভোগী নারী পেশায় একজন গৃহিনী। পাশাপাশি বাড়িতে মুরগি ও কোয়েল পাখির কামার দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার স্বামী ও এক ছেলে প্রবাসে থাকেন। আসামিদের সঙ্গে তার জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তার ঘরে ঢুকে মুঠোফোন কেড়ে নেন এবং জোর করে পাশের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে মুরগি চুরির অভিযোগ তুলে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে দিবাগত রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত মারধর করা হয় বলে অভিযোগ তার।
তবে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেছেন, ওই নারী মুরগি চুরির কথা স্বীকার করেছিলেন এবং তার ঘর থেকে ৪৫টি মুরগি উদ্ধার করে খামারিকে ফেরত দেওয়া হয়।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, গাছে বেঁধে রাখার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। নারীর লিখিত অভিযোগ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় দেড় মাস বয়সী এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা পরস্পরকে হত্যার জন্য দায়ী করে অভিযোগ করায় শিশুটির বাবাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, একই দিন ভোরে উপজেলার চরকাকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লারটেক এলাকার মফিজ মিয়ার নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত শিশুর নাম হুমাইরা জান্নাত (১ মাস ২০ দিন)। সে ওই এলাকার অলি উল্লাহ আজাদ (৩৫) ও পারুল আক্তারের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পারুল আক্তার তার ছেলে সিফাত (৫) ও মেয়ে হুমাইরাকে নিয়ে ঘরের ভেতরের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। শিশুটির বাবা অলি উল্লাহ আজাদ ঘরের সামনের কক্ষে ঘুমান। ভোরে ঘুম থেকে উঠে অলি উল্লাহ শিশুটিকে দেখতে গিয়ে তার কোনো নড়াচড়া দেখতে পাননি। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে দেখতে পান, শিশুটি মারা গেছে। এ সময় অলি উল্লাহ অভিযোগ করেন, শিশুটির মা পারুল আক্তার তাকে হত্যা করেছেন। অন্যদিকে পারুল আক্তার অভিযোগ করেন, শিশুটির বাবা অলি উল্লাহ শিশুটিকে হত্যা করেছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো.আবু কাউছার বলেন, পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ পরীক্ষা করে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পায়নি। তবে শিশুটির নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে। হুমাইরা জন্মের পর থেকেই অসুস্থ ছিল এবং মাথায় সমস্যাও ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। জন্মের পাঁচ দিন পর অসুস্থতার কারণে তাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চার দিন ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নুরুল হাকীম বলেন, এ ঘটনায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে শিশুটির মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুটির বাবাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চৌমুহনী পৌরসভা এলাকার চৌমুহনী বাজারের রিলাক্স আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, চাটেখেলর তালতলা গ্রামের আবু নাছের শরীফ (৬৩), চট্রগ্রামের মিরসরাই থানা এলাকার মো. ইমন হোসেন (৩২), চৌমুহনী পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার মো. হানিফ (৩৫), চৌমুহনী পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের সাফায়েত হোসেন সাকিব (২৭), বরিশালের বড় জালিয়া গ্রামের রিনা বেগম (৩৪), সুনামগঞ্জের লালপুর গ্রামের স্নেহা আক্তার (২১), ঢাকার যাত্রাবাড়ির মাইশা আক্তার (১৮), সুধারাম থানার সল্যা সোনাপুর ইসরাত জাহান পূর্ণিমা (১৮), নোয়াখালীর পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের ফাতেমা আক্তার নুসরাত (১৮), একই ওয়ার্ডের জান্নাতুল ফেরদৌস মারিয়া (১৮), বেগমগঞ্জের হাজীপুর গ্রামের মরিয়ম আক্তার (৩০) ও নওগাঁ জেলার বদলগাছি গ্রামের মিম আক্তার (২৮)।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং ওসি, ডিবির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রিলাক্স আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ যুবতীসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।