সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আগামীকাল রোববার থেকে টানা ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ থাকছে।
পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আগামীকাল রোববার থেকে টানা ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ থাকছে।
আজ শনিবার চলতি মৌসুমের শেষদিনে শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে যাতায়াত করছে। এরপর নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনগামী কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এতে দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও পরিবহন খাতের মানুষের মধ্যে নতুন করে জীবিকা সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সাধারণত প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি থাকে। তবে এবার সরকার সময়সীমা কমিয়ে নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। নভেম্বর মাসে দ্বীপে পর্যটকদের রাতযাপনও নিষিদ্ধ ছিল।
দ্বীপবাসীর দাবি, সময় কমিয়ে দেওয়ায় পর্যটনের ভরা মৌসুমেও তারা প্রত্যাশিত আয় করতে পারেননি। ফলে দীর্ঘ ৯ মাস পর্যটন বন্ধ থাকায় দ্বীপের মানুষের সামনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক গেলেও আয় হয়নি
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার পর্যটক করে চলতি মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক কক্সবাজার থেকে জাহাজে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন। কিন্তু এবার দ্বীপের স্থানীয় পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা তেমন কোনো আয়-রোজগার করতে পারেননি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন বলেন, ‘আজ সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ সব পর্যটকদের নিয়ে যাতায়াত করবে। কাল থেকে আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকার পরে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‘লাভ তো দূরের কথা, লোকসানে পড়েছি’
সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন, ‘অনেক মানুষ সময়মতো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। অধিকাংশ ব্যবসায়ী লাভের চেয়ে লোকসানে পড়েছেন। অতীতে দ্বীপে এমন সংকট দেখা যায়নি। কাল থেকে পর্যটক আসা বন্ধ হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ শুরু হবে। নির্বাচন শেষে যদি আবার পর্যটন চালু করা হয়, তাহলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন।’
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপের প্রায় সবাই পর্যটনখাতের সঙ্গে জড়িত। হঠাৎ করে ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবার মধ্যে হতাশা কাজ করছে। সময়টা আর একটু বাড়ানো গেলে আগামী নয় মাস পার করা সহজ হতো।’
ঋণ করেছি, এখন শোধ করব কীভাবে’
দ্বীপের রিকশাচালক নুর আজিম বলেন, ‘আজ থেকে পর্যটক আসা বন্ধ। কাল থেকে আমাকে আবার মাছ ধরতে যেতে হবে। রিকশা কেনার জন্য ঋণ নিয়েছি, কিন্তু দুই মাসেও সেই টাকা তুলতে পারিনি। এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব।’
দ্বীপের কটেজ ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এবার আমরা কোনো আয় করতে পারিনি। জাহাজ কর্তৃপক্ষ, ঢাকার কিছু বিনিয়োগকারী, হোটেল ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট গলাকাটা বাণিজ্য করেছে। তার ওপর সরকারের বিধি-নিষেধে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে স্থানীয়দের ওপর। এখন ৯ মাস পর্যটক বন্ধ থাকলে দ্বীপবাসীর দুর্দিন আরও বাড়বে।’
কমপক্ষে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের
দ্বীপের ব্যবসায়ীরা জানান, ‘পর্যটনখাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষ জড়িত। মানবিক দিক বিবেচনায় অন্তত আরও চার মাস বা কমপক্ষে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।’
কড়াকড়ি নির্দেশনা বহাল
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেন্ট মার্টিনে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচলও নিষিদ্ধ থাকবে। পর্যটকদের পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব পানির ফ্লাক্স সঙ্গে রাখার পরামর্শও রয়েছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তিনটি মামলায় মো. আক্তার হোসেন আকাশকে (২৮) এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা, মিরাজকে (২৪) এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা এবং মো. আরিফকে (২৭) ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে বেগমগঞ্জ মডেল থানার চৌমুহনী ফাঁড়ির এএসআই হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটির পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামটি এখন সবার কাছে ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত। চারদিকে সবুজের সমারোহ, তার মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক বাঁশঝাড়। যার প্রতিটি ডালপালায় এখন সাদা বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘু আর শালিকের মেলা।
২০০ বছর ধরে পাখিদের অভয়াশ্রম ‘পাখির গ্রাম’
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটির পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামটি এখন সবার কাছে ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত। চারদিকে সবুজের সমারোহ, তার মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক বাঁশঝাড়। যার প্রতিটি ডালপালায় এখন সাদা বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘু আর শালিকের মেলা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এখানে ঘর বেঁধেছে হাজার হাজার পাখি। প্রায় ৪ একর ২০ শতাংশ জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল বাঁশঝাড়টি এখন পাখিদের এক অভয়াশ্রম। পাখিদের এই দীর্ঘস্থায়ী বসবাসের কারণে গ্রামের আদি নাম ছাপিয়ে এখন সবাই একে পাখির গ্রাম নামেই চিনে ।
পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এখানে পাখিরা নির্বিঘ্নে বসবাস করে আসছে। বর্তমানে এটি তাদের চতুর্থ পুরুষ যারা পাখিদের এই আশ্রয়স্থল আগলে রেখেছেন। প্রতিদিন ভোরে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে গ্রামবাসীর। সন্ধ্যা নামলে হাজার হাজার পাখির ডাকার শব্দ আর কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা মাজেদুল ইসলাম বলেন, আমার দাদার আমল থেকেই আমরা এই পাখিগুলোকে দেখে আসছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করি কেউ যেন পাখিদের ক্ষতি না করে। তবে ইদানীং কিছু অসাধু শিকারি ও পর্যাপ্ত সংরক্ষণের অভাবে পাখিদের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আমরা চাই সরকার এই এলাকাটিকে সরকারিভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সীমানা প্রাচীর ও নজরদারির ব্যবস্থা করুক।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, এই গ্রামে প্রায় প্রতিদিন অনেক দর্শনাথী এখানে আসেন পাখিগুলো দেখতে। আমরা গ্রামের সবাই মিলে চেষ্টা করি যাতে এই পাখিগুলোকে কেউ বিরক্ত না করে, সবাই সেদিকে নজর রাখি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এখানে ঘর বেঁধেছে হাজার হাজার পাখি। প্রায় ৪ একর ২০ শতাংশ জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল বাঁশঝাড়টি এখন পাখিদের এক অভয়াশ্রম। পাখিদের এই দীর্ঘস্থায়ী বসবাসের কারণে গ্রামের আদি নাম ছাপিয়ে এখন সবাই একে পাখির গ্রাম নামেই চিনে ।
পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এখানে পাখিরা নির্বিঘ্নে বসবাস করে আসছে। বর্তমানে এটি তাদের চতুর্থ পুরুষ যারা পাখিদের এই আশ্রয়স্থল আগলে রেখেছেন। প্রতিদিন ভোরে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে গ্রামবাসীর। সন্ধ্যা নামলে হাজার হাজার পাখির ডাকার শব্দ আর কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা মাজেদুল ইসলাম বলেন, আমার দাদার আমল থেকেই আমরা এই পাখিগুলোকে দেখে আসছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করি কেউ যেন পাখিদের ক্ষতি না করে। তবে ইদানীং কিছু অসাধু শিকারি ও পর্যাপ্ত সংরক্ষণের অভাবে পাখিদের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আমরা চাই সরকার এই এলাকাটিকে সরকারিভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সীমানা প্রাচীর ও নজরদারির ব্যবস্থা করুক।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, এই গ্রামে প্রায় প্রতিদিন অনেক দর্শনাথী এখানে আসেন পাখিগুলো দেখতে। আমরা গ্রামের সবাই মিলে চেষ্টা করি যাতে এই পাখিগুলোকে কেউ বিরক্ত না করে, সবাই সেদিকে নজর রাখি।
দর্শনার্থী আবু হোসেন বলেন, এখানে বসার স্থান নাই, এসে যে গভীরভাবে পাখির ডাক শুনবো সেটি হয়ে ওঠে না। বসার স্থান থাকলে সবাই পাখির ডাকসহ বিভিন্ন বিষয় উপভোগ করতে পারতাম।
এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, চিলাহাটির এই পাখির অভয়াশ্রমটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সেখানে একটি পুকুর খননসহ কিছু সংস্কার কাজ করা হয়েছে। বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পাখির গ্রামটিকে আরও কীভাবে পর্যটনবান্ধব ও নিরাপদ করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
“রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা কর্মসুচির মধ্যদিয়ে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষের (১৬-১৮আগস্ট পর্যন্ত) উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালি আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও পোনামাছ অবমুক্তকরণ করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস সালাম (অ:দা:) এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী-০৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম।
এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ নীল রতন দেব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জাহান তন্বী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লোকমান আলম, সমাজ সেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন, খাদ্য কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, সমবায় কর্মকর্তা জাকিয়া ফারহানা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল গফুর, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
এসময় উপজেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষিদের মাঝে সম্মাননা পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর আগে উপজেলা পরিষদের পুকুরে ২৫১০কেজি বিভিন্ন জাতের পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে উত্তর দুড়াকুটি দাস পাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যদের চায়না দুয়ারী জাল ও কারেন্ট জাল নিজেরাই নিজের জাল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সামনে পুড়িয়ে ফেলেন।
রুপালী মৎস স্বনির্ভর দেশ, "সবার আগে বাংলাদেশ" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গাইবান্ধায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় মৎস সপ্তাহ দিবস-২০২৬ এর পালন করা হয়েছে । এই উপলক্ষে আজ রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসন ও মৎস অধিদপ্তরের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা মৎস কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রাশেদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মারজান সরকারের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম সরকার,জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক মকছুদার রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুজ্জামান শহিদ, সরকারি কলেজের অধ্যাপক আব্দুর রশিদ সরকার। এছাড়া জেলার মৎস খামারীরা ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তারা বলেন, দেশে কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, দারিদ্র্য দূর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ খাতকে আরো আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও রফতানিমুখী করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি এ খাত নিয়ে সরকারের সাফল্য ও ভবিষ্যত নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।
আলোচনা শেষে আগত অতিথিরা মৎস চাষে অবদান রাখায়,চিংড়ি, কার্প জাতীয় মাছ, পাঙ্গাশ, কৈ, তেলাপিয়া মাছ উৎপাদনসহ মোট ছয়টি ক্যাটাগরিতে জেলার ৬ জন মৎস খামারী কে সনদ ও সম্মননা স্মারক প্রদান করেন।
এরপর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলো প্রদক্ষিন করে পৌর পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে ফেষ্টুন ও বেলুন উড়িয়ে তিন দিন ব্যাপী (১৬-১৮ আগষ্ট) দিবসটির কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা। উদ্বোধন শেষে গাইবান্ধা পৌর পার্কের জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুুক্ত করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসার ছাত্র বলৎকারের শিকার হয়েছে। এ অভিযোগে মো. আলাল মিয়া (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজকে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় অভিভাবকমহলসহ বিভিন্ন মহলের উদ্বেগ।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ভিকটিম মাদ্রাসার ছাত্র (১৩) ইসলামপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে। ১১ আগষ্ট ভোট ৬টা ১০মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের পাশে বণিক পাড়ায় তার খালার বাসা আসেন। বাসা তাঁলা থাকায় ভিকটিম হাঁটাহাটি করে রেলওয়ে স্টেশন যায়। পরে আসামী আলাল মিয়া ভিকটিমকে একা পেয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কথার ছলে ফুসলিয়ে তার খালার বাসার তাঁলা খূললে তাকে বাসায় পৌছানোর কথা বলে রিক্সাযোগে তার সঙ্গে করে দাতিয়ারা ভাড়া বাসায় নিয়ে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বলৎকারের চেষ্টা করলে ভিকটিম সুরচিৎকার শুরু করে। এক পর্যায়ে ভিকটিমের মুখে গামছা পেছিয়ে এবং দাড়ালো অস্ত্র দা দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বলৎকার করে। ভিকটিম তখন ব্যথায় কান্নাকাটি করতে থাকলে ভিকটিমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রিক্সাযোগে পুনরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে যায়। রেলওয়ে স্টেশনের লোকজন ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিবরণ জেনে শুনে ভিকটিমের বাবাকে ফোন করেন। বাবার উপস্থিতিতে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত আলাল মিয়াকে আটক করা হয়। পরে ৯৯৯ ফোন করে খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌছে ভিকটিম মাদ্রাসার ছাত্রকে হেফাজতে নেয় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা নিয়মিত মামলা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মিলাদ জানান, আসামীকে আদলতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। ভিকটিম বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফনান সুমীর আদালতে ২২ ধারা জবানবন্দি প্রদান করেন। এই ঘটনায় মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবসহ বিভিন্ন মহল উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন, গনতন্ত্রের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগষ্ট) বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেন আরমান মাষ্টারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির। বিশেষ অতিথি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু। পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান প্রমূখ।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার বলেন, মহাকালের দুঃখ-বেদনার, নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের ক্রন্দনধ্বনি ছড়ানোর অবিসংবাদিত নেতা বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। আপোসহীন নেত্রী সম্পুর্ণ জীবনটাই বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি আপসহীন ও গণমানুষের নেত্রী। বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকার পরেও দেশের মানুষের কথা ভেবে দেশত্যাগ করেননি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির হাল ধরে রাখার পাশাপাশি তিনি নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন। তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে চলেছেন। আমরা লক্ষ করছি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র অব্যহত আছে। সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আমাদের সাধারণ মানুষের কল্যাণে এগিয়ে যেতে হবে। যারা বিএনপিকে নিয়ে অপপ্রচার ও কটূক্তি করছেন তাদেরকে সমস্ত সমালোচনা ও গীবত বাদ দিয়ে দেশের কল্যাণে, দেশের মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. খাইরুল আহসান মিন্টু বলেন, গণতন্ত্রের মা ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা ও মানবিক মনের একজন মানুষ। নানা চাপ ও প্রতিকুলতার মধ্যেও তিনি কখনো মাথা নত করেননি। দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। প্রয়াত আপোষহীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার কর্মের মধ্যদিয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।
এ সময় অন্যান্যের মাঝে গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আশরাফ নেওয়াজ চৌধুরী শাওন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মোল্লা, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান জুয়েল, বাহাদুরশাদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ মো. জয়নাল আবেদীন সহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, শ্রমিক দল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিশেষে পবিত্র মিলাদ মাহফিলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।