ময়মনসিংহের ভালুকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিদায়ী পোস্ট দেওয়ার একদিন পর সাব্বির আহাম্মেদ (২০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার বিত্তাগুন খালে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা ভালুকা মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত সাব্বির আহাম্মেদ উপজেলার বাশিল এলাকার সুলতান আহমদের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে তার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি খালার তত্ত্বাবধানে বড় হন।
স্বজনদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি বিদায়ী পোস্ট দেওয়ার পর থেকেই সাব্বির নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, "মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। তাই এ মুহূর্তে মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান বা মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চৌমুহনী পৌরসভা এলাকার চৌমুহনী বাজারের রিলাক্স আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, চাটেখেলর তালতলা গ্রামের আবু নাছের শরীফ (৬৩), চট্রগ্রামের মিরসরাই থানা এলাকার মো. ইমন হোসেন (৩২), চৌমুহনী পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার মো. হানিফ (৩৫), চৌমুহনী পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের সাফায়েত হোসেন সাকিব (২৭), বরিশালের বড় জালিয়া গ্রামের রিনা বেগম (৩৪), সুনামগঞ্জের লালপুর গ্রামের স্নেহা আক্তার (২১), ঢাকার যাত্রাবাড়ির মাইশা আক্তার (১৮), সুধারাম থানার সল্যা সোনাপুর ইসরাত জাহান পূর্ণিমা (১৮), নোয়াখালীর পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের ফাতেমা আক্তার নুসরাত (১৮), একই ওয়ার্ডের জান্নাতুল ফেরদৌস মারিয়া (১৮), বেগমগঞ্জের হাজীপুর গ্রামের মরিয়ম আক্তার (৩০) ও নওগাঁ জেলার বদলগাছি গ্রামের মিম আক্তার (২৮)।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং ওসি, ডিবির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রিলাক্স আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ যুবতীসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় তমরুদ্দী ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফকে (৩৮) গ্রেপ্তারের পর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া একাধিক গায়েবি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে হাতিয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি যুবদল নেতা মোহাম্মদ হানিফ নন; একই নামের অন্য এক হানিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, তমরুদ্দী ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফকে গ্রেপ্তারের পর তিনটি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে দ্রুত বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তমরুদ্দী ইউনিয়নের কাটাখালি এলাকা থেকে মোহাম্মদ হানিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে হাতিয়া থানায় না নিয়ে নলচিরা নৌ-পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার তাকে নোয়াখালী জেলা শহরে সুধারাম থানায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে দুপুরে তিনটি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৫ সালের একটি রাজনৈতিক মারামারির মামলায় সম্প্রতি আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর হানিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তার পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ২০২৬ সালের তিনটি চুরি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তমরুদ্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তানভীর হায়দার বলেন, হানিফ ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক এবং অতীতে রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া পুরোনো রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে নতুন তিনটি গায়েবি চুরির মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি যদি অপরাধী হন প্রচলিত আইনে বিচার হবে। গায়েবি মামলায় তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হবে।
তিনি বলেন, সে কোনো পেশাদার চোর বা অপরাধী নয়। পুলিশ কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তাকে তিনটি চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মত নিরীহ মানুষকে মিথ্যা এবং গায়েবি মামলায় হয়রানি করছে হাতিয়া থানার ওসি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে প্রশাসনের মধ্যে এরা কারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। তিনি বলেন, যাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তার কোন বিএনপির পদ নেই। আপনি স্থানীয়দের থেকে ভালো ভাবে খোঁজ নেন।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অর্থনৈতিক অনিয়ম, শিক্ষক রাজনীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী তালুকদার এবং তাঁর অনুসারীদের প্রভাবে বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
তাঁর দাবি, বরখাস্তকৃত সহকারী প্রধান শিক্ষক মোসাঃ হামিদা বেগমসহ কয়েকজন শিক্ষক ভূয়া কাগজপত্র তৈরি, জেলা পরিষদের অর্থ আত্মসাৎ এবং শিক্ষার্থীদের বেতন-ফি বাবদ প্রায় ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
প্রধান শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কথিত অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। গত ১৬ আগস্ট ইউএনওর বিদ্যালয় পরিদর্শন নিয়েও তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া এবং পরদিন শিক্ষার্থীদের সামনে আর্থিক অনিয়মের কথা বলায় তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও মো. হাসিবুল হাসান জানান, একাধিক শিক্ষকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এবং প্রধান শিক্ষককে অবহিত করেই পরিদর্শন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলেও তা উপস্থাপন করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে কিছু অসংগতি পাওয়ায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যালয় থেকে নেওয়া কাগজপত্র ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং প্রধান শিক্ষককে অপমান করার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
ইউএনও জানান, ভাউচার পর্যালোচনায় কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে; তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৮টি জোন ও ৫৭টি ওয়ার্ডে শীঘ্রই উন্নতমানের খেলার মাঠ ও আধুনিক ফুটসাল টার্ফ নির্মাণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিটি প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে টঙ্গী প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর: অর্জন, প্রত্যাশা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে জমি শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় ডিপিপি (উচ্চ) প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।’
তিনি আরও বলেন, টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী কলেজগেট অডিটোরিয়াম ও স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণটি সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে উদ্ধার করা হয়েছে। বুয়েটের প্রকৌশলীদের দিয়ে সেখানে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আধুনিক স্টেডিয়াম এবং সিটির আঞ্চলিক কার্যালয়ের স্থানে ১০ তলা ভবনের নকশার কাজ চলছে। জনভোগান্তি নিরসনে বিআরটি প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করে চেরাগ আলী ও কলেজগেট এলাকায় রেইলিং ফেনসিং নির্মাণ, নতুন ফুটওভার ব্রিজ চালুর পাশাপাশি টঙ্গী প্রেসক্লাবের জন্য একটি নিজস্ব ও দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্টানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)'র সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ এর যুগ্ম সম্পাদক এম আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সবচাইতে বড় অর্জন হলো স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও একটি মুক্ত বাংলাদেশ। বিগত সরকারের শাসনামলে সাংবাদিকতা ও বাকস্বাধীনতা চরমভাবে হরণ করা হয়েছিল। অপসাংবাদিকতা দূর করতে হলে পেশাদার সাংবাদিকদের সঠিক মূল্যায়ন ও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় প্রেসক্লাব, প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) ও প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সাংবাদিকদের সরকারি কর্মকর্তা স্কেলের বেতন ভাতা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়াও সাংবাদিকদের স্বার্থরক্ষায় অনেক অবদান রেখেছেন।
টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব মো: মেরাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ আজিজুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম শুক্কুর, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দীন, মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রহিম খান কালা, জিএমপি (দক্ষিণ)-এর এডিসি মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সাবেক সভাপতি সৈয়দ আতিক প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি মাহবুব চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: জাকারিয়া চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদ আহম্মেদ রবিন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সবুর খান, দপ্তর প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান শোভন, সদস্য এম আর নাসিরসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
দেবাশীষের মেয়ের খোঁজখবর নিচ্ছেন এডুকেয়ার স্কুলের শিক্ষকরা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দমবন্ধ হয়ে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের সাতজন। তাদের মধ্যে আজকের পত্রিকা-চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬৪) রয়েছেন।
এ দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে সাত বছরের মহিমা দত্ত এখন একা। ভারতে যাওয়ার আগে দেবাশীষ তার মেয়ে মহিমাকে কুষ্টিয়ায় ঠাকুমা ও ঠাকুরদার কাছে রেখে গিয়েছিলেন। এখন বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে সেই ঠাকুমা-ঠাকুরদাই মহিমার একমাত্র আশ্রয়।
মহিমা কুষ্টিয়ার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেজি শ্রেণির ছাত্রী। বাবা-মা ও ভাইকে হারিয়ে তার ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই তার পাশে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। মহিমার এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে মহিমার বাবা-মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে স্কুলের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেলসহ শিক্ষকরা তার বাড়িতে যান। তারা মহিমার ঠাকুমা-ঠাকুরদার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার পড়াশোনার জন্য বই, খাতা, কলমসহ শিক্ষা-সংক্রান্ত সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেল বলেন, ‘মহিমা দত্তের এইচএসসি পর্যন্ত স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি, বই-খাতা, কলমসহ যাবতীয় খরচ এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বহন করবে। শুরু থেকেই যেন বাবা-মায়ের অভাবে সে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। সকালে আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে গিয়ে সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছি।’
মহিমার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার এই খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার ঠাকুমা-ঠাকুরদাসহ পরিবারের সদস্য এবং দেবাশীষ দত্তের সহকর্মীরা। তারা এ উদ্যোগকে মানবিক ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে বুধবার রাতে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা নিহত দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ দত্ত। প্রথমে তারা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। প্রায় ১৩ দিন চিকিৎসা শেষে সোমবার রাতে কলকাতায় ফেরেন তারা। মঙ্গলবার আত্মীয়স্বজনের জন্য কেনাকাটা শেষে বুধবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। এর মধ্যেই কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একই দুর্ঘটনায় নিহত অন্য বাংলাদেশিরা হলেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার বেগুনবাড়ির আহমেদ বাবু (৪০), সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার। এ ছাড়া ভারতের ঝাড়খন্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ানের পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিহত অপর একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
জিএমপির নতুন পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন
মহানগরীর মাস্টার বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এর অংশ হিসাবে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় 'কাউলতিয়া পুলিশ ক্যাম্প' উদ্বোধন করেছেন জিএমপি কমিশনার মো: ইসরাইল হাওলাদার।
এ উপলক্ষে ক্যাম্প প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিএমপি কমিশনার বলেন, গাজীপুর সদর থানাধীন কাউলতিয়ায় আরো একটি নতুন পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি মাদক নির্মূলে ভূমিকা রাখবে। তিনি অপরাধ নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি স্হানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এতে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) বেলায়েত হোসেন, বিএনপি এ্যাড. মেহেদী হাসান এলিস, আবু তাহের মুসল্লি, সাইফুল ইসলাম টুটুলসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।