সুমাইয়া সাঈদ
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার এবং তা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির অভিযোগে সুমাইয়া সাঈদ (২৫) নামের এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার ও তার সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই সঙ্গে অনৈতিক এই কাজে সায় দেওয়া এবং অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও সংশ্লিষ্ট মামলায় আসামি করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি দল সম্প্রতি রাজধানীর বসুন্ধরা ও বাড্ডা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গত ১০ আগস্ট নিয়মিত সাইবার নজরদারির সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম চ্যানেলে আপত্তিকর কনটেন্ট ও তা বিক্রির প্রচারণা নজরে আসে। তদন্তে দেখা যায়, বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সরবরাহ করত এই চক্র। এমনকি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’ সুবিধাও দেওয়া হতো, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা।
ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১১ আগস্ট রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে প্রথমে সুমাইয়াকে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ও একটি ওয়ানপ্লাস মোবাইল ফোন জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সুমাইয়ার প্রধান সহযোগী ও প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুককে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, সুমাইয়া ও তার কয়েকজন সহযোগী মিলে সংঘবদ্ধভাবে এই কর্মকাণ্ড চালাতেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদ মেয়ের এসব কার্যকলাপ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন। তিনি মেয়েকে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে এই অনৈতিক আয়ের ভাগ নিতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর আওতায় একটি মামলা করা হয়েছে। ঘটনার গভীর তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ডাকাতির ঘটনায় মূলহোতা জলিলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি জানান, এ ঘটনায় এর আগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে ১৭ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনাতেও জড়িত ছিল।
র্যাব জানায়, ডিএল ফিলিং স্টেশনের টাকা ডাকাতির ঘটনায় তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ছয়জনসহ মোট নয়জন জড়িত ছিল। তদন্তের ধারাবাহিকতায় মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের মুখপাত্র বলেন, নতুন আইনে এসআরবি (সিভিল রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন) কীভাবে কাজ করবে, তা সরকার নির্ধারণ করবে। কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে এসআরবির প্রতিটি সদস্য জবাবদিহিতার আওতায় থাকবে বলেও দাবি করেন তিনি।
গ্রেপ্তার সাজু মিয়া
চট্টগ্রাম নগরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ৭৭ ভরি স্বর্ণ ও ১৮ লাখ টাকা লুট এবং ব্যবসায়ীকে অপহরণ চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার সাজু মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। লুট হওয়া মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সাজু মিয়া (৩৭) চক্রটির মূলহোতা। ১৬ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নগরের কোতোয়ালি থানার কেসি দে রোডের শহীদ মিনারের আন্ডারগ্রাউন্ড এলাকা থেকে ব্যবসায়ী পুলক দাশকে (৪৫) ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার কাছে থাকা সোনা বিক্রির নগদ ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৫২০ টাকা, সোনার গহনা, মোবাইল ফোনসহ এক কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের মালামাল ছিনিয়ে নেয় চক্রটি। পরে পুলক দাশের মুখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে গাড়ি থেকে ফেলে রেখে যায় তারা।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভুয়া ডিবি চক্রের মূলহোতা সাজু মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে এসআই আব্দুর রশীদের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার সাজু মিয়াকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গ্রেপ্তার আল-আমিন
সাভারের আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে মো. কামরুল খান (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা। এ ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত মো. আল-আমিনকে (৩৬) খুলনার তেরখাদা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও ভিকটিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই বুধবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, ১৬ আগস্ট আশুলিয়া থানার বাসাইদ এলাকার রাজু সিটির সামনে আমির আলীর ভাড়া দেওয়া টিনের চালার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত কামরুল খান খুলনার তেরখাদা থানার কালাপাটগাতি গ্রামের মৃত করিম খানের ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মো. জামিল শেখ বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই স্বউদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদের তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার তেরখাদা থেকে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আল-আমিন জানান, নিহত কামরুল ও তিনি খুলনার একই এলাকার বাসিন্দা এবং পূর্বপরিচিত। কাজের সন্ধানে তারা ঢাকায় এসে ৯ আগস্ট বাসাইদ এলাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। গত ১৪ আগস্ট রাতে কাজের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কামরুল ও আল-আমিনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে আল-আমিন সবজি কাটার ছুরি দিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করে হত্যা করেন এবং পরে মরদেহ গামছা দিয়ে বেঁধে রেখে পালিয়ে যান।
পিবিআই জানায়, বাড়িওয়ালা কোনো ধরনের পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর ছাড়াই তাদের রুম ভাড়া দেওয়ায় পরিচয় শনাক্তে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। মামলাটির তদন্ত তদারকি করছেন পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদ এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন।
সুমাইয়া সাঈদ
সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে রাজধানী থেকে সুমাইয়া সাঈদ (২৫) নামে এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। এ সময় ওই তরুণীর প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মেয়ের অনৈতিক কার্যক্রম অবহিত থেকেও তার উপার্জনে সম্মতি থাকা এবং অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও আসামি করা হয়েছে মামলায়।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম আইডিতে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং সেসব বিক্রির বিজ্ঞাপন দৃষ্টিগোচর হয়। মোবাইল ফোন ভিত্তিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যম বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফি (যেমন- ৩ হাজার ৫০০ টাকায় লাইফটাইম প্যাকেজ) নিয়ে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও বিক্রি করা হতো।
এরপর প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গত ১১ আগস্ট রাতে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি আইফোন-১৭ প্রো ম্যাক্স ও একটি ওয়ানপ্ল্যাস স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। পরে সুমাইয়ার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ থেকে তার প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে যোগসাজশে সুমাইয়া চক্রটি পরিচালনা করতেন। আর চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে, সুমাইয়ার বাবা মেয়ের এসব অপকর্ম জানার পরও তাতে কোনো ধরনের বাধা না দিয়ে, বরং নিয়মিত এর অর্থ নিতেন।
এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার রহস্য উদঘাটন এবং এ চক্রের পলাতক অন্যসব আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আদালতে গ্রেপ্তারকৃতদের তিনদিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
ছবি : সংগৃহীত
চেক ডিজঅনারের এক বছরের সাজার আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে লোকসংগীত শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশীকে। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এ আদেশ দেন ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ সাদিক আহম্মেদ।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহ আলম মিয়া বলেন, “২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর আসামি মুজিব পরদেশীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
“এর মধ্যে বাদী পাবেন ৫ লাখ টাকা এবং অবশিষ্ট ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা যাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে।”
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৩ সালে মামলার বাদী মজিবুর রহমানের ছোট ভাই সোলায়মান সরদারকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন মুজিব পরদেশী এর মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার এবং নগদে আরও ২ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তীতে সোলায়মানকে যুক্তরাজ্যে নিতে ব্যর্থ হলে মুজিব পরদেশীর কাছ টাকা ফেরত চান বাদী। তখন তিনি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা করে দুটি চেক দেন। কিন্তু চেক দুটি ব্যাংকে জমা দিলে ‘তহবিল অপর্যাপ্ত’ জানিয়ে তা একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হয়।
এ ঘটনায় বাদী একাধিকবার আইনি নোটিস পাঠালেও টাকা পরিশোধ করা হয়নি। পরে ২০০৪ সালের ১ জুন মামলা দায়ের করেন মজিবুর রহমান।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, মুজিব পরদেশী তার সংগীতশিল্পীর পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে বিদেশে নেওয়ার কথা বলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।
এর আগে গত ৪ অগাস্ট ১০ লাখ টাকার আরেকটি চেক ডিজঅনার মামলায় মুজিব পরদেশীকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২২ সালে মাগুরার আদালতে মামলাটি করেন ইদ্রিস আলী বিশ্বাস। পরের বছরের ১৫ মার্চ মাগুরার দ্বিতীয় যুগ্ম দায়রা জজ মুহাম্মদ আনোয়ার ছাদাত তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার সময় মুজিব পরদেশী পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
এরপর আইনজীবী আব্দুর রহমান মিয়া মজিবুর রহমানের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
মুজিব পরদেশীর আসল নাম মুজিবুর রহমান মোল্লা। তিনি আশির দশকে বাংলা লোকগীতির মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
গ্রেপ্তার দুই আসামি
একটি অটোভ্যানের জন্য বন্ধুত্বের আড়ালে ভয়ঙ্কর ছকে হত্যা করা হয়েছে সুজন হাওলাদার (২৯) নামে এক যুবককে। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিবিআই হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে। হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, কেরানীগঞ্জের অটোভ্যানচালক সুজন হাওলাদার (২৯) ৮ আগস্ট বিকেলে অটোভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হন। রাত ৯টার দিকে তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এরপর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন তার স্ত্রী কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ২ দিন পর গত ১০ আগস্ট সকালে আশুলিয়া থানার আব্দুল্লাহপুরগামী সড়কের পাশে নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাথায় আঘাত ও গলাকাটা অবস্থায় সুজন হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা আলো বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। ১১ আগস্ট পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মো. জামাল উদ্দীন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই ঢাকা জেলার সদস্যরা ১১ আগস্ট মাদারীপুর সদর এলাকার একটি গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো. মারুফ (৩৯) ও মো. তানভীর ঢালী ওরফে আকাশকে (২২) গ্রেপ্তার করেন। তাদের হেফাজত থেকে ভিকটিমের লুণ্ঠিত অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে আসামি মারুফের দেখানো মতে আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের নিচে পানির মধ্য থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার উভয় আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, আসামি মো. মারুফ ও ভিকটিম মো. সুজন হাওলাদার পূর্বপরিচিত। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ৮ আগস্ট ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় তাদের দেখা হয়। পরে তারা একসঙ্গে কেরানীগঞ্জে গিয়ে ইয়াবা সেবন করে এবং সুজনের অটোভ্যানে করে আশুলিয়া হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। অটোভ্যানটি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মারুফ সুজনকে কাশিমপুরে নিয়ে গিয়ে অটোভ্যানে মালামাল লোড করে। রাত ৩টার দিকে কাশিমপুর হতে মালামালসহ ঢাকার লালবাগের উদ্দেশ্যে রওনা করে। কিন্তু ভোরের দিকে আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের নিচে পৌঁছলে অটোভ্যানটি বিকল হয়ে যায়। অটোভ্যান ঠিক করতে না পারায় তারা নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের নিচে পিলারের পাশে বসে ইয়াবা সেবন করে।
পিবিআই জানায়, ভিকটিম সুজন নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এ সময় মারুফ উপরে গিয়ে সুজনের ভ্যানে থাকা চাপাতি নিয়ে আসে। ৯ আগস্ট দুপুরে মারুফ প্রথমে পাথর দিয়ে সুজনের মাথায় আঘাত করে। ভ্যানে থেকে নিয়ে আসা চাপাতি দিয়ে তার গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিটি পানিতে ফেলে দেয়। এরপর মারুফ অটো ভ্যানের তার দিয়ে অটোভ্যান সচল করে মালামালসহ ঢাকার লালবাগে চলে আসে। একদিন পর ১০ আগস্ট সকালে মারুফ অটো ভ্যান নিয়ে মাদারীপুরে গিয়ে লুণ্ঠিত অটোভ্যানটি অপর আসামি তানভীর ঢালী ওরফে আকাশের কাছে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত চলছে।