ছবি : সংগৃহীত
রংপুর নগরীতে আশানুর ইসলাম নামের এক ব্যক্তি গড়ে তুলেছেন গরুর জন্য আবাসিক হোটেল। ব্যতিক্রমধর্মী এই আবাসিক হোটেল নিয়ে নগরজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নামমাত্র অল্প খরচে নিরাপদ নিরাপত্তা বলয়ে গরুর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা পাচ্ছেন সুবিধা।
প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা রংপুরের বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে রাতে এখানে রাখেন। এজন্য গরুপ্রতি ৫০ টাকা নেওয়া হয়। তবে কোরবানির ঈদ ঘিরে গরুর চাপ বেড়েছে। এখন গরুপ্রতি ৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা ব্যতিক্রমী এ হোটেলে একসঙ্গে ৩০০-৪০০ গরু রাখা যায়। ভাড়া দিয়ে হোটেলে গরু রাখতে পারছেন পাইকার ও ব্যবসায়ীরা। স্বল্প খরচ ও নিরাপদে গরু রাখার সুবিধা পেয়ে খুশি খামারি ও ব্যবসায়ীরা। এতে যেমন গরুর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুর নগরের মডার্ন মোড় পার হয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বারো আউলিয়া এলাকায় এ হোটেল। তবে হোটেলটি আগে ছিল মডার্ন মোড়ের বাঁ পাশে। বছর দেড়েক আগে এটি ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ডানপাশে জায়গা ভাড়া নিয়ে করা হয়েছে। মহাসড়কের পাশে ৫০ শতক জমিতে টিনের শেড করা হয়েছে। ভেতরে সারিবদ্ধভাবে গরু রাখা হয়েছে। টিনের শেডে বিশেষ ব্যবস্থায় সূর্যের আলো প্রবেশের ব্যবস্থা আছে। গরুর মাথার ওপর ঘুরছে কয়েকটি বৈদ্যুতিক পাখা। সেখানে গরুকে খাবার দিচ্ছেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোরবানির ঈদের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দক্ষিণাঞ্চলের গরু ব্যবসায়ীরা রংপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোর হাট থেকে প্রতিদিন শত শত গরু কিনছেন। এসব গরুর কিছু সঙ্গে সঙ্গে ট্রাকে করে পাঠানো হচ্ছে। বাকি গরু রাখা হচ্ছে এই হোটেলে। এখানে গরুকে খাওয়ানোর জন্য খড় ও ভুসির আলাদা ব্যবস্থাও আছে।
আশানুর ইসলাম জানান, কয়েক বছর আগে বাবা আনছার আলীর সঙ্গে হাটে গিয়ে গরু কিনতেন। তখন দেখতেন গরু কেনার পর সেটিকে রাখার জায়গা থাকতো না। আবার ঝড়-বৃষ্টি বা রোদ হলে গরু শারীরিকভাবে কষ্ট পেতো। এমনও দেখা গেছে যে হঠাৎ গরু মারা গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের বড় ক্ষতি হতো। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ভাবেন, গরু রাখার একটি হোটেল করলে কেমন হয়, যেখানে বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে ব্যবসায়ীরা রাখবেন। তারপর সময়মতো গন্তব্যে পাঠাবেন। একপর্যায়ে বাবার সঙ্গে পরামর্শ করে গরুর আবাসিক হোটেল খোলার সিদ্ধান্ত নেন। যেমন সিদ্ধান্ত, তেমন কাজ। এরই মধ্যে হোটেলের খবর ছড়িয়ে পড়ে দূরদূরান্তের গরু ব্যবসায়ীদের কাছে। তারা হোটেলে নিয়মিত রাখছেন শত শত গরু।
আশানুর জানিয়েছেন, হোটেলে সাধারণ সময়ে দৈনিক তিন-চার হাজার এবং কোরবানির ঈদের মৌসুমে দৈনিক পাঁচ-ছয় হাজার টাকা আয় হয়।
হোটেলে আশানুর ও তার বাবা ছাড়াও ছোট ভাই শাহিন মিয়া, ভগ্নিপতি আলাল মিয়াও দেখাশোনা করেন। শাহিন মিয়া বলেন, ‘আমরা মূলত নিরাপত্তার বিষয়টি দেখিন। এখন পর্যন্ত কোনও গরু হারানোর ঘটনা ঘটেনি। এমন অভিযোগও কেউ করতে পারেনি। আমরা শতভাগ নিরাপত্তা দিচ্ছি।’
সুরুজ মিয়া নামে চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ী জানান, তারা রংপুরের শঠিবাড়ি, লালবাগ, বেদগাড়ি, বুড়িরহাট, পাওটানা ও লালমনিরহাটের বড়বাড়ি হাট থেকে গরু কিনেছেন। আগে গরু কেনার পর তাদের পরিবহন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো। অনেক সময় বেশি টানাটানির কারণে গরু ক্লান্ত হয়ে যেতো। এখন গরুর আবাসিক হোটেলে রেখে সুবিধাজনক সময়ে পরিবহন করতে পারছেন।
শরীয়তপুরের জাজিরা থেকে গরু কিনতে রংপুরে আসেন মোহাম্মদ ইব্রাহমী। চার দিন রংপুরে থেকে গরু কিনেছেন ২২টি। তিনি বলেন, ‘রংপুরে এসেছি এক সাইজের গরু কেনার জন্য। অন্য জেলার চেয়ে রংপুর জেলায় গরু কেনায় মজা আছে। একদিনেই অনেকগুলো গরু কেনা সম্ভব নয়। তার জন্য আমরা এই আবাসিক হোটেলে গরু রেখে দুই-তিনটি হাট ঘুরে ২০-২২টি গরু কিনে এক গাড়ি হওয়ামাত্রই নিয়ে যাই।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘এটি ভালো উদ্যোগ। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা এসে বিভিন্ন হাটে গরু কিনে এখানে রাখেন। পরে পরিমাণমতো হলে গাড়িতে করে নিয়ে যান। গরুর আবাসিক হোটেল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা খুব উৎফুল্ল।’
কুমিল্লায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ময়নামতি রেজিমেন্টের তত্ত্বাবধানে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ময়নামতি রেজিমেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিপুলসংখ্যক বিএনসিসি ক্যাডেট অংশগ্রহণ করেন।
র্যালিটি কুমিল্লার আলেখারচর বিশ্বরোড থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরেন।
বিএনসিসি ময়নামতি রেজিমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহত্তর কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ১০টি জেলার ১১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকা বিএনসিসি প্লাটুনের সদস্যরা একই সময়ে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক র্যালিতে অংশ নেন।
একযোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়।
১৫ আগস্টকে ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টাকে প্রতিহত করার লক্ষে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়ন বিএনপি ও উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে রাজনগর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সুজন বেপারীর নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল করে তারা। মিছিলটি বটতলা থেকে জামতলা বাজার পর্যন্ত গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
সমাবেশে সুজন বেপারী বলেন, আওয়ামী লীগের যারা লুটপাট ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এলাকায় থাকা কেউ নাশকতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। নড়িয়া-সখিপুরের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ কোনো ধরনের নাশকতা সহ্য করবেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ঘরে থাকার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে রাজনগর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সাদেক আলী সরদার, নেছার উদ্দিন মেলকার, শাহ আলম ফরাজী, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামরুল মীর বহর, জাকির মুসল্লী, আনোয়ার রাড়িসহ বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির সম্মেলন কক্ষে রংপুর রেঞ্জের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম।
সভায় গত জুলাই/২০২৬ খ্রিঃ মাসে রংপুর রেঞ্জ দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড এবং এ সংক্রান্তে মোট আটটি জেলার পুলিশের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ পর্যালোচনান্তে অত্র রেঞ্জের শ্রেষ্ট জেলা হিসাবে নির্বাচিত হয় পঞ্চগড় জেলা। শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির নিকট থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোঃ আবু সাইম।
এদিকে, রেঞ্জের মধ্যে পঞ্চগড় জেলা শ্রেষ্ঠ জেলা নির্বাচিত হওয়ার খবরটি প্রচারিত হওয়ার পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন পুলিশ সুপারকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপার মো. আবু সাইম বলেন, এ অর্জন আমার একার না পুরো পুলিশ বাহিনী ও জেলাবাসীর অর্জন। আমারা সকলে জেলার আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করবো।
বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি (বিসিডিএস) গাজীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে বার্ষিক মিলনমেলা-২০২৬ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) গাজীপুরের নাটা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি (বিসিডিএস) গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি হাজী মো. শামসুল হক। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল-আমিন হোসেন (অপু), সহ-সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম এবং সাবেক সভাপতি এম এ লতিফ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পূর্ব মেট্রো থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাউদ্দিন, গাজীপুর মহানগর কৃষক দলের সভাপতি আতাউর রহমান আতা, বিসিডিএস টঙ্গী পশ্চিম থানা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রাফিজুল ইসলাম এবং সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য আরাফাত রহমান লিটু, কাউসার মাহমুদ, মো. খোরশেদ আলম, মো. নাসির উদ্দিন মাস্টার, মো. এনামুল হক, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. কানন, মো. সেলিম এবং ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ওষুধ ব্যবসায়ী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
বক্তারা বলেন, ওষুধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য এবং পেশাগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতেই এ ধরনের মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কমন গিফট বিতরণ এবং র্যাফেল ড্র-এর আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেটের ওসমানীনগরে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোঃ আফজাল হোসেন (৩০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার ছয় দিন পর বৃহস্পতিবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দুর্ঘটনা কবলিত ইউনিক বাসের হেলপার মোঃ আফজাল হোসেন (৩০)। নিহতের মোঃ আফজাল হোসেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার শরীফপুর গ্রামের মোঃ সামছু মিয়ার চেলে।
এ নিয়ে ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।
এর আগে গত ৭ আগস্ট শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মারা গেলেন দুর্ঘটনায় আহত বাসের হেলপার।এদিকে, দুর্ঘটনার পর দুর্ঘটনা কবলিত ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল স্লিপারের রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একই সঙ্গে দুই বাসের মালিক ও চালককে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিআরটিএ কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন সিলেট বিআরটিএর সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
গত ১১ আগস্ট তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। তদন্ত শেষে শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্যসচিব।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত সাদমান জাহাঙ্গীর সৌরভের বড় ভাই মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৮ আগস্ট রাতে দুই বাসের চালককে অভিযুক্ত করে ওসমানীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলা দায়েরের ৬ দিন পরও এখনও কোনো গ্রেফতার নেই।
দুর্ঘটনার ছয় দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন বাসের হেলপার। তার মৃত্যুতে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। এ ছাড়া দুই বাসের আরও কয়েকজন যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় একসঙ্গে এত প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খুন হওয়া সিলেটের প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বাদ আসর সিলেট নগরের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে এই দম্পতির জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।জানাজায় যুক্তরাজ্য থেকে এসে অংশ নেন এই দম্পতির একমাত্র ছেলে আরিফ ইফতেখার। শুক্রবারই তিনি দেশে আসেন।
জানাজার পূর্বে মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার বাবা যদি কোন ভুল করেন আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। আর কেউ তার কাছে টাকা পয়সা পেয়ে থাকলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। এরপর পাশাপাশি খাটিয়ায় মরদেহ রেখে একসাথে এই দম্পতির জানাজা সম্পন্ন হয়। তার আগে বিকেলে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের মরদেহ রায়নগরের বাসা থেকে ঈদগাহ ময়দানে আনা হয়।
জানাজার আগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, শান্তির নগরী হিসেবে পরিচিত সিলেটে অতীতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা খুব কমই ঘটেছে।সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। ঘটনার নেপথ্যে কেউ থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা চাই, দ্রুতবিচার আদালতের মাধ্যমে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি করে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।”
সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমের পরিচালনায় জানাজায় মেক্সিকোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা ফখরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক নগরবাসী অংশ নেন।
জানাজা শেষে নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের মরদেহ মানিকপীর (রহ.) কবরস্থানে দাফন করা হয়। দাফন ও জানাজায় অংশ নিতে যুক্তরাজ্য থেকে এই দম্পতির একমাত্র ছেলে ও এক মেয়ে আজ দেশে ফিরেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দেশ ফিরেন দুই মেয়ে। দাফনর পর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত দম্পতির ছেলে থানায় মামলা করবেন বলে জানা গেছে। এর আগে বুধবার সকালে রায়নগরে নিজেদের বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাদের কাজের মেয়ে তাহমিনার (১৮) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গৃহকর্মী তাহমিনার জানাজা ও বৃহস্পতিবারই সুনামগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে সম্পন্ন হয়। আর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির মেয়েরা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে বাবা-মায়ের মরদেহ গ্রহণ করেন।নিহত আব্দুস সাত্তারের চার সন্তানের সবাই প্রবাসে বসবাস করেন। তাদের মধ্যে দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে এবং এক মেয়ে ও একমাত্র ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী এলাকার একটি বাসায় ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনার চার ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ রহস্য উদঘাটনের দাবি করে।জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের প্রেমিক বাবুল মিয়া একাই তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে তাহমিনার সম্মতিতে বাবুল বাসায় প্রবেশ করে। পরে অনৈতিক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে হত্যা করে। তাহমিনার চিৎকারে এগিয়ে আসা গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং পরে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায় এবং কাছের একটি ঝোপে ছুরিটি ফেলে দেয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয় এবং ঝোপঝাড় থেকে ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।
বুধবার সন্ধ্যায় বাবুল মিয়াকে আটকের পর সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেছিলেন, বাবুল মিয়া ওই বাসার রংমিস্ত্রির কাজ করত, মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করত। ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাবুল ওই বাসায় গিয়ে গৃহকর্মীকে নিয়ে একটি কক্ষে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে মেয়েটিকে আঘাত করে।
তিনি বলেন, শব্দ পেয়ে আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে আসেন। তখন তাকেও ছুরি মেরে হত্যা করে বাবুল। পরে সে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়।