রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইজিপি বাহারুল আলম।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:১২ এএম

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয় পুলিশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল। নানান ধরনের বিচ্যুতি ছিল আমাদের মধ্যে এবং আমরা অনেক গণবিরোধী কাজ করেছি।


শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।


আইজিপি বলেন, জুলাই-আগস্ট মাসে যে দুঃখজনক ঘটনাগুলো ঘটেছে, বিপুল পরিমাণ আন্দোলনকারী প্রাণ দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন। এইসব ঘটনার ফলে এবং পুলিশের যারা লোভী এবং দলকানা কিছু নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যের কারণে আমাদের উপরে যে দায়ভার এসেছে, এগুলো থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করানো, তাদের মনোবল বৃদ্ধি করে তাদেরকে আবার তাদের কাজে ফিরিয়ে আনা—এই গত এক বছরে আমরা এটা চেষ্টা করেছি। আমরা বলবো না আমরা শতভাগ সফল হয়েছি, তবে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই।


শতভাগ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কোনো জায়গায় করা যায় না জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এটা শতভাগ তো কোনো জায়গায় করে ফেলা যায় না। আমাদের দেশের গত ১০-১৫-২০ বছরের অপরাধ পরিসংখ্যান যদি নেন, প্রতি বছরই সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার হত্যা সংঘটিত হয়ে থাকে। আমাদের অবশ্যই চেষ্টা থাকবে একজন লোকও যেন মারা না যায়। সেটা আমাদের লক্ষ্য। মানে এই স্ট্রাইভিং টুওয়ার্ডস পারফেকশন যেটা, এটা তো বজায় রাখতেই হবে। কিন্তু আমরা তো সবসময় সেটা পারি না, আমাদের এর মধ্যেও অনেক ধরনের ফেইলিওর থাকে, দুর্বলতা থাকে। এর মধ্যেই এরকম ঘটনা ঘটে যায়। আপনারা জানেন  যে, শরীফ ওসমান হাদি, ওনার মৃত্যু এটা আমাদেরকে, সারা জাতিকে কিভাবে উদ্বেলিত করেছে। আমাদের ওপরে দায়ভার নিয়ে এসেছে এটার সুষ্ঠু সমাধান করার, বিচার করার। তো আমরা এই চেষ্টাটা করেই যাচ্ছি। খুলনা অঞ্চলে বেশ কিছু হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং তার অধিকাংশই আমরা ডিটেক্ট করেছি, এটা কিন্তু করতে পেরেছি।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাহারুল আলম বলেন, অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, নির্বাচনের উপযোগী রাখা এটা আমাদের দায়িত্ব। এবং এখানে শুধু পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ একা না, এখানে পুলিশের সঙ্গে নির্বাচনের দিন তো বিপুল পরিমাণ, ৬ লক্ষের মতো আনসার সদস্য থাকবেন। আর এখন নির্বাচনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, প্রতিরক্ষা বাহিনী আমাদের সঙ্গে আছেন। বর্ডার গার্ড আছেন, ইভেন কোস্ট গার্ড এবং নেভি উপকূলীয় অঞ্চলে তারাও এখন আইনশৃঙ্খলা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।


ডেভিল হান্ট অপারেশন প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, আপনারা জানেন ১৩ ডিসেম্বর থেকে আমরা অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ শুরু করেছি। এ ব্যাপারে আমাদের অনেক সমালোচনাও আছে। অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অনেক প্রার্থী তারা বলছেন যে, আপনার পুলিশ আমার কর্মীকে অ্যারেস্ট করছে, আমার তো নির্বাচনে কাজ করতে পারছি না। আমরা চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব অবজেক্টিভলি কাজ করতে। এখন যিনি পটেনশিয়ালি একজন রিস্কি, মানে থ্রেট, যিনি পটেনশিয়াল থ্রেট ফর দি ইলেকশন—আমরা চেষ্টা করছি তাকে আইনের আওতায় আনতে, তাকে গ্রেপ্তার করতে। অথবা যদি তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা থেকে থাকে যেই মামলায় তিনি আসলেই অপরাধী। যদি অপরাধী না হন আমরা আগেই বলেছি, গত এক বছর ধরেই বলছি, এমনিতেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে উদ্ভূত মামলায় অনেক নাম দেওয়া হয়েছে, শত শত নাম ফর নাথিং, আদৌ তারা জড়িত ছিল না। এবং তাদেরকে আমরা রিলিফ দেওয়ার চেষ্টা করছি। এখন সবচেয়ে বড়  যেটা আপনাদের সমর্থন।


তিনি আরও বলেন, এখন এই পুলিশকে, তাদের মনোবলকে আপনারা সমর্থন দিয়ে উঁচু রাখবেন এবং শক্ত রাখবেন। এখন কোনো অপরাধীকে যদি ধরা হয়, অ্যারেস্ট করা হয়, আর সমাজের লোকজন গিয়ে যদি থানা ঘেরাও করে তাহলে কি আমি ধরে রাখতে পারবো? আপনি যদি মনে করেন আমি অমুকের হত্যার বিচার চাই, রাস্তা বন্ধ করে বসে থাকলেন যে এটা বিচার করতে হবে, না হলে এই শহরের সবাই আজকে চলাচল করতে পারবে না। এইরকম ডিসঅর্ডার যদি রাস্তায় হয়, তাহলে আমি কি ধরে রাখতে পারবো আইনশৃঙ্খলা? আমি পুলিশের প্রাইমেসি প্রতিষ্ঠার জন্য, ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রাখার জন্য, নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার জন্য যে পরিবেশ তৈরি করতে হবে তার জন্য আপনি তো আমাকে অথরিটি দিবেন। এখন অ্যারেস্ট করলে আপনি ঘেরাও দিয়ে বসে থাকবেন, থানা থেকে যে তাকে ছাড়তে হবে, তাহলে তো আই ডু নট হ্যাভ এনি অথরিটি। আমি আপনাদের কাছ থেকে, সমাজের কাছ থেকে এটা চাই। যদি অন্যায় করি ধরেন আমাকে। কিন্তু ন্যায় কাজটা আমাকে করতে দেন। এই অনুরোধ আপনাদের কাছে।


এর আগে, পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড অডিটোরিয়ামে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভায় আইজিপি বাহারুল আলম বক্তব্য রাখেন।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৩ পিএম

তৃতীয়বারের মত প্রকাশ্য গণনায় সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্স খুলে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। গণনা শেষে নগদ টাকার পাশাপাশি ২ ভরি ১ আনা স্বর্ণ ও ১ ভরি ২ আনা রুপা মিলেছে।


আজ শনিবার সন্ধ্যার দিকে গণনা শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দানবাক্স থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৩১ পাউন্ড, ভারতীয় রুপি ৩ হাজার ২৪৮, পাকিস্তানি রুপি ৬০, সৌদি রিয়াল ৭০, মালয়েশীয় রিঙ্গিত ৮৩, আমেরিকান ডলার ৪, নেপালি রুপি ১০০, ওমানি মুদ্রা ১ হাজার পায়সা ও ১ রিয়াল, আরব আমিরাতের ৬৪ দিরহাম ২২ সেন, ইরাকি দিনার ২৫০, তুর্কি লিরা ৯০, ভিয়েতনামের ডলার ১ হাজার, জাপানি ইয়েন ১ হাজার, কাতারি রিয়াল ১১২ রিয়াল ৫০ পয়সা, লেবাননের পাউন্ড ১০, মিসরীয় পাউন্ড ১০, ইউরো ৪০ পয়সা, বাহরাইনি মুদ্রা ১ পয়সা এবং কানাডীয় ডলার ১।


মাজারে নজরানা হিসেবে পাওয়া গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগির হিসাবও আলাদাভাবে করা হয়েছে।


এদিন সকালের দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ ও স্থাপন করা পাঁচটি দানবাক্স তৃতীয়বারের মত খোলা হয়। এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, সর্বশেষ ১১ জুলাই দানবাক্স খোলা হয়েছিল। এরপর প্রায় এক মাসের ব্যবধান হয়েছে। এবারও সবার উপস্থিতিতে প্রকাশ্যেই টাকা গণনা করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, স্থানীয় রাজনীতিক, গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাজারের মুয়াল্লি এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে টাকা গণনা করা হচ্ছে। সাংবাদিকেরাও বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন। অর্থ গণনা নিয়ে যাতে কোনো ধরনের সন্দেহ বা অবিশ্বাস তৈরি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের বহু বছরের পুরানো প্রথা ভেঙে প্রকাশ্যে টাকা গণনা করা হয় ২২ জুন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স স্থাপনের মাত্র চার দিনের মাথায় এ গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে ১১ জুলাই দ্বিতীয়বার দানবাক্স খোলা হয়; সেসময় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশি মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণসহ অন্যান্য সামগ্রীও ছিল।


দ্বিতীয় দফায় গণনার প্রায় ৩৪ দিন পর শনিবার তৃতীয়বারের মত প্রকাশ্যে টাকা গণনা করা হয়েছে।


মাদকবিরোধী অভিযানে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪০ পিএম

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পর পাল্টা গুলিতে জসিম (২৪) নামের এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আজ শনিবার বেলা সোয়া তিনটার দিকে ফতুল্লার ইসদাইর রেলস্টেশনের পাশে আরবান স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।


এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ জসিমসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। 


পুলিশের তিন সদস্য ও গুলিবিদ্ধ জসিমকে শহরের খানপুরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন ইসদাইর এলাকার রেজ্জাক বাহিনীর প্রধান রেজ্জাকের ছেলে জসিম এবং একই এলাকার আবদুস সালামের ছেলে মোহন (২৩)। তাঁরা দুজন মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী বলে জানিয়েছে পুলিশ।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইসদাইর রেলস্টেশনের পাশে আরবান স্কুলের সামনে সাত থেকে আটজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় ফতুল্লা থানা-পুলিশের একটি দল। এ সময় অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা কয়েকটি গুলি ছোড়েন। এ সময় ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিক ও নন্দন চন্দ্র সরকার পাল্টা আটটি গুলি ছোড়েন। একপর্যায়ে জসিমের ঊরুতে গুলি লাগে। পরে তাঁকে আটক করার পাশাপাশি মোহনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে এক অস্ত্রধারী ঊরুতে গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


এর আগে গত ২ এপ্রিল ইসদাইরের ৫২ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫৩টি গুলিসহ রেজ্জাক বাহিনীর প্রধান রেজ্জাক ও তাঁর ছেলে ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রেজ্জাকের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, মাদক, চাঁদাবাজিসহ ১২টি মামলা আছে। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা করে। বর্তমানে রেজ্জাক জামিনে থাকলেও তাঁর ছেলে ওয়াসিম কারাগারে আছেন।


  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৩ পিএম

নীলফামারীর ডিমলা থানায় ছাদের পলেস্তারা ধসে এক এএসআই আহত হয়েছেন। এ সময় একটি কম্পিউটারও ভেঙে গেছে। ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ডিউটি অফিসারের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন। হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা ধসে তার শরীর ও টেবিলের ওপর পড়ে। এতে তিনি কাঁধে আঘাত পান।


পরে তাকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।


এএসআই মসলিম উদ্দিন বলেন, “ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব পালন করছিলাম। হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ে। এতে আমার কাঁধে আঘাত লাগে। এ সময় থানার কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটারও ভেঙে যায়।”


ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, “বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে কক্ষটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”


  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১১ পিএম

অভ্যন্তরীণ বোরো ২০২৬ মৌসুমে গাইবান্ধার ৭ উপজেলার ১১ টি এলএসডিতে ধান ক্রয় করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩ শত ৯৬ মে.টন। যেখানে সরাসরি গোডাউনে এসে ধান দিতে পেরে হাসি ফুটেছে গাইবান্ধার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের মুখে।


জানা যায়, বোরো মৌসুম ২০২৬ এ ধান সংগ্রহের জন্য কৃষকদের Apps এর মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন/আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য গাইবান্ধা জেলা জুড়ে ব্যাপক প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। যাতে করে প্রকৃত কৃষকরা নিজের বা পরিবারের মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আবেদন বা নিবন্ধন করতে পারেন। যেখানে খাদ্য গোডাউনে ধান কখন, কীভাবে দিতে হবে তার স্পষ্ট সুনির্দিষ্ট ধারণা পান প্রান্তিক কৃষকরা।




গাইবান্ধা সদর, বোনারপাড়া, ফুলছড়ি, সাদুল্লাপুর, নলডাঙ্গা, বামনডাঙ্গা, সুন্দরগঞ্জ, মহিমাগঞ্জ, গোলাপবাগ, কামদিয়া, পলাশবাড়ীসহ মোট ১১ টি এলএসডিতে নির্বাচিত কৃষকদের কাছে থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে কৃষক প্রতি ৩ টন করে ধান ক্রয় সম্পন্ন করেছে। ধান সংগ্রহে কৃষকদের নিজেদের ব্যাংক হিসাবে তাঁদের ন্যায্য মূল পরিশোধ করে খাদ্য বিভাগ। এতে করে হয়রানি ছাড়াই সুষ্ঠু পরিবেশে গুদামে ধান দিয়ে কৃষকরা অনেক আনন্দিত।


ধানের বিষয়ে কথা হয় বোনারপাড়া ইউনিয়নের কৃষক লাজু মিয়ার সাথে তিনি জানান, একজন কৃষক হিসেবে গুদামে ধান দিয়ে ন্যায্য মূল্য পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। তবে গুদামে ধান দেয়ার পরিবেশ খুবই ভালো ছিলো। গুদামে কর্তব্যরত সকলের সহযোগিতাও পেয়েছি অনেক।


গাইবান্ধা সদর এলএসডি'র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস.এম শাহিদ হাসান জানান, প্রকৃত কৃষকদের কাছে থেকে ধান নিতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। অনেক কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তারা ফসল ফলান। তাঁরা আমাদের দেশ ও দশের গর্ব। যতটুকু পেরেছি তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি।


গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রওশানুল কাওছার জানান, আমার উপজেলায় খাদ্য গোডাউনে সঠিকভাবে ধান সংগ্রহ করার লক্ষ্যে এলএসডি গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভালোভাবে নির্দেশনা দেয়া আছে। কৃষকদের ধান কৃষকরা যেন সম্মানের সাথে দিতে পারেন। পাশাপাশি আমিও মাঝে মাঝে পরিদর্শন করেছি।


ধান সংগ্রহ নিয়ে গাইবান্ধা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুন্ডু জানান, গাইবান্ধায় ১১ টি এলএসডি গোডাউনে নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে থেকে মোট ১৪ হাজার ৩ শত ৯৬ মে.টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। যেখানে কৃষকরা আনন্দের সাথে গোডাউনে এসে স্ব শরীরে উপস্থিত থেকে ধান দিয়ে নিজেদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ নেয়। আমাদের সকল কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া আছে, কৃষকরা আমাদের দেশের সম্পদ তাদের সম্মানের যেন ঘাটতি না হয়।


জেলা জুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন গোডাউনে ধান দিয়েছে গাইবান্ধার কৃষকরা। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সুন্দর ব্যবস্থাপনার কারণেই কৃষকেরা এমন পরিবেশ পেয়েছেন। ভবিষ্যতে যেন এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। পাশাপাশি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ধান দিতে পেরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কৃষকসহ স্থানীয় সচেতনমহল।


  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৬ পিএম

বানিজ্য, শিল্প বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সিলেট অঞ্চলে অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষি উন্নয়নে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের কৃষি কাজে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে কৃষির  উন্নয়ন করতে হবে। 


তিনি আজ শনিবার সিলেট নগরির একটি বেসরকারি রেষ্টুরেন্টে "আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ে বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বিগত বছরে বাস্তবায়ন মূল্যায়ন'' বিষয়ক জেলা পর্যায়ের কর্মশালায় প্রধান অতিখির বক্তব্যে এ কথা বলেন।


সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালক ডক্টর মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে রাখেন প্রকল্প পরিচালক রফিক উদ্দিন। এতে মূল প্রবন্দ পাঠ করেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর শহিদুল ইসলাম। পবিত্র কোরান ও গিতা পাঠের মাধ্যেমে ও মনিটরিং অফিসার আক্রাম হোসেনের পরিচালনায় শুরু হওয়া কর্মশালায় আলোচনায় অংশ নেন গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃষক আব্দুল আহাদ, সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শামীম আহমদ, শামীমূল হক, রাশেদুজ্জামান, রায়হান পারভেজ রনি। এতে প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তা, রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, কৃষক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। 




কর্মশালায় মন্ত্রী আরো বলেন, সিলেটে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে কৃষকরা তিন ফসলা জমির পরিমান বাড়াতে পারবে। তাই কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনা করে তার ব্যবস্থা করবো। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ণ প্রকল্প এর আয়োজন করে। কর্মশালা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান দেশের চলমান গ্যাস সংকট থেকে স্থায়ীভাবে বের হতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। 


তিনি আরো বলেছেন, গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি বাস্তবতা। তবে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই। 


খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন মিল ও কারখানা গ্যাসের সংকটে ভুগছে, এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতি বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; এটি ‘উত্তরাধিকার সূত্রে’ পাওয়া সংকট। তবে সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রচলিত চিন্তাভাবনার বাইরে গিয়ে কাজ করছে। স্থায়ীভাবে সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য অবকাঠামো তৈরি করতেই হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।


তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো তৈরি করে এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, সেটা দিতে হবে। এই অবকাঠামো তৈরির কাজ শেষ করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।’  


তবে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আনার সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মালয়েশিয়ার ছোট আকারের জাহাজগুলো বর্তমানে অন্যত্র কাজে নিয়োজিত। ফলে সেখান থেকে দ্রুত গ্যাস আনার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও সাময়িকভাবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি করা যায় কিনা, সে বিষয়ে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 


মন্ত্রী বলেন, আপৎকালীন কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটি নিয়ে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নিতে হবে।


  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০৫ পিএম

সরকারি হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রতি মানবিক ও সেবামূলক মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ।


আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে অংশীজনদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।




প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ও সেবা নিতে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে সব ধরনের বাধা ও বৈষম্য দূর করা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অতি দ্রুত পঞ্চগড়ের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন হাসপাতাল চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।


মতবিনিময় সভায় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন, পুলিশ সুপার আবু সাইম, সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহেরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আদম সুফি, জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।