ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল ১ লাখ ২ হাজার ১৯৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত আবুল কালাম পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪৩১ভোট।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন সৌরভ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত লালপুর উপজেলার ৮৪টি ও বাগাতিপাড়া উপজেলার ৪১টি ভোট কেন্দ্রে বিরতিহীন ভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ভোট গ্রহণ করা হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে মোট ভোটার ৩লাখ ৬৮ হাজার ২৭৬ জনের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৯৫ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৭৯ জন ও ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে।
আসনটিতে মোট ভোট পড়েছে ২ লক্ষ ৭২ হাজার ৩৫৫টি, এর মধ্যে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ১৯৭টি, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত মাওলানা আবুল কালাম আজাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪৩১টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু কলস প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৭২ হাজার ৮৮৭টি, ইয়াসির আরশাদ রাজন ঘোড়া প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৭৮টি, বিপ্লবী ওয়াকাস পার্টির প্রার্থী আনসার আলী কোদাল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২৭৫টি, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল্লাহিল বাকী হাতপাখা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ২৫৩টি, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সোহাগ হোসেন ট্রাক প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২৯৮টি, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী সেন্টু আলী মাথার প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২৭৯টি, ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন হরিণ প্রতীকে ১১৩টি ভোট পেয়েছেন। আসনটিতে বাতিলকৃত ভোটের পরিমাণ ৫০০২টি।
ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের পিতা সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল এ আসনটিতে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ৪ বার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যায়। বাবার হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করলেন মেয়ে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শামীম পুতুল ভোটের ফলাফল জানার পর এক প্রতিক্রীয়া জানান এই বিজয় লালপুর-বাগাতিপাড়ার সকল মানুষের। এই বিজয় ধানের শীষের। যে সকল নেতাকর্মীরা নির্বাচনি মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ( ২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর বাড়িতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন Social Progress and Development Society (SPDS)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সারমীন আক্তার।
সাক্ষাৎকালে সারমীন আক্তার এসপিডিএসের পক্ষ থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতির নতুন দায়িত্বের সফলতা কামনা করেন এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে তাঁর নেতৃত্বে একটি সুন্দর, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এসপিডিএসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সারমীন আক্তার বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে এবং নতুন দায়িত্বের জন্য শুভকামনা জানাতেই এই সাক্ষাৎ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
সাক্ষাৎ শেষে সারমীন আক্তার মহামান্য রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানুষের কল্যাণে তাঁর নেতৃত্ব আরও কার্যকর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, Social Progress and Development Society (SPDS) দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
গাজীরহাট হাজি নৈমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
খুলনার দিঘলিয়ায় হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে তাকে স্কুলের পাশের ভবনের কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক উদ্ধার করেন। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উদ্ধার শিক্ষার্থী উপজেলার গাজীরহাট হাজী নৈমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে বিদ্যালয়ের টয়লেটে যায় সে। কিন্তু পেছন থেকে কে বা কারা তাকে মারধর ও তার ওপর চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে। চেতনা ফিরে এলে সে দেখে তার হাত-পা ও মুখ বাঁধা। এ সময়ে বাথরুমের ভেতর থেকে চিৎকার করতে থাকে।
তারা আরও জানান, বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী একটি ভবনে কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন। পরে তারা ওয়াশরুমের দরজা ভেঙে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে খুলনার বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়।
খুলনার দিঘলিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সাথে সে কথা বলেছে। হামলাকারীদের সে দেখতে পায়নি। বিস্তারিত কোনো কিছু সে জানাতে পারেনি। ঘটনাস্থলে পুলিশে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। ঘটনার পর ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় ওয়াসিম মিয়া নামের এক ব্যক্তির মাদক সেবন ও অসদাচরণের প্রতিবাদ করেন স্থানীয় যুবক আলমগীর হোসাইন। এ নিয়ে ওয়াসিমের সঙ্গে আলমগীরের বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এর জের ধরে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলমগীর হোসাইনের বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি আবারও বাড়িতে এসে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পটুয়াখালীর মহিপুরে চার বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সেকান্দার চৌকিদার (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতার সেকান্দার চৌকিদার অনন্তপাড়া এলাকার মৃত মোতাহার আলীর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সেকান্দার চৌকিদার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের অনন্তপাড়ার একই এলাকায় বসবাস করায় মাঝেমধ্যে ভিকটিমের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৮টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশুটিকে তার পৈত্রিক বাড়ির সংলগ্ন খালপাড়ে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ আগস্ট মহিপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মহিপুর থানার (মামলা নং-০৭)মামলা রুজু করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে অভিযুক্ত সেকান্দার চৌকিদারকে গ্রেফতার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো শামীম আহমেদ বলেন, “চার বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামি সেকান্দার চৌকিদারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।”
সিলেট নগরীতে বাসার ভেতরে ঢুকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের আদালত পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামী বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে ফের জেল-হাজতে প্রেরণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জবানবন্দিতে তিনি আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। যা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাবে না।’
এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বাবুল মিয়াকে আদালতে তোলে পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে জবানবন্দি শেষে তাকে আদালত থেকে বের করা হয়।
সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফারহানা সুলতানা গত রোববার (১৬ আগস্ট) বাবুল মিয়ার চারদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। এদিন পুলিশ বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে আদালত তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
সিলেট নগরির রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে গত বুধবার সকালে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে শুক্রবার রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। তবে অভিযোগে তিনি হত্যাকাণ্ডে পুলিশের হাতে আটক বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আইনজীবী ও ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেন সেলিনা। মামলার এজহারে সেলিনা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তার বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতককে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার ঘটনায় মায়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সৌরভ হোসেন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে নিহতের মা ফাতেমা বেগমকে (১৯)। এর আগে, সোমবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ির সৌরভের ঘরে এ ঘটনা ঘটে। পরে একই দিন রাত ১০টার দিকে বসতঘরে রাখা একটি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ড্রাম থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নবজাতক ওই বাড়ির সৌরভ হোসেনের ছেলে। গ্রেপ্তার ফাতেমা বেগম বেগমগঞ্জের নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। এরপর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যা থেকে নবজাতক নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা ফাতেমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, পেছন থেকে তাকে মাথায় আঘাত করে কে বা কারা শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে বলেন, জিনে নিয়ে গেছে। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘরে থাকা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। নবজাতক জ্বালাতন করত,ঘুম যেতনা, অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত, মাকে ঘুম যেতে দিতনা বলে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে পেলে তাকে হত্যা করেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে ঘটনার পরপরই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী মাকে একমাত্র আসামি করে মামলা নেওয়া হয়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসি মো. শামসুজ্জামান আরও বলেন, নবজাতকের মা তাকে বসতঘরে থাকা বৃষ্টি পানি রাখার ড্রামে ফেলে মুখ বন্ধ করে দেন। এতে নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।