সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির প্রবীণ নেতা মরহুম ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যু বার্ষিকী ১১ আগষ্ট। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, জনসম্পৃক্ততা এবং এলাকার উন্নয়নে অবদান লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষের কাছে আজও স্মরণীয়। চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি শুধু নিজের রাজনৈতিক অবস্থানই সুদৃঢ় করেননি, নাটোর জেলার প্রথম মন্ত্রী হওয়ার গৌরবও অর্জন করেছিলেন।
আজ ১১ আগস্ট তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৬ সালের এই দিনে কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার রবীন্দ্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে লালপুর-বাগাতিপাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। মৃত্যুর এক দশক পরও রাজনৈতিক সহকর্মী, কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে তিনি অম্লান।
শৈশব ও পারিবারিক জীবন
ফজলুর রহমান পটল ১৯৪৯ সালের ২৪ এপ্রিল নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম আরশাদ আলী, মা ফজিলাতুন নেছা। পাঁচ ভাই ও এক বোনের পরিবারে তিনি ছিলেন সবার বড়। পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন ছিলেন তাঁর চাচা।
১৯৮৪ সালের ১৪ মে কামরুন্নাহার শিরিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফজলুর রহমান পটল। কামরুন্নাহার শিরিন পরবর্তীতে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে।
বড় ছেলে ইয়াসির আরশাদ রাজন একজন চিকিৎসক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি এবং লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। ছোট ছেলে ইস্তেখার আরশাদ প্রতীক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বড় মেয়ে ফারহানা শারমিন কাকন গৃহিণী। ছোট মেয়ে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল নাটোর ১ ( লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
শিক্ষাজীবন ও ছাত্ররাজনীতি
লালপুর উপজেলার ২ নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ফজলুর রহমান পটল গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে পাবনার রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৬৭ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন।
এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে তিনি দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৭৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান পটল। ছাত্রজীবনের এই নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাঁর জাতীয় রাজনীতির পথকে আরও সুগম করে।
বিএনপির রাজনীতিতে পথচলা
১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে যুক্ত হন ফজলুর রহমান পটল। এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন বিএনপির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেন। দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকা লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষের সঙ্গেও তাঁর ছিল নিবিড় যোগাযোগ।
চারবার সংসদ সদস্য, জেলার প্রথম মন্ত্রী
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চার মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান পটল। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি ছিল জাতীয় সংসদে বারবার নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা।
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের শাসনামলে তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি নাটোর জেলার প্রথম মন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
২০০১ সালের ১ অক্টোবরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চারদলীয় জোট সরকার গঠিত হলে ফজলুর রহমান পটল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ এলাকার উন্নয়নেও তিনি ভূমিকা রাখেন।
উন্নয়নে তাঁর অবদান
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে আজিমনগর রেলস্টেশন ভবন , লালপুরে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্টেডিয়াম, রাস্তাঘাট, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্থানীয় মানুষের কাছে তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্মৃতির মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং যোগাযোগব্যবস্থার প্রসারে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার শিক্ষা, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কথাও এখনও স্মরণ করেন তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীরা।
শেষ অধ্যায়
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ফজলুর রহমান পটল। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রার্থী আবু তালহার কাছে তিনি পরাজিত হন।
এরপর জীবনের শেষ সময়ে তিনি কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট রবীন্দ্র হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে লালপুর-বাগাতিপাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।
স্মৃতিতে পটল
রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু একজন নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনকে মূল্যায়ন করতে গেলে তাঁর কর্ম, নেতৃত্ব, জনসম্পৃক্ততা এবং এলাকার মানুষের জন্য রেখে যাওয়া অবদান সামনে আসে। সেই বিচারে ফজলুর রহমান পটলের রাজনৈতিক জীবন ছিল ঘটনাবহুল ও বর্ণাঢ্য।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের অনেক জেলার মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও দেখা দিয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) তীব্র সংকট। এর ফলে তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে জেলার সবকটি ফিলিং স্টেশন। যার প্রভাব পড়েছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের মাঝে। জেলায় সীমিত হয়ে গেছে যান চলাচল।
ফিলিং স্টেশনগুলোর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বুধবার বেলা ১১টার পর থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুরোপুরিভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ চালু হবে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এরপর গ্যাস সংকটে সবকটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যানবাহন চালকরা। বাধ্য হয়ে অনেক সিএনজি অটোরিকশা চালক এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন তারা।
মূলত গ্যাস সরবরাহ বন্ধের আগে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করতো বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। যদিও চাহিদা রয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তবে সংকটের কারণে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ ছিল কম। সাধারণত ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও ৩-৪ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হতো। সর্বশেষ গত বুধবার থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমিয়ে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ। এতে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়িকে আটকা পড়ে। গ্যাস না পেয়ে অনেক চালকই গাড়ি পার্কিং করে রেখে গেছেন।
এ দিকে, গ্যাসের অভাবে সড়ক-মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার চলাচলও কমে গেছে। এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে স্বল্প সংখ্যক অটোরিকশা চললেও ভাড়া নিচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরাও।
মো. মেহেদী নামে এক যাত্রী জানান, শহরের কুমারশীল মোড় থেকে নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীতে যাওয়ার জন্য এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর একটি সিএনজি অটোরিকশা পান। তিনি বলেন, ‘তবে ভাড়া চাওয়া হয় ৮০ টাকা। যদিও নিয়মিত ভাড়া ৪০ টাকা। পরে দরকষাকষি করে ৭০ টাকায় রাজি করাই অটোরিকশা চালককে।’
জনি মিয়া নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক জানান, শহরের কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় রুটে অটোরিকশা চালান তিনি। এ রুটে নিয়মিত শেয়ারে যাত্রাী ভাড়া ৫০ টাকা। তবে গ্যাস সংকটের কারণে গত বুধবার থেকে ৭০ টাকা ভাড়া নিচ্ছিলেন যাত্রীদের কাছে। তিনি বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এলপিজি সিলিন্ডারে অটোরিকশা চালাতে হচ্ছে। এ কারণে ৯০ টাকা ভাড়া নিচ্ছি।’
ফাহাত ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম জানান, গত বুধবারর থেকে ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তাই যানবাহনে গ্যাস না দিতে পারায় ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছেন। বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) অথবা সোমবার গ্যাস সরবরাহ করার কথা জানিয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পনি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, ‘এলএনজি সংকটের কারণে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দেয়া যাচ্ছে না। কবে নাগাদ এই সংকট কাটবে সে সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও আমাদের কিছু জানাতে পারছে না। তবে কিছুদিন সময় লাগবে- এটা বুঝা যাচ্ছে।’
টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র লোডশেডিং। জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৩৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২২৩ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতির কারণে দিন-রাত জুড়ে দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট- এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১০ মেগাওয়াট। অপরদিকে, গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ২০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১১৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কাছাকাছি সরবরাহ পাওয়ায় জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১ বা ২ ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। বাসাবাড়িতে ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাতে না পারায় গরমে দিনভর চরম অস্বস্তিতে থাকতে হচ্ছে সব বয়সী মানুষকে। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ঘুমাতে পারছেন না- যার প্রভাব পড়ছে তাদের কর্মক্ষমতা ও স্বাস্থ্যে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে মিল-ইন্ডাস্ট্রিজ ও বড় বড় কলকারখানাগুলোতে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালু রাখতে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে। এতে জ্বালানি খরচ জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই বাড়তি জেনারেটর খরচ বহন করতে না পেরে সরাসরি লোকসানের মুখে পড়ছে। বিদ্যুৎ সংকটে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানের ব্যবসা-বাণিজ্যও।
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পেও লোডশেডিংয়ের কালো ছায়া পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দিনের বড় অংশজুড়ে তাঁত চালানো বন্ধ রাখতে হচ্ছে শ্রমিকদের। এতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, কর্মহীন হয়ে পড়ছেন সাধারণ তাঁতশ্রমিকরা। একই অবস্থা জেলার পোলট্রি খামারগুলোতেও। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো যাচ্ছে না। তীব্র গরমে দম আটকে প্রতিদিন খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়ে ক্ষুদ্র খামারিরা বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এটিএম লুঙ্গি ফেব্রিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীলিপ কুমার সাহা জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন বন্ধ আর উৎপাদন বন্ধ মানে লোকসান। দিনে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। দ্রুত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, পল্লী বিদুতের আওতায় জেলায় বিদ্যুৎ চাহিদা ২০০ মেগাওয়াটের স্থলে সরবরাহ পাচ্ছেন ১১৩ মেগাওয়াট। ঘাটতির কারনে ঘন ঘন লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের(বিউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবাইদুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় সাময়িক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের উত্তর শৌলা এলাকায় শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী বিধবা নারী সালমা বেগম।
লিখিত অভিযোগে সালমা বেগম উল্লেখ করেন, উত্তর শৌলা এলাকায় তাঁর বসতবাড়ির পাশের জমিতে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে তাঁর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গর্ত বা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন।
সরেজমিন গিয়ে ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের
উত্তর শৌলা গ্রামের মৃত শুকুর মুন্সীর স্ত্রী বিধবা সালমা বেগমের জমির পাশে প্রতিবেশী মালেক মুন্সী, হালেম মুন্সী, সোলেমান মুন্সী, সবুজ মুন্সী ও মজিদ মুন্সীর বিরুদ্ধে ড্রেজার বসিয়ে মাটির উপরিভাগসহ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পার্শ্ববর্তী চন্দ্রপুর ইউনিয়নের মুজাহিদের মাধ্যমে ড্রেজার এনে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সালমা বেগম বলেন, “আমার স্বামী মারা গেছেন। আমার কোনো ছেলে নেই। এই সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে পাশের জমির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ড্রেজার বসিয়ে আমার জমির আশপাশ থেকে মাটির উপরিভাগসহ বালু উত্তোলন করছেন। প্রতিবাদ করলে আমাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এর ন্যায্য বিচার চাই।”
সালমা বেগমের মেয়ে নাজনীন বলেন, “আমার বাবা নেই। আমার কোনো ভাইও নেই। মানুষ দিয়ে এই জমিতে চাষাবাদ করাই। এই জমিটুকু নিয়ে নিলে আমরা কীভাবে বাঁচব? আমাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।”
আরেক ভুক্তভোগী আনসার হাওলাদার বলেন, “এখানে আমার ২৪ শতক জমি আছে। আমার জমিও মালেক মুন্সী, হালেম মুন্সী, সোলেমান মুন্সী, সবুজ মুন্সী ও মজিদ মুন্সীর নেতৃত্বে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। আমার ফসলি জমি এখন ঝুঁকিতে। আমরা দ্রুত এর প্রতিকার চাই।”
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, “আমরা বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে তহসিলদারকে পাঠিয়েছি। অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ময়মনসিংহের ভালুকায় অগ্নিকাণ্ডে ‘মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান পুড়ে গেছে। শুক্রবার (১৩ আগস্ট) সকালে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ফুটওভার ব্রিজসংলগ্ন স্থানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দোকান মালিকের দাবি, আগুনে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে হঠাৎ ওই দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি ভালুকা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে এর আগেই দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক সামগ্রী পুড়ে যায়।
দোকান মালিক খালেদ হাসান বলেন, ‘আমার দোকানে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল ছিল। আগুনে সবই পুড়ে গেছে। আমার ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নাই।’
প্রাথমিকভাবে দোকানের সাইনবোর্ডের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন দোকান মালিক খালেদ হাসান।
ভালুকা ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে দোকানের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোকানটির মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী খালেদ হাসান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও আগুনের সূত্রপাতের কারণ খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।
ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের একই পরিবারের তিন বাংলাদেশির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে ঘটনার ১ মাস ১৯ দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাদ মাগরিব উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
নিহতরা হলেন, চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়ন। তিনি শুক্রবার বিকেলে দেশে পৌঁছে জানাজা ও দাফনে অংশ নেন। এর আগে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহত তিনজনের মরদেহ পৌঁছায়। পরে স্বজনরা মরদেহগুলো গ্রামের বাড়ি কোম্পানীগঞ্জে নিয়ে যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে নিহত হন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১১ আগস্ট ইতালির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়ায় নিহত তিনজনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত মো.শাহাদাত হোসেন (৪০) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল আহাদের ছেলে।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন উল্লেখ করে গত ২৭ জুন তার ছবি প্রকাশ করে ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, ছবিতে থাকা ব্যক্তি রোমে ট্রিপল মার্ডারের মূল হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। শাহাদাত হোসেনের বয়স ও জাতীয় পরিচয় উল্লেখ করে তার বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে রোম কোয়েস্টের মোবাইল টিমে (৩৩৪৬৯০৩২৯৫) জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নিহত বাবুলের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস বলেন, ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। পাঁচ বোনের মধ্যে বাবুল এক ভাই। দেশে এলে সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। এমন নির্মম ঘটনায় তারা বাকরুদ্ধ। ঘটনায় অভিযুক্ত শাহাদাতকে এখনো আইনের আওতায় না আনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে ইতালিয়ান পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ জুলাই চরকাঁকড়া ইউনিয়নে তাদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের নামে একটি উড়ো চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে পরিবারের কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করলে ছেলে-নাতিকে হত্যাসহ পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা। পরে নিরাপত্তাশঙ্কার কথা জানিয়ে নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম কোম্পানীগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
নিহত বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ফেলেছে। সেখানেই তাকে স্ত্রী-সন্তানসহ দাফন দেওয়া হলো। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি বিচার চাই।”
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র
পাম্পে ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউনিটটি চালু করতে একদিন সময় লাগতে পারে। আজ শুক্রবার সকালে এই ইউনিট বন্ধ করা হয়। বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এই ইউনিট চালু করতে প্রয়োজনীয় মেরামত কার্যক্রম চলছে। আগামীকালের মধ্যে চালু করা হবে। ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ করেই শুক্রবার সকালে ১ নম্বর ইউনিটের পাম্পে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে ওই ইউনিট বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হওয়ার আগে এই ইউনিট থেকে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছিল।
তবে এই কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিট চালু রয়েছে। এই ইউনিট থেকে ১৭০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। আর এই কেন্দ্রের ২ নন্বর ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে।