• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ এএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রুদ্র সেন সিলেটে জুলাই সংঘর্ষে পুলিশে দাওয়ায় পানিতে ডুবে মারা যাওযার  হত্যা মামলায় তদন্তে ২ বছরেও তেমন অগ্রগতি নেই, বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে অনেকে। 


২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে পুলিশের হামলার সময় সুরমা আবাসিক এলাকার লেকে পড়ে পানিতে ডুবে মারা যান দিনাজপুর সদর উপজেলার সুবীর সেন ও শিখা বণিক দম্পতির পুত্র রুদ্র সেন। সে ই ১৮ জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সিলেটের প্রথম নিহত শাবি শিক্ষার্থী। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে ডুবে যায় একটি পরিবারের সকল স্বপ্ন। 


সেদিন কি ঘটেছিলঃ ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের শাহাদাতকে কেন্দ্র করে উত্তাল ছিল দেশ। এমন সময়ে শাবি ক্যাম্পাস ও এর পাশ্ববর্তী এলাকার সকল কর্মসুচীতে রুদ্র সেন ছিলেন সক্রিয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী হওয়ায় সে প্রশাসনের টার্গেটে পরিনত হয়েছিল। ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি ছিল। সেদিন শাবিপ্রবির প্রধান ফটকের পাশে সুরমা আবাসিক এলাকায় পুলিশ অস্ত্র, অবৈধ বন্দুক, রাইফেল, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্র-জনতার উপর নির্বিচারে গুলীবর্ষণ ও হামলা চালায়। এতে অনেকে গুলিবিদ্ধ ও শারীরিক ভাবে গুরুতর আহত হন। হামলার একপর্যায়ে পুলিশের  ধাওয়া খেয়ে আহত অবস্থায় রুদ্র সেন সুরমা আবাসিক এলাকা ও বাগবাড়ী এতিম স্কুলের রাস্তার সংযোগস্থলে একটি খাল ভেলায় চড়ে পাড় হওয়ার চেষ্টার করেন। সে সময় ভেলাটি উল্টে গিয়ে তিনি পানিতে পড়ে যান। সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে মারা যান। 


পরবর্তীতে তার মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়। সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সামসুল ইসলাম পানিতে ডুবে রুদ্রের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন তার মরদেহ গ্রামের বাড়ীতে পাঠানো হয়। 


তদন্তের বৃত্তে বন্দী বিচার প্রক্রিয়াঃ ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের ফলে বদলে যায় প্রেক্ষাপট। এমন পরিস্থিতিতে রুদ্র সেন নিহতের ঘটনায় ঐ বছরের ১৯ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তৎকালিন সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার সাদেক কাউসার দস্তগীরসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়। 


এছাড়া মামলায় পুলিশের ৫ জন কনস্টেবল ও দুজন উপপরিদর্শককে (এসআই) আসামি করা হয়েছে। মামলার এজহারনামীয় অন্য আসামিরা হলেন- মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, একই থানার ওসি (তদন্ত) আবু খালেদ মো. মামুন, সিলেট-৩ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব, শাবিপ্রবি ভিসি ফরিদ উদ্দিন, মৌলভীবাজারের সাবেক সাংসদ শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সাংসদ রনজিৎ সরকার, সিসিকের সাবেক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাশ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশওয়ার জাহান সৌরভ, সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ, শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সজিবুর রহমান প্রমুখ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়- রুদ্র সেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। 


২০২৪ এর ১৮ জুলাই কেন্দ্র ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি ছিল। সেদিন শাবিপ্রবির প্রধান ফটকের পাশে সুরমা আবাসিক এলাকায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ সন্ত্রাসীরা সরকারি ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, বন্দুক, রাইফেল, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শান্তিপ্রিয় ছাত্র-জনতাকে আক্রমণ করে। এতে অনেকে শারীরিকভাবে গুরুতর আহত হন। অস্ত্রধারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিও ছোড়ে। অনেকে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার একপর্যায়ে আসামিদের ধাওয়া খেয়ে আহত অবস্থায় রুদ্র সেন সুরমা আবাসিক এলাকা ও বাগবাড়ী এতিম স্কুলের রাস্তার সংযোগস্থলে একটি খালে পড়ে যান। তাঁর সাঁতার না জানার বিষয়টি জেনেই আসামিরা পরিকল্পিতভাবে রুদ্র সেনকে খালে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। 


মামলাটি আদালতের নির্দেশে প্রথমে তদন্তে নামে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। এরপর মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। গেল বছরের মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সিআইডি মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি সূত্রে জানা যায়, মামলার এজাহারে উল্লেখিত পলাতক আসামিদের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা না পাওয়া এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের জন্য সময় বেশি লাগছে।


এ ব্যাপারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মোখলেছুর রহমান  জানান, প্রিয় শিক্ষার্থী রুদ্র সেন হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা হতাশ। ২ বছরেও মামলার কোন অগ্রগতি নেই। মূল আসামীদের কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। মামলার শুরুর দিকে তদন্ত কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে যোগাযোগ রাখলেও গত ১ বছর থেকে কেউ কোন যোগাযোগ করছেন না। ফলে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নিয়ে আমরা রীতিমত হতাশ। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তদন্তের ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলার বাদী হাফিজুল ইসলাম জানান, মামলার অগ্রগতি হতাশা ব্যাঞ্জক। 


সিআইডির সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন-সিআইডিতে মামলা নাকি পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য উপাত্ত যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তাই চার্জশীট দিতে দেরি করা হচ্ছে। সিআইডি বলছে তারা নাকি ৫ আসামীকে গ্রেফতার করেছে। অথচ তাদেরকে অন্য মামলায় গ্রেফতার করে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই মামলার কোন আসামীকে সরাসরি গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নিহতের পরিবার ও আমরা সহপাঠিদের মাঝে শঙ্কা বাড়ছে। 


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পরিদর্শক মো. এমরান হোসেন জানান, রুদ্র সেন হত্যা মামলাটির অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলাটি কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে তাই একটু সময় লাগছে। এজাহারে বেশির ভাগ রাজনৈতিক আসামি দেশের বাইরে পলাতক রয়েছে। দেশের ভেতর যারা রয়েছে তার যাতে পালাতে না পারে সে জন্য ইমিগ্রেশনেও নির্দেশনা দেয়া আছে। এখন পর্যন্ত এজাহার নামীয় ৪ জনসহ মোট ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ৪ জনই শাবি শিক্ষার্থী। বাকিদের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। চার্জশীট কবে দেয়া হতে পারে সে ব্যাপারে কিছু বলা যাবেনা বলেও মন্তব্য করেন এই সিআইডি কর্মকর্তা।


আজো চোখের জলে পুত্রকে স্মরণ করে বুকফাটা আর্তনাদ করেন বাবা সুবীর সেন ও মা শিখা বণিক। তারা বলেন,আবার ফিরেছে জুলাই। কিন্তু ফিরেনি রুদ্র সেন। আর ফিরবেনা কোনদিন। একমাত্র বোন সুস্মিতা সেন আজ পর্যন্ত এক মুহুর্তের জন্য ভুলতে পারেননি প্রিয় ছোট ভাইকে।তারাও তাদের স্বজন হারানোর ব্যাথায় ব্যথিত। তারাও সুবিচার দাবি করেন।


শাবির মেধাবী শিক্ষার্থী রুদ্র সেন হত্যা মামলার কোন অগ্রগ্রতি নেই। তদন্তের বৃত্তে বন্দী হয়ে আছে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া। মামলার তদন্ত, বিচার প্রক্রিয়ার ধীর গতিতে হতাশ তার পরিবার, শিক্ষক ও সহযোদ্ধারা।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩২ পিএম

সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ সার্কেলে দায়িত্ব পালনরত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রবিউল ইসলামসহ এএসপি পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে সরকার। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী ‘জনস্বার্থে’ তাদের অবসর দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।


বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত সাত কর্মকর্তা হলেন—র‍্যাব সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ সুপার নূরে আলম সিদ্দিকী, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) মো. নুরুল মোত্তাকিন, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী ওয়াজেদ আলী, পটুয়াখালীর গলাচিপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সৈয়দুজ্জামান, র‍্যাব-২-এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম কিবরীয়া, ঢাকার আরআরএফের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং সিরাজগঞ্জ জেলার সহকারী পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।


প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই সংশ্লিষ্ট সাত কর্মকর্তা সরকারি চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য হবেন। তবে তাদের অবসরজনিত প্রাপ্য সুবিধা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বহাল থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২৮ পিএম

সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও নলছিটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জলিলুর রহমান আকন্দসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে বিদ্যালয়ের ভেতরের বাসা থেকে জলিলুর রহমানকে আটক করা হয়। একই দিন দুপুরে দপদপিয়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক মোল্লাকে আটক করা হয়। 


পুলিশ জানায়, ১৫ আগস্ট নাশকতামূলক কর্মকান্ড পরিচালনার পরিকল্পনা করার অভিযোগে নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জলিলুর রহমান আকন্দকে আটক করা হয়। তিনি নলছিটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। একই অভিযোগে দপদপিয়া ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক মোল্লাকে বাড়ি থেকে আটক করা হয়।


নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান সোহাগ বলেন, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় আদালতে পাঠানো হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৫ এএম

কুমিল্লায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ময়নামতি রেজিমেন্টের তত্ত্বাবধানে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ময়নামতি রেজিমেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিপুলসংখ্যক বিএনসিসি ক্যাডেট অংশগ্রহণ করেন।


র‍্যালিটি কুমিল্লার আলেখারচর বিশ্বরোড থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরেন।


বিএনসিসি ময়নামতি রেজিমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহত্তর কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ১০টি জেলার ১১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকা বিএনসিসি প্লাটুনের সদস্যরা একই সময়ে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক র‍্যালিতে অংশ নেন।


একযোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৭ এএম

১৫ আগস্টকে ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টাকে প্রতিহত করার লক্ষে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়ন বিএনপি ও উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা।


শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে রাজনগর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সুজন বেপারীর নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল করে তারা। মিছিলটি বটতলা থেকে জামতলা বাজার পর্যন্ত গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।


সমাবেশে সুজন বেপারী বলেন, আওয়ামী লীগের যারা লুটপাট ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এলাকায় থাকা কেউ নাশকতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। নড়িয়া-সখিপুরের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ কোনো ধরনের নাশকতা সহ্য করবেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ঘরে থাকার আহ্বান জানান।


বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে রাজনগর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সাদেক আলী সরদার, নেছার উদ্দিন মেলকার, শাহ আলম ফরাজী, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামরুল মীর বহর, জাকির মুসল্লী, আনোয়ার রাড়িসহ বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫২ এএম

বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির সম্মেলন কক্ষে রংপুর রেঞ্জের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম।


সভায় গত জুলাই/২০২৬ খ্রিঃ মাসে রংপুর রেঞ্জ দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড এবং এ সংক্রান্তে মোট আটটি জেলার পুলিশের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ পর্যালোচনান্তে অত্র রেঞ্জের শ্রেষ্ট জেলা হিসাবে নির্বাচিত হয় পঞ্চগড় জেলা।  শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির নিকট থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোঃ আবু সাইম।


এদিকে, রেঞ্জের মধ্যে পঞ্চগড় জেলা শ্রেষ্ঠ জেলা নির্বাচিত হওয়ার খবরটি প্রচারিত হওয়ার পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন পুলিশ সুপারকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।


পুলিশ সুপার মো. আবু সাইম বলেন, এ অর্জন আমার একার না পুরো পুলিশ বাহিনী ও জেলাবাসীর অর্জন। আমারা সকলে জেলার আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করবো।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪২ এএম

বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি (বিসিডিএস) গাজীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে বার্ষিক মিলনমেলা-২০২৬ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) গাজীপুরের নাটা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি (বিসিডিএস) গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি হাজী মো. শামসুল হক। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল-আমিন হোসেন (অপু), সহ-সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম এবং সাবেক সভাপতি এম এ লতিফ।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পূর্ব মেট্রো থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাউদ্দিন, গাজীপুর মহানগর কৃষক দলের সভাপতি আতাউর রহমান আতা, বিসিডিএস টঙ্গী পশ্চিম থানা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রাফিজুল ইসলাম এবং সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।


এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য আরাফাত রহমান লিটু, কাউসার মাহমুদ, মো. খোরশেদ আলম, মো. নাসির উদ্দিন মাস্টার, মো. এনামুল হক, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. কানন, মো. সেলিম এবং ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ওষুধ ব্যবসায়ী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।


বক্তারা বলেন, ওষুধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য এবং পেশাগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতেই এ ধরনের মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।


অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কমন গিফট বিতরণ এবং র‍্যাফেল ড্র-এর আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সর্বশেষ সব খবর