সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে সিলেট প্রেসক্লাবে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাহফিলে বক্তারা বলেন, গুরুতর অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষ মোনাজাত করছেন। তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং দেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ফের দেশের কল্যাণে ভুমিকা রাখবেন বলেন প্রত্যাশা করেন বক্তারা।
শুক্রবার বাদ মাগরিব ক্লাব ভবনে আয়োজিত মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির, সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সিনিয়র সহসভাপতি খালেদ আহমদ, সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বদর, আতাউর রহমান আতা, মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন, আবদুল কাদের তাপাদার ও এম এ হান্নান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর, সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. আফতাব উদ্দিন ও কবীর আহমদ সোহেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক শুয়াইবুল ইসলাম, পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক কবির আহমদ, নির্বাহী সদস্য শেখ আশরাফুর আলম নাসির, ক্লাব সদস্য চৌধুরী দেলওয়ার হোসেন জিলন, মো. মুহিবুর রহমান, সেলিম আউয়াল, মো. ফয়ছল আলম, মো. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, আনাস হাবিব কলিন্স, ফারুক আহমদ, আশকার ইবনে আমিন লস্কর রাব্বী, মো. দুলাল হোসেন, নূর আহমদ, খালেদ আহমদ, শাহ মো. কয়েছ, মো. বদরুর রহমান বাবর, দিগেন সিংহ, সিন্টু রঞ্জন চন্দ, এনামুল হক রেনু, মো. মারুফ হাসান, এম রহমান ফারুক, এইচ এম শহীদুল ইসলাম, ইফতেখার মো. নাবিল, সহযোগী সদস্য রত্না আহমদ তামান্না ও ব্যাংকার জাবেদ আহমদ প্রমুখ।
সৎ ভাইয়ের নামের সাথে নিজের নাম সংযুক্ত করে মিথ্যা হলফনামা তৈরি ও হলফনামার মাধ্যমে জমির রেকর্ড নিজের নামে নিয়ে ভোগদখল করার অভিযোগে বরগুনার বেতাগী উপজেলাধীন ৬নং কাজিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ এর সাবেক মেম্বার মোঃ আবুল হোসেন গাজীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।
জাল-জালিযাতির এ অভিযোগে সোমবার (১৭ আগস্ট) বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হলে জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যায়ন পত্র, মিউটেশন খতিয়ান ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে ন্যায় বিচার ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনোয়ার হোসেন এ আদেশ প্রদান করেন।
মামলা সূত্রে জানাগেছে- চলতি বছরের গত ১৩ জুলাই সাবেক মেম্বার আবুল হোসেন গাজী ভাক্ত ও জালিয়াতির মাধ্যমে চেয়ারম্যান কর্তৃক ওয়ারিশ সনদ ও প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে নিজেকে আঃ সোবাহান গাজী ও নিজের মা এবং সৎ মা একই ব্যক্তি দাবি করে ঘোষণাপত্র আদালতে দাখিল করেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক। মূলত আবুল হোসেন গাজী তার সৎ ভাই আঃ সোবাহান গাজীর জমি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে এই অবৈধ ও জালিয়াতির পথ বেছে নেয়।
পরে আঃ সোবাহান গাজী বিষয়টি টের পেলে বিভিন্ন মাধ্যমে আসামির সৃষ্ট জাল কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিজ্ঞ আদালতে একটি প্রতারণামূলক অভিযোগ এনে আবুল হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে গত ১৯ জুলাই বেতাগী বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রানা শেখ মামলাটি প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়ে এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য বেতাগী থানার ওসি কে নির্দেশ দেন।
অতপর প্রতারণার এই মামলায় বিজ্ঞ আদালতে হাজির হলে জামিন না মঞ্জুর করে আদালত আসামী সাবেক মেম্বার আবুল হোসেন গাজীকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। বর্তমানে প্রতারণার এই মামলায় আবুল হোসেন গাজী বরগুনা জেলা হাজতে রয়েছেন।
ছবিঃ সংগৃহীত
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষা এবং নদী দূষণ রোধে পর্যটকবাহী নৌযানে ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন রাখাসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর, বাগেরহাট এবং সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মোংলা ফরেস্ট ঘাটের ফুয়েল জেটিতে নৌযান মালিক ও চালকদের নিয়ে এক আলোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান বলেন, প্রতিটি পর্যটকবাহী নৌযানে ঢাকনাযুক্ত প্যাডেল বিন রাখতে হবে। কোনো ধরনের বর্জ্য নদীতে ফেলা যাবে না। ভ্রমণ শেষে ডাস্টবিনের জমা বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। একইসঙ্গে নৌযানে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা না করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নদী দূষণ রোধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
সভায় উপস্থিত নৌযান মালিক ও চালকরা মোংলা ফেরিঘাট ও পিকনিক কর্নারে স্থায়ীভাবে তিনটি ডাস্টবিন স্থাপনের দাবি জানান। নদী দূষণ রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনেরও অঙ্গীকার করেন নৌযান মালিক ও চালকরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেন, জালি বোট মালিক সমিতি, মোংলার সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী, সভাপতি ইমাদুল হোসেন, মাঝিমাল্লা ইউনিয়ন সংঘের জয়েন্ট সেক্রেটারি সোহাগ হাওলাদারসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় নৌযান মালিক ও চালকরা।
সভায় ৫০ জন নৌযান মালিক ও চালক অংশগ্রহণ করেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। সভা শেষে পর্যটকদের সচেতনতায় বিভিন্ন নৌযানে এসব লিফলেট লাগিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে বিখ্যাত বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন অংশে বন বিভাগের সংরক্ষিত পর্যটন স্পট করমজল অবস্থিত। প্রতিদিন শত শত পর্যটক মোংলা ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌযানে করমজল ভ্রমণে যান।
এসময় পর্যটকদের সঙ্গে করে নেওয়া চিপস, বিস্কুট, চকলেটসহ বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবার, পানির বোতল নদীতে ফেলার কারণে সুন্দরবন ও সংলগ্ন নদ-নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে সৌদি আরব প্রবাসী মাসুম ভুইয়ার বসতবাড়ীর জমি জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা জুয়েল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে প্রবাসীর বড় ভাই আব্দুল হালিম ভুইয়া বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদী মৌজার বিগত আরএস রেকর্ডে ১৫৩নং খতিয়ানের ১১টি দাগে ৩২০ শতাংশ সম্পত্তির মধ্যে আট আনা হিস্যায় ১৬০ শতাংশ সম্পত্তি মৃত আব্দুল জব্বারের দুই পুত্র আমিনদ্দিন ভুইয়া ও মেছবা উদ্দিনের নামে ভুলক্রমে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে আমিনদ্দিন ও মেছবা উদ্দিনের ওয়ারিশগণ বিগত ২২/৬/২০০৪ইং তারিখে কালীগঞ্জ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের ৩৮৬৪নং নাদাবি দলিলমূলে ৬৪.৫০ শতাংশ সম্পত্তি মূল মালিক নাছির উদ্দিনের পুত্র মনির উদ্দিনের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেয়।
পরবর্তীতে মনির উদ্দিন বুক্ত সম্পত্তি নিজ নামে নামজারী জমাভাগ করে ১৮০৭নং জোত খোলে নিয়মিত খাজনাদি পরিশোধ করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তার পুত্র ও কন্যাগণ উক্ত সম্পত্তি শান্তিপূর্ণ ভোগদখল করতে থাকেন। কিন্তু আমিনদ্দিনের ওয়ারিশ নুরু মিয়া, দিনারা বেগম ও রিনা বেগম স্থানীয় বিএনপি নেতা জুয়েল এর সহযোগীতায় গত সোমবার (১৭ আগষ্ট) সকালে উক্ত সম্পত্তি জবরদখলের উদ্দেশ্যে ঘর নির্মাণ শুরু করে। এসময় প্রবাসী মাসুমের স্ত্রী স্মৃতি, বড় ভাই আব্দুল হালিম ও বোন শান্তা জবরদখলকারীদের বাধা দিলে তারা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। পরে আব্দুল হালিম জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ আসার আগেই সন্ত্রাসীরা ঘর নির্মাণের মালামাল ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে আব্দুল হালিম বাদী হয়ে সোমবার বিকেলে কালীগঞ্জ থানায় জুয়েল, নুরু মিয়া, দিনারা বেগম ও রিনা বেগমের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রবাসীর বড় ভাই আব্দুল হালিম জানান, আমাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তি জবরদখলের জন্য বিএনপি নেতা জুয়েল দলের নাম ভাঙ্গিয়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ৈ দীর্ঘদিন যাবত চেষ্টা করে আসছে। জুয়েল বিএনপির কোন পদে নেই। সে আমাদের এলাকার বাসিন্ধাও নয়। পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে এসে আমাদের জমি দখল করতে চায়। আমরা আমাদের সম্পত্তি রক্ষায় স্থানীয় সাংসদ ও পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জুয়েল মোবাইল ফোনে জানান, রেজিঃকৃত নাদাবী দলিল গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমি লোকজন নিয়ে জমি দখল করতে গিয়েছি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর এক সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামীতে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য আমরা জনগণের কল্যাণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’
আজ রোববার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর এক জনসমাবেশে বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আপনারা হাজার হাজার মানুষ সমর্থন দিয়ে বলেছেন যে এই পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। তাই আপনাদেরকে বলতে চাই, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনারা যে দলের ওপর আস্থা রেখেছেন, সেই আস্থা ধরে রাখুন। বিএনপি আপনাদের সাথে ছিল, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের জন্যই কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ। দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ বর্তমান সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে সরকার আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা তুলে ধরবে।
বিশৃঙ্খলাকারীদের সস্পর্কে সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু সংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায়, রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি ও জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু উপকৃত হয় সেই সকল বিশৃঙ্খলাকারী।’
তিনি বলেন, ‘আজকে সবাই প্রতিজ্ঞা করি যে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, যারা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, তাদেরকে জনগণ সকল শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করবে।’
দেশের মানুষ এখন শান্তি চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন আইনের শাসন চায়, কর্মসংস্থান চায়, সন্তানদের জন্য শিক্ষা চায়, পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা চায়। এই কাজগুলো যদি করতে হয়, আমাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সাথে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।’
পাকুন্দিয়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পরে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে হাজার হাজার নেতাকর্মী তাকে করতালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে দেওতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, স্পিকার, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন জানান, প্রতিদিনের ন্যায় রবিরার (১৬ আগষ্ট) বিকেলে বিদ্যালয় ছুটির পর অফিস বন্ধ করে সবাই চলে যাই। সোমবার (১৭ আগষ্ট) সকালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নূসরাত জাহান জেনি বিদ্যালয়ে এসে কেচি গেটের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে অফিস কক্ষের দিকে যাওয়ার সময় তিনি দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। বারান্দার পকেট গেটের তালাও ভাঙা ছিল বলে বিষয়টি ফোনে আমাকে জানান।
খবর পেয়ে দ্রুত বিদ্যালয়ে এসে অফিস কক্ষে ঢুকে দেখি, আলমিরার দরজা খোলা এবং সব কটি ড্রয়ারও খোলা। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তল্লাশি করে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ, শিশুদের হাতে-কলমে শেখানোর কাজে ব্যবহৃত প্রজেক্টর, স্পিকার, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নেই। ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানোর প্রজেক্টরটিও নিয়ে গেছে, তাদের এতটুকু দয়াও হলো না।’
স্থানীয় বাসিন্ধা ও অভিভাবকগণ জানান, দেওতলা গ্রামের ইতিহাসে বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা এবারই প্রথম। এলাকায় নেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, কালীগঞ্জ উপজেলায় মোট ১২৯টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৪৭টি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী আছেন। বাকি ৮২টি বিদ্যালয়ে কোনো নৈশপ্রহরী নেই। গত মাসে আরও দুজন নৈশপ্রহরী চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। আমি এখানে যোগদানের মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা করা হলে কিংবা বরাদ্দ দিয়ে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে এ ধরনের চুরি কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। দেওতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, দেওতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে পেশার মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৭ দফা দাবিতে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি জেলা শাখার পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। মঙ্গলবার জেলা কালেক্টরেট চত্বরে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন পালন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দলিল লেখ সমিতি ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি মো: আব্দুল ওয়াদুদ সরকার প্রমুখ। মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কার্যক্রমে সংগঠনের সদস্যগণ অংশ নেন।
স্মারকলিপিতে ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না, দলিল প্রতি সম্মানি ভাতা ৫ হাজার টাকা বাস্তবায়ন করতে করা, রেজি: প্রাপ্ত দলিল লেখক ব্যতিত অন্য কেহ দলিল সম্পাদিত করতে পারবে না ও দলিল রেজিষ্ট্রি করার জন্য দলিল দাখিল করতে পারবে না মর্মে প্রজ্ঞাপণ জারী করা, থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ব্যতিত অনবিজ্ঞদের দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না মর্মে প্রজ্ঞাপন জারী করা, থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারী খরচে দলিল লেখকদের বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ করে দেওয়া, যেহেতু পক্ষগণের সরবরাহকৃত কাগজ পত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা হয়, সেহেতু দলিল লেখকদের পেশাগত কারণে দলিল লেখা/মুসাবিধা ব্যাংক হিসাবে দলিল লেখকদের আসামী করা যাবে না এবং দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি প্রদান করার দাবি রয়েছে।