বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আবারও একটি অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আওয়ামী লীগহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ১৫১টি জিতে নিয়েছে বিএনপি। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তারা পাচ্ছে তাদের দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে। জুলাই অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় নতুন শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হওয়া ধর্মভিত্তিক দলটি পেয়েছে ৪২টি আসন।
এছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি জোটে থাকা বিজেপি ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপি তিনটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে।
চারটি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ৯৪টি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা এখনো বাকি। সেখানেও বেশ কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এদিন সংস্কার প্রশ্নে গণভোটও হয়। আর তাতে অনুমিতভাবেই ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। এই ফলের অর্থ হল, জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নের সম্মতি দিয়েছেন দেশের নাগরিকরা। অবশ্য গণভোটের প্রক্রিয়া ও প্রশ্নের গঠন নিয়ে সমালোচনা রয়েছে; নাগরিকরা ভোট দিয়েছেন না বুঝেই।
তারেকের নেতৃত্বে প্রত্যাবর্তন
১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনবার সরকারগঠন করেছিল তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। আর এবার তাদেরই সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি চতুর্থবারের মত দেশ শাসনের ভার নিতে যাচ্ছে।
সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একানব্বইয়ের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিল বিএনপি।
তার পরের তিন নির্বাচনে দুই বার সরকার গঠন করলেও মেয়াদ শেষ করতে পেরেছিল একবার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হেরে দলটি চলে গিয়েছিল শাসন ক্ষমতার বাইরে।
আওয়ামী লীগের আমলে তিনটি নির্বাচনের দুটি বর্জন করেছিল বিএনপি, একটিতে হয়েছিল ভরাডুবি। এরপর চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর নতুন বাস্তবতায় বিএনপির সামনে সরকারে ফেরার পথ তৈরি হয়।
১৯ বছর পর বিএনপি যখন সরকারে ফিরছে, তখন নতুন মেরুকরণে বিরোধীর আসনে নেই তাদের ৩৫ বছরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞা আর নিবন্ধন স্থগিত থাকায় সবচেয়ে বেশি সময় বাংলাদেশ শাসন করা আওয়ামী লীগের এবার ভোট করার সুযোগ ছিল না।
বাংলাদেশের যে কোনো নির্বাচন সর্বোচ্চ ১৮ আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামী সেই সুযোগে এবার বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েছে বেশ। মায়ের ব্যাটন হাতে তুলে নেওয়ার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে বাংলাদেশের ক্ষমতা কেন্দ্রে প্রায় তিন যুগের চেনা চেহারা বদলে যাবে।
এই সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে তার মা, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ঘিরে। প্রায় দেড় দশক টানা দেশ শাসন করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এখন ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। আর আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিরবিদায় নিয়েছেন।
খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুজনে একটা সময়ে পর্যায়ক্রমে সরকার প্রধান হয়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন যখন সরকার প্রধান হয়েছেন, অন্যজন তখন থেকেছেন বিরোধী দলীয় নেতার ভূমিকায় রাজপথে।
এক সময় তাদের বৈরি সম্পর্ককে বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো ‘দুই বেগমের যুদ্ধ’ হিসেবেও চিত্রিত করেছে।
২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার জন্য তখনকার বিএনপি সরকারকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ। আবার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলার সাজা নিয়ে কারাগাযে যেতে হয়েছিল। পরে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও অসুস্থতার কারণে তাকে একপ্রকার ঘরবন্দি জীবন কাটাতে হয়।
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর খালেদা জিয়া পুরোপুরি মুক্ত হন, আদালতের রায়ে মুক্তি পান সাজা থেকেও।গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া যখন চিরবিদায় নেন, তার কয়েক সপ্তাহ আগে ঘোষিত হয়েছিল ত্রয়োদশ নির্বাচনের তফসিল।
তার মৃত্যুর পর বিএনপির এক শোকাহত কর্মী আক্ষেপ করেছিলেন, “ও আল্লাহ, আর কয়টা দিন বাঁচায় রাখতা, আমার ম্যডাম যাতে নির্বাচনটা দেইখা মৃত্যুবরণ করত।”
আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এই নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি ছোটবড় দল। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ভোটের মাঠে প্রার্থী ছিলেন ২০২৮ জন।
জামায়াতের একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে প্রচারের মাঝপথে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয় ২৯৯টি আসনে।
লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বিপুল সংবর্ধনায় দেশে ফিরে নির্বাচনি যাত্রায় নেমেছিলেন তারেক রহমান, যিনি মায়ের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। দেশ গঠনের ‘পরিকল্পনা’ নিয়ে দেশে আসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, এক্ষেত্রে দেশবাসীর সমর্থন তিনি চান।
তার দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায় মারা যান তার মা, খালেদা জিয়া; নির্বাচনি আমেজের মধ্যে তার এই বিদায়ে নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন তারেক।
ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক কয়েকটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে বিএনপি। তাদের জন্য আটটি আসন ছেড়ে দেয়।
২২ জানুয়ারি সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জনসভা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।ভোটের প্রচারে জামায়াতে ইসলামীকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও ধর্মের নামে রাজনীতি করা’ দলকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলে এতদিন রাজনীতি করে আসা জামায়াতকে তিনি ভোটের প্রচারে নতুন রূপে দেখানোর চেষ্টা করেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমের দল এলডিপির পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিকে সঙ্গী হিসেবে পাশে টেনে নেয় জামায়াত। প্রার্থী করা হয় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকেও।
ক্ষমতায় গেলে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা জামায়াত বললেও ভোটের প্রচারের সময় নারীদের নিয়ে জামায়াত আমিরসহ কয়েক নেতার বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।
জামায়াতের আমিরও ভোটের প্রচারে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে বেড়িয়েছেন। বিএনপির অতীত মনে করিয়ে দিয়ে ‘দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের’ বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ভোটের সকালে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এসে বিএনপির জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, আন্দোলনের সময়কার সঙ্গীদের পাশাপাশি ‘কম-বেশি’ আরও রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে তারা দেশ পরিচালনা করতে চান।
ঢাকা সেনানিবাসের আদমজী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মহাখালী, পান্থপথ, ভাষাণটেক, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডির ২৭ নং সড়ক, সোহানবাগ ঘুরে নিজের কার্যালয়ে এসে তিনি দেশজুড়ে ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘‘ভোটার উপস্থিতি আমি যতটুকু ঢাকা শহরে দেখেছি, আমার কাছে মনে হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ ভরে তার ভোট প্রয়োগ করতে যাচ্ছে।”
“আমি বিশ্বাস করি, গত দুই দিনে যেভাবে দেখেছি মানুষজন লঞ্চ, স্টিমারে, ট্রেনে, বাসে করে বিভিন্ন উৎসাহ নিয়ে দেশে ফিরে গিয়েছে, যার যার এলাকায় ফিরে গিয়েছে, ভোট দেয়ার জন্য আমরা প্রত্যাশা করি যে, ইনশাআল্লাহ আজকে সেই প্রত্যাশা নিশ্চয়ই থাকবে।”
সকালে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একটি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর জামায়াত আমির শফিকুর রহমানও সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদের কথা বলেন ।
তিনি বলেন, “এই ভোটের মাধ্যমে আগামীতে এমন সরকার গঠিত হোক, যে সরকার কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দলের হবে না; বরং যে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের জনগণের সরকার। আমরা সেই সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।”
নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর বলেছিলেন, “আমরা ছোটখাটো কোনো বিষয় হলে অবশ্যই এগুলোকে ইগনোর করব। কিন্তু বড় কোনো বিষয় হলে আমরা ছাড় দেব না এবং আমাদের যা করা প্রয়োজন, তাই করব। কারণ মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যাক, এটা আমরা কোনোভাবেই চাই না।”
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে ঠাঁই পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতা। তবে নিজেদের সক্ষমতায় সরকার গঠন তো দূরে থাকা, প্রধান বিরোধী দলের আসনেও বসার সুযোগ তাদের হয়নি। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর বদলে যাওয়া বাংলাদেশে এবার তারা সে সুযোগ পেতে যাচ্ছে।
কেমন হল ভোট
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছর পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এদিন গণভোট হয়। মোটাদাগে শান্তিপূর্ণভাবেই দিনভর ভোটগ্রহণ চলে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও কোথাও বড় ধরনের কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যয়নি। কোনো কেন্দ্র বাতিল বা স্থগিতও করতে হয়নি।
ভোট চলাকালে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাইবান্ধায় ৬ জনের মৃত্যু হয়। তবে তাদের পাঁচজনই মারা যান হঠাত অসুস্থ হয়ে। আরেকজনকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট তিনটি আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ‘ভোটগ্রহণে বিশৃঙ্খলার’ অভিযোগ তোলে।
এনসিপি বলে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোটগহণ ‘সন্তোষজনক’ হলেও তারপর থেকেই সারা দেশ থেকে তারা বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছে। ভোটের সময় বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এনেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে, আশঙ্কাজনক কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, কোনো কেন্দ্র ভোট স্থগিতও হয়নি। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটে অংশগ্রহণ করায়, দেশবাসীকে ধন্যবাদও দিয়েছে তারা।
দুপুর ২টা পর্যন্ত সাড়ে ছয় ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে পুরো ৯ ঘণ্টায় কত শতাংশ ভোট পড়েছে, সে তথ্য এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রে গিয়ে ভোটে নাগরিকদের ‘অংশগ্রহণের আগ্রহকে ইতিবাচক’হিসাবে বর্ণনা করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস।
সারা দেশে ইউ মিশনের পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিশ্বাসযোগ্য পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরির জন্য ইতোমধ্যে আমরা তথ্য গোছানোর কাজ করছি। দুপুর পর্যন্ত ভোটে বাংলাদেশের জনগণের অংশগ্রহণের আগ্রহ ইতিবাচক দেখতে পাচ্ছি।”
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বেশ কিছু আসনে রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা না করে ‘ঝুলিয়ে’ রেখেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে এখনি বিস্তারিত বলতে চাননি।
তিনি বলেন, “বেশকিছু আসনে আমাদের জানামতে আমরা এগিয়ে আছি। গণনাও কমপ্লিট। কিন্তু রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা করছেন না। ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমরা বুঝছি না কেন। মাঝখানে আবার ওয়েবসাইটে দিয়ে উধাও করে দেওয়া হল। ওনারা একটু আগে একদম প্রথম পর্যায়ের ১০টা, ১২টা ফল দিচ্ছেন।
“আমাদের বুথ ফেরত যে শিট এসেছে সেখানে আমরা দেখেছি, এগিয়ে আছি। কিন্তু এটা নিয়ে লোকালি বিভিন্ন টালবাহানা করা হচ্ছে।”
রাতে ঢাকা-৮ আসনে ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান জামায়াত জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পরে পাল্টা অভিযোগ নিয়ে সেখানে যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ‘শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায়’ জাতিকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
একইসঙ্গে ফল ঘোষণার পরও যেন রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম অব্যাহত থাকে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ভোটগ্রহণ শেষে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলসমূহের দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব- এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে, গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী ও ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।
“তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই- চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাব।
“এই নির্বাচন আমাদের জন্য মহা আনন্দের ও উৎসবের। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো।
নোবেলজয়ী ইউনূস বিদায় বেলায় বলেন, “এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিল। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে যাবে। আসুন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় আমরা একসঙ্গে কাজ করি।”
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের উদ্যোগে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে উৎসবমুখর পরিবেশে এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতার জমজমাট ফাইনালে পুরুষ বিভাগে দামুড়হুদা থানা দল এবং নারী বিভাগে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
মহিলা বিষয় চুয়াডাঙ্গা সদর থানা চ্যাম্পিয়ন এবং পুরুষ বিভাগে রানার আপ হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানার নবাগত ওসি মনিরুজ্জামান সকল খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা বালক বালিকা উভয় টিমের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান। ফাইনাল খেলা শেষে জমকালো ও পরিপাটি আয়োজনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন এবং চ্যাম্পিয়ন -রানার আপ দলের মাঝে ট্রফি ও পুরস্কার বিতরণ করেন। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার।
টুর্নামেন্টে চমৎকার খেলে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট ও ম্যান অফ দি ফাইনাল নির্বাচিত হন দামুড়হুদা থানা পুরুষ দলের খেলোয়াড় হাসান আলী। এছাড়া বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন দল চুয়াডাঙ্গা সদর থানার জুলি খাতুন ম্যান অব দ্যা ফাইনাল নির্বাচিত হন ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, কমিউনিটি পুলিশের মূল লক্ষ্যই হলো পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা। খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক, মোবাইল,জোয়ার মতো অপরাধ এবং সব ধরনের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখে। আমাদের জাতীয় খেলা কাবাডি কেবল শারীরিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলার প্রতীক। আমি আশা করি, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার যুবসমাজ আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং আমরা সবাই মিলে একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও সুন্দর চুয়াডাঙ্গা গড়ে তুলতে পারব।”
অনুষ্ঠানটি চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মিনহাজুল ইসলাম।
উক্ত ফাইনাল ম্যাচে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান,আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)রাকিবুল ইসলাম, জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান হক,দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম, এবং পুলিশ লাইন্সের আর আই আব্দুস সামাদ, ডিস্টোর ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর রবীন্দ্রনাথ সরকার সহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।
তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে সমাপনী দিনে নারী-পুরুষ উভয় বিভাগের ফাইনালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
পুরুষ বিভাগের ফাইনালে দামুড়হুদা থানা দল একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে ৫৯-২২ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অন্যদিকে, নারী বিভাগে তুমুল লড়াইয়ের পর চুয়াডাঙ্গা সদর থানা দল ৩৭-৩০ পয়েন্টে দামুড়হুদা থানা দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে।
তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা গুলো পরিচালনা করেন রকিবুল ইসলাম (ইসলাম রকিব),ফিরোজ উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক, আব্দুল হাই, বিলকিচ নাহার,আইরিন ইসলাম ও মনসুর আলী।
উল্লেখ্য, ১ম পুলিশ কাবাডি প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী নারী-পুরুষ সকল টিমের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার পুরস্কারের ব্যবস্থা করেন। যা ছিল চুয়াডাঙ্গা পুলিশ কাবাডির ইতিহাসের এক অনন্য সুন্দর অধ্যায়।
সে কারণে চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী শতাধিক খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের প্রশংসায় ভাসছেন চুয়াডাঙ্গার নবাগত পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার।
মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগরে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভাড়াটিয়া হেলমেট বাহিনী দিয়ে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি দখলের চেষ্টা ও হামলা চালিয়ে নারী শিশুসহ দুজনকে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের জগন্নাথ পট্টি গ্রামের তৈয়ব শরীফের বাড়িতে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, জগন্নাথ পট্টি গ্রামের তৈয়ব শরীফের সাথে ভাগ্যকুল মান্দ্রা গ্রামের রশিদ দেওনের মধ্যে জমি নিয়ে আদালতে মামলার চলে আসছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছটার দিকে রশিদ দেওয়ানের নেতৃত্বে ১৪ টি মোটরসাইকেল যোগে ২৭/২৮ জন হেলমেট পরিহিত বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তৈয়ব শরীফের বাড়িতে হামলা চালালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় তৈয়ব শরিফের স্ত্রী হাফেজা সুলতানা (৩৫) ও তার ছেলে তানিম হোসেন (১৪) আহত হয়।
ভুক্তভোগ ব্যবসায়ি তৈয়ব শরীফ বলেন, ভাগ্যকুর মান্দা গ্রামের রশিদ দেওনের সাথে জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মুন্সিগঞ্জ আদালত ওই জমির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রশিদ দেওয়ান বহিরাগত হেলমেট বাহিনী ভাড়া করে ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। সন্ত্রাসী হামলায় আমার স্ত্রী ও ১৪ বছরের ছেলে আহত হয়। এ ঘটনা আমি শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি। শ্রীনগর থানার এস আই গণেশ বলেন অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটানস্থল পরিদর্শন করেছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপি নেতা আবু তাহের আজাদ কারাগারে
মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আবু তাহের আজাদকে (৪৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে চাটখিল থানা পুলিশ তার নিজ এলাকা রেজ্জাকপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করে। পরদিন শনিবার (১০ অক্টোবর) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
জিডি থেকে ওয়ারেন্ট চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. হোসেন তানভীর (৩৪) ঢাকার মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। সেই জিডির প্রেক্ষিতে ওয়ারেন্ট জারি হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
হোসেন তানভীর অভিযোগ করে বলেন, "চাটখিল উপজেলা বিএনপি নেতা মো. আবু তাহের আজাদ এবং চাটখিলের বাসিন্দা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মো. কাজী পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করে আসছে। প্রবাসে থাকা পারভেজের প্ররোচনায় আবু তাহের আজাদ আমাকে ও আমার পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ফেসবুকে ও ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।"
তিনি আরও বলেন, প্রতিনিয়ত এমন হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবার মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন জানিয়ে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় চাটখিল থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।
দলীয় ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন গ্রেফতারের বিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক আরেক নেতা আহসান হাবিব অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রেজ্জাকপুর ওয়ার্ডে আবু তাহের আজাদ দলের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে চলেছেন। তার ভাষ্য, চাঁদাবাজি, নলকূপ, বাথরুম ও পুকুরের গাইড ওয়াল-জাতীয় সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ এবং সালিশ বাণিজ্যের মাধ্যমে মানুষকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি।
আহসান হাবিব চাটখিল উপজেলা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "যার এসব অপকর্মের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর দলীয় ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।"
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, "আসামির বিরুদ্ধে মোবাইল ফোনে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মিরপুর মডেল থানায় জিডি ছিল। ওয়ারেন্ট জারি হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকল আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।"
তিনি আরও বলেন, এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বাত্মক সচেষ্ট রয়েছে।
"হাজার কোটির রাজস্ব যোগান দলিল লেখকদের অবদান" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনায় ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দলিল লেখকদের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় খুলনা দলিল লেখক সমিতির আয়োজনে খুলনা শহীদ হাদীস পার্কে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে খুলনা বিভাগের সকল দলিল লেখকগণ উপস্থিত ছিলেন। এসময় খুলনা জেলা দলিল লেখক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং জেলা দলিল লেখক সমিতির নেতা বাহাউদ্দীন খন্দকার ও ফিরোজ হাসানের সঞ্চালনায় বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসন নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির চেয়ারম্যান এম. এ রশিদ, বিশেষ বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির মহাসচিব কে. এম টমাস হোসেন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হক মিয়া। এছাড়া খুলনা বিভাগের সকল জেলা ও উপজেলা থেকে কয়েক শতাধিক দলিল লেখক উপস্থিত ছিলেন।
এসময় দলিল লেখক সমিতির চেয়ারম্যান এম এ রশিদ বলেন, আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না" এবং "দলিল লেখকদের পারিশ্রমিক হিসাবে দলিল প্রতি ন্যূনতম ৫০০০/= টাকা সম্মানী ভাতা" সহ ৭দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসন নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দলিল লেখকদের ৭ দফা যুক্তি সংগত। সরকারের উচিত দলিল লেখকদের দাবির প্রতি আন্তরিক হওয়া। আগামীতে প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সাথে আমার যে মিটিং আছে সেখানে দলিল লেখকদের এই ৭ দফা দাবির বিষয়ে আন্তরিক ভাবে উপস্থাপন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার সীমান্তবর্তী পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৯৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের জব্দমূল্য ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা।
গত ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার উত্তর রনসিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালায় দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীন দানাজপুর বিওপির সদস্যরা। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৩৪০ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, ১০ অক্টোবর রাত ১টার দিকে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বৈরাগীপাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেন একই ব্যাটালিয়নের অধীন রামচন্দ্রপুর বিওপির সদস্যরা।
সেখানেও মাদকদ্রব্যগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এসব মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা লিগ্যাল এইড অফিস কর্তৃক পরিচালিত “তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের মধ্যে সরকারি আইনগত সহায়তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উঠান বৈঠক” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মহোদয়ের সাথে আলোচনাক্রমে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের উদ্যেগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলা বুধন্তী ইউনিয়ন সেমড়া এলাকায় তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের মধ্যে সরকারি আইনগত সহায়তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উঠান বৈঠক আয়োজন করা হয়।
উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজ্ঞ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিভিল জজ) তানজিনা নাফিজ। আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পুলিশ ফারির ইনচার্জ, প্যানেল চেয়ারম্যন, ওয়াড মেম্বার, গ্রাম পুলিশ এবং স্থানীয় প্রতিনিধিগণ।
বিজ্ঞ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার তানজিনা নাফিজ প্রধান আলোচক হিসেবে সরকারি আইনগত সহায়তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উপস্থাপন করেন। উক্ত উঠান বৈঠকে মোট ১০০ জন অংশ গ্রহন করেন। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার অনুষ্ঠানের শুরুতে উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে করে দিকনির্দেশনা মুলক বক্তব্য রাখেন। উক্ত উঠান বৈঠকে দুটি ভাগে বিভক্ত থাকে, ১ম পর্যায়ে আইনগত সহায়তা সেবা সম্পকিত মূল বক্তব্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার প্রদান করেন। পাশাপাশি পরিচিতিমূলক বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা।
এছাড়াও পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এবং প্যানেল চেয়ারম্যান ও গরীব অসহায়দের উদ্দ্যেশে সরকারি সহায়তা বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের মূল বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে উঠান বৈঠকের ১ম পর্যায় সমাপ্ত হয়। পরবর্তীতে ২য় পর্যায়ে অংশ গ্রহণকারীদের উন্মুক্ত আলোচনা এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়। এই পর্যায়ে উঠান বৈঠকে অংশগ্রহনকারীদের সরকারী আইনগত সহায়তা তথ্য সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়।
প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ গ্রহণকারীগণ তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে প্রশ্ন করে তৎক্ষনাৎ আইনগত সেবা গ্রহণে সক্ষম হয় এবং আইনগত সহায়তা প্রাপ্তির আবেদন পত্রে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের হটলাইন নাম্বার সংরক্ষণ করেন। জাতীয় হটলাইন নাম্বার সর্ম্পকে সকলে সচেতন হয়। পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে যে কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে জাতীয় হটলাইন নাম্বারে ফোন করে সেবা গ্রহন করবে।