কেউ ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৫:১৬ এএম

“সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং বিজ্ঞ আদালতে সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী; বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদে এমনটিই বলা হয়েছে। কিন্তু দেশের দরিদ্র বিচারপ্রার্থীরা যখন নিজেদের অধিকার রক্ষার্থে অর্থের অভাবে আইনগত সহায়তা পান না, তখন মৌলিক অধিকারের এই সাংবিধানিক অঙ্গীকারটি অর্থহীন বলে মনে হয়। বাংলাদেশ সরকার দরিদ্র বিচারপ্রার্থীদের সাংবিধানিক এই অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে এবং আইনগত সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন- ২০০০’ পাশ করেন। অসহায় দরিদ্র জনগণ এখন বিনা পয়সায় বিচার পাওয়ার অধিকার রাখেন। আর এই বিষয়টি জনগণকে জানাতে এবং বিচারকার্যে সহায়তা করতে ২০১৩ সালে ২৮ এপ্রিলকে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। টাকার অভাবে এখন আর কেউ ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না।” 


এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়েই সকলের উদ্দেশ্যে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড এর চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুর রহমান এসব কথা বলেন। 


তিনি আরও বলেন- “বাংলাদেশের প্রতিটি গরিব, সহায়-সম্বলহীন মানুষ সরকারের এই ইতিবাচক কর্মসূচির আওতায় এসে তাদের আইনী অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, সে ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ন্যায়বিচারকে আরও অধিকতর ত্বরান্বিত করা সম্ভব এবং সামাজিক ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে একটি উদার ও গণতান্ত্রিক এবং কল্যাণকতর রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে একদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”




‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় বরগুনায় আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তর, জেলা কমিটির আয়োজনে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বেলুন ও শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। পরে আদালত চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে শেষ করে আদালত প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপন করে জগন্নাথ পাঁড়ে স্মৃতি মঞ্চে আলোচনা সভায় মিলিত হন। আলোচনা সভা শেষে দিবসটিকে কেন্দ্র করে রক্ত দান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এসময় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্টেনো মোঃ আমান উল্লাহ্ -কে রক্ত দান করতে দেখা যায়। 


জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন- সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’র জেলা কমিটি’র চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুর রহমান।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের’ উদ্দেশ্য বর্ণনা করে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন- বরগুনা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি’র সদস্য সচিব ও জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা সিনিয়র সিভিল জজ এম. এ. আজহারুল ইসলাম।


বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রানা শেখ -এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত’র নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল’র বিজ্ঞ বিচারক মোঃ ওসমান গণি, বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইকবাল মাসুদ, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম ও রাজস্ব) সজল চন্দ্র শীল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ মুকিত হাসান খাঁন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. মোঃ নুরুল আমিন, গভর্নমেন্ট প্লিডার (জিপি) অ্যাড. মোঃ আবদুল মজিদ তালুকদার ও জেলা আইনজীবী সমিতি’র সদস্য সচিব অ্যাড. মনোয়ারা আক্তার। 


‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত র‌্যালি ও আলোচনা সভায় বিচার বিভাগ’র বিজ্ঞ বিচারকগণ, জেলার বিজ্ঞ আইজীবীগণ, সরকারি দপ্তর’র প্রধানগণ ও বেসরকারি দপ্তরের মধ্যে সংগ্রামসহ অন্যান্য দপ্তরের প্রতিনিধিগণ, বরগুনা প্রেসক্লাব’র সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। 


এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সভাপতি ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬’ সালে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে নির্বাচিত অ্যাড. এ. কিউ. ফারুক ও অ্যাড. মনোয়ারা আক্তার এর হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও অর্থ পুরস্কার তুলে দেন। 


এ আলোচনা সভায় সুবিধাভোগী মোঃ মনিরুল ইসলাম ও মোসাঃ রেবা তাদের সমস্যা ও সমাধানের বিষয়টি সকলের সামনে উপস্থাপন করেন। একই সাথে সরাসরি মামলায় না গিয়ে লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে অসহায়, নিপিড়ীত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সমস্যার সমাধান করার জন্য অনুরোধ করেন এই সুবিধাভোগী ব্যক্তিদ্বয়। 


সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে একমাত্র আইন আদালতের মাধ্যমেই মানুষ তার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখেই গড়ে তোলা হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা কেন্দ্র। মামলার জটিলতা এড়াতে এই সংস্থাটি খুব সুন্দর ও সঠিকভাবে সমস্যা সমাধান করে থাকে। এর জন্য প্রতিটি জেলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একজন সিনিয়র সহকারী সিভিল জজকে নিয়োগ করা হয়ে থাকে। 


এই কর্মকর্তার কাছে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে উভয় পক্ষকে নোটিসের মাধ্যমে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে হাজির করে উভয় পক্ষের কথার উপরে ভিত্তি করে প্রয়োজনে সরেজমিনে গিয়ে উঠান বৈঠক করে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সমস্যার সমাধান করা হয়। জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন করেই নয়, বরং এর মূল লক্ষ্য অর্জণে আইনের সাথে জড়িত সকল ব্যক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে। সমস্যা সমাধানে নিজ উদ্যোগে কাজ করতে হবে। জেলা আইনগত সহায়তা অফিসের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে সচেষ্ট থেকে কাজ করতে হবে। সকলের সহযোগিতাই পারবে এ সংস্থার মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে। এমনটাই আশা করছেন সুশীল সমাজের মানুষ।



সর্বশেষ সব খবর

খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৯ পিএম

 খুলনায় শারদীয় দূর্গাপূজা ২০২৬ ইং উপলক্ষে আজ ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিং প্রদান করেন খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক। 


এ সময় তিনি বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি ব্রিফিংয়ে এসপি ডিউটিরত সকল সদস্যকে উৎসাহ যোগান এবং সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।


উক্ত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিঃ পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এস. এম. আল বেরুনী, অতিঃ পুলিশ সুপার ট্রাফিক ও ডিএসবি, আবির সিদ্দিকী শুভ্র, অতিঃ পুলিশ সুপার, (বি-সার্কেল) মোঃ খায়রুল আনাম, বিপিএম-সেবা, অতিঃ পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) মোঃ সালাউদ্দিন সহ ডিউটিতে মোতায়েনকৃত ফোর্সবৃন্দ।

সর্বশেষ সব খবর

ড্রেনের পাশে নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৫ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ড্রেনের পাশে পড়ে থাকা একদিন বয়সী এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় লোকজন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা শিশুটিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।


আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে চৌমুহনী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশগঞ্জ এলাকায় সমীরের বাড়ির গলির পেছনে ড্রেনের পাশে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে মহেশগঞ্জ বাজার এলাকায় পথচারীরা নবজাতক কন্যাশিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।  


বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতকের পরিচয় ও তার মা-বাবার সন্ধান বের করার চেষ্টা চলছে। কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে রেখে গেছে, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৭ পিএম

"দূর্বার তারুন্য, দূর্নীতি রুখবেই" এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঝালকাঠির নলছিটিতে দুর্নীতি দমন কমিশন পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল দশটায় সরকারি নলছিটি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়। 


বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উপজেলার সরকারি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাওতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নান্দিকাঠি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বিচারকরা প্রতিযোগিতায় নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কে বিজয়ী ও সরকারি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় রানারআপ ঘোষণা করেন। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হয়েছেন নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ইকরা অমি আলম।


বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডু, নলছিটি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ সমিটির সভাপতি শামসুল আলম খান বাহারের সভাপতিত্বে এসময় আর-ও উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান, সরকারি নলছিটি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খায়রুল বাশার, প্রভাষক মানবেন্দ্র মুখার্জী, জয়নাল আবেদীন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য আবদুল কুদ্দুস, শাহাদাত আলম, শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ। 


অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, নলছিটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মল্লিক মনিরুজ্জামান।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০৬ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পল্লী চিকিৎসক সমিতির নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় সমিতির পক্ষ থেকে নবাগত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।


আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয় রূপগঞ্জ পল্লী চিকিৎসক সমিতির কর্মকর্তা বৃন্দ নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে এ সৌজন্য সাক্ষাত করেন। 


রূপগঞ্জ পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ওমর শাহজাদা শাহাদাত, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম আজহার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ ওমর, কোষাধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা, প্রচার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, সহপ্রচার সম্পাদক তুষার আহমেদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আসমা আক্তার ঝুলি এবং চিকিৎসাবিষয়ক সম্পাদক ডালিম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সমিতির নির্বাহী সদস্য শাওন আহমেদ ও শামীম আহমেদসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সমিতির নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পল্লী চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।


এ সময় সমিতির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাঁরা জনস্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারবেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৯ পিএম

নাটোর-১, (লালপুর - বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান কোন ভেদাভেদ না রেখে কেবলমাত্র সবাইকে বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিতি দেওয়ার জন্য এবং তাদের প্রত্যেকটি অধিকারকে সমুন্নত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।


আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নাটোরের লালপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ৪৬টি মন্দিরে জিআর চালের ডিও প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল আরও বলেন, আগামী বছর সারা বাংলাদেশের মন্দির গুলো এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাবে আপনারা নিজেরাই স্বাবলম্বী হয়ে মন্দির পরিচালনা এবং নিজেদের পুজো অনেক চমৎকার ভাবে উদযাপন করতে পারেন সে ব্যবস্থা আমরা করবো। 


সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এই বাংলাদেশ এখন আর কেউ আপনাদের সংখ্যালঘু বলতে পারবে না, আমি এখন একটি মসজিদে যেমন অনুদান দেই সাথে সাথে একটি মন্দিরের জন্যও অনুদান দেই।


এ সময় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মো. মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু ও হামিদুর রহমান বাবু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ রঞ্জু, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সর্বশেষ সব খবর

শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ক্লাস চলাকালীন টেবিলেই ঘুমাচ্ছিলেন শিক্ষিকা


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫১ পিএম

নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে টেবিলে মাথা রেখে রাজিয়া সুলতানা নামক এক শিক্ষিকার ঘুমানোর অভিযোগ উঠেছে।


সম্প্রতি এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।




ঘটনাটি ঘটেছে জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গতকাল শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা একটি টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো অবস্থান করছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।


কয়েকজন সাংবাদিক বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। তারা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মিনিট শ্রেণিকক্ষের সামনে অবস্থান করেন। এ সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের হৈচৈ ও চিৎকারের একপর্যায়ে শিক্ষিকার ঘুম ভাঙ্গে।


বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লাস চলাকালে এভাবে ঘুমানো উচিত হয়নি। ক্লাস চলছিল, অথচ তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীরাও তখন চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। তিনি দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলার সময় একজন শিক্ষকের এভাবে ঘুমিয়ে পড়া স্বাভাবিক বিষয় নয়।


ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিশুদের নিয়মিত পাঠদান ও সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় তারা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ঘুমিয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


এদিকে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষিকা মমতা বেগম বলেন,এই শিক্ষিকা এর আগে যেখানে চাকুরী করতেন সেখানে একই কাজ করতে, বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষিকার সাথে ঝগড়া,তর্ক করতেন বলে জানিয়েছেন। বারবার শর্তক করার পরেও কোন ভাবে তিনি আমাদের কথা শুনতে রাজি না। তিনি আরো জানান জলঢাকা উপজেলার শিক্ষা অফিসার স্যার এর আগেও শর্তক করেছিলেন ১৪ দিনের কিন্তু ওনার কোন পরির্বতন নেই।


ক্লাস চলাকালে ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়ে আর একজন শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাজিয়া সুলতানা সব সময় আমাদের তিন জন শিক্ষকের সাথে ঝগড়া ঝাটি করেন, স্কুলের কাছে বাসা কিছুক্ষণ পরপর ক্লাস না করে বাসায় যান, এই বিষয়ে বার বার বলার পরেও তিনি তার ইচ্ছা মতো চলেন।


এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ক্লাসে ঘুমানোর কোনো নিয়ম নেই। কোনো শিক্ষক অসুস্থ হলে তিনি ছুটি নিতে পারেন। ভালো না লাগলেও প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে ছুটি নেওয়া যায়। অথচ তিনি সেটা না করে ক্লাসে ঘুমিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসি হ্যাপি বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের এই ধরনের আচরণকে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার পরিবেশের জন্য মারাত্মক পরিপন্থী হিসেবে দেখেন।বিষয়টি আমরা তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।

সর্বশেষ সব খবর