গ্রেপ্তার বেলাল হোসেন ও আবদুল জলিল
এক নারী বন্ধুর মাধ্যমে ফাঁদে ফেলা হয় বাবাকে। এরপর কৌশলে ওই নারী বন্ধুর বাসায় ডেকে আনা হয়। সেখানে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় বাইরে। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে বাবাকে খুন করে লাশ জঙ্গলে ফেলে দেন ছেলে। পুলিশ লাশটি উদ্ধারের পর দাফন করে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাবাকে খুনের এই বিবরণ দেন ছেলে। তাঁর নাম বেলাল হোসেন। গত শনিবার নগরের মইজ্জারটেক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সময়ে খুনের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে বেলালের এক স্বজনকেও (ভায়রা) মিরসরাই উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর নাম আবদুল জলিল।
পিবিআই জানায়, খুনের ঘটনাটি দুই বছর আগের। নগরের হালিশহর রিংরোড এলাকার জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় মীর মুজিবুর রহমান (৬০) নামের এক ব্যক্তির লাশ। তবে তখন ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে লাশটি দাফন করা হয়।
মীর মুজিবর রহমান পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব চাম্বল এলাকায়। তিনি চারটি বিয়ে করেন। এর মধ্যে প্রথম স্ত্রী রোকেয়া বেগমের ঘরে দুই সন্তান রয়েছে। তাঁদেরই একজন বেলাল হোসেন। অপর সন্তানের নাম আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া বাকি তিন স্ত্রীর মধ্যে দ্বিতীয় স্ত্রীর একটি মেয়ে এবং তৃতীয় স্ত্রীর ঘরে একটি মেয়ে রয়েছে। গ্রেপ্তার বেলাল হোসেন পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। তবে বিভিন্ন সময় মাইক্রোবাসও চালাতেন তিনি।
পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা জানান, মুজিবুরের বাড়ি বাঁশখালী হলেও তিনি ফটিকছড়ি উপজেলায় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর নানাবাড়িতে থাকতেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। তাই চিকিৎসার প্রয়োজনে মুজিবুর তাঁর মালিকানায় থাকা ৪০ শতক জমি বিভিন্ন সময়ে বিক্রি করেছেন। পরে বাঁশখালীতে থাকা ভিটেবাড়িও বিক্রি করতে শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন তাঁর প্রথম স্ত্রীর দুই সন্তান।
বিক্রির এক পর্যায়ে মুজিবুরের মালিকানায় কেবল সামান্য ভিটেমাটি অবশিষ্ট ছিল। তিনি সেটিও বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। ছেলে বেলাল হোসেন একদিন জমির দালাল সেজে বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে ভিটেমাটি বিক্রির চেষ্টার বিষয়ে নিশ্চিত হন। এরপর সম্পত্তি বিক্রি বন্ধে বাবাকে খুনের পরিকল্পনা করেন।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বেলাল তাঁর বাবাকে খুনের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন বলে জানান পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, জমির দালাল সেজে বেলাল যে মুঠোফোন নম্বর থেকে তাঁর বাবাকে ফোন করেছিলেন, ওই নম্বরে একদিন ভুলবশত ফোন করে এক নারীর সন্ধান করেন মুজিবুর। তখন বেলাল চিন্তা করেন, কোনো নারীর সহযোগিতায় তাঁর বাবাকে ফাঁদে ফেলা যাবে। এরপর বাবার মুঠোফোন নম্বর নিজের এক নারী বন্ধুকে দেন বেলাল। ওই নারী মুঠোফোনে কথা বলে মুজিবুরের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন।
পিবিআইয়ের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, সম্পর্কের এক পর্যায়ে মুঠোফোনে পরিচয় হওয়া নারীর সঙ্গে দেখা করতে চট্টগ্রাম নগরে আসেন মুজিবুর। তিনি ওঠেন দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে সালমা বেগমের আন্দরকিল্লা এলাকার বাসায়। সেখান থেকে ২০২৪ সালের ৭ জুন মুঠোফোনে পরিচয় হওয়া ওই নারীর বাসায় যান। নগরের বাকলিয়া এলাকায় অবস্থিত ওই বাসায় পরিকল্পনা অনুযায়ী আগে থেকেই অবস্থান নেন বেলালের ভায়রা জলিল। সেখানে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মুজিবুরকে অচেতন করে ফেলা হয়।
অচেতন অবস্থায় মুজিবুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রথমে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নগরের সিআরবি এলাকায় নেওয়া হয় বলে জানান পিবিআই পরিদর্শক মোস্তাফিজুর। তিনি জানান, মুজিবুরকে সিআরবিতে নেওয়ার পর সেখানে যান বেলাল। নগরের লালদিঘির পাড় এলাকা থেকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস নিজে চালিয়ে সিআরবিতে যান তিনি। এরপর হাইয়েস মাইক্রোবাসটিতে তোলা হয় মুজিবুরকে। পরে নগরের আউটার রিংরোডে নিয়ে জলিলের সহায়তায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে বাবাকে খুন করেন বেলাল। লাশটি সড়কের পাশের জঙ্গলে ফেলে দেন।
পিবিআই জানায়, লাশটি উদ্ধারের সময় মুজিবুরের পরনে লুঙ্গি, পাঞ্জাবি ছিল। একই সঙ্গে গামছাটিও তাঁর শরীরে পাওয়া যায়। হালিশহর পুলিশ লাশটি উদ্ধার করলেও পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। যার কারণে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে দাফন করেন।
এদিকে মুজিবুরের খোঁজ না পেয়ে তাঁর মেয়ে সালমা বেগম ২০২৪ সালের ১০ জুলাই আদালতে একটি মামলার আবেদন করেন। এতে তাঁর বাবাকে অপহরণের অভিযোগ আনা হয় বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে। আদালত বাদীর অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করার জন্য কোতোয়ালি থানাকে নির্দেশ দেন। শুরুতে মামলাটি তদন্ত করে কোতোয়ালি থানা–পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশ পিবিআই মামলার তদন্ত শুরু করে।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকে বেলাল পলাতক ছিলেন। একপর্যায়ে বেলালের অবস্থান শনাক্ত করে পিবিআই তাঁকে গ্রেপ্তার করে। জলিলকেও গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, মূলত সম্পত্তি রক্ষার জন্যই বাবাকে খুন করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বেলাল।
পিবিআইয়ের আরেক পরিদর্শক মর্জিনা আক্তার বলেন, বেলাল যেদিন তাঁর বাবার লাশ জঙ্গলে ফেলে দেন, পরের দিন সেটি উদ্ধার হয়। বেলালের তথ্যের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন ও মেয়ে সালমা বেগমের তথ্য মিলিয়ে রোববার মুজিবুরের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নিহত মুজিবুরের মেয়ে সালমা বেগম বলেন, ‘জন্মদাতা বাবাকে যে সন্তান খুন করেছে, আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে আর কোনো সন্তান তার বাবাকে খুন না করে।’
খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক
খুলনায় শারদীয় দূর্গাপূজা ২০২৬ ইং উপলক্ষে আজ ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিং প্রদান করেন খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক।
এ সময় তিনি বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি ব্রিফিংয়ে এসপি ডিউটিরত সকল সদস্যকে উৎসাহ যোগান এবং সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।
উক্ত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিঃ পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এস. এম. আল বেরুনী, অতিঃ পুলিশ সুপার ট্রাফিক ও ডিএসবি, আবির সিদ্দিকী শুভ্র, অতিঃ পুলিশ সুপার, (বি-সার্কেল) মোঃ খায়রুল আনাম, বিপিএম-সেবা, অতিঃ পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) মোঃ সালাউদ্দিন সহ ডিউটিতে মোতায়েনকৃত ফোর্সবৃন্দ।
ড্রেনের পাশে নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ড্রেনের পাশে পড়ে থাকা একদিন বয়সী এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় লোকজন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা শিশুটিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে চৌমুহনী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশগঞ্জ এলাকায় সমীরের বাড়ির গলির পেছনে ড্রেনের পাশে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে মহেশগঞ্জ বাজার এলাকায় পথচারীরা নবজাতক কন্যাশিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতকের পরিচয় ও তার মা-বাবার সন্ধান বের করার চেষ্টা চলছে। কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে রেখে গেছে, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬
"দূর্বার তারুন্য, দূর্নীতি রুখবেই" এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঝালকাঠির নলছিটিতে দুর্নীতি দমন কমিশন পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল দশটায় সরকারি নলছিটি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উপজেলার সরকারি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাওতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নান্দিকাঠি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বিচারকরা প্রতিযোগিতায় নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কে বিজয়ী ও সরকারি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় রানারআপ ঘোষণা করেন। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হয়েছেন নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ইকরা অমি আলম।
বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডু, নলছিটি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ সমিটির সভাপতি শামসুল আলম খান বাহারের সভাপতিত্বে এসময় আর-ও উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান, সরকারি নলছিটি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খায়রুল বাশার, প্রভাষক মানবেন্দ্র মুখার্জী, জয়নাল আবেদীন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য আবদুল কুদ্দুস, শাহাদাত আলম, শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, নলছিটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মল্লিক মনিরুজ্জামান।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পল্লী চিকিৎসক সমিতির নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় সমিতির পক্ষ থেকে নবাগত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয় রূপগঞ্জ পল্লী চিকিৎসক সমিতির কর্মকর্তা বৃন্দ নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে এ সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
রূপগঞ্জ পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ওমর শাহজাদা শাহাদাত, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম আজহার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ ওমর, কোষাধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা, প্রচার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, সহপ্রচার সম্পাদক তুষার আহমেদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আসমা আক্তার ঝুলি এবং চিকিৎসাবিষয়ক সম্পাদক ডালিম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সমিতির নির্বাহী সদস্য শাওন আহমেদ ও শামীম আহমেদসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সমিতির নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পল্লী চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় সমিতির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাঁরা জনস্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারবেন।
নাটোর-১, (লালপুর - বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান কোন ভেদাভেদ না রেখে কেবলমাত্র সবাইকে বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিতি দেওয়ার জন্য এবং তাদের প্রত্যেকটি অধিকারকে সমুন্নত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নাটোরের লালপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ৪৬টি মন্দিরে জিআর চালের ডিও প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল আরও বলেন, আগামী বছর সারা বাংলাদেশের মন্দির গুলো এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাবে আপনারা নিজেরাই স্বাবলম্বী হয়ে মন্দির পরিচালনা এবং নিজেদের পুজো অনেক চমৎকার ভাবে উদযাপন করতে পারেন সে ব্যবস্থা আমরা করবো।
সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এই বাংলাদেশ এখন আর কেউ আপনাদের সংখ্যালঘু বলতে পারবে না, আমি এখন একটি মসজিদে যেমন অনুদান দেই সাথে সাথে একটি মন্দিরের জন্যও অনুদান দেই।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মো. মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু ও হামিদুর রহমান বাবু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ রঞ্জু, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে টেবিলে মাথা রেখে রাজিয়া সুলতানা নামক এক শিক্ষিকার ঘুমানোর অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।
ঘটনাটি ঘটেছে জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গতকাল শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা একটি টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো অবস্থান করছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
কয়েকজন সাংবাদিক বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। তারা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মিনিট শ্রেণিকক্ষের সামনে অবস্থান করেন। এ সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের হৈচৈ ও চিৎকারের একপর্যায়ে শিক্ষিকার ঘুম ভাঙ্গে।
বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লাস চলাকালে এভাবে ঘুমানো উচিত হয়নি। ক্লাস চলছিল, অথচ তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীরাও তখন চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। তিনি দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলার সময় একজন শিক্ষকের এভাবে ঘুমিয়ে পড়া স্বাভাবিক বিষয় নয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিশুদের নিয়মিত পাঠদান ও সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় তারা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ঘুমিয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মমতা বেগম বলেন,এই শিক্ষিকা এর আগে যেখানে চাকুরী করতেন সেখানে একই কাজ করতে, বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষিকার সাথে ঝগড়া,তর্ক করতেন বলে জানিয়েছেন। বারবার শর্তক করার পরেও কোন ভাবে তিনি আমাদের কথা শুনতে রাজি না। তিনি আরো জানান জলঢাকা উপজেলার শিক্ষা অফিসার স্যার এর আগেও শর্তক করেছিলেন ১৪ দিনের কিন্তু ওনার কোন পরির্বতন নেই।
ক্লাস চলাকালে ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়ে আর একজন শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাজিয়া সুলতানা সব সময় আমাদের তিন জন শিক্ষকের সাথে ঝগড়া ঝাটি করেন, স্কুলের কাছে বাসা কিছুক্ষণ পরপর ক্লাস না করে বাসায় যান, এই বিষয়ে বার বার বলার পরেও তিনি তার ইচ্ছা মতো চলেন।
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ক্লাসে ঘুমানোর কোনো নিয়ম নেই। কোনো শিক্ষক অসুস্থ হলে তিনি ছুটি নিতে পারেন। ভালো না লাগলেও প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে ছুটি নেওয়া যায়। অথচ তিনি সেটা না করে ক্লাসে ঘুমিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসি হ্যাপি বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের এই ধরনের আচরণকে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার পরিবেশের জন্য মারাত্মক পরিপন্থী হিসেবে দেখেন।বিষয়টি আমরা তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।