• প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ পিএম

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ৫০ পিস ইয়াবাসহ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে আটক যুবদল নেতা মো. মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা যুবদল। তিনি উপজেলার ৮ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।


রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদা। তিনি বলেন, মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনার পর দিন শনিবার রাতে মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।  এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে শাহেদা বেগম (৩৫), দেলোয়ার হোসেন (৩০) ও মো. মাসুদকে (৩১) গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. জাফর (৪৫) নামে আরও একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।


সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন সৈকত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাসুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন ও সদস্য সচিব নুরুল হুদা এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।


নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।





খাইরুল ইসলাম

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

কলাপাড়ায় মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেয়ে বাবার সঙ্গে অভিমান করে এক সন্তানের জনক খাইরুল ইসলাম (২৬) আত্মহত্যা করেছেন।


রবিবার (৮ নভেম্বর) শেষ বিকেলে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাইনতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খাইরুল ইসলাম ওই গ্রামের আলমগীর হাওলাদারের ছেলে। নিহতের বাবা আলমগীর হাওলাদার জানান, খাইরুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন।


মাদক সেবনের কারণে তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং তাঁদের মারধর করতেন। তাঁর দেড় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে তাঁর স্ত্রী বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।


তিনি আরও জানান, স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য খাইরুল প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের চাপ দিতেন এবং বিভিন্ন সময় তাঁদের গালিগালাজ করতেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় মাদক সেবনের জন্য তিনি বাবার কাছে টাকা চান। কিন্তু বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। ওই রাতে খাবার না খেয়ে ঘুমাতে যান। একপর্যায়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।পরে পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ কাজে বাইরে গেলে খাইরুল ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। বাড়িতে ফিরে দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। পরে ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।


পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়ালঘর থেকে দড়ি এনে তিনি আত্মহত্যা করেন এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইলিয়াস তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


পাটের গুদামে লাগা আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা । ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৩ পিএম

বাবার সঙ্গে ব্যবসার টাকার হিসাব নিয়ে মনোমালিন্যের জেরে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাবার পাটের গুদামে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। আগুনে গুদামঘরসহ সেখানে থাকা প্রায় ৩২০ মণ পাটের বড় অংশ পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন গুদাম মালিক।


রোববার (৮ নভেম্বর ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামশা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাসেল মোল্লা ওই এলাকার সামেজুদ্দিন মোল্লার ছেলে। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার আগে সকালে রাসেল মোল্লাকে গুদামের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এসময় উত্তেজিত অবস্থায় তাকে গুদামের টিন ও দরজা ভাঙচুর করতে দেখা যায় বলে দাবি তাদের। এরই এক পর্যায়ে গুদামে আগুন লাগিয়ে তিনি চলে যান বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


আগুন ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তা নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে সিংগাইর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুদাম মালিক সামেজুদ্দিন মোল্লা বলেন, ব্যবসার টাকার সঠিক হিসাব নিয়ে আমার ছেলের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। এতে সে উত্তেজিত হয়ে গুদামে আগুন লাগিয়ে দেয়। গুদামে আমার প্রায় ৩২০ মণ পাট ছিল। যার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।


তিনি আরও বলেন, আগুনে গুদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং সেখানে থাকা পাটের বড় অংশ পুড়ে গেছে।


সিংগাইর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তিনি আরও বলেন, আগুনে গুদামঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। গুদামে থাকা পাটের প্রায় ৮০ শতাংশও পুড়ে গেছে। 


শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৭ পিএম

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।


এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। ওই শিক্ষক আগেও শিক্ষার্থীদের মারধরসহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।


তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের ভাষ্য—চুল বড় হয়ে যাওয়ায় দেখতে খারাপ লাগছিল। এ জন্য তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিয়েছেন। এদিকে ঘটনাটি জানার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান। সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫  শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করতে শোনা যায়।


 মিলন নামের এক অভিভাবক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে এসে দেখি, আমার ছেলের মাথার চুল খোপ খোপ করে কেটে দিয়েছে; অথচ তার মাথায় চুল স্বাভাবিকই ছিল। এ নিয়ে আজ বিদ্যালয়ে ঝামেলা হয়েছে।’


আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন বলেন, প্রায় ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ আছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।


অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের চুল অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল; চোখের ওপর এসে পড়ায়, দেখতে খারাপ লাগছিল। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি।’ তবে আগে মারধরের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা অস্বীকার করেন তিনি।


জানতে চাইলে বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তিনি এখন একটি প্রশিক্ষণে আছেন। কী কারণে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল এভাবে কেটে দেওয়া হলো, তা তদন্ত করতে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 


বরিশালের উজিরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বায়জিদ মিঠু। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ পিএম

বরিশালের উজিরপুরে গোপনে নারীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বায়জিদ মিঠুকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে।


রোববার (৮ নভেম্বর) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


এদিকে দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বায়জিদ মিঠুকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।


শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে উজিরপুর পৌর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বায়জিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বাসাবাড়ির জানালা ও বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে নারীদের অজান্তে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ রয়েছে। এসব ভিডিও দিয়ে নারীদের ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শনিবার রাতে এক গৃহবধূ বাথরুমে গেলে ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে তার গোপন ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন বায়জিদ। বিষয়টি ওই নারীর নজরে এলে তিনি চিৎকার করেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে বায়জিদকে আটক করেন। এ সময় তার মুঠোফোনে একাধিক নারীর গোপন ভিডিও দেখতে পান তারা। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে।


স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, শনিবার রাত ১০টার দিকে এক গৃহবধূর বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করছিলেন বায়জিদ। ওই নারী বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার করলে স্থানীয়রা গিয়ে তাকে আটক করেন।


খবর পেয়ে উজিরপুর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বায়জিদকে উদ্ধার করে থানায় নেয়। পুলিশ জানায়, তার ব্যবহৃত মুঠোফোনের দুটি গ্যালারিতে অসংখ্য পর্নো ভিডিও পাওয়া গেছে।



উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, বায়জিদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে। রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


এদিকে রোববার বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের প্যাডে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বায়জিদ মিঠুকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে তাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনি ও সদস্য সচিব মো. কামরুল আহসান এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম খান বাপ্পি।


মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ পিএম

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমবায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সমবায়ের মূল শক্তিই হলো পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও আত্মনির্ভরশীলতা। তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি গড়ে তুলে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে।


রোববার (৮ নভেম্বর) টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা প্রশাসন ও সমবায় বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 


তিনি বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষায় একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে।



অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত সমবায়ীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে তাদের হাতে ঋণের চেক হস্তান্তর করেন। এরপর তিনি শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আয়োজিত ‘সমবায় পণ্য মেলা’র স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি মেলায় বিভিন্ন সমবায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে অংশ নেওয়া নান্দনিক পণ্যের স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করেন।


‘করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’- প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবসের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসাইন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার।


অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু সহ সমবায়ীরা। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলার সমবায়ী নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন


  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৭ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের অদূরে, মাত্র দুই কিলোমিটার দূরেই উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের শিবগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি বাড়ির ভিতর কারখানা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করেন মহিলা শ্রমিকরা। রাতের আঁধারে বাজারজাত করা হয় নকল পণ্য। বছরের পর বছর ধরে চলছে এসব অবৈধ কারবার। মাঝে মাঝে অভিযান চালায় প্রশাসন। কিন্তু বন্ধ হয়না নকল পণ্য উৎপাদন। এবার সেখানেই অভিযান চালান জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই, এসআরবি, উপজেলা প্রশাসন ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ। নকল সার আর ভেজাল কীটনাশক তৈরির দায়ে সিলগালা করা হয় সেখানকার “এসডি এগ্রোভেট” নামের কারখানাটি। সেই সাথে একজন মালিককে একমাসের কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অপরজনের এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা হয় ভেজাল সার ও কীটনাশক তৈরির বিপুল পরিমাণ সামগ্রী।


শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় অভিযানটি পরিচালনা করার সময় কারখানাটির মালিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা শাহিনুর আলম পলাতক ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শাহিনুর ক্ষমতার অপব্যবহার করে নকল পণ্য তৈরি করে সাধারণ চাষীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। নকল পণ্য বাজারজাত করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তিনি। শাহীনুরের পিতা মোতার হোসেনের মৃত্যুর কারখানাটি শাহীনুর ও তার ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন পরিচালনা করে আসছে।


অভিযান পরিচালনাকারি মহাদেবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন নাঈম বিনতে আজিজ বলেন, নকল সার ও কীটনাশক উৎপাদনের অভিযোগে এসডি এগ্রোভেটের মালিক শাহিনুরের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী হাসনাত জাহান পাপিয়ার বিরুদ্ধে বালাইনাশক আইনে এক লাখ টাকা জরিমানা, একই নামে আরেকটি কারখানা চালানোয় শাহিনুরের ভাই দেলোয়ার হোসেনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়।


অভিযানে অংশ নেয়া মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, সেখান থেকে হরমন প্লাস ৬৫ কন্টেইনার, ওস্তাদ ক্যারেট ব্যাডকিলার ১১৫০ প্যাকেট, বিন্না ক্লাস ১ কেজি, দীন জৈব সার ৪০ কেজি, খোলা ছাঁই, খোলা গোবর, বিভিন্ন চকের গুঁড়া, মিশ্রণ মেশিন জব্দ করেছেন। এখানে ছাঁই, গোবর, তামাকের গুঁড়া মিশিয়ে জৈব সারের মিশ্রণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। এটার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাব টেষ্টে পাঠানো হবে। জৈব সারের নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করা হবে। বালাইনাশক চকের গুঁড়া বানাচ্ছে তেলাপোকা মারার জন্য। সেখানে তারা সাইপার মেথিন মেশাচ্ছে যা অবৈধ। চকের গুঁড়া পিএইচপি রেজিষ্ট্রেশনে রাখে, কিন্তু সাইপার মেথিন একটা কীটনাশক, এটা ইমপোর্ট করার অনুমতি নাই। বাড়ির মধ্যে এরকম কীটনাশকের কারখানায় যারা কাজ করছে, তারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মথ্যে রয়েছেন। অচিরেই বড় রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকবে। এই কারখানাটি পরিবেশের এবং ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র কিভাবে পেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


এসআরবি-৫ এর কর্মকর্তা বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানে অবৈধভাবে নকল সার ও কীটনাশক তৈরি করে আশেপাশের জেলাগুলোতে সরবরাহ করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। কৃষক ফসলের ফলন বাড়ানোর জন্য এসব প্রয়োগ করছেন। কিন্তু ফলন বাড়ার পরিবর্তে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এই কৃষিপ্রধান দেশে আমরা যদি কৃষকদের প্রতারণা করি, তাহলে আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এখানে উৎপাদিত সারের গায়ে যেসব সামগ্রীর নাম লেখা আছে তার বিন্দুমাত্র বস্তার ভিতর নেই। এটা দেশের জন্য রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অবস্থা। 


উল্লেখ্য, গত ২০২০ সালের ৪ জুন এই কারখানায় একই অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন নওগাঁ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অনিক চৌধুরী। এসময় র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মোহাইমেনুর রশিদসহ সিপিসি-৩, র‌্যাব-৫ জয়পুরহাটের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।"ওস্তাদ" ব্রান্ডের কীটনাশক ও বিষ উৎপাদনের অনুমতি থাকলেও তারা সিরিয়াস, ম্যাজিক, কারেন্ট, দ্বীন গোল্ড হরমোন প্লাস, অল-ক্লিয়ার ইত্যাদি অননুমোদিত নকল ব্রান্ডের পাউডার ও কীটনাশক উৎপাদন করে আসছিল। অভিযানে শাহিনুর আলমের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।