রতিকান্ত জয়ধর
ঝিনাইদহের মহেশপুরের সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে রতিকান্ত জয়ধর (৪৬) নামের এক বাংলাদেশির মরদেহ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে মহেশপুর থানা পুলিশ। রতিকান্ত গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পলোটানা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে।
জমিজমা ও বসতবাড়ি বিক্রি করে তিনি অবৈধভাবে ভারতে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা। পারিবারিক সূত্র জানায়, আট বছর আগে রতিকান্ত জয়ধরের স্ত্রী উজ্জলী জয়ধর (৪০) তাঁর স্বামীর সম্মতিতে চার সন্তান– রতন জয়ধর (২২), নয়ন জয়ধর (১৫), রত্না জয়ধর (১৮) ও রিয়া জয়ধরকে (১২) নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা শহরে চলে যান। রতিকান্ত কয়েকবার তাদের কাছে বেড়াতে কলকাতায়ও গেছেন। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জমিজমা ও বসতবাড়ি বিক্রি করে টাকাপয়সা নিয়ে রতিকান্ত জয়ধর বাড়ি থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুর থানা থেকে তাঁর ছোট ভাই রণজিৎ জয়ধরকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। রাতেই মহেশপুরে গিয়ে ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন রণজিৎ।
রণজিৎ জয়ধর বলেন, কলকাতায় যাওয়ার কথা বলে মঙ্গলবার সকালে তাঁর ভাই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। তবে তিনি কার সঙ্গে কোন পথে কলকাতায় যাবেন, সেটি জানাননি। বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুর থানা পুলিশের মাধ্যমে ভাই রতিকান্তের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়িতে এনে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করবেন তারা।
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসানের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে রতিকান্ত জয়ধরের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। লাশের সঙ্গে থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্টের সূত্রে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি বলেন, রতিকান্ত জয়ধরের বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে কারা গুলি করেছে, সেটি শনাক্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত শেষেই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবেন।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করেন একই থানার এসআই আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, মরদেহের ঘাড়ের বাঁ পাশে, ডান পাশের পাঁজরের নিচে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এগুলো গুলির আঘাত হতে পারে বলে ধারণা করছেন। এই কর্মকর্তা মনে করছেন, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে তিনি পানিতে পড়ে মারা যেতে পারেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী ইছামতী নদীতীরে দুর্গন্ধ পান। পরে তারা কচুরিপানার নিচে ভাসমান মরদেহটি দেখতে পান। বিজিবি সদস্যরা নিশ্চিত হন, মরদেহটি বাংলাদেশের প্রায় ১০ গজ ভেতরে নদীতে ভাসছিল। পরে মহেশপুর থানা পুলিশ উদ্ধার করে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোরুজ্জামান চৌধুরীর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. সহিদুল ইসলাম চৌধুরীর ওরফে শহীদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ও সম্পদ বিবরণী প্রদানের নোটিশের পরও নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এ মামলা দায়ের করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন বলে দুদুক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শহীদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার নামে জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ মোট ২ কোটি ৮৯ লাখ ১০,৭৫১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে কমিশন কর্তৃক তার প্রতি সম্পদ বিবরণী জারির নির্দেশ প্রদান করা হয়।
দুদক সুত্র জানায়, গত ৫ জানুয়ারি পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শহীদ চৌধুরীর রাজবাড়ি এলাকার বাসায় প্রকাশ্য স্থানে এ ব্যাপারে নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশ জারির পর বিধি মোতাবেক ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলেও গত তিনি অদ্যাবধি কমিশনে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি এবং কোনো প্রকার সময় বৃদ্ধির আবেদনও করেননি।
দুদক কর্মকর্তারা আরও জানান, কমিশন কর্তৃক জারিকৃত নোটিশের নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় দুদক, সিলেটের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার এ মামলা দায়ের করেন।
২০২৩ সালের সিলেট সিটি নির্বাচনে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর শহীদ চৌধুরীকে তার এপিএস হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পট পরবির্তনের পর আত্মগোপনে চলে যান আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এরপর তাকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হয়। ৫ আগস্টের পর থেকে শহীদ চৌধুরীও আত্মগোপনে আছেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আছেন বলে জানা গেছে।
ইলিশ প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বুধবার মধ্যরাত থেকে সমুদ্র ও সমুদ্র মোহনা সংলগ্ন নদীতে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরার উপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। মা ইলিশের বাধাঁহীন প্রজননের লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। সরকারের আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞা মেনে গভীর সমুদ্র থেকে তীরে ফিরে আসছে মাছধরা ট্রলার।
ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পটুয়াখালীর মহিপুর-আলিপুর, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালী সহ উপকুলের হাজারো জেলেরা তীরে ফিরে এসেছে। তবে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারো সমুদ্রে ২২ দিনের এ অবরোধ নিয়ে জেলেদের মাঝে অসন্তোষ রয়েছে।
জেলেদের দাবী এখনো ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলেরা। এরপরও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ইলিশ আহরন থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন জেলেরা। তবে বঙ্গোপসাগরে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের আগ্রাসন বন্ধে দেশের জলসীমানায় নৌবাহিনী সহ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানো, প্রনোদনার পরিমাণ বৃদ্ধি সহ তা প্রকৃত জেলেদের মাঝে বন্টনের দাবি জেলেদের।
কুয়াকাটা আশার আলো জেলে সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি নিজাম শেখ বলেন, সমুদ্রে মাছ শিকার করতে গিয়ে বেশিরভাগ জেলে শুন্য হাতে তীরে ফিরে আসছে। সমুদ্রে আর আগের মত মাছ ধরা পরছে না। সমুদ্রে দেশী বিদেশি অবৈধ ট্রলিং বোটের পাশাপাশি ভারতীয় জেলেদের আধিপত্য চলছে। এসব বন্ধে সরকারের কোন উদ্যোগ না থাকলেও বার বার অবরোধ দিয়ে জেলেদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে মৎস্য অধিদপ্তর। তারপর আবার আবহাওয়া উল্টো।
জেলে আবুবক্কর বলেন, এমনিতেই সাগরে মাছ পাচ্ছি না, তারপর এখন আবার নিষেধাজ্ঞা। তবে সরকার তাদের যে প্রনোদনা প্রদান করেন তা চাহিদার চেয়ে অনেক কম। এই চালের সাথে ডাল ও তেল দেয়ার দাবী জানান।
মহিপুর মৎস্য আড়দার সমবায় মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী বলেন, এই দুই তিন বছর সাগরে মাছ পড়ছে না, তারপর যখনই একটু মাছের মুখ দেখা মিলে তখনই আবার আবহাওয়া খারাপ। জেলের প্রণোদনা আরো বাড়ানো উচিত। এই নিষেধাজ্ঞার সময় বঙ্গপোসাগরে নৌ-বাহিনী, কোষ্টগার্ড ভালোভাবে ডিউটি করা উচিত। অবরোধের সুযোগে মিয়ানমার ও ভারত আমাদের জলসীমানায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায়।
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, ইলিশ প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে, মা ইলিশ সহ সামুদ্রিক সব ধরনের মাছের প্রজনন মৌসুম চলছে। তাই সমুদ্রে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে লাভ মৎস্যজীবীদের।
তিঁনি আরও বলেন, ২২ দিনের অবরোধকালীন সময়ে উপজেলার ১৮ হাজার নিবন্ধিত জেলেদের বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হবে। নিবন্ধনের বাইরে থাকা জেলেদেরও পর্যায়ে ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। এরপরেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাতজাত করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড অথবা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯২ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ পরমেশ্বরপুর বিওপির সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরমেশ্বরপুর বিওপির একটি অভিযানিক দল বোচাগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত পিলার ৩৩২/৭-এস থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরমেশ্বরপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৯২ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত সিরাপের সর্বমোট সিজার মূল্য ২৭ হাজার ৬০০ টাকা।
অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত সিরাপের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি ভবিষ্যতেও কঠোর ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ শুন্য আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে প্রতীক বরাদ্দ ও আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকায় জেলা নির্বাচন অফিসার ও ঠাকুরগাঁও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের এই প্রতীক বরাদ্দ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়ে।
প্রতীক বরাদ্দ পাওয়া প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী জেলা শাখার সভাপতি খাদেমুল ইসলাম পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক, খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল আলিম নিজামী পেয়েছেন বটগাছ এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হোসেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক পেয়েছেন ডাব প্রতীক।
প্রতীক বরাদ্দের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘর্ষে না জড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পক্ষের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের আওতায় এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইসা কাজিম।
আশপাশের দেশের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিতে সময় বেশি লাগায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ বাস্তবতায় বন্দরে গতি ফেরাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এনসিটি টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশই হয় এনসিটির মাধ্যমে।
তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বিহারী বগা (ছবি-সংগৃহীত)
চট্টগ্রাম নগরের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে নগর ভবনে বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। মেয়রের হস্তক্ষেপে বগা গ্রেপ্তার এড়ান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে মেয়র শাহাদাত হোসেনের দাবি, ওয়াকিল সন্ত্রাসী নন। গত মঙ্গলবার রাতে অভিযানের সময় নগর ভবনে ছিলেন না তিনি।
বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি মেয়র শাহাদাতের অনুসারী হিসেবেও পরিচিত। বগা নগর ভবনে অবস্থান করছেন– এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে খুলশী থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশ ভবনে ঢোকার পর মেয়র শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর অভিযান গুটিয়ে ফিরে যায় পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে গতকাল বুধবার সকালে নগরের ২৫নং রামপুরা ওয়ার্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ‘ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা সিটি করপোরেশনে এসেছিল– এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’
মেয়র বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাকলিয়া থানার ওসি থাকা আবদুর রহিম গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কীভাবে খুলশী থানার ওসি হলেন! খুলশী থানায় যোগ দেওয়ার পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত গ্রেপ্তার অভিযান হয়নি। সম্প্রতি হৃদয় নামে এক তরুণের হত্যা মামলায় কামরুলকে গ্রেপ্তারের পর তাকে মারধর করে ওয়াকিল ও তার ভাইদের নাম বলতে বাধ্য করা হয়েছে।’
মেয়র বলেন, ‘ওয়াকিলের দুই ভাই আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। তারা বলেছেন, কামরুলকে মেরে জোরপূর্বক ওয়াকিলের নাম বলানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।’ এ সময় তিনি খুলশী থানার ওসির বিরুদ্ধে আসামিকে মারধর করে স্বীকারোক্তি আদায় এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগও তোলেন।
এদিকে, মেয়রের এমন বক্তব্যের পর গতকাল সন্ধ্যায় খুলশী থানার ওসি মো. আবদুর রহিমকে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়েছে। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে রদবদলের বিষয়টি জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।
আদেশ অনুযায়ী, খুলশী থানার ওসি মো. আবদুর রহিমকে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়েছে। আকবরশাহ থানার বর্তমান ওসি মো. কামরুজ্জামানকে বদলি করে খুলশী থানার ওসি করা হয়েছে। একই আদেশে চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাজের হোসেনকে আকবরশাহ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাস ১০ দিনের মাথায় বদলি করা হলো খুলশীর ওসি আবদুর রহিমকে।
এদিকে নগর ভবনে অভিযানের বিষয়ে পুলিশের ভাষ্য, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বগা নগর ভবন এলাকায় অবস্থান করছেন– এমন তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। তবে তল্লাশি চালিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি তখন নগর ভবনে ছিলেন কিনা, সেটিও নিশ্চিত নয়।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, সন্ত্রাসী বগা যদি নগর ভবনে নাই থাকেন, তাহলে সেখানে অভিযান কেন? আবার মেয়রইবা কেন পুলিশের অভিযানে হস্তক্ষেপ করলেন?
রাত ৯টায় নগর ভবনে পুলিশ
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নগর ভবন ঘেরাও করে পুলিশ। পরে বগাকে গ্রেপ্তারের জন্য ভবনের ভেতরে ঢোকে। এক পর্যায়ে মেয়র শাহাদাত হোসেনের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। পরে সিএমপির (উত্তর) উপকমিশনার হাসান মোস্তফা স্বপন ঘটনাস্থলে যান। মেয়রের হস্তক্ষেপে পুলিশ অভিযান বন্ধ করে ফিরে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
অভিযানের বিষয়ে সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বগা ওই এলাকায় অবস্থান করছে– এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। পরে তাঁকে না পেয়ে পুলিশ ফিরে আসে।
মেয়রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনাস্থলে মেয়রের উপস্থিতি এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে মেয়রকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ত কাউকে খবর দেইনি, কেন এসেছেন আপনারা। কী জন্য আসছেন? সিটি করপোরেশনে ১০০ জন মানুষ আসবে। আপনারা চলে যান।’
ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বাধার মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করে বলেন, নগর ভবন থেকে পুলিশ বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মেয়রের অনুসারীদের ধাক্কাধাক্কি এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।