গাজীপুরে মানবাধিকার কমিশনের পরিচিতি
বাংলাদেশ সোস্যাল হিউম্যান রাইটস কমিশন (BSHRC)-এর গাজীপুর মহানগর কমিটির পরিচিতি সভা, শপথ গ্রহণ, আইডি কার্ড বিতরণ এবং ২০২৬-২৭ সালের এক বছর মেয়াদি ৪৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে গাজীপুর জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ঢাকা বিভাগীয় কমিটির আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগীয় সভাপতি গাজী আনিসুর রহমান ইউনুস (ইমরান)।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সংগঠনের মহানগর কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মো. শওকত হোসেন সরকার। তিনি বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমদ। এছাড়া বক্তব্য দেন গাজীপুর পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি ও ইন্সপেক্টর (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. খাইরুল বাসার, শিল্পপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুস সাত্তার, চিত্রনায়িকা শবনম পারভীন, নিত্য পরিচালক আজিজ রেজা, নুরুল আজিম, দৈনিক মুক্ত বলাকা-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মো. আলমগীর হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।
মহানগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাইউল উদ্দিন খান ও জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান খান পনির অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি মো.আখতার হোসেন, গাজীপুর সাংবাদিক পরিবার কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো.বায়েজীদ হোসেন,সাপ্তাহিক সারাজাহান পত্রিকার সম্পাদক এম এ ফিরোজ লাভলু,গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো.আবু সালেক ভূইয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকার কর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মো. হান্নান বেলালী।
পরে গাজী আনিসুর রহমান ইউনুস (ইমরান) নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ শেষে প্রধান অতিথি মো. শওকত হোসেন সরকার সদস্যদের হাতে পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) তুলে দেন।
আলোচনা সভা শেষে ২০২৬-২৭ মেয়াদের ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট গাজীপুর মহানগর কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. রুহুল আমীন সভাপতি ও আজিজুল হক আজিজ সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক মো. হাইউল উদ্দিন খান যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন, ৪৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, আজিজুল ইসলাম মানু সিনিয়র সহ-সভাপতি, প্রফেসর ড.মোঃনাছিম আখতার সিনিয়র সহ-সভাপতি, মোঃখলিলুর রহমান সহ-সভাপতি, কাজী সাহিন আক্তার সহ-সভাপতি, মোঃ হাবিবুল হক সিদ্দিকী সহ-সভাপতি, মোঃ হালিম মিয়া সহ-সভাপতি, মোঃ রওনাক উদ্দিন যুগ্ম সম্পাদক, জিয়াউল হক যুগ্ম -সম্পাদক, এ কে এম শফিকুল কবির যুগ্ম -সম্পাদক, চাঁদনী ইসলাম সোনিয়া অর্থ-সম্পাদক,মোঃ নজরুল ইসলাম সহ-অর্থ সম্পাদক,
এড.এ.জেড.এম.আলী হাসান আইন বিঃ সম্পাদক, এড.শহীদ সরকার সহ-আইন বিঃসম্পাঃ, লতিফা পারভীন আন্তর্জাতিক বিঃ সম্পাঃ, মোঃ হারুন অর রশিদ সাংগঠনিক সম্পাদক, মোঃ হাবিবুর রহমান সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সাংবাদিক জাহিদুর রহমান (বকুল) তথ্য ও প্রেস সম্পাদক, মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান খান নিরিক্ষণ সম্পাদক, চিত্রা সাহা দপ্তর সম্পাদক, রফিকুল ইসলাম সহ-দপ্তর সম্পাদক, হামিদ সিকদার প্রচার সম্পাদক, নাছরিন আক্তার সহ-প্রচার সম্পাদক, রোখসানা পারভীন সাংস্কৃতিক সম্পাদক, মোছাম্মৎ জেরিন সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক, আবু জাফর মুহাম্মদ ছালেহ ক্রীড়া সম্পাদক, মোঃশহীদুল ইসলাম নির্বাহী সদস্য, হুমায়ুন কবির নির্বাহী সদস্য, মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ্ সরকার নির্বাহী সদস্য, মীর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নির্বাহী সদস্য, এড.রাজু মিয়া নির্বাহী সদস্য, আমানউল্লাহ্ নির্বাহী সদস্য, মোঃ জসিম উদ্দিন চৌধুরী নির্বাহী সদস্য, মোঃ হিরো খান নির্বাহী সদস্য, মোঃ মতিবুর রহমান নির্বাহী সদস্য, মোঃ সাইফুল ইসলাম নির্বাহী সদস্য, শহীদুল আলম নির্বাহী সদস্য, মোঃআব্দুল কুদ্দুস সরকার নির্বাহী সদস্য, মোঃ রাজু মিয়া নির্বাহী সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নাজিম উদ্দিন নির্বাহী সদস্য, নূরে আলম নির্বাহী সদস্য, ডা.মোঃ শাহাজাহান নির্বাহী সদস্য, সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম রবিন নির্বাহী সদস্য।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথি ও সদস্যদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।
দিনাজপুরে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
দিনাজপুরে পৃথক অভিযানে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এ সময় চক্রটির আরও এক সদস্য পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের কোতয়ালী থানাধীন ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের সুন্দরবন (দাসপাড়া) গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি নাম্বারবিহীন মোটরসাইকেলসহ নয়ন দাস (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারী সদর থানার যাদুরহাট এলাকার একটি বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
দিনাজপুর জেলা পুলিশের তথ্যমতে, জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুন্দরবন (দাসপাড়া) গ্রামের নয়ন দাসের বসতবাড়ীতে অভিযান চালায়। এ সময় তার কাছ থেকে নীল রঙের নাম্বারবিহীন ১২৫ সিসির Honda Shine SP CB 125cc মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকা। পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি চোরাই বলে নয়ন দাস পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার কাকা শ্বশুর অনন্ত দাস ওরফে খাকাওয়ের কাছে আরও দুটি চোরাই মোটরসাইকেল থাকার তথ্য দেন।
ওই তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন নীলফামারী জেলার সদর থানাধীন যাদুরহাটের দাসপাড়া/জেলেপাড়া এলাকায় অনন্ত দাস ওরফে খাকাওয়ের বাড়ীতে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনন্ত দাস পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানায়। পরে তার বসতঘর তল্লাশী করে দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি লাল রঙের নাম্বারবিহীন TVS Metro 100cc, যার আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা। অপরটি নীল রঙের নাম্বারবিহীন Bajaj Pulsar 150cc, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ ৫০ হাজার টাকা।
পুলিশের দাবী, উদ্ধার করা তিনটি মোটরসাইকেল দিনাজপুর জেলা ও বিভিন্ন থানা এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নয়ন দাসের বিরুদ্ধে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পলাতক অনন্ত দাস ওরফে খাকাওকে গ্রেপ্তারে আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
অভিযানটি দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ আনোয়ার হোসেন, বিপিএম-সেবার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডিবি দিনাজপুরের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর পিপিএমের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট চুরি সংক্রান্ত তথ্য যাচাইসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান ত্রাণমন্ত্রীর
দিনাজপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, মাদক ও অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণসহ সামাজিক নানা সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি।
তিনি বলেছেন, একটি দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ (কাঞ্চন-১)-এ জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও সমন্বয় কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।
ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “সবার আগে এই জেলার আইনশৃঙ্খলা আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।” এ বিষয়ে তিনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং দায়ীত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম থাকা উচিত নয়। দিনাজপুর শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও এখানকার সার-সংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনায় সরকারকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন একদিনে আসেনি। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। তাই প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটি সুন্দর, মানবিক, আলোকিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। পুরোনো ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে দায়ীত্ব পালনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে দিনাজপুরে আত্মহত্যার বিষয়টিও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। বিভিন্ন কারণে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে এবং সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদক একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে অনলাইন জুয়ার বিস্তার তরুণ সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু আইন প্রয়োগ করে এসব সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়ীত্ব প্রসঙ্গে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর একটি। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট নানা সংকট মোকাবিলায় সরকারকে কাজ করতে হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে সরকার সবসময় থাকার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় শুধু দুর্যোগ মোকাবিলা নয়, গ্রামভিত্তিক বিভিন্ন উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হয়। এসব কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, তিনি প্রতিমাসে অন্তত একবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে এলাকার সমস্যা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করতে চান। পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং তার জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়নের প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ অঞ্চলে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ. জেড. এম. রেজওয়ানুল হক, দিনাজপুর পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, সহ-সভাপতি মোঃ খালুকুজ্জামান বাবু, সহ-সভাপতি মোঃ আখতারুজ্জামান জুয়েল, যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউর রহমান রেজা, দিনাজপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহিউদ্দিন মন্ডল বকুলসহ জেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সভায় উপস্থিত কয়েকজন অংশগ্রহণকারীও বিভিন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সামাজিক সমস্যা ও প্রশাসনিক সমন্বয় আরও জোরদারের বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। মতবিনিময় সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অনলাইন জুয়া বন্ধ, আত্মহত্যা প্রতিরোধ, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ নিরোধ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
মো. শাহীন
নোয়াখালীর কবিরহাটে পাওনা পারিশ্রমিকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মো. শাহীন (৪৪) নামে এক সাবেক যুবদল নেতাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা শামসুদ্দিন মাসুদের বিরুদ্ধে। তিনি চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারের বাশার হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার শাহীন একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং অমরপুর গ্রামের মৃত সাহাব উদ্দিন মেম্বারের ছেলে।
ভুক্তভোগী শাহীন অভিযোগ করেন, কয়েক মাস আগে বিএনপি নেতা শামসুদ্দিন মাসুদ চাপরাশিরহাট হাইস্কুলের পশ্চিম পাশে একটি জায়গা ক্রয় করেন। পরে দলীয় লোকজন নিয়ে ওই জায়গা মাপ দিয়ে দখলে নেয়। ওই সময় তিনি সেখানে কাজ করেন। এরপর তিনি ঢাকায় চলে যান। ফিরে এসে কাজের পারিশ্রমিক চাইলে মাসুদ একাধিকবার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু টাকা না পাওয়ায় তিনি মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেন।
শাহীন অভিযোগ করে আরও বলেন, একাধিকবার ফোন দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার রাতে চাপরাশিরহাট বাজারের বাশার হোটেলের সামনে মাসুদ তার লোকজন নিয়ে আমার ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে বেধড়ক পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। আমরা গরিব মানুষ। তার বিরুদ্ধে আইনগত কী ব্যবস্থা নেব, তাও বুঝতে পারছি না।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মাসুদ। তিনি বলেন, শাহীন তাকে আঁচড়িয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এতে বাজারে থাকা লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে শাহীনকে মারধর করেন। এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। জায়গা মাপার সময় শাহীন আমিনের সঙ্গে গিয়ে ফিতা ধরেছিলেন। আমিন তাকে মজুরি দিয়েছেন। পরে তিনিও শাহীনকে কিছু টাকা দেন। তবে শাহীন তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করছেন।
চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন বলেন, পাওনা টাকা পাওয়ার বিষয়টি তাকে জানিয়েছিলেন শাহীন। তিনি বলেন, হয়তো তিনি (মাসুদ) ভুলে গেছেন। তুমি টাকা চাইলে দিয়ে দেবেন। পরে তিনি শাহীনের ওপর হামলার ঘটনা শুনেছেন।
এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি। তবে তারা রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন।
ছয় মাসে জনতার মুখোমুখি মসিক প্রশাসক রোকন
দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে নগরীর সমস্যা, উন্নয়ন ও সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি নাগরিকদের মুখোমুখি হয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের (মসিক) প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন। ব্যতিক্রমী এ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে নগরীর বিভিন্ন এলাকার অর্ধ শতাধিক নাগরিক অংশ নিয়ে তাদের নানা সমস্যা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। প্রশাসকও এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন।
আাজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত নগরীর টাউন হল অডিটোরিয়ামে প্রথমবারের মতো এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। এতে নগরীর বিভিন্ন এলাকার নাগরিকরা সরাসরি প্রশাসকের কাছে প্রশ্ন করেন এবং তাদের এলাকার সমস্যা ও নাগরিক সেবা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
নাগরিক সেবায় ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ
নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মসিক প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবার কার্যক্রমে ইতোমধ্যে ডিজিটালাইজেশনের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর বিভিন্ন সেবাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে।
তিনি বলেন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণেও পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নগরীর যান চলাচল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার পাশাপাশি নাগরিকদের ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করা হবে।
যানজট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সহযোগিতা প্রয়োজন
নগরীর যানজট ও ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় এখনো প্রত্যাশিত সফলতা আসেনি বলে স্বীকার করেন প্রশাসক। তিনি বলেন, এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যানজট সহনীয় পর্যায়ে আনতে অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। নগরবাসীর সহযোগিতা পাওয়া গেলে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
জনতার মুখোমুখি এ আয়োজনে নগরবাসী সড়ক, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সেবা ও নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। প্রশাসক এসব সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রমে নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করলেন মেহেদী শাহরিয়ার
চুয়াডাঙ্গার ৩২তম পুলিশ সুপার(এসপি) হিসেবে যোগদান করেছেন মেহেদী শাহরিয়ার। গত সোমবার দুপুরে তিনি চুয়াডাঙ্গার নবাগত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
চৌকশ এ পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী শাহরিয়ার যশোর জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ (মার্কেটিং) ডিগ্রি অর্জন করেন। ২৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ২০১০ সালে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার পদে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)-এ-তে কর্মরত ছিলেন।
নবাগত পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পদায়িত হয়েছেন।
দায়িত্ব গ্রহণ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকাকে নবাগত পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, "আমার মূল লক্ষ্য চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও সুসংহত করা। তবে এই যাত্রা একক কোনো প্রচেষ্টা নয়; মিডিয়াকর্মী, রাজনৈতিক-সামাজিক নেতৃত্ব এবং সর্বস্তরের জনসাধারণের সম্মিলিত সহযোগিতাই পারে আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে। আসুন, সবাই মিলে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশকে আরও জনমুখী, দক্ষ ও গতিশীল হিসেবে গড়ে তুলি। আমরা জনগণের পাশে থাকতে এবং তাদের আস্থা অর্জন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দনগর বিসিক এলাকার সৌহার্দ্য ফার্মেসিতে ১৮ লাখ টাকার ওষুধ ও নগদ ১০ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে বিসিক এলাকার সৌহার্দ্য ফার্মেসির শাটারের তালা ভেঙে বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও নগদ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান শুরু করে। পরে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকে চুরির সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে চোরাই ওষুধ কেনার অভিযোগে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকেও আটক করাও হয়।
এসময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ এবং চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে