গাজীপুরের টঙ্গী নতুন বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্থানীয় ব্যবসায়ীমহল সহ এলাকাবাসী। এর প্রতিকার চেয়ে গতকাল রোববার বিকেলে টঙ্গী পূর্ব থানায় গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করেছে অত্র এলাকার ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর নতুন বাজারের রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় জসিম শিকদারের দুই ছেলে রুবেল শিকদার (৩৫) ও সোহেল শিকদার (৪০) এর বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি, চুরি, ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে অতিষ্ঠ স্থানীয় ব্যবসায়ীমহল সহ এলাকাবাসী। এদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা ও প্রতিবাদ করলে ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসীর ওপর হামলা করার অভিযোগ উঠেছে সহোদর এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অত্র এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী সোহেল ও রুবেল সহ তার পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক বিক্রি, চুরি, ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে, তাদের অপকর্মে বাঁধা দিলে অতর্কিত হামলা সহ দোকানীদের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়, এতে আতংকিত হয়ে অত্র স্থান থেকে অন্যস্থানে চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
অপরদিকে সখিনা বেগম (৬০) নামে এক নারী স্থানীয় ওয়ার্ডের মামুন, শাহিন মিয়া, আজিজ মিয়া, রাসেল, হারুন, রেজওয়ান, পেটু ও সোহেলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছে। তার দাবি, গত প্রায় ছয় মাস যাবৎ তার বাসার সামনে উল্লেখিত ব্যক্তিরা মাদক বিক্রি ও সেবন করে আসছে। এতে তাদের বাধা দেওয়ায় পূর্বপরিকল্পিত ভাবে রোববার সকালে তার বাসা ভাঙচুর করে। এ সময় তাকে মারধর করে তার গলায় থাকা নয় আনা ওজনের স্বর্ণের চেইনসহ গচ্ছিত নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
কিন্তু তদন্তে আসা পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এই অভিযোগের বিষয়ে অসংগতি মনে হচ্ছে। সম্প্রতি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন বাজার এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
তারা জানায়, অত্র এলাকায় মাদক ব্যবসা সহ অপরাধমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাদের প্রত্যাশা ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নতুন বাজার এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ মাকছুদুল আলম বলেন, দুই পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ দিন বয়সী এক নবজাতকের পা ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মরত সেবিকাদের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার (১সেপ্টেম্বর) দুপুর ২ টার দিকে পৌর শহরের ফেরিঘাট সংলগ্ন ম্যাক্স হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে ফটো থেরাপি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
তবে নার্সদের অবহেলায় আহত নবজাতকের পা ভেঙে যাওয়ার পরেও বিষয়টি গোপন রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনকি ভাঙ্গা পায়ের এক্সরে রিপোর্টও অভিভাবকদের না দেখানোর অভিযোগ করেছেন শিশুর স্বজনরা।
সরেজমিনে জানা যায়, গত (২৯ আগষ্ট) শনিবার ওই হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভর্তি হন প্রসূতি গৃহবধূ জান্নাতি আক্তার কনা বেগম। পরে ওইদিন রাতেই অস্ত্রপাচার সম্পূর্ণ হলে একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি। তবে বিপত্তি ঘটে হাসপাতাল থেকে ছাড় পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরার ঠিক আগ মুহূর্তে।
হাসপাতালের শয্যায় কান্নাজড়িত কন্ঠে নবজাতকের মা কনা বেগম জানান, অনেক সাধনায় ৬ বছর পর প্রথম মা হয়েছি। কিন্তু নার্স খাদিজা আমার বাচ্চাকে চোখের রং পরিবর্তনের জন্য তাপ দিতে নিয়ে গিয়ে পা ভেঙেছে। আমার সুস্থ ছেলের পা ভেঙে দুই টুকরো হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তেন মং বলেন, আমি বর্তমানে অসুস্থ এবং চিকিৎসাধীন। তবে আমি কর্মস্থলে ফিরে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
গাজীপুরের টঙ্গী গোপালপুর এলাকায় মাদক কারবার নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে নুরুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে টঙ্গীর গোপালপুর সোসাইটি মাঠে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নুরুল ইসলাম গাজীপুরের শ্রীপুর থানার টেপির বাড়ি এলাকার মৃত নজরুল ইসলাম এর ছেলে। তিনি বর্তমানে টঙ্গী পূর্ব থানা গোপালপুর এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু দিন ধরে এলাকায় মাদক কারবার এর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে পার্শ্ববর্তী মরকুন ও পাগাড় এলাকার কতিপয় মাদক কারবারী ও অজ্ঞাত ১০/১২ জন দুষ্কৃতকারী গত রাত সাড়ে ১০টার দিকে নুরুল ইসলামকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাসা থেকে ডেকে গোপালপুর সোসাইটি মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে মাদকের জেরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাঁটুর নিচে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। রাত ১২টার দিকে হামলাকারীরা দায় এড়াতে একটি সিএনজি (গাজীপুর-থ-১২-১১০১) করে গুরুতর আহত নুরুল ইসলামকে তার বর্তমান বাসার সামনে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সিএনজিতে তোলার পরপরই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি বুঝতে পেরে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিএনজি চালককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাকছুদুল আলম বলেন এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এবং হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে পরিচালনাকালে স্টক রেজিস্ট্রারে উল্লেখিত মজুদের পরিমাণের চেয়ে বাস্তবে অতিরিক্ত সার পাওয়া যাওয়ায় দুই সার ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমিন হালদার উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের দোলান বাজার এলাকায় প্রকাশ ট্রেডার্স ও মেসার্স এস এস করপোরেশনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানকালে তাদের স্টক রেজিস্ট্রারে উল্লেখিত সারের মজুদের পরিমাণের তুলনায় বাস্তবে বেশি সার মজুদ থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬-এর ০৬ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলায় মোট দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন। জরিমানাপ্রাপ্তরা হলেন প্রকাশ ট্রেডার্সের নির্মল দাস (৬০) ও মেসার্স এস এস করপোরেশনের শরীফ ভূইয়া। তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করে। মামলাগুলোতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাষ্ট্র। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী হিসেবে মাহবুবুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমিন হালদার জানিয়েছে, বাজারে সারসহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের মজুদ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় ফজলুল হক মিলন
গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ছিলেন এক জননন্দিত রাষ্ট্রনায়ক। জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী আদর্শের সাথে দেশের জনগণকে একত্রিত করার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-(বিএনপি) গঠন করেন। বাংলাদেশী মানুষের জন্য দিনটি আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার। বিএনপি বাংলাদেশি ভূখন্ডের পূর্ণ স্বাধীনতা, শক্তিশালী সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দেয়ার নীতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর অনেকেই মনে করেছিল, বিএনপি ধসে যাবে। কিন্তু ধসে যায়নি। তাঁর অনুপস্থিতিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে জনগণের আস্থা ধরে রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপি যেকোনো ত্যাগ তিথিক্ষার জন্য প্রস্তুত আছে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু ও কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মো. ইব্রাহীম প্রধানের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেন আরমান। বিশেষ অতিথি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোলায়মান আলম, আশরাফী হাবিবুল্লাহ, মো. খাইরুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফুর রহমান। সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আশরাফ নেওয়াজ চৌধুরী শাওন, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান জুয়েল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পদক মো. ইয়াছিন মোল্লা, পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
এ সময় তুমলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আহমেদ, বাহাদুরশাদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, জামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ দেওয়ান, জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নেছার আহমেদ নুহু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাশিদুল হাসান রিপনসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে খেপুপাড়া নেছারুদ্দীন কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এসব চারা রোপন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক এবং সম্ভাব্য পৌর মেয়র প্রার্থী আবু হাসনাত রিমন সিকদার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সজল বিশ্বাস, সদস্য দোয়েল শিকদার, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বিশ্বাস রাশেদ মোশাররফ কল্লোল, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, সহ সভাপতি আবু বক্কর, যুব নেতা জহিরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান বাবু, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোঃ সোহেল সিকদার, সাবেক ছাত্র নেতা আরিফ ও রিয়াদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোঃ ওয়ালিউল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক মোঃ আবদুল কাইউম ও মোঃ মাছুম বিল্লাহ রুমি, প্রভাষক মোঃ নজরুল ইসলাম ও সালমান, সহকারী শিক্ষক মোঃ আবদুল ওহাব ফরাজী, মোঃ শাহিন সিকদার ও মোঃ নূরে আলম মুরাদ, সহকারী মৌলভী মোঃ রিয়াজ রহমান, ইবঃ ক্বারী মোঃ ফোরকানুল ইসলাম এবং অফিস সহকারী মোঃ সাইদুর রহমান সিফাতসহ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক এবং সম্ভাব্য পৌর মেয়র প্রার্থী আবু হাসনাত রিমন সিকদার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি গাছের চারা রোপন কর্মসূচী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা রোপন করা হয়েছে।
কুয়াকাটায় ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের লাঞ্ছিত ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে অসুস্থ ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে যান কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের পশ্চিম খাজুরা গ্রামের মোর্শেদা বেগম। তখন তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা ভিজিট দাবি এবং টাকা না দিলে প্রেসক্রিপশন দেওয়া হবে না। এমনকি ‘ভিজিট না দিলে রোগ ভালো হবে না’ বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।
মোর্শেদা বেগমের অভিযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারেননি। শুক্রবার ধার-দেনা করে এক হাজার টাকা সংগ্রহ করে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে ছেলেকে দেখাতে যান। পরে ওই ফার্মেসির সহযোগিতায় পরিচিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বিনামূল্যে কিছু পরীক্ষা করান। পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে সরকারি হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন।
মোর্শেদা বলেন, আমাকে বলা হয়, তার পরামর্শ না নিয়ে কেন পরীক্ষা করিয়েছি। অন্য জায়গা থেকে রিপোর্ট নিয়ে কেন তার কাছে এসেছি, এ নিয়েও কথা শোনানো হয়। এরপর ৫০০ টাকা ভিজিট দাবি করা হয়। টাকা না দিলে প্রেসক্রিপশন করবেন না এবং রোগী ভালো হবে না বলেও জানানো হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডাক্তারকে টাকা দিতে গেলেই সমস্যা হয়? ফাইজলামি করতে এখানে এসেছেন’এ ধরনের কথা বলে তাকে অপমান ও গালাগাল করা হয়েছে। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা দিনমজুর খালেক অভিযোগ করে বলেন, টাকা ছাড়া তিনি কিছুই বোঝেন না, দুর্ব্যবহার তার নিত্য দিনের সঙ্গী এছাড়াও নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দিয়ে থাকেন তিনি।
কুয়াকাটার বাসিন্দা উখিন চান রাখাইন বলেন, আমার বোনের পা ভেঙে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি (রিয়াজ) বলেন কোনো সমস্যা হয়নি। পরে কোনোমতে পা আটকে দেন। পরবর্তীতে পায়ে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বরিশালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. রিয়াজ বলেন, আমি তার সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করিনি। তিনি তার বাচ্চাকে নিয়ে আসার পর আমি তাকে চিকিৎসা দিয়ে দিয়েছি।
কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কিশলয় সাহা বলেন, আমি ছুটিতে রয়েছি। বিষয়টি কর্তব্যরতদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে রোগীর কাছ থেকে ভিজিট নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিঞা।
তিনি বলেন, সরকারি উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বে থাকাকালীন হাসপাতালে বসে কোনো ভিজিট নেওয়ার ক্ষমতা নেই। পাশাপাশি তারা সরকার নির্ধারিত অল্প কিছু ওষুধ দিতে পারেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।