ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৬ জুন, ২০২৬, সময় : ৭:৩৮ এএম

ঈদ-পরবর্তী আনন্দঘন পরিবেশ ও ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলাকে ঘিরে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর ছিল পুরো এলাকা।


গতকাল শুক্রবার বিকেলে হবিরবাড়ী স্পোর্টস একাডেমির উদ্যোগে সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ঈদ-পরবর্তী মিলনমেলা ও ফুটবলের আবহে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী আয়োজন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।


ম্যাচে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকরা নিজ নিজ দলের জার্সি পরে মাঠে উপস্থিত হয়ে প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানান। দর্শকদের উচ্ছ্বাস, করতালি ও স্লোগানে পুরো মাঠ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।


রোমাঞ্চকর এ প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা সমর্থক দল দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ব্রাজিল সমর্থক দলকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে। ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আর্জেন্টিনা সমর্থক দলের খেলোয়াড়রা তিনটি দৃষ্টিনন্দন গোলের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থক দল কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য এবং ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হবিরবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খান বাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টনসহ স্থানীয় ক্রীড়া ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।


খেলা শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ী ও রানার-আপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় হবিরবাড়ী স্পোর্টস একাডেমির পক্ষ থেকে ক্রীড়াঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধান অতিথি, উদ্বোধক এবং সভাপতির হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।


আয়োজকরা জানান, ঈদ-পরবর্তী মিলনমেলার মাধ্যমে এলাকার প্রবীণ ক্রীড়াবিদ, তরুণ খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করবে।


স্থানীয়দের মতে, খেলাধুলার পাশাপাশি সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং এলাকার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।




ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০৪ এএম

কুমিল্লায় নিহত স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক তুহিন নামে এক কিশোরের বাড়ি থেকে তার আইফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন ভূইয়া। শনিবার রাতে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় ওই কিশোরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিহত অপ্রতিমের আইফোনটি উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনিবার বিকেলে পুলিশ তাকে আটক করে।’ 


পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন আরও বলেন, ‘ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- সন্ধ্যার পর অপর দুজনকে আটক করে পুলিশ। তারা হলো-আনাস ও ফাহিম আহমেদ। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। এ ছাড়াও এসআরবি হেফাজতে আছেন সন্দেহভাজন আরও একজন।’


জানা গেছে, শনিবার রাত আটটার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় ওই কিশোরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ফোনটি উদ্ধার করে জেলা পুলিশের একটি দল। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশ। অপ্রতিম তার মায়ের এই ফোনটি নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল।


শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ডিবি ও এসআরবি হেফাজতে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’ এ ঘটনায় রোববার মামলা করবে অপ্রতিমের পরিবার।  রাত পৌনে ১১টায় কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহ বলেন, স্কুলছাত্র হত্যার রহস্য বের করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আটক করা হয়েছে। রোববার পুলিশ সুপার এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন। 


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথমে এক কিশোরকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও দু’জনকে আটক করা হয়।


সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, অপ্রতিম নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে ওই কিশোরকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।


অপ্রতিমের মরদেহ শনিবার দুপুরে কুবি ক্যাম্পাসের পাশের জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। এর আগে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিহত অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।


মাথায় গুরুতর আঘাত ও পুরো শরীরে বেশ কিছু জখমের চিহ্ন মিলেছে স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে। পুলিশের ধারণা- মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হতে পারে।


সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। আজ রাত ১০টার দিকতিনি বলেন, ‘অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে,  মাথায় আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘শরীরের বিভিন্ন স্থানে আরও ছোটখাটো কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’


ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মাথায় আঘাতে মৃত্যু হয়েছে বলে আপাতত আমরা ধারণা করছি। তবে তাকে শ্বাসরোধ কিংবা হত্যার আগে চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা- এটা নিশ্চিত হতে শরীর থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।’ 



অপ্রতিমের পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।


অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার  বলেন, ‘শুক্রবার জুমার নামাজের পর অপ্রতিম আমাদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খায়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে আইফোন দিয়ে ছবি তুলতে বাইরে যেতে চায়। কিন্তু আর ফিরে আসেনি।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত আইফোনটিই তার মৃত্যুর কারণ হয়েছে।’

কালীগঞ্জে বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি মিলনের মতবিনিময়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শালীনতা ও গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান


বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি মিলনের মতবিনিময়

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৭ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার নাগরী এলাকার স্বপ্ন কানন রিসোর্টে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন।


মতবিনিময় সভায় গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য, কর্মকাণ্ড বা সিদ্ধান্ত নিয়ে তথ্য ও যুক্তিনির্ভর গঠনমূলক সমালোচনা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ। 




সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। এখানে প্রত্যেকের মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে কাউকে হেয় করা, অশালীন ভাষা ব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা কোনোভাবেই সুস্থ সামাজিক পরিবেশের জন্য সহায়ক নয়।


তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষের প্রশ্ন বা সমালোচনা থাকতেই পারে। ভুল-ত্রুটি থাকলে তা তথ্য ও যুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা উচিত। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ পান এবং সমাজে গঠনমূলক আলোচনা তৈরি হয়। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিলন বলেন, কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলে যুক্তির মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন করা উচিত। ব্যক্তিগত কটূক্তি, অশ্লীল শব্দ বা অপমানজনক মন্তব্যের মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না।

সভায় অন্যান্যের মাঝে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোলেমান আলম, আশরাফী হাবিবুল্লাহ খোকা, মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেন আরমান মাষ্টারসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 


এ সময় তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধান অতিথি। সভায় নেতৃবৃন্দ স্থানীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম, পারস্পরিক সমন্বয় এবং দলীয় কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি তাদের বক্তব্য শোনেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২১ পিএম

আসন্ন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে  আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ইছাখালী এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত  হয়। 


কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ০৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কায়েতপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সেলিম আহমেদ। 


​সভায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ সেলিম আহমেদ বলেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংগঠিত করে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দলীয় কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কায়েতপাড়ার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।


‎তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রত্যেক ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সক্রিয় হতে হবে। দলের প্রতি আনুগত্য ও ঐক্য বজায় রেখে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।


দানবাক্সে মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৭ পিএম

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং ১৫ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।


আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে সিলগালা অবস্থায় থাকা তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খোলা হয়। এরপর পাওয়া নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব করা হয়। এ সময় সন্ধ্যা ৬ টার দিকে দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকা ও বিভিন্ন সরঞ্জামের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।


মাজার কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা। স্বর্ণ পাওয়া গেছে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি। পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাজ্যের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ সেন, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরোপের ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের ০.০২৫ পয়সা, পাপুয়া নিউ গিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়া। 


এর আগে ১৫ আগস্ট সর্বশেষ দানবাক্স ও মানতের বাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন গণনা করে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এ সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ছাড়াও স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী পাওয়া যায়। এর আগে ১১ জুলাই দানবাক্সের অর্থ গণনা করে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। সেবারও বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী পাওয়া যায়। আর ২২ জুন দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।


উল্লেখ্য, প্রায় একমাস ৪দিন পর আবার শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান বাক্সগুলো খোলা হয়েছে। এর আগে গত ২২শে জুন প্রথমবার, ১১ই জুলাই দ্বিতীয়বার ও গত ১৫ আগস্ট ৩৪ দিন পর তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ওইসময় পাওয়া গিয়েছিল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা।


অপ্রতিম হত্যায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ ক্লু

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৫ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। 


আজ শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে তারা ঘটনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বা ‘ক্লু’ পেয়েছেন।


নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান।


পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বের হয় অপ্রতিম। তবে সন্ধ্যা নেমে এলেও সে আর ঘরে ফেরেনি। স্বজনেরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার রাতেই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।


নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর আজ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থান থেকে অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 


ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। আপাতত একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি দোষী না নির্দোষ, তা তদন্তের পরেই জানা যাবে।’


হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, শুধুই একটি আইফোন ছিনতাইয়ের জন্য এই নিষ্পাপ শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে- তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এদিকে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনটি পাওয়া না যাওয়ায় সেটি ছিনতাই করতেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। নিষ্পাপ এই কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন A+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৮ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে সদর উপজেলার ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন- A+ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। সংবর্ধনা স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট তুলে দিয়ে তাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।


আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলরূমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ঠাকুরগাঁও এডিপি, ওয়ার্ল্ড ভীষণ বাংলাদেশ এর সহযোগীতায় শিক্ষার্থীদের এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।




অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার এস‌এসসির ২০২৬ সেশনে গোল্ডেন A+ প্রাপ্ত প্রায় ২৭০ জন শিক্ষার্থীকে হাতে সার্টিফিকেট ও সম্মাননা ক্রেস্ট ও সম্মানী দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেন অতিথীরা।


অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খাইরুল ইসলাম সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল হক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আরিফুল্লাহ, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাফেজ মোঃ রশিদ আলম সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক মোঃ মাহমুদুন নবী, অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহাদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ জাকিরুল ইসলাম। 


এ সময় অনুষ্ঠানে গোল্ডেন এ প্লাস প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবক ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


বক্তারা সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে দেশ তথা এলাকার মানুষের সেবায় কাজ করার আহবান জানান।