দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ

ভালুকায় রাম্বুটানের আকাশছোঁয়া দাম

বিদেশি ফল রাম্বুটান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ এএম

বিদেশি ফল রাম্বুটানের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়লেও ময়মনসিংহের ভালুকায় এর আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ ক্রেতাদের হতাশ করছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় যেখানে প্রতি কেজি রাম্বুটান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে ভালুকায় একই ফল কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দাম পরিশোধ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।


স্থানীয় বাজার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ভালুকায় রাম্বুটানের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে ফলটির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের জন্য এটি এখন প্রায় বিলাসপণ্যে পরিণত হয়েছে।


ভালুকা উপজেলার গোয়ারী এলাকায় ‘তায়েফ এগ্রো’ নামে একটি বাণিজ্যিক বাগানে বর্তমানে থোকায় থোকায় ঝুলছে আকর্ষণীয় লাল রঙের রাম্বুটান। প্রায় ২০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা বাগানটিতে রয়েছে তিন শতাধিক পরিণত গাছ। থাইল্যান্ডপ্রবাসী উদ্যোক্তা আশরাফ শুভ তার চাচা মামুনকে সঙ্গে নিয়ে বাগানটির পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা করছেন। বাগান কর্তৃপক্ষ বর্তমানে প্রতি কেজি রাম্বুটান ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।


তবে বাজার ঘুরে জানা গেছে, ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ফল প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ভালুকার ক্রেতাদের একই ফল কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ মূল্য। এই মূল্য পার্থক্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।


এ বিষয়ে তায়েফ এগ্রোর উদ্যোক্তা আশরাফ শুভ বলেন, “রাম্বুটান একটি বিদেশি ও উচ্চমূল্যের ফল। বাগান প্রতিষ্ঠা, চারা সংগ্রহ, সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থা, পরিচর্যা ও শ্রমিক ব্যয়সহ উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বর্তমানে ফলটির উৎপাদন সীমিত হলেও চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সে কারণেই বাজারে এর দাম বেশি রয়েছে।”


তিনি আরও বলেন, “রাম্বুটান চাষে দীর্ঘ সময়, নিবিড় পরিচর্যা ও বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। আমরা মানসম্পন্ন ফল উৎপাদনের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে ভালো পণ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে দেশে বাণিজ্যিকভাবে রাম্বুটান চাষ সম্প্রসারিত হলে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়বে, ফলে বাজারমূল্যও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে আশা করছি।”


আশরাফ শুভ জানান, দেশের আবহাওয়া ও মাটিতে সফলভাবে রাম্বুটান চাষ সম্ভব হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। পরিকল্পিতভাবে চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।


উচ্চমূল্যের কারণে রাম্বুটান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে। অনেকেই ফলটির স্বাদ ও পুষ্টিগুণের প্রশংসা করলেও অতিরিক্ত দামকে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


মুক্তাগাছা থেকে আসা রিপন মিয়া জানান, “রাম্বুটান দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি সুস্বাদু। কিন্তু প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দাম হওয়ায় পরিবারের জন্য নিয়মিত কেনা সম্ভব নয়।”


আরেক ক্রেতা জানান, “দেশের অন্য জেলায় যেখানে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় রাম্বুটান পাওয়া যায়, সেখানে ভালুকায় প্রায় দ্বিগুণ দাম দিতে হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে এবং সাধারণ মানুষও সহজে এই ফল কিনতে পারবে।”


এদিকে, রাম্বুটান বাগানকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বিদেশি এই ফলের বাগান দেখতে ভিড় করছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই বাগানে ঘুরতে আসছেন, ছবি তুলছেন এবং রাম্বুটান সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন। 


তবে বাগানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলেও ফলের দাম শুনে অনেক দর্শনার্থী হতাশ হচ্ছেন। আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেকে রাম্বুটান না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।


স্থানীয়দের মতে, বাগানটি ইতোমধ্যে ভালুকার একটি নতুন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে ফলটির বর্তমান মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অধিকাংশ দর্শনার্থীর আগ্রহ কেবল দেখা ও ছবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।


অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কৃষিপণ্যের দাম যখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য ব্যয়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হয়ে যায়, তখন সেটি ধীরে ধীরে সাধারণ ভোগ্যপণ্য থেকে বিলাসপণ্যে রূপ নেয়। বর্তমানে ভালুকায় প্রতি কেজি রাম্বুটানের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ফলটি কার্যত নাগালের বাইরে চলে গেছে।


দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেখানে প্রতি কেজি রাম্বুটান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে ভালুকার ক্রেতাদের প্রায় দ্বিগুণ মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে মূল্য বৈষম্যের একটি চিত্রও ফুটে উঠেছে। 


সচেতন ভোক্তাদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এই অস্বাভাবিক মূল্য পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।


শুধু ফল নয়, ভালুকায় রাম্বুটানের চারার বাজারেও দেখা গেছে আকাশছোঁয়া দাম। স্থানীয়ভাবে প্রতিটি চারা প্রায় ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ফলগাছের চারার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। ফলে অনেক শৌখিন বাগানপ্রেমী ও নতুন উদ্যোক্তা আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও চারা কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে লাভজনক ফল হিসেবে রাম্বুটানের সম্ভাবনা থাকায় চারার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু সীমিত সরবরাহের কারণে চারার দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেকের মতে, ফলের পাশাপাশি চারার বাজারেও কৃত্রিম সংকট ও উচ্চ চাহিদার প্রভাব পড়েছে।


ভালুকা উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূর জাহান বলেন, “বিদেশি ফল হলেও রাম্বুটান বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই খাপ খাইয়ে নিয়েছে। ফলে দেশে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষের সম্ভাবনা দিন দিন উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।”


তিনি আরও বলেন, “রাম্বুটান একটি উচ্চমূল্যের ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। এর ব্যতিক্রমধর্মী স্বাদ, আকর্ষণীয় রঙ এবং বাজারমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে। ফলটিতে প্রচুর ভিটামিন-সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।”


নূর জাহান জানান, রাম্বুটানের মোটা ও শক্ত খোসা থাকায় এটি তুলনামূলক দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব। ফলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সহজে পরিবহন ও বাজারজাত করা যায়। পরিকল্পিতভাবে চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে ভবিষ্যতে রাম্বুটান দেশের একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।


স্থানীয়দের দাবি, ফল ও চারার উভয় ক্ষেত্রেই উৎপাদন এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করা গেলে বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে, দাম কমবে এবং বিদেশি এই সুস্বাদু ফলটি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে। বর্তমানে রাম্বুটান যতটা তার স্বাদ ও সৌন্দর্যের জন্য আলোচিত, তার চেয়েও বেশি আলোচনায় রয়েছে এর আকাশছোঁয়া মূল্য।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ পিএম

সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র । এর মধ্যে ভিডিও কলে এক ছাত্রকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে তার বাবার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। 


এ ঘটনায় দুজনের অভিভাবক নগরের শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্র হলো তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম)। ১৫ বছর বয়সী দুজনই সিলেটের খাদিম পাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায হিফজ বিভাগে পড়ে। তামিম দক্ষিণসুরমা বড়াইকান্দি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে। 


ছাত্রদের অভিভাবক, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের ফাঁকে ওই দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সাঈদের বাবার মুঠোফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরহীন অ্যাকাউন্ট থেকে নাঈমকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছে দুই ছাত্রের অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। 


এ বিষয়ে জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় ওই ছাত্র দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে তামিম আরও দুবার মাদ্রাসা থেকে না বলেই বাসায় চলে গিয়েছিল। পরে তার বাবা এসে দিয়ে গিয়েছিলেন। এবার সাঈদ ও তামিম দুজনই একসঙ্গে ফজরের নামাজের ফাঁকে বের হয়ে যায় বলে জেনেছি। বিষয়টি তাদের মা-বাবাকে জানাই।


’সাঈদের বাবা বেবুল আহমদ জানান, ‘মাদ্রাসা থেকে বাসায় গেছে কি না, এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার হুজুর কল দিয়েছিলেন। আমরা জানাই যে সে (নাঈম) আসেনি। সিলেটের বিভিন্ন জায়গায়ও খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আমার ইমোতে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। ইমোর অ্যাকাউন্টে কোনো নম্বর দেখা যাচ্ছিল না। তখন একের পর এক কল দিচ্ছিলাম, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে রিসিভ করা হয়নি।’


বেবলু আহমদ জানান, ‘পরে সন্ধ্যার পর ভিডিও কলে আমার ছেলেকে হাত-পা বেঁধে রাখা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়; ভিডিও পাঠিয়েছে। পরে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলে । নয়তো আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’ তবে কে বা কারা অর্থ দাবি করছে, তা তিনি জানেন না।


আরেক ছাত্র তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার জানান, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসা থেকে এর আগেও দুবার বের হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিল। আবারও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আল্লাহ জানেন, আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না।’


শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, ‘ওই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা জিডি করেছে। আমরা সারা দেশে দুই ছাত্রের ছবি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’


ইমোতে অর্থ দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ইমোতে যে নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটা যাচাই করে দেখা হয়েছে, তা এক বছর ধরে বন্ধ। অনেক সময় নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে কিছু প্রতারক চক্র এমন সুযোগ নেয়। আর ইমোতে কয়েক সেকেন্ডের যে ভিডিও পাঠানো হয়েছে, তা অস্পষ্ট। তবে আমরা খোঁজ করছি।’

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।


শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে টেক্সটাইল-রুবি গেট হয়ে দুই নম্বর গেইট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পলিটেকনিক্যাল মোড়ে এসে শেষ হয়।


চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল, মোহাম্মদ রুবেল, মো.মাহমুদ, আইন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো.রিয়াজ, পাহাড়তলী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রকি, মো.ইয়াছিন আফ্রিদি,পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ বকুল, মো.আহাদ, মো.সামি, মো.মহসিন,কলেজ ছাত্রদলের সংগঠক মো.তানভীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ পিএম

অবৈধভাবে রাসায়নিক সার বিক্রি করার অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোতাহার হোসেন নামে এক সার ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে আটক ২১ বস্তা সার সরকারি মুল্যে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এনএম ইসফাকুল কবীর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ আদেশ দেন।


পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামানিক জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে আব্দুল খালেক এর বাড়িতে ৭ বস্তা টিএসপি ও ১৪ বস্তা এমওপি সার সহ সার ব্যবসায়ী মোতাহার এবং গৃহকর্তা খালেককে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক করে স্থানীয়রা। পরে থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ সার সহ ঐ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইনের ২০০৬ এর ১২(৩) ধারা মোতাবেক সার সাব-ডিলার মোতাহারকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং আটক করা ২১ বস্তা সার বাজেয়াপ্ত করে প্রকাশ্যে জাবরহাট ইউনিয়নের কৃষগনের মাঝে সরকারি দামে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।


আটক করা সার রবিবার প্রকাশ্যে বিক্রি করার ব্যবস্থা করবেন কৃষি বিভাগ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝালকাঠির নলছিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।


১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:হাবিবুর রহমান,নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন,উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো:ওবায়দুল ইসলাম,উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা:আবু সালেহ মো:ইফাদ ইশতিয়াক,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট,বিডি ক্লিন বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা।


আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।ঝোপঝাড় পরিস্কার,ড্রেন,নালা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রেখে সকলে মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।


আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে ফেরত আসে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ পিএম

জলবায়ু ন্যায়বিচার, জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যৎ এবং দ্রুত ও ন্যায্য অর্থায়নকৃত জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে । বৈশ্বিক কর্মসূচি গ্লোবাল উইক অফ অ্যাকশন এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে  এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবাদি সংগঠন  ও নদী রক্ষা আন্দোলন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ ও আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


এতে  বক্তব্য রাখেন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা'র কলাপাড়ার সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য রফিকুল ইসলাম মিরাজ, পরিবেশ সংগঠক সাইফুল্লাহ মাহমুদ, পরিবেশ সংগঠক আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠনের সাবেক সভাপতি  নজরুল ইসলাম প্রমুখ। 


বক্তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং কপ থার্টি ওয়ান (COP31)-এর প্রাক্কালে আয়োজিত এই বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমরা দাবি জানাচ্ছি—জীবাশ্ম জ্বালানির অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের জন্য দ্রুত ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়ন করতে হবে।


এছাড়া বক্তারা কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট আশুগঞ্জ বিদুৎ কেন্দ্র কে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র দু'টির অভ্যন্তরের বিপুল পরিমাণ খালি জায়গা রয়েছে। যেখানে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে সৌরসিষ্টেম চালু করার দাবি জানান। 


কয়লা দূষণ বন্ধে সমাজিক আন্দোলনে সকল শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।  পরিবেশ  দূষণ বন্ধে কয়লা দূষণ বন্ধের কোন বিকল্প নেই। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৬ পিএম

নাটোরের লালপুরে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুই আরোহী হৃদয় (২০) ও মনি (২২) আহত হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালপুর-গোপালপুর সড়কের শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ট্রাককে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাক, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হন।


খবর পেয়ে লালপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুল্লাহ লালপুরের উত্তর লালপুর গ্রামের শহীদুজ্জামান লাকির ছেলে।


আহত হৃদয় ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত হৃদয় চকদৈবকী  গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ও মনি একই গ্রামের নাজির উদ্দিনের ছেলে।


ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প:প::কর্মকর্তা ডাক্তার মঞ্জুর রহমান।

সর্বশেষ সব খবর