বিদেশি ফল রাম্বুটান
বিদেশি ফল রাম্বুটানের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়লেও ময়মনসিংহের ভালুকায় এর আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ ক্রেতাদের হতাশ করছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় যেখানে প্রতি কেজি রাম্বুটান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে ভালুকায় একই ফল কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দাম পরিশোধ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
স্থানীয় বাজার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ভালুকায় রাম্বুটানের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে ফলটির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের জন্য এটি এখন প্রায় বিলাসপণ্যে পরিণত হয়েছে।
ভালুকা উপজেলার গোয়ারী এলাকায় ‘তায়েফ এগ্রো’ নামে একটি বাণিজ্যিক বাগানে বর্তমানে থোকায় থোকায় ঝুলছে আকর্ষণীয় লাল রঙের রাম্বুটান। প্রায় ২০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা বাগানটিতে রয়েছে তিন শতাধিক পরিণত গাছ। থাইল্যান্ডপ্রবাসী উদ্যোক্তা আশরাফ শুভ তার চাচা মামুনকে সঙ্গে নিয়ে বাগানটির পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা করছেন। বাগান কর্তৃপক্ষ বর্তমানে প্রতি কেজি রাম্বুটান ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
তবে বাজার ঘুরে জানা গেছে, ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ফল প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ভালুকার ক্রেতাদের একই ফল কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ মূল্য। এই মূল্য পার্থক্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে তায়েফ এগ্রোর উদ্যোক্তা আশরাফ শুভ বলেন, “রাম্বুটান একটি বিদেশি ও উচ্চমূল্যের ফল। বাগান প্রতিষ্ঠা, চারা সংগ্রহ, সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থা, পরিচর্যা ও শ্রমিক ব্যয়সহ উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বর্তমানে ফলটির উৎপাদন সীমিত হলেও চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সে কারণেই বাজারে এর দাম বেশি রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাম্বুটান চাষে দীর্ঘ সময়, নিবিড় পরিচর্যা ও বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। আমরা মানসম্পন্ন ফল উৎপাদনের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে ভালো পণ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে দেশে বাণিজ্যিকভাবে রাম্বুটান চাষ সম্প্রসারিত হলে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়বে, ফলে বাজারমূল্যও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে আশা করছি।”
আশরাফ শুভ জানান, দেশের আবহাওয়া ও মাটিতে সফলভাবে রাম্বুটান চাষ সম্ভব হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। পরিকল্পিতভাবে চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
উচ্চমূল্যের কারণে রাম্বুটান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে। অনেকেই ফলটির স্বাদ ও পুষ্টিগুণের প্রশংসা করলেও অতিরিক্ত দামকে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মুক্তাগাছা থেকে আসা রিপন মিয়া জানান, “রাম্বুটান দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি সুস্বাদু। কিন্তু প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দাম হওয়ায় পরিবারের জন্য নিয়মিত কেনা সম্ভব নয়।”
আরেক ক্রেতা জানান, “দেশের অন্য জেলায় যেখানে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় রাম্বুটান পাওয়া যায়, সেখানে ভালুকায় প্রায় দ্বিগুণ দাম দিতে হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে এবং সাধারণ মানুষও সহজে এই ফল কিনতে পারবে।”
এদিকে, রাম্বুটান বাগানকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বিদেশি এই ফলের বাগান দেখতে ভিড় করছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই বাগানে ঘুরতে আসছেন, ছবি তুলছেন এবং রাম্বুটান সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন।
তবে বাগানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলেও ফলের দাম শুনে অনেক দর্শনার্থী হতাশ হচ্ছেন। আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেকে রাম্বুটান না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, বাগানটি ইতোমধ্যে ভালুকার একটি নতুন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে ফলটির বর্তমান মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অধিকাংশ দর্শনার্থীর আগ্রহ কেবল দেখা ও ছবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কৃষিপণ্যের দাম যখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য ব্যয়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হয়ে যায়, তখন সেটি ধীরে ধীরে সাধারণ ভোগ্যপণ্য থেকে বিলাসপণ্যে রূপ নেয়। বর্তমানে ভালুকায় প্রতি কেজি রাম্বুটানের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ফলটি কার্যত নাগালের বাইরে চলে গেছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেখানে প্রতি কেজি রাম্বুটান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে ভালুকার ক্রেতাদের প্রায় দ্বিগুণ মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে মূল্য বৈষম্যের একটি চিত্রও ফুটে উঠেছে।
সচেতন ভোক্তাদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এই অস্বাভাবিক মূল্য পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
শুধু ফল নয়, ভালুকায় রাম্বুটানের চারার বাজারেও দেখা গেছে আকাশছোঁয়া দাম। স্থানীয়ভাবে প্রতিটি চারা প্রায় ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ফলগাছের চারার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। ফলে অনেক শৌখিন বাগানপ্রেমী ও নতুন উদ্যোক্তা আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও চারা কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে লাভজনক ফল হিসেবে রাম্বুটানের সম্ভাবনা থাকায় চারার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু সীমিত সরবরাহের কারণে চারার দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেকের মতে, ফলের পাশাপাশি চারার বাজারেও কৃত্রিম সংকট ও উচ্চ চাহিদার প্রভাব পড়েছে।
ভালুকা উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূর জাহান বলেন, “বিদেশি ফল হলেও রাম্বুটান বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই খাপ খাইয়ে নিয়েছে। ফলে দেশে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষের সম্ভাবনা দিন দিন উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাম্বুটান একটি উচ্চমূল্যের ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। এর ব্যতিক্রমধর্মী স্বাদ, আকর্ষণীয় রঙ এবং বাজারমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে। ফলটিতে প্রচুর ভিটামিন-সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।”
নূর জাহান জানান, রাম্বুটানের মোটা ও শক্ত খোসা থাকায় এটি তুলনামূলক দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব। ফলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সহজে পরিবহন ও বাজারজাত করা যায়। পরিকল্পিতভাবে চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে ভবিষ্যতে রাম্বুটান দেশের একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, ফল ও চারার উভয় ক্ষেত্রেই উৎপাদন এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করা গেলে বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে, দাম কমবে এবং বিদেশি এই সুস্বাদু ফলটি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে। বর্তমানে রাম্বুটান যতটা তার স্বাদ ও সৌন্দর্যের জন্য আলোচিত, তার চেয়েও বেশি আলোচনায় রয়েছে এর আকাশছোঁয়া মূল্য।
সড়কে ‘শৃঙ্খলা ফেরানোর’ চেষ্টার অংশ হিসেবে ই-রিকশা নিবন্ধন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার দিয়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
ডিএসসিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ই-রিকশার নিবন্ধনে মঙ্গলবার থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের আবেদন ফরম বিতরণ করা হবে। নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬ অনুসরণ করে এ নিবন্ধন পরিচালিত হচ্ছে।আবেদনকারীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নিবন্ধনের আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে আবেদনপত্রের সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার মূল রসিদ, নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট।
ডিএসসিসির ঘোষণা অনুযায়ী, আবেদন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা ও কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি আবেদন ফরম সংগ্রহ ও ই-রিক্সার নিবন্ধন গ্রহণ করতে পারবেন। ফরম সংগ্রহ বা জমা দিলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না; সব মানদণ্ডে উত্তীর্ণ বাহনকেই সনদ দেওয়া হবে।
ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ)। ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ) উদ্ধার করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়।
৪২ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বাশালগাঁও বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরাচালানিদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী ও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত টহল ও নজরদারীর পাশাপাশি অপরাধী চক্রের গতিবিধি এবং তাদের ব্যবহৃত কৌশল শনাক্তে কাজ করছে। সীমান্তের যেকোনো স্থানে সন্দেহজনক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিজিবির লক্ষ্য শুধু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত চোরাচালান চক্রের তৎপরতা বন্ধ করাও। এ লক্ষ্যে সীমান্তজুড়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও সজাগ রয়েছেন।
সভার আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১০নং হবিরবাড়ী ইউনিয়নে গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া। এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তাঁদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়ন ভাবনা জানার পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টি তুলে ধরছেন তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটের সময় সহযোগিতা করে থাকেন তিনি। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় করছেন জিয়া। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এলাকার নাগরিকসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সমস্যার বিষয়ে তাঁদের মতামত জানার চেষ্টা করছেন তিনি।
শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হবিরবাড়ী ইউনিয়নে উন্নয়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি নাগরিকসেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পাঞ্চলের উপযোগী সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশার ক্ষেত্রেও নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, এলাকার সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সহজে যোগাযোগের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি জনপ্রতিনিধিকে জানাতে পারেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে তাঁদের মতামত প্রতিফলিত হয় এমন একটি জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকারব্যবস্থা প্রত্যাশিত।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়া জানান, দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে চান তিনি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “হবিরবাড়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণ নির্বাচিত করলে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং সাধ্যমতো সেগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নকে শুধু রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি, যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যাশা ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন জিয়াউর রহমান জিয়া। তাঁর এই গণসংযোগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক তৎপরতারই অংশ। তবে দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনে যিনিই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন, তিনি যেন দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেন এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নাগরিকসেবা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ৩ টা ৪৫ ঘটিকায় দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে,বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন।এ সময় তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।পরে ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।এতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তানজিন রহমান রিদু ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরসাদিপুর গ্রামের মিন্টুর ছেলে ও জামায়াত নেতা খাজা আহামেদের ক্যাডার বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী,মোটরসাইকেলটি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের।
এ বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাজ করছে।ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের অবদান স্মরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা সিলেটে উচ্চশিক্ষা ও কৃষিশিক্ষার নতুন দিগন্ত খুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় এম. সাইফুর রহমানের অবদান এ অঞ্চলের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে। শিক্ষার প্রসারে তাঁর আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কৃষির উন্নয়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সমন্বিত কৃষিনীতি থাকলে দেশের সমৃদ্ধি আরও দ্রুত ও টেকসই হবে। কৃষি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়নে উৎপাদন, বাজার, প্রযুক্তি ও কৃষকের জীবনমানকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের পতিত জমি চিহ্নিত করে চাষের আওতায় আনতে হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি আরও বলেন, উর্বর কৃষিজমি রক্ষা করা জরুরি। উন্নয়ন পরিকল্পনায় পতিত বা কম উৎপাদন শীল জমি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কার্যকর ভূমি ব্যবহার নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।
কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে রিজভী বলেন, হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে প্রকৃত কৃষকেরা সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
এর আগে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। বেলুন ও সাদা পায়রা উড্ডয়ন করা হয়। কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজনও ছিল। পরে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সংসদ সদস্য মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা ও মোহাম্মদ আব্দুল মালিক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদারসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের মূল ভিত্তি। কৃষির আধুনিকায়ন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনেও গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।