মেয়াদোত্তীর্ণ ফিডল বাজারজাতের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারীরা
মুরগিকে দ্রুত বড় করার আশায় ফিড কিনেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের খামারিরা। কিন্তু সেই ফিড খাওয়ানোর পর মুরগির প্রত্যাশিত ওজন না বাড়া, অসুস্থ হয়ে পড়া এবং মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৩২ জন খামারি ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
খামারিদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি গুদাম থেকে ৮২ বস্তা মুরগির ফিড জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ঠাকুরগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা ফিড সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালান্দর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
খামারিদের অভিযোগ, সদর উপজেলার দক্ষিণ সালান্দরে রাম বাবুর সারের গুদামের পাশে একটি ভাড়া বাসায় ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের নামে মুরগির ফিড সংরক্ষণ ও বিক্রি করা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ফিড কিনে মুরগি পালন করে আসছিলেন তারা।
তবে সম্প্রতি ওই ফিড খাওয়ানোর পর মুরগির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। অনেক মুরগি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অনেক মুরগি মারা গেছে বলেও দাবি খামারিদের। এতে একের পর এক খামারি লোকসানের মুখে পড়েছেন।
সদর উপজেলার শিবগঞ্জ এলাকার খামারি আলী ইমরান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মুরগির খামার করছেন। ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ফিড খাওয়ানোর পর ৩২ দিন পার হলেও মুরগির আশানুরূপ ওজন হয়নি। এতে তার প্রায় ৮৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। তার দাবি, তার মতো আরও ৩০ থেকে ৩২ জন খামারি ওই ফিড ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বেগুনবাড়ী রাজাপুকুর বাজার এলাকার খামারি মো. আলী হোসেন বলেন, ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ফিড খাওয়ানোর পর তার খামারের প্রায় ৮০০ মুরগি মারা গেছে। এতে তার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নতুন উদ্যোক্তা রফিক রাজা বলেন, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে চাকরির চেষ্টা করেও না পেয়ে তিনি বয়লার মুরগির খামার শুরু করেন। এম.আর. ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্ম থেকে ফিড নিয়ে মুরগিকে খাওয়ানোর পর মুরগি অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে অনেক মুরগি মারা যায়। এতে তার প্রায় তিন লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে শুরুতেই যদি ফিড কোম্পানির কারণে এভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়, তাহলে আমরা কীভাবে টিকে থাকব? তাহলে এই দেশে কি করে খাবো?”
আরেক খামারি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ফিডের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খামারিদের আরও অভিযোগ, ফিডের বস্তায় উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ থাকলেও বস্তায় মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ উল্লেখ করা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানির কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলেও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।
খামারিরা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর কোম্পানির ম্যানেজার কয়েকটি খামার পরিদর্শন করেন এবং সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ঠাকুরগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক মো. জসিম খান। তার দাবি, ফিডের মান নিয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়।
খামারিদের অভিযোগের পর রোববার বিকেলে দক্ষিণ সালান্দরের ওই গুদামে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশাদুল হক অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে গুদাম থেকে ৮২ বস্তা মুরগির ফিড জব্দ করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের শাখা ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশাদুল হক বলেন, জব্দ করা ফিডগুলো সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। ফিডের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা ক্ষতিপূরণ চাইলে আইনগতভাবে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন।
এদিকে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান জানান, অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফিডের উৎপাদন ও মেয়াদ সংক্রান্ত নথি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। ফলে প্রাথমিকভাবে জব্দ করা ফিডের মান ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
খামারিদের দাবি, শুধু জরিমানা করেই বিষয়টি শেষ করা যাবে না। নিম্নমানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড বাজারজাতের কারণে যেসব খামারি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তদন্তের মাধ্যমে তাদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বা অনুপযুক্ত ফিড বাজারজাত করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
একদিকে মুরগির অস্বাভাবিক মৃত্যু ও ওজন না বাড়ার অভিযোগ, অন্যদিকে নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড বাজারজাতের অভিযোগ- সব মিলিয়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা।
সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র । এর মধ্যে ভিডিও কলে এক ছাত্রকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে তার বাবার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুজনের অভিভাবক নগরের শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্র হলো তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম)। ১৫ বছর বয়সী দুজনই সিলেটের খাদিম পাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায হিফজ বিভাগে পড়ে। তামিম দক্ষিণসুরমা বড়াইকান্দি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে।
ছাত্রদের অভিভাবক, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের ফাঁকে ওই দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সাঈদের বাবার মুঠোফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরহীন অ্যাকাউন্ট থেকে নাঈমকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছে দুই ছাত্রের অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় ওই ছাত্র দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে তামিম আরও দুবার মাদ্রাসা থেকে না বলেই বাসায় চলে গিয়েছিল। পরে তার বাবা এসে দিয়ে গিয়েছিলেন। এবার সাঈদ ও তামিম দুজনই একসঙ্গে ফজরের নামাজের ফাঁকে বের হয়ে যায় বলে জেনেছি। বিষয়টি তাদের মা-বাবাকে জানাই।
’সাঈদের বাবা বেবুল আহমদ জানান, ‘মাদ্রাসা থেকে বাসায় গেছে কি না, এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার হুজুর কল দিয়েছিলেন। আমরা জানাই যে সে (নাঈম) আসেনি। সিলেটের বিভিন্ন জায়গায়ও খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আমার ইমোতে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। ইমোর অ্যাকাউন্টে কোনো নম্বর দেখা যাচ্ছিল না। তখন একের পর এক কল দিচ্ছিলাম, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে রিসিভ করা হয়নি।’
বেবলু আহমদ জানান, ‘পরে সন্ধ্যার পর ভিডিও কলে আমার ছেলেকে হাত-পা বেঁধে রাখা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়; ভিডিও পাঠিয়েছে। পরে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলে । নয়তো আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’ তবে কে বা কারা অর্থ দাবি করছে, তা তিনি জানেন না।
আরেক ছাত্র তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার জানান, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসা থেকে এর আগেও দুবার বের হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিল। আবারও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আল্লাহ জানেন, আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না।’
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, ‘ওই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা জিডি করেছে। আমরা সারা দেশে দুই ছাত্রের ছবি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’
ইমোতে অর্থ দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ইমোতে যে নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটা যাচাই করে দেখা হয়েছে, তা এক বছর ধরে বন্ধ। অনেক সময় নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে কিছু প্রতারক চক্র এমন সুযোগ নেয়। আর ইমোতে কয়েক সেকেন্ডের যে ভিডিও পাঠানো হয়েছে, তা অস্পষ্ট। তবে আমরা খোঁজ করছি।’
সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে টেক্সটাইল-রুবি গেট হয়ে দুই নম্বর গেইট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পলিটেকনিক্যাল মোড়ে এসে শেষ হয়।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল, মোহাম্মদ রুবেল, মো.মাহমুদ, আইন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো.রিয়াজ, পাহাড়তলী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রকি, মো.ইয়াছিন আফ্রিদি,পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ বকুল, মো.আহাদ, মো.সামি, মো.মহসিন,কলেজ ছাত্রদলের সংগঠক মো.তানভীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অবৈধভাবে রাসায়নিক সার বিক্রি করার অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোতাহার হোসেন নামে এক সার ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে আটক ২১ বস্তা সার সরকারি মুল্যে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এনএম ইসফাকুল কবীর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ আদেশ দেন।
পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামানিক জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে আব্দুল খালেক এর বাড়িতে ৭ বস্তা টিএসপি ও ১৪ বস্তা এমওপি সার সহ সার ব্যবসায়ী মোতাহার এবং গৃহকর্তা খালেককে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক করে স্থানীয়রা। পরে থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ সার সহ ঐ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইনের ২০০৬ এর ১২(৩) ধারা মোতাবেক সার সাব-ডিলার মোতাহারকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং আটক করা ২১ বস্তা সার বাজেয়াপ্ত করে প্রকাশ্যে জাবরহাট ইউনিয়নের কৃষগনের মাঝে সরকারি দামে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।
আটক করা সার রবিবার প্রকাশ্যে বিক্রি করার ব্যবস্থা করবেন কৃষি বিভাগ।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝালকাঠির নলছিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।
১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ র্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:হাবিবুর রহমান,নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন,উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো:ওবায়দুল ইসলাম,উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা:আবু সালেহ মো:ইফাদ ইশতিয়াক,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট,বিডি ক্লিন বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা।
আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।ঝোপঝাড় পরিস্কার,ড্রেন,নালা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রেখে সকলে মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে ফেরত আসে।
জলবায়ু ন্যায়বিচার, জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যৎ এবং দ্রুত ও ন্যায্য অর্থায়নকৃত জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে । বৈশ্বিক কর্মসূচি গ্লোবাল উইক অফ অ্যাকশন এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবাদি সংগঠন ও নদী রক্ষা আন্দোলন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ ও আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে বক্তব্য রাখেন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা'র কলাপাড়ার সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য রফিকুল ইসলাম মিরাজ, পরিবেশ সংগঠক সাইফুল্লাহ মাহমুদ, পরিবেশ সংগঠক আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠনের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং কপ থার্টি ওয়ান (COP31)-এর প্রাক্কালে আয়োজিত এই বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমরা দাবি জানাচ্ছি—জীবাশ্ম জ্বালানির অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের জন্য দ্রুত ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়ন করতে হবে।
এছাড়া বক্তারা কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট আশুগঞ্জ বিদুৎ কেন্দ্র কে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র দু'টির অভ্যন্তরের বিপুল পরিমাণ খালি জায়গা রয়েছে। যেখানে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে সৌরসিষ্টেম চালু করার দাবি জানান।
কয়লা দূষণ বন্ধে সমাজিক আন্দোলনে সকল শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবেশ দূষণ বন্ধে কয়লা দূষণ বন্ধের কোন বিকল্প নেই।
নাটোরের লালপুরে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুই আরোহী হৃদয় (২০) ও মনি (২২) আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালপুর-গোপালপুর সড়কের শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ট্রাককে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাক, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে লালপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুল্লাহ লালপুরের উত্তর লালপুর গ্রামের শহীদুজ্জামান লাকির ছেলে।
আহত হৃদয় ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত হৃদয় চকদৈবকী গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ও মনি একই গ্রামের নাজির উদ্দিনের ছেলে।
ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প:প::কর্মকর্তা ডাক্তার মঞ্জুর রহমান।