• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬, সময় : ৯:৫৫ এএম

সিলেটে 'সিংহবাড়িতে কবি নজরুল : শতবর্ষ স্মরণোৎসব' শীর্ষক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। উপেন্দ্র-বীণাপাণি স্মৃতি পরিষদ, সিলেটের উদ্যোগে রবিবার বিকেলে নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এর আয়োজন করা হয়।উপেন্দ্র-বীণাপাণি স্মৃতি পরিষদ সিলেটের সভাপতি ও সিংহবাড়ির সন্তান জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দনের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক ও লেখক সঞ্জয় কুমার নাথ ও বচিক শাশ্বতী ঘোষ সোমার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিলেটের প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস। 


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সম্মানিত বিশেষ অতিথি ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস, রাজেশ ভাটিয়া ও দৈনিক আগামীর সময়ের আবাসিক সম্পাদক আহমেদ নুর।অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপিস্থিত ছিলেন সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, উত্তরা ব্যাংকের অব. জি.এম, সমাজসেবী নিরেশ চন্দ্র দাশ, বিশিষ্ট লেখক-গবেষক মিহির কান্তি চৌধুরী, গবেষক-সাংবাদিক সুমন কুমার দাশ, গল্পকার জামান মাহবুব, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অব. পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুন চন্দ্র পাল, তথ্য চিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু, অব. শিক্ষয়িত্রী শিলা সাহা, অধ্যাপক অনবীর রায়, এপেক্সিয়ান জিডি রুমু, কবি সুমন বনিক, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক জ্যোতিমোহন বিশ্বাস, সাংস্কৃতিকজন কৃষ্ণা তালুকদার কনিকা, কবি পুলিন রায়, এ্যাডভোকেট ফণী ভূষণ সরকার, লেখক বিনয় ভূষণ তালুকদার, ন্যাশনাল ব্যাংক ম্যানেজার দীপক দাশ, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী জয়তী ঘোষ লোনা, শাবিপ্রবির সহকারী রেজিস্ট্রার অসিত কুমার সূত্রধর, অধ্যাপক কিরিটি পাল, সহকারী অধ্যাপক ইন্দ্রজিত রায়, অব. শিক্ষক নরেশ চন্দ্র রায়, ডাঃ প্রাণদীশ দেব, সমাজ হিতৈষী রামাকান্ত গুপ্ত রুপু, সংগীত শিল্পী বিমান তালুকদার, চলন্তিকা প্রিন্টার্সের ম্যানেজার মোঃ আব্দুর রহিম, সংগীত শিল্পী মিনাক্ষী ভট্টাচার্য্য, সুমন চন্দ্র তালুকার, অপূর্ব কুমার দাস, আব্দুল হাই, শিপ্রা রানী নাথ, চম্পা রায়, নীলকণ্ঠ দাস ও শংকরী দাস প্রমুখ। সিংহবাড়ির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রভাতী সিংহ মজুমদার, পরমা সিংহ মজুমদার। এছাড়া সিলেটের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৬ ও ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে সিলেটে অবস্থান করেছিলেন। এসময় তিনি নগরের চৌহাট্টাস্থ ঐতিহ্যবাহী সিংহবাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন, যা সিলেটবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়।


অনুষ্ঠানের সভাপতি জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন বলেন, কবি নজরুলের সিলেট আগমন শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ স্মরণোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। কবির স্মৃতি, সাহিত্য ও সংগীতচর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এর লক্ষ্য।


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, 'বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের ইতিহাসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবদান চিরস্মরণীয়। সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যে অগ্নিঝরা বাণী তিনি ছড়িয়ে গেছেন, তা আজও সমাজকে আলোকিত করছে। তারা বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেম, দ্রোহ, মানবমুক্তি ও চেতনার কবি। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত বাঙালির সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


বক্তারা আরও বলেন, “১৯২৬ ও ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে কবির সিলেট আগমন এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষ করে সিংহবাড়িতে তাঁর অবস্থান ও স্মৃতিবিজড়িত নানা ঘটনা আজও মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। সেই ইতিহাস ও স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই সিংহবাড়িতে কবি নজরুল : শতবর্ষ স্মরণোৎসব আয়োজন করা হয়েছে।


তারা বলেন, 'বর্তমান সময়ে সমাজে বিভেদ, অসহিঞ্চুতা ও সাংস্কৃতিক সংকটের মধ্যে নজরুলের চেতনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তাঁর রচনা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ন্যায়বোধ, ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নজরুলচর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।বক্তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে কবির সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়বে। পাশাপাশি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ইতিহাস নতুনভাবে আলোচনায় আসবে।


অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে কবির বহুমাত্রিক সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরা হবে বলেও জানান তারা। অনুষ্ঠানে প্রথম পর্ব শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। উদ্বোধনী সংগীত ও শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর পরিবেশিত হয় নজরুল সংগীত । এতে দলীয় ও একক পরিবেশনায় অংশ নেন নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ সিলেট। শিল্পীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হিমাংশু বিশ্বাস, সুকোমল সেন ও বিজন কুমার রায়। এছাড়া ললিতকলা একাডেমি, সিলেটের পরিচালনায় ছিলেন, বিপ্রদাশ ভট্টাচার্য । সঙ্গীত নিকেতন সিলেটের পরিচালনায় ছিলেন প্রদীপ দে। এ পর্বে আরও পরিবেশিত হয় ‘সুর ও বাণী, সিলেট এবং 'সুরের ভুবন, সিলেট'-এর পরিবেশনা। 


পরিচালনায় ছিলেন পদ্মীনী ইমন ও মনোজ কান্তি ভট্টাচার্য মান্না। নজরুল সংগীতের একক পরিবেশনায় অংশ নেন ডা. বর্ষা মজুমদার পাপড়ি ও অরুনিমা দাশ, আনন্দলোক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন জ্যোতি ভট্টাচার্য্য, পরিচালক চারুবাক এবং সুকান্ত গুপ্ত পরিচালক শ্রুতি । দলীয় নৃত্যে অংশ নেয় 'নৃত্যরথ'। পরিচালনায় ছিলেন পপি দাশ। নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন ললিত মঞ্জুরী। বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন, জ্যোতির্ময় ধর সৌরভ, কী-বোর্ডে সুদীপ চক্রবর্তী এবং অক্টোপ্যাডে সুদীপ পাল, তবলায় প্রসেন রায়। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়- সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। এ পর্বে পরিবেশিত হয় স্বরচিত বন্ধনা। পরিবেশনায় ছিলেন, সিংহবাড়ির সুযোগ্য উত্তরাধিকারী ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম প্রবাসী ড. শর্মিলা সেন ঊর্মি, একমাত্র কন্যা আনন্দী সেন ও একমাত্র পুত্র অনিরুদ্ধ সেন। তবলায় সহযোগিতা করেন ঊর্মির স্বামীর ড. অরিজিৎ সেন দীপ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সকলকে জলযোগে আপ্যায়িত করা হয় এবং উপস্থিত সকলকে সিংহবাড়িতে কবি নজরুল শতবর্ষ স্মারক উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সরাসরি নজরুলের প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন করুণ দাস কিরণ। অনুষ্ঠানে অতিথি ও শিল্পীদের উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।


এদিকে,সিলেটে কবি নজরুলের আগমন ও সিংহবাড়িতে অতিথেয়োতা গ্রহণের শতবর্ষ স্মরণোৎসবকে সামনে রেখে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন আয়োজকরা। বিকেল ৫টায় সিলেট নগরের জিন্দাবাজারস্থ হোটেল গোল্ডেন সিটির করফারেন্স কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 


এ সভায় স্মরণোৎসবের আয়োজক উপেন্দ্র-বীণাপানি স্মৃতি পরিষদের সভাপতি জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন সাংবাদিকদের উদ্দেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘সিংহবাড়ি’ তেমনই এক স্মৃতিধন্য স্থান, যেখানে পদধূলি পড়েছিল বাংলা সাহিত্যের দুই মহাতারকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের। তাঁদের আগমন কেবল একটি পরিবারের গৌরব নয়; এটি সমগ্র সিলেটবাসীর সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে ধারণ করে আমার পিতা-মাতার নামে গঠিত ‘উপেন্দ্র-বীণপাণি স্মৃতি পরিষদ’ কর্তৃক আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘সিংহবাড়িতে কবি নজরুল : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’। 


সিংহবাড়ির সঙ্গে কবি নজরুলের সম্পর্ক উল্লেখ করে তিনি জানান, গভীর মানবিকতাতেও ভরপুর হৃদয় নিয়ে ১৯২৬ সালে অসুস্থ অবস্থায় তিনি যখন সিলেটে অবস্থান করেছিলেন, তখন সিংহবাড়ির সদস্যদের আন্তরিক সেবা ও ভালোবাসা তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। সেই সম্পর্কের উজ্জ্বল সাক্ষী হয়ে আছে সিংহবাড়ির কন্যা লীলাবতী মজুমদারের উদ্দেশ্যে তাঁর লেখা হৃদয়ছোঁয়া কবিতা। 


তিনি বলেন, আমার আপন জ্যেঠ্তুতো বোন লীলাবতী মজুমদারের সুরেলা কণ্ঠে গান শুনে কাজী নজরুল ইসলাম বিমোহিত হন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক কবি লিখেছিলেন-‘তোমার কণ্ঠে বাঁধিয়াছে নীড় সুরের দেশের পাখি-সুরেশ্বরের হস্তে বাঁধুক তোমার সুরের রাখী।

উষসীর বাণী এনেছো বহিয়া আকুল কণ্ঠে পুরে ফুলঝুরি সম তৃষিত ধরায় পড়–ক তাহাই ঝরে।

হেম-গিরি তলে কাঁদে যে নিঝর প্রকাশের পথ খুঁজি, তোমার কণ্ঠে শুমরিছে আজো তারি আকুলতা বুঝি!


'সিলেটে সিংহবাড়িতে কবি নজরুল: শতবর্ষ স্মরণোৎস'- আয়োজন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে এ মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন গদ্যলেখক ও শিক্ষক সঞ্জয় কুমার নাথ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকা শিলা সাহা, শিক্ষিকা শ্বাশতী ঘোষ সোমা, জয়তী ঘোষ লুনা প্রমুখ



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ পিএম

সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র । এর মধ্যে ভিডিও কলে এক ছাত্রকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে তার বাবার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। 


এ ঘটনায় দুজনের অভিভাবক নগরের শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্র হলো তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম)। ১৫ বছর বয়সী দুজনই সিলেটের খাদিম পাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায হিফজ বিভাগে পড়ে। তামিম দক্ষিণসুরমা বড়াইকান্দি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে। 


ছাত্রদের অভিভাবক, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের ফাঁকে ওই দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সাঈদের বাবার মুঠোফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরহীন অ্যাকাউন্ট থেকে নাঈমকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছে দুই ছাত্রের অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। 


এ বিষয়ে জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় ওই ছাত্র দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে তামিম আরও দুবার মাদ্রাসা থেকে না বলেই বাসায় চলে গিয়েছিল। পরে তার বাবা এসে দিয়ে গিয়েছিলেন। এবার সাঈদ ও তামিম দুজনই একসঙ্গে ফজরের নামাজের ফাঁকে বের হয়ে যায় বলে জেনেছি। বিষয়টি তাদের মা-বাবাকে জানাই।


’সাঈদের বাবা বেবুল আহমদ জানান, ‘মাদ্রাসা থেকে বাসায় গেছে কি না, এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার হুজুর কল দিয়েছিলেন। আমরা জানাই যে সে (নাঈম) আসেনি। সিলেটের বিভিন্ন জায়গায়ও খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আমার ইমোতে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। ইমোর অ্যাকাউন্টে কোনো নম্বর দেখা যাচ্ছিল না। তখন একের পর এক কল দিচ্ছিলাম, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে রিসিভ করা হয়নি।’


বেবলু আহমদ জানান, ‘পরে সন্ধ্যার পর ভিডিও কলে আমার ছেলেকে হাত-পা বেঁধে রাখা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়; ভিডিও পাঠিয়েছে। পরে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলে । নয়তো আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’ তবে কে বা কারা অর্থ দাবি করছে, তা তিনি জানেন না।


আরেক ছাত্র তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার জানান, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসা থেকে এর আগেও দুবার বের হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিল। আবারও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আল্লাহ জানেন, আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না।’


শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, ‘ওই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা জিডি করেছে। আমরা সারা দেশে দুই ছাত্রের ছবি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’


ইমোতে অর্থ দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ইমোতে যে নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটা যাচাই করে দেখা হয়েছে, তা এক বছর ধরে বন্ধ। অনেক সময় নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে কিছু প্রতারক চক্র এমন সুযোগ নেয়। আর ইমোতে কয়েক সেকেন্ডের যে ভিডিও পাঠানো হয়েছে, তা অস্পষ্ট। তবে আমরা খোঁজ করছি।’

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।


শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে টেক্সটাইল-রুবি গেট হয়ে দুই নম্বর গেইট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পলিটেকনিক্যাল মোড়ে এসে শেষ হয়।


চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল, মোহাম্মদ রুবেল, মো.মাহমুদ, আইন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো.রিয়াজ, পাহাড়তলী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রকি, মো.ইয়াছিন আফ্রিদি,পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ বকুল, মো.আহাদ, মো.সামি, মো.মহসিন,কলেজ ছাত্রদলের সংগঠক মো.তানভীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ পিএম

অবৈধভাবে রাসায়নিক সার বিক্রি করার অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোতাহার হোসেন নামে এক সার ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে আটক ২১ বস্তা সার সরকারি মুল্যে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এনএম ইসফাকুল কবীর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ আদেশ দেন।


পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামানিক জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে আব্দুল খালেক এর বাড়িতে ৭ বস্তা টিএসপি ও ১৪ বস্তা এমওপি সার সহ সার ব্যবসায়ী মোতাহার এবং গৃহকর্তা খালেককে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক করে স্থানীয়রা। পরে থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ সার সহ ঐ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইনের ২০০৬ এর ১২(৩) ধারা মোতাবেক সার সাব-ডিলার মোতাহারকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং আটক করা ২১ বস্তা সার বাজেয়াপ্ত করে প্রকাশ্যে জাবরহাট ইউনিয়নের কৃষগনের মাঝে সরকারি দামে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।


আটক করা সার রবিবার প্রকাশ্যে বিক্রি করার ব্যবস্থা করবেন কৃষি বিভাগ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝালকাঠির নলছিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।


১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:হাবিবুর রহমান,নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন,উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো:ওবায়দুল ইসলাম,উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা:আবু সালেহ মো:ইফাদ ইশতিয়াক,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট,বিডি ক্লিন বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা।


আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।ঝোপঝাড় পরিস্কার,ড্রেন,নালা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রেখে সকলে মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।


আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে ফেরত আসে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ পিএম

জলবায়ু ন্যায়বিচার, জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যৎ এবং দ্রুত ও ন্যায্য অর্থায়নকৃত জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে । বৈশ্বিক কর্মসূচি গ্লোবাল উইক অফ অ্যাকশন এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে  এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবাদি সংগঠন  ও নদী রক্ষা আন্দোলন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ ও আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


এতে  বক্তব্য রাখেন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা'র কলাপাড়ার সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য রফিকুল ইসলাম মিরাজ, পরিবেশ সংগঠক সাইফুল্লাহ মাহমুদ, পরিবেশ সংগঠক আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠনের সাবেক সভাপতি  নজরুল ইসলাম প্রমুখ। 


বক্তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং কপ থার্টি ওয়ান (COP31)-এর প্রাক্কালে আয়োজিত এই বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমরা দাবি জানাচ্ছি—জীবাশ্ম জ্বালানির অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের জন্য দ্রুত ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়ন করতে হবে।


এছাড়া বক্তারা কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট আশুগঞ্জ বিদুৎ কেন্দ্র কে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র দু'টির অভ্যন্তরের বিপুল পরিমাণ খালি জায়গা রয়েছে। যেখানে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে সৌরসিষ্টেম চালু করার দাবি জানান। 


কয়লা দূষণ বন্ধে সমাজিক আন্দোলনে সকল শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।  পরিবেশ  দূষণ বন্ধে কয়লা দূষণ বন্ধের কোন বিকল্প নেই। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৬ পিএম

নাটোরের লালপুরে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুই আরোহী হৃদয় (২০) ও মনি (২২) আহত হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালপুর-গোপালপুর সড়কের শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ট্রাককে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাক, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হন।


খবর পেয়ে লালপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুল্লাহ লালপুরের উত্তর লালপুর গ্রামের শহীদুজ্জামান লাকির ছেলে।


আহত হৃদয় ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত হৃদয় চকদৈবকী  গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ও মনি একই গ্রামের নাজির উদ্দিনের ছেলে।


ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প:প::কর্মকর্তা ডাক্তার মঞ্জুর রহমান।

সর্বশেষ সব খবর