যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার সাত সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট এখন পর্যন্ত সর্বাধিক ২১২ টি আসনে জয় পেয়েছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম। এ সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে নতুন ভাবে গড়তে এবং সামাজিক বিভাজন দূর করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন তারেক রহমান।
পরিকল্পনার বিষয়ে তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তার কাছে কোন কোন বিষয় অগ্রাধিকার পাবে। জবাবে তিনি বলেছেন, প্রথমেই প্রয়োজন ‘আইনের শাসন নিশ্চিত করা।’
তারেক আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তৃতীয়টি হবে, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে যাওয়া। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি যা-ই হোক, আমরা যে নীতিই গ্রহণ করি না কেন-যদি দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারি, তবে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’
টাইমের বিশেষ ওই সাক্ষাৎকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে-
জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন। এ ছাড়া হাসিনার আমলে ১৫ বছরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষকে বিনাবিচারে হত্যা ও গুম করার হয়।
এসব ক্ষত সারাতে এবং আওয়ামী লীগের আমলে যে-সব প্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি রাজনীতিকীকরণ করে ছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে তারেক রহমানকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তণের পর থেকে ঐক্যের বার্তার এবং প্রতিশোধ না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তারেক রহমান। এই প্রতিশ্রুতি পূরণে এবং শান্তি রক্ষার্থে এখন তার নিরলসভাবে কাজ করতে হবে।
তারেক রহমান বলেছেন, ‘প্রতিশোধ কিছুই ফিরিয়ে আনতে পারবে না বরং আমরা যদি এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারি, তবে সেখান থেকে ভালো কিছু অর্জন করা সম্ভব হতে পারে।’
অর্থনৈতিক রূপরেখা ও সংস্কার
হাসিনার শাসনে শেষ দিকে বাংলাদেশ ছিল এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেশ। দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২০০৬ সালে ৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ৪৬ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। কিন্তু জীবনযাত্রার ঊর্ধ্বমুখী ব্যয়, অসমতা ও বেকারত্বের কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ে।
তবে হাসিনাকে উৎখাতে সে অর্থনৈতিক সমস্যার তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি বরং উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে এবং টাকার মান আরও দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে সাধারণ পরিবারগুলোর বাস্তব আয় অনেকটা কমে গেছে।
বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মজীবনে আসলেও দেশে যুব বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বাংলাদেশে ৪ কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর মাধ্যমে নারীদের ও বেকারদের মাসিক নগদ সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি যা দলটির প্রধান নির্বাচনী ইশতেহার ছিল। যদিও ফ্যামিলি কার্ডের তহবিল কীভাবে, কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে সম্পূর্ণভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চান তারেক রহমান। পাশাপাশি তিনি ব্যাংকিং খাতকে উদারীকরণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করতে চান।
তারেক রহমান প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছেন যাতে তারা উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ পেতে পারেন। তারেক বলেন, ‘আমরা তাদের ভাষা শেখানো ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় শেখাতে পারি।’
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রপ্তানি আয়ের ভূমিকা ব্যাপক। তাই নতুন সরকারকে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ ভারত ও বাংলাদেশের পণ্যের শীর্ষ ক্রেতা দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক খারাপ হয়।
এদিকে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ভারত সরকার দলটির সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে।
নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনে বিএনপির সুস্পষ্ট বিজয়ের জন্য দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি আজ শুক্রবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিনন্দন জানিয়েছেন।
টাইমকে তারেক রহমান বলেছিলেন, হাসিনার সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের করা অনেক চুক্তিতে ‘অসামঞ্জস্য’ রয়েছে যা যথাযথভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সংশোধন করা দরকার।
তারেক স্পষ্ট করে বলেন, ‘অবশ্যই, আমরা প্রতিবেশী, তবে সবার আগে থাকবে বাংলাদেশের স্বার্থ, আমাদের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। এরপর আমরা সম্পর্ক (ভারতের সঙ্গে) আরও উন্নত করার চেষ্টা করব।’
অন্যান্য অনেক দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের ওপরও ৩৭ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’ আরোপ করেছিলেন। পরে অন্তর্বর্তী সরকার আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। পরে তা কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ মার্কিন পণ্যের জন্য নিজেদের বাজার আরও বিস্তৃত করতে সম্মত হয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশ করতে পারবে।
‘ইসলামপন্থী’দের উত্থান নিয়ন্ত্রণ
ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির পর সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। যদিও হাসিনা সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ করেছিল।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। তবে এ নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের স্বার্থে সব দলের একসঙ্গে কাজ করা আবশ্যক। তিনি বলেছেন, ‘এটি শুধু বিএনপির দায়িত্ব নয় বরং দেশের সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব, যারা গণতন্ত্রে ও জনগণের ভোটাধিকারে বিশ্বাস করে।’
তারেক আরও বলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; যাতে ৫ আগস্টের আগের সময়ে আমাদের ফিরতে না হয়। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে; যেন মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায়।’
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল ২৪-এর গণ-আন্দোলন। পরে আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা শিক্ষার্থীরা অন্তর্বর্তী সরকারেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষার্থী নেতারা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামের একটি দল গঠন করে জামায়াত জোটের সঙ্গে নির্বাচন করেছে। যদিও এনসিপির জামায়াত জোটে যোগ দেওয়া নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং কয়েকজন দল ত্যাগ করেন।
ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে শেখ হাসিনাকে উৎখাতের আন্দোলনে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের সম্মান জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, ‘যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের খুবই বড় দায়িত্ব রয়েছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কয়েক দিন আগে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এই নির্দেশনায় হামলা চালানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচির উল্লেখ ছিল না এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এবং সম্ভবত ইসরায়েলি নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগেই এ হামলা চালানো হতে পারে।
আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তা মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাজ হলো প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক বিকল্প তৈরি ও তা উপস্থাপন করা।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কাছে সব ধরনের পথ খোলা রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে তিনি সেগুলোর প্রয়োগ করতে পারেন।
ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরানের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে, এখন দুটি উপায়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে- সহজ পথ অথবা কঠিন পথ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব কার্ড রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো, সেটাই করবেন।
সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে কয়েক ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেছে।
একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, বৈঠকের একটি অংশে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাব্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এতে ‘দীর্ঘমেয়াদি’ পররাষ্ট্রনীতি পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানি জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওই প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
দ্বিতীয় একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুব বেশি নেই, তবে আমরা তা উড়িয়ে দিচ্ছি না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’
পর্দার আড়ালে কী হচ্ছে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। টানা কয়েক সপ্তাহ কথা না হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যে তাঁদের এটি দ্বিতীয় ফোনালাপ।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ‘৭ অক্টোবরের গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা’ নিয়ে কথা বলেছেন।
প্রথম ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহু ইরান ইস্যুতে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করার পরেই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনে আলাপ হয়।
যুদ্ধবাজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত সোমবার মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
ইরানে যদি আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে করবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এতে অংশ নেবে।
দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে চরম হতাশ ও আতঙ্কে রয়েছে, যার ফলে তারা আগে হামলা চালিয়ে বসতে পারে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, ইরানিরা ইতিমধ্যে দুটি আকস্মিক হামলার শিকার হয়েছে। তারা তৃতীয় কোনো আকস্মিক হামলার মুখোমুখি হতে চায় না।
যুদ্ধ আবার শুরু হলে তা ইসরায়েলি নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, প্রতিশোধ হিসেবে ইরান দেশটিতে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। নতুন করে এই উত্তেজনা বৃদ্ধি কিংবা কেবল টান টান উত্তেজনা বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়াটাও রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুকে সুবিধা দিতে পারে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে তাঁকে ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ কমে যেতে পারে।
জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট
ইসরায়েল বলেছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট থেকে অধিকাংশ কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে যুক্তরাজ্য বলেছে, ভবনটি ‘বন্ধ করা হবে না’ এবং এটি ‘যুক্তরাজ্যের মিশন’ হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা চাইনি, পরিস্থিতি এ পর্যায়ে গড়াক।’
গিডিয়ন সার আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের ২০ জন কূটনীতিক ও কনসাল জেনারেল ইসরায়েল ছাড়বেন। তবে সাত সদস্যের একটি টাস্কফোর্স ভবনটিতে থেকে যেতে পারে। তাদের কার্যক্রমের পরিধি হবে ‘খুবই সীমিত’।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, নিরাপত্তার কারণে কিছু কর্মীকে ‘সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে’। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘মিশনটি ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে কাজ করে যাবে।’
গত মাসে ইসরায়েল বলেছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তারা ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি বন্ধ করে দেবে।
সে সময় ইসরায়েল সরকার বলেছিল, যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে তারা কনস্যুলেটটি বন্ধ করে দেবে।
আজ বৃহস্পতিবার ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাজ্য সরকার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসরায়েলকে ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি বন্ধ না করার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়েছিল। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের এসব বসতি অবৈধ।
১৮৩৮ সালে জেরুজালেমে প্রথম ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কনস্যুলেট থেকে পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক দেখভাল করা হতো।
তেল আবিবে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের দূতাবাস থেকে এটি আলাদা। তেল আবিবের ওই দূতাবাসই ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রধান কূটনৈতিক কেন্দ্র।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেওয়া যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার জবাবে দেশটি যেসব পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গিডিয়ন সার লেখেন, ‘জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট আজ থেকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করছে। সে অনুযায়ী, জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেটের সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
যদিও আজ সকালেও কনস্যুলেটের বাইরে ব্রিটিশ পতাকা দেখা গেছে। এমন কি, কয়েকজন কর্মীকে ভেতরে ঢুকতেও দেখা গেছে।
সার বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কনসাল জেনারেল ও ২০ জন কূটনীতিক তাঁদের দায়িত্ব শেষ করে ইসরায়েল ছাড়বেন।
তবে সার স্বীকার করেন, ভবনটি ব্রিটিশ সরকারের সম্পত্তি। তিনি বলেন, ‘ভবনটিতে খুবই সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাত্র সাতজন কূটনীতিকের একটি টাস্কফোর্সকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়ার যোগ্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। তবে এ বছর পুরস্কারটি পাবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আগামীকাল শুক্রবার চলতি বছরের শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে নোবেল কমিটি।
পুরস্কারটি পাবেন কি না- এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না তাদের সিদ্ধান্ত কী হবে। আমার মতো মানুষদের পুরস্কার না দেওয়ার একটা সুনাম তাদের আছে।’
গত বছর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার তাঁর পাওয়া উচিত। বুধবার ওভাল অফিসে বলেন, ‘এখনই সময়।’ এ সময় গতবারের পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থেকে পরোক্ষভাবে সম্মান পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
ভেনেজুয়েলার নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত জানুয়ারিতে তাঁর শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে দেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার কথা বলে তিনি এ পদক ট্রাম্পকে দেন।
ট্রাম্পের দাবি কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাঁকে শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন। তবে এসব মনোনয়নের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। ট্রাম্প যেসব সংঘাত সমাধানের দাবি করছেন, সেগুলোর কয়েকটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাঁর কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে। এসব অঞ্চলের কয়েকটিতে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আছে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো শেষ করতে পারেননি ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই যুদ্ধটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সাত মাস ধরে চলা সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক।
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন
সাহসী ও উদ্ভাবনী সাতিহ্যকর্মের জন্য এ বছর নোবেলে পেয়েছেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন। ‘ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ সৃষ্টি করা সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য’ তাঁকে পুরস্কারটি নেওয়ার কথা জানিয়েছে নোবেল কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরস্কার ঘোষণা করে দ্য সুইডিশ একাডেমি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরো কর্মজীবনে অ্যান কারসন কবিতা লেখার পাশাপাশি অনুবাদ করেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
১৯০১ সালের পর থেকে ১১৮ বার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। অ্যান কারসনসহ এ পর্যন্ত ১৯ জন নারী সাহিত্যে নোবেল পেলেন।
২০২৫ সালে যিনি পেয়েছিলেন
গত বছর সাহিত্যে নোবেল পান হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। অ্যাপোক্যালিপ্টিক আতঙ্কের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে এমন এক গভীর ও দুরদৃষ্টিসম্পন্ন সাহিত্যকর্মের জন্য তাঁকে পুরস্কারটি দেওয়া হয়।
ক্রাসনাহোরকাই এর জার্মান ভাষার উপন্যাস ‘হার্শট ০৭৭৬৯’ সম্পর্কে নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, এটি জার্মান সমাজের অস্থিরতাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এতে জার্মানির একটি ছোট্ট শহরে সামাজিক অস্থিরতা, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের কারণে বিপর্যস্ত জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
কবে কোন পুরস্কার
আগামীকাল শুক্রবার শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।
পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।
মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
পাকিস্তানে বিদ্যুতের ঘাটতি
পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে বিদ্যুতের ঘাটতি ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম। খবর এএনআইয়ের।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহও কমেছে।
দেশটির বড় শহরগুলোর মধ্যে লাহোরে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। লাহোর ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (এলইএসসিও) এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ রয়েছে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট।
এলইএসসিও সূত্র বলছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে লাহোরের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের পর পরের এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি দোকানপাট, কারখানা ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সমস্যায় পড়ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতিও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। একই সঙ্গে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় বিকল্প উৎস থেকেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত বাড়ানো না গেলে আগামী দিনগুলোতে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার পাশাপাশি দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: এএনআই
ছবি : সংগৃহীত
জাপানের পূর্বাঞ্চলে বৃহস্পতিবার (8 অক্টোবর) ভোরে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে চিবা ও ইবারাকি প্রিফেকচারের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। তবে কোনো ভূমিকম্পের পরই সুনামির আশঙ্কা তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) বরাত দিয়ে কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ১৩ মিনিটে (বুধবার ১৯টা ১৩ মিনিট জিএমটি) উত্তর-পূর্ব চিবা প্রিফেকচারে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। জাপানের সাত মাত্রার ভূমিকম্প-তীব্রতা স্কেলে আসাহি শহরে এর তীব্রতা ছিল ৪। পাশের ইবারাকি প্রিফেকচারসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়।
এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর ইবারাকি প্রিফেকচারে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জেএমএ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে (বুধবার ২২টা ১৪ মিনিট জিএমটি) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ০। হিতাচিওমিয়া শহরে এর তীব্রতা রেকর্ড করা হয় ৩।
দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দুটি ভূমিকম্পের কোনোটিই সুনামির সৃষ্টি করেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে জাপানে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত ১ অক্টোবর উত্তর-পূর্ব চিবা এলাকায় ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্ব জাপানে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
এ ছাড়া গত ২৩ আগস্ট ওই অঞ্চলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে টোকিওতে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।