লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ওইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মধ্যে বৈঠক হলে তা লেবাননের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড় সুযোগ তৈরি করবে। এছাড়া মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের নিশ্চয়তা পাওয়ার পথও প্রশস্ত হবে।
মার্কিন দূতাবাস আরও জানায়, লেবানন এই সুযোগ গ্রহণ করলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে। সময় এসেছে দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার।
তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লেবাননের কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট আউনের বরাতে বলেছেন, নিকট ভবিষ্যতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনো আলোচনার সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।
অন্যদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম স্পষ্ট করে বলেছেন, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহার ছাড়া কোনো চুক্তিতে সই করবে না বৈরুত।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর পাশাপাশি দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় কৃষিজমিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খব পাওয়া গেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে লেবানন ও সিরিয়ার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা হুলা এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিমান দিয়ে টাইর জেলার ওয়াদি আদশিত আল-কুসাইর ও মানসুরি শহরে হামলা করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল-মানার জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠেও হামলা চালায়। পাশাপাশি একটি ইসরায়েলি সামরিক হেলিকপ্টার আলি আল-তাহের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি অভিযান পরিচালনা করে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, এসব হামলায় ফসফরাস শেলসহ নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সিরিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী কুনেইত্রা এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের আল-রাফিদ শহরের কৃষিজমিতে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন হিজবুল্লাহর নেতা শেখ নাইম কাসেম। তিনি এই আলোচনার কাঠামোকে মার্কিন-ইসরায়েলি দাবির কাছে লেবাননের সার্বভৌমত্ব সমর্পণের শামিল বলে অভিহিত করেছেন। তাই লেবানন সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নাইম কাসেম। তিনি এই প্রক্রিয়াকে ব্যর্থ ও অপমানজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন।
কাসেম বলেন, তথাকথিত ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি মূলত ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া শর্তের সমষ্টি। সাত দফা আলোচনার পর লেবানন সরকার কী কোনো একটা কিছু অর্জন করতে পেরেছে? এমন একটি উদাহরণ দেখানোরও চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বরের চুক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর অস্ত্র বা প্রতিরোধের অস্ত্রসম্ভারকে লক্ষ্যবস্তু করছে অথচ ইসরায়েলের চুক্তি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
ইসরায়েলি সামরিক হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ মাসে (চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে) এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পাশাপাশি আহত হয়েছেন ১২ হাজার ২৭৭ জনের বেশি। এছাড়া প্রায় ১৫ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে দেশটির ইস্ট নুসা তেনগারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র বার্টন সুয়ার পেলিতা পাঞ্জাইতান জানান, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের কয়েকটি এলাকায় প্রায় তিন ফুট উচ্চতার সুনামির ঢেউ আঘাত হানে। উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হলে আতঙ্কে বহু মানুষ নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যান। পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা।
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঠিক আগের দিন রাজধানী নয়া দিল্লির হাই কোর্ট, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক স্থানে বোমা হামলার হুমকি এসেছে। ‘খালিস্তান’ নামে পাঠানো হুমকিমূলক এক ইমেইলে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
“ব্লাস্ট দিল্লি হাইকোর্ট @২:১১ পিএম” শিরোনামে পাঠানো ওই ইমেইল বার্তায় হুমকি দেওয়া হয় যে, দিল্লিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী রাষ্ট্র ‘খালিস্তান’-এ পরিণত করা হবে।
বার্তায় বলা হয়, শনিবার দুপুর ২টা ১১ মিনিটে দিল্লি হাইকোর্টে বোমা বিস্ফোরণ ঘটবে এবং এর ঠিক এক ঘণ্টা পর বিভিন্ন জেলা আদালতেও বিস্ফোরণ ঘটানো হবে।
দিল্লির আদালতগুলোতে হওয়া মামলার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলার পরিকল্পনা বলে ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়, “দিল্লির আদালতগুলোতে কেবল শিখদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালিত হয়।”
ইমেইলে আরও দাবি করা হয়, স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘খালিস্তান’-এর সদস্যরা ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে গেছেন।
দিল্লি হাইকোর্ট এবং ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (আইজিআই) বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ ছাড়াও আরও ছয়টি স্থানে এই হুমকি পাঠানো হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে জামনগর হাউজ, ঝাণ্ডেওয়ালান ভবন, সাকেত কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের (ডিএম) কার্যালয় এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের (এসডিএম) কার্যালয়।
এর পাশাপাশি দিল্লি মেট্রো এবং আমবালাগামী ট্রেনগুলোতেও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।
খবর পাওয়ার পরপরই চিহ্নিত স্থানগুলোতে দমকল বাহিনীর গাড়ি পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি।
বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক
ভারতের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছেন বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে হলে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার জরুরি।
স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় লাদাখের এই অধিকারকর্মী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভুল পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা। নেতৃত্ব সঠিক না হলে পুরো দেশই ভুল পথে পরিচালিত হয়। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া নিজ নিজ এলাকার সৎ ও মেধাবী মানুষদের নাম প্রস্তাব করে স্বাধীনতা দিবসের উপহার হিসেবে তা পাঠাতেও অনুরোধ করেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনা টানেন। তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে যে দেশগুলো ভারতের চেয়ে পিছিয়ে বা সমপর্যায়ে ছিল, তারা এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ২০৪৭ সালে ভারত উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না।
আইনপ্রণেতাদের যোগ্যতা ও চরিত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াংচুক বলেন, বর্তমান পার্লামেন্টের প্রায় অর্ধেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ সঠিকভাবে এগোতে পারে না।
কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে এককভাবে দায়ী না করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসা প্রতিটি দলই কম-বেশি একইভাবে দুর্নীতি চালিয়েছে ও প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করেছে। ২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর সরকার পরিবর্তন হলেও এক দশক পর দুর্নীতি আরও তিন গুণ বেড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাও দেশের উন্নয়নকে পিছিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরিস্থিতি উত্তরণে ভারতের শীর্ষ চিন্তাশীল, মেধাবী ও সৎ মানুষদের নিয়ে এক বৃহৎ আলোচনার পরিকল্পনা করছেন ওয়াংচুক। দেশের বিভিন্ন শহর ঘুরে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি একটি নতুন রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এই আন্দোলনকারী।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে তিনি আর আদিয়ালা কারাগারে যাবেন না।
তিনি বলেন, এর মধ্যে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না পেলে ওই দিন ২০ লাখ লোকের সমাবেশ করা হবে।
আফ্রিদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ করে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়ে বলেন, এগুলো অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
আদিয়ালা কারাগারের বাইরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কারাগারের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, তাঁকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা কর্তৃপক্ষের নেই।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২৭ সেপ্টেম্বরের আগে আমি শেষবারের মতো আদিয়ালায় এসেছি। সরকার নিজে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেই কেবল আমি আবার ফিরে আসব।’
উল্লেখ্য গতকাল ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় আফ্রিদির নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আফ্রিদি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বৈঠকের অনুমতি দেওয়া না হলে দলের ‘ডি-চক’ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (গতকাল) রাত ১০টা থেকে দেশজুড়ে সড়ক অবরোধ করবেন পিটিআইয়ের কর্মীরা।
জাতীয় ও পিটিআইয়ের পতাকা হাতে রাজপথে নামার জন্য দলীয় কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে পিটিআইদলীয় প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রতিবাদ এই বার্তা দেবে যে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না।’
পিটিআইয়ের গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মীরা মোড়ে মোড়ে গিয়ে ইমরান খানের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন।
আফ্রিদি অভিযোগ করেন, এমনকি সরকারি মন্ত্রীরাও স্বীকার করছেন, দেশ ও দেশের শাসনব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে গেছে, যা প্রমাণ করে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের জনগণ তাদের সমস্যাগুলোর সমাধান চায় এবং কেবল ইমরান খানই তা নিশ্চিত করতে পারেন। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইসলামাবাদের দিকে পদযাত্রা করবেন।
আফ্রিদি ২৭ সেপ্টেম্বরের ওপর জোর দেওয়ার জন্য পিটিআইয়ের কর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। এই তারিখটি কর্তৃপক্ষের জন্য একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে বলে তিনি বর্ণনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মানুষ দারুণ উৎসাহী এবং বুধবার স্বল্প সময়ের নোটিশে খাইবার জেলায় বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন।
পিটিআইয়ের এই নেতা বলেন, অন্যান্য এলাকায়ও একই ধরনের আন্দোলন শুরু করা হবে। ২৭ সেপ্টেম্বরের এই গণজাগরণে ২০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেবে। তিনি বলেন, আগামী রোববার বান্নুতে রাজপথে এক কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।
আফ্রিদি বলেন, যিনিই পাকিস্তান ও পিটিআইয়ের পতাকা বহন করবেন, তাঁকেই ইমরান খানের সমর্থক হিসেবে গণ্য করা হবে।
পিটিআইয়ের অব্যাহত প্রতিবাদ এবং কারাবন্দী দলের প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে দেখা করার দাবির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি এল। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট গত মঙ্গলবার পরিবারের সদস্য ও আইনজীবী এবং গতকাল দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।
পরে রাতের বেলায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আফ্রিদি বলেন, তিনজন বিচারকের আদেশ রয়েছে যাতে সপ্তাহে দুবার ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
পিটিআইয়ের এই নেতা বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য আদালতে আবেদন করেছি, কিন্তু আদালত অসহায়। সে ক্ষেত্রে প্রতিবাদ জানানোর সব অধিকার আমাদের রয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, তিনি বৈঠকের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আমাকে জানাবেন। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলো যদি অকার্যকরই হয়ে থাকে, তবে সরকারের উচিত সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া। কারণ, এগুলো জনগণের অর্থ অপচয় করছে। সাধারণ মানুষ কর দেয়, আর সেই টাকা এদের পেছনে খরচ হয়।’
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমনকি মন্ত্রীরাও বলছেন যে ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
ইংল্যান্ডে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত
ইংল্যান্ডের ইস্ট সাসেক্সে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর। দুর্ঘটনার পর সেখানে বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সাউদার্নের ট্রেনটি লুইস রেলওয়ে স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটি লন্ডন ভিক্টোরিয়া থেকে ইস্টবোর্নগামী ছিল।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ জানিয়েছে, ট্রেনটির তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন। ট্রেনে থাকা প্রায় ১৫০ যাত্রীকে পরে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলের ছবিতে উল্টে যাওয়া বগির ওপর যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কয়েকজন যাত্রী দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ভেতরে চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের বর্ণনা দিয়েছেন।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ডমিনিক আইওনু সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরও ১৮ জন অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। আহতদের ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়; কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
যাত্রী র্যাচেল হিথ জানান, দুর্ঘটনার আগে ট্রেনটি প্রচণ্ডভাবে দুলতে শুরু করে। এরপর বিকট শব্দ ও চিৎকার শুরু হয় এবং একটি বগি কাত হয়ে মাটিতে পড়ে যায় বলে তিনি জানান।
দুর্ঘটনার পর ওই এলাকার কয়েকটি রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালায়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি