ছবি : সংগৃহীত
আটলান্টিক মহাসাগরে এক প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ সংক্রমণে জাহাজের তিনজন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্ত সন্দেহে আরও তিনজনকে জরুরি ভিত্তিতে জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ বলেছেন, ‘এমভি হন্দিয়াস’ নামের জাহাজটি থেকে উদ্ধারকৃত ওই তিন ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেদারল্যান্ডসে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এই হান্টাভাইরাস আসলে কী?
হান্টাভাইরাস কী?
হান্টাভাইরাস হচ্ছে একগুচ্ছ ভাইরাসের সমষ্টি, যা সাধারণত ইঁদুর বা এ জাতীয় ক্ষুদ্র প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ইঁদুরের লালা, মল-মূত্র বা এদের বাস স্থানের ধুলিকণার সংস্পর্শে মানুষ এলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা দেহে গুরুতর রোগ তৈরি করতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘নিউ সায়েন্টিস্ট’ প্রতিবেদনে লিখেছে, ভৌগোলিক অবস্থানভেদে এ ভাইরাসের সংক্রমণের ধরন ও লক্ষণে ভিন্নতা দেখা যায়।
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় এ ভাইরাসের কারণে ‘হান্টাভাইরাস কার্ডিওপালমোনারি সিনড্রোম’ বা এইচসিপিএস নামের রোগ হয়, যা সরাসরি শ্বাসতন্ত্র বা ফুসফুসকে আক্রমণ করে। এ নির্দিষ্ট ধরনে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় অর্ধেকই মারা যেতে পারে।
অন্যদিকে, ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশে হান্টাভাইরাস ‘হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম’ বা এইচএফআরএস তৈরি করে। এ রোগটি দেহের রক্তনালী, বিশেষ করে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। অঞ্চল যেটাই হোক না কেন দ্রুত চিকিৎসা না পেলে এ সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর আনুমানিক ১০ হাজার থেকে এক লাখ মানুষ হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে এশিয়া ও ইউরোপে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেস’-এর তথ্য অনুসারে, ওই জাহাজ থেকে নামা দুই ব্যক্তির দেহে ‘আন্দেস ভাইরাস’-এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
‘আন্দেস ভাইরাস’ হান্টাভাইরাসেরই একটি রূপ যা, এইচসিপিএস বা শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ তৈরি করে। এ নির্দিষ্ট ভাইরাসটি দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
হান্টাভাইরাসের লক্ষণ কী?
হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত জ্বর, পেশিতে ব্যথা ও প্রচণ্ড মাথাব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
মানুষ সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের লালা, মল-মূত্র বা এদের বসবাসের স্থানের ধুলিকণার সংস্পর্শে এলে এ ভাইরাসটি নিশ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে।
হান্টাভাইরাস মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি, যা সঠিক সময়ে শনাক্ত না হলে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল করে দিতে পারে।
কীভাবে ছড়ায়?
সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের লালা, মল বা মূত্র থেকে নির্গত ভাইরাস নিশ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করলে এ সংক্রমণ ঘটে। সরাসরি স্পর্শ ছাড়াও কেবল আক্রান্ত প্রাণীর বর্জ্য মিশ্রিত ধূলিকণা বা বাতাস ফুসফুসে প্রবেশের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার ঘটে।
‘লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন’-এর বিশেষজ্ঞ রজার হিউসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ঠিক এ কারণে কোনো ব্যক্তির আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ দেখা দিলে তদন্তের ক্ষেত্রে একটি বিষয়েই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তা হচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তি ইঁদুরের উপদ্রব রয়েছে এমন কোনো পরিবেশ, খাদ্য গুদাম, জাহাজের কেবিন, স্টোরেজ এরিয়া বা অন্য কোনো বদ্ধ জায়গার সংস্পর্শে এসেছিলেন কি না। সাধারণত হান্তাভাইরাস একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের দেহে সহজে ছড়িয়ে পড়ার মতো ভাইরাস হিসেবে বিবেচিত নয়।”
ইঁদুরের কামড়ের মাধ্যমেও হান্টাভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে। তবে এমনটা সচরাচর ঘটে না। সাধারণত এমন সব কাজ, যা ইঁদুরের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বাড়ায়, যেমন বদ্ধ বা পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই এমন ঘর পরিষ্কার করা, কৃষিকাজ, বনায়নের কাজ বা ইঁদুর উপদ্রুত স্থানে বসবাস বা ঘুমানোর মতো বিষয়গুলো মানুষের এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মানুষ থেকে মানুষে এ ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা এখন পর্যন্ত কেবল আমেরিকা মহাদেশের 'আন্দেস ভাইরাস'-এর ক্ষেত্রে নথিবদ্ধ করা হয়েছে, যা বেশ বিরল। এ ধরনের সংক্রমণ সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে ঘটে থাকে, বিশেষ করে পরিবারের সদস্য বা জীবনসঙ্গীদের মধ্যে।
এ ছাড়া রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ভাইরাসের বিস্তার ঘটানোর সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি থাকে তখনই একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।
প্রাদুর্ভাব কতটা উদ্বেগের?
‘ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটি’র বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম টেইলর বলেছেন, “এ প্রাদুর্ভাব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
“হান্টাভাইরাস সাধারণত মানুষের মাধ্যমে নয়, বরং প্রাণীর শারীরিক বর্জ্যের সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। বর্তমানে জাহাজে ঝুঁকি কমানোর জন্য যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সেগুলো কেবল সতর্কতামূলক পদক্ষেপ মাত্র।”
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ হিউসন বলেছেন, প্রমোদতরিতে এই সংক্রমণ পাওয়া গেছে বলেই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা ঠিক হবে না।
“একই জাহাজের একাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার মানে এই নয় যে, তারা জাহাজের ভেতরেই সংক্রমিত হয়েছেন। তারা জাহাজে ওঠার আগে, যাত্রাপথে কোনো দ্বীপে নামার সময় বা পরিবেশগত অন্য কোনো কারণেও আক্রান্ত হতে পারেন। ঠিক এ কারণেই জনস্বাস্থ্য তদন্ত, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করা জরুরি।”
জাহাজটি কোথায় ছিল?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২ মে এমভি হন্দিয়াস জাহাজে বেশ কয়েকজন যাত্রীর তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার খবর মেলে। এ প্রাদুর্ভাবে এরইমধ্যে দুইজন মারা গেছেন এবং একজন যাত্রী আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভ্রমণসূচি অনুসারে, জাহাজটি ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এরপর দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর হয়ে অ্যান্টার্কটিকা, দক্ষিণ জর্জিয়া, নাইটিংগেল দ্বীপ, ট্রিস্টান দা কুনহা, সেন্ট হেলেনা ও অ্যাসেনশন দ্বীপে যাত্রা বিরতি নেয়।
এদিকে, সুইজারল্যান্ডের এক ব্যক্তির দেহেও হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তিনি ওই জাহাজে না থাকলেও এপ্রিলের শেষদিকে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছিলেন।
ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো। ছবি: বিবিসি
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় জিম্বাবুয়ের আলোচিত ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো ও তার স্ত্রী লুসি মুতেকে নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা ছয়জনই মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পূর্বে মারোনদেরা এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ছয়জনের মধ্যে দুজন পাইলট ছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে হারবার্ট চিভায়ো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
সরকারি মুখপাত্র নিক মাংগোয়ানা জানান, হেলিকপ্টারটিতে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তিনজন যাত্রী ও দুজন পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার পর কেউ বেঁচে নেই বলেও জানান তিনি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চিভায়ো ও তার স্ত্রী চিকোম্বার গান্দামি এলাকায় নির্মাণাধীন তাদের গ্রামীণ বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর কুডেঙ্গা ফার্ম এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) পরিবহনমন্ত্রী ফেলিক্স মোহোনার নেতৃত্বে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তদন্তকারীরা হেলিকপ্টারটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করেছেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।
৪৩ বছর বয়সী চিভায়ো ‘স্যার উইকনেল’ নামে পরিচিত ছিলেন। সরকারি বিভিন্ন বড় চুক্তির মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়িক পরিচিতি গড়ে তোলেন। বিলাসবহুল জীবনযাপন ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।
সরকারি চুক্তি নিয়ে অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্ত হয়েছিল। তবে তিনি বরাবরই অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।
চিভায়োর মৃত্যুতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া শোক প্রকাশ করেছেন। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোও তাকে ‘প্রিয় বন্ধু’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি প্রিন্স সালমান। ছবি : গেটি ইমেজেস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’
এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’
সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্ব ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তা চেয়েছিল কি না এবং ট্রাম্প তা কেন প্রত্যাখ্যান করেছেন, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থন জানাননি। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।
ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক বছরে ইসরায়েল নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে দেশটির জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।
নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, এর আগেও বহুবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছিল। একইভাবে তাকেও অনেকবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই নেতানিয়াহুকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র : সিবিএস নিউজ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত সীমিত হয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হয়েছে; সম্প্রতি পেন্টাগনের এমন একটি প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা কম।’ তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়েও বেশি মাত্রায় অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন মাত্রায় মজুত করছি, যা এর আগে কখনো করিনি।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনার সময় ব্যাপক গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে কৌশলগত মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাও প্রকাশ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে ওই প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে কত অর্থ ব্যয় হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এর খরচ ভেনেজুয়েলায় এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র যত অর্থ আয় করে, তার চেয়েও কম হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ওয়াশিংটন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিহিত করেছে। ওই অভিযানে গোলাবারুদের ব্যবহার মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি করেছে, তা নিয়ে পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।
সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’
এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’
সূত্র : টাইম ম্যাগাজিন
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ইরানকে নতজানু করার চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের জন্য ইরান উন্মুক্ত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) উদ্যোক্তা ও অর্থনৈতিক খাতের ব্যক্তিদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে আমাদের সমাজের অধিকার রক্ষা করি। আমরা কখনো সংলাপ থেকে পালিয়ে যাইনি এবং ভবিষ্যতেও যাব না। যদিও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরও তিনবার আমাদের দেশে হামলা চালিয়েছে।’
‘চুক্তি’ বলতে পেজেশকিয়ান সম্ভবত জুনের মাঝামাঝি সময়ে তার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করেছেন।
ওই সমঝোতার মাধ্যমে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তা ভেঙে পড়ে। ইরানের অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখে সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘শত্রুরা ভেবেছিল, ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাতের পর জনগণ, কমান্ডার ও বিজ্ঞানীরা ভেঙে পড়বে। কিন্তু আমাদের জাতীয় ও অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং সংহতি আরও বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও শাহাদাতের মাধ্যমে আমাদের নতজানু করার চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।’
সূত্র : সিবিএস নিউজ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরোনো ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি সমর্থন দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থন জানাননি। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।
ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক বছরে ইসরায়েল নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে দেশটির জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।
নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, এর আগেও বহুবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছিল। একইভাবে তাকেও অনেকবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই নেতানিয়াহুকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের একদিন আগে নেতানিয়াহু তাকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং দিয়েছিলেন। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে ইসরায়েলে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন নেতানিয়াহু।
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ এবং লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের হামলা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: আলজাজিরা
ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে খুব শিগগির সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো অথবা দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্যে একটি পথ বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় তিনি ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকিও দেন।
বৃহস্পতিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, নয়তো সামরিক পদক্ষেপ নেবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো তাদের উড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা তাদের উড়িয়ে দেব, অথবা একটি চুক্তি করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘সময় এসে যাচ্ছে। যে কোনোভাবেই হোক, বিষয়টি খুব শিগগির শেষ হবে।’
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এলো। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা এবং সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা