ক্যাপ্টেন এইতান স্যামুয়েল লেমবার্গ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৫ জুন, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ পিএম

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর একটি ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত সেনার নাম ক্যাপ্টেন এইতান স্যামুয়েল লেমবার্গ, যার বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। তিনি ইসরাইলের মিশমার হাশিলভা এলাকার বাসিন্দা এবং সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া ব্রিগেডে কর্মরত ছিলেন।


ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, লেবাননের লিতানি নদীর উত্তর দিকে যখন একটি ইসরাইলি ট্যাংক অবস্থান করছিল, ঠিক তখন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে হিজবুল্লাহর এক যোদ্ধা ট্যাংকটি লক্ষ্য করে দূরনিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েন। এই সরাসরি হামলায় ট্যাংকে থাকা ক্যাপ্টেন লেমবার্গ মারা যান।


এই ঘটনার পরপরই ইসরাইলি বাহিনী ওই এলাকায় বড় ধরনের পাল্টা আঘাত হানে। আইডিএফ জানিয়েছে, যে এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোঁড়া হয়েছিল, সেই জায়গার আশেপাশে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন আস্তানা ও ঘাঁটির ওপর তারা বিমান ও কামান দিয়ে জোরালো হামলা চালিয়েছে।


সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল




বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ফ্লাইট ডেক থেকে উড্ডয়ন করছে একটি এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান। ৩১ জুলাই ২০২৬

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর দায়িত্ব পালন শেষে কবে নাগাদ ফেরা যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পাঠানো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর নাবিক ও সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছে। একই সঙ্গে তাঁদের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাবিকদের পরিবার ও সহকর্মীরা। সম্প্রতি এ উদ্বেগের কথা সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। 


সান ডিয়েগোতে অনুষ্ঠিত এক উত্তপ্ত টাউন হল সভায় নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হাং কাও এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে তাঁরা এ ক্ষোভ উগরে দেন। সভায় উপস্থিত দুই নাবিকের স্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


সান ডিয়েগোর ওই সভায় আনুমানিক ২০০ জন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অংশ নেওয়া এক নাবিকের স্ত্রীর ভাষ্য, সভার দিনই তিনি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে একটি বার্তা পান। 


অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি কর্মকর্তাদের জানান, তাঁর স্বামী তাঁকে লিখেছেন যে ‘তিনি আশা করেন আগামীকাল যেন তাঁর আর ঘুম না ভাঙে।’


ওই নারী আরও জানান, সভায় উপস্থিত নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সুনির্দিষ্ট বা আবেগঘন বক্তব্যের কোনো সরাসরি জবাব দেননি। তবে জাহাজে থাকা নাবিকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী, চ্যাপলিন (ধর্মীয় শিক্ষক) এবং চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত সুবিধা রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন তাঁরা।


একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুদ্ধজাহাজটিতে আরও বেশি মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ পাঠানোর কাজ চলছে বলে জানান নৌবাহিনীর সেই কর্মকর্তারা।


টানা ২৫০ দিন সমুদ্রে: চরম ক্লান্তি ও হতাশায় মার্কিন নাবিকেরা


গত সপ্তাহের সভায় যে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে, তার সঙ্গে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় নাবিক ও তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে সামরিক সংবাদমাধ্যম ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর কাছে ব্যক্ত করা মতামতের হুবহু মিল রয়েছে।


বর্তমানে কর্মরত নাবিক ও তাঁদের পরিবারের সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রু সদস্যদের ডজনখানেক মন্তব্য ও পোস্ট থেকে এ সংকটের গভীরতা স্পষ্ট। তাঁদের বিবরণ অনুযায়ী, চরম ক্লান্তি ও মনোবল ভেঙে পড়ায় নাবিকেরা প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন। এর মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তার মতো গুরুতর বিষয় যেমন রয়েছে, তেমনি অন্তত একজন ক্রু সদস্যকে জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়া থেকে বিরত রাখার ঘটনাও ঘটেছে।


নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্বাভাবিক ও অত্যন্ত কঠিন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এ যুদ্ধজাহাজের নাবিকেরা। মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অধীন ৪০ দিন ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধাভিযানে অংশ নিতে হয়েছে তাঁদের। সব মিলিয়ে সমুদ্রে টানা ২৫০ দিন পার করার এক নজিরবিহীন ধকল সামলাচ্ছেন তাঁরা।


গত নভেম্বরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েনের উদ্দেশ্যে এ বিমানবাহী রণতরি সান ডিয়েগো ত্যাগ করেছিল। তবে পরে সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে কোনো ধরনের বন্দরবিরতি বা যাত্রাবিরতি ছাড়াই সমুদ্রে রেকর্ডসংখ্যক দিন পার করে আট মাসের বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে যুদ্ধজাহাজটি।


ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান সফল করতেই ক্রুদের এ দীর্ঘ সময় পার করতে হয়েছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত মে মাসে এ মিশন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়ানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ তাঁরা ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।


সভায় মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যার ঝুঁকি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা যে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সে বিষয়ে নৌবাহিনী ঠিক কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি। তবে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রণতরিটিতে পরামর্শক, চ্যাপলিন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অন্যান্য জরুরি সহায়তাসহ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক বা ব্যবস্থা চালু রয়েছে।


খাদ্য-পানির সংকট, বাড়ি ফিরতে চান ৫ হাজার সেনা


মার্কিন নৌবাহিনী গত সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘নাবিকদের মানসিক সুস্থতা পর্যবেক্ষণ ও বজায় রাখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত মূল্যায়ন বা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যাচ্ছে।’


এদিকে প্রতিশোধ বা আইনি জটিলতার আশঙ্কায় এ প্রতিবেদনের জন্য সাক্ষাৎকার দেওয়া নাবিকদের স্ত্রী, পরিবারের অন্য সদস্য ও কর্তব্যরত নাবিকদের নাম-পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল। ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’সেই অনুরোধের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে।


পরিবারের সদস্য ও নাবিকদের অভিযোগ, আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধজাহাজে থাকা প্রায় ৫ হাজার সেনাসদস্য চরম খাদ্য ও পানিসংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিঠি বা ডাক যোগাযোগে বিঘ্ন এবং একটানা দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যেখানে বিশ্রামের সুযোগ মেলাই ভার।


সাধারণত সাগরে থাকাকালীন নাবিকদের একঘেয়েমি ও ক্লান্তি দূর করতে নিয়মিত বিরতিতে বন্দরে যাত্রাবিরতি বা ‘পোর্ট কল’ দেওয়া হয়। তবে মোতায়েনের দীর্ঘ সময়ে আব্রাহাম লিংকনের ক্রুরা এমন কোনো স্বাভাবিক সুযোগ পাননি বললেই চলে।


মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, রসদ সংগ্রহ, জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্রুদের বিশ্রামের জন্য সাধারণত প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ দিন পরপর বিমানবাহী রণতরিগুলো কোনো না কোনো বন্দরে নোঙর করতে হয়।


যুদ্ধজাহাজটিতে থাকা এক নাবিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুরো মোতায়েনজুড়ে আমরা কোনো বিরতি ছাড়াই জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করে গেছি।’ অথচ মোতায়েনের শুরুতে বিভিন্ন বন্দরে যাওয়া এবং বিশ্রামের আশায় সবার মনোবল বেশ চাঙা ছিল বলে তাঁর মন্তব্য।


বর্তমানে ক্রুদের মনোবল এতটাই ভেঙে পড়েছে যে তাঁরা সামনে কোনো বন্দরে বিশ্রামের সুযোগও চান না; বরং যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরার স্বার্থে যেকোনো বিরতি ত্যাগ করতে তাঁরা রাজি। সেই নাবিকের আকুতি, ‘এই মুহূর্তে আসলে আমাদের আর কোনো প্রত্যাশা নেই। আমরা শুধু বাড়ি ফেরার একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ চাই।’


জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা: নাবিকের করুণ আকুতি


নাবিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করা সামরিক জীবনেরই অংশ। তবে সেটি তাঁরা মেনে নিলেও অনেকেরই অভিযোগ, শারীরিক ও মানসিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা না করেই এ যুদ্ধজাহাজের ক্রুদের অস্বাভাবিক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে টানা যুদ্ধাভিযান চালাতে বাধ্য করা হচ্ছে।


গত জুলাই মাসে এক চিন্তিত অভিভাবক ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-কে দেওয়া এক চিঠিতে লেখেন, ‘আমার ছেলে বর্তমানে ওই যুদ্ধজাহাজে আছে। সে এবং তার সহকর্মীরা একটু স্বস্তি পেতে প্রতিনিয়ত জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার কথা ভাবছে, এটি শোনা একজন বাবার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।’


নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে এই অভিভাবক আরও বলেন, ‘আমরা রাতে ঘরের নরম বিছানায় আরামে ঘুমাই, অথচ আমাদের প্রিয়জনেরা ওখানে যুদ্ধ করছে। তারা আসলে কিসের জন্য জীবন বাজি রাখছে, সেটিও তাদের কাছে স্পষ্ট নয়।’


জাহাজে থাকা একাধিক নাবিক জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে এক ক্রু সদস্যকে জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। এক নাবিকের ভাষ্য, ‘আমাদের এখানে এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে দায়িত্বরত প্রহরীদের এক নাবিককে সাগরে লাফ দেওয়া থেকে আটকাতে হয়েছিল।’ ঘটনাটি পুরো জাহাজের লাউডস্পিকারে ঘোষণার মাধ্যমে সব ক্রুকে জানানো হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি।


তবে এই সুনির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও মার্কিন নৌবাহিনী সরাসরি কোনো জবাব দেয়নি। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নের উত্তরে বাহিনী জানিয়েছে, ‘কর্তৃপক্ষ সব সময়ই পরিবারগুলোর কথা শুনতে, সেনাসদস্যদের পাশে দাঁড়াতে এবং আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের লক্ষ্য নিরাপদে ও সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সম্পদ বা সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’


নাবিক, তাঁদের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন, এর আগে আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধজাহাজে খাবার রেশন করে দেওয়া, তীব্র পানির সংকট এবং টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কাপড় লন্ড্রি করতে না পারার মতো বড় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে এখন সেসব সমস্যার বড় অংশই সমাধান হয়েছে এবং চিঠি বা ডাক যোগাযোগের ব্যবস্থাও ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে বলে তাঁদের মত।


মানসিক ভাঙন ও তীব্র হতাশা, তা-ও মিলছে না ফেরার তারিখ


গত জুলাইয়ের শুরুতে ওমানের একটি বন্দরে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির কারণে যুদ্ধজাহাজটিতে নতুন করে রসদ সরবরাহের সুযোগ হয়। ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস পর ক্রুরা তাজা ফলমূল ও শাকসবজি পান বলে জানান এক নাবিক। তবে সে সময় অনেক নাবিককে জাহাজ থেকে নামার অনুমতি দেওয়া হলেও তাঁদের বন্দর এলাকার একটি সুরক্ষিত সীমানার মধ্যেই আটকে রাখা হয়েছিল।


এর আগে গত ডিসেম্বরেও ‘আব্রাহাম লিংকন’ গুয়াম দ্বীপে একটি সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেছিল। কিন্তু জাহাজে থাকা অনেক নাবিকই সেই সময় তীরে নামার সুযোগ পাননি বলে জানান তাঁদের স্ত্রীরা।


সেনাসদস্যদের জন্য নিয়মিত বন্দরবিরতির অভাব, ডাক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ঘাটতি নিয়ে এক নাবিকের স্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিজের মানুষের (নাবিক) এই অবস্থা দেখাটা দিন দিন অসম্ভব হয়ে উঠছে।’ অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি চোখের সামনে আমার স্বামীকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখছি। মনে হচ্ছে, তারা যেন সব আশাই হারিয়ে ফেলছে।’


নৌবাহিনী অবশ্য তাদের জবাবে উল্লেখ করেছে যে লিংকন যুদ্ধজাহাজটি বর্তমানে অত্যন্ত বৈরী ও যুদ্ধসংক্ষুব্ধ এক পরিবেশে দায়িত্ব পালন করছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলো সামরিক সংঘাতের কারণে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।


এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন বাহিনী রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে মিশনের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর তালিকায় প্রথমে খাবার, তারপর স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী ও সবশেষে চিঠি বা ডাকের স্থান। 


নৌবাহিনীর দাবি, যুদ্ধজাহাজ থেকে আসা সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করছে যে সেখানে পরিষ্কার পানি, সচল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও প্রতিবেলার খাবারে দুটি আমিষের ব্যবস্থা রয়েছে। রসদ সরবরাহের এ প্রবাহ দিন দিন আরও উন্নত হচ্ছে।


গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দুটি সভার (একটি সশরীর ও অন্যটি অনলাইনে) একটিতে নেভাল এয়ারফোর্সেসের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল ডগলাস ভেরিসিমো, নেভাল সারফেস ফোর্সেসের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল জোসেফ কাহিলসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত নৌ সেক্রেটারি হাং কাও সশরীর উপস্থিত থাকলেও ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন না।


সভায় অংশ নেওয়া এক নারী কাও, ভেরিসিমো ও কাহিলকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা আমাদের এবং নেতৃত্বের মধ্যকার বিশ্বাসের জায়গাটি সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন।’


সামরিক সংবাদমাধ্যম ‘ইউএসএনআই নিউজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ১৬২ দিনের একটি মোতায়েন শেষে ঘরে ফেরার এক বছরের কম সময়ের মধ্যে সান ডিয়েগোর নিজস্ব বন্দর থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে মোতায়েনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল লিংকন। কিন্তু এর পরপরই রণতরিটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং গত জানুয়ারি মাসে সেটি সেখানে পৌঁছায়। সেই থেকে আজ অবধি যুদ্ধজাহাজটি আরব সাগরেই অবস্থান করছে।


সামরিক নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা আব্রাহাম লিংকন কবে দেশে ফিরবে সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে জানান নাবিকদের স্ত্রীরা।


বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, লিংকন যুদ্ধজাহাজের নাবিক এবং তাঁদের পরিবারের বর্ণনা করা এ পরিস্থিতিগুলো সমুদ্রে থাকা সেনাসদস্যদের জন্য তীব্র মানসিক চাপের অন্যতম প্রধান কারণ।


একাডেমিক জার্নাল ‘মিলিটারি মেডিসিন’-এ ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মোতায়েনকালে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম নিতে না পারা এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগই নাবিকদের সবচেয়ে বেশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।


বিমানবাহী রণতরি, ডেস্ট্রয়ার এবং উভচর যুদ্ধজাহাজে কর্মরত ৯৫৬ জন নাবিকের ওপর পরিচালিত এ সমীক্ষায় আরও উঠে আসে যে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে জটিলতা এবং মানসিক চাপ কমানোর সুযোগের অভাবও তাঁদের বড় উদ্বেগের কারণ।


নৌবাহিনীতে দীর্ঘ ২০ বছর দায়িত্ব পালন করা ও চারবার মোতায়েন হওয়া অবসরপ্রাপ্ত চিফ পেটি অফিসার থমাস নাটজম্যান জানান, একটি মোতায়েন কবে শেষ হবে, তা না জানাটা নাবিকদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। 


দীর্ঘ সময় সমুদ্রে কাটানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে নাটজম্যান বলেন, ‘সেখানে কোনো সোম, মঙ্গল বা বুধবার নেই; প্রতিটি দিনই যেন একটি দিন। আপনি আপনার সাধ্যমতো ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেন।’


সংকটের জায়গাটি উল্লেখ করে নাটজম্যান বলেন, ‘সমস্যা হলো, আপনি যখন অনেক লম্বা সময় সমুদ্রে থাকবেন, তখন মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা একটা সময় এসে থমকে যাবে আর ঠিক সেখান থেকেই মানসিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে শুরু করবে।’ 


দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩০ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে–মিউং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। 


আজ শনিবার তিনি বলেন, সংঘাত ঠেকাতে সিউল প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি কোরীয় উপদ্বীপে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিবর্তে একটি ‘শান্তিব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।


জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার স্বাধীনতালাভের বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য দুই কোরিয়ার আলোচনায় বসা উচিত। তিনি ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির জন্য উত্তর কোরিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান।


উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে ওই যুদ্ধের অবসান ঘটলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি।


লি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করতে কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, উত্তেজনা কমাতে এবং সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সিউল আগাম ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।


লির এ আহ্বান মূলত গত বছর দেওয়া তাঁর প্রতিশ্রুতিরই ধারাবাহিকতা। সে সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থাকে সম্মান জানানো এবং পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন।


তবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক এখনো অচলাবস্থার মধ্যে আছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন দুই কোরিয়াকে আবার এক করতে পিয়ংইয়ংয়ের দীর্ঘদিনের নীতি বাদ দিয়েছেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তর কোরিয়ার ‘সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।


এদিকে লির দেওয়া সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরি সংক্রান্ত পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবেও উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে তারা।


দ্য হিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ থেকে ৭৬ বছর আগে ১৯৫০ সালের ২৫ জুন ভোরে কমিউনিস্ট কোরিয়ান পিপলস আর্মির সেনারা সমন্বিত হামলা চালিয়ে দক্ষিণে রিপাবলিক অব কোরিয়ার ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েন।


কামান থেকে গোলা ছোড়ার পাশাপাশি সোভিয়েত নির্মিত ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান নিয়ে কোরিয়ান পিপলস আর্মি দ্রুত অগ্রসর হতে থাকে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী তখন একেবারেই অপ্রস্তুত ছিল। এ অবস্থায় তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। মাত্র তিন দিনের মধ্যে উত্তর কোরীয় বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল দখল করে নেয়। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও স্বৈরশাসক সিংম্যান রি উপকূলীয় শহর বুসানে অস্থায়ী রাজধানী স্থাপন করেন।


কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি আজও হয়নি। ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হলেও সংঘাতটি আইনগতভাবে এখনো স্থগিত অবস্থায় আছে। দুই পক্ষের মধ্যে কখনো কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি। ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া (উত্তর কোরিয়া) ও রিপাবলিক অব কোরিয়া (দক্ষিণ কোরিয়া) এখনো উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত। তাদের মধ্যে ১৬০ মাইল দীর্ঘ একটি ডিমিলিটারাইজড জোন আছে। দুই দেশের এ সীমান্ত এলাকায় প্রায় ২০ লাখ সেনা টহল দিয়ে থাকেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৯ পিএম

দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর পাশাপাশি দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় কৃষিজমিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খব পাওয়া গেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে লেবানন ও সিরিয়ার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।


লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা হুলা এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিমান দিয়ে টাইর জেলার ওয়াদি আদশিত আল-কুসাইর ও মানসুরি শহরে হামলা করা হয়েছে।


সংবাদমাধ্যম আল-মানার জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠেও হামলা চালায়। পাশাপাশি একটি ইসরায়েলি সামরিক হেলিকপ্টার আলি আল-তাহের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি অভিযান পরিচালনা করে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, এসব হামলায় ফসফরাস শেলসহ নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।


অন্যদিকে, সিরিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী কুনেইত্রা এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের আল-রাফিদ শহরের কৃষিজমিতে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


এদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন হিজবুল্লাহর নেতা শেখ নাইম কাসেম। তিনি এই আলোচনার কাঠামোকে মার্কিন-ইসরায়েলি দাবির কাছে লেবাননের সার্বভৌমত্ব সমর্পণের শামিল বলে অভিহিত করেছেন। তাই লেবানন সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নাইম কাসেম। তিনি এই প্রক্রিয়াকে ব্যর্থ ও অপমানজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন।


কাসেম বলেন, তথাকথিত ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি মূলত ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া শর্তের সমষ্টি। সাত দফা আলোচনার পর লেবানন সরকার কী কোনো একটা কিছু অর্জন করতে পেরেছে? এমন একটি উদাহরণ দেখানোরও চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।


তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বরের চুক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর অস্ত্র বা প্রতিরোধের অস্ত্রসম্ভারকে লক্ষ্যবস্তু করছে অথচ ইসরায়েলের চুক্তি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।


ইসরায়েলি সামরিক হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ মাসে (চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে) এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পাশাপাশি আহত হয়েছেন ১২ হাজার ২৭৭ জনের বেশি। এছাড়া প্রায় ১৫ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ এএম

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে দেশটির ইস্ট নুসা তেনগারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।


জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র বার্টন সুয়ার পেলিতা পাঞ্জাইতান জানান, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


এদিকে ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের কয়েকটি এলাকায় প্রায় তিন ফুট উচ্চতার সুনামির ঢেউ আঘাত হানে। উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হলে আতঙ্কে বহু মানুষ নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যান। পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা।


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০১ পিএম

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঠিক আগের দিন রাজধানী নয়া দিল্লির হাই কোর্ট, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক স্থানে বোমা হামলার হুমকি এসেছে। ‘খালিস্তান’ নামে পাঠানো হুমকিমূলক এক ইমেইলে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।


“ব্লাস্ট দিল্লি হাইকোর্ট @২:১১ পিএম” শিরোনামে পাঠানো ওই ইমেইল বার্তায় হুমকি দেওয়া হয় যে, দিল্লিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী রাষ্ট্র ‘খালিস্তান’-এ পরিণত করা হবে।


বার্তায় বলা হয়, শনিবার দুপুর ২টা ১১ মিনিটে দিল্লি হাইকোর্টে বোমা বিস্ফোরণ ঘটবে এবং এর ঠিক এক ঘণ্টা পর বিভিন্ন জেলা আদালতেও বিস্ফোরণ ঘটানো হবে।


দিল্লির আদালতগুলোতে হওয়া মামলার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলার পরিকল্পনা বলে ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়, “দিল্লির আদালতগুলোতে কেবল শিখদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালিত হয়।”


ইমেইলে আরও দাবি করা হয়, স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘খালিস্তান’-এর সদস্যরা ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে গেছেন।


দিল্লি হাইকোর্ট এবং ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (আইজিআই) বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ ছাড়াও আরও ছয়টি স্থানে এই হুমকি পাঠানো হয়েছে।


এর মধ্যে রয়েছে জামনগর হাউজ, ঝাণ্ডেওয়ালান ভবন, সাকেত কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের (ডিএম) কার্যালয় এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের (এসডিএম) কার্যালয়।


এর পাশাপাশি দিল্লি মেট্রো এবং আমবালাগামী ট্রেনগুলোতেও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।


খবর পাওয়ার পরপরই চিহ্নিত স্থানগুলোতে দমকল বাহিনীর গাড়ি পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি।


বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪৬ পিএম

ভারতের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছেন বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। 


তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে হলে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার জরুরি।


স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় লাদাখের এই অধিকারকর্মী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভুল পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা। নেতৃত্ব সঠিক না হলে পুরো দেশই ভুল পথে পরিচালিত হয়। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া নিজ নিজ এলাকার সৎ ও মেধাবী মানুষদের নাম প্রস্তাব করে স্বাধীনতা দিবসের উপহার হিসেবে তা পাঠাতেও অনুরোধ করেন তিনি।


ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনা টানেন। তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে যে দেশগুলো ভারতের চেয়ে পিছিয়ে বা সমপর্যায়ে ছিল, তারা এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ২০৪৭ সালে ভারত উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না।


আইনপ্রণেতাদের যোগ্যতা ও চরিত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াংচুক বলেন, বর্তমান পার্লামেন্টের প্রায় অর্ধেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ সঠিকভাবে এগোতে পারে না।


কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে এককভাবে দায়ী না করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসা প্রতিটি দলই কম-বেশি একইভাবে দুর্নীতি চালিয়েছে ও প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করেছে। ২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর সরকার পরিবর্তন হলেও এক দশক পর দুর্নীতি আরও তিন গুণ বেড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাও দেশের উন্নয়নকে পিছিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


পরিস্থিতি উত্তরণে ভারতের শীর্ষ চিন্তাশীল, মেধাবী ও সৎ মানুষদের নিয়ে এক বৃহৎ আলোচনার পরিকল্পনা করছেন ওয়াংচুক। দেশের বিভিন্ন শহর ঘুরে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি একটি নতুন রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এই আন্দোলনকারী।