আইনি দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে জাপানকে ‘গুপ্তচরদের আস্তানা’ বানিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে টোকিও হয়েছে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরির প্রধান উৎস। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
টাইমসে রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সামরিক ও বেসামরিক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সংগ্রহ ও গোয়েন্দা তথ্য জোগাড়ের জন্য জাপানের ভূখণ্ড ব্যবহার করছে রাশিয়া। এক্ষেত্রে দেশটির ‘গুপ্তচরবৃত্তি সংক্রান্ত দুর্বল আইন’-এর সুযোগ কাজে লাগানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে ইউক্রেন সরকারের একটি হিসাবের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলোর ৯০ শতাংশেই জাপানি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়। দেশটিতে রাশিয়ার এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন মাক্সিম ভ্লাদিমিরোভিচ ফিলচেনকভ নামের এক রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তিনি রুশ বিমান সংস্থা এরোফ্লট-এর টোকিও কার্যালয়ে ছদ্মবেশে কর্মরত আছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস আরও লিখেছে, রাশিয়ায় সরাসরি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। এ কারণে জাপান থেকে সংগৃহীত যন্ত্রাংশগুলো মস্কোয় পাঠাতে ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো তৃতীয় দেশ এবং মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কাজ করছে যন্ত্রাংশ সংগ্রহকারী একটি নেটওয়ার্ক।
টাইমসের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সোমবার বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন জাপান সরকারের প্রধান মুখপাত্র মিনোরু কিহারা। প্রতিবেদনের বিষয়ে সরাসরি কিছু উল্লেখ না করে তিনি বলেন, বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা আরও কার্যকরভাবে প্রতিহত করা প্রয়োজন।
কিহারা বলেন, ‘আমরা স্বীকার করছি যে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এগুলো প্রতিরোধ করার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।’
জাপান সরকারের এই মুখপাত্র বলেন, টোকিওকে আরও বেশি কঠোরতার সঙ্গে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিচ্ছিন্ন বা খণ্ড খণ্ড গোয়েন্দা কার্যক্রমগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে পার্লামেন্টে একটি আইন অনুমোদন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি নতুন জাতীয় সংস্থা গঠনের পথ সুগম হয়েছে।
গুপ্তচরদের গন্তব্য জাপান
নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি জাপানি গণমাধ্যম ‘দ্য জাপান টাইমস’ও প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ সেনা অভিযানের পরপরই, পশ্চিমা নেতারা তাদের দেশ থেকে শত শত রুশ গুপ্তচরকে বহিষ্কার করেন। একই সঙ্গে ক্রেমলিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোম্পানিগুলো কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।
মূলত ক্রেমলিনের জন্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং মাইক্রোচিপ, ট্রান্সমিটার ও অস্ত্র তৈরির যন্ত্রপাতির মতো সরঞ্জাম কেনা কঠিন করে তোলার লক্ষ্যেই ওই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
কর্মকর্তারা বলছেন, এরপর থেকে বহিষ্কৃত সেই গুপ্তচরদের বেশ কয়েকজনকে এমন একটি দেশে দেখা গেছে, যা তাদের ধারণাতেও ছিল না। সেই দেশটি হলো- জাপান।
টোকিওতে এই গুপ্তচরদের কার্যক্রমের মূলে আছে রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপন ইউনিট। এটি ‘২০তম ডিরেক্টরেট’ নামে পরিচিত। পাঁচটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, এই ইউনিটের কর্মকর্তারা কূটনীতিক বা ব্যবসায়ী সেজে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রযুক্তি কেনা এবং সেগুলো রাশিয়ায় পাচার করার কাজ করছেন।
ধ্বংসস্তূপ থেকে অনুসন্ধান শুরু
গত মে মাসে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি ভবনে আঘাত হানে রাশিয়ার ‘কেএইচ-১০১’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হন।
এরপর কিয়েভের তদন্তকারীরা ভবনটির ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান শুরু করেন। পরে এ সংক্রান্ত একটি মূল্যায়নে উল্লেখ করেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি পরিচালনায় জাপানি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছিল।
ওই ঘটনার পর ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশের সঙ্গে জাপানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন নিউইয়র্ক টাইমস। এ কাজে গোপন সরকারি নথি, কর্পোরেট রেকর্ড এবং তিনটি মহাদেশের বেশ কয়েকজন গোয়েন্দা ও সরকারি কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। জনসমক্ষে গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশের অনুমতি না থাকায় অধিকাংশ কর্মকর্তাই নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
নথিপত্র ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জাপানের কাছে একটি প্রমাণপত্র পেশ করেছেন। এতেও রুশ অস্ত্রে জাপানি প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা আছে। জাপান সরকার ইউক্রেনের প্রতি জোরালো সমর্থন প্রকাশ করলেও, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ধীরগতি দেখিয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ীদের তৈরি করা কিছু বাধ্যবাধকতার কারণে জাপানের গোয়েন্দা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল। ফলে দেশটি বহু আগে থেকেই গুপ্তচরদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। এমনকি জাপানের নিজস্ব কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাও নেই।
টোকিওতে এক গুপ্তচরের আগমন
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ২ বছর পর ২০২৪ সালে উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রাংশের ঘাটতিতে পড়ে রাশিয়া। ওই সময় ড্রোন ব্যবহার করে রণক্ষেত্রে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল ইউক্রেন। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে টোকিওতে যাওয়ার দায়িত্ব পান মাক্সিম ভ্লাদিমিরোভিচ ফিলচেনকভ। ফিলচেনকভ রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা।
ব্যবসায়িক রেকর্ড ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, ফিলচেনকভ জাপান থেকে রাশিয়ায় পণ্য পরিবহনকারী লজিস্টিকস কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে শুরু করেন।
সোভিয়েত আমল থেকেই জিআরইউর গুপ্তচরেরা পশ্চিমা প্রযুক্তির সন্ধানে রুশ বিমান সংস্থা ‘এরোফ্লট’-এর চাকরিকে ছদ্মবেশ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। জাপানে বিমান সংস্থাটির কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এর অংশীদার এখনও সক্রিয়। তাদেরই একটি প্রতিষ্ঠান ‘প্রোকো এয়ার’। শ্রীলঙ্কা ও উজবেকিস্তানের মতো দেশে যাতায়াত করা বিমান সংস্থাগুলোর কার্গো স্পেস ভাড়া নেওয়ার কাজ করে প্রোকো।
এরপর এসব দেশ থেকে কার্গো স্থানান্তর করা হয় এরোফ্লটে। যা পরে রাশিয়ায় নেওয়া হয়।
এই প্রক্রিয়াটি এখনও বৈধ। কারণ অংশীদারত্বের কারণে কিছু পণ্য এখনও রাশিয়ায় পাঠানোর অনুমতি আছে। আর সে কাজ করায় প্রোকো এয়ার নিজেদেরকে ‘জাপান ও রাশিয়ার মধ্যকার সেতু’ হিসেবে বিজ্ঞাপন প্রচার করে। এই প্রক্রিয়ায় ফিলচেনকভের সঙ্গে পরিচিত হওয়া মিকি নামে এক জাপানি নাগরিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে টাইমস।
তবে তিনি নিষিদ্ধ কোনো পণ্য রাশিয়ায় পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এসব পণ্যের বেশিরভাগই চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অল্প কিছু প্রসাধন সামগ্রী।
প্রমাণ হিসেবে মিকি সাম্প্রতিক একটি এয়ার বিলের কপি দেখিয়েছেন। যেখানে কালো কালিতে ‘আর-ফার্ম’ শব্দটি অস্পষ্ট করা। মস্কোর ওষুধ কোম্পানি আর-ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সেই রেপিক প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ। তিনি বিভিন্ন সময় পুতিনের যুদ্ধপ্রচেষ্টায় সহায়তার কথা বলেছেন।
কিয়েভের চিঠি
বিদেশি সরকারগুলো বারবার জাপানকে সতর্ক করেছে যে তাদের প্রযুক্তি রাশিয়ায় পাচার করা হচ্ছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ইউক্রেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত আটটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠায়। বার্তাগুলোতে রুশ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামাদিতে জাপানি যন্ত্রাংশের উপস্থিতির তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়।
ইউক্রেনের এক কর্মকর্তার মতে, চিঠিগুলোতে উদ্ধার হওয়া ডজন খানেক জাপানি যন্ত্রাংশের তালিকা ও ছবি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সার্কিট বোর্ড, ট্রান্সমিটার ও সেমিকন্ডাক্টর ছিল। টাইমস-এর সাংবাদিকরা তেমন একটি চিঠি পর্যালোচনা করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রেও জাপানি যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে।
জাপানের সবচেয়ে বড় কিছু কোম্পানি- যেমন নিপ্পন ইলেকট্রিক করপোরেশন, প্যানাসনিক, তোশিবা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা যন্ত্রাংশ উদ্ধারের তালিকাও জাপানের কাছে হস্তান্তর করেছে ইউক্রেন।
তবে এ সব নথিতে কোম্পানিগুলোর পক্ষে জেনেশুনে রাশিয়ায় পণ্য পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো তৃতীয় কোনো দেশ থেকে পুনর্বিক্রি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সবকটিই কোনো ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছে।
নিপ্পন জানিয়েছে, ইউক্রেন যেসব ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ শনাক্ত করেছে সেগুলো বেশ পুরোনো এবং কোম্পানিটি অনেক বছর আগে সেগুলো বিক্রি বন্ধ করেছে। রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফিলচেনকভের মন্তব্য জানতেও তাঁর টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ইমেইলে বার্তা পাঠায় টাইমস। তবে কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি।
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঠিক আগের দিন রাজধানী নয়া দিল্লির হাই কোর্ট, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক স্থানে বোমা হামলার হুমকি এসেছে। ‘খালিস্তান’ নামে পাঠানো হুমকিমূলক এক ইমেইলে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
“ব্লাস্ট দিল্লি হাইকোর্ট @২:১১ পিএম” শিরোনামে পাঠানো ওই ইমেইল বার্তায় হুমকি দেওয়া হয় যে, দিল্লিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী রাষ্ট্র ‘খালিস্তান’-এ পরিণত করা হবে।
বার্তায় বলা হয়, শনিবার দুপুর ২টা ১১ মিনিটে দিল্লি হাইকোর্টে বোমা বিস্ফোরণ ঘটবে এবং এর ঠিক এক ঘণ্টা পর বিভিন্ন জেলা আদালতেও বিস্ফোরণ ঘটানো হবে।
দিল্লির আদালতগুলোতে হওয়া মামলার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলার পরিকল্পনা বলে ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়, “দিল্লির আদালতগুলোতে কেবল শিখদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালিত হয়।”
ইমেইলে আরও দাবি করা হয়, স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘খালিস্তান’-এর সদস্যরা ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে গেছেন।
দিল্লি হাইকোর্ট এবং ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (আইজিআই) বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ ছাড়াও আরও ছয়টি স্থানে এই হুমকি পাঠানো হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে জামনগর হাউজ, ঝাণ্ডেওয়ালান ভবন, সাকেত কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের (ডিএম) কার্যালয় এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের (এসডিএম) কার্যালয়।
এর পাশাপাশি দিল্লি মেট্রো এবং আমবালাগামী ট্রেনগুলোতেও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।
খবর পাওয়ার পরপরই চিহ্নিত স্থানগুলোতে দমকল বাহিনীর গাড়ি পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি।
বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক
ভারতের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছেন বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে হলে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার জরুরি।
স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় লাদাখের এই অধিকারকর্মী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভুল পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা। নেতৃত্ব সঠিক না হলে পুরো দেশই ভুল পথে পরিচালিত হয়। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া নিজ নিজ এলাকার সৎ ও মেধাবী মানুষদের নাম প্রস্তাব করে স্বাধীনতা দিবসের উপহার হিসেবে তা পাঠাতেও অনুরোধ করেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনা টানেন। তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে যে দেশগুলো ভারতের চেয়ে পিছিয়ে বা সমপর্যায়ে ছিল, তারা এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ২০৪৭ সালে ভারত উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না।
আইনপ্রণেতাদের যোগ্যতা ও চরিত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াংচুক বলেন, বর্তমান পার্লামেন্টের প্রায় অর্ধেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ সঠিকভাবে এগোতে পারে না।
কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে এককভাবে দায়ী না করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসা প্রতিটি দলই কম-বেশি একইভাবে দুর্নীতি চালিয়েছে ও প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করেছে। ২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর সরকার পরিবর্তন হলেও এক দশক পর দুর্নীতি আরও তিন গুণ বেড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাও দেশের উন্নয়নকে পিছিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরিস্থিতি উত্তরণে ভারতের শীর্ষ চিন্তাশীল, মেধাবী ও সৎ মানুষদের নিয়ে এক বৃহৎ আলোচনার পরিকল্পনা করছেন ওয়াংচুক। দেশের বিভিন্ন শহর ঘুরে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি একটি নতুন রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এই আন্দোলনকারী।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে তিনি আর আদিয়ালা কারাগারে যাবেন না।
তিনি বলেন, এর মধ্যে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না পেলে ওই দিন ২০ লাখ লোকের সমাবেশ করা হবে।
আফ্রিদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ করে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়ে বলেন, এগুলো অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
আদিয়ালা কারাগারের বাইরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কারাগারের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, তাঁকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা কর্তৃপক্ষের নেই।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২৭ সেপ্টেম্বরের আগে আমি শেষবারের মতো আদিয়ালায় এসেছি। সরকার নিজে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেই কেবল আমি আবার ফিরে আসব।’
উল্লেখ্য গতকাল ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় আফ্রিদির নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আফ্রিদি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বৈঠকের অনুমতি দেওয়া না হলে দলের ‘ডি-চক’ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (গতকাল) রাত ১০টা থেকে দেশজুড়ে সড়ক অবরোধ করবেন পিটিআইয়ের কর্মীরা।
জাতীয় ও পিটিআইয়ের পতাকা হাতে রাজপথে নামার জন্য দলীয় কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে পিটিআইদলীয় প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রতিবাদ এই বার্তা দেবে যে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না।’
পিটিআইয়ের গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মীরা মোড়ে মোড়ে গিয়ে ইমরান খানের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন।
আফ্রিদি অভিযোগ করেন, এমনকি সরকারি মন্ত্রীরাও স্বীকার করছেন, দেশ ও দেশের শাসনব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে গেছে, যা প্রমাণ করে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের জনগণ তাদের সমস্যাগুলোর সমাধান চায় এবং কেবল ইমরান খানই তা নিশ্চিত করতে পারেন। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইসলামাবাদের দিকে পদযাত্রা করবেন।
আফ্রিদি ২৭ সেপ্টেম্বরের ওপর জোর দেওয়ার জন্য পিটিআইয়ের কর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। এই তারিখটি কর্তৃপক্ষের জন্য একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে বলে তিনি বর্ণনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মানুষ দারুণ উৎসাহী এবং বুধবার স্বল্প সময়ের নোটিশে খাইবার জেলায় বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন।
পিটিআইয়ের এই নেতা বলেন, অন্যান্য এলাকায়ও একই ধরনের আন্দোলন শুরু করা হবে। ২৭ সেপ্টেম্বরের এই গণজাগরণে ২০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেবে। তিনি বলেন, আগামী রোববার বান্নুতে রাজপথে এক কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।
আফ্রিদি বলেন, যিনিই পাকিস্তান ও পিটিআইয়ের পতাকা বহন করবেন, তাঁকেই ইমরান খানের সমর্থক হিসেবে গণ্য করা হবে।
পিটিআইয়ের অব্যাহত প্রতিবাদ এবং কারাবন্দী দলের প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে দেখা করার দাবির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি এল। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট গত মঙ্গলবার পরিবারের সদস্য ও আইনজীবী এবং গতকাল দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।
পরে রাতের বেলায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আফ্রিদি বলেন, তিনজন বিচারকের আদেশ রয়েছে যাতে সপ্তাহে দুবার ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
পিটিআইয়ের এই নেতা বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য আদালতে আবেদন করেছি, কিন্তু আদালত অসহায়। সে ক্ষেত্রে প্রতিবাদ জানানোর সব অধিকার আমাদের রয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, তিনি বৈঠকের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আমাকে জানাবেন। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলো যদি অকার্যকরই হয়ে থাকে, তবে সরকারের উচিত সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া। কারণ, এগুলো জনগণের অর্থ অপচয় করছে। সাধারণ মানুষ কর দেয়, আর সেই টাকা এদের পেছনে খরচ হয়।’
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমনকি মন্ত্রীরাও বলছেন যে ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
ইংল্যান্ডে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত
ইংল্যান্ডের ইস্ট সাসেক্সে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর। দুর্ঘটনার পর সেখানে বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সাউদার্নের ট্রেনটি লুইস রেলওয়ে স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটি লন্ডন ভিক্টোরিয়া থেকে ইস্টবোর্নগামী ছিল।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ জানিয়েছে, ট্রেনটির তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন। ট্রেনে থাকা প্রায় ১৫০ যাত্রীকে পরে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলের ছবিতে উল্টে যাওয়া বগির ওপর যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কয়েকজন যাত্রী দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ভেতরে চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের বর্ণনা দিয়েছেন।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ডমিনিক আইওনু সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরও ১৮ জন অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। আহতদের ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়; কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
যাত্রী র্যাচেল হিথ জানান, দুর্ঘটনার আগে ট্রেনটি প্রচণ্ডভাবে দুলতে শুরু করে। এরপর বিকট শব্দ ও চিৎকার শুরু হয় এবং একটি বগি কাত হয়ে মাটিতে পড়ে যায় বলে তিনি জানান।
দুর্ঘটনার পর ওই এলাকার কয়েকটি রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালায়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
বড় বিপাকে ইউক্রেনের কৃষকরা
রাশিয়া ২০২২ সালে আক্রমণের শুরুতে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় অংশ দখল করে নেয়। এ কারণে নিজের জমির দুই-তৃতীয়াংশ হারিয়েছেন দেশটির কৃষক সেরহি রিবালকো। এবার তিনি পড়েছেন অন্য ধরনের বিপাকে।
ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো দিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ। ফলে সেই ফসল নিয়েই অনিশ্চয়তায় রিবালকোর মতো হাজার হাজার কৃষক।
ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গম, ভুট্টা ও সূর্যমুখী বীজ উৎপাদনকারী দেশ। এসব কৃষিপণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই কৃষ্ণসাগর দিয়ে রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে ইউক্রেনে গম কাটার মৌসুম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
আগামী মাসে শুরু হবে ভুট্টা কাটার মৌসুম। নিজের শস্য সংরক্ষণাগারের পাশে দাঁড়িয়ে ৫৭ বছর বয়সী রিবালকো বলেন, ‘এই শস্য পাঠানোর কোনো জায়গা নেই। কৃষকদের জন্য এটি পুরোপুরি একটি বিপর্যয়।’
ইউক্রেনের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে কৃষিখাত থেকে। ফলে এই অবরোধ যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে একে অপরের অর্থনীতিকে দুর্বল করতে ইউক্রেন কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রুশ জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ও জাহাজে হামলা জোরদার করেছে।
দুই বড় শস্য টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত
ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্কে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শস্য রপ্তানি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই হামলায় কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার সর্বশেষ বড় নৌ ঘাঁটিতেও আঘাত হানা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবার রাতভর চালানো হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৪ জন। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, হামলায় রাশিয়ার চারটি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফ্রিগেট রয়েছে।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চাইলেন জেলেনস্কি
গত বুধবার রাতে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুতের অন্তত ৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে দেওয়া দরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুতের ১০ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে দেওয়া হলে রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে।
বিতর্কিত দ্বীপে পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো জাপানের দাবিকৃত বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইতুরুপ দ্বীপে যান। সেখানে তিনি আঞ্চলিক গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, হাসপাতাল ও স্কুল পরিদর্শন করেন।
পুতিনের সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, ‘পুতিনের এই সফর একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটি দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি করে জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল করে। এরপর থেকেই এগুলো মস্কো ও টোকিওর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে আছে।
খবর রয়টার্স, আলজাজিরা ও বিবিসির
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
গত মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি ছক কষেছিল ইরান-ইসরাইলি গোয়েন্দাদের এমন দাবিকে পুরোপুরি ভুয়া বলে সন্দেহ করছে তুরস্ক।
ইসরাইল দাবি করেছিল, ইরানের একটি গোপন দল আঙ্কারা বিমানবন্দরে ট্রাম্পের বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করছে। এই সতর্কতার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস তড়িঘড়ি করে ট্রাম্পের বিমান ও যাত্রাপথ পরিবর্তন করে এবং তাকে কড়া নিরাপত্তায় সরিয়ে নেয়।
তবে তুরস্কের কর্মকর্তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এটি ছিল ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের একটি সাজানো নাটক। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল-ইরানের সাথে যুদ্ধ থামিয়ে ট্রাম্প যে চুক্তির আলোচনা করছিলেন, তা যেকোনো মূল্যে বানচাল করা।
পাশাপাশি, তুরস্কের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খারাপ করা এবং তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া।
তুরস্ক আরও জানিয়েছে, ন্যাটো সম্মেলনের মতো ওই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তুরস্কে এ ধরনের বড় হামলা চালানোর কোনো বাস্তব সুযোগ বা সাহস ইরানের নেই। আঙ্কারার এক সূত্রের মতে, যে হামলার কোনো অস্তিত্বই ছিল না বা কোনো পরিকল্পনাই ছিল না, মূলত সেই কাল্পনিক হামলার হিরো সাজতেই ইসরাইল এই মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছিল।
সূত্র: মিডলইস্ট আই।