ছবি : সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার কিংবা পারমাণবিক সংঘাতের কারণে ২১০০ সালের মধ্যে বিলুপ্ত হতে পারে মানবজাতি। সম্প্রতি মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটের এক বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের।
আগামী ৭৫ বছরে মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে এমন ১৭টি প্রধান ঝুঁকির তালিকার শীর্ষে রয়েছে এআই ও পারমাণবিক সংঘাত। তালিকায় রয়েছে ধনী দেশগুলোর সহায়তা হ্রাস, জলবায়ু সংকট এবং শৈশবকালীন অপুষ্টির মতো বিষয়গুলোও।
‘দ্য ল্যানসেট কমিশন অন টোয়েন্টিফার্স্ট সেঞ্চুরি গ্লোবাল থ্রেটস টু হেলথ’-এর সঙ্গে যুক্ত থাকা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ঝুঁকিগুলো একটির সঙ্গে অন্যটি সম্পর্কিত। তাই এগুলো একসঙ্গেই মোকাবিলা করতে হবে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি হুমকি মোকাবিলার জন্য ‘বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের পথ’ খোলা রয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের পরিচালক ও কমিশন কো-চেয়ার অধ্যাপক ক্রিস্টোফার মারে বলেন, ‘আজকের বিশ্বনেতাদের গৃহীত সিদ্ধান্তই পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও সার্বিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।’
বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ঝুঁকিগুলোর কারণে অসুস্থতা, পঙ্গুত্ব কিংবা অকালমৃত্যুর হার কোন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, তা মডেলিং করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পরিমাপের এই সূচকটি ‘ডিজঅ্যাবিলিটি-অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ার্স’ (ড্যালি) নামে পরিচিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জৈবাস্ত্রের ব্যবহারসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষতিকর প্রয়োগ এবং পারমাণবিক যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক খাদ্যসংকট আগামী ৭৫ বছরের মধ্যে মানবজাতিকে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।’ এতে আরও বলা হয়, এমন ঘটনার আশঙ্কা কম হলেও এগুলো মানবজাতিকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।
উদাহরণস্বরূপ, বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে বিশাল পরিমাণ ধূলিকণা বা কণা ছড়িয়ে দিয়ে সূর্যালোক আটকে দিতে পারে পারমাণবিক সংঘাত। এর ফলে বিশ্বব্যাপী চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে এআই-সৃষ্ট জৈবাস্ত্রও মানবজাতির জন্য একইরকম ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত ‘দ্য ল্যানসেট’-এর একটি সম্পাদকীয় মন্তব্যেও সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘এই আশঙ্কাগুলো যদি সত্যি হয়, তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা মানবজাতির ওপর এক মহাপ্রলয় নামিয়ে আনবে।’
তালিকাভুক্ত ঝুঁকিগুলোর মধ্যে যেগুলো যৌথভাবে ১০০ কোটিরও বেশি সুস্থ মানুষের জীবনের ক্ষতি করতে পারে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: বায়ুদূষণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হ্রাস), শৈশবকালীন অপুষ্টি, জলবায়ু বিপর্যয়, প্রথাগত যুদ্ধ বা সংঘাত, বৈদেশিক সাহায্য কমে যাওয়া, অতিরিক্ত মদ্যপান, উচ্চ রক্তচাপ, আয়বৈষম্য, নিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা, স্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে পড়া মহামারি, স্থূলতা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, ধূমপান এবং অসুস্থতাজনিত বার্ধক্য।
তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ঝুঁকিটি কত বেশি সুস্থ জীবন কেড়ে নিতে পারে শুধু সেটিই দেখা হয়নি, বরং সেই ঝুঁকি সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে কি না তাও বিবেচনা করা হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) সংক্রামক রোগ মহামারিবিদ্যার অধ্যাপক ও কমিশন সদস্য ইব্রাহিম আবু বকর বলেন, ‘আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ শুরু করিনি যে আপনাদের আমরা ভয় দেখাতে চাই, তাই মানবজাতির সামনে কতশত ঝুঁকি দাঁড়িয়ে আছে তা দেখাচ্ছি। আমরা এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে শুরু করেছি যে, আপনি যদি আন্তর্জাতিক স্তরের বা জাতীয় পর্যায়ের একজন আইনপ্রণেতা হন, তবে এগুলোই সেই সম্ভাব্য হুমকি যার মুখোমুখি আপনি হতে পারেন। আর আপনি যদি এখনই পদক্ষেপ নেন, তবে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানকে চীন ও রাশিয়া কোনো সহায়তা করছে বলে বিশ্বাস করেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানকে সহায়তা করলে চীন ও রাশিয়ার হারানোর ঝুঁকি অনেক বেশি। আর দেশ দুটি এমন কোনো সহায়তা দিলে যুক্তরাষ্ট্র তা দ্রুত জানতে পারবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প লেখেন, তার সমালোচক ও বিরোধীরা দাবি করছেন, চীন ও রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে। তবে তিনি মনে করেন, এমন কিছু ঘটলেও তা খুবই সীমিত পর্যায়ে হতে পারে। তার ভাষায়, ‘আমি বিশ্বাস করি না, তারা আদৌ এমনটা করছে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের হারানোর অনেক কিছু আছে। আর তারা এমন কিছু করলে আমরা তা জানতে পারব, খুব দ্রুতই জানতে পারব।’
গত জুলাইয়েও ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধে তেহরানকে সহায়তা না করতে চীন ও রাশিয়াকে সতর্ক করেছেন তিনি। তখন তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, দেশ দুটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে তাদের জন্য তা খুব খারাপ হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে চলমান যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে হামলা চালায়। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানে এবং লেবাননে ইসরাইলি হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।
এর আগে ইরান যুদ্ধের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘নিরপেক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন ট্রাম্প।
চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়েছে বেইজিং। দেশটির মতে, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের হামলা ইরানের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
অন্যদিকে, মস্কো সতর্ক করে বলেছে, ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গত মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের সময় ট্রাম্প তাকে ইরানকে সহায়তা না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত। সে সময় চীন এ ধরনের সহায়তা দেবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চীন ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করেছে এবং চীনের সহায়তায় ইরান তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে এমন একটি প্রতিবেদনও নাকচ করেছিলেন ট্রাম্প, যেখানে বলা হয়েছিল, জুলাইয়ে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের একটি ঘাঁটিতে হামলার আগে চীনা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ওই ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্র সংগ্রহ করেছিল ইরান। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার কথাও জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। তবে হামলার সাফল্য নিয়ে হুথিদের দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য এখানে নেই।
এদিকে, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানান।
অন্যদিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক হামলাগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। কেন দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আগেভাগে হামলার সতর্কবার্তা দিতে পারেনি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সৌদি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং এর জেরে আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
কারা এই হুথি?
হুথিরা ইয়েমেনের একটি সামরিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আন্দোলন। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব ফেলেছে গোষ্ঠীটি।
১৯৯০-এর দশকে উত্তর ইয়েমেনে জায়েদি শিয়া সম্প্রদায়ের পুনর্জাগরণ আন্দোলন হিসেবে হুথিদের উত্থান ঘটে। একসময় এই সম্প্রদায় ইয়েমেন শাসন করলেও পরবর্তী সময়ে তাদের ঐতিহাসিক আবাসভূমি অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হয়ে যায়।
প্রথম দিকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে একাধিক গেরিলা যুদ্ধে জড়ায় হুথিরা। প্রতিবেশী সুন্নি-অধ্যুষিত সৌদি আরবের সঙ্গেও তাদের সীমান্ত সংঘর্ষ হয়।
২০১১ সালে আব বসন্তের গণবিক্ষোভের মধ্যে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর উত্তর ইয়েমেনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে হুথিরা। উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়াও তারা প্রত্যাখ্যান করে। এ সময় ইরানের সমর্থন নিয়ে গোষ্ঠীটির নেতা আবদুল মালিক আল-হুথি তাদের যোদ্ধাদের একটি বড় সশস্ত্র বাহিনীতে রূপান্তর করেন।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দক্ষিণাঞ্চলের এডেনে সরে যেতে বাধ্য হয়।
হুথিদের নিজেদের সংগঠনের নাম ‘আনসার আল্লাহ’, যার অর্থ ‘আল্লাহর সাহায্যকারী’। তবে প্রতিষ্ঠাতা নেতা হুসেইন বদরুদ্দিন আল-হুথির নাম থেকেই গোষ্ঠীটি ‘হুথি আন্দোলন’ নামে পরিচিতি পায়।
সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাত কেন?
ইয়েমেনে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল সৌদি আরব। এ কারণে ২০১৫ সালের শুরুতে হুথিদের হটিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার পুনর্বহাল এবং রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে।
কিন্তু সেই অভিযান ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ জোটের সদস্যদেশগুলোর বিমান হামলা এবং বিভিন্ন পক্ষের সংঘর্ষে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।
ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে কোনো পক্ষই চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। হুথিরা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, যেখানে দেশটির অধিকাংশ মানুষ বসবাস করেন।
এ সময় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ায় গোষ্ঠীটি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালায় তারা।
দীর্ঘ সংঘাতের পর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে ইয়েমেনের যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে।
লোহিত সাগরে হামলা, বিশ্ববাণিজ্যে চাপ
২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরাইলের গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়ে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা শুরু করে হুথিরা। একই সঙ্গে ইসরাইল লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তারা।
পরবর্তী সময়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে হুথিদের হামলা আবারও বাড়ে। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটালে সৌদি আরবকে লোহিত সাগরের বন্দর এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির মাধ্যমে তেল রপ্তানির ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়।
এতে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ এবং মোখা বন্দর শহর দখল করে। বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং ইরানকে সহায়তা করার লক্ষ্যেই তারা এ পদক্ষেপ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবের আশপাশের নৌপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথে চলাচল ব্যাহত হলে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহণকারী জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে পরিবহণ ব্যয় ও সময় বাড়ে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সৌদি আরবের গুরুত্ব
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। দেশটির জ্বালানি খাত অর্থনীতির প্রধান ভিত্তিগুলোর একটি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বে মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ১১ শতাংশ সৌদি আরব থেকে আসে। দেশটির কাছে বিশ্বের প্রমাণিত তেল মজুতের আনুমানিক ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ রয়েছে। সৌদি আরবের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় অর্ধেক এবং রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে তেল ও গ্যাস খাত থেকে।
ফলে দেশটির তেল স্থাপনা, বন্দর ও পরিবহনব্যবস্থায় বড় ধরনের হামলা হলে তার প্রভাব শুধু সৌদি অর্থনীতিতে নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
কতটা শক্তিশালী হুথিরা?
ইয়েমেনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে হুথিরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন।
২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদনে হুথিদের সশস্ত্র সদস্যসংখ্যা এক লাখ ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ বলে অনুমান করা হয়েছিল। তাদের অস্ত্রভান্ডারে ট্যাংক, সাঁজোয়া ও অন্যান্য সামরিক যান, ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইয়েমেনের বাইরেও দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম। ইসরাইলে পর্যন্ত হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে গোষ্ঠীটি। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনাও তাদের সামরিক সক্ষমতার পরিচয় দেয়।
এ ছাড়া ইয়েমেনের ভৌগোলিক অবস্থান হুথিদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ রয়েছে তাদের।
ইরানের সঙ্গে হুথিদের সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ?
ইরান মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ নামে পরিচিত আঞ্চলিক বলয়ের অংশ হিসেবে হুথিদের সমর্থন করে। এই বলয়ের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের কয়েকটি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী।
তবে হুথিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ধরন হিজবুল্লাহ বা ইরাকের ওই গোষ্ঠীগুলোর সম্পর্কের মতো পুরোপুরি এক নয়। হুথিরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিজেদের চূড়ান্ত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকার করে না। তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান হুথিদের অস্ত্র, অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করে এবং এ কাজে হিজবুল্লাহও ভূমিকা রাখে। তবে হুথিরা নিজেদের ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন গোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করার বিরোধিতা করে। তাদের দাবি, তারা নিজেরাই অস্ত্র তৈরি করে।
হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো কঠিন কেন?
হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও বিস্তীর্ণ মরুভূমি তাদের লুকিয়ে থাকা এবং অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ করে দেয়।
দ্বিতীয়ত, তাদের হাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে তারা। হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হলেও তাদের সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করা সম্ভব হয়নি।
তৃতীয়ত, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে হুথিরা বিভিন্ন গতি ও ধরনের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করে। এতে হামলা শনাক্ত করা এবং সব অস্ত্র প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তাদের উন্নত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্যালেস্টাইন-২’, যা দুই ধাপের কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং এতে হাইপারসনিক সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া ‘তুফান’ ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ইরানের ‘ঘাদর’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তিত নাম বলে ধারণা করা হয়।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনের বরাতে আরও বলা হয়েছে, হুথিদের হাতে ‘বুরকান’ ও ‘বদর’ সিরিজের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে, যেগুলোর উৎস ইরান বলে মনে করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইয়েমেনি গোষ্ঠী হুতিদের হামলার ঘটনায় ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দাগামী ফ্লাইট একের পর এক বাতিল হচ্ছে। গত শনিবার থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ তিন পথে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।
ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা আজ সোমবার বিকালে বলেন, এখন পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে এয়ারলাইন্সগুলো। এর মধ্যে তারা আরও ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করলে তখনই তা জানানো হবে।
ইতোমধ্যে বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর পাঁচ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী বাংলাদেশে আটকা পড়েছেন বলে জানান তিনি।
সরাসরি চলাচলকারী যেসব ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বিমানের চারটি, ইউএস-বাংলার দুটি এবং রিয়াদ এয়ার ও সৌদিয়ার তিনটি করে ফ্লাইট।
এছাড়া ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে আছে ইনডিগোর ১৬টি, সালামএয়ারের ৩টি, ইজিপ্টএয়ারের ১টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি।
গত শনিবার রিয়াদে বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ হয়। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত হন, আহত হন ৩০৮ জন।
নিহত অন্যদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন এবং ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিশরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই রোববার ফের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নিশানা করে হুতিরা। তাতে এক প্রবাসী পাকিস্তানি নিহত হওয়ার পাশাপাশি ১১ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
হুতিরা জানিয়েছে, তারা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে বিমানবন্দরটিকে নিশানা করেছে।
গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বলেন, পূর্ব সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও দাম্মাম বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে।
পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের সব বিমানবন্দরই সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু বলে সতর্ক করেছেন ইয়াহিয়া সারি।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকারের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ওই বছরের ২ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়।
যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে
দিল্লিতে বিক্ষোভ-সমাবেশের নির্ধারিত স্থান হিসেবে আর থাকছে না ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর। এর পরিবর্তে রাজধানীতে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য তিনটি বিকল্প স্থান নির্ধারণ করেছে দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করা হয়। তবে নির্দেশিকাটি প্রকাশ্যে আসে আজ সোমবার। দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের জারি করা নির্দেশনায় যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্ধারিত স্থানগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি ময়দান। এসব স্থানে বিক্ষোভ-সমাবেশ আয়োজনের জন্য কীভাবে অনুমতি নিতে হবে, সে বিষয়ে পরে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে।
২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল জারি করা পুরোনো নির্দেশনায় সংশোধন এনে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
দিল্লির রাজনীতিতে যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ ও আন্দোলনের পরিচিত কেন্দ্র। সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতি ভবন এবং নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কাছাকাছি হওয়ায় এলাকাটি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এ অবস্থায় সেন্ট্রাল দিল্লিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জনসমাগম সামাল দেওয়ার লক্ষ্যেই বিক্ষোভের স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নীতির প্রতিবাদে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা চলছে। আজ সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতা-নেত্রী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অনুমতি চাইতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান।
এ ঘটনার মধ্যেই বিক্ষোভের স্থান পরিবর্তনের নির্দেশিকা সামনে আসে। পরে সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘এবার পুরো দেশই যন্তর মন্তর হবে।’
ছবি : সংগৃহীত
সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার জন্য ব্যষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তি নিয়ে গবেষণার জন্য এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই অর্থনীতিবিদ। তারা হলেন- রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড।
আজ সোমবার রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নোবেল কমিটি বলেছে, দুই অর্থনীতিবিদ সামষ্টিক অর্থনীতির (ম্যাক্রো-ইকোনমি) নতুন কিছু মডেল তৈরি করেছেন। এই মডেলগুলো কার্যকর স্থিতিশীল নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এসব মডেলের ওপর ভিত্তি করে সঠিক সময়ে যথাযথ রাজস্ব ও মুদ্রানীতি গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতির চরম উত্থান-পতন অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।
টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য গত বছর পুরস্কারটি পেয়েছিলেন আমেরিকান-ইসরায়েলি জোয়েল মোকিয়র, ফ্রান্সের ফিলিপ আগিয়োঁ ও কানাডার পিটার হাউইট।
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দফায় হামলা হয়েছে। এতে একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের বিমানবন্দরে দ্বিতীয় হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি বিমানবন্দরে বিমান হামলার খবর প্রকাশ করে হুতিপন্থি গণমাধ্যম। তবে ওই হামলার সঙ্গে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার সরাসরি কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পথ তৈরি করতে সহায়তার প্রস্তাব দেন।
এর আগে শনিবার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। রোববার হুতিদের বিবৃতিতে শনিবারের হামলার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে এর আগে বৃহস্পতিবার একই বিমানবন্দরে পৃথক হামলার দায় স্বীকার করেছিল গোষ্ঠীটি।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবকে ‘যথেষ্ট নয়’ বলে মন্তব্য করেছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুদ্ধের অবসানে তেহরানের দেওয়া সাতটি শর্তের কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের জবাব এখনো ইরানের প্রত্যাশা পূরণ করেনি।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় তৃতীয় একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার নৌমাইনে আঘাত পেয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা