গ্রিনল্যান্ড।
যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করে, তবে যুদ্ধের নিয়ম অনুযায়ী ডেনিশ সেনারা আগে গুলি চালাবে এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদসহ অন্য আলাপ করবে। গত বুধবার ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় পত্রিকা বার্লিংস্কেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কোনো বিদেশি শক্তি যদি গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ বা দখলের চেষ্টা করে, তবে সেনারা সরাসরি কোনো নির্দেশের অপেক্ষা না করেই তৎক্ষণাৎ গুলি চালাতে বা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে। গত বুধবার ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯৫২ সালের একটি নিয়মের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। যেখানে নির্দেশ দেওয়া আছে, আক্রমণকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো আদেশের অপেক্ষা না করেই ‘অবিলম্বে’ পাল্টা আক্রমণ করতে হবে।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য মনে করেন এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এটি দখলের কথা জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে রুশ ও চীনা জাহাজে সয়লাব হয়ে আছে এবং ডেনমার্ক একা এর নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নয়। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং তারা জোর দিয়ে বলেছে, এই দ্বীপ ‘বিক্রির জন্য নয়’।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডরিক নিলসেন ট্রাম্পের এই ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের আলোচনাকে ‘অসম্মানজনক’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ডেনমার্ক স্পষ্ট করে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই বিক্রির জন্য নয়। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ড সরকার এবং বৃহত্তর ন্যাটো জোটও হতবাক হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার মোকাবিলায় ইউরোপীয় মিত্ররা জরুরি আলোচনা শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ সম্ভবত ন্যাটো জোটের সমাপ্তি ঘটাবে। আর্কটিক দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের দখল করে নেওয়ার চেষ্টার বিপরীতে ইউরোপের প্রতিক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত, সেই আলোচনা প্রসঙ্গে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বরো বলেন, ‘আমরা পদক্ষেপ নিতে চাই, তবে তা আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গেই করতে চাই।’
গ্রিনল্যান্ডবাসীকে ‘১ লাখ ডলার ঘুষ’ দেওয়ার চিন্তা
ডেনমার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্ত হতে গ্রিনল্যান্ডের প্রত্যেক বাসিন্দাকে মোটা অঙ্কের টাকা সাধার কথা ভাবছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আর্কটিকের এই ডেনিশ অঞ্চলটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে ডেনমার্কের সৈন্যরা ঊর্ধ্বতন কমান্ডারদের নির্দেশের অপেক্ষা না করেই যুদ্ধে নেমে পড়বে– যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ডেনমার্কের এমন হুঁশিয়ারির পরপরই ট্রাম্প প্রশাসনের এমন ভাবনার খবর পাওয়া গেল। হোয়াইট হাউসের আলাপ-আলোচনা সম্বন্ধে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের প্রলুব্ধ করতে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ ডলার পর্যন্ত ‘ঘুষ দেওয়ার’ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কিশোরের গুলিতে তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছে। এ সময় সেখানে থাকা এক ব্যক্তির গুলিতে ওই কিশোরও প্রাণ হারিয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ওরেগনের বেন্ড শহরের ‘সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে’ এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিশুদের বয়স ৫, ৮ ও ১১ বছর।
গুলিতে সাত বছর বয়সি আরেক শিশু ও ৫৪ বছর বয়সি এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারী ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল কি না কিংবা স্কুলটির সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বেন্ড পুলিশ জানায়, দুপুর একটার কিছু আগে জরুরি সেবা ৯১১ নম্বরে ফোন করে এক ব্যক্তি জানান, স্কুলের বাইরে তার গাড়ি লক্ষ্য করে লম্বা বন্দুক দিয়ে গুলি ছুড়ছে একজন।
এর কয়েক মিনিটের মাথায় স্কুলভবন থেকেও একাধিক কল আসতে থাকে। হামলাকারী বন্ধ দরজার লক লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছিল। স্কুলের ভেতরে এমন পরিস্থিতি দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা হামলাকারীকে ধাওয়া করে স্কুলের ভেতরে ঢোকেন এবং পাল্টা গুলি চালিয়ে তাকে প্রতিহত ও হত্যা করেন।
খবর পাওয়ার তিন মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হামলাকারী কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী স্থানীয় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। তবে তার নাম বা নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
নিহত ও আহতদের নাম কিংবা বন্দুকধারীকে গুলি করা সেই বাসিন্দার পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে।
নির্মম এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে স্থানীয় স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রশাসনিক প্রধান স্টিভেন কুক বলেন, “এমন বিবেকহীন এক ট্র্যাজেডিতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তব্ধ। আমাদের কমিউনিটি যে শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সাড়ে চারশ শিক্ষার্থীর এই স্কুলটিতে বিশেষ নিরাপত্তা দরজা লাগানো হয়েছিল, যা মাত্র একটি সুইচের সাহায্যে ক্লাসরুম ভেতর থেকে লক করে দেওয়া যায়।
মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের পর শুক্রবার বেন্ড শহরের সব বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কে-১২ স্কুল শুটিং ডেটাবেইসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে গুলির ২৩৫টি ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত এমন ঘটনার সংখ্যা অন্তত ১৪০টি।
লন্ডনের রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজবধূ মেহরা আল নাহিয়ানকে
কড়া মাত্রার কোকেন সেবনের পর শিশু সন্তানকে নিয়ে লন্ডনের রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) এক রাজবধূকে। ৩২ বছর বয়সী ওই রাজবধূ হলেন মেহরা আল নাহিয়ান।
‘এ’ শ্রেণিভুক্ত মাদক কোকেন সেবনের পর তিনি পশ্চিম লন্ডনের একটি রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। কাছেই খালি পায়ে খেলা করছিল তার তিন বছরের সন্তান। অল্প দূরে পড়েছিলেন আরেক অচেতন পুরুষ। মেহরা বিয়েসূত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজ পরিবারের সদস্য। এ ঘটনার পর লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে একটি মামলা হয়। গত মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানিতে শিশু অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করেন মেহরা।
আদালতে জানানো হয়, রাজবধূ মেহরাকে গত ১৩ জুন রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পান পথচারীরা।
‘দ্য টাইমসের’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত পৌঁনে দুইটায় পুলিশ পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত স্থানীয় পথচারীরা শিশুটিকে দেখাশোনা করেন। ৩০ মিনিটের মতো অচেতন ছিলেন মেহরা। চেতনা ফিরলে তিনি বলে ওঠেন, ‘এটা তো কোনো কসাইখানা নয়, আপনারা কেন এত চিন্তা করছেন? আপনাদের এত মাথা ব্যথা কিসের?’
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গ্রিলে হেলান দিয়ে মাথা নিচু করে বসে রয়েছেন মেহরা। তিনি ব্রিটেনে প্রতি মাসে ৮ হাজার পাউন্ড সরকারি ভাতা পান।
মামলার এক কৌঁসুলি আদালতে বলেন, শিশুটিকে অভিভাবকহীন অবস্থায় খালি পায়ে রাস্তায় ঘুরতে দেখেন পথচারীরা। এক পর্যায়ে সে দ্রুতগতির যানবাহনের কাছাকাছি চলে যাওয়ায় এবং দুর্ঘটনার ভয়ে পথচারীরা এগিয়ে আসেন।
মেহরা আল নাহিয়ানকে তল্লাশি করে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও অবৈধ মাদক পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনার পর তাকে একটি মাদক নিরাময় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
মেহরার পক্ষের আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কেসি জানান, যেদিন তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় সেদিন তিনি মাদক সেবন করেননি। তবে তার আগে কয়েকদিন কোকেন সেবন করার কারণে অনেক ক্লান্ত ছিলেন।
স্টিফেন যোগ করেন, মেহরা তার ভুলের জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং মাদকাসক্তি কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেদিন যে তিনি এক মারাত্মক ভুল করে ফেলেছেন, তা এখন বুঝতে পারছেন।
মামলার বিচারক জাস্টিস জনসন কেসি পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘পথচারীরা যদি সময়মতো এগিয়ে না আসতেন, তবে শিশুটির গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা তার চেয়ে খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারত। শিশুটি হয়তো হারিয়ে যেত, কোনো অপরিচিত ব্যক্তি তার ক্ষতি করতে পারত অথবা তাকে তুলে নিয়ে যেতে পারত। তাছাড়া দুজনকে এভাবে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে শিশুটি মানসিকভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হতে পারত।’
মেহরা আল নাহিয়ানকে দুই বছরের ‘কমিউনিটি অর্ডার’ (কমিউনিটি সেবা দেওয়ার আদেশ) এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ও আরব নিউজ
ভূমিকম্প
কেন্দ্রস্থল ভিলিউচিনস্কের ১২৩ কিলোমিটার দূরে, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের কামচাতকা উপদ্বীপে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে কম্পনে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কামচাতকার ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গভীরে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।
ছবি : সংগৃহীত
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সরকারের একটি সূত্র জানায়, হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এ সময় সরকারের কয়েকজন সদস্য প্রাসাদের ভেতরে ছিলেন।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ জানান, নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষী ও বেসামরিক কর্মীরা রয়েছেন।
হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি ও সরকারের অন্য সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে সরকার।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া কাসিম সারী দাবি করেছেন, এডেনে সৌদি সামরিক অভিযানের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
সৌদি সামরিক উপস্থিতি রয়েছে-এমন স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে জানান তিনি।
২০১৪ সালে ইয়েমেনের সরকারের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত শুরু হয়। পরের বছর রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুথি বাহিনী। এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে দেশটি কার্যত বিভিন্ন পক্ষের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ায় পারস্পরিক আস্থা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সময় সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলন কক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করে কক্ষ ত্যাগ করেন।
আজারবাইজানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সিআইসিএ-এর এই সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন। এখানে এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি স্কুলের ছাদ ধসের ঘটনায় ২৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।
রেসকিউ ১১২২-এর আঞ্চলিক পরিচালক আরিফ খাত্তাক জানিয়েছেন, স্কুল ভবন ধসে পড়ার পর উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। তার তথ্যমতে, একজন নারী শিক্ষকসহ মোট ২৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এক বার্তায় তিনি বলেন, "ভবনটি ধসে পড়ার পর প্রাথমিকভাবে ১৬টি মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অভিযান চলে এবং শেষ পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে একজন নারী শিক্ষক রয়েছেন।"
তিনি আরও বলেন, "প্রথমে আমাদের জানানো হয়েছিল যে ভবনটি ধসে পড়েছে। কিন্তু এখানে পৌঁছানোর পর আমরা জানতে পারি, এটি তিনতলা একটি ভবন ছিল। এই তিনতলা ভবনটি ছিল অস্থায়ী কাঠামোর... গুরুতর আহত হয়েছেন ৪৫ জন। তাদের প্রদেশের বড় হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।" আরিফ খট্টক জানান, এই উদ্ধার অভিযানে ১০০ জন উদ্ধারকর্মী, ১৮টি অ্যাম্বুলেন্স এবং তিনটি ভারী যান অংশ নেয়।
এদিকে, স্থানীয় লেডি রিডিং হাসপাতালের (এলআরএইচ) মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম এক বিবৃতিতে বলেছেন, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বেশিরভাগ শিশুই মাথায় আঘাত পেয়েছে। অনেক অভিভাবক হাসপাতালে এসে জড়ো হয়েছেন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহায়তা চেয়েছে।
মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের বয়স ছয় থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলআরএইচে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পেশোয়ারের কর্তৃপক্ষ দুপুরের দিকে জানিয়েছে যে স্কুল ভবন ধসে পড়ার পর উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। তবে সেখানে এখনো ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে।
পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলটির মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিলাল আহমেদ ঘটনাস্থল থেকে আরো জানিয়েছেন, স্কুলটি একটি দোতলা ভবনে অবস্থিত। ভবনটিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে তৈরি ছাদের বদলে প্রিফ্যাব্রিকেটেড ছাদ ছিল বলে মনে হচ্ছে। ধ্বংসাবশেষ দেখে ধারণা করা যায়, ওপরের একটি কক্ষের ছাদের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ার পর সেটিই নিচতলায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুদের ওপর গিয়ে পড়ে।
স্কুলটির সামনে মানুষের ভিড়
এদিকে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, "এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে পুরো জাতি স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে।" প্রেসিডেন্ট নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট "আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন"। এছাড়া তিনি ঘটনার কারণ নির্ধারণে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন।
পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকায় এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রাদেশিক গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন।
সরু রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা
ঘটনাস্থলে থাকা এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, স্কুলটি শহরের এমন একটি সরু গলির মধ্যে অবস্থিত, যেখানে একবারে মাত্র একটি গাড়ি চলাচল করতে পারে। এ কারণে উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধারকাজ চালাতে এবং আহতদের হাসপাতালে নিতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সোহাইল বলেন, "আমার বোন আমাকে ফোন করে বলেছিল, 'ভাই, তাড়াতাড়ি আসো'। স্কুলের ছোট ছোট শিশুরা ছাদের নিচে চাপা পড়েছিল। আমি এবং এলাকার লোকজন দ্রুত কোদাল দিয়ে তাদের বের করার চেষ্টা করি।" উদ্ধারকাজ এখনো চলছে এবং স্কুলটি বা সেখারকার কারো সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, এমন ব্যক্তিদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে পেশোয়ারের উদ্ধার কর্মকর্তা বিলাল ফাইজি বলেন, "আজ সকালে ৮টা ৪৮ মিনিটে নিয়ন্ত্রণকক্ষে খবর আসে যে স্কুলটির ছাদ ধসে পড়েছে। আমরা সেখানে পৌঁছে দেখি, ভবনটির একটি ছাদ আরেকটি ছাদের ওপর ধসে পড়েছে। ওই শ্রেণিকক্ষের শিশুরা এর নিচে চাপা পড়ে।"