এশিয়ার অর্থনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ জ্বালানি সংকটের
অর্থনীতির ইতিহাস দেখাচ্ছে, যতবারই তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে, ততবারই বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম কিছুর আশা করা হচ্ছে না।
ইতোমধ্যে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে ও মানুষ খরচ কমাতে শুরু করেছে। কর আদায় কমার শঙ্কায় কিছু দেশের সরকার আরো বেশি ঋণ করছে। যা এরইমধ্যে মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের বড় ভুক্তভোগী হতে যাচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো। এ অঞ্চলে এরইমধ্যে জ্বালানি সংকটের দ্বিতীয় ধাক্কার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মুদ্রার মান কমে গেছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এ অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষের খাদ্য ও জ্বালানির দাম আরো বাড়বে। দীর্ঘস্থায়ী সংকট দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোকে মন্দার দিকেও ঠেলে দিতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিজনেস স্কুল ইনসিড-এর অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক দত্ত পুশান বলছেন, এশিয়া সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত অবস্থায় আছে। কারণ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া বাদে এ অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশই বড় মাপের তেল আমদানিকারক। দেশগুলো শিল্পোন্নত হওয়ায় প্রচুর প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।
যদি জুন মাসের শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সিঙ্গাপুরের নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির (এনটিইউ) সহযোগী অধ্যাপক চেন চিয়েন-মিং এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো। এই প্রণালি প্রায় ৭০ দিন ধরে বন্ধ থাকায় বর্তমানে ঘাটতির পরিমাণ ১০০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি দাঁড়িয়েছে।
তবে আপাতত তেলের বাজার দর তুলনামূলক স্বাভাবিক। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের দামও গত সপ্তাহে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি ছিল।
অধ্যাপক চেন বলছেন, বাজারে গা-ছাড়া ভাব দেখা গেলেও স্পষ্টতই তেলের ঘাটতি আছে। যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হবে- এমন আশায় দামের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বাজার বনাম বাস্তব পরিস্থিতি
জেপি মরগানের বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার আগে বৈশ্বিক তেলের মজুত তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। এই মজুত মূলত একটি ‘শক অ্যাবজরবার’ বা অভিঘাত প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম খুব বেশি বাড়েনি।
অধ্যাপক চেন বলছেন, ‘দামের চাপ এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। আমরা এখনো এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছাইনি যেখান থেকে আর ফেরার পথ নেই।’ তবে সেই চরম সীমাটি দ্রুতই ঘনিয়ে আসছে।
জেপি মরগানের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে মজুত থাকা ৮৪০ কোটি ব্যারেল তেলের মধ্যে মাত্র ৮০ কোটি ব্যারেল প্রকৃতপক্ষে ব্যবহারযোগ্য। এর বাইরে মজুতে হাত দিলে পুরো ব্যবস্থাটি চরম সংকটে পড়বে। এপ্রিলের শেষ নাগাদ বিভিন্ন দেশের সরকার এই যুদ্ধের প্রভাব সামাল দিতে ইতোমধ্যে ২৮ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে।
জেপি মরগানের বৈশ্বিক কমোডিটি রিসার্চ প্রধান নাতাশা কানেভার নেতৃত্বাধীন একটি বিশ্লেষক দল সম্প্রতি তাদের নোটে লিখেছে, স্থলভাগে মজুতের মাত্র একটি অংশ (প্রায় ৫৮ কোটি ব্যারেল) সহজেই ব্যবহার করা যায়। বাকি তেল মূলত পাইপলাইন পূর্ণ রাখতে, ট্যাংকের সর্বনিম্ন স্তর ধরে রাখা এবং অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে কার্যত আটকে আছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণও তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান সংকট সেই সংঘাতের চেয়ে গুণগতভাবে আলাদা। তখন তেলের দাম বেড়েছিল মূলত রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে। বর্তমানের মতো তখন সরবরাহ ঘাটতি ছিল না।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির এশিয়া-প্যাসিফিক রিফাইনিং ও তেল বিষয়ক গবেষণা পরিচালক সুশান্ত গুপ্ত বলছেন, রাশিয়া তখনো বিকল্প উপায়ে বাজারে তেল বিক্রি করেছিল। তাই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে ইরান সংঘাতের তুলনা করা ঠিক হবে না।
একটি ‘ব্যাকওয়ার্ডেটেড’ বাজার
মজুত ব্যাপক হারে কমলেও সুশান্ত গুপ্তের মতে বাজার এখন ‘ব্যাকওয়ার্ডেটেড’ অবস্থায় আছে। এর অর্থ- তেলের বর্তমান দামের চেয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দাম কম।
ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে ‘চাহিদা হ্রাসের’ বিষয়টি মাথায় রেখে দাম নির্ধারণ করেছেন। কারণ, উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তা ও কোম্পানিগুলো তাদের আচরণ পরিবর্তন করতে শুরু করেছে।
এশিয়ার উন্নয়নশীল অনেক দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ফিলিপাইন চারদিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে। থাইল্যান্ডের সরকার কর্মীদের হাফ হাতার শার্ট পরার এবং এসির তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর ওপরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহার কমানো এবং বাড়িতে বসে কাজ করার অনুরোধ করেছেন।
দ্বিতীয় ধাক্কা: খাদ্য সংকট, মুদ্রার পতন ও মন্দা
এশিয়ায় অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকির বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন এনটিইউ-এর অধ্যাপক চেন। তিনি বলছেন, অর্থনীতির ইতিহাস পর্যালোচলা করলে দেখা যায়, তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর প্রতিবারই মন্দা দেখা দিয়েছে। সবকিছুর দাম বেড়ে যায়, মানুষ খরচ কমিয়ে দেয়, সরকারের ট্যাক্স আদায় কমে যায় এবং আরো বেশি ঋণ নিতে হয়। এই ঋণ আবার মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেয়। এটি একটি চক্রের মতো কাজ করে। এবারও ব্যতিক্রম হবে না।
ইনসিড-এর অধ্যাপক পুশানের পূর্বাভাস হলো, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ যেমন- থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের মুদ্রার মানে পতন ঘটতে পারে। তেল আমদানিকারক বড় দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ওই দেশের অর্থনীতির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবেন। নিজেদের অর্থ সরিয়ে নিতে শুরু করবেন।
অধ্যাপক পুশান জানান, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইতোমধ্যে ভারতীয় রুপি, ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া এবং ফিলিপাইনের পেসোর মতো এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর মান রেকর্ড পরিমাণে কমেছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব কৃষিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপরও পড়তে পারে। ডিজেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা চাষাবাদ কমিয়ে দিতে পারেন, যা আশঙ্কাজনকভাবে খাদ্য সংকট তৈরি করবে।
অধ্যাপক চেন সতর্ক করে বলছেন, এশিয়ায় শস্য রোপণের প্রথম মৌসুম আসছে। কিন্তু থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর কৃষকরা চাষাবাদের কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না, লোকসানের শঙ্কায় আছেন। অনাহারের পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই পরিকল্পনা করা উচিত।
ছবি : সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে দেশটির ইস্ট নুসা তেনগারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র বার্টন সুয়ার পেলিতা পাঞ্জাইতান জানান, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের কয়েকটি এলাকায় প্রায় তিন ফুট উচ্চতার সুনামির ঢেউ আঘাত হানে। উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হলে আতঙ্কে বহু মানুষ নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যান। পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা।
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঠিক আগের দিন রাজধানী নয়া দিল্লির হাই কোর্ট, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক স্থানে বোমা হামলার হুমকি এসেছে। ‘খালিস্তান’ নামে পাঠানো হুমকিমূলক এক ইমেইলে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
“ব্লাস্ট দিল্লি হাইকোর্ট @২:১১ পিএম” শিরোনামে পাঠানো ওই ইমেইল বার্তায় হুমকি দেওয়া হয় যে, দিল্লিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী রাষ্ট্র ‘খালিস্তান’-এ পরিণত করা হবে।
বার্তায় বলা হয়, শনিবার দুপুর ২টা ১১ মিনিটে দিল্লি হাইকোর্টে বোমা বিস্ফোরণ ঘটবে এবং এর ঠিক এক ঘণ্টা পর বিভিন্ন জেলা আদালতেও বিস্ফোরণ ঘটানো হবে।
দিল্লির আদালতগুলোতে হওয়া মামলার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলার পরিকল্পনা বলে ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়, “দিল্লির আদালতগুলোতে কেবল শিখদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালিত হয়।”
ইমেইলে আরও দাবি করা হয়, স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘খালিস্তান’-এর সদস্যরা ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে গেছেন।
দিল্লি হাইকোর্ট এবং ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (আইজিআই) বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ ছাড়াও আরও ছয়টি স্থানে এই হুমকি পাঠানো হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে জামনগর হাউজ, ঝাণ্ডেওয়ালান ভবন, সাকেত কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের (ডিএম) কার্যালয় এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের (এসডিএম) কার্যালয়।
এর পাশাপাশি দিল্লি মেট্রো এবং আমবালাগামী ট্রেনগুলোতেও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।
খবর পাওয়ার পরপরই চিহ্নিত স্থানগুলোতে দমকল বাহিনীর গাড়ি পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি।
বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক
ভারতের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছেন বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে হলে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার জরুরি।
স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় লাদাখের এই অধিকারকর্মী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভুল পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা। নেতৃত্ব সঠিক না হলে পুরো দেশই ভুল পথে পরিচালিত হয়। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া নিজ নিজ এলাকার সৎ ও মেধাবী মানুষদের নাম প্রস্তাব করে স্বাধীনতা দিবসের উপহার হিসেবে তা পাঠাতেও অনুরোধ করেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনা টানেন। তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে যে দেশগুলো ভারতের চেয়ে পিছিয়ে বা সমপর্যায়ে ছিল, তারা এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ২০৪৭ সালে ভারত উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না।
আইনপ্রণেতাদের যোগ্যতা ও চরিত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াংচুক বলেন, বর্তমান পার্লামেন্টের প্রায় অর্ধেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ সঠিকভাবে এগোতে পারে না।
কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে এককভাবে দায়ী না করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসা প্রতিটি দলই কম-বেশি একইভাবে দুর্নীতি চালিয়েছে ও প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করেছে। ২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর সরকার পরিবর্তন হলেও এক দশক পর দুর্নীতি আরও তিন গুণ বেড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাও দেশের উন্নয়নকে পিছিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরিস্থিতি উত্তরণে ভারতের শীর্ষ চিন্তাশীল, মেধাবী ও সৎ মানুষদের নিয়ে এক বৃহৎ আলোচনার পরিকল্পনা করছেন ওয়াংচুক। দেশের বিভিন্ন শহর ঘুরে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি একটি নতুন রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এই আন্দোলনকারী।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে তিনি আর আদিয়ালা কারাগারে যাবেন না।
তিনি বলেন, এর মধ্যে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না পেলে ওই দিন ২০ লাখ লোকের সমাবেশ করা হবে।
আফ্রিদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ করে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়ে বলেন, এগুলো অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
আদিয়ালা কারাগারের বাইরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কারাগারের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, তাঁকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা কর্তৃপক্ষের নেই।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২৭ সেপ্টেম্বরের আগে আমি শেষবারের মতো আদিয়ালায় এসেছি। সরকার নিজে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেই কেবল আমি আবার ফিরে আসব।’
উল্লেখ্য গতকাল ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় আফ্রিদির নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আফ্রিদি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বৈঠকের অনুমতি দেওয়া না হলে দলের ‘ডি-চক’ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (গতকাল) রাত ১০টা থেকে দেশজুড়ে সড়ক অবরোধ করবেন পিটিআইয়ের কর্মীরা।
জাতীয় ও পিটিআইয়ের পতাকা হাতে রাজপথে নামার জন্য দলীয় কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে পিটিআইদলীয় প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রতিবাদ এই বার্তা দেবে যে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না।’
পিটিআইয়ের গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মীরা মোড়ে মোড়ে গিয়ে ইমরান খানের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন।
আফ্রিদি অভিযোগ করেন, এমনকি সরকারি মন্ত্রীরাও স্বীকার করছেন, দেশ ও দেশের শাসনব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে গেছে, যা প্রমাণ করে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের জনগণ তাদের সমস্যাগুলোর সমাধান চায় এবং কেবল ইমরান খানই তা নিশ্চিত করতে পারেন। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইসলামাবাদের দিকে পদযাত্রা করবেন।
আফ্রিদি ২৭ সেপ্টেম্বরের ওপর জোর দেওয়ার জন্য পিটিআইয়ের কর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। এই তারিখটি কর্তৃপক্ষের জন্য একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে বলে তিনি বর্ণনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মানুষ দারুণ উৎসাহী এবং বুধবার স্বল্প সময়ের নোটিশে খাইবার জেলায় বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন।
পিটিআইয়ের এই নেতা বলেন, অন্যান্য এলাকায়ও একই ধরনের আন্দোলন শুরু করা হবে। ২৭ সেপ্টেম্বরের এই গণজাগরণে ২০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেবে। তিনি বলেন, আগামী রোববার বান্নুতে রাজপথে এক কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।
আফ্রিদি বলেন, যিনিই পাকিস্তান ও পিটিআইয়ের পতাকা বহন করবেন, তাঁকেই ইমরান খানের সমর্থক হিসেবে গণ্য করা হবে।
পিটিআইয়ের অব্যাহত প্রতিবাদ এবং কারাবন্দী দলের প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে দেখা করার দাবির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি এল। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট গত মঙ্গলবার পরিবারের সদস্য ও আইনজীবী এবং গতকাল দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।
পরে রাতের বেলায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আফ্রিদি বলেন, তিনজন বিচারকের আদেশ রয়েছে যাতে সপ্তাহে দুবার ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
পিটিআইয়ের এই নেতা বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য আদালতে আবেদন করেছি, কিন্তু আদালত অসহায়। সে ক্ষেত্রে প্রতিবাদ জানানোর সব অধিকার আমাদের রয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, তিনি বৈঠকের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আমাকে জানাবেন। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলো যদি অকার্যকরই হয়ে থাকে, তবে সরকারের উচিত সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া। কারণ, এগুলো জনগণের অর্থ অপচয় করছে। সাধারণ মানুষ কর দেয়, আর সেই টাকা এদের পেছনে খরচ হয়।’
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমনকি মন্ত্রীরাও বলছেন যে ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
ইংল্যান্ডে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত
ইংল্যান্ডের ইস্ট সাসেক্সে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর। দুর্ঘটনার পর সেখানে বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সাউদার্নের ট্রেনটি লুইস রেলওয়ে স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটি লন্ডন ভিক্টোরিয়া থেকে ইস্টবোর্নগামী ছিল।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ জানিয়েছে, ট্রেনটির তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন। ট্রেনে থাকা প্রায় ১৫০ যাত্রীকে পরে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলের ছবিতে উল্টে যাওয়া বগির ওপর যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কয়েকজন যাত্রী দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ভেতরে চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের বর্ণনা দিয়েছেন।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ডমিনিক আইওনু সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরও ১৮ জন অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। আহতদের ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়; কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
যাত্রী র্যাচেল হিথ জানান, দুর্ঘটনার আগে ট্রেনটি প্রচণ্ডভাবে দুলতে শুরু করে। এরপর বিকট শব্দ ও চিৎকার শুরু হয় এবং একটি বগি কাত হয়ে মাটিতে পড়ে যায় বলে তিনি জানান।
দুর্ঘটনার পর ওই এলাকার কয়েকটি রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালায়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
বড় বিপাকে ইউক্রেনের কৃষকরা
রাশিয়া ২০২২ সালে আক্রমণের শুরুতে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় অংশ দখল করে নেয়। এ কারণে নিজের জমির দুই-তৃতীয়াংশ হারিয়েছেন দেশটির কৃষক সেরহি রিবালকো। এবার তিনি পড়েছেন অন্য ধরনের বিপাকে।
ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো দিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ। ফলে সেই ফসল নিয়েই অনিশ্চয়তায় রিবালকোর মতো হাজার হাজার কৃষক।
ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গম, ভুট্টা ও সূর্যমুখী বীজ উৎপাদনকারী দেশ। এসব কৃষিপণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই কৃষ্ণসাগর দিয়ে রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে ইউক্রেনে গম কাটার মৌসুম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
আগামী মাসে শুরু হবে ভুট্টা কাটার মৌসুম। নিজের শস্য সংরক্ষণাগারের পাশে দাঁড়িয়ে ৫৭ বছর বয়সী রিবালকো বলেন, ‘এই শস্য পাঠানোর কোনো জায়গা নেই। কৃষকদের জন্য এটি পুরোপুরি একটি বিপর্যয়।’
ইউক্রেনের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে কৃষিখাত থেকে। ফলে এই অবরোধ যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে একে অপরের অর্থনীতিকে দুর্বল করতে ইউক্রেন কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রুশ জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ও জাহাজে হামলা জোরদার করেছে।
দুই বড় শস্য টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত
ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্কে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শস্য রপ্তানি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই হামলায় কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার সর্বশেষ বড় নৌ ঘাঁটিতেও আঘাত হানা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবার রাতভর চালানো হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৪ জন। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, হামলায় রাশিয়ার চারটি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফ্রিগেট রয়েছে।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চাইলেন জেলেনস্কি
গত বুধবার রাতে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুতের অন্তত ৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে দেওয়া দরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুতের ১০ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে দেওয়া হলে রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে।
বিতর্কিত দ্বীপে পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো জাপানের দাবিকৃত বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইতুরুপ দ্বীপে যান। সেখানে তিনি আঞ্চলিক গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, হাসপাতাল ও স্কুল পরিদর্শন করেন।
পুতিনের সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, ‘পুতিনের এই সফর একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটি দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি করে জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল করে। এরপর থেকেই এগুলো মস্কো ও টোকিওর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে আছে।
খবর রয়টার্স, আলজাজিরা ও বিবিসির