জাইমা রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকায় তার নাম ও পদবি উল্লেখ করা হয়েছে।
সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করবেন। এই পদে তার প্রধান দায়িত্ব হবে সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানকে বিভিন্ন আইনি বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া।
সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের লিগ্যাল অফিসার জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগের কর্মকর্তা নন। তিনি মূলত সভাপতির আইনি বিষয়ে ব্যক্তিগত উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণ পরিষদে কোনো প্রস্তাব বা রেজুলেশন কীভাবে উত্থাপন করা হবে, কোনো দেশ ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তুললে সভাপতি কী ধরনের সিদ্ধান্ত দেবেন কিংবা কোনো প্রস্তাবের সংশোধনী গ্রহণযোগ্য কি না-এসব বিষয়ে সভাপতিকে আইনি পরামর্শ দেয়াও এ পদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে সভাপতির সিদ্ধান্ত যেন জাতিসংঘের সনদ, বিধি ও প্রচলিত নজিরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, সে বিষয়ে আইনি সহায়তা দেন লিগ্যাল অফিসার।
কোনো রেজুলেশন বা প্রস্তাব আগের নিয়ম কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, অথবা বাজেটসংক্রান্ত কোনো প্রস্তাবে অন্য কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন কি না-এসব বিষয়ও যাচাই করা হয় এই দপ্তরের মাধ্যমে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমান যেসব দায়িত্ব পালন করবেন, সেসবের আইনি দিক দেখভালে জাইমা রহমান সহযোগিতা করবেন। তাঁর ভাষ্য, সভাপতির আইনি কাজের ক্ষেত্রে লিগ্যাল অফিসার সহায়তা করেন এবং প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে একটি টিমও কাজ করতে পারে।
জাইমা রহমানের দায়িত্বের মধ্যে দাপ্তরিক সমন্বয়ের বিষয়ও রয়েছে। জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনি সংস্থার সঙ্গে সভাপতির কার্যালয়ের সমন্বয় করা এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি বা আইনি বিষয়ে সভাপতির বক্তব্যের খসড়া তৈরিতে সহায়তা করাও তার কাজের অংশ।
যেভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ৪০ সদস্যের একটি দল কাজ করছে। এই দলে বাংলাদেশের ছয়জনসহ ২৯টি দেশের নাগরিক রয়েছেন। তারা সভাপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন দায়িত্ব ও কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত। জাইমা রহমান ছাড়াও সভাপতির কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের কূটনীতিক মো. আব্দুল আলিম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, মফিজুল ইসলাম, জাকির আহমেদ এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, জাতিসংঘে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাধারণ পরিষদের সভাপতি নিজের এখতিয়ার থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকজনকে কার্যালয়ে নিয়োগ দিতে পারেন।
তবে এ ধরনের পদে শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকে। সাধারণত আন্তর্জাতিক আইনে অভিজ্ঞ এবং বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা জাতিসংঘে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা আইনজীবীদের এ ধরনের দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
আইন ও নীতিতে জাইমার অভিজ্ঞতা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানকে ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
জাইমা রহমান কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ‘দ্য অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পল’ থেকে তিনি সনদ পেয়েছেন, যা দেশটিতে ব্যারিস্টারি করার যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়।
ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেট হিসেবেও কাজ করছেন জাইমা রহমান। যুক্তরাজ্যে আবাসন, জনকল্যাণ ও শ্রম আইন বিষয়ে কাজ করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ ও জনসংযোগে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষা আইনেও তিনি বিনামূল্যে আইনি সেবা বা ‘প্রো বোনো’ কাজ করেছেন।
এ ছাড়া সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, ডিজিটাল নিরাপত্তা, বিচার পাওয়ার অধিকার, শিক্ষা ও লিঙ্গসমতা বিষয়ে কাজের আগ্রহও তার প্রোফাইলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা জাইমা রহমানের রয়েছে। তাঁর মতে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির আইনি কার্যক্রমে সহযোগিতা করার মধ্য দিয়ে জাইমা রহমানের আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উপসচিব আশরাফুল আফসার
ক্যাডেট কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার। খেলতে খেলতেই হঠাৎ মাঠে উপুড় হয়ে পড়ে যান তিনি। বন্ধুরা ছুটে এসে বুকে চাপ দিতে থাকেন। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি মাঠে গতকাল শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। রাত সোয়া নয়টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আশরাফুল আফসারকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাঁর ক্যাডেট কলেজের বন্ধু ও ব্যাচমেটরা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।
মাঠের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে ফুটবল খেলার এক পর্যায়ে হঠাৎ উপুড় হয়ে পড়ে যান আফসার। এ সময় তাঁকে ঘিরে ধরেন বন্ধুরা। কেউ কেউ তাঁকে বুকে চাপ দিতে থাকেন। কেউ মুখে বাতাস দেওয়ার চেষ্টা করেন, কেউ পানি দেন। নড়াচড়া না করায় কিছুক্ষণ পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা আফসারের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর ব্যাচমেট ও বন্ধুদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। তাঁকে নিয়ে বন্ধুরা স্মৃতিচারণা করছেন। কেউ কেউ বলছেন, যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি না হওয়ায় হতাশ ছিলেন তিনি।
চিকিৎসক আবদুন নূর তুষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘অনেকবার অনেক জায়গায় বলেছি, বাধ্যতামূলকভাবে সকলকে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) প্রশিক্ষণ দিতে। তামিম ইকবাল বেঁচেছিল এ কারণে। আর সরকারি কর্মকর্তা বাঁচলেন না!’
আশরাফুল আফসারের বয়স ৪৭ বছর। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে জানাজা শেষে আফসারকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
উপসচিব আশরাফুল আফসারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান। মন্ত্রী শোকবার্তায় আশরাফুল আফসারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মন্ত্রী বলেন, মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারের মৃত্যুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ একজন দক্ষ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে হারিয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালনে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ছবি : সংগৃহীত
বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ চুক্তিতে সই করেন।
বিএনপির মিডিয়া সেল তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুকে আজ শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চুক্তিটি ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে শুরু হওয়া পারমাণবিক সহযোগিতা উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানা যায়। চুক্তিটি ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রযুক্তিগত বিনিময়, পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং বেসামরিক জ্বালানি খাতে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কেউ আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপত্র না পেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এক ফেসবুক পোস্টে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তীতে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন/ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
ককটেল বিস্ফোরণ
রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডের মিনা বাজারের সামনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম জানান, আনুমানিক দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডের মিনা বাজারের সামনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলটি মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি থানার সীমানা এলাকায়। ঘটনার বিস্তারিত জানতে পুলিশ কাজ করছে।
একটি সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কয়েকজন সদস্য জড়ো হয়ে এ সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
হামের প্রকোপ মোকাবিলায় দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। আজ শনিবার রাজধানীর কড়াইলের টিএনটি খেলার মাঠে টিকাদান কর্মসূচির সূচনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, এ কর্মসূচির আওতায় বাদ পড়া ২৪ লাখসহ মোট ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
তিনি বলেন, “আমরা নতুনভাবে আজকে ৩৪ লাখ বাচ্চাকে টার্গেট করেছি। এর মধ্যে ১০ লাখ নতুন করে ছয় মাস বয়সে পৌঁছানো শিশু, বাকি ২৪ লাখ আমাদের আগে বাদ পড়া শিশু।
“৩৪ লাখ বাচ্চাকে আমরা এই ক্যাচ-আপ প্রোগ্রামে আওতাভুক্ত করেছি দেশব্যাপী।”
হামে মৃত্যু ঠেকাতে এর আগে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলেও প্রকোপ কমেনি। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৮৩ জনের। নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গেছে ১০১ জনের।
অপরদিকে হাম নিয়ে হাসপাতালে রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ২৪৮ জনে। এর প্রেক্ষিতে সরকার আবার হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
শনিবার ‘দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল থেকে তিন ধাপে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী কর্মসূচি জোরদার করা হয়।
এর আওতায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে একই বয়সসীমায় ২ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে পাওয়া যায়। দুই কর্মসূচির ৪০ লাখের ব্যবধান ঘোচাতে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে ‘মপ-আপ’ কর্মসূচি নেওয়া হয়।
“ঈদুল আজহার পরের দিন থেকে আমরা আরও ১৪ লাখ বাচ্চাকে খুঁজে খুঁজে এনে নতুনভাবে টিকাদান করেছি,” বলেন তিনি।
এরপরও হামের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে আবার কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলেছেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
ক্যাম্পেইনের জন্য ইউনিসেফের কাছ থেকে ৪০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় টিকা উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ১০ লাখ টিকা সংরক্ষিত রাখা হবে এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসব টিকা দেওয়া অব্যাহত থাকবে।
কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার জন্য ছুটির দিনেও এবং সন্ধ্যার পর টিকাদানের ব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা জনগণকে একটু সচেতন করবেন, যাতে নিকটস্থ ক্যাম্পে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচিটা সফল করেন এবং বাচ্চাদেরকে টিকা দেওয়ান।”
ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি গিলিয়ান মেলসপ বলেন, “প্রায় ১ হাজার জীবন হারিয়ে গেছে। প্রতিটি শিশুকে টিকাদানের আওতায় রাখার গুরুত্বের এটি একটি মর্মান্তিক স্মারক।”
হামের টিকাদানের বিশেষ এই কর্মসূচিতে সহায়তা করতে ইউনিসেফের অগ্রিম তহবিলের মাধ্যমে গত ১০ সেপ্টেম্বর ৪৩ লাখ ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেশে এসেছে বলেও জানান সংস্থার প্রতিনিধি মেলসপ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচওর ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাজেশ নরওয়াল বলেন, বাংলাদেশে হাম-রুবেলার সংক্রমণ এখনও চলছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সি এবং টিকা না নেওয়া শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
‘র্যাপিড কনভেনিয়েন্স মনিটরিংয়েও (আরসিএম)’ টিকাদানের ‘কাভারেজে’ অসমতা দেখা গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাদ পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতেই নতুন করে ‘ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন’ শুরু করা হয়েছে।
টিকা নিয়ে ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি রাজেশ।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আ ন ম বজলুর রশিদ দাবি করেন, আগের দুই দফার হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার ১০০ শতাংশের বেশি শিশুর কাছে পৌঁছানো হয়েছে।
তবে টিকা দেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সময় লাগে তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অবস্থায় তৃতীয় পর্যায়ে বিশেষ ‘ক্যাচ-আপ’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
“আমরা আশা করছি, ৩৪ লাখ শিশুর কাছেই আমরা যাব,” বলেন বজলুর রশিদ।
আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা গেলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হবে এবং বাংলাদেশকে হাম ও রুবেলামুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রথম ধাপে ডিএনসিসি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকাদান কর্মসূচি চালিয়েছে। একটি শিশুও যাতে টিকার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘ইনটেনসিফাইড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ নামের এই বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
সেদিন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এপ্রিলে দেশব্যাপী হামের টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি (১০৯ দশমিক ৪ শতাংশ) শিশুকে টিকার আওতায় আনা হলেও প্রকোপ কমেনি। কারণ, এখন যারা হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের প্রায় সবাই টিকাবিহীন।
এদিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ইপিআই ও প্রতিরোধযোগ্য রোগের নজরদারি কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে যাচ্ছে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফসহ একাধিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেতৃত্বে আগামী ৪ থেকে ১৪ অক্টোবর মাঠপর্যায়ে এ নজরদারি কার্যক্রম চলবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত দল আটটি বিভাগের নির্বাচিত জেলা, উপজেলা ও টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) ফোয়ারা তাসনিম।
নিউইয়র্কে ফরেন প্রেস সেন্টারে মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানি মরিসনের সঙ্গে সাংবাদিকেরা। এরপর আরেকটি ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা শেখ হাসিনা ইস্যুতে কথা বলেন
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করে যুক্তরাষ্ট্র। শেখ হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কোনো মতামত নেই। খবর বিডিনিউজের।
গত বুধবার নিউইয়র্কে ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনের এ অবস্থান তুলে ধরেন। ‘অন ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিং এমন একটি বৈঠক, যেখানে সাংবাদিকেরা তথ্য ব্যবহার করতে পারেন। তবে তথ্যের নির্দিষ্ট উৎসের নাম প্রকাশ করা যায় না।
নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শিরোনামে এ ব্রিফিং হয়।
এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকেরা ছিলেন। সেখানে বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোরের প্রতিনিধিও ছিলেন।
২০২৪ সালের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। গত নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবারের ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার কাছে শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। আমরা বুঝতে পারছি যে বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বৈরিতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তাই আমরা আশা করছি, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে। আর হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, তা আমরা এখনো নির্দিষ্ট করে জানাইনি।’
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপরে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। তবে এটা বলতে চাই, বাংলাদেশের সঙ্গে, বিএনপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করার যে কাজ চলছে, আমরা তার পাশে রয়েছি। বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কার্পণ্য নেই। তাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলাটা সমীচীন মনে করছি না।’
এই ব্রিফিংয়ের আগে নিউইয়র্কে ফরেন প্রেস সেন্টারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সম্পর্কিত উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানি মরিসন দক্ষিণ এশিয়ায় বিরাজমান পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আলোকে বক্তব্য দেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।