ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৬ এএম

ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার গঠনের চেষ্টা চালালেও তাকে পাশ কাটিয়ে আইজেনকটকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত এল।


প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় আইজেনকটকে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেবেন প্রেসিডেন্ট।


গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি। নির্বাচনে আইজেনকটের চারদলীয় জোট ৪৮টি এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন।


নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। এদিকে নেতানিয়াহুও সরকার গঠনের জন্য জোটের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।বর্তমানে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোটের পক্ষে রয়েছেন ৪৬ জন। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন পাওয়ায় আইজেনকটের জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার অবস্থানে পৌঁছেছে। যদিও এসব দলকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন তিনি।


ইসরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়াতে পারবেন। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে নীতিগত অবস্থান, মন্ত্রিত্ব বণ্টন ও জোটের শর্ত নিয়ে আলোচনা করতে হবে তাঁকে। পাশাপাশি সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।


তবে আইজেনকট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট নেসেটের অন্য কোনো সদস্যকে একই দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় ওই প্রার্থীও সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। তিনিও ব্যর্থ হলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় একজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। তাঁকে সরকার গঠনের জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হবে।


তৃতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে নেসেট ভেঙে দেওয়া হবে এবং দেশটিতে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী, এ নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে আয়োজন করতে হবে। এর আগপর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ পরিচালনা করবে। সে ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।ইসরায়েলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন লিকুদ পার্টির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রায় ১৯ বছর দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত তিন দশকে একাধিক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও ক্ষমতার কেন্দ্রে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন এই নেতা। এবারের নির্বাচনের পর সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকটের হাতে যাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।




  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১০ পিএম

জাপানের মধ্যাঞ্চলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগাত রাতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে বিভিন্ন দোকানের জানালার কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, বিঘ্ন ঘটে ট্রেন চলাচলেও। এরপর রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে প্রথমটির তুলনায় কম মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটিতে।


জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৪ মিনিটে পশ্চিম শিজুওকা প্রিফেকচারে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তবে এর ফলে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আইচি প্রিফেকচারের এক জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে বেশির ভাগই সামান্য আহত হওয়ার ১৬টি খবর পেয়েছেন তারা।প্রতিবেশী শিজুওকা প্রিফেকচারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত তিন নারী জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে স্থানীয় পত্রিকা চুনাইচি শিমবুন ও তোকাই টেলিভিশন পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুই অঞ্চলে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। আইচি অঞ্চলের তোয়োহাসি শহরে একটি গাড়ির শোরুমের জানালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে।


ভূমিকম্পের কারণে রোববার সকালে আঞ্চলিক ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিলম্ব ও স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। এর মধ্যে শিনকানসেন বুলেট ট্রেনও ছিল। ভূমিকম্পের কম্পন পশ্চিমে ওসাকা পর্যন্ত অনুভূত হয়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে দ্বিতীয় তলার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পড়ে যাওয়ার পর সেখানে বসবাসকারী এক বিদেশিকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। 

পরে আরেক ভূমিকম্প

রোববার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে কুমামোতো অঞ্চলে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। দ্বিতীয় ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এখনো গত জুলাইয়ের ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ওই ভূমিকম্পে ৩৮ জন নিহত হন, বহু বাড়িঘর ধসে পড়ে এবং কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন।


জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটিতে প্রতিবছর শত শত ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২০১১ সালে সমুদ্রতলে ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সুনামি আঘাত হানে জাপানে। এতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৯ এএম

ইয়েমেনের রাজধানী সানার উপকণ্ঠে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৯ জন।হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলাসবাহি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।


শনিবার (৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আলাসবাহি জানান, সানার পূর্বাঞ্চলে বানি হাশিশ জেলার আল শারিয়াহ গ্রামে কয়েক দফা বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।


তার দাবি, হামলায় গ্রামের একাধিক বাড়িঘর ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্সকর্মী এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সদস্যরাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।আলাসবাহি আরও জানান, হামলার পর উদ্ধার তৎপরতা ও হতাহতের তথ্য হালনাগাদ করা হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়ায়। আহত অবস্থায় অন্তত ৩৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এ হামলার বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ এএম

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপসহ কয়েকটি এলাকায় এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 


ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। 


রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক তৎপরতার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এসব এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।


আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে শোনা বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো সম্পর্ক নেই।এদিকে রোববার ভোরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। জাহাজ দুটি ‘অনুমোদনহীন পথে’ চলাচলের চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।


তবে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় শোনা বিস্ফোরণের সঙ্গে তেলবাহী জাহাজ দুটির ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


কয়েক দিন আগেই দ্বীপটিতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই হামলা ছিল সীমিত পরিসরের। এর মাধ্যমে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।



বিএমডব্লিউর পাশে সামসুদ্দিন মিদ্যার ও তার ছেলে তালহা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৮ পিএম

সৌদি আরব কিংবা কুয়েতের ঘটনা নয়। ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি এলাকার এক ব্যবসায়ী সামসুদ্দিন মিদ্যার।


ষান্মাসিক পরীক্ষায় ৯৭ শতাংশ নম্বর পাওয়ার পুরস্কার হিসেবে নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে কিনে দিয়েছেন ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের একটি বিএমডব্লিউ এমফোর কমপিটিশন গাড়ি। সামসুদ্দিনের ছেলে মহম্মদ তালহা বর্ধমানের রেনেসাঁ উপনগরীর একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 


স্কুলে পড়াশোনায় বরাবরই ভালো তালহা। সম্প্রতি ষান্মাসিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, সে পেয়েছে ৯৭ শতাংশ নম্বর। এই সাফল্যে খুশি হয়ে ছেলের বহু দিনের স্বপ্ন পূরণের সিদ্ধান্ত নেন সামসুদ্দিন।


গলসিতে শামসুদ্দিনের চারটি রাইস মিল আছে। চীন ও ভিয়েতনামে চাল রপ্তানি করেন। অঢেল টাকা-পয়সা। বিএমডব্লিউ তার কাছে বড় কোনো ব্যাপার নয়। গাড়িই তার সবচেয়ে শখের জিনিস। নিজের গ্যারাজে রেঞ্জ রোভার, ভলভো,মাহিন্দ্র থার, হুন্দাই আলকাজার— কী নেই!


ছেলের ভালো রেজাল্টের খবর পাওয়া মাত্র সোজা মুম্বাই চলে যান। অন্ধেরির নামি শো-রুম থেকে গাড়ি কিনে তুলে দেন ছেলের হাতে। সেখান থেকে ট্রাকে চাপিয়ে নতুন গাড়ি নিয়ে আসেন পূর্ব বর্ধমানে।


গাাড়ির রঙ কচি কলাপাতার মতো। একেবারে চকচকে। শুক্রবার স্পেশাল কন্টেনারে সেই গাড়ি এসে পৌঁছে বর্ধমানের গলসিতে।


তবে শুধু গাড়ি নয়। নম্বর প্লেটের জন্যও দেদার টাকা খরচ করেছেন তিনি। তার একাধিক গাড়ির নম্বরের শেষ তিনটি সংখ্যা ‘৫৫৫’। 


বলিউডের বাদশা শাহরুখ খানের মতো। তিনি অভিনেতা নন ঠিকই, তবে টাকার দৌড়ে খুব একটা পিছিয়েও নেই। শামসুদ্দিন বলেন, ‘ছেলে অনেক আগেই আমাকে বলেছিল, আব্বা একটা বিএমডব্লিউ চাই। তাই কিনে দিলাম।’


তিনি বলেন, ‘ছেলে সবে ১৫ বছরে পা রেখেছে। লাইসেন্স নেই। তাই গাড়ি চালানোর প্রশ্নও ওঠে না।’


কোটি টাকার গাড়ি উপহার পেলেও তালহা এখনই গাড়ি চালানোর পক্ষে নয়, কারণ সে এখনও অপ্রাপ্তবয়স্ক, ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। সে জানিয়েছে, আপাতত পড়াশোনাতেই মন দেবে। সপ্তাহে একদিন বাবার পাশে বসে গাড়ির রাইড উপভোগ করবে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫১ পিএম

সৌদি আরবে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ সাত বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। জেদ্দা থেকে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাতজন বাংলাদেশের একাধিক পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। শনিবার ভোরে মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে বাংলাদেশিদের বহনকারী একটি বাসকে পেছন থেকে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।


এতে ঘটনাস্থলেই নারী, শিশুসহ সাতজন প্রাণ হারান। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতদের সবাই আল আবির কোল্ড স্টোরস ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে কর্মসূত্রে সম্পৃক্ত পরিবারের সদস্য।


প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং ম্যানেজার নুরুজ্জামানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। 


এ ছাড়াও ফর্কলিফট চালক ইলিয়াসের স্ত্রী ও মক্কায় কর্মরত স্টোরকিপার আলমশাহ ও তার এক মাস বয়সী কন্যা সন্তানও রয়েছেন। তাদের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান, কারণ ও নিহতদের গ্রামের বাড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পদত্যাগের কথা ভাবছেন। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করতে ইরান যুদ্ধসহ প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছেন তিনি। সব মিলিয়ে চার থেকে পাঁচজন মন্ত্রী পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে আলোচনা চলছে। দ্য ইনডিপেনডেন্টকে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি সূত্র। 


৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সবশেষ যে হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তাতে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছেন ২৫৩টি। আর রিপাবলিকানরা পেয়েছেন ১৬০টি। উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা পেয়েছেন যথাক্রমে ৫৪ ও ৪৪ আসন।


রুবিওর পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনার আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার একটি গুঞ্জন উঠেছিল। কারণ, ইরান যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। এ যুদ্ধই যে রিপাবলিকানদের থেকে ভোটারদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অন্যতম কারণ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, এমনকি তা ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন। যদিও হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস।


রুবিওর পদত্যাগের বিষয়ে সূত্র বলেছে, ২০২৮ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হওয়ার দৌড়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এমন পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধ থেকে দূরত্ব রাখা এবং এর দায় ট্রাম্পের ওপর চাপানো রুবিওর জন্য এখন খুবই দরকার। সেদিক দিয়ে তাঁর পদত্যাগ পুরোপুরি যৌক্তিক।


‘কেউই সরকারে থাকতে চান না’


সূত্রগুলো বলছে, শুধু রুবিওই নন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির এই হতাশাজনক ফলের পর ট্রাম্পের বর্তমান মন্ত্রিসভার মোট চার-পাঁচজন সদস্য পদত্যাগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ট্রাম্পের এই শীর্ষ কূটনীতিক পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন কি না, এমন তথ্য জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইনজেল বেশ আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন। তিনি ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনকে নিয়ে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন দ্য ইনডিপেনডেন্ট–এর বিরুদ্ধে।


তবে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ পুরোপুরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে সূত্র। সূত্রের ভাষ্য, মানচিত্রে ইরান কোথায়, মার্কিনরা তা–ও বলতে পারে না। তাঁরা এই যুদ্ধটাও বোঝেন না। জ্বালানি তেলের দাম মানুষকে সত্যিই খুব খেপিয়ে তুলেছে। সূত্রের মতে, ‘ডেমোক্র্যাটরা একবার হাউস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিলে আমরা শুধুই অভিশংসনের উদ্যোগই দেখতে পাব। এ অবস্থায় আর কেউই সরকারে থাকতে চান না।’


যুক্তরাজ্য সরকারের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র বলেছে, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের পর মার্কো রুবিও কী করেন, তা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। তিনি যে পদে বহাল থাকবেন, তা অসম্ভব মনে হচ্ছে।’ অন্য এক রিপাবলিকান সূত্র বলেছে, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই হারের পর রুবিও আর থাকছেন না। তাঁদের মধ্যে প্রায় চার বা পাঁচজন ইস্তফা দিয়ে সরে পড়বেন।’