ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:০৭ এএম

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি মসজিদে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। আহত আরও ১৬৯ জন।


২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ তারকা ম্যারিয়ট হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর গতকালের ঘটনাকে পাকিস্তানের রাজধানীতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। ওই হামলায় ৬০ জন নিহত হয়েছিলেন। হামলায় হোটেলটির একাংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।


নগরের কর্মকর্তারা জানান, ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে তারলাই এলাকায় ইমাম বারগাহ কাসর-ই-খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে গতকাল এ হামলা হয়। মসজিদটি শিয়া সম্প্রদায়ের। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গতকাল জুমার নামাজের সময় হামলার এ ঘটনা ঘটে। 


একটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানায়, হামলাকারী যখন মসজিদের ফটকে পৌঁছান, তখন তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। তবে এর পরপরই তিনি বোমার বিস্ফোরণ ঘটান।


বিশ্বব্যাপী জঙ্গিগোষ্ঠীর অনলাইন তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, আইএসের একজন যোদ্ধা মুসল্লিদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবোঝাই জ্যাকেটের (ভেস্ট) বিস্ফোরণ ঘটান। এ ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হন। ঘটনাটি নিজেরা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে আইএস।


মসজিদটিতে জুমার নামাজ আদায় করতে আসা মোহাম্মদ কাজিম (৫২) বলেন, তখন সবে নামাজ শুরু হয়েছে, এমন সময় খুবই শক্তিশালী একটি বিস্ফোরণ ঘটে।


আরেকজন মুসল্লি ইমরান মাহমুদ এএফপিকে বলেন, ওই সময় মসজিদে হামলাকারী ও তাঁর সম্ভাব্য সহযোগীর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তাকর্মীদের গোলাগুলি হয়। 


তিনি বলেন, আত্মঘাতী হামলাকারী মসজিদের ভেতর এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তখন আহত কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক পেছন থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। হামলাকারীর ঊরুতে গুলি লাগে।


এ হামলার পেছনে যাঁরাই জড়িত থাকুন, খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।


২৪ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার পাকিস্তানে সুন্নি মুসলিমদের অনুসারী বেশি। সেখানে শিয়া সম্প্রদায় সংখ্যালঘু। এর আগেও তারা বিভিন্ন সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে কট্টরপন্থী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।




সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ পিএম

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কয়েক দিন আগে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


এই নির্দেশনায় হামলা চালানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচির উল্লেখ ছিল না এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। 


তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এবং সম্ভবত ইসরায়েলি নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগেই এ হামলা চালানো হতে পারে।


আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তা মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে।


পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাজ হলো প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক বিকল্প তৈরি ও তা উপস্থাপন করা।


হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কাছে সব ধরনের পথ খোলা রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে তিনি সেগুলোর প্রয়োগ করতে পারেন।


ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরানের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে, এখন দুটি উপায়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে- সহজ পথ অথবা কঠিন পথ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব কার্ড রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো, সেটাই করবেন।


সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে কয়েক ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেছে।


একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, বৈঠকের একটি অংশে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাব্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।


বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এতে ‘দীর্ঘমেয়াদি’ পররাষ্ট্রনীতি পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানি জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওই প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।


দ্বিতীয় একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুব বেশি নেই, তবে আমরা তা উড়িয়ে দিচ্ছি না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’


পর্দার আড়ালে কী হচ্ছে


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। টানা কয়েক সপ্তাহ কথা না হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যে তাঁদের এটি দ্বিতীয় ফোনালাপ।


এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ‘৭ অক্টোবরের গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা’ নিয়ে কথা বলেছেন।


প্রথম ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহু ইরান ইস্যুতে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করার পরেই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনে আলাপ হয়।


যুদ্ধবাজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত সোমবার মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।


ইরানে যদি আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে করবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এতে অংশ নেবে।


দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে চরম হতাশ ও আতঙ্কে রয়েছে, যার ফলে তারা আগে হামলা চালিয়ে বসতে পারে।


ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, ইরানিরা ইতিমধ্যে দুটি আকস্মিক হামলার শিকার হয়েছে। তারা তৃতীয় কোনো আকস্মিক হামলার মুখোমুখি হতে চায় না।


যুদ্ধ আবার শুরু হলে তা ইসরায়েলি নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, প্রতিশোধ হিসেবে ইরান দেশটিতে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। নতুন করে এই উত্তেজনা বৃদ্ধি কিংবা কেবল টান টান উত্তেজনা বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়াটাও রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুকে সুবিধা দিতে পারে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে তাঁকে ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ কমে যেতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ পিএম

ইসরায়েল বলেছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট থেকে অধিকাংশ কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে যুক্তরাজ্য বলেছে, ভবনটি ‘বন্ধ করা হবে না’ এবং এটি ‘যুক্তরাজ্যের মিশন’ হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।


ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা চাইনি, পরিস্থিতি এ পর্যায়ে গড়াক।’


গিডিয়ন সার আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের ২০ জন কূটনীতিক ও কনসাল জেনারেল ইসরায়েল ছাড়বেন। তবে সাত সদস্যের একটি টাস্কফোর্স ভবনটিতে থেকে যেতে পারে। তাদের কার্যক্রমের পরিধি হবে ‘খুবই সীমিত’।


এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, নিরাপত্তার কারণে কিছু কর্মীকে ‘সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে’। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘মিশনটি ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে কাজ করে যাবে।’


গত মাসে ইসরায়েল বলেছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তারা ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি বন্ধ করে দেবে।


সে সময় ইসরায়েল সরকার বলেছিল, যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে তারা কনস্যুলেটটি বন্ধ করে দেবে।


আজ বৃহস্পতিবার ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাজ্য সরকার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসরায়েলকে ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি বন্ধ না করার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়েছিল। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের এসব বসতি অবৈধ।


১৮৩৮ সালে জেরুজালেমে প্রথম ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কনস্যুলেট থেকে পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক দেখভাল করা হতো।


তেল আবিবে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের দূতাবাস থেকে এটি আলাদা। তেল আবিবের ওই দূতাবাসই ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রধান কূটনৈতিক কেন্দ্র।


ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেওয়া যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার জবাবে দেশটি যেসব পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন করা হয়েছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গিডিয়ন সার লেখেন, ‘জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট আজ থেকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করছে। সে অনুযায়ী, জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেটের সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’


যদিও আজ সকালেও কনস্যুলেটের বাইরে ব্রিটিশ পতাকা দেখা গেছে। এমন কি, কয়েকজন কর্মীকে ভেতরে ঢুকতেও দেখা গেছে।


সার বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কনসাল জেনারেল ও ২০ জন কূটনীতিক তাঁদের দায়িত্ব শেষ করে ইসরায়েল ছাড়বেন।


তবে সার স্বীকার করেন, ভবনটি ব্রিটিশ সরকারের সম্পত্তি। তিনি বলেন, ‘ভবনটিতে খুবই সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাত্র সাতজন কূটনীতিকের একটি টাস্কফোর্সকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল।’

সর্বশেষ সব খবর

ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়ার যোগ্য

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১২ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। তবে এ বছর পুরস্কারটি পাবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।


আগামীকাল শুক্রবার চলতি বছরের শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে নোবেল কমিটি। 


পুরস্কারটি পাবেন কি না- এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না তাদের সিদ্ধান্ত কী হবে। আমার মতো মানুষদের পুরস্কার না দেওয়ার একটা সুনাম তাদের আছে।’


গত বছর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার তাঁর পাওয়া উচিত। বুধবার ওভাল অফিসে বলেন, ‘এখনই সময়।’ এ সময় গতবারের পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থেকে পরোক্ষভাবে সম্মান পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।


ভেনেজুয়েলার নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত জানুয়ারিতে তাঁর শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে দেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার কথা বলে তিনি এ পদক ট্রাম্পকে দেন।


ট্রাম্পের দাবি কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাঁকে শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন। তবে এসব মনোনয়নের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। ট্রাম্প যেসব সংঘাত সমাধানের দাবি করছেন, সেগুলোর কয়েকটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাঁর কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে। এসব অঞ্চলের কয়েকটিতে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আছে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত।


এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো শেষ করতে পারেননি ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই যুদ্ধটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সাত মাস ধরে চলা সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।


এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক।

সর্বশেষ সব খবর

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৫২ পিএম

সাহসী ও উদ্ভাবনী সাতিহ্যকর্মের জন্য এ বছর নোবেলে পেয়েছেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন। ‘ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ সৃষ্টি করা সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য’ তাঁকে পুরস্কারটি নেওয়ার কথা জানিয়েছে নোবেল কর্তৃপক্ষ।


বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরস্কার ঘোষণা করে দ্য সুইডিশ একাডেমি। 


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরো কর্মজীবনে অ্যান কারসন কবিতা লেখার পাশাপাশি অনুবাদ করেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। 


১৯০১ সালের পর থেকে ১১৮ বার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। অ্যান কারসনসহ এ পর্যন্ত ১৯ জন নারী সাহিত্যে নোবেল পেলেন।


২০২৫ সালে যিনি পেয়েছিলেন


গত বছর সাহিত্যে নোবেল পান হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। অ্যাপোক্যালিপ্টিক আতঙ্কের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে এমন এক গভীর ও দুরদৃষ্টিসম্পন্ন সাহিত্যকর্মের জন্য তাঁকে পুরস্কারটি দেওয়া হয়।


ক্রাসনাহোরকাই এর জার্মান ভাষার উপন্যাস ‘হার্শট ০৭৭৬৯’ সম্পর্কে নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, এটি জার্মান সমাজের অস্থিরতাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এতে জার্মানির একটি ছোট্ট শহরে সামাজিক অস্থিরতা, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের কারণে বিপর্যস্ত জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। 


কবে কোন পুরস্কার


আগামীকাল শুক্রবার শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।


পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।


মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর

পাকিস্তানে বিদ্যুতের ঘাটতি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:১১ পিএম

পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে বিদ্যুতের ঘাটতি ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম। খবর এএনআইয়ের।


পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহও কমেছে।


দেশটির বড় শহরগুলোর মধ্যে লাহোরে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। লাহোর ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (এলইএসসিও) এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ রয়েছে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট।


এলইএসসিও সূত্র বলছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে লাহোরের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের পর পরের এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি দোকানপাট, কারখানা ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সমস্যায় পড়ছে।


বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতিও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। একই সঙ্গে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় বিকল্প উৎস থেকেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।


বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত বাড়ানো না গেলে আগামী দিনগুলোতে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার পাশাপাশি দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


সূত্র: এএনআই

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৭ পিএম

জাপানের পূর্বাঞ্চলে বৃহস্পতিবার (8 অক্টোবর) ভোরে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে চিবা ও ইবারাকি প্রিফেকচারের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। তবে কোনো ভূমিকম্পের পরই সুনামির আশঙ্কা তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। খবর আনাদোলু এজেন্সির। 


জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) বরাত দিয়ে কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ১৩ মিনিটে (বুধবার ১৯টা ১৩ মিনিট জিএমটি) উত্তর-পূর্ব চিবা প্রিফেকচারে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮।


ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। জাপানের সাত মাত্রার ভূমিকম্প-তীব্রতা স্কেলে আসাহি শহরে এর তীব্রতা ছিল ৪। পাশের ইবারাকি প্রিফেকচারসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়।


এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর ইবারাকি প্রিফেকচারে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জেএমএ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে (বুধবার ২২টা ১৪ মিনিট জিএমটি) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ০। হিতাচিওমিয়া শহরে এর তীব্রতা রেকর্ড করা হয় ৩।


দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে।


জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দুটি ভূমিকম্পের কোনোটিই সুনামির সৃষ্টি করেনি।


সাম্প্রতিক সময়ে জাপানে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত ১ অক্টোবর উত্তর-পূর্ব চিবা এলাকায় ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্ব জাপানে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।


এ ছাড়া গত ২৩ আগস্ট ওই অঞ্চলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে টোকিওতে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।

সর্বশেষ সব খবর