পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গরু কেনাবেচার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, তা যে বিজেপিকে খানিকটা চিন্তায় ফেলে দিয়েছে, এটা স্বীকার করছেন বিজেপির মুসলিম কর্মকর্তারা। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের অন্যতম সহসভাপতি ইউনুস আলী।
তিনি চাষবাসের পাশাপাশি জমি কেনাবেচার কাজও করেন। ইউনুস আলী ২০১৪ সালে ফরওয়ার্ড ব্লক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। বর্তমানে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার একজন প্রভাবশালী সংখ্যালঘু নেতা।
গতকাল মঙ্গলবার ইউনুস আলী বলেন, গরু কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার নানা কারণ রয়েছে।
তবে বিষয়টি বিজেপিকে কিছুটা সমস্যায় ফেলেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দল পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই পরিস্থিতি সামলে নেবে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে হাতিয়ার করে মাঠে নেমেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসদলীয় সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র বলেছেন, গরু কেনাবেচার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সরকার।
৯ মে শপথ নেওয়ার চার দিন পরে (১৩ মে) বিজেপি একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, সরকারি কয়েকটি দপ্তর থেকে গবাদিপশুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার সনদ ছাড়া তা কেনাবেচা করা যাবে না। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে এই নির্দেশিকার কারণে পশ্চিমবঙ্গে বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে গরু কেনাবেচা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গরুপালকেরা, যাঁদের বড় অংশই হিন্দু কৃষক।
হিন্দুরা পড়েছেন বিপদে
বাংলায় যাকে বলে শাঁখের করাত, অর্থাৎ যে করাতের দুই দিক ধারালো এবং যা টানলে বা ঠেললে দুদিকেই কাটে। গরু নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করে সেই রকম অবস্থার মধ্যেই বিজেপি গিয়ে পড়েছে বলে মনে করছে দলেরই একাংশ।
বিজেপি নেতা ইউনুস আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিষয়টা কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি করেছে। তবে আশা করছি, ঈদুল আজহার আগেই দল এটা সামলে নেবে।’
১৩ মের নির্দেশিকা ঠিক কী ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে, তা ব্যাখ্যা করে ইউনুস আলী পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতির একটা চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমরা গরু জবাই করেন এবং খান। কিন্তু গরুর ব্যবসাটা করেন হিন্দুরা এবং মূলত গোপালক ঘোষেরা। তাঁরা গরুকে লালন-পালন করেন, বড় করেন। তারপর এর দুধ বিক্রি করেন, যা থেকে রকমারি সন্দেশ, দই, ঘি ইত্যাদি হয়।
এই বিজেপি নেতা আরও বলেন, একটা পর্যায়ের পরে গরুর স্বাস্থ্যগত কারণে এবং নিজেদের অর্থের প্রয়োজনের ভিত্তিতে হিন্দুরা গরুটাকে বিক্রি করে দেন। স্বাভাবিকভাবেই গরু কেনেন মুসলিমরা। কিন্তু সাধারণভাবে তাঁরা গরু পালন করেন না। এইটা বুঝতে একটু ভুল হয়ে গেছে, যে কারণে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
ইউনুস আলীর বক্তব্য, এ ঘটনার জেরে হিন্দুরা যদি গরু পালন বন্ধ করে দেন, তবে পশ্চিমবঙ্গে দুধ, ছানা, মিষ্টির মতো দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার বিরাট ধাক্কা খাবে। এতে শিল্পে অনুন্নত পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর বিরাট চাপ পড়বে।
বিজেপিকে আক্রমণ মহুয়া মৈত্রর
এ কথাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল বলেছেন তৃণমূলের এমপি মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই তারা গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর সাংঘাতিক এক আঘাত করেছে। গ্রামগঞ্জে যেখানে যত পশুর হাট আছে, সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যবসা প্রায় বন্ধের মুখে।
মহুয়া লিখেছেন, ‘বিজেপি সরকার একটি সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে এ কাজ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে শুধু একটি সম্প্রদায় নয়...গরিব মানুষ...জাতিধর্ম-নির্বিশেষে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। ঘোষ, দাস যেমন এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তেমনই মুসলিম সম্প্রদায়ও যুক্ত। ফলে আপনারা (বিজেপি) একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আঘাত করতে চাইলেও চোট সব গরিব মানুষের গায়েই লাগবে।’
এরপর পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তর উদ্ধৃত করে মহুয়া মৈত্র দেখান, ভারত থেকে গরুর মাংস রপ্তানি উত্তরোত্তর বাড়ছে। ২০২৪-২৫ সালে মাংস রপ্তানি করে ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদেশি মুদ্রা আয় করেছে ভারত। পাশাপাশি মহিষের মাংস বিক্রির বড় করপোরেট সংস্থা অ্যালানা গ্রুপ বিজেপির তহবিলে ৩০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে।
এ বিষয় উল্লেখ করে মহুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘তাহলে গরুর মাংস বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা বা করপোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ কোটি টাকা অনুদান বিজেপি নিতে পারে। তাতে কোনো অন্যায় নেই। কিন্তু গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে এই ব্যবসা বন্ধ করে আপনারা কী প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন?’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরু-বিতর্ক ক্রমেই জোরদার হয়ে উঠছে। হাজার হাজার হিন্দু গোপালককে দেখা যাচ্ছে ক্যামেরার সামনে এসে বা সাংবাদিকের মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে তাঁদের দুর্দশার কথা তুলে ধরতে।
বিশেষ করে বাড়ির নারীরা বলছেন, বছরের এই সময়ে গরু বিক্রি করে তাঁরা বেশ কয়েক লাখ টাকা রোজগার করেন, যা দিয়ে তাঁরা সাধারণত তাঁদের কৃষিঋণ ও মাইক্রোক্রেডিট সংস্থা থেকে নেওয়া ধার মেটান। তাঁদের অনেকেই ক্যামেরার সামনে বলেছেন, বিধিনিষেধ শিথিল করা না হলে আত্মহত্যা করা ছাড়া তাঁদের সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
সমাধান বের করার আশা
বিজেপি নেতা ইউনুস আলী অবশ্য বলেন, বিষয়টি দল খতিয়ে দেখছে।
বিজেপির এই নেতা বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, ঈদের দিন রাস্তায় গরুর মাংস কাটাকাটি করা যাবে না। গ্রামের একটু ভেতরের দিকে ঢুকে করতে হবে। নেতাদের কথা শুনে বুঝতে পারছি, শেষ পর্যন্ত খুব একটা অসুবিধা হবে না।’
তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যে তাঁর বাড়িতে আসছেন এবং বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন, সেটা স্বীকার করে ইউনুস আলী বলেন, ‘এ নিয়ে এলাকায় আমার ওপরে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে।’ এ ঘটনার কারণও ব্যাখ্যা করেন বিজেপির ওই নেতা।
তিনি বলেন, ‘আসলে বিজেপি তো মুসলিমদের ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসেনি। এসেছে হিন্দুদের ভোট পেয়ে। ফলে তাদের কিছু একটা করতে হবে, যাতে হিন্দুরা মনে করে যে তাদের সরকার এসেছে। এখন সেটা করতে গিয়েই সমস্যা হয়েছে। আমি যতটুকু বুঝি, শুভেন্দু অধিকারী এমন মানুষ নন যে তিনি কাউকে বিপদে ফেলতে চাইবেন। ফলে আমি আশা রাখি, একটা সমাধান সূত্র বেরোবে।’
ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) ২৭ সেনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সামরিক আদালত। আদালতের নথির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় সম্মুখসারির অবস্থান ছেড়ে পিছু হটার দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উভিরার সামরিক আদালতে ২১তম সিম্বা ব্যাটালিয়নের অন্তত ১১২ সেনার বিচার শুরু হয় ১৫ সেপ্টেম্বর।
আগস্টে পূর্ব কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় সামরিক নির্দেশ অমান্য ও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।
আদালত জানিয়েছে, নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে ৫৪ সেনাকে শুক্রবার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও ১০ সেনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় অন্তত ২১ সেনাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাস পাওয়া সেনাদের মধ্যে পাঁচজন নারী রয়েছেন।
কৌঁসুলিরা জানান, উভিরাকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকাগুলো নিরাপদ রাখতে এসব সেনাকে মোতায়েন করা হয়েছিল।
এর আগে মে মাসে একই ধরনের ঘটনায় ডিআর কঙ্গোর একটি সামরিক আদালত ৫৮ সেনাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় সম্মুখসারি থেকে সরে যাওয়ায় ‘নির্দেশ অমান্যের’ অভিযোগে তাদের সাজা দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সর্বশেষ এই বিচার চলার মধ্যেও উভিরা এলাকায় এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।
পূর্ব কঙ্গোর চলমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান পক্ষ এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ২০২৫ সালের শুরুতে গোমা ও বুকাভু শহর দখলের পর গোষ্ঠীটি পূর্ব কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
কঙ্গো সরকার, জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো এম২৩-কে সমর্থনের জন্য প্রতিবেশী রুয়ান্ডাকে দায়ী করে আসছে। তবে রুয়ান্ডা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি। ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।
আলী ফাদাভি বলেন, ‘আমেরিকানরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে। এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল না। ইসলামিক রিপাবলিক ও আইআরজিসির স্থলবাহিনীর শক্তির কারণেই তারা এমনটা করতে বাধ্য হয়েছে।’
ফাদাভি আরও দাবি করেন, প্রথমবারের মতো পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন নৌযান নেই।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো আইআরজিসির হামলার ক্ষেত্রে ‘১০০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ফাদাভি এমন দাবি করলেও ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গত সপ্তাহে জানিয়েছে, জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত কঠোরভাবে অবরোধ কার্যকর নিশ্চিত করতে তারা ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।
হরমুজ প্রণালি টহল দিচ্ছে আইআরজিসির নৌবাহিনীর সদস্যরা। ছবি : গেটি ইমেজেস
জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না বলে জানিয়েছে ইরান। রোববার (০৪ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ কথা বলেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট ও দৃঢ়। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে নির্ধারিত আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।’
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। এতে বলা হয়, নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব। গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওই প্রস্তাবের জবাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটনকে বুঝতে হবে, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে।
রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের বিষয়ে ইরান তার মৌলিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কিছু বিষয় জানানো বাকি রয়েছে।
বাঘাই বলেন, ‘পারমাণবিক ইস্যুসহ বেশির ভাগ বিষয়ে আমেরিকানদের প্রস্তাব আগের অবস্থানের কাছাকাছি। আমরা তাদের জানিয়েছি, এই পর্যায়ে আমাদের মূল মনোযোগ হরমুজ প্রণালির ওপর। এই নৌপথে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।’
ইরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থার পরিদর্শনের বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে; এমন খবরও নাকচ করেছেন বাঘাই। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা শুরু করেনি তেহরান।
আলোচনার বিষয়ে অবহিত এক কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, প্রচারিত নথিতে সাত দিনের আস্থাবর্ধক একটি প্রক্রিয়ার কথা রয়েছে। এর লক্ষ্য জুনে হওয়া সমঝোতা স্মারকের আরও বিস্তৃত সংস্করণে দুই দেশকে ফিরিয়ে আনা। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপও রয়েছে। তবে পরিকল্পনার বিষয়বস্তু নিয়ে নয়, কোন পদক্ষেপ আগে বাস্তবায়িত হবে এ নিয়েই মূল মতবিরোধ রয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
সূত্র : রয়টার্স
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অবসানে সামরিক কোনো সমাধান নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও এই যুদ্ধ তারা থামাতে পারবে না। খবর আইআরএনএর।
রোববার (০৪ অক্টোবর) তেহরানে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আরাগচি বলেন, তেহরান আশা করে ওয়াশিংটন কূটনীতির পথ বেছে নেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরান পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। মনে রাখতে হবে, কোনো সামরিক আগ্রাসনে এই যুদ্ধ থামবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এই যুদ্ধ থামাতেও পারবে না।
তিনি বলেন, শুধু আলোচনা, ন্যায়বিচার ও কূটনৈতিক মর্যাদার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সমাধানই বর্তমান পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে এবং এই যুদ্ধ ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে চালানো বেআইনি আগ্রাসন বন্ধে চূড়ান্ত সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করলে ইরান আরও ব্যাপক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে রোববার ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়াবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে তেহরান অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং কার্যত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে।
যুদ্ধের অবসানে গত ১৮ জুন একটি কাঠামোগত চুক্তি হওয়ার পর থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ওই চুক্তির লক্ষ্য ছিল একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির পথ তৈরি করা, যেখানে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি; দুই বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
ইতালি। ছবি : সংগৃহীত
বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় পরিসরে শ্রমবাজার খুলছে ইতালি। দেশটির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়া হবে। এর মধ্যে মৌসুমি, অমৌসুমি ও স্বনিয়োজিত-তিন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে।
ইতালির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জনকে অমৌসুমি চাকরিতে, ৮৯ হাজার জনকে কৃষি ও পর্যটন খাতের মৌসুমি কাজে এবং ৬৫০ জনকে স্বনিয়োজিত কাজের জন্য নেওয়া হবে। পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতের জন্য অমৌসুমি কোটার মধ্যে ১৪ হাজার স্থান রাখা হয়েছে।
এই কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশও যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। ইতালির সরকারি তালিকায় বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল-সংলগ্ন বিভিন্ন শ্রমবাজারের দেশ এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য কোটা রাখা হয়েছে।
২০২৭ সালের কোটার জন্য আবেদনপত্র প্রাক-পূরণ বা ‘প্রিকম্পাইলেশন’ শুরু হবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের Portale Servizi ALI প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।
তবে সাধারণভাবে বিদেশি কর্মী নিজে সরাসরি এই কোটার আবেদন করেন না। ইতালিতে থাকা নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট কর্মীর জন্য চাকরির অনুমোদন বা nulla osta চেয়ে আবেদন করেন। এরপর অনুমোদন পেলে কর্মী নিজ দেশে ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে কাজের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
২০২৭ সালের ‘ক্লিক ডে’ নির্ধারণ করা হয়েছে খাতভেদে আলাদা দিনে। কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের আবেদন জমা শুরু হবে ১২ জানুয়ারি ২০২৭, পর্যটন খাতে ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কাজের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আবেদন শুরু হবে ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়। কোটা অবশিষ্ট থাকা সাপেক্ষে আবেদন জমা দেওয়া যাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত।
ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮- এই তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেবল বৈধ নিয়োগকর্তা ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আবেদন এগোয়। তাই চাকরি বা ভিসার নামে কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তা এবং nulla osta–র সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
ভারতীয় নৌসেনা। প্রতীকী ছবি
পাকিস্তানি এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার কাছে নৌবাহিনীর গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারতের ৩১ বছর বয়সী এক নৌসেনা সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হানিট্র্যাপের’ মাধ্যমে তাকে ফাঁদে ফেলে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই।
গ্রেপ্তার হওয়া নৌসেনা সদস্যের নাম প্রদীপ মুখার্জি। ৩ অক্টোবর তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে ভারতীয় নৌবাহিনীর নেতৃত্ব প্রশিক্ষণকেন্দ্র আইএনএস অগ্রাণী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (সিআই) সেল।
পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা মুখার্জি গ্রেপ্তারের সময় কোয়েম্বাটোরের ওই কেন্দ্রে ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিচ্ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সেখানে অবস্থান করছিলেন তিনি।
২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন মুখার্জি। পরে তাকে বিশাখাপত্তনমভিত্তিক ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, কয়েক মাস আগে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক নারী সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাদের মধ্যে অনলাইন সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে কৌশলগত নৌসম্পদ, নৌবহরের গতিবিধি এবং বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটির কার্যক্রমসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।
সীমান্তপারের গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট হুমকি তদন্তে বিশেষায়িত সিআই সেল ওই নৌসেনা সদস্যের সন্দেহজনক ডিজিটাল কার্যক্রম শনাক্ত করার পর তদন্ত শুরু করে। পরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গ্রেপ্তার করা হয় মুখার্জিকে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস