রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অভ্যন্তরে পকেট গেটের মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাত ১২টা ৩৪ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পকেট গেটে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ইউসুফ জানান, ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে ককটেল দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ছুড়ে মারা হয়। পরে সেগুলো পকেট গেটের প্রাচীরের ওপর দিয়ে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় পড়ে বিস্ফোরিত হয়।
ঘটনার বিষয়ে শেকৃবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবীর বলেন, ছাত্রলীগ ও ক্যাম্পাসের ভেতরের লোকজনের যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের লাইট বন্ধ থাকা কোনোভাবেই কাকতালীয় হতে পারে না। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, 'ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সকালে ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসন্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরাম, বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘ইঞ্জিনিয়ার্স গেট টুগেদার’ শীর্ষক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর উত্তরা ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন এ্যাব'র সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার শোয়েব বশরী হাবলু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আইটিইটি'র সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী খান মঞ্জুর মোরশেদ, প্রকৌশলী মিয়া মো. কাইয়ুম, প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. জুলহাস উদ্দিন, অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী এস. এম. মোমিনুল আলম, প্রকৌশলী এ. কে. এম. মহসিন আহমেদ এবং আয়োজক কমিটির পক্ষে প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীনুল হক ও আশিক ইসতিয়াক লিখন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বাস্তবায়ন, পেশাগত অধিকার সংরক্ষণ এবং আইইবি নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী এস এম মমিনুল আলম বলেন, টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে হলুদ প্যানেলের প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিসিএস (টেক্সটাইল) ক্যাডার চালু, পদোন্নতি জটিলতা নিরসন এবং অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থা চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁরা কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ্যাব'র সদস্যসচিব প্রকৌশলী শোয়েব বশরী হাবলু বলেন, টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের অনেক দাবি-দাওয়া রয়েছে। এসব দাবি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন, আইইবি'র সহ সভাপতি পদপ্রার্থী প্রকৌশলী এ কে এম মহসিন আহমেদ বলেন, আগামী ১২ নভেম্বরের আইইবি নির্বাচনে একমাত্র পূর্ণাঙ্গ প্যানেল হিসেবে হলুদ প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ প্যানেলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছর টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, বিগত নির্বাচন সুশৃঙ্খল, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। আসন্ন নির্বাচনও একইভাবে সুন্দর ও সুষ্ঠু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি টেক্সটাইল শিক্ষার্থীদের সমস্যা, সরকারি চাকরিতে পদ বৃদ্ধি, পরিবেশগত সংকট ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাব'র আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্বন ফাইবারের মতো আধুনিক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আইইবি'র ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের সদস্যপদ অর্জনেও টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের অবদান উল্লেখযোগ্য, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁদের পেশাগত স্বীকৃতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়েছে। প্রকৌশলীদের পেশাগত স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় আগামী নির্বাচনে প্রকৌশলী খান মঞ্জুর মোরশেদ ও প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন হলুদ প্যানেলকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পর আইইবি'তে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের ক্যাডার প্রতিষ্ঠা, আইটিইটি'র নিজস্ব ভবন নির্মাণসহ পেশাজীবীদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী ১২ নভেম্বরের নির্বাচনে হলুদ প্যানেলের সকল প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সঠিক নিয়মে ভোট প্রদানের পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে আইইবি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিভিন্ন পদের প্রার্থীদের পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত ভোটারদের কাছে ভোট ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে নোবিপ্রবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করল জাতীয় ছাত্রশক্তি
জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। শনিবার (৭ নভেম্বর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ৭০০ নবীন শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দলটির শীর্ষ নেতা আবদুল হান্নান মাসুদ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার। এছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় ও নোবিপ্রি শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
নোবিপ্রি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, "পুরনোদের রাজনীতির দিন শেষ।" নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে দেশের স্বার্থে যুবসমাজকে সবসময় সামনের সারিতে থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে দখলদারিত্ব ও লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির দিন শেষ হয়ে মেধা, যোগ্যতা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণভিত্তিক রাজনীতির সূচনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশের সম্পদে পরিণত করতে এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে জাতীয় ছাত্রশক্তি সর্বদা সচেষ্ট থাকবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহ আল শাহরিয়ার বলেন, ছাত্র শক্তি নোবিপ্রবি শাখা কর্তৃক আয়োজিত আজকের নবীন বরণ অনুষ্ঠানটি আমাদের মুগ্ধ করেছে। ওভারঅল সবকিছু খুব চমৎকার ছিল। এ ধরনের বরণ পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা আশা করি তারা এই ধারা অব্যাহত রাখবে।
আরেক শিক্ষার্থী সাইমা জান্নাত বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। আমি সবসময় চাইবো ক্রিয়াশীল সকল ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রম শিক্ষার্থীবন্ধ হোক। শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার্থে তারা সবসময় কাজ চালিয়ে যাক। এটাই আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের সম্মাননা প্রদান এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা শীর্ষক আয়োজনে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রভোস্ট ও ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উম্মে ফারহা।
দোলনচাঁপা হলে অগ্নিকাণ্ডের পরের চিত্র
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলে গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দর্শন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুরভী আক্তার আহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের হাউস টিউটর ও মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সুমনা আক্তার সুমি।
অধ্যাপক ড. সুমনা আক্তার সুমি জানান, দোলনচাঁপা হলের তৃতীয় তলার রান্নাঘরের গ্যাসলাইনের পাইপে লিকেজ থাকায় গ্যাস নির্গত হচ্ছিল। এ সময় এক শিক্ষার্থী রান্না করতে গেলে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ওই শিক্ষার্থী মেঝেতে পড়ে যান।
তিনি বলেন, “তাঁর কান্নাকাটি দেখে প্রথমে আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, হয়তো তাঁর হাত ভেঙে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত তাঁর হাত ভাঙেনি এবং তিনি গুরুতর আহতও হননি।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং দ্রুত গ্যাসলাইনের লিকেজ বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এদিকে, আহত শিক্ষার্থী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর হাতের নড়াচড়া সীমিত রেখে বিশ্রামে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। এ জন্য তাঁকে একটি বেল্ট দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন শুরু
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন শুরু হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা।
পতাকা উত্তোলন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জাতীয় জীবনে দিবসটির গুরুত্ব এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য বুঝতে হলে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন। ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান তৈরি হওয়ায় জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা দেখা দেয়। সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে দেশের প্রশাসনিক অবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ অন্ধকারে ছিল। পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। সেদিন আন্দোলনরত সিপাহী-জনতা তাঁকে মুক্ত করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে চাইলে দেশের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের গণআন্দোলনেও ঐক্যবদ্ধ জনগণের শক্তির প্রতিফলন ঘটেছে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তখনই সার্থক হবে, যখন সবাই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিবসটি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. তানজিল হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রাজু আহমেদ, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশুরেন্স সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা-প্রিন্স), অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. বখতিয়ার উদ্দিন, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের ও দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য-সচিব মামুন সরকার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল আলম।
উল্লেখ্য, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ১২ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহৎ পরিসরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় লোগো