ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগকারী চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি।

  • প্রকাশ : সোমবার ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ২:৫৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে নিয়ে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করে তাকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আগেই ক্ষমা চেয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, এবার ওই বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করলেন তার চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি। এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার পরও ২০২৪ সালে ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ঘটনায় ম্যাকসুইনির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক বেড়ে চলেছে, এ পরিস্থিতিতে চাপের মুখে নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করলেন স্টারমারের শীর্ষ উপদেষ্টা।


বিবিসি জানায়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা দেশটির সাবেক মন্ত্রী লর্ড ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে অভিযুক্ত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের বন্ধুত্বের কথা জানার পরও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন।


ম্যাকসুইনি দাবি করেছেন, তিনি ম্যান্ডেলসনের নিয়োগের আগে করা যাচাই ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া তদারিক করেননি, তারপরও তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিতে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য ‘পুরো দায়-দায়িত্ব’ নিতে চান।


ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ঘটনায় যুক্তরাজ্যে ক্ষমতসীন লেবার পার্টির এমপি’দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।


এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ম্যান্ডেলসন গত ২ ফেব্রুয়ারিতে লেবার পার্টির সদস্যপদ ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি হাউজ অব লর্ডস থেকেও স্থায়ীভাবে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।


তবে এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। লেবার এমপিরা ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করার প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের সিদ্ধান্ত নিয়ে এতটাই ক্ষুব্ধ যে, তারা তার পদত্যাগ দাবি করছেন। স্টারমার সবকিছু জেনেশুনেও ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ করেছিলেন বলে অভিযোগ করছেন তারা। এসব অভিযোগের মুখে স্টারমারের ক্ষমতার ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে।


ম্যান্ডেলসন ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে নিযুক্ত হয়েছিলেন। একই সময়ে তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।


এপস্টেইন যৌন অপরাধের অভিযোগের মুখোমুখি হওয়ার পর ম্যান্ডেলসন তাকে সমর্থন করে বার্তা পাঠিয়েছিলেন, এমন ইমেইল বের হওয়ার পর সেপ্টেম্বরে তাকে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে বরখাস্ত করেন স্টারমার।


কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টেইন সংক্রান্ত বিপুল নথি, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর দেখা যায় ২০০৮ সালে আদালতে অভিযুক্ত হওয়ার পরও এই যৌন অপরাধীর সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। প্রকাশিত একটি নথিতে বলা হয়েছে, ম্যান্ডেলসন ব্রিটিশ মন্ত্রী থাকাকালে এপস্টেইনের কাছে যুক্তরাজ্যের সংবেদনশীল তথ্য পাচারও করেছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে তদন্তের ডাক ওঠে। তার বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অসদাচরণের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটিশ পুলিশ।


স্টারমার জানিয়েছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের আগের সম্পর্কের কথা প্রথম প্রকাশ পায় যখন রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য যাচাই ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছিল, কিন্তু মন্ত্রীসভার সাবেক এই সদস্য তাদের সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে তখন ‘মিথ্যা কথা’ বলেছিলেন।


তার বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি জোরাল হওয়ার মুখে বৃহস্পতিবার স্টারমার ‘ক্ষমা’ চেয়েছেন। লেবার এমপিদের ক্ষোভ ও হতাশার বিষয়টি বোঝেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।


কিন্তু এরপরও ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক কমেনি। লেবার পার্টির অল্প কিছু এমপি প্রকাশ্যে দলীয় প্রধানের পদ থেকে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করছেন।


ম্যাকসুইনির বিদায় স্টারমারের জন্য বড় একটি ধাক্কা। ২০২০ সালে লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্টারমারের সফলতার পেছনে মাস্টারমাইন্ডের ভূমিকা পালন করেছিলেন ৪৮ বছর বয়সী এই আইরিশ রাজনীতিক। এরপর ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির সফল প্রচারণার ক্ষেত্রেও ম্যাকসুইনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রণালিটির জাহাজ চলাচল এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এমনকি প্রয়োজন হলে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।


মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে ইরান বলছে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ চালু রেখেছে।


এদিকে হরমুজ প্রণালির অপর পাড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ওমানকে বোমা হামলার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে প্রণালিটির যৌথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমান কোনো চুক্তিতে গেলে তা ঠেকাতেই ওয়াশিংটনের এমন অবস্থান বলে ধারণা করা হচ্ছে।


তাহলে বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ওপর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার—ইরানের নাকি যুক্তরাষ্ট্রের?


দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যেই প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের প্রকৃত তথ্য থেকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।


হরমুজ প্রণালির প্রধান দুটি নৌপথ


যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালিকে মূলত একটি অভিন্ন জলপথ হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। তখন এটিকে ‘ইরানি’ বা ‘ওমানি’ নৌপথ হিসেবে আলাদা করে দেখা হতো না। জাহাজগুলো প্রণালির মাঝামাঝি দিয়ে নির্ধারিত ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম অনুসরণ করে চলাচল করত।  


কোন পথে জাহাজ চলবে, তা সাধারণত নির্ধারিত হতো কোন বন্দরে জাহাজ যাবে, ভাড়ার চুক্তির শর্ত এবং নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে। সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তখন জাহাজ চলাচলের প্রধান নিয়ামক ছিল না।


তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর জলপথটি কার্যত দুটি প্রধান রুটে বিভক্ত হয়েছে।


ইরান প্রণালির উত্তর দিকের রুটটি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। এই পথটি ইরানের উপকূল ঘেঁষে লারাক ও কেশম দ্বীপের কাছ দিয়ে গেছে এবং সরাসরি ইরানের বিভিন্ন বন্দর ও সমুদ্রভিত্তিক তেল স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত।


অন্যদিকে রয়েছে দক্ষিণের ওমানি রুট। এটি ওমানের কাছাকাছি এবং ইরানের উপকূল থেকে তুলনামূলক দূরে। যুক্তরাষ্ট্র এই পথ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই রুট দিয়েই চলাচল করছে।


ফলে হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে জাহাজ চলাচলের ধরন থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কার প্রভাব কতটা রয়েছে, তার একটি বাস্তব চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

জীবন বাঁচাতে কার্নিসে আশ্রয় দম্পতির

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২৭ পিএম

কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেল। রাত দেড়টার পর একটি কক্ষের দরজায় জোরে ধাক্কা দেন কেউ। ভেতরে ছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি সোমাইয়া আখতার ও রেজাউল ইসলাম। 


দরজার ওপাশ থেকে আগুন লাগার খবর শুনতেই দুজন জানালা দিয়ে বেরিয়ে কার্নিসে আশ্রয় নেন। হোটেলটি নিউমার্কেট এলাকায় চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায়। 


ভারতীয় দৈনিক আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহখানেক আগে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় বেড়াতে গিয়েছিলেন সোমাইয়া ও রেজাউল। শিখা ইন হোটেলে ওঠেন দুইদিন আগে। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে হোটেলটিতে আগুন লাগে। 


সোমাইয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে হঠাৎ তাদের কক্ষের দরজায় কেউ জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। ওই সময় তিনি জেগে ছিলেন। ধাক্কার শব্দে ঘুম ভাঙে রেজাউলের। দুজন বিছানা ছেড়ে উঠে দরজা খুলে দেখেন বারান্দা ধোঁয়ায় ভরে গেছে।


চিৎকার, ধোঁয়া দেখেও সে সময় মাথা ঠান্ডা রেখেছিলেন রেজাউল। দ্রুত চিন্তা করে ঠিক করেন, দরজা দিয়ে নয়, জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন। স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান জানালার কাছে। এরপর নেমে যান কার্নিসে। এরপরের ঘটনার বর্ণনা দেন সোমাইয়া। বলেন, ‘কার্নিসে দাঁড়িয়ে হেল্প, হেল্প, আগুন, আগুন বলে চিৎকার করছিলাম।’ 


ধোঁয়ার কারণে তিনতলার কার্নিস থেকে ওই সময় রাস্তা ভালভাবে দেখা যাচ্ছিল না। নিচে থেকে ওপরে কারও অবস্থান বোঝার উপায় ছিল না। তাই মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে উদ্ধারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন এই দম্পতি। 


সোমাইয়া বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে যারা যাচ্ছিলেন, তাদের ডেকে আমাদের বিপদের কথা বলি। প্রায় আধা ঘণ্টা আমরা কার্নিসে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’ পরে তিনতলার কার্নিস থেকে দুজনকে মইয়ের মাধ্যমে নামান দমকলকর্মীরা।


সোমাইয়া-রেজাউল ছাড়াও ওই ভবনের অন্য হোটেলগুলোতে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি ছিলেন। তারা চিকিৎসা বা ব্যবসার কাজে ভারতে গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়জন নিহতের খবর জানা গেছে। তাদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০৯ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের পর দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের যৌথ সামরিক মহড়া ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১১ দিনের পরিবর্তে এবার ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়া চলবে পাঁচ দিন। 


একই সঙ্গে মহড়ার কিছু প্রশিক্ষণও কমিয়ে দেওয়া হবে। আজ বুধবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।


১৭ আগস্ট শুরু হওয়া মহড়া ২১ আগস্ট শেষ হবে। আগে এটি ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা ছিল। মহড়ার কিছু মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণও কমানো হবে। কিছু প্রশিক্ষণ বাতিল করে সিমুলেশনের মাধ্যমে করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।


দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, মহড়ার দ্বিতীয় ধাপও বাতিল করা হতে পারে। এই ধাপে প্রতিরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের পর পাল্টা হামলার অনুশীলন হওয়ার কথা ছিল।


গত রোববার ট্রাম্প মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ নির্দেশ দেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে বলেও জানান তিনি।


বিশ্লেষকদের মতে, মহড়া কমানোর পেছনে ট্রাম্পের একাধিক লক্ষ্য থাকতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, ইরান পরিস্থিতি সামলানো এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আবার কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করা এর মধ্যে থাকতে পারে।


এদিকে মহড়া কমানোর পরও উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার নিন্দা জানিয়েছে। 


দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ বলেছে, ওয়াশিংটন ও সিউলের সামরিক হুমকি মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়া আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ চালিয়ে যাবে।


তবে এবার উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের নির্দেশ বা মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। এক বিশ্লেষকের মতে, এর মাধ্যমে পিয়ংইয়ং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ খোলা রাখতে চাইছে।


এদিকে কিম জং উনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের জন্য ট্রাম্প তার কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নভেম্বরে চীনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় এমন বৈঠক হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রয়টার্স এ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।


দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এসব যৌথ মহড়াকে প্রতিরক্ষামূলক এবং উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে দেখে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া বরাবরই এসব মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি বলে অভিযোগ করে আসছে।


সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১৪ পিএম

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং একজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে।


নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয়। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন শণশিষ দত্ত, আফসানা শিম্মিন, দেবাশীষ দত্ত ও মোহাম্মদ আকরাম আলী। তারা সবাই বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে আহমেদ বাবু নামে আরও একজন নিহত হয়েছেন। তিনি ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আদম আলী।


নিহত ভারতীয় নাগরিকের নাম সন্দীপ পাসওয়ান। তিনি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এবং ওই হোটেলের কর্মচারী ছিলেন।


আগুন লাগার সময় হোটেলের অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে ছিলেন। ঘুমের মধ্যেই অনেকের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। যারা দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পেরে বের হওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের কেউ কেউ প্রাণে বেঁচেছেন। তবে কয়েকজন ঘুমের মধ্যেই মারা যান।


ভোররাতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


স্থানীয়ভাবে ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত নিউমার্কেট এলাকা। এর আশপাশের কলিন স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মার্কুইস স্ট্রিটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক আবাসিক হোটেল রয়েছে।


এসব এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০টি হোটেল রয়েছে।


নিউমার্কেট এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। ফলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বেশির ভাগ বাংলাদেশি হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২১ পিএম

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।


আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, চলমান উত্তেজনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।


সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে আমিরাতের বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত তেহরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।


অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল ও সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার চেয়েও আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ইরানের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশেষ করে দুবাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।


কিমিট আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের সঙ্গে দুবাইয়ের পণ্য ও আর্থিক লেনদেনের গুরুত্ব কোনোভাবেই কম করে দেখার সুযোগ নেই। ইরানে আমদানি করা পণ্যের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হলো দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ক্ষেত্রে চীন ও তুরস্কও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।


তার ভাষ্য, ইরানের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে আসে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের ভূমিকা ইরানকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে।


কিমিট বলেন, ‘অনেক দিক থেকেই আমিরাতের এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’


ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশও আমিরাতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে পারে কি না—এ বিষয়ে কিমিট বলেন, তারা আপাতত পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে বলে তিনি মনে করছেন।


তিনি বলেন, ‘আমিরাত ও ইরানের মধ্যে কী ঘটে, সেটিই এখন সবাই দেখবে এবং অপেক্ষা করবে।’


কিমিটের মতে, আমিরাতের এ সিদ্ধান্ত ইরানের কাছে অত্যন্ত গুরুতর বার্তা বহন করছে। এমনকি তেহরান এটিকে যুদ্ধ ঘোষণার কাছাকাছি কোনো পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করেন।


সূত্র: এনডিটিভি, আল জাজিরা


সর্বশেষ সব খবর

কলকাতা নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে আগুন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০১ এএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পরদিন মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার আরেকটি হোটেলে আগুন লেগেছে। এতে আবাসিক হোটেলে থাকা ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। মৃতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। মৃতররা সকলে বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।  


দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের সকলকেই মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।


এর আগে বীরভূম জেলার তীর্থস্থান তারাপীঠ মন্দির সংলগ্ন একটি হোটেলে সোমবার সকালে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়। সেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওই দিন রাতেই হোটেলের মালিক ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই রেশ কাটতে না কাটতে আবার আরেকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটলো। 


কলকাতার আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলের তিন তলায় আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্তত চারটি ঘরে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভেঙে যায় হোটেলের বাসিন্দাদের। তবে ধোঁয়ার কারণে হোটেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না তারা। 


ভোর তিনটার দিকে আগুন লাগার খবর পায় পুলিশ ও দমকল কর্মী। আগুনের ঘটনাস্থলের একেবারে কাছেই দমকল অফিস। দমকলের ৪টি ইঞ্জিন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে হোটেলের একাংশ পুড়ে যায়।  


অগ্নিকাণ্ডের সময় আহত কয়েকজনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হোটেলের এসি থেকে আগুন লাগতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। আগুনের পর ঘটনাস্থলে যান দমকল মন্ত্রী ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার।


দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের সকলকেই মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।


পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। গুরুতর আহত ৬ জনের চিকিৎসা চলছে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। 


অভিযোগ রয়েছে, হোটেলের ঢোকা-বেরোনোর পথ খুবই সঙ্কীর্ণ। হোটেলটি থেকে ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। 

 

সর্বশেষ সব খবর