ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১:০৪ এএম

জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটাই এখন বিএনপি সরকারের মূল ফোকাস। এ লক্ষ্যে ১৮০ দিনের ‘স্বল্পমেয়াদি’ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নতুন সরকার। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, বৃক্ষরোপণ এবং নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনর্খনন নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। 


এই রমজানেই পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে আট বিভাগের আট উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড চালু হবে। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এবার সংগঠনের দিকেও মনোযোগী হচ্ছে বিএনপি।


নির্বাচনে ধানের শীষ না পেয়ে দলের নেতারা ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়ায় তৃণমূলের অনেক জায়গায় সংগঠন কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তৃণমূলে সংগঠন গুছিয়ে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী সংগঠন নিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় বিএনপি। 


সিদ্ধান্ত না হলেও এর অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতরের পর তৃণমূল পুনর্গঠনে হাত দিতে পারে দলটি। তবে নির্বাচনে ধানের শীষ ও জোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হয়ে বহিষ্কৃত হওয়া নেতাদের ব্যাপারে এখনই ভাবছে না বিএনপি। দলীয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপি নেতারা ধানের শীষ না পেয়ে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছিলেন তারা; যদিও বিষয়টি সহজেই উতরে এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। 


তবে নির্বাচনে এত সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া নিয়ে চিন্তিত দল। তাই এর ‘প্রকৃত কারণ’ অনুসন্ধানে নামছে বিএনপি। দলটি বুঝতে চায়, ‘ধানের শীষ না পেয়ে দলের নেতারা কি নিজেদের অধিকতর যোগ্য মনে করে পাস করবে’-এই চিন্তা ও বিশ্বাস থেকেই ধানের শীষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিল, নাকি কারও ইন্ধনে প্রার্থী হয়েছিলেন? 


বিএনপি এও মনে করছে, নির্বাচনে পাস করার প্রবল সম্ভাবনা ছিল, এ রকম বেশ কয়েকজন প্রার্থীও ফেল করেছেন। এদের মধ্যে খুলনা-২ আসনের নজরুল ইসলাম মঞ্জু, রংপুর-৬ আসনের সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-১ আসনের সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স অন্যতম। ধানের শীষের এমন প্রার্থীরা কেন ফেল করলেন, এর কারণও জানতে চায় দল। তাই এই দুটি বিষয় নিয়ে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের মাধ্যমে শিগগির কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি।


তপশিল ঘোষণার পর প্রথমদিকে ধানের শীষ না পেয়ে ১১৭টি আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রায় ১৯০ জন বিএনপি নেতা মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে দলীয় নানান উদ্যোগের পর বেশিরভাগ নেতা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলেও শেষ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে ছিলেন বিদ্রোহীরা। 


বিএনপির দপ্তর বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেসব নেতা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন, এমন অন্তত ৭১ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আর দলীয় বা দল সমর্থিত জোট প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।


ভোটের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ২০টির মতো আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীরা সুবিধা পান। এ ছাড়া ৭টিতে জেতেন বিদ্রোহীরা। সব মিলিয়ে ২৭টির মতো আসনে জয়-পরাজয়ে প্রভাব রাখেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা।


নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গত মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। সেখানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে রংপুর বিভাগের আসাদুল হাবিব দুলু, ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগের শামা ওবায়েদ, ময়মনসিংহ বিভাগের শরীফুল আলম এবং খুলনা বিভাগের অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রতিমন্ত্রী হন।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, একটি দলকে সাংগঠনিকভাবে গতিশীল রাখতে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে যারা মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন; সংগঠনকে গতিশীল রাখতে তাদের স্থলে যত দ্রুত সম্ভব কর্মঠ, দলকে সময় দিতে পারবেন কিন্তু সরকারে নেই, এমন নেতাদের পদায়ন করা প্রয়োজন।


দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপি সবে সরকার গঠন করেছে। জনগণকে দেওয়া নানান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন বিএনপি সরকারের মূল ফোকাস। সুতরাং এই ব্যাপারটি নিয়ে দল এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি; যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিএনপির নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে, দলের যারা এমপি-মন্ত্রী হবেন অর্থাৎ যারা সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত থাকবেন, তাদের পরিবর্তে দলের অন্য নেতাদের সংগঠনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রমজানে বিএনপির পক্ষ থেকে এবার কেন্দ্রীয়ভাবে দু-একটি ইফতার পার্টির আয়োজন করা হতে পারে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাভাবিকভাবেই ইফতার পার্টিগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে পবিত্র রমজান উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি এবং ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা এবং হেফ্জ মাদ্রাসায় প্রত্যেককে পুরো রমজান মাসের জন্য ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি দেওয়া হবে। 


এর অংশ হিসেবে প্রথম রোজায় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান রাজধানীর পশ্চিম ভাসানটেক থানার অন্তর্গত জামিয়া কুরবানিয়া তালিমিয়া দাওরা হাদিস মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানার এতিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ইফতার করেন। ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে দলটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুল বলেন, ‌'রমজানে স্বাভাবিকভাবেই ইফতার পার্টিগুলো হবে। যারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, তারা এলাকায় ইফতার পার্টি দেবেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও সেখানে অংশগ্রহণ করবেন। এটাও এক ধরনের সাংগঠনিক কার্যকলাপ।'


তিনি বলেন, কমিটি গঠন-পুনর্গঠন একটা স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। কিছু কমিটির মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে; আবার কিছু জায়গায় আহ্বায়ক কমিটি আছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। আমরা কিছুদিন পরে এগুলোতে হাত দেব। সরকারে বিএনপি থাকলেও বিএনপি যেহেতু একটা বৃহৎ সংগঠন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে, এটাতে কোনো ব্যত্যয় হবে না। তাছাড়া সামনে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো পর্যায়ক্রমে হতে থাকবে। সুতরাং দলকে গুছিয়ে সুসংগঠিত রাখতে হবে।


সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সাংগঠনিক সম্পাদক মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। দলে তাদের স্থলে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সায়েদুল আলম বাবুল বলেন, ‘এটা দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিষয়। হয়তো দল এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করে দেখবে।’


বিএনপি ও সরকারের সফলতার জন্য উভয়ের মধ্যেই ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকার গঠন করলেই দল পুনর্গঠন করতে হয়। কারণ, সরকার গঠনের সঙ্গে নতুন নতুন ডিমান্ড, নতুন নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিরোধী দলে বা সরকারের বাইরে থাকাকালীন দল একরকমভাবে পরিচালিত হয়, আবার সরকারে থাকলে দল আরেকরকমভাবে পরিচালিত হয়। 


এ জন্য দল পুনর্গঠন প্রয়োজন হয়। তবে পুনর্গঠন করতে গিয়ে যারা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের এখনই দলে নেওয়া সমীচীন হবে না। কারণ, নির্বাচনে ধানের শীষ ও দল সমর্থিত জোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তারা দলকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছিলেন, যদিও দল এ জায়গা থেকে ওভারকাম করেছে।’


তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলে থাকলে তো সব ধরনের মানুষকেই পাশে রাখা যায়, তাতে তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু বিএনপি যেহেতু এখন সরকারে, তাই দল পুনর্গঠনে ত্যাগী-আন্তরিক নেতাদেরই সামনে নিয়ে আসতে হবে। দলের যারা যারা সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন, যারা দলে এখন আর ঠিকমতো রোল প্লে করতে পারবেন না; সংগঠনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে, সংগঠনকে গতিশীল করতে সেখানে অবশ্যই পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে পরের স্তরে যারা আছেন; যারা কর্মঠ, যারা দলকে সময় দিতে পারবেন কিন্তু সরকারে নেই, তাদের দলের কাজে লাগানো দরকার। 


তবে এ ক্ষেত্রে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে- যতটা পারা যায় সরকারের প্রক্রিয়া থেকে দলের প্রক্রিয়াটা আলাদা রাখা। যারা দল থেকে সরকারে গেছেন, তাদের সবাইকে যদি দলে রাখা হয়, তাহলে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে দল এবং সরকার একাকার হয়ে যায়। দল এবং সরকারকে একাকার করে ফেলা যাবে না। আবার দলের যারা সরকারে আছেন, তাদের দল থেকে সম্পূর্ণ বের করেও দেওয়া যাবে না, তাহলে দলের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ-জবাবদিহি থাকে না।’


এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘দল এবং সরকারের মধ্যে একটা ভারসাম্য লাগবে। সরকারে যারা আছেন, তারা যেন দলের প্রতি এক ধরনের দায়িত্ব, কর্তব্য ও আন্তরিকতা অনুভব করেন; অন্যদিকে দলে যারা আছেন, তারা যেন সরকারে থাকাদের এক ধরনের জবাবদিহির মধ্যে রাখতে পারেন। সরকারে বিএনপি এবং দলে বিএনপি- এই দুয়ের মধ্যে কানেকশন চ্যানেলটা থাকতে হবে। এটার ওপরই সরকার এবং দল উভয়ের সাফল্য নির্ভর করবে।’



সর্বশেষ সব খবর

রুমিন ফারহানা, মির্জা আব্বাস ও ওসমান ফারুক (ওপরে বাঁ থেকে) মোস্তফা কামাল পাশা, আবুল হাসান ও গাজী নজরুল ইসলাম (নিচে)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ পিএম

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ ছয়জন ভোট দেননি। এর মধ্যে বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিৎসাধীন।


বিএনপির সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক ও খেলাফত মজলিসের আবুল হাসানও ভোট দিতে আসেননি। আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করছেন বলে তাঁর দলের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের জানিয়েছেন। জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও ভোট দিতে দেখা যায়নি।


আদালতের আদেশের কারণে চট্টগ্রাম–৬ আসনের ফল প্রকাশ স্থগিত রয়েছে। একই সঙ্গে ওই আসনের বিএনপির আসলাম চৌধুরীর প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে। ফলে বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত নারীসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।


ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, এই নির্বাচন অর্থহীন এবং প্রহসনের। ভোট না দেওয়ার পক্ষে তিনি তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন। 


তিনি বলেন, ‘আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।’


বৃহস্পতিবার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।’



ভোট না দেওয়ার দ্বিতীয় কারণ ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এত বড় একটি গণ-অভ্যুত্থান গেল, যার সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মত্যাগ, অনেক স্বপ্ন জড়িত। তাহলে আমরা সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে পারলাম না।’


তৃতীয় কারণকে নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখাল। অথচ ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ভিশন ২০৩০-এ গলার রগ ফুলিয়ে কথা বলছে। এখন তারা বলছে, দলের বাইরে ভোট দিলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে। এ রকম প্রহসনের ভোট আমি কেন দেব?’


সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। এ ছাড়া নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলেও সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। তবে একবার শূন্য হওয়ার পর পরবর্তী সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেই নির্বাচনে আবার অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।


ভোট চলাকালে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোটদানে বিরত থাকবেন। কারণ হিসেবে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় এই নির্বাচনে ভোট দেবে না ইসলামী আন্দোলন। তবে পরে ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ সব খবর

সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফল ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লাল গোলাপ দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৫১ পিএম

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। অন্য প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ৮৮ ভোট পেয়েছেন।


জয়ের পর সংসদে বিপুল করতালিতে অভিনন্দিত হয়েছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। নির্বাচনী কর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের ফল ঘোষণা করেন। নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 


ফল ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পর্যায়ক্রমে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। 


বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন।


দুপুরে ভোটগ্রহণ শুরু হলে প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন।


সাদা কাগজে কালো কালিতে ছাপা ব্যালট পেপারে ভোট দেন ভোটাররা। সংসদ অধিবেশনের কক্ষে তিনটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ভোট দেন তারা। নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ গ্রহণ করবেন।


৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।



রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থী নিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছে। এর আগে টানা কয়েকবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৬ পিএম

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোট হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার; যদিও এটি অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কারণ, বর্তমান সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে ভোটের হিসাবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই রাষ্ট্রপতি হয়ে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন, তা একপ্রকার নিশ্চিতই।


আজ বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সভাকক্ষে ভোট গ্রহণ চলবে। সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য পদ আদালতের নির্দেশে বাতিল রয়েছে।


এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ। ১১-দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।


সংসদে বিএনপির সদস্যসংখ্যা ২৪৭। অন্যদিকে ১১-দলীয় ঐক্যের মোট সদস্য ৯০ জন। অন্যরা স্বতন্ত্র, বিএনপি জোটের শরিক এবং ইসলামী আন্দোলনের সদস্য।


রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। তাঁর নামেই রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। 


তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত রাষ্ট্রপ্রধানের, সরকারপ্রধানের নয়। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটির মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব যতটা, নির্বাহী ক্ষমতা ততটা নয়। এখন অনেকের কৌতূহল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু এবং তিনি কী কী সুবিধা পান?


সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে বঙ্গভবনের মতো বিশাল সরকারি বাসভবন, বেতন-ভাতা, পরিবহন, চিকিৎসা, আপ্যায়নসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। পদ ছাড়ার পরও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা কিছু সুবিধা পান।


দুটি নিয়োগে রাষ্ট্রপতি স্বাধীন


সংবিধানের ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। এর একটি হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং অন্যটি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। এ বিষয়ে সংবিধানে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী এবং ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতি তাঁর অন্য সব দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।


সংসদ নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকেই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কে সরকার গঠন করতে পারবেন, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।


প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করতে বাধ্য নন। সংবিধান তাঁকে এ ক্ষেত্রে স্বাধীন ক্ষমতা দিয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন। রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পেশ করতে অনুরোধ জানালে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবেন। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না এবং দিয়ে থাকলে কী পরামর্শ দিয়েছেন, সে সম্পর্কে কোনো আদালত কোনো প্রশ্নের তদন্ত করতে পারবেন না।


ক্ষমা করার বিশেষ ক্ষমতা


রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হলো দণ্ড মওকুফ বা কমানোর ক্ষমতা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন; যদিও সংসদীয় ব্যবস্থার সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রপতির অন্যান্য দায়িত্বের মতো এ ক্ষমতার প্রয়োগ সরকারের পরামর্শের ওপর নির্ভর করে।


দায়িত্ব পালনে দায়মুক্তি


রাষ্ট্রপতির পদটির আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সাংবিধানিক দায়মুক্তি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না। তাঁর কার্যকাল চলাকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না এবং তাঁকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না।


তবে এর অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্রপতিকে কোনোভাবেই পদ থেকে সরানো যায় না। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাঁকে অভিশংসন করা যায়। আবার শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাঁকে পদ থেকে অপসারণের বিধান রয়েছে।


সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হলে সংসদের নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সংসদে বিবেচিত হয়। রাষ্ট্রপতির অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকে। অভিযোগ বিবেচনার পর সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।


শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের ক্ষেত্রেও প্রায় একইভাবে সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠন করে রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার বিধান রয়েছে। এরপর দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায়।


বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য নজির হলো এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘটনা। ২০০২ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ বা অবসরে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধা নেই।


মেয়াদ পাঁচ বছর, সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ


রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে পরপর এবং সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেন।


রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময় তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য থাকেন না। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়। এখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। পরে সেই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হয়। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়, তবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আগে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে তিনি আর রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্য নন।


আজকের ভোটে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। এ জন্য তিনি ভোটের সময় সংসদের সভাকক্ষে থাকতে এবং ভোট দিতে পারবেন না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দিতে পারবেন।


যেভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন


বর্তমান সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের সদস্যরা তাঁকে নির্বাচিত করেন। একজন সংসদ সদস্য কোনো প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেন এবং আরেকজন তা সমর্থন করেন।


একজন প্রার্থী থাকলে এবং তাঁর মনোনয়ন বৈধ হলে তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সমান ভোট হলে সংবিধান অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।


একাধিক প্রার্থী থাকায় ৩৫ বছর পর আজ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হলেন নির্বাচনী কর্তা।


বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, আয়করমুক্ত


ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার বিপরীতে রাষ্ট্রপতির পদটির আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা বেশ বিস্তৃত। রাষ্ট্রপতি কী সুযোগ-সুবিধা পান, তা বলা আছে দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্টে। রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই বেতন আয়করমুক্ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে বেতন বাড়ানো হয়। আগে মাসিক বেতন ছিল ৬১ হাজার ২০০ টাকা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকলে তিনি কোনো সরকারি সুবিধা পান না। কিন্তু রাষ্ট্রপতি অবসর বা পদত্যাগের পরও কিছু সরকারি সুবিধা পান।


রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা এন্টারটেইনমেন্টের জন্যও বার্ষিক ভাতা রয়েছে। এই ব্যয়ের নিরীক্ষা করা হয় না।


রাষ্ট্রপতির জন্য সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন নির্ধারিত। এর সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। রাষ্ট্রপতির সরকারি যাতায়াতের জন্য গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহনসুবিধাও সরকার দিয়ে থাকে। রাষ্ট্রপতি সরকারি কাজে বিদেশ সফরে গেলে সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পান।


স্বেচ্ছাধীন তহবিল বছরে দুই কোটি টাকা


রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে স্বেচ্ছাধীন তহবিল। বছরে এ তহবিলের পরিমাণ দুই কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এ অর্থ ব্যয় করা যায়।


এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে দেশের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করে।


রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের জন্য বিমাসুবিধাও রয়েছে। বর্তমানে এ সুবিধার পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এর পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ টাকা।


অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির বেতন ছাড়াও বাসভবন, গাড়ি, চিকিৎসা, বিদেশ সফরের ভাতা, আপ্যায়ন, বিমানভ্রমণের বিমাসহ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য বিস্তৃত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।


রাষ্ট্রপ্রধান, কিন্তু সরকারপ্রধান নন


বাংলাদেশের সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটির মূল বৈশিষ্ট্য এখানেই-তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ব্যক্তি, কিন্তু সরকারের প্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।


ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর আনুষ্ঠানিক মর্যাদা ও বাস্তব নির্বাহী ক্ষমতাকে আলাদা করে দেখা জরুরি। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে অধিকাংশ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসরণের বাধ্যবাধকতাও তৈরি করেছে।


এ কারণে জাতীয় নির্বাচন বা বড় রাজনৈতিক সংকটের সময়ে রাষ্ট্রপতির পদটি নতুন করে আলোচনায় আসে। বিশেষ করে সংসদে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সংসদে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে রাষ্ট্রপতির সেই বিবেচনামূলক পরিসর অনেকটাই সীমিত থাকে।


সুতরাং রাষ্ট্রপতির পদটি একদিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার সাংবিধানিক পদ, অন্যদিকে সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা থাকলেও এখনো পর্যন্ত তা হয়নি।


রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা রাষ্ট্রপতি কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। 


গত মাসে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এভাবে সংবিধান রাষ্ট্রপ্রধানের পদটির ধারাবাহিকতাও নিশ্চিত করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

বঙ্গভবন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৪ পিএম

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে আজ। ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ গ্রহণ করবেন।


জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এ তথ্য জানান। গতকাল বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি শপথ অনুষ্ঠানের সময়সূচি জানান।  


দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থী নিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হচ্ছে। এর আগে টানা কয়েকবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২৮ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২৮ পিএম

আগামী ২৬ আগস্ট বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদযাপনের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত পরিবেশন, স্বরচিত কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা করা হবে।


দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।


এ ছাড়া, সরকারি কর্মসূচির আওতায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয় এবং ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিসসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।


বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হবে। এছাড়া, দিবসটি উপলক্ষ্যে শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

কলেরা ক্যাম্পেইন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০০ পিএম

দেশের ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় প্রায় ৫২ লাখ মানুষকে মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা দেয়ার কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ক্যাম্পেইন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এক বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষকে এ টিকা দেয়া হচ্ছে।


অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কর্মসূচির আওতায় ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানার প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই দফায় তাদের টিকা দিতে প্রয়োজন হবে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডোজ।


কর্মসূচির আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শের-ই-বাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও; মুন্সীগঞ্জ সদর; কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল; নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর।


সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এসব এলাকা কোনো অনুমানের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়নি। বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এগুলোকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, অতীতে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও বর্তমানে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে সতর্ক থাকা জরুরি।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কলেরা প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ হলেও সময়মতো চিকিৎসা না হলে তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার কারণে দ্রুত জীবনহানি ঘটতে পারে। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন ও কার্যকর রোগ নজরদারির পাশাপাশি কলেরা প্রতিরোধে টিকাও গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উপকরণ।


তিনি আরও বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা, মানুষের চলাচল এবং বিভিন্ন এলাকার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনায় ভবিষ্যতে ১৪৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় এ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সফলভাবে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিটির ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরা টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব হাবিবুর রহমান খান এবং আইসিডিডিআর,বির গবেষক ফিরদউসী কাদরী।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

সর্বশেষ সব খবর