পুত্রজায়ায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম

  • প্রকাশ : সোমবার ২২ জুন, ২০২৬, সময় : ৪:১৬ এএম

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে, শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হৃাস পায়।’


দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে দুই দেশের দ্বি-পক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।


যৌথ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তাগুলো পেয়েছিলাম, তার একটি ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছ থেকে। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।’


তিনি বলেন, ‘তাঁর সেই আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’ বাবা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল এবং শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথাও স্মরণ করছি। তাঁর সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করে ‘


তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।


‘ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে’


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’


‘দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা’


বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় হওয়ায় স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’ এ বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলিল দুটি বিনিময় করেন। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।


‘মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি।  তিনি বলেন, আমাদের অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।


দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


‘রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 


‘বাংলাদেশ আসিয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায়’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ান এর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে আমরা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগদানে আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযুক্তি প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।




  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৪ পিএম

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ‘ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’সহ ঢাকার চারটি বার ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সংস্থা।


শনিবার (৩ অক্টোবর) এনবিআরের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য জানায়।


অভিযান চালানো অন্য তিন প্রতিষ্ঠান হলো- আরএ ডাব্লিউ ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল, মার্গারিটা লাউঞ্জ। 


এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কয়েকটি বার, রেস্টুরেন্ট, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ও ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহ, প্রযোজ্য শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে এসব পণ্য সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংবাদপড়ুন


অভিযানের জন্য কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) চারটি দল গঠন করে। এসব দলের সঙ্গে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকার (উত্তর) কর্মকর্তারা যুক্ত রয়েছেন। 


অভিযানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন, তল্লাশি, নথিপত্র যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য আটক করার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। 

বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানে মজুত থাকা অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের পরিমাণ, সেগুলোর বৈধ উৎস, আমদানি ও ক্রয়সংক্রান্ত দলিল, প্রযোজ্য শুল্ক-মূসক ও আয়কর পরিশোধ এবং পণ্যের বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে। অভিযানে কোনো অনিয়ম বা রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


এর আগে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরে টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’র অনুমোদিত ওয়্যারহাউজের বাইরে আরও দুটি অননুমোদিত ওয়্যারহাউজে মদ মজুত পাওয়ার কথা জানায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ( সিআইআইডি)। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির চারটি ওয়্যারহাউজই সিলগালা করা হয়েছে বলেও জানায় সংস্থাটি।


গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ডিপ্লোমেটিক ওয়্যারহাউজ ‘টস বন্ড’ বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি আলোচিত ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের। টস বন্ডের বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ আসায় তা নিয়ে কয়েক মাস ধরেই অনুসন্ধান চলছিল।


এনবিআর কর্মকর্তারা শেখ নূর ইসলামকে ওয়্যারহাউজটির মালিক বললেও ফু-ওয়াং দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শেখ নুর ইসলাম বা তার পরিবারের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।


ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে টস বন্ডকে শেখ নূর ইসলামের প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সম্প্রতি টস বন্ড নামের একটি ওয়্যারহাউজ সিলগালা হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিকে শেখ নূর ইসলামের প্রতিষ্ঠান হিসেবে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।


সম্প্রতি ঢাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের দায়ী করার পর এসব তদন্তের গতি বাড়ে।


ফু-ওয়াং বলছে, “কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে শেখ নুর ইসলামের কন্যা দিশা ইসলামের বিয়ে শেখ নুর ইসলাম বা তার পরিবার মেনে নেননি।


“উক্ত বিয়ের পর থেকেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শেখ নুর ইসলাম ও তার পরিবারের সকল প্রকার সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।”


এআই জেনারেটেড প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ পিএম

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসার ছুটির তালিকা এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এ বন্ধ উপভোগ করা যাবে। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির সময়সূচিতে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে।


এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটিও বাড়িয়েছে সরকার। আগামী ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে নতুন করে ছুটি ঘোষণা করায় এবারের দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীরা মোট পাঁচদিনের ছুটি পাচ্ছেন।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে আগে থেকেই ছুটি নির্ধারিত ছিল। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নতুন করে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন।


অন্যদিকে ২০২৬ সালের সরকারি, বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচদিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। ছুটি শুরুর আগে ও পরে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীরা আরও চারদিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পেতে পারে।



পরদিন ২৫ অক্টোবর রোববার লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আরও একদিন ছুটির সুযোগ রয়েছে। ফলে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিনের পাওয়া যাবে। তবে এ ছুটির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটির সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।


এদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ-৪ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলেজে এ বছর ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি রাখা হয়েছে। এ হিসাবের মধ্যে মাঝের দুই শুক্রবার ও শনিবার অন্তর্ভুক্ত নয়। দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর পাশাপাশি প্রবারণা পূর্ণিমা ও ২৫ অক্টোবরের লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে এই ছুটি রাখা হয়েছে।


  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৯ পিএম

আগামীতে পাঠ্যবই ছাপায় মানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না জানিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, নিম্নমানের বই সরবরাহের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।


আজ শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘কচুয়া উপজেলা সমিতি, ঢাকা’ আয়োজিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে যেসব নিম্নমানের বই পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল ও নষ্ট করা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক ছাপায় গুণগত মানে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না। কাগজ, কালি ও ছাপাখানা ইত্যাদি বিষয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী চান দেশীয় মুদ্রণশিল্প গড়ে উঠুক, তাই এ বছর বিদেশি কোনো কোম্পানিকে মুদ্রণের কাজ দেওয়া হয়নি।’


তিনি বলেন, অতীতে যেমন সময়মতো বই দেওয়া সম্ভব হয়েছিল, আগামীতেও গুণগত মানের বই সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।


মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 'মিড ডে মিল' কর্মসূচি চালু রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে কুপন দিয়ে ক্যান্টিন থেকে নিজেদের পছন্দমতো খাবার কিনতে পারে, সেজন্য কুপন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। খাদ্যতালিকায় নতুন খাদ্য যুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে খাবার সরবরাহ প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে, যা কয়েকটি জেলায় পাইলটিংয়ের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়ন করা হবে।


শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যাতে মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়, সে জন্য নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। বর্ষাকালীন দুর্যোগ পরিহার করা হবে। পরীক্ষার নিরাপত্তা বাড়াতে আগামীতে দুই সেট প্রশ্নপত্র দুটি ভিন্ন স্থান— বিজি প্রেস ও আর্মি সিকিউরিটি প্রেস থেকে ছাপানো হবে।


পাশাপাশি পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া চতুর্থ শ্রেণিতে স্পোর্টস ও কালচারাল বই অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় নতুন কারিগরি সিলেবাসে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন এবং সেখানে তৃতীয় ভাষা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। একই সাথে সৌদি আরবে একটি টেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।


বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক 'এডুকেশন হাব' হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার 'ক্রস বর্ডার এডুকেশন সিস্টেম' চালু করতে যাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা ৫০০-এর মধ্যে থাকা বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে শাখা খুলতে চাইলে সেটির অনুমোদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করা হবে।


কচুয়া উপজেলা সমিতি, ঢাকার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজমুন নাহার বেবি।


অনুষ্ঠানে কচুয়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমবায় ভবনে ইউএনও এবং ডিডি (এলজি)-দের অংশগ্রহণে ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভা’য় কথা বলেন। ছবি: বাসস

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২১ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে শুধু ঘোষণা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেননি। ইতোমধ্যে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনের ছাদে সৌর প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে ১ হাজার ইউনিট নিজে ব্যবহার করেছেন এবং জাতীয় গ্রিডে ১২শ’ ইউনিট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।


তিনি বলেন, গত তিন দিনে এই পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সমবায় ভবন থেকে শুরু করে সকল জাতীয় ভবনের ছাদ ব্যবহার করে নিজস্ব চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সরকারকে সৌর বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যবসা হিসেবে দেখার কথাও বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।

 

আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমবায় ভবনে দেশের সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং ডিডি (এলজি)-দের অংশগ্রহণে ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভা’য় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।


দুর্গাপূজা সামনে রেখে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলার ঝুঁকির বাপারে মাঠপর্যায়ে ইউএনওদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া যাবে না।


এসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে ইউএনওদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে সরকার।’


প্রতিমন্ত্রী ইউএনওদের উদ্দেশে বলেন, এলাকার গরিব মানুষ ইউএনওর কাছে হাত পাতে। প্রত্যেক ইউএনওর জন্য ঐচ্ছিক ফান্ড দেওয়া জরুরি। এতে গরিবদের তাৎক্ষণিক ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া যায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই অর্থের জোগান না দিতে পারলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় রাজস্ব আয় থেকে বরাদ্দ দেওয়ার আয়োজন করবে। বিদ্যুতের নেট মিটারিং পদ্ধতি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে বসে ফয়সালা করার কথাও বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে ইউএনওদের তত্ত্বাবধানে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম মুয়াজ্জিন কার্ড, খাল খননসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ সরাসরি তদারকি করছেন। প্রতিবছর ডিসি সম্মেলনের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বার্ষিক সম্মেলন হলে সরাসরি উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা সম্ভব।


বিএনপি সরকার জনগণের সরকার এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম । তিনি বলেন, স্বৈরাচার আমলে সরকারের নির্দেশনা মানতে গিয়ে অনেক কর্মকর্তাই নিজেদের চাকরি হারিয়েছেন; কিন্তু বিএনপি সরকার কাউকে বলবে না— দিনের ভোট রাতে করতে, ডামি নির্বাচন করতে।


তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে কাজ শুরু করেছে বিএনপি। মিরপুরের ঘটনায় উত্তরের কমিটি বাতিল করা হয়েছে, সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়, এমপির ব্যক্তিগত দায় সরকার নেবে না। এছাড়া নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।


ছবি: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১০ পিএম

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।


তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারে ‘লার্নিং ইউথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি রয়েছে। সেটি দেশব্যাপী বাস্তবায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া শিক্ষাখাতকে জীবন ঘনিষ্ঠ করতে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক যে সমস্ত কার্যক্রম রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। এটিকে আমরা সাধুবাদ জানাই।


আজ দিনাজপুর সরকারি কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬ -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।


কলেজ মাঠে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করে বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।


বর্ণাঢ্য আয়োজনে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬ শুরু হয়। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন কলেজের জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান ও স্বর্ণপদক পাওয়া ১ হাজার ১৫৪ জন শিক্ষার্থী-অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ৭৫৪ জন ছাত্র এবং ৪০০ জন ছাত্রী। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসসহ মোট ৭২টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে জীবনমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, প্রযুক্তি, ভাষা শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।


তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে মানুষ তৈরির ক্যাম্পাস। দলবাজির ক্যাম্পাস হবে না। শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের পূর্ণবিশ্বাস আছে। তরুণদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।


সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্রিল্যান্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তির সুফল পেতে শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ দিতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সারাদেশজুড়ে বিস্তৃত অধিভুক্ত কলেজগুলোর অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে দ্রুত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে এসব দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন এ কাজটি দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দপ্তরের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শুদ্ধাচার দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ কামাল হাছান, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল।



স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমবায় ভবনে ইউএনও এবং ডিডি (এলজি)-দের অংশগ্রহণে ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভা’য় কথা বলেন। ছবি: বাসস

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৩ পিএম

ভোটে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।


তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পাঁচ বছর পর আবার তাদের জনগণের কাছে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে। তাই জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব।


শনিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ‘সৌর বিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি- উভয়ের লক্ষ্য জনগণের সেবা করা। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুততার সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।


তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে বাড়ির ছাদেও সৌর প্যানেল স্থাপনে উৎসাহিত করতে হবে। দিনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে রাতে ব্যবহার করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমবে।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 


তিনি বলেন, পদায়ন ও পদোন্নতিতে সততা ও কর্মদক্ষতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিজ কর্মস্থলকে নিজের এলাকা মনে করে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।


সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিজ মিরানা মাহরুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এছাড়া সভায় সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলার উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পৌরসভার প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন।