পুত্রজায়ায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম
বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে, শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হৃাস পায়।’
দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে দুই দেশের দ্বি-পক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তাগুলো পেয়েছিলাম, তার একটি ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছ থেকে। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।’
তিনি বলেন, ‘তাঁর সেই আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’ বাবা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল এবং শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথাও স্মরণ করছি। তাঁর সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করে ‘
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।
‘ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
‘দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা’
বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় হওয়ায় স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’ এ বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলিল দুটি বিনিময় করেন। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
‘মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। তিনি বলেন, আমাদের অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
‘রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
‘বাংলাদেশ আসিয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায়’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ান এর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে আমরা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগদানে আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযুক্তি প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে
বিদ্যমান অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে নতুন সময়কাল করেছে সরকার। এতদিন বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে। ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’- এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
চলতি বছরেই নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’- এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
এ বছরের মধ্যেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে।’
তিনি বলেন, ‘সবই হবে, তবে অধিকতর আলোচনার বিষয় আছে। আজকে একটা দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। আরও অন্যান্য বিষয় আছে। সেসব আলোচনার পর পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হলে তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।’
পে-স্কেল ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকার সব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। এ সময় অর্থমন্ত্রী সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান। পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানান তিনি।
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মামলার রায় যেকোনো দিন
জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে।
মামলাটি এখন রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে। আজ সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইবুনাল-২ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এই আদেশ দেন।
এদিন রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান অনি বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি দাবি করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
ছবি : সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা বা অটোরিকশা চার্জ দিলে জরিমানার বিধান করা হচ্ছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া চার্জ করলে এসব অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না এবং নিবন্ধনের পর নবায়নও করা হবে না।
সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশাগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার আওতায় নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শর্ত থাকবে, এসব যানবাহন চার্জ দিতে হবে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, সৌর বিদ্যুতের বাহিরে রিচার্জ করলে এই ব্যাটারিচালিত বা ই-রিকশাগুলোকে আমরা রেজিস্ট্রেশন দেব না এবং নবায়ন করব না।
সৌরবিদ্যুতের বাইরে অন্য বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করলে জরিমানার বিধানও রাখা হচ্ছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, তারা সৌর বিদ্যুতের বাহিরে অন্য বিদ্যুৎ চার্জে রিচার্জ করতে গেলে তাদের যে জরিমানা হবে, সেটাও আইনে থাকবে।
তিনি বলেন, যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ঢাকাকে ৮টি জোনে বিভক্ত করতে চায় সরকার। এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।
এসময় পর্যায়ক্রমে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরেই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় সরকার। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হলেই ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য খরচ হবে ৬ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের বাজেটেই বরাদ্দ আছে বলেও অবহিত করেন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ‘১৮০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী
দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যক্তি বন্দনার রাজনীতি থেকে বর্তমান সরকার পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী।
তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি, অনুষ্ঠানে কেউ এলে তাকে নিয়ে বন্দনা করতে করতে ১০-১৫ মিনিট সময় ব্যয় করা হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার এই স্তূতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি নতুন ধারার সূচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের শাপলা হলে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ‘১৮০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, সারাবিশ্বেই নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ১০০ দিনকে ‘হানিমুন পিরিয়ড’ বলা হয়। কিন্তু কোনো একটি সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে তার প্রাথমিক ফলাফল পেতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগে। বর্তমান সরকার যেহেতু জনগণের সরকার, তাই জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এবং জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতেই আমরা ১৮০ দিনের মাথায় কাজের হিসাব তুলে ধরেছি।
সরকারের বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে সালেহ শিবলী বলেন, আমাদের সরকারের একটি বড় সাফল্য হলো নির্বাচনী ইশতেহারের ৩১ দফার প্রতিটি ধরে ধরে বাস্তবায়ন করা। অতীতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এভাবে ধরে ধরে বাস্তবায়নের কোনো নজির আমরা দেখিনি।
রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ছিল রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে। বর্তমান সরকার সেই পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর হাম ও রুবেলার টিকা নিয়ে যে একটি অসহনীয় অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার দায় এই সরকারের ছিল না। তারপরও প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে সন্তান ও স্বজনহারা শোকাহত পরিবারগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কারণ, সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে নাগরিকদের প্রতি তার দায়দায়িত্ব থাকে। রাজনীতিতে এই জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি একটি বড় সফলতা।
‘কল্যাণমূলক রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—আমরা বাংলাদেশটিকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা হলো, রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের যেমন দায়বদ্ধতা থাকবে, তেমনি জনগণের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকবে। রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থাকবে, আবার নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করবে। এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতেই প্রধানমন্ত্রী এবং তার পুরো দল কাজ করে যাচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ উপস্থিত আছেন।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক কোন স্ট্যাটাসে (মর্যাদায়) বা কী হিসেবে সেখানে আছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বাংলাদেশের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানে না, শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন। ফলে ভারতীয় আদালতের অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়টি কী অর্থে বলা হয়েছে, সেটিও পরিষ্কার নয়।’ আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে ‘শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে’ -এমন খবর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেনি, শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কিনা বা ঠিক কী স্ট্যাটাসে সেখানে অবস্থান করছেন।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘পলাতক শেখ হাসিনা একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
এ সময় সাংবাদিকরা অতীতে ভারতের মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থান এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক আছে কিনা জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।’
তিনি জানান, সালাহউদ্দিন আহমেদকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের শিলংয়ে তাকে পাওয়া যায়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি খালাস পান।