স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২৬, সময় : ৫:৪৫ এএম

আগামী দু-একদিনের মধ্যে মাদক প্রতিরোধ আইনের সংশোধনী সংসদে উপস্থাপন করা হবে। আর চলতি অধিবেশনেই তা পাস করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর অনেকটা ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দার। তাই সংস্থাটিকে শক্তিশালী করতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।


শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার এবং পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আধুনিক যুগে পুরোনো আইন দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, দরকার নতুন আইন। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতিরোধই সর্বোত্তম উপায়। সরকার যেখানে প্রয়োজন মনে করবে, মাদক আইনের মামলার নিষ্পত্তিতে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে।


সাবেক আইজি বেনজীরকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাকে গ্রেফতারের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ই-মেইলে জানায়, ৩০ দিনের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে হবে। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরতে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের তরফ থেকে এখনও কোন জবাব মেলেনি। 


ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে ভারত সরকার গ্রেফতার করেছে। দেশটির আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে অসম্পূর্ণ তদন্ত শেষ করে যথাযথভাবে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা সম্ভব হবে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের পুশইন ঠেকাতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ কাজে বিজিবি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। সীমান্তের যেসব এলাকায় পুশইনের চেষ্টা হচ্ছে, সেসব স্থানেই বিজিবি তা প্রতিহত করছে।


তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট দেশকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যদি সেখানে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান করে থাকেন, তাহলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের তালিকা বাংলাদেশ সরকারকে প্রদান করা হোক।



সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫১ পিএম

বিদ্যমান অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে নতুন সময়কাল করেছে সরকার। এতদিন বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। 


তবে আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে। ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। 


এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’- এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫২ পিএম

চলতি বছরেই নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 


আজ সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’- এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।


এ বছরের মধ্যেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে।’


তিনি বলেন, ‘সবই হবে, তবে অধিকতর আলোচনার বিষয় আছে। আজকে একটা দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। আরও অন্যান্য বিষয় আছে। সেসব আলোচনার পর পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হলে তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।’


পে-স্কেল ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকার সব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। এ সময় অর্থমন্ত্রী সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান। পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মামলার রায় যেকোনো দিন

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২৮ পিএম

জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। 


মামলাটি এখন রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে। আজ সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইবুনাল-২ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এই আদেশ দেন। 


এদিন রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান অনি বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি দাবি করেন।


মামলার অপর আসামিরা হলেন-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০০ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০০ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০০ পিএম

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা বা অটোরিকশা চার্জ দিলে জরিমানার বিধান করা হচ্ছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া চার্জ করলে এসব অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না এবং নিবন্ধনের পর নবায়নও করা হবে না।


সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।


এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশাগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার আওতায় নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শর্ত থাকবে, এসব যানবাহন চার্জ দিতে হবে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে।


তিনি বলেন, সৌর বিদ্যুতের বাহিরে রিচার্জ করলে এই ব্যাটারিচালিত বা ই-রিকশাগুলোকে আমরা রেজিস্ট্রেশন দেব না এবং নবায়ন করব না।


সৌরবিদ্যুতের বাইরে অন্য বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করলে জরিমানার বিধানও রাখা হচ্ছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, তারা সৌর বিদ্যুতের বাহিরে অন্য বিদ্যুৎ চার্জে রিচার্জ করতে গেলে তাদের যে জরিমানা হবে, সেটাও আইনে থাকবে।


তিনি বলেন, যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ঢাকাকে ৮টি জোনে বিভক্ত করতে চায় সরকার। এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।


এসময় পর্যায়ক্রমে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরেই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় সরকার। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হলেই ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে।


উল্লেখ্য,  স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য খরচ হবে ৬ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের বাজেটেই বরাদ্দ আছে বলেও অবহিত করেন প্রতিমন্ত্রী।

সর্বশেষ সব খবর

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ‘১৮০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০৪ পিএম

দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যক্তি বন্দনার রাজনীতি থেকে বর্তমান সরকার পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী। 


তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি, অনুষ্ঠানে কেউ এলে তাকে নিয়ে বন্দনা করতে করতে ১০-১৫ মিনিট সময় ব্যয় করা হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার এই স্তূতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি নতুন ধারার সূচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের শাপলা হলে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ‘১৮০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, সারাবিশ্বেই নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ১০০ দিনকে ‌‘হানিমুন পিরিয়ড’ বলা হয়। কিন্তু কোনো একটি সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে তার প্রাথমিক ফলাফল পেতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগে। বর্তমান সরকার যেহেতু জনগণের সরকার, তাই জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এবং জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতেই আমরা ১৮০ দিনের মাথায় কাজের হিসাব তুলে ধরেছি।


সরকারের বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে সালেহ শিবলী বলেন, আমাদের সরকারের একটি বড় সাফল্য হলো নির্বাচনী ইশতেহারের ৩১ দফার প্রতিটি ধরে ধরে বাস্তবায়ন করা। অতীতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এভাবে ধরে ধরে বাস্তবায়নের কোনো নজির আমরা দেখিনি।


রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ছিল রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে। বর্তমান সরকার সেই পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর হাম ও রুবেলার টিকা নিয়ে যে একটি অসহনীয় অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার দায় এই সরকারের ছিল না। তারপরও প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে সন্তান ও স্বজনহারা শোকাহত পরিবারগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কারণ, সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে নাগরিকদের প্রতি তার দায়দায়িত্ব থাকে। রাজনীতিতে এই জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি একটি বড় সফলতা।


‘কল্যাণমূলক রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—আমরা বাংলাদেশটিকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা হলো, রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের যেমন দায়বদ্ধতা থাকবে, তেমনি জনগণের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকবে। রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থাকবে, আবার নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করবে। এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতেই প্রধানমন্ত্রী এবং তার পুরো দল কাজ করে যাচ্ছে।


মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ উপস্থিত আছেন।

সর্বশেষ সব খবর

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ পিএম

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক কোন স্ট্যাটাসে (মর্যাদায়) বা কী হিসেবে সেখানে আছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বাংলাদেশের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। 


তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানে না, শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন। ফলে ভারতীয় আদালতের অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়টি কী অর্থে বলা হয়েছে, সেটিও পরিষ্কার নয়।’ আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে ‘শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে’ -এমন খবর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেনি, শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কিনা বা ঠিক কী স্ট্যাটাসে সেখানে অবস্থান করছেন।’


চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘পলাতক শেখ হাসিনা একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’


এ সময় সাংবাদিকরা অতীতে ভারতের মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থান এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক আছে কিনা জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।’


তিনি জানান, সালাহউদ্দিন আহমেদকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের শিলংয়ে তাকে পাওয়া যায়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি খালাস পান।

সর্বশেষ সব খবর